Mahfuz Rahman - محفوظ الرحمن - 馬夫茲拉赫曼

Mahfuz Rahman - محفوظ الرحمن - 馬夫茲拉赫曼 - ইসলামের দৃষ্টিতে দুনিয়া দেখি - Former Banker, Educator and Geopolitical Observer,

পেলিকানন যুদ্ধ - ১৩২৯১৩২৯ সালের ১০ জুন বাইজেন্টাইন সম্রাট অ্যান্ড্রোনিকাস-৩ এর বাহিনীর সাথে ওরহান-১ এর নেতৃত্বে উসমানীয় ...
11/06/2026

পেলিকানন যুদ্ধ - ১৩২৯

১৩২৯ সালের ১০ জুন বাইজেন্টাইন সম্রাট অ্যান্ড্রোনিকাস-৩ এর বাহিনীর সাথে ওরহান-১ এর নেতৃত্বে উসমানীয় বাহিনীর পেলিকানন যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল। এরপূর্বে ১৩২৮ সালে অ্যান্ড্রোনিকাস বাইজেন্টাই সিংহাসনে বসেই উসমানীয় শাসনাধীন তুরস্কের পশ্চিম অঞ্চল প্রায় পুরোটা দখল করে নিতে থাকেন। উসমানীয়রা বিথিনিয়ার গুরুত্বপূর্ণ শহর প্রুসা পুনরুদ্ধার করে। তখন অ্যান্ড্রোনিকাস নিজেই অভিযান করেন।

সম্রাট অ্যান্ড্রোনিকাস পথিমধ্যে কন্সট্যান্টিনোলের সম্রাট জন ক্যান্টাকুজিনের বাহিনীর সাথে মিলিত হন। একটি সম্মিলিত সেনাবাহিনী নিয়ে তিনি মর্মর সাগরের উপকূল ধরে নিকোমিডিয়ার দিকে অগ্রসর হন। এদিকে পেলিকাননে ওরহান এর নেতৃত্বে উসমানীয় বাহিনী পাহাড়ে অবস্থান নিয়ে নিকোমিডিয়ার পথ অবরোধ করেছিল। বিপদ বুঝতে পেরে অ্যান্ড্রোনিকাস ও ক্যান্টাকুজিন দূরে সমভূমিতে শিবির স্থাপন করে অপেক্ষায় থাকেন।

১০ জুন বাইজেন্টাইনদের পাহাড়ের দিকে প্রলুব্ধ করার জন্য ওরহান ৩০০ মাউন্টেড আর্চার (অশ্বারোহী তীরন্দাজ) পাঠান। তারা কিছুটা সংঘর্ষ করে পিছু হটার ভাণ করে ফিরে আসেন, কিন্তু বাইজেন্টাইনরা তাদের পশ্চাধাবন থেকে বিরত থাকে। রাত পর্যন্ত সিদ্ধান্তহীন সংঘর্ষ চলতে থাকে। উসমানীয়দের কৌশল বুঝতে না পেরে বাইজেন্টাইন বাহিনী তাদের শিবির গুটিয়ে চলে যেতে প্রস্তুত হয়, কিন্তু উসমানীয় বাহিনী তাদের সুযোগ দেয়নি।

সুলতান ওরহান নিজে সামনে এসে আক্রমণ পরিচালনা করেন। তীব্র বেগে ঘোড়া ছুটিয়ে তিনি বাইজেন্টাইন ও কন্সট্যান্টিনোপল সম্রাট অ্যান্ড্রোনিকাস ও ক্যান্টাকুজিনের মুখোমুখি হন। সম্রাটেরা এটা প্রত্যাশা করেননি। তারা উভয়ই ওরহানের নিকট পরাস্ত ও আহত হন। অপরদিকে তাদের ভারী বর্মাচ্ছাদিত বাইজেন্টাইন বাহিনী পাহাড়ে অভিজ্ঞ হালকা অস্ত্রবাহী উসমানীয় বাহিনীর তীব্রতার সামনে অসহায় হয়ে পড়ে। এদিকে গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে, উভয় বাইজেন্টাইন সম্রাট নিহত হয়েছেন। বাহিনীর আতঙ্কিত সৈন্যরা পালিয়ে যায়।

বাইজেন্টাইন বাহিনী আর প্রুসা জয়ের চেষ্টা করেনি। নিকোমিডিয়া ও নিসিয়া অরক্ষিত হয়ে পড়ে এবং বসফরাস জুড়ে তাদের নিয়ন্ত্রণ দূর্বল হয়ে পড়ে। উসমানীয়রা ১৩৩১ সালে নিসিয়া ও ১৩৩৭ সালে নিকোমিডিয়া জয় করে। এই দূর্বলতা বাইজেন্টাইনরা কখনই কাটিয়ে উঠতে পারেনি। পরাজয়ের ধারা অব্যাহত থাকে এবং অবশেষে সাম্রাজ্যকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে ১৪৫৩ সালে সুলতান মুহাম্মদ আল ফাতিহ্ কন্সট্যান্টিনোপল বিজয় করেন।

লেখাটির মূল লিংক -
https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=635029095336460&id=100064881242396&mibextid=Nif5oz

যারা ধর্মান্ধ নন, যাদের মুসলমানদের প্রতি মানবতা দেখানোর সময় নেই। যারা নিজেদের অতিরিক্ত জ্ঞানী মনে করেন - তাদের জন্য সাম...
11/06/2026

