Iskcon Karuatali

Iskcon Karuatali শ্রী শ্রী রাধা দামোদর নামহট্ট উদযাপন কমিটি
স্থাপিত ঃ 2023 ইং
স্থান ঃ আজমপুর,করুয়াতলী,ঋষিপাড়া।

মাছ মাংস খেতে নেই কেন?কোন শাস্ত্রে আছে?প্রমাণ চাই!!মাছ মাংস খেয়ে কি হরিনাম করা যায় না?ভগবানকে পাওয়া যায় না?কোন্ শাস্ত্র ...
21/05/2026

মাছ মাংস খেতে নেই কেন?কোন শাস্ত্রে আছে?
প্রমাণ চাই!!

মাছ মাংস খেয়ে কি হরিনাম করা যায় না?ভগবানকে পাওয়া যায় না?কোন্ শাস্ত্র বলেছে,মাছ মাংস খেয়ে হরিনাম করা যায় না?*

শাস্ত্রের প্রমাণের পূর্বে কিছু আলোচনা করা যাক!প্রথমত বলি মাছ মাংস আসলে কাদের খাদ্য? জীব হিংসা বা হত্যা মানেই পাপ!তাহলে কাদের ক্ষেত্রে এই আইন?? যাদের উন্নত চেতনা দিয়েছেন ভগবান অর্থাৎ জীবশ্রেষ্ঠ মানুষ।একটা সাপ,ব্যাঙ,মাছকে ধরে হত্যা করে খেয়ে জীবন ধারণ করবে, আবার সাপকে ময়ূর ধরে হত্যা করে খাবে,ময়ুরকে হিংস্র পশুরা ধরে হত্যা করে খাবে। এটাই খাদ্যশৃঙ্খল।একটা জীব আর একটা জীবকে খেয়ে জীবন ধারণ করবে,এটা শাস্ত্র অনুমোদিত। তাই এইসব প্রাণীদের অন্য প্রাণী হত্যা করে খেলেও পাপ পূণ্যের কোনও বিচার করা হয়না।কারণ তাদের চেতনা মনুষ্য অপেক্ষা অনেক নিম্নমানের।*

বর্তমানে কলিযুগ চলছে! আজ থেকে প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার বছর পূর্বে যখন পৃথিবীতে দ্বাপরযুগ শেষ হয়ে,কলি মহারাজ প্রবেশ করছিলেন, তখন এই পৃথিবীর শাসনকর্তা শ্রীঅর্জুনের প্রোপৌত্র পরীক্ষিত মহারাজ কলিকে প্রথম আশ্রয় প্রদান করেছিলেন জীবহিংসুক ব্যক্তিগণের মধ্যে,অর্থাৎ যারা নীরিহ প্রাণীদের হত্যা করে খাদ্য হিসাবে জীবন ধারণ করবে, তাদের মধ্যে কলি সর্বদাই বিরাজমান থেকে নানাবিধ পাপকর্মে লিপ্ত করাবেন।*

এইবার কিছু শাস্ত্রীয় প্রমাণ দেওয়ার প্রয়াস করছি।পরে আরও বিস্তারিত আলোচনা করা যাবে।*
মনুসংহিতা_ শাস্ত্রে পঞ্চম অধ্যায়ে ৫৫ নং শ্লোকে বলা হয়েছে--*

*_"মাংস ভক্ষয়িতামুত্র যস্য মাংসামিহাদ্ম্যহম্।_*
*_এতন্মাংসস্য মাংসত্বং প্রবদন্তি মনীষিণঃ॥"_*

*মনিষীগণের দ্বারা _'মাংস' কথাটির অর্থ ব্যাখ্যা করা হয়েছে- _'মাম্' স খাদতি ইতি মাংস'_ অর্থাৎ, _"সেও আমাকে খাবে যেরূপ আমি তাকে খাচ্ছি।_"*
*অর্থাৎ _"ইহলোকে আমি যার মাংস ভক্ষণ করছি পরলোকে আমাকেও সে ভক্ষণ করবে।

অনেকে পূজাতে পশুবলি দিয়ে মাংস খায় আবার মুসলিম সম্প্রদায়ে বিভিন্ন নীরিহ পশু পাখিকে বিসমিল্লা বলে নৃশংসভাবে টুঁটি বা গলা কেটে মাংস খাওয়ার জঘন্য প্রথা আছে। আসলে এগুলো নারকীয় ইন্দ্রিয় তৃপ্তি বলা হয়।এদের জন্য শাস্ত্র কি বলছে-----?*

"বলি দিয়ে মাংস খাওয়া ধর্মানুমোদিত মনে করে যদি কেউ মাংসাশী হয় তবে সে স্বধর্মকেই ত্যাগ করে বিধর্মকেই স্বধর্ম মনে করে।"(ভাগবত ১১.৫.১৩) বিবৃতি)_*

*আর যে সব দাম্ভিক ব্যক্তি ইহলোকে দম্ভ প্রকাশ করার জন্য যজ্ঞের অনুষ্ঠান করে এবং সেই যজ্ঞে পশু বধ করে,পরলোকে তারা 'বৈশস' নামক নরকে নিক্ষিপ্ত হয়। যমদূতগণ তাদের অশেষ যাতনা দিয়ে বধ করে।"(ভাগবত১১.৫.২৫)কিন্তু তাদের যাতনা শরীরের মৃত্যু হয়না। শুধু অসীম তীব্র যন্ত্রণা ভোগ করতেই থাকে।(যারা নরকের অস্তিত্ব বিশ্বাস করেনা তারা নরকে গিয়েই তবে বিশ্বাস করবে।)_*

*ছাগল-মহিষ-আদি বলি দিয়া পূজে॥_*
*_বৈশস-নরকে যাথে বধস্থান বলি।_*
*_নরক ভুঞ্জায়ে তারে তথা লইয়া ফেলি॥_*
*_ছাগ-মহিষের রূপ ধরি ভয়ঙ্কর।_*
*_খন্ড খণ্ড করি তার কাটে কলেবর॥_*
*_আর্তনাদ করি কান্দে হইয়া ফাপর।_*
*_মহাশুলে তার অঙ্গ বিন্ধে নিরন্তর॥_*
*(শ্রীকৃষ্ণ প্রেম তরঙ্গিনী ৫.৮ ৪১-৪৪

