04/12/2025
প্রিয় ভাই আবু মুসআব, আপনি ফিতনার এই যমীনকে বিদায় জানিয়ে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত করে ফেলেছেন।
সবুজ পাখি হয়ে জান্নাতের বিভিন্ন গাছ পালায় উড়ে বেড়াচ্ছেন আর ফলমূল আহার করছেন।
কিন্তু আমরা তো রয়ে গেলাম ফিতনাময় দুনিয়াতেই।
ভাই আবু মুসআব।
একজন মুহাজির।
একজন মু** হিদ।
একজন মুসাফির।
একজন মুমীন।
একজন মুত্তাকী।
সর্বশেষ তিনি একজন হাকিকী, আসলি শহীদ।
তার সাথে আমার পরিচয়, কথাবার্তা বলা খুব বেশী দিনের না, কিন্তু এই অল্প দিনে তিনি আমার হৃদয়ে দাগ কেটেছেন।
হয়তো তার অবস্থা আমার মতই হয়েছিল। দুনিয়ায় আমাদের সাক্ষাৎ হয়নি, কিন্তু আশাকরি জান্নাতে হবে, আমি তাকে ময়দানে মাহশারের কঠিন সেই মূহুর্তে খুঁজে বের করে বলবো প্রিয় ভাই আপনি আমার জন্য সুপারিশ করুন।
ভাই আবু মুসআব একজন বাঙ্গালী, তিনি হিজরত করেন শাহাদার ভূমি খোরাসানের অন্তর্ভুক্ত পাক উপজাতি এলাকায়, ইমারতের বিজয় তখন হয়ে গেছে।
হটাৎ একদিন নক দিলেন, কুশলাদি বিনিময়ের মাধ্যমে কথাবার্তা শুরু হল, এভাবে আমাদের মাঝে একটা বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি হল, কিন্তু সমস্যা হল তিনি মাঝে মাঝেই হারিয়ে যেতেন, দশদিন, ১৫/২০/ দিন কখনো বা আবার একমাস হয়ে যেত, আমি মেসেজ দিয়েই যেতাম, অথবা তিনি অনলাইনে আসলেই নক করতেন সবার আগে।
তিনি তার কমান্ডার থেকে যে সময়টুকু পেতেন তা কাজে লাগাতেন, নতুন নতুন নিউজ দিতেন।
এভাবেই সবকিছু চলছিল।
কিন্তু একদিন হটাৎ আর নাই, তাকে ইনবক্স করি, কোনো রেসপন্স নাই,আমি চিন্তিত হলাম। এতো দীর্ঘ সময় কখনো অতিবাহিত হয়নি।
হটাৎ একদিন আমার কাছে তার আইডি থেকে মেসেজ আসল, সালাম দিলেন জবাব দিলাম। আমি অনেক খুশি হলাম।
কিন্তু সেই খুশি বেশীক্ষণ স্থায়ী হল না, একটু পরেই বিষাদে রূপ নিল।
অপরপাশ থেকে বলতেছেন ভাই আমি আপনাকে একটা বলবো, বললাম অবশ্যই বলুন, বললেন যে, ভাই আমি আবু মুসআব নই।
মানে কি?
আসলে ভাই তিনি আরো ১৫ দিন আগেই শাহাদাত বরণ করেছেন।
ইন্না-লিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রাজিউন।
আমার চোখ ভিজে উঠল, চোখের পানিতে বুক ভেসে উঠল।
আসলে তিনি অনেক বিনয়ী ছিলেন, যা আমাকে হতবাক করেছিল, ময়দানের একজন সৈনিক, রিবাতী তো এমনই হওয়া উচিৎ।
তার প্রতিটি কথা ও শব্দের মধ্যে বিনয় ঝরে পড়ত।
পরে জিজ্ঞেস করলাম আপনি কে?