যারা ধর্মান্ধ নন, যাদের মুসলমানদের প্রতি মানবতা দেখানোর সময় নেই। যারা নিজেদের অতিরিক্ত জ্ঞানী মনে করেন - তাদের জন্য সামান্য একটু পরিসংখ্যান।

যারা (যে হোক না কেন?) আমার রাসূলুল্লাহ্ ﷺ কে গালি দেয় তারা ঈমানের সর্ব নিম্ন স্তরে থাকা মুসলমানের পায়ের জুতার ফিতা খোল...
10/06/2026

যারা (যে হোক না কেন?) আমার রাসূলুল্লাহ্ ﷺ কে গালি দেয় তারা ঈমানের সর্ব নিম্ন স্তরে থাকা মুসলমানের পায়ের জুতার ফিতা খোলার যোগ্যও নয়।

প্রায় চার - পাঁচ বছর আগে কোকাকোলা একটা ক্যাম্পেইন করেছিল-- ওয়েবসাইট থেকে আপনি কাস্টমাইজড বোতল অর্ডার করতে পারবেন। নিজের ...
10/06/2026

প্রায় চার - পাঁচ বছর আগে কোকাকোলা একটা ক্যাম্পেইন করেছিল-- ওয়েবসাইট থেকে আপনি কাস্টমাইজড বোতল অর্ডার করতে পারবেন। নিজের নাম, বউয়ের নাম, শ্বশুরের নাম, দলের নাম, কুত্তার নাম, যা খুশি তাই দিতে পারবেন। শুধু দিতে পারবেন না ফি-লি-স্তি-নে-র নাম। ই-স-রা-ই-ল দিয়ে কিন্তু আবার কাস্টমাইজড বোতল অর্ডার করতে পারবেন ঠিকই। দুনিয়াজুড়ে ব্যপক সমালোচনা হয়েছিল সেসময়।

বাংলাদেশে প্রচারিত তাদের নতুন কমার্শিয়ালটা দেখলাম। বেশ ইন্ট্রেস্টিংলি তারা ফি-লি-স্তি-ন এর নাম উচ্চার‍ণ করল কিন্তু ই-স-রা-ই-ল এর নামটা এড়িয়ে গেল। একেই বলে ঠেলার নাম বাবাজি। এত প্যারা খাচ্ছে যে স্বামীর নাম উচ্চারণ করে পাপ জমাতেও এখন রাজী না। আহাম্মকের মত আবার আমাদের এইটাও তারা জানিয়ে দিল ফি-লি-স্তি-নে তাদের ফ্যাকটরি আছে।

জ্বী আছে ফ্যাক্টরি, ফি-লি-স্তি-নি মানুষের দখলকৃত জমিতে। আর এতে করে এদের অপরাধ, এদের হাতে লেগে থাকা র*ক্তের দাগ মুছে যায় না। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি দুইশ বছর আমাদের বুকের উপর দাঁড়িয়ে আমাদেরকে রাজা থেকে দাস বানিয়ে ছেড়েছে। যে দাসত্বের বোঝা আমরা আজও বয়ে বেড়াই। তাদের কোম্পানি বা ফ্যাকটরি আমাদের দেশে ছিল এর মানে এই না তারা আমাদের ভাই-ব্রাদার ছিল।

একটা প্রতিষ্ঠান কোথায় অবস্থিত তাতে কিসসু ছেঁড়া যায় না। তারা মার্কেটিং ক্যাম্পেইন করে কাদের দিনের পর দিন সমর্থন যোগাচ্ছে। এর লভ্যাংশ কাদের পকেটে যাচ্ছে আর তারা এটা দিয়ে কি করে। এর শেয়ার হোল্ডার কারা এগুলোই আমাদের কাছে মূল ব্যাপার। এবার আসেন কোকের কিছু পুরাতন আমলনামা দেখে আসি-

১. ওয়ারেন বাফেট হচ্ছেন কোকা-কোলার সবচেয়ে বড় শেয়ারহোল্ডার। এই লোক তার আর্থিক প্রভাব ব্যবহার করে ই-স-রা-ই-ল-কে উল্লেখযোগ্যভাবে সমর্থন করেন। তার কোম্পানি বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ে ২০০৬ সালে ই-স-রা-ই-লি কোম্পানি ইসকার-এর ৮০% শেয়ার ৪ বিলিয়নে এবং ২০১৩ সালে বাকি ২০% শেয়ার ২ বিলিয়নে কিনে নেয়। বাফেট ই-স-রা-ই-ল বন্ডসকে ব্যপকভাবে প্রমোট করেন। তেভা ফার্মাসিউটিক্যালস-এর মতো ই-স-রা-ই-লি কোম্পানিতেও তার ব্যপক বিনিয়োগ রয়েছে।

এছাড়া এই লোক বেন-গুরিয়ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪০০ মিলিয়ন ডলার ডোনেশন দিয়েছেন কিছুদিন আগেই। তার ভাষ্যমতে-"আমি ই-য়া-হু-দী নই, তবে ই-স-রা-ই-ল আমাকে আমে*রিকার জন্মের পরের সময়ের কথা মনে করিয়ে দেয়। এখানকার মানুষের দৃঢ়সংকল্প, মোটিভেশন, বুদ্ধিমত্তা এবং উদ্যোগ অসাধারণ ও অসাধারণ। আমি ই-স-রা-ই-ল এর অর্থনীতির প্রতি ভরসা রাখি।"

(কোকা-কেলা কাদের এটা তাই বুঝতে কোকা-কোলা কোন দেশি সেটা সার্চ না দিয়ে, এর সবচেয়ে বেশি শেয়ার কার, এবং তার ই-স-রা-ই-ল নিয়ে স্ট্যান্স কি সার্চ করুন)

