03/25/2024
শেষকৃত্যানুস্টান ও বোধের ভাবনা —-
—প্রকৌশলী পুলক কান্তি বডুয়া , এফ আই ই বি
সারা জীবন যার ধর্মীয় অনুশাসন ,বিধি, নিষেধ প্রয়োজন পড়ে নাই, মৃত্যূর পরে তার ধর্মীয় ভাবে সৎকারের প্রয়োজন হয় কেন?
ধর্ম মানলে তা জীবিত কালেই গভীর অনুসন্ধিৎসু নিয়ে প্রতিপালন করুন ॥ মৃত্যুর পর শরীরের কোন মূল্য নাই , এটা তখন পরিত্যাক্ত আবর্জনা , ডাইরেক্ট পুডিয়ে ফেলুন ॥ স্মরন সভা করুন ॥ পারলৌকিক সৎকার বলতে বৌদ্ধ ধর্ম ও দর্শনে কিছু নাই ॥ এগুলো সব ব্রাম্মনের জীবিকা নির্বাহের ছলাকলা বৌদ্ধধর্মে নানা অপ্রমানীত সোর্সবিহীন কাল্পনিক কিছু জাতকের মাধ্যমে এই বৈজ্ঞানিক বিশুদ্ধ মানবধর্মে প্রবেশ করেছে ॥ আজ কারো মৃত্যু মানেই সমাজে একটি পরিবারের ঋৃন ও অর্থ অপচয় খরচের খরগ , আমাদের ভ্রান্ত বিশ্বাস আজ ভিক্ষুসঙ্ঘকেও নস্ট করে দিচ্ছে , কস্টকর , ত্যাগী , ভাবনাময়, পরিব্রাজক জীবন ছেড়ে নানা ক্রিয়া কর্ম করার ব্রাম্মন ভিক্ষু হয়ে যাচ্ছেন সবাই , ফলে তাদের আবাস একটি গুরুত্বপূর্ন বিষয় হয়ে দাড়াচ্ছে, কারন তারা স্হায়ী হতে চায় , ছডিয়ে পরতে চায় না , আজ উত্তরবঙ্গের জন্যে কোন ভিক্ষু পাওয়া যায় না , সম্পদশালী অন্ধ বিশ্বাসী সমাজ যেখানে সেখানেই ব্রাম্মন হয়ে থাকতে চায় , ফলে তাদের মধ্যেও বিশ্বাস তৈরী হচ্ছে আবাস তার অধিকার , যেহেতু তাদের ছাড়া , মন্ত্র ছাড়া স্বর্গে যাওয়া যাবে না , মৃত্যুর পর আত্নার মুক্তি ঘটবে না , ফলে তারাও মনে করতে শুরু করেছেন এটা একটা অস্ত্র , এবং দেখা যাচ্ছে এই ভ্রান্ত বিশ্বাসকে পূজি করে হুমকী পর্যন্ত দেয়ার রেওয়াজ তৈরী হচ্ছে , সংঘদান , মাসিক , বাৎসরিক ইত্যাদি সামাজিকভাবে তৈরী করা রেওয়াজ , আচার, ঐতিহ্য , কৃস্টি , সংস্কৃতি বা শ্রেফ অনুস্টান , এর সাথে ম্যান্ডেটরী কোন ধর্মীয় বিধান এর রেফারেন্স মৌলিক সুপ্রতিস্টিত কোন বৌদ্ধ গ্রন্হে নাই ॥ বুদ্ধ নিজে এ জাতীয় কোন কর্মে যোগ দিয়েছেন বলে কোন দালিলিক প্রমান আমি পাই নাই , বুদ্ধ ভাষনেও পাই নাই , মরন ভাবনা অনুশীলনই আসল বিষয় , মরার পর শরীরের বা আত্নার কোন মুক্তি কোন মন্ত্র বা আচার দ্বারা সম্ভব নয় ( বুদ্ধ নিজে আত্না অস্বিকার করেছেন , সেখানে আসলে কার মুক্তি ঘটবে ? ), এর থেকে সাহস করে আমাদের বেড়িয়ে আসতে হবে , নতুবা ভিক্ষুসঙ্ঘ রক্ষা করা অসম্ভব , শত শত ব্রাম্মন ভিক্ষুর চাপ সমাজ নিতে আর পারবে