বলতেছে ভাই আমি শহীদ আবু মুসআবের বন্ধু, একসাথেই থাকতাম। ভাই আপনার কথা অনেক বলত।
তাই অনলাইনে এসে আপনাকে তার শাহাদাতের খবর দিলাম।
ভাই আবু মুসআব শহীদ হয়েছেন এটা তার পরিবারও হয়তোবা জানেনা।
শুধু আমি জানি, আরেকজন লোক ছিল সেও হয়তো হিজরত করেছে সে জানে।
আমি আবু মুসআবকে অহঙ্কার করতে দেখিনি, কারণ তিনি একজন মুহাজির এটা শুধু আমিই জানতাম। কাওকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করতে দেখিনি।
কোনো আলিমকে নগ্নভাবে সমালোচনা করতে দেখিনি।
বর্তমান যারা টি*** তে আছে, তাদের নাম কেউ জানেনা তখন।
২০০১-২০২১সাল পর্যন্ত ইসলামী ইমারতে, পাক পার্বত্য অঞ্চলে অসংখ্য বাংলাদেশী শাহাদাত লাভ করেছেন।
এমরিকার একটি এয়ার স্টাইকে ১৫০ জন শহীদ হয়।
তাদের সবার নামও কেউ জানিনা।
তারা ময়দানে কাজ করতেন, এই দেশে কাজের ফিকির তারাই করেছেন। এবং কি সেই ১৫০ জনের মধ্যে একজন ছিলেন আ*ন*সা*র আল ইসলামের আমীর তারেক ভাই।
আমরা তাদের থেকে কোনো অপরিনামদর্শী কাজ পায়নি।
তারা কাজ বেশী করেছেন, প্রচার কম করেছেন।
একদল বলতেছে এই ভূমি দাওয়াতের ভূমি, আরেকদল বলতেছে এই ভূমিতে সামরিক কাজ শুরু করতে হবে।
আরেকদল হিজরতের ভূমি থেকে এই ভূমির উদ্দেশ্যে সরাসরি হস্তক্ষেপ করে নিজেদের উসূলকে বাস্তবায়ন করতে মরিয়া।
তাদের এক্টিভিটি যদি আড়ালে থেকে সংবাদ প্রচার, বিভিন্ন হুকুম আহকাম বর্ণনার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকত তবে কোনো মিডিয়া হাইলাইট হতো না।
বিষয়টি এমন হয়েছে যে মনে হচ্ছে খোরাসানের এই অংশে কোনো বাংলাদেশী কাজ করেনি, অথচ আমাদের মুসআব বিন উমায়েরের প্রতিচ্ছবি শহীদ ফায়েজ তার কাজের সূচনা এই জায়গা থেকেই করেছেন। সে ও আবার দশ বারো বছর আগে।
তাদের মধ্যে কোনো বিভক্তি ছিল না, ছিল না ভিন্ন কোনো এজেন্ডা।
কিন্তু দুইদিন পর পর সেক্যুলার মিডিয়ায় কোনো কোনো বাংলাদেশী মুহাজির ভাইরাল হওয়া এই ভূমিতে অফলাইনের কাজকে সংকোচনই করবে না, চরম ভাবে বাঁধাগ্রস্ত করবে।
এটাকে এজেন্সি ট্র্যাপ হিসেবে নিবে, তারা যেমন অফলাইনের আ'ম দাঈদের উপর নজরদারি বৃদ্ধি করবে, তেমনি যে কাওকে হিজরতের কথা বলে এরেস্ট করবে।
এখন এই ভূমি কি দাওয়াহর ভূমি?
নাকি অন্য কিছু?
প্রথমত একিউ এই ভূমিকে দাওয়াহ ও নুসরাতের ভূমি হিসেবে চিহ্নিত করেছে, তারা শুধু দাওয়াহর ভূমি হিসেবে গ্রহন করেনি।
তাদের টার্গেট হল প্রথমে দাওয়াহ দিয়ে মাদয়ূকে পুরোপুরি ভাবে প্রস্তুত করতে হবে, অর্থাৎ একজন অপরিণত লোককে পূর্নাঙ্গরূপে তৈরি করা, ময়দানের জন্য তাকে একজন সৈনিক বানিয়ে ফেলা।
প্রত্যেকের মধ্যে সুপ্ত প্রতিভা থাকে, একজন দক্ষ নেতার কাজ হল তা চিহ্নিত করা, একজন ব্যক্তির যে প্রতিভা থাকে তা বিকাশ ঘটিয়ে সংগঠনগুলো সেই ব্যক্তির সেই প্রতিভাকে কাজে লাগায়।
এরপর ইদাদের যেই যেই সেক্টর আছে, প্রতিটি সেক্টরের জন্য যোগ্য একটি দক্ষ জেনারেশন তৈরি করা।
দক্ষ জনবলের কাজ হল আরো দক্ষ জনবল তৈরি করে ময়দানে প্রেরণ করা।
একিউ এর নুসরতের ভূমির ব্যাখ্যা হল অনেকটা এরোকম।
সহজ ভাষায় বলতে গেলে, এখান থেকে সর্বাত্মক ফায়দা নিবে, শত্রু ভূমির জন্য ব্যবহার করবে।
আমরা কি টি*** বিরোধী?
আমরা কি আরসা বিরোধী?