২. ই-স-রা-ই-লে-র সমর্থক: ১৯৬৬ সাল থেকে কোকা-কোলা ই-স-রা-ই-লে-র দৃঢ় সমর্থক।

৩. ই-স-রা-ই-ল কর্তৃক সম্মাননা: ১৯৯৭ সালে ই-স-রা-ই-ল সরকার এর ইকোনমিক মিশন কোকা-কোলাকে প্রায় ৩০ বছর ধরে তাদেরকে অর্থনৈতিকভাবে সমর্থনের জন্য সম্মাননা প্রদান করে।

৪. আমে*রিকান - ই-স-রা-ই-ল চেম্বার অফ কমার্স অ্যাওয়ার্ড: কোকা-কোলা এই পুরস্কারগুলোকে স্পনসর করে, যা ই-স-রা-ই-লি অর্থনীতিতে অবদান রাখা কোম্পানিগুলিকে সম্মাননা প্রদান করে।

৫. AIPAC-এর সমর্থন: ২০০৯ সালে, কোকা-কোলা একটি পুরস্কার স্পনসর করে যা AIPAC-এর লবিংয়ের জন্য দেওয়া হয়, যেটা জাতিসংঘের যুদ্ধবিরতির আহ্বান প্রত্যাখ্যান করে এবং গা*জায় সামরিক হা*মলা চালিয়ে যাওয়ার অনুমোদন দেয়।

৬. খু*নীকে সম্মানিত করা: ২০০৯ সালে, কোকা-কোলা বেন-এলিয়েজারকে তাদের সদর দপ্তরে বিশেষ সংবর্ধনা প্রদান করে। বেন-এলিয়েজার হচ্ছে সেই ব্যক্তি যে ছয় দিনের যু-দ্ধের সময় তার ইউনিটের মাধ্যমে ৩০০ এর বেশি মিশরীয় বন্দীর মৃ ত্যু_দন্ড কার্যকর করার দায়ে অভিযুক্ত ছিলেন। কোকা-কোলার এই সংবর্ধনা সেসময় ব্যপক বিতর্কের সৃষ্টি করেছিল।

৭. ফি-লি-স্তি-নি জমি দখল করে সেখানে কোকা - কোলার কারখানা স্থাপন করা হয়েছে। ১৯৬৭-১৯৯১ পর্যন্ত তাই আরবলীগ আনুষ্ঠানিক ভাবে কোকাকোলা বয়কট করে রেখেছিল।

✍️ Arman ibn solaiman

The Battle of Pelekanon was the first encounter between a Byzantine Emperor and an Ottoman Bey/Sultan.After Orhan became...
10/06/2026

The Battle of Pelekanon was the first encounter between a Byzantine Emperor and an Ottoman Bey/Sultan.

After Orhan became the Bey the Ottomans, he started his campaign to annex the northwestern side of Anatolia. Therefore, he began the siege of the city of Nicaea in 1328 CE. By the Spring of 1329, the Ottomans had passed Nicomedia (İzmit).

Threatened by the Ottoman advance, the Byzantine emperor Andronikos III was compelled to lead an army against Orhan to relieve the cities. On the morning of the third day of his campaign, he reached Pelekanon, where he found Orhan encamped with his light-armed and irregular troops.

After a day of aimless engagements, the Byzantine emperor made the decision to retreat his army back to the camp at Pelekanon. While they were in the process of withdrawing, the Turks pursued their rear guard, and the emperor, while fending off their attack, sustained a wound in his thigh.

There was no capable leader in the Greek camp who could replace the emperor. Therefore, Andronikos, the emperor, chose to sail to Constantinople without attempting to restore the honour of his military.

Historian George Finlay writes, "Insignificant as it really was, its moral effect was incalculable; the heavy-armed and disciplined Greeks had fled before the light-armed and irregular Turks; and the spirit of the Greek emperor and of the Greek nation was broken."

পেলিকানন যুদ্ধ - ১৩২৯

১৩২৯ সালের ১০ জুন বাইজেন্টাইন সম্রাট অ্যান্ড্রোনিকাস-৩ এর বাহিনীর সাথে ওরহান-১ এর নেতৃত্বে উসমানীয় বাহিনীর পেলিকানন যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল। এরপূর্বে ১৩২৮ সালে অ্যান্ড্রোনিকাস বাইজেন্টাই সিংহাসনে বসেই উসমানীয় শাসনাধীন তুরস্কের পশ্চিম অঞ্চল প্রায় পুরোটা দখল করে নিতে থাকেন। উসমানীয়রা বিথিনিয়ার গুরুত্বপূর্ণ শহর প্রুসা পুনরুদ্ধার করে। তখন অ্যান্ড্রোনিকাস নিজেই অভিযান করেন।

সম্রাট অ্যান্ড্রোনিকাস পথিমধ্যে কন্সট্যান্টিনোলের সম্রাট জন ক্যান্টাকুজিনের বাহিনীর সাথে মিলিত হন। একটি সম্মিলিত সেনাবাহিনী নিয়ে তিনি মর্মর সাগরের উপকূল ধরে নিকোমিডিয়ার দিকে অগ্রসর হন। এদিকে পেলিকাননে ওরহান এর নেতৃত্বে উসমানীয় বাহিনী পাহাড়ে অবস্থান নিয়ে নিকোমিডিয়ার পথ অবরোধ করেছিল। বিপদ বুঝতে পেরে অ্যান্ড্রোনিকাস ও ক্যান্টাকুজিন দূরে সমভূমিতে শিবির স্থাপন করে অপেক্ষায় থাকেন।

