Aranya Lumbini Bana Bihar, Nandaram, Sajek, Baghaichhari-Rangamati.

Aranya Lumbini Bana Bihar, Nandaram, Sajek, Baghaichhari-Rangamati. অরণ্য লুম্বিনী বন বিহার একটি পবিত্র ব? Aranya Lambini Bana Bihara is a Buddhist sacred institution.

17/09/2022

সংসারিক জীবনে সুখ সম্বৃদ্ধি করার কৌশল - ধর্মসিদ্ধি ভিক্ষু #ধর্ম_‍‍দেশনা #‍‍ধর্মসিদ্ধি_ভিক্ষুMore -https://www.youtube.com/watch?v=_JSG71hwMqk

13/09/2022
পরমপূজ্য বনভন্তের শিষ্যসংঘের দ্বারা পরিচালিত রাজবন বিহার তথা শাখা বিহারসমূহের কঠিন চীবর দানের তালিকা__২০২২ খ্রী, ১৪২৯ বঙ...
09/09/2022

পরমপূজ্য বনভন্তের শিষ্যসংঘের দ্বারা পরিচালিত রাজবন বিহার তথা শাখা বিহারসমূহের কঠিন চীবর দানের তালিকা__
২০২২ খ্রী, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ২৫৬৬ বুদ্ধাব্দ।

07/09/2022
06/09/2022

বনভন্তেকে ব্যঙ্গ করায় দৃষ্ট ধর্ম দেবনীয় কর্মফল!

একদিন আমি ও বাবু সত্যব্রত বড়ুয়া রাজবাড়ীর ঘাটে পারাপারের অপেক্ষা করছি। এমন সময় দেখা গেল আনুমানিক ২৫ বৎসরের একজন লােককে ইজি চেয়ারসহ কুলে তুলতেছে। জানতে পারলাম সে লােকের মারাত্মক ব্যাধি হয়েছে। চন্দ্রযােনা নেয়ার ব্যবস্থা হচ্ছে। সে লােকের তলপেট বেশ বড় ও শরীর পান্ডুর বর্ন। চাহনীতে তার করুণ ও বিষাদের ছাপ।

বন বিহারে গিয়ে পরস্পর জানলাম সে লােকের বাড়ী উলুছড়ি (কাচলং অঞ্চলে)। তার মনের খেয়ালে পাড়ার ছেলেমেয়েদেরকে নিয়ে বনভন্তের ব্যঙ্গ অভিনয় করেছিল। তাতে সে আনন্দ উপভােগ করতাে। তার বড়ভাই জানতে পেরে সে রকম ব্যঙ্গ অভিনয় না করার জন্যে নিষেধ করে। তবুও সে তার ভাই এর অনুপস্থিতিতে সে আনন্দ উপভােগ করতাে। কয়েকদিন ব্যঙ্গ অভিনয়ের পর হঠাৎ তার পায়খানা প্রস্রাব বন্ধ হয়ে যায়। সেজন্যে অনেক চিকিৎসা করা হয়েছে। শেষ পর্যন্ত আহার পর্যন্ত বন্ধ হয়ে গেল। তার অবস্থা সাংঘাতিক দেখে তারা চিন্তা করলে উক্ত অভিনয়ে এরকম হয়েছে। একদিন তার বড় ভাই বনবিহারে এসে শ্রদ্ধেয় বনভন্তের দেখা পায়নি। দ্বিতীয়বার এসে দেখা গেল তিনি সেদিনও অন্য এলাকায় আমন্ত্রনে গেছেন। তৃতীয়বার সেদিনই তাকে নিয়ে বনবিহারে চলে আসে। তার বড়ভাই ঘটনার পূর্ন বিবরণ দিয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করে। বনভন্তে তাদের প্রতি নির্দেশ দিলেন - “তােমরা চিকিৎসা করে দেখতে পার” কিন্তু তার সময় অতি সন্নিকটে"। জানা গেল সে রােগী চন্দ্রঘােনা যেতে যেতেই মারা যায় ।

বনভন্তের দেশনা ১ম ও ২য় খন্ড থেকে সংগৃহীত
লেখক- অরবিন্দু বড়ুয়া।

05/09/2022

#শ্রদ্ধেয়_শাসন_রক্ষিত ভান্তের ৫৮তম শুভ জন্মদিনের শুভেচ্ছাভিনন্দন। শ্রদ্ধেয় ভান্তের নিরোগ দীর্ঘায়ু কামনা করছি।