শ্রীমদ্ভাগবত (৫.২৬.৩১) শ্লোকে বলা হয়েছে--- _"যারা পশুবলি দিয়ে ভৈরব বা ভদ্রকালী প্রভৃতি দেবদেবীর পূজা করে,হিংসা-কবলিত সেই পশু যমালয়ে রাক্ষস হয়ে ঘাতকের মতো সুতীক্ষ্ণ অস্ত্র দিয়ে তাদের বধ করে। ইহলোকে যারা পশুর রক্ত পান করে আনন্দে নৃত্যগীত করে সেইসব হিংস্রাশ্রিত পশু সেইরূপেই পরলোকে হিংসাকারীর রক্ত পান করে আনন্দে নৃত্যগীত করতে থাকে।"_

মাছ-মাংস হচ্ছে উগ্র রাজসিক ও ঘোর তামসিক খাদ্য,যা মানব মনের পশুবৃত্তি বাড়িয়ে তোলে,ধীরতা ও পবিত্রতা নষ্ট করে। উদ্ভিজ্জ খাদ্য সাধারণত দেহ ও মনে সত্ত্বগুণের সঞ্চার করে।*

রক্ত-মাংস-হাড়-কাঁটা দিয়ে তৈরি খাদ্য হল ঘোর তমসান্ধ ব্যক্তির খাদ্য। তাই মাছ-মাংস অমেধ্য অর্থাৎ,অস্পৃশ্য খাদ্যরূপে চিহ্নিত। শ্রীমদভগবদ্ গীতায় (১৭.১০) ভগবান নির্দেশ দিয়েছেন এই অস্পৃশ্য খাদ্য তামসিক ব্যক্তিদের প্রিয়। _"চামেধ্যং ভোজনং তামসপ্রিয়ম।"

পিশাচ,রাক্ষস,ডাইনী ইত্যাদি ধরনের জাতি কিম্বা হিংস্র প্রাণীরাই রক্ত, মাংস,হাড়, কাঁটা ভোগ করতে চায়। কিন্তু সভ্যতাগর্বী মানুষগুলি কেন পিশাচ-রাক্ষস ধর্ম গ্রহণ করবে?*
শ্রীমদ্ভাগবতে (৪/১৮/২১) বলা হয়েছে-- _"যক্ষ,রাক্ষস,ভূত ও পিশাচেরাই মাংস আহারে অভ্যস্ত হয়।"_ সত্যিকারের মানুষ এগুলো ভক্ষণ করেনা।*

অনেকে বলেন যে,আমরা অন্যান্য পোকামাকড়,সাপব্যাঙ,পশুপাখি খাইনা।,কেবল মাছটা খাই! এতে দোষ কোথায়???*
কিন্তু মানবজাতির পিতা মহর্ষি মনু মনুসংহিতা শাস্ত্রে সবার প্রথমেই মাছ ভক্ষণ করতে নিষেধ করেছেন। তিনি বলেছেন--*

*_"যো যস্য মাংসমশ্নাতি স তন্মাংসাদ উচ্যতে।"_*
*_মৎস্যাদঃ সর্বমাংসাদস্তস্মান্মৎসান্ বিবর্জয়েৎ॥_*
*(মনুসংহিতা ৫ /১৫)*

অর্থাৎ"যে যার মাংস খায়,সেই ব্যক্তি তন্মাংসখাদক(সেই প্রাণীর মাংস খাদক) বলে কথিত। কিন্তু মাছ সমস্ত প্রাণীর মাংস খায়।সব রকমের মরা প্রাণীর পচা দেহ মলমূত্রাদি খেতে অভ্যস্ত। সুতরাং একটি মাছ খাওয়া যা, আর সব রকমের প্রাণীর মাংস খাওয়াও তাই। তাই মাছ খাওয়া সর্বতোভাবে পরিত্যাজ্য।*

শ্রীমদ্ভাগবতে (১১/৫/১৪) বলা হয়েছে, "ধর্মতত্ত্বে অনভিজ্ঞ,দুর্বিনীত, সাধুত্ব-অভিমানী,দুর্জন অসাধু ব্যক্তিরাই নিঃশঙ্কচিত্তে পশুহিংসা করে থাকে।" অতএব নরদেহ লাভ করে যারা বুদ্ধি বিপর্যয়ক্রমে মাংস খাচ্ছে,তাদের অনুরূপভাবে ঋণচক্র পরিশোধ করতেই হবে।হ্যাঁ এটাই বাস্তব সত্য কথা।*

যারা মাছ-মাংস আহার করে অর্থাৎ,জীব হিংসা করে তারা ভগবদ্বিদেষীরূপে পরিগণিত বলে শাস্ত্রে উল্লেখ রয়েছে---*

শ্রীমদ্ভাগবতে বলা হয়েছে--*
*_"দ্বিষন্ত পরকায়েষু স্বাত্মানং হরিরিশ্বরম্।_*
*_মৃতকে সানুবন্ধেঽস্মিন্ বদ্ধস্নেহাঃ পতন্ত্যধঃ॥"_*

অর্থাৎ _"স্ত্রী-পুত্রাদিযুক্ত শবতুল্য নিজ দেহের প্রতি আসক্ত মানুষেরা পরদেহে স্থিত জীবাত্মার প্রতি হিংসাবশত পরমাত্মা জগদীশ্বর শ্রীহরির প্রতিই বিদ্বেষ করে থাকে এবং তার ফলে তারা নরকগামী হয়।"_*
*(ভাগবত-১১/৫/১৫)*

কৃষ্ণ-প্রেমতরঙ্গিনী গ্রন্থে(১১/৫/৪১)বলা হয়েছে---*
*_"কেবল ঈশ্বরদ্রোহী প্রাণী বধ করে।"_*

সুতরাং,নারকী ভগবদ্ বিদ্বেষীরা ভগবদ্ উপাসনা করার অনুপযুক্ত--এরূপ মানুষেরা যদি ভগবানের শ্রীবিগ্রহ পূজা করেও,তবুও ভগবান প্রীত হননা। এই সম্পর্কে ভাগবতে বলা হয়েছে---*

*_"ততোঽর্চ্চায়াং হরি কেচিৎ সংশ্রদ্ধায় সপর্য্যয়া।_*
*_উপাসত উপাস্তাপি নার্থদা পুরুষদ্বিষাম্॥"_*

অর্থাৎ," তদন্তর কেউ কেউ শ্রীহরির অর্চা মুর্তি শ্রদ্ধা সহকারে নানাবিধ উপকরণ দ্বারা পূজা করেন,কিন্তু জীব বিদ্বেষী ব্যক্তিরা পূজা করলেও শ্রীমূর্তি পরমার্থপ্রদ হননা।"(ভাগবত-৭/১৪/৪৩)*

