05/07/2026
হযরত মন্সুর হাল্লাজ (রহ.) — সত্যের পথে এক অমর শহীদ।
এক রাতে কারাগারে ৩০০ বন্দীর সাথে ছিলেন হযরত মন্সুর হাল্লাজ (রহ.)।
তিনি বন্দীদের বললেন—"বন্দিরা! তোমাদের কি আমি মুক্তি দেব?"
বন্দীরা অবাক হয়ে বলল—"আপনি নিজে কেন মুক্ত হচ্ছেন না?"
হাল্লাজ উত্তর দিলেন—"আমি আল্লাহর গোলামি করছি, আমি সত্য উদ্ধারের প্রহরী।
চাইলে ইশারায় তোমাদের সব বাঁধন খুলে দিতে পারি।"
এরপর শাহাদাত আঙুল তুলতেই বন্দিদের সব শেকল খুলে গেল।
বন্দীরা বলল—"হুজুর, গেট তো তালাবদ্ধ, আমরা বাইরে যাবো কীভাবে?"
হাল্লাজ আঙুল তুলতেই দেয়াল ফেটে গেল, আর বন্দিরা বের হয়ে গেল।
তারা বলল—"আপনি কি আমাদের সাথে যাবেন না?"
হাল্লাজ বললেন— "না, আমি আল্লাহর রহস্যে আবদ্ধ।"
পরদিন সকালে কারারক্ষীরা জিজ্ঞেস করল—
"বন্দিরা কোথায়?"
হাল্লাজ উত্তর দিলেন—"আমি তাদের মুক্ত করে দিয়েছি।"
তখন তারা বলল—"তুমি কেন পালালে না?"
হাল্লাজ শান্ত কণ্ঠে বললেন—"খোদা আমাকে তিরস্কার করবেন, তাই যাইনি।"
এই সংবাদ খলিফার কানে পৌঁছালে তিনি কঠিন শাস্তির হুকুম দিলেন।
হাল্লাজকে ৩০০ বেত্রা,,ঘাত করা হলো। প্রতিটি আঘাতে তাঁর হৃদয় থেকে প্রতিধ্বনি হচ্ছিল—"বাবা মন্সুর! ভয় পেয়ো না।"
এরপর তাঁকে মৃ,,ত্যু,,দণ্ডের জন্য নিয়ে যাওয়া হলো। ১৩টি ভারি শিকল বহন করে, গর্বিত ভঙ্গিতে তিনি "বাব আল তাক" নামক ফাঁসির মঞ্চে উঠলেন।
তাঁকে উপহাস করে জিজ্ঞেস করা হলো—"মন্সুর, কেমন লাগছে?"
তিনি উত্তর দিলেন—"যিনি সত্য (আল-হক), তিনি নিজেই এই মঞ্চে উঠবেন।"
প্রশ্ন করা হলো—"সুফিবাদ কী?"
হাল্লাজ বললেন—"যা তোমরা সামান্য দেখছ, আর বৃহৎ অংশ হলো যেটা পর্যন্ত তোমরা পৌঁছাতে পারবে না।"
এরপর তাঁর দুই হাত কে,,,টে ফেলা হলো।
তিনি হাসলেন আর বললেন—"একজন বন্দির হাত কে,,,টে ফেলা সহজ ব্যাপার— আনাল হক।"
তাঁর পা ক্ষ,,,তবি,,,ক্ষত করা হলো, তখনও তিনি বললেন—"এই পা দিয়ে আমি দুনিয়া ভ্রমণ করেছি, কিন্তু আমার আরেক জোড়া পা আছে, যেগুলো দিয়ে আমি এখনও দোজাহান ভ্রমণ করছি।"
এরপর তিনি নিজের র,,ক্তমাখা হাত দিয়ে মুখ রাঙালেন।
কেউ জিজ্ঞেস করল—"এটা কেন করলে?"
তিনি বললেন—"যেন তোমরা না ভাবো, ভয় পেয়ে আমার মুখ ফ্যাকাশে হয়ে গেছে।
বীরের প্রসাধনী হলো তার নিজের রক্ত।"
তাঁর চোখ উপড়ে ফেলা হলো, কান-নাক কেটে ফেলা হলো।
শেষে জিহ্বা কা,,,টা,,,র আগে তিনি বললেন—
"হে খোদা! এরা আমাকে নির্যা,,,তন করেছে, কিন্তু তুমি তাদেরকে তোমার রহমত থেকে বঞ্চিত করো না।"
মাগরিবের সময় তাঁর শি,,,র,,,শ্ছে,,,,দ করা হলো।
কিন্তু আশ্চর্য! তাঁর রক্তের প্রতিটি কণা থেকে ধ্বনিত হচ্ছিল—
"আনাল হক… আনাল হক… আনাল হক।"
আতঙ্কে তাঁর দেহ ও রক্ত পু,,ড়ি,,,য়ে তিগ্রিস নদীতে ছুঁড়ে দেওয়া হলো।
কিন্তু নদীর প্রতিটি পানির ফোঁটা তখনও জিকির করছিল—"আনাল হক, আনাল হক।"
হযরত মন্সুর হাল্লাজ (রহ.) ২৮ মার্চ, ৯১৩ খ্রিস্টাব্দে শাহাদাত বরণ করেন।
তাঁর অমর বাণী— "আনাল হক" (আমি সত্য)।
তিনি প্রমাণ করে গেছেন— সত্যকে দুনিয়ার কোনো শক্তি মুছে ফেলতে পারে না।
#আনালহক #মন্সুরহাল্লাজ #শাহাদাত #সত্যেরপথে #আল্লাহরপ্রেম #সুফিবাদ #আধ্যাত্মিকতিক