01/04/2015
প্রায়শঃ দেখা যায় কোন সামাজিক, রাজনৈতিক সভা, সেমিনার বা কোন ট্রেনিং প্রোগ্রাম বা স্কুলের প্রাত্যহিক সমাবেশ বা অন্য কোন শুভ অনুষ্ঠানের প্রারম্ভে উপস্থিত সভ্যমন্ডলীর মধ্য থেকে স্ব-স্ব ধর্মীয় গ্রন্থ থেকে পাঠ করার জন্য আহবান করা হয়। অন্যান্য সকল ধর্মাবলম্বীরা সাবলীলভাবে সেটা সম্পন্ন করে এবং মনে হয় যেন তার প্রত্যেকেই এটা করতে সমর্থ। কিন্তু গভীর পরিতাপের বিষয় এই যে, যখন পবিত্র গীতা থেকে পাঠ করতে বলা হয় শুরু হয় এক দ্বিধগ্রস্থ অবস্থা। কে করবে পাঠ? অধিকাংশ সভ্যই জানেন না। কেউ জানলেও সংকোচ বোধ করেন আবার কেউ সাহস করে পাঠ করতে আসলেও অনেক সময় সঠিকভাবে করতে পারেন না। অথচ তার সবাই পার্থিব শিক্ষায় অত্যন্ত সুশিক্ষিত। তাই আমাদের ভেতর থেকে এই অপারগতা দূর করার জন্য গুরুকুল ডাবরা শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক স্তরে অন্তত দুটি গীতার শ্লোক মুখস্ত করানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যেহেতু আমাদের দেশে প্রতিটি ক্লাশে ধর্মীয় শিক্ষার ব্যবস্থা রয়েছে এবং ক্লাসের পাঠ্য বইতে শ্রীমদ্ভাগবত গীতার জ্ঞানযোগ নামক চতুর্থ অধ্যায়ের ৭ম ও ৮ম শ্লোক দুটিকে অধিক ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়েছে। এ কারনে অনেকেরই এই শ্লোক দুটির সাথে পরিচয় রয়েছে। তাই গুরকুল ডাবরা’র সকল শিক্ষার্থীদের জন্য শ্লোকদুটিকে অর্থসহ “শ্রীমদ্ভাগবত গীতা যথাযথ” হতে হুবহু তুলে ধরা হলো।
“যদা যদা হি ধর্মস্য গ্লানির্ভবতি ভারত।
অভ্যুত্থানমধর্মস্য তদাত্মানং সৃজাম্যহম্।”
অনুবাদঃ হে ভারত, যখনই ধর্মের অধঃপতন হয় এবং অধর্মের অভ্যুত্থান হয়, তখন আমি নিজেকে প্রকাশ করে অবতীর্ণ হই।
পরিত্রানায় সাধূনাং বিনাশায় চ দুষ্কৃতাম্।
ধর্মসংস্থাপনার্থায় সম্ভবামি যুগে যুগে।।
অনুবাদঃ সাধুদের পরিত্রাণ করার জন্য এবং দুষ্কৃতিকারীদের বিনাশ করার জন্য এবং ধর্ম সংস্থাপনের জন্য আমি যুগে যুগে অবতীর্ণ হই।