*তাই যারা ডিম,মাছ,মাংস ভক্ষণ করেন,তাদের দ্বারা ভগবানের বিগ্রহ পূজা একেবারেই নিষিদ্ধ।*

এই প্রসঙ্গে শ্রীকৃষ্ণপ্রেমতরঙ্গিনী গ্রন্থে নির্দশিত হয়েছে---*

"সেই মূর্তি করে যেবা ভজে নারায়ণ।
জীব হিংসা করে যদি নাহি প্রয়োজন॥"

*উপরের আলোচনা থেকে কি মনে হয়,মাছ মাংস খেয়ে হরিনাম করলে হরিনামের ফল ফলবে? না!!!ভগবানকে পেয়ে যাবেন?স্বয়ং বিচার করবেন!!*

শেষে একটা কথা বলি, আপনি আপনার মন্দিরে কখনো একটা অপবিত্র আমিষের পাত্র আপনার মন্দিরে নিয়ে যান না, অথচ আপনি সবসময় মাছ মাংস ভক্ষণ করছেন তাহলে আপনার অপবিত্র বড় আমিষের পাত্র আপনার দেহ, সেই অপবিত্র দেহ নিয়ে মন্দিরে প্রবেশ করেন কি করে? ভগবানের বিগ্রহ স্পর্শ করেন কি করে? ভগবানের সেবায় আপনার দেহপাত্র লাগবে কি করে? স্বয়ং বিচার করে দেখবেন।*

এবার বলি মাছ মাংস খেয়ে হরিনাম করবেন,তা ভালোই! আচ্ছা বলুন তো আপনার গায়ে চুলকানি বা এলার্জী হলে ডাক্তার CTZ ট্যাবলেট দিয়ে বলেন যে,এই ট্যাবলেট খাবেন আর চুলকানি বৃদ্ধিকারক খাবার যেমন বেগুন, ডিম,মাংস ইত্যাদি খাবেন না। কিন্তু আপনি লোভ সামলাতে না পেরে ট্যাবলেটও খাচ্ছেন আবার চুলকানি বৃদ্ধির খাবারগুলোও খেয়ে যাচ্ছেন তাহলে কি আপনার চুলকানি সারবে?? কখনোই না।*
*তেমনি হরিনামও করবেন আবার জীবহত্যা পাপে লিপ্ত থাকবেন,এতে কখনোই হরিনাম পূর্ণ ফল প্রদান করবেন না। অর্থাৎ হৃদয়ে কখনোই শুদ্ধ কৃষ্ণপ্রেমের উদয় হবে না।*

*এইবার শেষে বলি তাই বলে যারা পরিস্থিতির চাপে পড়ে হরিনাম জপ করছেন ও আমিষ আহার করছেন,তারা প্রচেষ্টা করবেন যত তাড়াতাড়ি সম্ভব জীব হিংসা ত্যাগ করার প্রচেষ্টা করবেন,কিন্তু হরিনাম ছাড়বেন না।*
*কারণ হরিনাম হল গঙ্গাজলের মতো পবিত্র,একটা মদের বোতলে রাখলে তা ভগবানের সেবায় লাগে না, কিন্তু মনে করুন গঙ্গার পাড়ে একটা ছোট্ট পচা ডোবা আছে, গঙ্গা থেকে গর্ত দিয়ে একটু একটু জল ঢোকে, কিন্তু পচে যায়। তবে একটু একটু করে ঢুকতে ঢুকতে যখন ঐ গর্তটা বড় হয়ে যায় বা গঙ্গার ঢেউ আসে তখন ঐ পচা ডোবাটাও পবিত্র গঙ্গাজলে পরিপূর্ণ হয়ে স্বয়ং গঙ্গা হয়ে যায়। সুতরাং আমরা সবাই অপবিত্র থাকি, কিন্তু পবিত্র গঙ্গাসম হরিনাম জপ করতে করতে যখন এই হরিনামের প্রভাবে বন্যা বয়ে যাবে, তখন আপনার পচা দেহরূপ ডোবাখানাও একদিন পবিত্র গঙ্গাতে রূপান্তরিত হবেই হবে।অর্থাৎ হরিনামের প্রভাবে একদিন আপনি সমস্ত কিছুই পরিত্যাগ করে দিয়ে পবিত্র শুদ্ধ ভক্তে রূপান্তরিত হয়ে যাবেন

হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে।।
------------------------------------------------------------------------------
পোস্টটি ভাল লাগে অবশ্যই সকলকে শেয়ার করবেন।
প্রনিপাত

সদা সর্বদা শ্রী শ্রী রাধা ও কৃষ্ণের পাদপদ্মের কথা স্মরণ করুন, তাহলে শ্রীকৃষ্ণের দ্বারা আপনার জন্য বরাদ্দকৃত কার্য সম্পাদন করতে কোনও অসুবিধা অনুভব করতে হবে না।

জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে শ্রীকৃষ্ণের কৃপার প্রতি অগাধ বিশ্বাস ও ভরসা রাখতে হবে।
শ্রীকৃষ্ণের পবিত্র নামটিতে অসাধারণ আধ্যাত্মিক শক্তি রয়েছে কারণ শ্রীকৃষ্ণের নাম স্বয়ং শ্রীকৃষ্ণের থেকে আলাদা নয় ....

ঐকান্তিক ভালবাসা এবং নিষ্ঠার সাথে এই নামগুলি জপ করুন তবেই আপনি চিণ্ময় আনন্দ অনুভব করবেন:

হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে ...(১০৮ বার)

হরে কৃষ্ণ মহামন্ত্র জপ করুন এবং সুখী হন ...

জয় শ্রীল প্রভুপাদ🙌🙌🙌
জয় শ্রীল গুরুদেব🙌🙌🙌

পোস্টটিরভালো লাগলে পেইজটি ফলো করে পাশে থাকবেন এবং আপনার নিকটতম এবং প্রিয় ব্যক্তিদের সাথে লাইক ও শেয়ার করুন যাতে তারা ও কৃষ্ণভাবনাময় হওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হয়... 🙏🙏🙏

 #পুরুষোত্তম_মাস_কি ?  #কবে_থেকে_শুরু❓  #শাস্ত্রের_আলোকে_শ্রীশ্রী_পুরুষোত্তম_মাসের_মহিমাকি?আগামী ১৬ই মে ২০২৬ থেকে মহাপাপ...
17/05/2026

#পুরুষোত্তম_মাস_কি ?