26/08/2022

কেন মানব অল্পায়ু হয় (অল্প বয়সে মৃত্যু)
কেনই বা দীর্ঘায়ু (বেশি বয়সে মৃত্যু)
কেন ব্যাধিগ্রস্ত হয় (বেশি রোগে আক্রাত)
কেনই বা নীরোগী (রোগে আক্রাত নয়)
কেন বিশ্রী হয় (দেখতে সুন্দর না)
কেনই বা সুশ্রী (দেখতে সুন্দর)
কেন পরাক্রমহীন অবহেলার পাত্র হয় (সম্মান বা শ্রদ্ধা পাই না),
কেনই বা মহাপরাক্রমশালী গৌরবের পাত্র (সম্মান বা শ্রদ্ধা পেয়ে থাকে)
কেন অল্প ভোগ সম্পত্তিশালী হয় (গরিব)
কেনই বা মহাভোগ সম্পত্তিশালী (ধনী)
কেন হীনবংশে হয় জন্ম
কেনই বা উচ্চবংশে
কেন দুষ্প্রাজ্ঞ হয় (জ্ঞান বিবেক নেই এমন ব্যাক্তি), ও
কেনই বা প্রজ্ঞাবান হয় (জ্ঞানী ব্যাক্তি)।

মানবগণের মধ্যে এইরুপ হীনশ্রেষ্ঠ তারতম্য দেখা যায় কেন?

শুভ মানবে এমন ১৪টি প্রশ্নের তথাগত বুদ্ধের সংক্ষিপ্ত উত্তর:-

হে শুভ, জীবগণ স্ব-কৃত কর্মই ভোগ করে, স্বীয় কুশল-অকুশল (ভালো-খারাপ) কর্মরই উত্তরাধিকারী হয়, কর্মানুযায়ী জম্ম গ্রহণ করে। কর্মই নিজের বন্ধু স্বরুপ এবং কর্মই নিজের আশ্রয় স্বরুপ, কর্মই সত্ত্বদিগকে হীন-শ্রেষ্ঠ বিভাগ করে।

শুভ ভগবানের এই সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর বুঝিতে না পেরে বিস্তারিত ভাবে বর্ণনা করার জন্য পুনরায় ভগবানকে প্রার্থনা করিলেন। ভগবান পুনরায় তাহা বিস্তৃতভাবে বলিতে আরম্ভ করিলেন।

১. প্রাণী হত্যাকারী নর-নারীগণ মৃত্যুর পর তির্যক, প্রেত, অসুর ও নিরয়াদিতে উৎপন্ন হয়। তাঁহারা মনুষ্যত্ব লাভ করিলেও অল্পায়ু সম্পন্ন হয়।

২. প্রাণীদের প্রতি মৈত্রী পরায়ণ ব্যাক্তিগণ মৃত্যুর পর স্বর্গ কিংবা মনুষ্যলোকে উৎপন্ন হইয়া দীর্ঘায়ু সম্পন্ন হয়।

৩. হস্ত, দন্ড, ঢিল ও অস্ত্রের দ্বারা প্রাণীকে নিস্পীড়নকারী ব্যাক্তিগণ চারি অপায়ে উৎপন্ন হয়। তাঁহারা মনুষ্যলোকে উৎপন্ন হইলেও দুরারোগ্য পীড়াগ্রস্ত হয়।

৪. প্রাণীদের প্রতি মৈত্রী পরায়ণ ব্যাক্তিগণ নিরোগী হয়।

৫. ক্রোধান্দ বা রাগী নর-নারীগণ জন্মে জন্মে বিশ্রী ও কদাচার হয়।

৬. দয়ালু নর-নারীগণ জন্মে জন্মে সুশ্রী ও লাবণ্যময় হয়।

৭. অপরের লাভ, সৎ কাজ, সম্মান বন্দনা ও পূজা দর্শনে ঈর্ষাপরায়ণ ব্যাক্তিগণ জন্মে জন্মে পরাক্রমহীন অবহেলার পাত্র হয়। তাদেরকে কেউ শ্রদ্ধা বা সম্মান করে না।

