19/03/2026
চার ধরনের মাল বা সম্পদের উপর যাকাতের হিসাব করতে হয়, ১. অর্থ, ২. স্বর্ণ, ৩. রৌপ্য, ৪. ব্যবসার মালামাল।
চাঁদের হিসাবে যেই তারিখে কেউ নেসাব পরিমাণ মালের মালিক হয়, পরবর্তী বছর ঐ তারিখে সে নেসাব পরিমাণ মালের মালিক থাকলে, তার উপর যাকাত ফরজ হবে, ওই তারিখে সে তার সম্পদের হিসাব করে যাকাত বের করবে, বছরের মধ্যবর্তী যে কোন সময়ে তার সম্পদ বৃদ্ধি পাক অথবা কম হোক তাতে কোন পার্থক্য আসে না, হিসাব করার তারিখে নেসাব পরিমাণ বা তার থেকে বেশি অর্থ থাকলে সে হিসাব করে যাকাত প্রদান করবে।
সারা বছর তার আয় কত হয়েছে, ব্যয় কত হয়েছে, যাকাতের ক্ষেত্রে এগুলোর কোনো হিসাব আসবে না। চাঁদের তারিখ হিসাবে হিসাব করার নির্দিষ্ট দিনে সে ওই চার ধরনের মালামাল থেকে (ঋণ বাদে) কতটুকু সম্পদের মালিক, তার উপর শতকরা আড়াই টাকা হিসেবে যাকাতের অর্থ প্রদান করতে হবে।
মালিকের ফিক্সড ইনভেস্টমেন্টের উপরেও যাকাতের হিসাব হবে।
সরকারি প্রভিডেন্ট ফান্ডে কর্মকর্তা বা কর্মচারীদের যে অর্থ বাধ্যতামূলকভাবে কেটে রাখা হয়, সে সঞ্চয়ের উপর যাকাত আরোপিত হবে না।
যাকাতের নেসাব : সাড়ে ৫২ ভরি রুপা বা তার বাজার মূল্য। ওই চার ধরনের মালামাল থেকে যা আছে, তার সবটুকু যোগ করে যদি সাড়ে ৫২ ভরি রুপার বাজার মূল্য সমপরিমাণ অর্থ হয়, তাহলে যাকাত ফরজ হবে।
যদি ৩০০০ টাকা ভরি হয়, সাড়ে ৫২ ভরি রুপার দাম ১,৫৭,৫০০ টাকা।
এখন যদি কারো, নগদ ৫০ হাজার টাকা থাকে, স্বর্ণ ও রুপা মিলে এক লাখ টাকার সম্পদ, আর ব্যবসার মালামাল থাকে ৫০০০০ টাকার, আর ঋণ থাকে যদি বিশ হাজার টাকা, তাহলে হিসাব হবে : ৫০০০০+১০০০০০+৫০০০০-২০০০০= ১৮০০০০ (এক লক্ষ আশি হাজার টাকা)
সুতরাং হিসাব অনুযায়ী এই ব্যক্তি নেসাব পরিমাণ অর্থের মালিক।
কারণ, উপরের হিসাব অনুযায়ী নেসাবের পরিমাণ এক লক্ষ সাতান্ন হাজার পাঁচশত টাকা। আর সে চার ধরনের মাল থেকে এক লক্ষ আশি হাজার টাকার মালিক।