17/05/2026
শাইখ উবাইদ ইবন আবদুল্লাহ আল-জাবিরি (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেনঃ
“আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ। সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমাদের নবী, তাঁর পরিবার ও সকল সাহাবির উপর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক।
আমি পূর্বে যে ফতোয়া দিয়েছিলাম, এখনও সেই ফতোয়ার উপরই আছি— এটাই প্রথম কথা।
দ্বিতীয়তঃ আমরা লিবিয়ায় আমাদের সন্তানদের জন্য যে নসীহত লিখেছি— শাসক ও প্রজাদের ব্যাপারে— আমরা এখনও তার উপরই আছি।
তৃতীয়তঃ এই ব্যক্তি, যার নাম উসামা ইবন আতাইয়া আল-ফিলিস্তিনি, যে নিজেকে ‘আল-উতাইবি’ নামে পরিচয় দেয়— আল্লাহই ভালো জানেন এটি তার প্রকৃত বংশ কিনা, এ বিষয়ে আমার কিছু বলার নেই। তবে আমি বলছি, তার অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে তা পাগলামি, হঠকারিতা ও বুদ্ধিহীনতার পর্যায়ে পড়ে।
সুতরাং আমার উপদেশ হলো— লিবিয়ার সাধারণ মানুষ ও বিশেষ ব্যক্তিরা যেন তার দ্বারা প্রতারিত না হয়। বরং তারা যেন আল্লাহ যাকে তাদের উপর দায়িত্ব দিয়েছেন, তার চারপাশে একত্রিত থাকে— যতক্ষণ না সে আল্লাহর অবাধ্যতার আদেশ দেয়। এবং তারা যেন সহজ-সুবিধা ও কষ্টের সময়ে, পছন্দ ও অপছন্দের অবস্থায় তার আনুগত্য স্বীকার করে।
এটাই ঐ ব্যক্তির ব্যাপারে আমার সংক্ষিপ্ত বক্তব্য। আর তার অনিষ্ট প্রতিরোধ করা— আল্লাহর কসম!— তা না আমি পারি, না তুমি পারবে। যদি আমার হাতে কিছু ক্ষমতা থাকত, তবে আমি তাকে নিবৃত্ত করতাম। কারণ লোকটি ফিতনা উসকে দিয়েছে।
বারাকাল্লাহু ফিকুম, এটাই আমার কাছে যা আছে। আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাদের ও আপনাদেরকে প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য সব ফিতনা থেকে রক্ষা করেন।”
এটি লিখিয়ে নিয়েছেন উবাইদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন সুলাইমান আল-জাবিরি, সোমবার রাত, ২৯ শাওয়াল, ১৪৩৫ হিজরি।
---
শাইখ উবাইদ ইবন আবদুল্লাহ আল-জাবিরি (রহিমাহুল্লাহ) আরও বলেছেনঃ
১- “এর মধ্যে হালকাপনা আছে, সে স্থির-প্রকৃতির নয়। আলহামদুলিল্লাহ, এমন অনেক বড় আলেম আছেন যারা এ ব্যক্তির প্রয়োজনীয়তাকে অতিক্রম করেন। লোকটির মধ্যে অপছন্দনীয় হালকাপনা আছে। সে প্রত্যেক বিষয়ে ঢুকে পড়তে ভালোবাসে।”
২- “সে হঠকারী ও আত্মমুগ্ধ ব্যক্তি। তার কাছে যেও না… তার মধ্যে হঠকারিতা ও বিশৃঙ্খলা আছে… সুতরাং কখনোই তার কাছে যেও না।”
৩- “লোকটির মধ্যে বুদ্ধির হালকাপনা আছে। সে লিবিয়ার রাজনৈতিক বিষয়ে শক্তভাবে জড়িয়ে পড়েছে। তাই আমি তার কথার উপর কখনোই আস্থা রাখি না। তার মধ্যে হালকাপনা ও হঠকারিতা আছে। আল্লাহ আমাদেরকে তার অনিষ্ট থেকে রক্ষা করুন। সে বিভ্রান্ত, বিভ্রান্ত, বিভ্রান্ত, বিভ্রান্ত। পাগল, পাগল, পাগল, পাগল। তার কথায় প্রতারিত হয়ো না। তাকে উপেক্ষা করো।”
৪- “আহমদ ইবন উমর ইবন সালিম বাজমূল এবং উসামা ইবন আতাইয়া— উভয়েই ফিতনাবাজ। তাদের উপর ভরসা করা যায় না। তবে উসামা মিথ্যাবাদী, আত্মমুগ্ধ, তার কোনো অঙ্গীকার বা প্রতিশ্রুতি নেই। উভয়েই ফিতনা উসকে দেওয়ার কাজে জড়িত। তারা সেই ‘হঠাৎ শাইখ’দের অন্তর্ভুক্ত, যাদের উপর বহু বছর অতিবাহিত হয়েছে অথচ তারা পরিচিত ছিল না।
হ্যাঁ, এটাই ঐ দুই ব্যক্তির অবস্থা সম্পর্কে আমার কাছে যা সংক্ষেপে এসেছে। সুতরাং তাদের দ্বারা প্রতারিত হয়ো না, আর যারা তাদের প্রশংসা করে তাদের দ্বারাও প্রতারিত হয়ো না। কারণ তাদের প্রশংসা করবে হয় এমন ব্যক্তি যে তাদের প্রকৃত অবস্থা জানে না, অথবা এমন ব্যক্তি যে তাদের অবস্থা পছন্দ করে।
আর আল্লাহ আমাদের নবী মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবার ও সাহাবিদের উপর সালাত ও সালাম বর্ষণ করুন।”
তারিখঃ ১১ মহররম ১৪৩৬ হিজরি।
---
প্রশ্নকারীঃ আসসালামু আলাইকুম।
শাইখ উবাইদ আল-জাবিরিঃ ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ। আল্লাহ আপনাকে জীবিত রাখুন হে আবু আলী, স্বাগতম।
প্রশ্নকারীঃ আল্লাহ আপনাকে উত্তম সকাল দান করুন শাইখ। কেমন আছেন? ভালো তো?