৮. পরের লাভ, সৎ কাজ, দর্শন আনন্দ লাভী ঈর্ষাহীন ব্যাক্তিগণ জন্মে জন্মে মহাপরাক্রমশালী গৌরবের পাত্র হয়। সবার কাজ থেকে সম্মান পেয়ে থাকে।

৯. কৃপণগণ জন্মে জন্মে ভোগসম্পত্তি লাভে বঞ্চিত হয়।

১০. দানকারী দাতাগণ জন্মে জন্মে মহাধনবান হয়।

১১. অহঙ্কারী ব্যাক্তিগণ হীনকুলে জম্মগ্রহণ করে।

১২. নিরহংকারী নর-নারীগণ জন্মে জন্মে উচ্চকুলে জম্মগ্রহণ করে।

১৩. যাঁহারা কুশলাকুশল (ভালো) সম্বন্ধে জানিবার জন্য জিজ্ঞাসা করেনা, করিতেও চাহে না, তাঁহারা জন্মে জন্মে নির্বোধ হয়। অজ্ঞানী হয়ে থাকে।

১৪. কুশলাকুশল (ভালো) সম্বন্ধে প্রশ্নকারিগণ জন্মে জন্মে মহাজ্ঞানী হইয়া থাকে।

ভগবানের এই সারগর্ভ উপদেশ জ্ঞানীমাত্রেরই চিন্তা করা এবং তদনুরূপ আচরণ করা একান্তই প্রয়োজন।

✰✰✰ সাধু সাধু সাধু ✰✰✰

26/08/2022

মায়ের শেষ ইচ্ছা পূরণ
============================
১৯৮৫ সাল। মে মাসের শুরু। বনভান্তের গৃহীকালীন মা পুণ্যশীলা বীরপুদি চাকমা ভীষণ অসুস্থ। বিশ/একুশ দিন ধরে বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন অসুখে ভুগছেন। সেই অসুখের মাত্রা হঠাৎ বৃদ্ধি পেয়েছে দু’য়েকদিন হতে। মেঝ ছেলে (৩য় পুত্র) জহর লাল চাকমার বঙ্গলতুলিস্থ বাড়ীতে শয্যাশায়ী হয়ে মরণাপন্ন প্রায়। চিকিৎসায় কোন ফল হচ্ছে না দেখে জহর লাল, ভূপেন্দ্র লাল (৪র্থ পুত্র) ও বাবুল (৫ম পুত্র) চাকমারা মায়ের বেঁচে থাকার আশা এক প্রকার ছেড়েই নিলেন। জহর লাল চাকমার মনে পড়ল—“মায়ের এই শেষ অবস্থার খবর তো শ্রদ্ধেয় বনভান্তেকে জানানো দরকার। ভান্তে হলেও তিনি যে আমাদের বড় ভাই, মায়ের প্রথম পুত্র”। কিন্তু, পরক্ষণে সেই চিন্তা বাদ দিতে হল—মন থেকে। ভাবতে লাগলেন—কিভাবে এ’খবর জানাবেন! রাঙামাটি তো বহুদূরে। লঞ্চ যোগে রাঙামাটি গিয়ে ফিরে আসতে কম হলেও তিনদিন হাতে রাখতে হবে। মায়ের এই গুরুতর অসুস্থের সময় তিনদিন বাড়ীর বাইরে থাকা কী করে সম্ভব। অন্যদিকে লঞ্চ করে রাঙামাটি যেতে কতো জায়গায়ই-না আর্মির চেকপোষ্টের ভোগাক্তিতে পড়তে হয়, তার হিসেব নেই। আর সেসময় উল্টোপাল্টা কিছু ঘটলে তো সব-ই শেষ হয়ে যাবে। এসব ভেবে জহর লাল চাকমা রাঙামাটিতে আসতে সাহস করলেন না। ফলে বনভান্তেকে মায়ের মরণাপন্না অবস্থায় কথা জানাতে পারলেন না।