১০ জুন বাইজেন্টাইনদের পাহাড়ের দিকে প্রলুব্ধ করার জন্য ওরহান ৩০০ মাউন্টেড আর্চার (অশ্বারোহী তীরন্দাজ) পাঠান। তারা কিছুটা সংঘর্ষ করে পিছু হটার ভাণ করে ফিরে আসেন, কিন্তু বাইজেন্টাইনরা তাদের পশ্চাধাবন থেকে বিরত থাকে। রাত পর্যন্ত সিদ্ধান্তহীন সংঘর্ষ চলতে থাকে। উসমানীয়দের কৌশল বুঝতে না পেরে বাইজেন্টাইন বাহিনী তাদের শিবির গুটিয়ে চলে যেতে প্রস্তুত হয়, কিন্তু উসমানীয় বাহিনী তাদের সুযোগ দেয়নি।

সুলতান ওরহান নিজে সামনে এসে আক্রমণ পরিচালনা করেন। তীব্র বেগে ঘোড়া ছুটিয়ে তিনি বাইজেন্টাইন ও কন্সট্যান্টিনোপল সম্রাট অ্যান্ড্রোনিকাস ও ক্যান্টাকুজিনের মুখোমুখি হন। সম্রাটেরা এটা প্রত্যাশা করেননি। তারা উভয়ই ওরহানের নিকট পরাস্ত ও আহত হন। অপরদিকে তাদের ভারী বর্মাচ্ছাদিত বাইজেন্টাইন বাহিনী পাহাড়ে অভিজ্ঞ হালকা অস্ত্রবাহী উসমানীয় বাহিনীর তীব্রতার সামনে অসহায় হয়ে পড়ে। এদিকে গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে, উভয় বাইজেন্টাইন সম্রাট নিহত হয়েছেন। বাহিনীর আতঙ্কিত সৈন্যরা পালিয়ে যায়।

বাইজেন্টাইন বাহিনী আর প্রুসা জয়ের চেষ্টা করেনি। নিকোমিডিয়া ও নিসিয়া অরক্ষিত হয়ে পড়ে এবং বসফরাস জুড়ে তাদের নিয়ন্ত্রণ দূর্বল হয়ে পড়ে। উসমানীয়রা ১৩৩১ সালে নিসিয়া ও ১৩৩৭ সালে নিকোমিডিয়া জয় করে। এই দূর্বলতা বাইজেন্টাইনরা কখনই কাটিয়ে উঠতে পারেনি। পরাজয়ের ধারা অব্যাহত থাকে এবং অবশেষে সাম্রাজ্যকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে ১৪৫৩ সালে সুলতান মুহাম্মদ আল ফাতিহ্ কন্সট্যান্টিনোপল বিজয় করেন।

লেখাটির মূল লিংক -
https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=635029095336460&id=100064881242396&mibextid=Nif5oz

মেয়েদের জন্য সতর্কবার্তাবান্ধবী বা কাজিনের ফোনে কখনো ছবি তুলবেন না। গ্রুপ ফটো তো তুলবেন না, এমনকি সিঙ্গেল ফটোও না। কারণ ...
09/06/2026

মেয়েদের জন্য সতর্কবার্তা

বান্ধবী বা কাজিনের ফোনে কখনো ছবি তুলবেন না। গ্রুপ ফটো তো তুলবেন না, এমনকি সিঙ্গেল ফটোও না। কারণ এই ছবি তার ভাই, হাজবেন্ড ও অন্যান্যদের চোখে পড়বে। তাদের কাছেও চলে যাবে।

একইভাবে মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ বা ইমোতে বান্ধবী, বোন বা কাজিনকে ছবি পাঠাবেন না।

এসব প্ল্যাটফর্মে ছবি আদান প্রদান করবেন না। এগুলো এখন পুরোপুরি অনিরাপদ। ভিডিও কল করা থেকেও বিরত থাকবেন। আপনার ছবি ইডিট করে পর্ণসাইট বা চটি পেইজে ছেড়ে দেওয়া হতে পারে। আর এসব ছবি ও ভিডিও ব্যবহার করে ব্লাকমেইল করার নজিরও কম নয়।

~আবুল হাসানাত কাসিম হাফি.

09/06/2026

উম্মুল মুমেনীন হযরত আয়েশা বিনতে আবু বকর সিদ্দিক (রাঃ)। রাসূলুল্লাহ্ ﷺ এর একমাত্র কুমারী স্ত্রী ছিলেন। রাসূলুল্লাহ্ ﷺ এর অন্যান্য সকল স্ত্রী ছিলেন বিধবা কিংবা তালাক প্রাপ্ত। উম্মুল মুমেনীন অর্থাৎ মুমিনদের "মা"। রাসূলুল্লাহ্ ﷺ এর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার পর সারা পৃথিবীর মানুষদের জন্য হারাম করে দেওয়া হয়েছে তাদের সাথে পুনঃ বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া। তাঁরা ছিলেন পবিত্র রমনী।

পৃথিবীর সমস্ত মুসলমানরা এই রাসূলুল্লাহ্ ﷺ এর সম্মানিত স্ত্রী তথা "উম্মুল মুমেনীন"দের রাসূলুল্লাহ্ ﷺ এর মত ভালবাসে। আর পবিত্র রমনীদের নিয়ে উগ্র, সাম্প্রদায়িক অমুসলিমদের অশালীন মন্তব্য, কুটক্তি করতে দ্বিধা করে না। অথচ তারা ভুলে যায় মুসলমানরা তাদের কত সম্মান করে, ভালবাসে। তারা ভুলে যায় মুসলমানের সহ্যের সীমা হচ্ছে রাসূলুল্লাহ্ ﷺ এবং তাঁর পরিবার এবং সাথীরা।