#কবে_থেকে_শুরু❓

#শাস্ত্রের_আলোকে_শ্রীশ্রী_পুরুষোত্তম_মাসের_মহিমা
কি?

আগামী ১৬ই মে ২০২৬ থেকে মহাপাপবিনাশী শ্রীপুরুষোত্তম মাস আরম্ভ হতে যাচ্ছে।

শাস্ত্র অনুসারে, পুরুষোত্তম মাস অন্যান্য মাস অপেক্ষা ১০০০ গুণ বেশী ফলদায়ক।

👉পুরুষোত্তম মাস কি?

হিন্দু সৌর পঞ্জিকায় একটি বিশেষ অতিরিক্ত মাস রয়েছে, যা “অধিক মাস”, “মলমাস”, “অধিমাস” এবং সর্বোপরি “পুরুষোত্তম মাস” নামে পরিচিত। বৈষ্ণব শাস্ত্রে এই মাসকে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের স্বীয় মাস বলা হয়েছে।

এই মাসে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের প্রতি সামান্য ভক্তি করলেও প্রেমভক্তি বর্ধিত হয়। ভগবদ্ভজন, হরিনাম, গীতা পাঠ, শ্রীমদভাগবত শ্রবণ, দান, তীর্থস্নান ও বৈষ্ণবসেবা—সবকিছুই এই মাসে অসীম ফলদায়ক।

চন্দ্রবর্ষে থাকে প্রায় ৩৫৪ দিন এবং সৌরবর্ষে প্রায় ৩৬৫ দিন। ফলে প্রতি বছর প্রায় ১১ দিনের পার্থক্য সৃষ্টি হয়। এই ব্যবধান পূরণ করার জন্য প্রতি প্রায় ৩২ মাস ১৬ দিন ৪ ঘণ্টা অন্তর একটি অতিরিক্ত চন্দ্রমাস যোগ করা হয়। এই অতিরিক্ত মাসই অধিকমাস বা পুরুষোত্তম মাস।

সূর্যসিদ্ধান্তে বলা হয়েছে—

এক মহাযুগে ১৫,৯৩,৩৩৬টি অধিকমাস এবং ৫১,৮৪০,০০০টি সৌরমাস বিদ্যমান।

এইভাবে জ্যোতির্বিদ্যাগত ভারসাম্য রক্ষার জন্য অধিকমাসের আবির্ভাব ঘটে।

👉স্মার্ত ও পারমার্থিক শাস্ত্রের দৃষ্টিভঙ্গি

শাস্ত্র দুই ভাগে বিভক্ত—

১.স্মার্ত শাস্ত্র — কর্ম, যজ্ঞ, সামাজিক বিধি ইত্যাদি কেন্দ্রিক
২.পারমার্থিক শাস্ত্র — ভগবদ্ভক্তি ও আত্মোদ্ধার কেন্দ্রিক

স্মার্ত শাস্ত্রে অধিকমাসে বিবাহ, গৃহপ্রবেশ, নতুন ব্যবসা, যজ্ঞাদি নিষিদ্ধ বলা হয়েছে। এজন্য একে “মলমাস” বলা হতো।

কিন্তু পারমার্থিক বৈষ্ণব শাস্ত্রে এই মাসকে সর্বোচ্চ ভক্তিময় মাস বলা হয়েছে। কারণ এই মাসে জাগতিক কর্মের বিঘ্ন কম থাকে এবং ভক্তি সহজে বৃদ্ধি পায়।

👉অধিকমাস কীভাবে “পুরুষোত্তম মাস” হলো?

(পদ্মপুরাণ ও নারদীয় পুরাণের কাহিনী)

প্রাচীনকালে অধিকমাসকে কেউ সম্মান করত না। কোনো দেবতার অধীনে ছিল না, কোনো উৎসবও ছিল না। মানুষ তাকে “অপবিত্র মাস” বলে ঘৃণা করত।

দুঃখে কাতর অধিকমাস বৈকুণ্ঠে গিয়ে ভগবান নারায়ণের শরণ নেয়। নারায়ণ তাকে নিয়ে গোলোকধামে শ্রীকৃষ্ণের কাছে যান। তখন ভগবান শ্রীকৃষ্ণ করুণায় অভিভূত হয়ে বলেন—
“যেমন আমি ‘পুরুষোত্তম’ নামে জগতে প্রসিদ্ধ, তেমনি এই অধিকমাসও আজ থেকে ‘পুরুষোত্তম মাস’ নামে প্রসিদ্ধ হবে।”

তিনি আরও বলেন—
“অন্যান্য মাস জাগতিক কামনা পূরণ করে; কিন্তু এই পুরুষোত্তম মাস নিষ্কাম ভক্তির মাস।”

এবং—
“যে ব্যক্তি নিষ্কাম বা সকামভাবেই হোক না কেন, এই অধিকমাসে ভক্তিভরে ভজন করবে, তার পাপ দগ্ধ হবে এবং সে নিশ্চয়ই আমাকে লাভ করবে।”

👉দ্রৌপদীর পূর্বজন্মের কাহিনী
(নারদীয় পুরাণ)

দ্রৌপদী পূর্বজন্মে ঋষি মেধাবীর কন্যা ছিলেন। দুর্বাসা মুনি তাকে পুরুষোত্তম মাস পালনের উপদেশ দেন। কিন্তু তিনি অধিকমাসকে “মলমাস” ভেবে অবজ্ঞা করেন।

ফলে দুর্বাসা মুনি রুষ্ট হয়ে বলেন—“তুমি এই মাসকে অবজ্ঞা করেছো, তাই পরজন্মে বহু দুঃখভোগ করবে।”

পরবর্তীতে তিনি কঠোর তপস্যা করে শিবের নিকট স্বামী প্রার্থনা করেন। পাঁচবার “স্বামী দাও” বলায় শিব আশীর্বাদ করেন—“তোমার পাঁচজন স্বামী হবে।”

সেই কন্যাই পরজন্মে দ্রৌপদী রূপে জন্মগ্রহণ করেন এবং পাঁচ পাণ্ডবের পত্নী হন।

👉পাণ্ডবদের পুরুষোত্তম ব্রত পালন
বনবাসকালে শ্রীকৃষ্ণ পাণ্ডবদের বলেন—

“তোমরা পুরুষোত্তম মাস উপেক্ষা করেছো, তাই দুঃখ ভোগ করছো।”