মৃত্যুর তিনদিন আগে মাতৃদেবী বীরপুদি চাকমা পুত্র জহর লালকে বললেন—“আমাকে মূল বাড়ির অমুক কামড়ায় স্থানান্তর কর”। মায়ের নির্দেশ পেয়ে জহর লাল চাকমাও তা-ই করলেন। উল্লেখ্য যে, এই কামড়াটিতে কোন এক অসুস্থতার সময় বনভান্তে তাঁকে দেখতে এসেছিলেন। একজন, দু’জন করে করে পাড়ার লোকজনেরা বীরপুদি চাকমার এ’গুরুতর অসুস্থের অবস্থা দেখে যেতে লাগলেন। মৃত্যুর একদিন আগে বিকেল বেলায় হঠাৎ শয্যাশায়ী বীরপুদি চাকমা বলে উঠলেন—“ভান্তে, তুমি আজ বিকালে এসেছ। সকালে আসলে তো সিয়্যং-এর ব্যবস্থা করতাম”। মায়ের একথা শুনে জহর লাল চাকমারা ভাবলেন, মা অসুখের ঘোরে এসব বলছেন নিশ্চয়। তা না হলে ভান্তেকে দেখলেন কোথায়! ভান্তেকে তো আমরা খবরটুকুও দিতে পারি নি। ভান্তে আসবেন কীভাবে। আর ভান্তে যদি সত্যি সত্যিই আসতেন, তাহলে আমরা সবাই দেখতাম। মা একাই দেখবেন কেন! তবে পরক্ষণে লালের মনটা কেমন যেন হয়ে গেল। চিন্তা আসলো, আহা-রে! মা তাঁর বড়ো ছেলেকে কতো-ই ভালোবাসেন। এসময়ও তাঁর কথা স্মরণ করছেন। নিশ্চয় খুব দেখতে ইচ্ছা করছে বড়ো ছেলেকে। কিন্তু, আমি তো তাঁকে খবরই দিতে পারি নি। হয়ত মা-এর এটা-ই শেষ ইচ্ছা। মার এ’ইচ্ছাটুকু পূরণ করে দিতে পারছি না, পারলাম না। এভেবে নিজকে ভীষণ অপরাধী মনে হতে লাগল তার। পরদিন ভোরে বীরপুদি চাকমা পুত্রবধুকে “বৌমা, বৌমা” বলে ডেকে উঠলেন। আর নির্দেশের স্বরে বললেন—“তাড়াতাড়ি সিয়্যং রান্না কর। আজ বনভান্তে এখানে এসে সিয়্যং খাবেন”। শ্বাশুড়ির কথায় তেমন বিশ্বাস না জন্মালেও সিয়্যং রান্না করলেন পুত্রবধু। সকাল সাড়ে দশটার দিকে বীরপুদি চাকমা বেশ উচ্ছ্বাসিত কণ্ঠে বলে উঠলেন “বৌমা, বনভান্তে আসতেছেন। তাড়াতাড়ি ঐ পালংকের উপর একটা পাটি বিছায়ে দাও, নতুন একটা চাদর বিছায়ে দাও। সিয়্যং রান্না হলে ভান্তেকে খাবার পরিবেশনের ব্যবস্থা কর।” তবে কোথায় ভান্তে! পরিবারের অন্য সদস্যরা কেউ-ই তো দেখতে পাচ্ছেন না। তারপরও তারা পালংকের উপর পাটি বিছায়ে দিলেন, নতুন একটা ছাদর বিছায়ে দিলেন। অল্পক্ষণ পর সেখানে ভান্তের উদ্দেশ্যে সিয়্যং দিলেন যত্নসহকারে। সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটে বীরপুদি চাকমা মৃদুস্বরে বলে উঠলেন—“ঐ তো, ঐ তো বনভান্তে আবার আসতেছেন”। একথা বলেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন। দিনটি ৬ই মে ১৯৮৫ ইং, ২৩শে বৈশাখ ১৩৯২ বাংলা, ২৫২৮ বুদ্ধাব্দ, রোজ সোমবার। দীর্ঘ ২৬ দিন পর্যন্ত অসুখে ভোগার পর তাঁর মৃত্যু হল।