নিচের ভিডিওতে দেখা যায় মুসলিম বাচ্চারা উম্মুল মুমেনীন হযরত আয়েশা (রাঃ) এর শানে সংগীত পরিবেশন করেছে। মুসলমানরা কত ভালবাসে উম্মুল মুমেনীন হযরত আয়েশা বিনতে আবু বকর সিদ্দিক (রাঃ) কে।

ই-স-রা-ই-ল নামক রাষ্ট্রের ভিত্তি তৈরি হয় আর্থা‌র জেমস বেলফোরের এই চিঠির মাধ্যমে।১৯১৭ সালের ৯ এপ্রিল, বেলফোর ঘোষণাটি পত্...
08/06/2026

ই-স-রা-ই-ল নামক রাষ্ট্রের ভিত্তি তৈরি হয় আর্থা‌র জেমস বেলফোরের এই চিঠির মাধ্যমে।

১৯১৭ সালের ৯ এপ্রিল, বেলফোর ঘোষণাটি পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। মূল ঘোষণা ছিল মাত্র ৬৭ শব্দের। এই ঘোষণার মাধ্যমে ফি-লি-স্তি-নে-র ভূমিতে ই-য়া-হু-দী-দে-র জন্য একটি ‘জাতীয় আবাসভূমি’ প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। সেই সঙ্গে বলা হয় যে, সেখানে বসবাসরত অন্যান্য জাতির ধর্মীয় ও নাগরিক অধিকার ক্ষুন্ন করা হবে না। বেলফোর ঘোষণার ভাষা খুবই অস্পষ্ট। ধারণা করা হয়, ইচ্ছাকৃতভাবেই এর ভাষাকে অস্পষ্ট রাখা হয়েছিল। এতে স্পষ্ট করে ই-য়া-হু-দী রাষ্ট্র গঠনের কথা বলা হয়নি, বরং ‘জাতীয় আবাসভূমি’ শব্দগুলো ব্যবহার করা হয়েছে। তবে এই বেলফোর ঘোষণার মধ্য দিয়েই প্রথম ই-য়া-হু-দী-দে-র জন্য একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের ভাবনাকে স্বীকৃতি দেয়া হয়।

মূল ঘোষণাটির বঙ্গানুবাদ এ রকম:

পররাষ্ট্র অফিস,
২রা নভেম্বর, ১৯১৭।

প্রিয় লর্ড রথচাইল্ড,
আমি আপনাকে সানন্দে জানাতে চাই যে, মহামান্য সরকারের পক্ষ থেকে ই-য়া-হু-দী জা-য়-ন-বা-দী আকাঙ্ক্ষার প্রতি সহানুভূতিশীল নিম্নলিখিত ঘোষণা যা মন্ত্রিসভায় জমা দেওয়া হয়েছে এবং অনুমোদিত হয়েছে।

“মহামান্য সরকার ই-য়া-হু-দী জনগণের জন্য ফি-লি-স্তি-নে জাতীয় আবাসভূমি প্রতিষ্ঠাকে ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখে এবং এ উদ্দেশ্য পূরণে তাদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা ব্যবহার করবে, এটি নিশ্চিত করা হচ্ছে যে, এমন কিছু করা হবে না যার ফলে ফি-লি-স্তি-নে অবস্থানরত অ-ই-য়া-হু-দী সম্প্রদায়ের নাগরিক ও ধর্মীয় অধিকার অথবা অন্য কোনো দেশে ই-য়া-হু-দী-রা যে অধিকার ও রাজনৈতিক মর্যাদা ভোগ করছে, তার কোনো হানি হয়।”

আপনি এটি জা-য়ো-নি-স্ট ফেডারেশনের নিকট পৌঁছে দিলে আমি কৃতজ্ঞ থাকব।

Foreign Office,
November 2nd, 1917.

Dear Lord Rothschild,
I have much pleasure in conveying to you, on
behalf of His Majesty's Government, the following declaration of sympathy with Jewish Zionist aspirations which has been submitted to, and approved by, the Cabinet.

His Majesty's Government view with favour the
establishment in Palestine of a national home for the Jewish people, and will use thelr best endeavours to facilitate the achievement of this object, it being clearly understood that nothing shall be done which may prejudice the civil and religious rights of existing non-Jewish communities in Palestine, or the rights and political status enjoyed by Jews ln any other country"

I should be grateful if you would bring this
declaration to the knowledge of the Zionist Federation.