পরে পাণ্ডবগণ ভক্তিভরে পুরুষোত্তম ব্রত পালন করেন। “পাণ্ডবগণ বিধিপূর্বক পুরুষোত্তম ব্রত পালন করে সমস্ত দুঃখ অতিক্রম করে পুনরায় অতুলনীয় রাজ্য লাভ করেন।”

👉রাজা দৃঢ়ধন্বার কাহিনী
(স্কন্দপুরাণ)

বাদরিকাশ্রমে নারদ মুনি নারায়ণ ঋষির কাছ থেকে পুরুষোত্তম ব্রতের বিধি শ্রবণ করেন। পরে বাল্মীকি মুনি রাজা দৃঢ়ধন্বাকে সেই ব্রতের মাহাত্ম্য বর্ণনা করেন।

তিনি বলেন—“অশ্বমেধ যজ্ঞের চেয়েও অধিক ফল পুরুষোত্তম ব্রত পালনে লাভ হয়।”

👉শাস্ত্রে পুরুষোত্তম মাসের মহিমা

♦পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের ঘোষণা: “পুরুষোত্তম মাস পালনকারী আমার নিকট অতি প্রিয়। তার পাপ ভস্মীভূত হয় এবং সে গোলোকধাম লাভ করে।”

♦দুর্বাসা মুনির উক্তি: “পুরুষোত্তম মাসে একবার তীর্থস্নান করলে বহু সহস্র বছর গঙ্গাস্নানের ফল লাভ হয়।”

♦নারদ মুনির উক্তি: “এই মাসের মাহাত্ম্য শ্রবণ করলেও কৃষ্ণভক্তি জাগ্রত হয়।”

♦বাল্মীকি মুনির উক্তি: “শত অশ্বমেধ যজ্ঞের চেয়েও অধিক ফল পুরুষোত্তম ব্রতে।”

♦নৈমিষারণ্যের ঋষিগণের প্রতি সুত গোস্বামীর উক্তি: “পুরুষোত্তম মাস ভক্তের ইচ্ছাপূরণকারী কল্পবৃক্ষস্বরূপ।”

♦ শ্রীমদ্ভাগবতের দ্বাদশ স্কন্ধে বর্ণিত মহিমা:
এই মাসে ক্ষুদ্র সৎকর্মও কোটিগুণ ফলদায়ক।

এই মাসে প্রতিদিন গীতা পাঠ মোক্ষদায়ক, গোদান, অন্নদান, বিদ্যাদান মহাপুণ্যময়, হরিনাম জপের ফল অসীম বৃদ্ধি পায়।

👉পুরুষোত্তম মাসে করণীয়:-

১. ব্রাহ্মমুহূর্তে জাগরণ
২.ভোরে উঠে স্নান ও জপ করা।
৩.তীর্থস্নান: শাস্ত্রে বলা হয়েছে—সমুদ্রে পতিত নদীতে স্নান শ্রেষ্ঠ।
৪.তিলক ধারণ: গোপীচন্দন তিলক ধারণ করা।
৫. রাধাকৃষ্ণ অর্চন: এই মাসের অধিষ্ঠাত্রী দেবতা স্বয়ং শ্রীকৃষ্ণ।
৬. হরিনাম জপ: হরে কৃষ্ণ মহামন্ত্র ও
গোবর্ধনধারী গোপাল স্তব
৭. গীতা ও ভাগবত পাঠ: বিশেষত গীতার ১৫তম অধ্যায় “পুরুষোত্তম যোগ”।
৮. প্রদীপদান: প্রতিদিন ঘৃত প্রদীপ অর্পণ।
৯. উপবাস ও সংযম: একাদশী পালন, নিরামিষ ভোজন, অল্প আহার।
১০. বৈষ্ণবসেবা: বৈষ্ণব ও ব্রাহ্মণদের ভোজন করানো।
১১. দান: অন্নদান, গোদান, বস্ত্রদান, বিদ্যাদান,
ভাগবত বিতরণ

👉পুরুষোত্তম মাসে বর্জনীয়
শাস্ত্রে কঠোরভাবে নিষেধ করা হয়েছে—
১. পরনিন্দা
২. মিথ্যা কথা
৩. ক্রোধ ও কলহ
৪. বিষয়ীর অন্ন ভোজন
৫. ইন্দ্রিয়ভোগে আসক্তি
৬. জড়জাগতিক সাহিত্য পাঠ
৭. বৈষ্ণব অপরাধ
৮. জাগতিক ভোগবিলাস
৯. নিষিদ্ধ সম্পর্ক
১০. অহংকার ও কৃপণতা

👉পুরুষোত্তম মাসে নিষিদ্ধ জাগতিক কাজ:
স্মার্ত শাস্ত্রে নিম্নলিখিত কাজ এড়াতে বলা হয়েছে—
বিবাহ, গৃহপ্রবেশ, নতুন ব্যবসা শুরু, নতুন গৃহ নির্মাণ, যজ্ঞাদি, নামকরণ অনুষ্ঠান!

কারণ এই মাস মূলত জাগতিক কর্মের জন্য নয়, ভগবদ্ভজনের জন্য নির্ধারিত।

👉বিশেষ স্তব

গোবর্ধন ধরম বন্দে গোপালং গোপরূপিণম্ ।গোকুলোৎসবমীশানং গোবিন্দং গোপিকাপ্রিয়ম্ ॥

অর্থঃ
“আমি গোবর্ধনধারী গোপালকে বন্দনা করি, যিনি গোপবালকের রূপধারী ও গোপীদের প্রিয় গোবিন্দ।”

👉ধ্যানমন্ত্র
বন্দে নব ঘনশ্যামং দ্বিভূজম মূরলীধরম।
পীতাম্বর ধরম বন্দে সরাধং পুরুষোত্তমম।

অনুবাদ: “নবঘন মেঘসম শ্যামবর্ণ, বংশীধারী, পীতাম্বর পরিহিত শ্রীরাধাসহ পুরুষোত্তম শ্রীকৃষ্ণকে আমি প্রণাম করি।”

👉এই মাসে ৩৩ সংখ্যাটি অত্যন্ত মাহাত্ম্যপূর্ণ যেমন ৩৩ মালা জপ, ৩৩ বার দণ্ডবৎ প্রণাম, ৩৩ বার স্তব ও ৩৩ বার ধ্যানমন্ত্র উচ্চারণ।