এপ্রসঙ্গে বলতে গিয়ে বনভান্তের একনিষ্ঠ উপাসক ও প্রতিদিন বিহারে এসে ভান্তেকে সেবা প্রদানকারী, রাজমাতা আরতি রায়ের ছোট ভগ্নিপতি বাবু সমর বিজয় চাকমা বলেন, “সেদিন বনভান্তে রাজবন বিহারে সিয়্যং গ্রহণ করেন নি। প্রায় সারাদিন তাঁর রুমের ভেতর অবস্থান করেছিলেন। রুমের জানলাও বন্ধ রেখেছিলেন। শ্রামণদেরকে নির্দেশ দিয়েছিলেন—তাঁকে যেন ডাকা না হয়। সময় হলে তিনি নিজে রুমের দরজা খুঁলেবেন। সন্ধ্যার দিকে রুমের দরজা খুলে বেরিয়ে আসেন।” এসব ঘটনা থেকে এটা বলা যায়, বনভান্তে সেদিন মায়ের শেষ ইচ্ছা পূরণ করেছেন। উল্লেখ্য যে, তাঁকে প্রব্রজ্যা গ্রহণের অনুমতি প্রদানকালে মাতৃদেবী বীরপুদি চাকমা অনুরোধ করেছিলেন—মৃত্যুর সময় যেন তোমারে দেখতে পাই। সেসময় তুমি যেখানে, যে অবস্থায় থাকেন না কেন। আর তিনিও মায়ের অনুরোধ রক্ষা করবেন বলে কথা দিয়েছিলেন। তাই এ’দিন অলৌকিক শক্তির মাধ্যমে মায়ের সেই অনুরোধটুকু রক্ষা করলেন।

সাধু সাধু সাধু

(তথ্যসূত্র: বনভান্তের দেশনা (২য় খন্ড)—ডাঃ অরবিন্দ বড়ুয়া)।

16/08/2022

এই শিশুটির মা বাবা নিরুপায় হয়ে আমার কাছে এসেছিল কয়েক মাস আগে (নিচের লিঙ্কে বিস্তারিত) । শিশুটি ছিল কিডনী ও ফুসফুস রোগী। শিশুটি রোগের ধরণ দেখে আমিও চিন্তিত ছিলাম এ কারণে যে, চিকিৎসা করলে বাঁচবে কিনা। কারণ এর আগেও এ ধরেণের রোগী দেখেছি চিকিৎসার সফল হয় খুবই কম। তাও প্রচুর অর্থ ও পরিশ্রমের বিনিয়মে। শিশুটির মাতা পিতা তাদের সন্তানের রোগমুক্তির জন্য আমার কাছে প্রার্থনা করলে আমার হৃদয় করুণাপ্লাবিত হয় এবং মনে মনে বুদ্ধের কাছে সুস্থতা প্রার্থনা করে দিয়ে সুস্থতার আশ্বাস দিই তাদের । যেহেতু কত বিশ্বাস করে তারা আমার কাছে এসেছে।

রোগের সবকিছু জানা পর - সন্দেহের উপর চিকিৎসা না করে ভালো ডাক্টার দেখানো এবং পঞ্চশীল পালনের পরামর্শ দিই। তারা আমার পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করে এবং ভালো ডাক্তার দেখাতে নিয়ে যায়। কিন্তু তাদের কাছে কোন টাকায় ছিল না। আমি নিজেই চিকিৎসার খরচ চালাবো বলে আশ্বাস দিই । কিন্তু আমার তো কোন টাকা পয়সা নেই। লোকে যা দেয় তাই খায়। এখন কি করব?

কোন কিছু ভেবে না পেয়ে ফেইসবুক পেইজে ভিডিও পোস্ট করি। পোস্ট করে তেমন কোন সাড়া পাইনি আমি শুধুই ৪/৫ জন মানবিক ব্যক্তি ব্যতিত। তবে কাউকে দোষ দেয়ার নাই, যেহেতু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মানবিক সাহায্য চাওয়ার ব্যক্তির অভাব নাই। তবে আমি কাল পাত্র অনুসারে সাহায্য করি। আমি তাদের সাহায্য দেয়ার চেষ্টা করি যাদের বাঁচার বয়স আছে, উচ্চশিক্ষা লাভের ক্ষমতা আছে, পরিবারিক-সামাজিক মূল্যবান সহযোগিতা করতে পারে তেমন ব্যক্তিকে। যেহেতু সাহায্য চাওয়ার লোকের অভাব নাই। তার অনুসারে অর্থ তথা মানবিক ব্যক্তিও কম। থাকলে তো দিতে সমস্যা নায়। যাই হোক অনেক কিছু বলে ফেললাম।