উসমানীয় সাম্রাজ্যের সুলতান ফাতিহ্ সুলতান মেহমেদ খান এর যুদ্ধ বর্ম।
08/06/2026

উসমানীয় সাম্রাজ্যের সুলতান ফাতিহ্ সুলতান মেহমেদ খান এর যুদ্ধ বর্ম।

একজন শহীদ ইলমুদ্দিনআজ থেকে ঠিক ৯৭ বছর পূর্বে ৩১ অক্টোবর, ১৯২৯ উপমহাদেশে একটা ফাঁসির আদেশ বাস্তবায়িত হয়- এক ছুতার মিস্ত্র...
07/06/2026

একজন শহীদ ইলমুদ্দিন

আজ থেকে ঠিক ৯৭ বছর পূর্বে ৩১ অক্টোবর, ১৯২৯ উপমহাদেশে একটা ফাঁসির আদেশ বাস্তবায়িত হয়- এক ছুতার মিস্ত্রির ১৯ বছর বয়সী অশিক্ষিত ছেলের। কিন্তু তাঁর ফাঁসি ও পূর্বাপর ও পরবর্তী ঘটনা ছিল উপমহাদেশের ইতিহাসে অন্যতম আলোচিত, বিক্ষোভময় ঘটনা। এমনকি এই ঘটনা হিন্দু মুসলিম সম্পর্কের অবনতি, ব্রিটিশ বিরোধিতায় অগ্রগণ্যতা এবং ইসলামী প্রজাতন্ত্র পাকিস্তান প্রতিষ্ঠায় অগ্রগামীতা এনে দেওয়ায় অন্যতম অনুঘটকের কাজ করে।

ইলমুদ্দিন (জন্ম: ৪ঠা ডিসেম্বর, ১৯০৮ – মৃত্যু: ৩১শে অক্টোবর, ১৯২৯) ছিলেন অবিভক্ত ভারতের একজন মুসলিম যিনি রাজপাল নামক এক বই প্রকাশককে হত্যা করেন। গাজি ইলমুদ্দিন শহীদ অবিভক্ত ভারতের লাহোরে (বর্তমান পাকিস্তান) জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা একজন ছুতার মিস্ত্রী ছিলেন। বয়োপ্রাপ্ত হলে তিনি তার পিতার দোকানে কাজে যোগ দেন। আবদুল রশিদ নামে তার একজন বন্ধু ছিলেন। তাকে “শিদা” বলে ডাকা হত। শিদার বাবার দোকান ওয়াজির খান মসজিদের সামনে অবস্থিত ছিল।

১৯২৩ সালে ব্রিটিশ ইন্ডিয়ার লাহোর থেকে একটি বই প্রকাশিত হয় 'রঙ্গিলা রসুল' নামে। কৃষ্ণ প্রসাদ প্রতাপ নামক ব্যক্তি "চামুপতি পন্ডিত" ছদ্মনামে “রঙ্গিলা রসুল” নামক বই লেখেন। এখানে 'রঙ্গিলা' অর্থ ছিল 'প্রমোদবালক' বা 'প্লে বয়' অর্থে। রাজপাল নামে লাহোরের এক হিন্দু পুস্তক ব্যবসায়ী বইটা প্রকাশ করেন, লেখকের প্রকৃত পরিচয় প্রকাশ না করার ঘোষণা দিয়ে। এই বইয়ে নবী মুহাম্মদ (সাঃ) এর নামে কুৎসা রটানোয় মুসলিমরা এর প্রতিবাদ করেন। বইটি লাহোর থেকে ১৯২৩ সালে রাজপাল কর্তৃক প্রকাশিত হয়। ভারতীয় মুসলিমদের বেশ কিছু দল এই বইটি নিষিদ্ধের দাবি জানায়। কিন্তু ব্রিটিশ সরকার মুসলিমদের দাবির প্রতি গুরুত্ব আরোপ করেনি।

এ নিয়ে বিক্ষোভ চরমে পৌঁছালে লাহোর সেশন কোর্টে মুসলিম আইনজীবীরা মামলা করেন। তাকে 'দাঙ্গা' বাঁধানোর প্রচেষ্টায় দোষী সাব্যস্ত করে সাজা দেয় সেশন কোর্ট। তিনি হাইকোর্টে আপিল করেন। আপিল আদালতে এর শুনানি করেন বিচারক দিলীপ সিং। দিলীপ সিং তার সংক্ষিপ্ত রায়ে উল্লেখ করেন, 'এটা ভারতীয় অপরাধ বিধিমালার ১৫৩ ধারা লঙ্ঘন করে না।' অর্থাৎ তাকে দাঙ্গা সৃষ্টির অভিযোগ থেকে অদ্ভুত এক রায়ের মাধ্যমে মুক্তি দেওয়া হয়।

এই পক্ষপাতপূর্ণ রায় হিসবে অভহিত হয়ে ব্যাপক সমালোচিত হয়। রাজপাল মুক্তি পান। তবে এই মুক্তির ঘটনা লাহোর থেকে ঢাকা সর্বত্রই মুসলিমদের কাছে ঘৃণ্য বলে পরিগণিত হয়। বিক্ষোভ, মিছিল, সিরাত সম্মেলন চলতে থাকে। লাহোরের মসজিদ ওয়াজির খানের সামনেও বিরাট প্রতিবাদ সমাবেশ চলছিল। রাসূলুল্লাহ্ ﷺ এর অপমান নিয়ে বক্তারা বক্তব্য দিচ্ছিলেন। সেদিন ইলমুদ্দিন তাঁর এক বন্ধুসহ মসজিদের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। সেই সময় পথ চলা থামিয়ে বক্তব্য শুনতে থাকেন ইলমুদ্দিন। ঐ সময় মসজিদের কাছে অনেক লোকের ভিড় জমে ছিল। লোকেরা তখন রাজপালের বিরুদ্ধে স্লোগান দিচ্ছিলেন।