👉হরিভক্তিবিলাস অনুসারে ভক্তদের তিনটি শ্রেণীতে বিভক্ত করা যায়:
১. স্বনিষ্ঠ ভক্ত: যারা নিজ ব্রত কঠোরভাবে পালন করেন।
২. পরনিষ্ঠ ভক্ত: যারা গুরু ও আচার্যের নির্দেশ অনুসারে ব্রত পালন করেন।
৩. নিরপেক্ষ ঐকান্তিক ভক্ত: প্রধানত হরিনাম, শ্রবণ ও স্মরণে নিবিষ্ট থাকেন।

শ্রীল সনাতন গোস্বামীর সিদ্ধান্ত:
"ঐকান্তিক ভক্তদের জন্য কৃষ্ণস্মরণ ও কৃষ্ণকীর্তনই সর্বোচ্চ সাধনা।”

👉পুরুষোত্তম মাস কোনো সাধারণ অতিরিক্ত মাস নয়; এটি স্বয়ং শ্রীকৃষ্ণের করুণাময় মাস।

এই মাসে হরিনাম জপ ১০০০ গুণ বেশী ফলদায়ক,
ক্ষুদ্র দানও অক্ষয় পুণ্যদায়ক, ভগবদ্ভক্তি দ্রুত বৃদ্ধি পায়, অপরাধ মোচন হয়, জীবনের দুঃখ দূর হয়।
অতএব ভক্তিভরে হরিনাম, গীতা পাঠ, শ্রীমদভাগবত শ্রবণ, বৈষ্ণবসেবা, রাধাকৃষ্ণ ভজন
—এইসবের মাধ্যমে পুরুষোত্তম মাস পালন করলে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের বিশেষ কৃপা লাভ হয়।

“যে ব্যক্তি ভক্তিভরে পুরুষোত্তম মাস পালন করে, সে সকল পাপ থেকে মুক্ত হয়ে পরিশেষে গোলোকধাম লাভ করে।"

আসুন আমরা যথাযথ নিষ্ঠা সহকারে পুরুষোত্তম মাসটি পালন করি এবং কৃষ্ণ প্রেম ভক্তি লাভে প্রয়াসী হই।

শুভ নৃসিংহ চতুর্দশীভগবান শ্রীনৃসিংহদেবের অষ্টোত্তর শতনাম১ ওঁ নরসিংহায় নমঃ২ ওঁ মহাসিংহায় নমঃ৩ ওঁ দিব্যসিংহায় নমঃ৪ ওঁ মহাব...
30/04/2026

শুভ নৃসিংহ চতুর্দশী
ভগবান শ্রীনৃসিংহদেবের অষ্টোত্তর শতনাম
১ ওঁ নরসিংহায় নমঃ
২ ওঁ মহাসিংহায় নমঃ
৩ ওঁ দিব্যসিংহায় নমঃ
৪ ওঁ মহাবলায় নমঃ
৫ ওঁ উগ্রসিংহায় নমঃ
৬ ওঁ মহাদেবায় নমঃ
৭ ওঁ স্তম্ভজায় নমঃ
৮ ওঁ উগ্রলোচনায় নমঃ
৯ ওঁ রৌদ্রায় নমঃ
১০ওঁ সর্বদ্ভুতায় নমঃ
১১ওঁ শ্রীমানায় নমঃ
১২ওঁ যোগানন্দায় নমঃ
১৩ওঁ ত্রিবিক্রমায় নমঃ
১৪ওঁ হারিণে নমঃ
১৫ওঁ কোলাহলায় নমঃ
১৬ওঁ চক্রিণে নমঃ
১৭ওঁ বিজয়ায় নমঃ
১৮ওঁ জয়বর্ধনায় নমঃ
১৯ওঁ পঞ্চাননায় নমঃ
২০ওঁ পরমব্রহ্মায় নমঃ
২১ওঁ অঘোরায় নমঃ
২২ওঁ ঘোরবিক্রমায় নমঃ
২৩ওঁ জ্বলন্মুখায় নমঃ
২৪ওঁ জ্বলমালিনে নমঃ
২৫ওঁ মহাজ্বলায় নমঃ
২৬ওঁ মহাপ্রভুয়ায় নমঃ
২৭ওঁ নীতিলক্ষায় নমঃ
২৮ওঁ সহস্রাক্ষায় নমঃ
২৯ওঁ দুর্নিরীক্ষায় নমঃ
৩০ওঁ প্রতাপণায় নমঃ
৩১ওঁ মহাদ্রংষ্ট্রায় নমঃ
৩২ওঁ যুদ্ধপ্রজ্ঞায় নমঃ
৩৩ওঁ চন্দ্রকোপিনে নমঃ
৩৪ওঁ সদাশিবায় নমঃ
৩৫ওঁ হিরণ্যকশিপুধ্বংসিনে নমঃ
৩৬ওঁ দৈত্যদানবভঞ্জনায় নমঃ
৩৭ওঁ গুণভদ্রায় নমঃ
৩৮ওঁ মহাভদ্রায় নমঃ
৩৯ওঁ বলভদ্রায় নমঃ
৪০ওঁ সুভদ্রকায় নমঃ
৪১ওঁ করালায় নমঃ
৪২ওঁ বিকরালায় নমঃ
৪৩ওঁ বিকর্তায় নমঃ
৪৪ওঁ সর্বকর্তৃকায় নমঃ
৪৫ওঁ শিশুমারায় নমঃ
৪৬ওঁ ত্রিলোকাত্মায় নমঃ
৪৭ওঁ ঈশায় নমঃ
৪৮ওঁ সর্বেশ্বরায় নমঃ
৪৯ওঁ বিভূয়ায় নমঃ
৫০ওঁ ভৈরবডম্ভরায় নমঃ
৫১ওঁ দিব্যায় নমঃ
৫২ওঁ অচ্যুতায় নমঃ
৫৩ওঁ কবিনে নমঃ
৫৪ওঁ মাধবায় নমঃ
৫৫ওঁ অধোক্ষজায় নমঃ
৫৬ওঁ অক্ষরায় নমঃ
৫৭ওঁ সর্বায় নমঃ
৫৮ওঁ বনমালিনে নমঃ
৫৯ওঁ বরপ্রদায় নমঃ
৬০ওঁ বিশ্বম্ভরায় নমঃ
৬১ওঁ অদ্ভুতায় নমঃ
৬২ওঁ ভব্যায় নমঃ
৬৩ওঁ শ্রীবিষ্ণবে নমঃ
৬৪ওঁ পুরুষোত্তমায় নমঃ
৬৫ওঁ অনঘাস্ত্রায় নমঃ
৬৬ওঁ নখাস্ত্রায় নমঃ
৬৭ওঁ সূর্যজ্যোতিনে নমঃ
৬৮ওঁ সুরেশ্বরায় নমঃ
৬৯ওঁ সহস্রবাহুয়ায় নমঃ
৭০ওঁ সর্বজ্ঞায় নমঃ
৭১ওঁ সর্বসিদ্ধিপ্রদায়কায় নমঃ
৭২ওঁ বজ্রদংষ্ট্রায় নমঃ
৭৩ওঁ বজ্রনখায় নমঃ
৭৪ওঁ মহানন্দায় নমঃ
৭৫ওঁ পরন্তপায় নমঃ
৭৬ওঁ সর্বমন্ত্রৈকরূপায় নমঃ
৭৭ওঁ সর্বযন্ত্রবিদারণায় নমঃ
৭৮ওঁ সর্বতন্ত্রাত্মকায় নমঃ
৭৯ওঁ অব্যক্তায় নমঃ
৮০ওঁ সুব্যক্তায় নমঃ
৮১ওঁ ভক্তবৎসল নমঃ
৮২ওঁ বৈশাখশুক্লদ্ভুত্যায় নমঃ
৮৩ওঁ শরণাগত বৎসলায় নমঃ
৮৪ওঁ উদারকীতির্নে নমঃ
৮৫ওঁ পূণ্যাত্মায় নমঃ
৮৬ওঁ মহাত্মায় নমঃ
৮৭ওঁ চণ্ডবিক্রমায় নমঃ
৮৮ওঁ বেদত্রয়ায় নমঃ
৮৯ওঁ প্রপুজ্যায় নমঃ
৯০ওঁ ভগবানায় নমঃ
৯১ওঁ পরমেশ্বরায় নমঃ
৯২ওঁ শ্রীবৎসাঙ্কায় নমঃ
৯৩ওঁ জগদ্ব্যাপিনে নমঃ
৯৪ওঁ জগন্মায়ায় নমঃ
৯৫ওঁ জগৎ-পালায় নমঃ
৯৬ওঁ জগন্নাথায় নমঃ
৯৭ওঁ মহাখগায় নমঃ
৯৮ওঁ দ্বিরূপভৃতয়া নমঃ
৯৯ওঁ পরমাত্মায় নমঃ
১০০ওঁ পরং জ্যোতিষে নমঃ
১০১ওঁ নির্গুণায় নমঃ
১০২ওঁ নৃকেশরীণে নমঃ
১০৩ওঁ পরতত্ত্বায় নমঃ
১০৪ওঁ পরমধামায় নমঃ
১০৫ওঁ সচ্চিদানন্দ বিগ্রহায় নমঃ
১০৬ওঁ ধীরায় নমঃ
১০৭ওঁ লক্ষ্মীনৃসিংহায় নমঃ
১০৮ওঁ প্রহ্লাদপালকায় নমঃ