এই শিশুটি এখন সুস্থ। কিন্তু সুস্থতার পেছনে অধিক ভূমিকা তার পিতামাতার। আমি শুধু আশির্বাদ আর পরামর্শ দিয়েছি মাত্র। এই শিশুটি এখন আমাকে পিন্ডুদান করে, পায়ে দরে সালাম করে, আমার অনেক ভালো লাগে এবং তাকে সুস্থতা কামনা করি দিই। এ কারণে ভালো লাগে যে, কত দুঃখ পেয়েছে এই শিশুটি এখন সুস্থতা জীবন যাপন করছে। যারা আর্থিক সহযোগিতা দিয়েছেন তাদের অর্থও ১০০% কাজে লেগেছে। আপনাদের সকলের নিরোগ দীর্ঘায়ু কামনা করছি।

বিশেষ ধন্যবাদ আশির্বাদ Bonita chakma ও তার পরিবারকে। তারাও এই শিশুকে সহ অনেক অসহায় পরিবারকে আমার মাধ্যমে সাহায্য করেছেন।

আরো অনেক গুণী ব্যক্তি আছেন তারাও আমার মাধ্যমে অনেক অসহায় ব্যক্তিকে সহযোগিতা করেছেন। কিন্তু তাদের নামউল্লেখ করতে না পারায় দুঃখিত। তবে আপনাদের সকলের সুখ, শান্তি, মঙ্গল কামনা করছি।

বিঃদ্রঃ কিছু লোক আমার সাহায্য ও পরামর্শের মাধ্যমে রোগমুক্তি হয়েছেন অথবা উপকৃত হয়েছেন । তারা যদি এসে আমার সাথে কুশল বিনিময় করত অনেক ভালো লাগত। আমি তাদের জীবন সাফল্যে উজ্জীবিত করার পরামার্শ দিতাম।

https://facebook.com/107755981678040/posts/163771529409818/

https://facebook.com/107755981678040/posts/164017026051935/

13/08/2022

বৌদ্ধ ভিক্ষু অবস্থায় কোন নারীর সাথে মৈথুন সেবন (ব্যাভিচার) করলে তার মুত্যুর গতি কোথায় হতে পারে?

প্রশ্নটি আমাকে বহুজনে করেছেন। সময়ের অভাবে উত্তর দিতে পারিনি! আজ কিছু লিখব বলে মনস্থির করলাম। তবে এটি কাউকে নিন্দা বা সমালোচনা উদ্দেশ্য লিখছি না, সকলের জানার প্রয়োজন আছে মনে করে সংক্ষিপ্ত আকারে লিখতে শুরু করছি । অনুগ্রহগূর্বক সময় দিয়ে মনযোগসহকারে পড়বেন.....

বুদ্ধের জীবিত সময়কালীন বৈশালীতে এক ধনাঢ্য পরিবারের একমাত্র সন্তান ''সুদিন্ন" মাতাপিতার অনুমতি নিয়ে বুদ্ধের কাছে প্রবজ্যা গ্রহণ করেন। তিনি (সুদিন্ন) সঠিক, পরিপূর্ণ, পরিশুদ্ধভাবে ব্রহ্মচর্য পালন করছিলেন। একদিন পিন্ডাচরণ করতে করতে তার পূর্বের নিজ গৃহে পৌঁছলেন। তথায় তার পিতা তাকে দেখলে গৃহে নিমন্ত্রণ দিলেন এবং আহার্যবস্তু দান করলেন। আহার শেষ হলে তিনি তার ছেলেকে প্রবজ্যা ত্যাগ করে নিজ (পিতৃ) সম্পত্তি ভোগ করার প্রার্থনা করলেন। সুদিন্ন তা অস্বীকার করে নিজের ব্রহ্মচর্য পালনে ইচ্ছা প্রকাশ করলেন। সুদিন্নকে কিছুতেই প্রবজ্যা ত্যাগ করতে রাজি করতে না পেরে তার (সুদিন্ন) মাতা তাকে বংশ ও সম্পত্তি রক্ষার জন্য একটি পুত্র জন্ম দিতে বললেন। সুদিন্ন তার মায়ের কথায় রাজি হয়ে পূর্বের গৃহী স্ত্রীর সাথে মৈথুন সেবন করলেন এবং পরবর্তীতে তার স্ত্রী সঠিক সময়ে গর্ভবতী হয়ে পুত্র সন্তান প্রসব করলেন। তখন বিনয় প্রজ্ঞাপ্ত করা হয়নি। কিন্তু তার মৈথুন সেবনে কথা ভুমিবাসী দেবতাগন অবগত হয়ে নিন্দা আন্দোলন করতে শুরু করলেন। ভুমিবাসী দেবগণের আন্দলন শুনে স্বর্গের দেবতাগণ ও নিন্দা আন্দোলন করতে শুরু করলেন এই বলে, ভগবানের শিষ্য হয়ে সুদিন্ন কেন মৈথুন কামাসক্ত হলেন।