এমনটাই প্রচারনা চলছে, বিষয়টা হতাশাজনক, রিবাতের ভূমি থেকে তাদের দিকে এমন নোংরা শব্দের তীর ছোড়া হচ্ছে যারা এতোদিন টি ***র পক্ষে জীবন বাজি রেখে লেখালেখি করেছে, তারা টি***র বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ খন্ডন করত ও করে।
পরিতাপের বিষয় হল অনলাইনে তারা যে এজেন্ডা নিয়ে কাজ করতেছে, তা আমাদের পদে পদে বিপদে ফেলতেছে।
এই দেশের দাওয়াতী ময়দান এতোটা সহজ না, যেখানে মানুষ ঈমান কি, দ্বীন ধর্ম বুঝে না, ধর্মীয় জ্ঞানের থেকে ধর্মীয় আবেগের কারণে সহজেই এনজিও ইসলাম বিদ্বেষী চক্রের ফাঁদে পড়ে যায়।
সেখানে একটি ফ্রন্ট খোলার প্রশ্ন তো আরো পরে।
জনগণ চিনেনা তার শত্রু কে মিত্র কে।
দশ টাকার চা পানের বিনিময়ে ভোট বিক্রি করে।
এই ভাইদের এক্টিভিটি মোটেও ভালো কিছু বয়ে আনবে না, একটি দেশ যখন তার শত্রু দেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রস্তুতি নেয় সেটাও অতি গোপনে।
একটা আন্ডারগ্রাউন্ড সংগঠন নিজেরাই গোপন, তাদের এ টু জেড কাজ গোপন।
কিন্তু তারা রিবাতের ভূমি থেকে ফেস টু ফেস প্রচারনা করে আমাদের কাজকে বাঁধাগ্রস্থ করতেছে, তারা তো নিজেদের এরিয়াতে সেইফ, কিন্তু আমাদের অবস্থা তো তেমন নয়।
তাদের এক্টিভিটির জন্য এজেন্সি ধরে নিয়েছে অনেক লোক হিজরত করবে, এই জন্য দাঈদের উপর আলাদা নজরদারী শুরু করেছে।
আমাদের জন্য নির্ধারিত করা হয়েছে হিজরতের ভূমি হিসেবে পাক ও কাশ্মীর।
কিন্তু পাকিস্তান থেকে হিজরতের জন্য কোনো মুহাজিরের প্রচারনা শুধু বিঘ্নিতই করবে না, হিজরতের গোপন রাস্তাও বন্ধ করবে।
অলরেডি মধ্যপ্রাচ্যে ওয়ার্কার ভিসার জন্য কয়েকজন যাত্রীকে ইমিগ্রেশনে জিজ্ঞাসাবাধ করেছে, অথচ তারা সাধারণ ব্যক্তি।
হিজরত আজ থেকে দশ পনেরো বিশ বছর আগে অনেকে করেছে, এখনো করতেছে সামনেও করবে।
কিন্তু কোনো বাঙ্গালী মুহাজিরের এক্টিভিটি, নিয়মিত হোয়াটসঅ্যাপ, মেসেঞ্জারে চ্যাট করে উদ্ভুদ্ধ করা শুধু নজরদারিই বৃদ্ধি করবে না, বরং আমাদের প্রকাশ্য দাঈদের উপর ব্লেম আসবে, অথচ তারা কেউ এই কাজে জড়িত নয়।
ইতিমধ্যেই পাঁচজনের বিরুদ্ধে এরোকম ব্লেম দিয়েছে।
তাদেরও কাজ আছে, তাদেরও হয়তো এজেন্ডা থাকতে পারে।
কিন্তু আমরা তো একটা সেক্টরের জন্য বাকি সেক্টরের কাজে বাঁধা সৃষ্টি করতে পারি না।
মুহাজিরদের সংবাদ প্রচার করা, হুকুম আহকাম, কারামত বর্ণনা করা পর্যন্ত সবকিছু স্বাভাবিক।
যখন দায়িত্বশীল না হয়ে বার্তা প্রেরণ করা, নিজের বুঝ কে চাপিয়ে দেওয়া হয়, মিডিয়া কভারেজ পেয়ে যায়, তখন বিষয়টি আর স্বাভাবিক থাকে না। এটা অশনিসংকেত।
মুহাজির ভাইদের বলবো আপনাদের এক্টিভিটি কমান, ইনশাআল্লাহ হিজরতের গতি আগের মতই থাকবে।
বরং আরো বেগবান হবে।
শুধু আপনারা নিউট্রাল থাকুন।