17/04/2026

#কে_বলেছে_কৃষ্ণভাবনামৃত_কোনো_অনন্দ_নেই?
এইটাই হচ্ছে সংজ্ঞের প্রকৃত আনন্দ, এবং গুরুকূলের প্রকৃত শিক্ষা।
Iskcon Karuatali
Bojon Rj
Sk Dipto

 #মসুর_ডাল_কেন_কৃষ্ণ_ভক্তরা_খেতে_পারে_না?🌷মসুর ডাল কে? মসুর ডালের জন্ম বা উৎপত্তি  কোথায়? পূর্ব জন্মে মসুর ডাল কে ছিলো? ...
10/04/2026

#মসুর_ডাল_কেন_কৃষ্ণ_ভক্তরা_খেতে_পারে_না?

🌷মসুর ডাল কে? মসুর ডালের জন্ম বা উৎপত্তি কোথায়? পূর্ব জন্মে মসুর ডাল কে ছিলো? বর্তমানে মসুর ডাল আসলো কিভাবে? বৈষ্ণবগণ মসুর ডাল খায় না কেন?🌷🌷

মসুর ডালের উৎপত্তি ও প্রকৃতি অত্যন্ত গূঢ়। যদিও এটি একটি উদ্ভিদজাত খাদ্য, তবুও এর জন্মের মূলে রয়েছে এক অপবিত্র ও তামসিক ইতিহাস। মসুর ডালের পরিচয়, উৎপত্তি এবং কেন এটি বৈষ্ণবগণের নিকট বর্জনীয়, তা নিচে দেওয়া হলো।

১. মসুর ডাল কে এবং এর পূর্ব পরিচয়?

মসুর ডাল কোনো সাধারণ শস্য নয়। শাস্ত্রীয় দৃষ্টিতে এর "পূর্ব রূপ" হলো একটি যজ্ঞীয় গাভীর রক্ত ও মাংস। এটি প্রকৃতির স্বাভাবিক সৃষ্টি নয়, বরং একটি অভিশপ্ত বা বিকারগ্রস্ত উৎস থেকে জাত। একারণে একে 'আমিষ' সমতুল্য মনে করা হয়।

২. মসুর ডালের জন্মের কথা

পুরাকালে মহর্ষিগণ যখন যজ্ঞ করতেন, তখন তারা যজ্ঞীয় পশুকে মন্ত্রবলে উৎসর্গ করে পুনরায় জীবন দান করতে পারতেন। একবার এক ঋষিপত্নী কৌতূহলবশত যজ্ঞের জন্য নির্ধারিত গাভীর একটি অংশ (মাংস ও রক্ত) লুকিয়ে রাখেন। যখন ঋষি সেই গাভীকে জীবিত করেন, তখন দেখা গেল গাভীটির শরীরের সেই অংশটি নেই। ঋষিপত্নী ভয় পেয়ে সেই মাংস ও রক্ত মাটিতে পুঁতে ফেলেন।

পরবর্তীতে সেই মাটিতে যে শস্যের চারা উৎপন্ন হয়, তাই হলো মসুর ডাল। যেহেতু এটি সরাসরি পশুর রক্ত ও মাংস থেকে জন্মেছে, তাই এর রং রক্তের মতো লাল এবং এর স্বাদ ও পুষ্টিগুণ মাংসের মতো। বর্তমানে আমরা যে মসুর ডাল দেখি, তা সেই আদি ঘটনারই জাগতিক রূপ।

বৈষ্ণবগণ কেন মসুর ডাল খান না?