শাইখঃ নূরের সকাল। স্বাগতম। পিতা-মাতা, সন্তান ও পরিবারের অবস্থা কেমন?
প্রশ্নকারীঃ আলহামদুলিল্লাহ। আল্লাহ আপনাকে হেফাজত করুন শাইখ, ইনশাআল্লাহ।
শাইখঃ আপনাকেও, আপনাকেও। আল্লাহ আপনাকে জীবিত রাখুন। আলহামদুলিল্লাহ।
প্রশ্নকারীঃ আপনার স্বাস্থ্য ও সন্তানরা কেমন আছেন শাইখ? ভালো তো ইনশাআল্লাহ?
শাইখঃ কোনো সমস্যা নেই, আলহামদুলিল্লাহ। আল্লাহর প্রশংসা। তারা ভালো আছে।
প্রশ্নকারীঃ আল্লাহ আপনাদের হেফাজত করুন ও তত্ত্বাবধান করুন।
শাইখঃ আপনাকেও, আপনাকেও।
প্রশ্নকারীঃ শাইখ, বেশি সময় নেব না। একটি প্রশ্ন আছে।
শাইখঃ বলুন।
প্রশ্নকারীঃ শাইখ, আগামী দিনে আমাদের এখানে একটি ইলমি দাওরা অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে শাইখ আবদুল কাদির জুনাইদ ও উসামা ইবন আতাইয়া থাকবেন। ভাইয়েরা জানতে চাচ্ছে— উসামা ইবন আতাইয়ার থেকে উপকৃত হওয়ার ব্যাপারে কী হুকুম?
শাইখঃ না, না, তার কাছে যেও না… কখনোই না। সে হঠকারী ও আত্মমুগ্ধ ব্যক্তি। তার কাছে যেও না।
প্রশ্নকারীঃ বারাকাল্লাহু ফিক।
শাইখঃ কে তাদের দু’জনকে একত্র করল, আমি জানি না!
প্রশ্নকারীঃ আল্লাহর কসম, শাইখ, আয়োজকদের ব্যাপারে আমি জানি না। আমার কাছে শুধু এই তথ্য পৌঁছেছে— শাইখ আবদুল কাদির জুনাইদ ও উসামা ইবন আতাইয়া।
শাইখঃ শাইখ আবদুল কাদির জুনাইদ ভালো মানুষ ইনশাআল্লাহ। কিন্তু উসামা ইবন আতাইয়া নয়… তার মধ্যে হঠকারিতা ও মিশ্রণ আছে। তোমরা তাকে চেনো।
প্রশ্নকারীঃ জি, জি।
শাইখঃ (অস্পষ্ট কথা)
প্রশ্নকারীঃ জি আল্লাহর কসম, আমরা আল্লাহর কাছে তার হিদায়াত চাই।
শাইখঃ সুতরাং তোমরা কখনোই তার কাছে যেও না।
প্রশ্নকারীঃ বারাকাল্লাহু ফিক, জাযাকাল্লাহু খাইরান। এই কথা কি আমি প্রচার করব, শাইখ?
শাইখঃ প্রচার করো, সমস্যা নেই।
প্রশ্নকারীঃ বারাকাল্লাহু ফিক।
সময়ঃ ১৪:৫১
তারিখঃ ১৪ যুল-ক্বা‘দাহ ১৪৩৫ হিজরি।
---
উসামা ইবন আতাইয়া আল-উতাইবী সম্পর্কে সতর্কীকরণঃ
• উসামা ইবন আতাইয়া থেকে সতর্ক থাকার ঘোষণা।
• মিথ্যাবাদী ও দুষ্ট উসামা ইবন আতাইয়া আল-ফিলিস্তিনি, যে নিজেকে ‘আল-উতাইবি’ বলে পরিচয় দেয়— তার ব্যাপারে সতর্কীকরণ।
• উসামা ইবন আতাইয়া, যে নিজেকে উতাইবা গোত্রের দাবিদার বানিয়েছে এবং প্রকাশ্যে ও ইঙ্গিতে আহলুস সুন্নাহর আলেম ও দাঈদের বিরুদ্ধে কটাক্ষ করে— তার ব্যাপারে সতর্কীকরণ।
• উসামা ইবন আতাইয়ার জবাব, যে শাইখ আল্লামা রবী আল-মাদখালি (রহিমাহুল্লাহ)-এর মর্যাদাকে প্রশ্নবিদ্ধ ও সন্দেহের মধ্যে ফেলার চেষ্টা করেছে।
• হাদ্দাদী উসামা ইবন আতাইয়ার জবাব, যে শাইখ উবাইদ ইবন আবদুল্লাহ আল-জাবিরি (রহিমাহুল্লাহ)-এর বিরুদ্ধে অপবাদ আরোপ করেছে।
• মুহাম্মাদ ইবন হাদি আল-মাদখালি উসামা আতাইয়াকে জবাব দিয়েছেন হুসাইন (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর বের হওয়ার মাসআলায়।
“কাশফুল খাবায়া মিন সিরাতি ইবন আতাইয়া” থেকে নির্বাচিত অংশ—
এটি ইমাম রবী আল-মাদখালি-এর সমালোচক উসামা আল-উতাইবীর সংক্ষিপ্ত পরিচয়।
“কাশফুল খাবায়া মিন সিরাতি উসামা ইবন আতাইয়া”