পরবর্তীতে এই নিন্দা আন্দোলনের কারণ ভিক্ষুরা অবগত হয়ে অতঃপর সেই ভিক্ষুগণ আয়ুষ্মন সুদিন্নকে অনেক প্রকারে ভৎসনা ও নিন্দা করে ভগবানের সমীপে এ বিষয়ে প্রকাশ করলেন। তৎপর ভগবান এই নিদানে, এই প্রকরণে (প্রসঙ্গে) ভিক্ষুসংঘকে সমবেত করায়ে আয়ুস্মান সুদিন্নকে জিজ্ঞেস করলেন, “হে সুদিন্ন, সত্যই কি তুমি তােমার পূর্বের স্ত্রীর সহিত মৈথুনধর্ম (ব্যভিচার) প্রতিসেবন করেছ?”

“হ্যা ভগবান, তা সত্য।”

ভগবান বুদ্ধ ইহা অত্যন্ত গর্হিত (অনুচিত) বলে প্রকাশ করে বললেন, “হে মােঘপুরুষ (মূর্খ), ইহা তােমার পক্ষে অনুচিত, অনুপযােগী, অনুপযুক্ত, অশ্রমণােচিত, অবিহিত এবং অকরণীয় কার্য সম্পাদিত হয়েছে। কীরূপে তুমি এরূপ সুব্যাখ্যাত ধর্মবিনয়ে (বুদ্ধশাসনে) প্রব্রজিত হয়েও যাবজ্জীবন পরিপূর্ণ, পরিশুদ্ধ ব্রহ্মচর্য আচরণ করতে সক্ষম হলে না? “হে মােঘপুরুষ, অবশ্যই মৎ কর্তৃক অনেক প্রকারে বিরাগের ধর্ম দেশিত হয়েছে; সরাগের ধর্ম নহে, বিসংযােগের ধর্ম দেশিত হয়েছে; সসংযােগের ধর্ম নহে, অনুপাদানের ধর্ম দেশিত হয়েছে; স-উপাদানের ধর্ম নহে।”

“হে মােঘপুরুষ, মৎ কর্তৃক যেখানে বিরাগের ধর্ম দেশিত হয়েছে, কেন তুমি সেখানে সরাগের বিষয়ে চিন্তা করবে? যেখানে বিসংযােগের ধর্ম দেশিত হয়েছে; কেন সেখানে সংযােগের বিষয়ে চিন্তা করবে? যেখানে অনুপাদানের ধর্ম দেশিত হয়েছে, কেন সেখানে স-উপাদানের বিষয়ে চিন্তা করবে?”

“হে মােঘপুরুষ, নিশ্চয়ই মৎ কর্তৃক অনেক প্রকারে রাগ-বিরাগের ধর্ম, মদ-বশীভূতকরণ, পিপাসা-বিনয় (আসক্তি দমন), আলয় সমুঘাত (আকাক্ষার মূলােৎপাটন), ভবচক্রের উচ্ছেদ, তৃষ্ণাক্ষয়, বিরাগ, নিরােধ এবং নির্বাণের ধর্ম দেশিত হয়েছে।”

“হে মােঘপুরুষ, মৎ কর্তৃক অনেক প্রকারে কামের প্রহান (পরিহার) সম্বন্ধে ব্যাখ্যা করা হয়েছে, কামসংজ্ঞার পরিজ্ঞা সম্বন্ধে ব্যাখ্যা করা হয়েছে, কামপিপাসার প্রতিবিনয় (দমন) সম্বন্ধে ব্যাখ্যা করা হয়েছে এবং কামযন্ত্রণার উপশম সম্বন্ধেও বিশেষরূপে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।”