রাসূলুল্লাহ্ ﷺ কে অপমানের বিভিন্ন বক্তব্য শুনে ইলমুদ্দিন আবেগমথিত হয়ে পড়েন। গাজি ইলমুদ্দিন সিদ্ধান্ত নেন যে তিনি রাজপালকে তার দোকানে গিয়ে ছুরিকাঘাতে হত্যা করবেন। ইলমুদ্দিন তাঁর বন্ধুর কাছে নিজের ইচ্ছার কথা জানান। একটি সূত্র মতে, তারা দুজনেই প্রকাশককে হত্যার সিদ্ধান্ত নেন। ৬ই সেপ্টেম্বর, ১৯২৯ ইলমুদ্দিন হত্যার উদ্দেশ্যে বাজার থেকে এক রুপি দিয়ে একটি খঞ্জর কেনেন। খঞ্জরটি প্যান্টের ভেতর নিয়ে খুঁজে খুঁজে রাজপালের বইয়ের দোকানে যান এবং রাজপালের খোঁজে সেখানে অপেক্ষা করতে থাকেন। এসময় রাজপাল তার দোকানে ছিলেন না আর ইলমুদ্দিনও রাজপালকে চিনতেন না। দিনভর দাঁড়িয়ে থেকে লোকেদের জিগ্যেস করে অবশেষে তিনি রাজপালকে চিনে নেন। রাজপাল বইয়ের দোকানে আসার পর ইলমুদ্দিন সোজা তার বুক বরাবর দুধারি খঞ্জরটি ঢুকিয়ে দেন। রাজপালের হৃদপিন্ড বিদ্ধ করে এটি। রাজপাল মারা যায়। কিন্তু ইলমুদ্দিন পালানোর চেষ্টা করলেন না।

পুলিশ আসল, গ্রেপ্তার করা হল ইলমুদ্দিনকে। মামলা দায়ের করা হলো। ইলমুদ্দিনের পক্ষের আইনজীবী ছিলেন ফারুক হোসেন। ইলমুদ্দিন নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। বিবাদী পক্ষ তার নির্দোষিতার পক্ষে দুজন সাক্ষী উপস্থাপন করে। বাদী পক্ষের দুজন সাক্ষী তার দোষী হওয়ার বিষয়ে সাক্ষ্য দেয়। কিন্তু মামলার রায়ে ইলমুদ্দিনের ফাঁসির আদেশ দেওয়া হয়েছে। এই রায় শুনে ফুঁসে উঠেছে ভারতের মুসলমানরা। ইলমুদ্দিনকে বাঁচাতে আল্লামা ইকবাল, ব্যারিস্টার মঈন উদ্দিন খানসহ অসংখ্য মুসলিম তাঁর পক্ষে মাঠে নামল।

ব্যারিষ্টার ফারুক হোসেনের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ও সামগ্রিক অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে তৎকালীন প্রখ্যাত আইনজীবী ও পরবর্তীকালে ইসলামী প্রজাতন্ত্র পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ্ ইলমুদ্দিনের পক্ষাবলম্বন করেন। মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ্ তখন মুম্বাই (তৎকালীন বোম্বাই) থাকতেন। তিনি লাহোর এলেন এবং ইলমুদ্দিনের ডিফেন্স ল'ইয়ার হিসেবে মামলা হাতে নিলেন। মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ্ লাহোর হাইকোর্টে আপিলে অংশ নেন। ইলমুদ্দিনকে বাঁচাতে এমন কোন উপায় ছিল না তা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ্ অনুসরণ করেননি। মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ্ তাকে পরামর্শ দিয়েছিলেন, "তুমি অল্পবয়সী, আদালতকে বলো- এ কাজ করার সময় আমি মানসিক স্থিরতাসম্পন্ন ছিলাম না।" কিন্তু ঈমানের বলে বলিয়ান ইলমুদ্দিন তা অস্বীকার করেন। মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ্ বিবাদীপক্ষের সাক্ষীদের বক্তব্যের উপর পাল্টা যুক্তি ছুড়ে দেন যা আদালতে গৃহীত হয়নি। মুহাম্মদ জিন্নাহ্ এরপর পরিস্থিতির উল্লেখ করে এই বলে আবেদন করেন যে ইলমুদ্দিন একজন ১৯, ২০ বছরের ব্যক্তি যিনি তার বিশ্বাসের প্রতিষ্ঠাতার প্রতি ভালবাসার কারণে উত্ত্যক্ত হয়েছিলেন। তাই তার মৃত্যুদন্ডকে যাবজ্জীবন দ্বীপান্তরে বদলানো যেতে পারে। কিন্তু এই যুক্তিও আদালতে গৃহীত হয়নি।

মামলার রায় ঘোষণা করা হলো, মামলার শুনানিতে মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ্ পরাজিত হলেন। সেশন কোর্ট ফাঁসির আদেশ দিলে- উচ্চ আদালতে তা বহাল থাকে। অর্থাৎ রাজপালকে হত্যার অভিযোগে উচ্চ আদালতের বিচারক শাদিলাল ইলমুদ্দিনের ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত।

প্রথম ও শেষ বারের মত মামলার শুনানিতে পরাজিত হন মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ্। যদিও মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ্ ইতোপূর্বে কখনো মামলায় হারেন নি- তিনি জানতেন এটা সম্ভবত তাঁর প্রথম হার। এই জন্য এই মামলা 'জিন্নাহ'স অনলি লস্ট কেইস' নামেও পরিচিত।

হিন্দু পত্রিকা “প্রতাপ” এসময় জিন্নাহর সমালোচনা করে। পত্রিকা মতে এ ঘটনা হিন্দুদের মধ্যে জিন্নাহর সম্মানের জন্য হানিকর হবে। এটি স্মরণ রাখতে হবে যে ভারতীয় দন্ডবিধির ২৯৫-ক ধারার সংযোজনের সময় মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ্ নির্বাচন কমিটিতে ছিলেন এবং তিনি তখন সতর্ক বার্তা উচ্চারণ করে বলেন যে এই আইন ভিন্নমতের কণ্ঠরোধ ও ধর্মের সমালোচনার জন্য ব্যবহৃত হতে পারে।