বৈষ্ণব দর্শনে আহারের শুদ্ধিই হলো মনের শুদ্ধি (আহার শুদ্ধৌ সত্ত্ব শুদ্ধিঃ)। যেহেতু মসুর ডাল রক্ত থেকে উৎপন্ন, তাই এটি ভক্ষণ করলে মানুষের মনে কাম, ক্রোধ এবং তামসিক প্রবৃত্তি বৃদ্ধি পায়। এটি ভক্তি জীবনের পরিপন্থী হওয়ায় বৈষ্ণবগণ এটি সম্পূর্ণ বর্জন করেন।

(১) পদ্ম পুরাণ (Padma Purana)

পদ্ম পুরাণে ভগবান শিব পার্বতীকে বলছেন যে, মসুর ডাল পশুর রক্ত থেকে জাত, তাই এটি ত্যাজ্য।

শ্লোক:
মসুরং চ তথা মাষং চণকং কুলত্থকং তথা।
গোরক্তসম্ভবা হ্যেতে তস্মাত্তান পরিবর্জয়েৎ॥

অনুবাদ: মসুর, মাষকলাই, ছোলা এবং কুলত্থ কলাই—এগুলো গোরক্ত থেকে উৎপন্ন হয়েছে, তাই এগুলো ভক্ষণ করা বর্জনীয়।

(২) বরাহ পুরাণ (Varaha Purana)

বরাহ পুরাণে ভগবান বরাহদেব একে নিষিদ্ধ খাদ্যের তালিকায় রেখেছেন।

শ্লোক:
মসুরান্নং চ মাংসং চ মদ্যং লশুনমেব চ।
যস্তু ভুঙক্তে নরো মূঢ়ো নরকং সোপি গচ্ছতি॥

অনুবাদ: যে ব্যক্তি মসুর ডাল মিশ্রিত অন্ন, মাংস, মদ্য এবং রসুন ভক্ষণ করে, সেই মূঢ় ব্যক্তি নরকগমন করে।

(৩) হরি ভক্তি বিলাস (Hari Bhakti Vilasa) – বৈষ্ণবীয় স্মৃতির আকর গ্রন্থ

শ্রীল সনাতন গোস্বামী এই গ্রন্থে মসুর ডালকে আমিষ হিসেবে গণ্য করেছেন।

শ্লোক:
বৃন্তাকং জালিকং শাকং কুষ্মাণ্ডং চ কলিঙ্গকম্।
মসুরং মাংসসদৃশং সৰ্ব্বথা পরিবর্জয়েৎ॥

অনুবাদ: বেগুন, কুমড়ো, কলিঙ্গ এবং মসুর ডাল—এগুলো মাংসের সদৃশ। তাই ভক্তি লাভের জন্য এগুলো সর্বদা বর্জনীয়।

(৪) নারদ পুরাণ (Narada Purana)

নারদ পুরাণে উল্লেখ আছে যে, ব্রত বা উপবাসের সময় মসুর ডাল খেলে তা মাংস খাওয়ার সমান পাপ বহন করে।

শ্লোক:
মদ্যং মাংসং মসুরং চ লশুনং গঞ্জনং তথা।
উপবাসে ন ভুঞ্জীত ব্রতভঙ্গভয়েন তু॥

অনুবাদ: মদ, মাংস, মসুর ডাল, রসুন ও গাজর—এগুলো ব্রতের সময় বা আধ্যাত্মিক শুদ্ধির জন্য কখনোই ভক্ষণ করা উচিত নয়।

(৫) স্কন্দ পুরাণ (Skanda Purana)

স্কন্দ পুরাণে মসুর ডালের উৎসকে সরাসরি গোরক্তের সাথে তুলনা করা হয়েছে।

শ্লোক:
মসুরো গোরক্তোৎপন্নো মর্ত্যেঽস্মিন্ পাপরূপধৃক্।
ভক্ষণে চ ভবেৎ তস্য মাংসভক্ষণজং ফলম্॥

অনুবাদ: মসুর ডাল গোরক্ত থেকে উৎপন্ন এবং এই পৃথিবীতে পাপের রূপ ধারণ করে আছে। এটি ভক্ষণ করলে মাংস ভক্ষণের সমান ফল হয়।

(৬) গরুড় পুরাণ (Garuda Purana)

গরুড় পুরাণে পিতৃপুরুষের শ্রাদ্ধে মসুর ডাল ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

শ্লোক:
ন দদ্যান্মাসুরং ধানং ন মাষং ন কুলত্থকম্।
পিতৃণাং ন চ তৃপ্ত্যর্থং বৈষ্ণবেভ্যশ্চ বর্জিতম্॥

অনুবাদ: পিতৃপুরুষদের তৃপ্তির জন্য শ্রাদ্ধকর্মে মসুর বা মাষকলাই অর্পণ করা উচিত নয়। কারণ এটি বৈষ্ণব ও দেবতাদের কাছে অগ্রহণযোগ্য।

সারকথা

শাস্ত্রমতে মসুর ডাল উদ্ভিদ হলেও এর আদি উৎস হলো পশুর রক্ত। এজন্য এর বর্ণ লাল এবং এর প্রভাব তামসিক। যারা সাত্ত্বিক জীবন যাপন করতে চান এবং ভগবানকে নৈবেদ্য অর্পণ করেন, তারা এই ডালকে 'আমিষ' গণ্য করে এড়িয়ে চলেন। বৈষ্ণবগণ শরীর ও মনের পবিত্রতা রক্ষার জন্য এই ডাল ভক্ষণ থেকে বিরত থাকেন।🌷🌷

জয় রাধে ♥️❤️♥️

Raju Krishna Das
Ripon Rishi Nirmol
Anath Ariyan Raaj Singh Iskcon Karuatali

29/03/2026

হরে কৃষ্ণ
ব্যসপূজায় কিছু আনন্দ মুহূর্ত
আজমপুর করুয়াতলী নামহট্ট Krishna Moy Shuvo Hrishi Iskcon Karuatali Hrishi Raaj Rupon Sree Somor Hrishi Anath Ariyan Raaj Singh Nil Akash Anik Das PI NT U Shriman Nipen Chandra Rishi Raju Krishna Das Ripon Rishi Nirmol

29/03/2026
29/03/2026

শ্রীল জয়পতাকা স্বামী গুরুমহারাজ ব্যসপূজা।

29/03/2026

শ্রীল জয়পতাকা স্বামীগুরুমহারাজ এর ব্যসপূজা।
ইস্কন ব্রাহ্মণবাড়িয়া
Iskcon Karuatali
আজমপুর করুয়াতলী নামহট্ট
Hrishi Raaj Rupon
Krishna Moy Shuvo Hrishi
Sree Somor Hrishi

Address

আজমপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
Akhaura

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Iskcon Karuatali posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share