1. এক অদ্বিতীয়, পরমেশ্বর এ বিশ্ব সংসার এবং সনাতন ধর্মের প্রবর্তক । তিনি সৎ, চিৎ (চিন্ময়) এবং আনন্দময়স্বরূপ । তিনি চিন্তার অতীত, সর্বশক্তিমান, সর্বজ্ঞাপক, সর্বান্তর্যামী, সর্বজ্ঞ, অভয়, কৃপাময় এবং সৃষ্টি, পালন এবং লয় কর্তা । একমাত্র তাঁরই স্মরন নিতে হবে এবং তাঁরই উপাসনা করতে হবে ।
2. জীবের চিন্তার অতীত এক অদ্বিতীয় ব্রহ্মেরই ভিন্ন ভিন্ন গুন ও শক্তির প্রতীকী প্রকাশ হলেন দেবতাগণ । তাই সাধক ভেদে সকল দেবতার উপাসনায় সবাইকে শ্রদ্ধাশীল হতে হবে ।
3. বেদ পরমেশ্বর কর্তৃক প্রকাশিত মানব জাতির পূর্ণাঙ্গ সংবিধান । অপৌরুষেয় সত্যবিদ্যাময় এ গ্রন্থই সনাতন ধর্মের একমাত্র ভিত্তিস্বরূপ । তাই সর্বপ্রকার শাস্ত্রীয় সিদ্ধান্ত নির্ধারিত হবে পরমেশ্বরের নিঃশ্বাস স্বরূপ এ বেদের মাধ্যমে । বৈদিক জ্ঞানের সারাংশ শ্রীমদ্ভগবদগীতা সর্বমান্য গ্রন্থ এবং শ্রী শ্রী চন্ডী অনুরূপ মর্যাদা পাবে ।
4. সনাতন ধর্মের অনাদি অনন্ত ব্রহ্মের উপাসনা পঞ্চমতে ও পথে বিভাজিত যথা- শাক্ত, শৈব, সৌর, গাণপত্য এবং বৈষ্ণব । এর মধ্যে বাংলাদেশে প্রধানত শাক্ত, শৈব, ও বৈষ্ণব তিনটি মত –পথের সম্প্রদায় বিদ্যমান । নিজ নিজ উপাস্য সম্প্রদায় ব্যতীত এ পঞ্চমতের সকল সম্প্রদায়ের প্রতি সমান শ্রদ্ধা পোষণ করতে হবে । পক্ষান্তরে কোনো আন্তঃসম্প্রদায়ের প্রতি বিদ্বেষ মনোভাব পোষণ করা যাবে না ।
5. সনাতন ধর্মালম্বী সকলের জন্য “এক ধর্ম (সনাতন) এক মত (বৈদিক) এক পরিচয় (হিন্দু)”- এই মূলমন্ত্রে বিশ্বাস করতে হবে ।
6. ব্যক্তিকেন্দ্রিক ধর্মীয় মতবাদের ততটুকু গ্রহণযোগ্য যতটুকু বেদানুমোদিত । তবে বেদানুগত সকল মহামানবের প্রতিই সংযত শ্রদ্ধাশীল থাকতে হবে ।
7. সনাতন বিদ্যার্থী সংসদ সনাতন ধর্মীয় বিভিন্ন দল, মত, বর্ণ সম্প্রদায় নির্বিশেষে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সংবিধানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল একটি স্বতন্ত্র, ধর্মীয়-সামাজিক, সেবাব্রতী সংগঠন ।