৪ অক্টোবর, ১৯২৯ তারিখে ইলমুদ্দিনকে পাঞ্জাবের মিয়ানওয়ালি কারাগারে প্রেরণ করা হয়। ভারতীয় দন্ডবিধি অনুসারে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে‌ ইলমুদ্দিনের মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হয়। ব্রিটিশ সরকার কোনও জানাজা ছাড়াই তাকে দাফন করে। আল্লামা ইকবাল, মঈন আব্দুল আজীজ প্রমুখ সর্বজনমান্য মুসলিম নেতারা প্রতিবাদ শুরু করেন। করাচির লোকেরাও তাকে করাচিতে ফেরত চাইতে থাকে। অবস্থা অবনতির দিকে গেলে ব্রিটশ সরকার লাশ উত্তোলনের অনুমতি দেয়।

অবস্থার অবনতি হলে ১৫ দিন পর ১৪ নভেম্বর লাশ উত্তোলন করা হয়- অথচ বিস্ময়ের ব্যাপার ছিল তাঁর দেহ না পচন ধরেছিল, না দুর্গন্ধ ছিল, না তাঁর কাপড়েও কোনও পরিবর্তন ঘটেছিল। দুই দিন পরে লাশ লাহোর পৌঁছায়। পথে লাখ লাখ লোক তাকে শ্রদ্ধা জানায়। লাহোরে দুই লক্ষ লোকের উপস্থিতিতে জানাজা হয়। ইলমুদ্দিনের বাবা ইকবালকে জানাজা পড়ানোর অনুরোধ করলে তিনি জবাব দেন, ‘আমার মত গোনাহগার গাজী ইলমুদ্দিন শহীদের জানাজা পড়ানোর যোগ্য নয়।’

ইলমুদ্দিনের জানাজা পড়ান মসজিদ ওয়াজির আলি খানের ইমাম মাওলানা জাফর আলি খান। ইলমুদ্দিনের শেষ ইচ্ছে জানতে চাইলে তিনি দু’রাকাত নামাজ পড়ার সুযোগ চেয়েছিলেন। ইলমুদ্দিনকে প্রথমে গাজী (বীর) এবং মৃত্যুর পর শহীদ উপাধি দেওয়া হয়। পাকিস্তান জুড়ে অসংখ্য স্থাপনা, পার্ক, রাস্তা, হাসপাতাল, প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠে তাঁর নামে। তাঁর মাজার জিয়ারত লাহোরজুড়ে এখনো অন্যতম আকর্ষণ।

আল্লামা ইকবালসহ অসংখ্য কবি তাঁকে নিয়ে কবিতা লিখেন। পুস্তকও লেখা হয়েছে তাঁকে নিয়ে। এই ঘটনার পরের বছরই ইকবাল ‘পাকিস্তান’ রাষ্ট্রতত্ত্ব দেন। এইসব নানাবিধ ঘটনায় পৃথক আবাসভূমির দাবি চূড়ান্ত হতে থাকে। জীবিত ইলমুদ্দিনের চেয়ে শহীদ ইলমুদ্দিন রাজনীতিতে এখনো পর্যন্ত পাকিস্তানের অন্যতম প্রভাবশালী স্বত্ত্বা।

পাকিস্তানের অপরাধ বিধিমালার ২৯৫ নং ধারা তৈরি হয় তাঁর ঘটনা সামনে রেখে। ১৯৮২ তে ধারা ২৯৫ বি, ১৯৮৬ তে ধারা ২৯৫ সি ইসলামী প্রজাতন্ত্র পাকিস্তান অপরাধ বিধিমালায় অন্তর্ভূক্তিকালে শহীদ ইলমুদ্দিনের কথা ভূমিকায় উঠে আসে। যেসব ধারায় কুরআন অবমাননা, রাসুলুল্লাহ্ ﷺ কে অবমাননা প্রভৃতি বিষয়ে গুরুদণ্ডের উল্লেখ আছে।

সেদিন যদি এই অপকর্মের জন্য বইটির প্রকাশক রাজপাল শাস্তি পেত, তবে হয়ত এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হত না। অপরাধের শাস্তি না হওয়াই ছিল এ ধরনের ঘটনা সৃষ্টির মূল প্রেক্ষাপট। এ ধরনের দৃষ্টান্ত থাকা স্বত্ত্বেও প্রশাসনের সাবধান না হওয়াটা আধুনিক সময়েও অনেক অঞ্চলের জন্য নতুন করে আলোচনার বিষয় হতে পারে।

বি.দ্র. শহীদ ইলমুদ্দিনকে নিয়ে 'ফিতনার বজ্রধ্বনি' বইয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।

Adresse

Vienna
1100

Benachrichtigungen

Lassen Sie sich von uns eine E-Mail senden und seien Sie der erste der Neuigkeiten und Aktionen von Mahfuz Rahman - محفوظ الرحمن - 馬夫茲拉赫曼 erfährt. Ihre E-Mail-Adresse wird nicht für andere Zwecke verwendet und Sie können sich jederzeit abmelden.

Die Kultstätte Kontaktieren

Nachricht an Mahfuz Rahman - محفوظ الرحمن - 馬夫茲拉赫曼 senden:

Teilen