“হে মােঘপুরুষ, কোনাে নারীযােনিতে লিঙ্গ প্রক্ষিপ্ত করার চাইতে যদি কোনাে কালান্তর সর্পের মুখে লিঙ্গ প্রক্ষিপ্ত (ভিতরে প্রবেশ) করা হয়, তথাপি তাই শ্রেয়।”

“হে মােঘপুরুষ, কোনাে স্ত্রীযােনিতে লিঙ্গ প্রক্ষিপ্ত করার চাইতে উত্তপ্ত, সপ্রজ্জ্বলিত, সজ্যোতিভূত অঙ্গার গর্তে যদি লিঙ্গ প্রক্ষিপ্ত করা হয়, তবুও শ্রেয়।

✰ তার কারণ কী? ইহাই নিদান, ইহাই প্রত্যয় যে—ব্যাভিচারজনিত মহা অপরাধের কারণে সেই ভিক্ষু মরণে পতিত হয় কিংবা মরণতুল্য দুঃখ ভােগ করে থাকে, ইহা ছাড়াও সে কায়ভেদে মৃত্যুর পর অপায় দুর্গতি বিনিপাত নিরয়ে উৎপন্ন হয়ে থাকে। | “হে মূর্খ, ইহাই নিদান (কারণ) যে, সেই পাপপরায়ণ ভিক্ষু কায়ভেদে মরণের পর অপায় দুর্গতি বিনিপাত নিরয়ে উৎপন্ন হয়।”

“হে মােঘপুরুষ, নিশ্চয়ই তুমি ইহা অসদ্ধর্ম, গ্রাম্যধর্ম (মৈথুনকার্য), বৃষল ধর্ম, দুষ্টতা (পাপাচার), গােপনাচার করেছ, কী করে তােমরা উভয়ে উভয়ের সহিত দেহ-সম্ভোগে সমর্পিত হতে পারলে? তুমি বহু অকুশল ধর্মের আদিকর্তা ও পূর্বগামী। তােমার এই কার্যে অপ্রসন্নের (শ্রদ্ধাহীনের) মধ্যে প্রসাদ (শ্রদ্ধা) উৎপন্ন কিংবা অপ্রসন্নের প্রসাদ (শ্রদ্ধাবানের-শ্রদ্ধা) বৃদ্ধি করতে পারে না। বরঞ্চ ইহাতে অশ্রদ্ধাবানের মধ্যে অধিকতর শ্রদ্ধাহীনতা এবং কোনাে কোনাে শ্রদ্ধাবানের মধ্যে অন্যথাভাব উৎপন্ন হবে।”

অনন্তর ভগবান আয়ুষ্মন সুদিন্নকে অনেক প্রকারে নিন্দা ও ভর্ৎসনা করে চঞ্চলতা, মহেচ্ছতা (প্রবলআকাক্ষা) অসন্তুষ্টিতা, সঙ্গপ্রিয়তা এবং অলসতার কুফল বর্ণনা করলেন।

এবং এই বিনয় প্রজ্ঞপ্তি করলেন " যদি কোন ভিক্ষু মৈথুনধর্ম (ব্যভিচার) প্রতিসেবন করে" তবে সেই ভিক্ষুর পারাজিকা হবে এবং ভিক্ষুসংঘ হতে বর্জিত হবে অথাৎ ভিক্ষু অবস্থায় হতে চ্যুত হবে ।

✰মনুষ্য অথবা তির্যক প্রাণীর সহিত যৌনিদ্বার, মুখদ্বার এবং মলদ্বারে মৈথুনসেবন করলেও পারাজিকা হবে।

[ বি: দ্র: লিখিত ভাষ্যগুলি ত্রিপিটক বইয়ে ভাষানুসারে লিখিত হয়েছে, যদি কারোর অশোভনীয় মনে হলে আমি আন্তরিক দুঃখিত]

রেফারেন্স: পারাজিকা, সুদিন্ন পরিচ্ছেদ।

আরো বিস্তারিত পারাজিকা অটঠকথায় দেখুন

Address

Baghaichhari
4590

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Aranya Lumbini Bana Bihar, Nandaram, Sajek, Baghaichhari-Rangamati. posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share