না , ব্রাম্মন্য ও পীরতন্ত্রের মতোই সঙ্ঘ কেন্দ্রিক বিভাজন ইতিমধ্যে সমাজে ছডিয়ে পড়েছে , ফলে সমাজ ছোট থেকে ছোট হয়ে যাচ্ছে , ভবিষৎ এ এটি মহামারী আকার ধারন করবে , ইতিহাস বলে বুদ্ধের মৃত্যুর পর থেকে আজ পর্যন্ত ভিক্ষু সঙ্ঘ এক সাথে থাকতে পারে নাই , নিজেদের মধ্যে চরম অনৈক্য , ঝগড়া ঝাটি , অগ্রজ অমান্য , হিংসা , পারস্পরিক বদনাম ছড়ানো , বিনয় লঙ্ঘন , অনৈতিক কাজের শাস্তি প্রদানে ব্যার্থতাসহ লাভ , সৎকার এর বলী হয়েছে প্রবল অন্ধ , বিনয়ী , নিরীহ, ক্ষুদ্র সমাজের অসহায় শিক্ষিত , অশিক্ষিত , বয়স হয়ে যাওয়া , কম বয়সী নারী পুরুষ নির্বিশেষে সকল ধর্ম বিশ্বাসীরা, যারা বিশ্বাস আকরে নিজেদের দুঃখের পরিত্রানের স্বপ্ন দেখে , বড়ো হবার স্বপ্ন দেখে , বিপদ থেকে বাঁচার স্বপ্ন দেখে , মরার পর উন্নত কোন পরিবেশে পুনঃজন্মের স্বপ্ন দেখে অথচ তাদের সেই স্বপ্ন একদিন ছিনতাই হয়ে যায়, যাকে কেন্দ্র করে বিশ্বাস ও স্বপ্ন তার মাঝেই যখন দেখে মহা গলদ , এটা একটা মানসিক হত্যাকান্ড , স্বপ্ন ও বিশ্বাস হত্যা যা মানুষ হত্যার মতো ক্রাইম , যুগ যুগ ধরে মানুষের মাঝে প্রাকৃতিক দূর্বিপাক ও মৃত্যুভয়কে পূজি করে বিশ্বাস তৈরী করে দিয়ে , সেই বিশ্বাস দিয়েই রোগ শোক আর বয়সের ভারে নত হয়ে আসা মানুষদের বংশপরম্পরায় লালিত বিশ্বাস ও স্বপ্নকে জিম্মি করার মধ্যযুগীয় চিন্তা চেতনা আজকের দিনেও পৃথিবীর প্রায় সকল বিশ্বাস ভিত্তিক ধর্মবিশ্বাসীদের পুরহিতদের মাঝে টিকে আছে , কেবলমাত্র প্রাচ্যের একটি বড়ো বুড্ডিস্ট অংশ এর থেকে বেডিয়ে এসে পারফেক্ট মেডিটেশনকেই ধর্মীয় কাজ হিসেবে চর্চা করছেন এবং তারাই প্রকৃত ধর্মের স্বাধ পাচ্ছেন , কারন এরা অন্ধ বিশ্বাস থেকে বের হয়ে হয়েছেন সংশয়বাদী , এক্ষেত্রে আমাদের করনীয় হলো সম্ভব হলে বুডো মা বাবা বা নিজের শরীর মৃত্যুর আগেই চট্টগ্রাম মেডিক্যালে বা কোন মেডিক্যালে দান করে দিয়ে আসুন , এ সংক্রান্ত সকল নিয়ম রেজিস্টার , চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে গেলেই পাবেন , আপনার আত্নীয় ,স্বজন ,মা ,বাবার শরীরের গুরুত্বপূর্ন অঙ্গসমূহ বেচে থাকুক আরেকজন মানুষের শরীরে ॥ মৃত্যু নিয়ে অনাডম্বর পারিবারিক অনুস্টান করুন , জাকজমক থেকে বেডিয়ে আসুন , শোক পালন করুন , শোকের মধ্যে বিয়াবাড়ীর মতো খানা দানার অনুস্টান আর জনে জনে নিমন্ত্রন দেওয়ার প্রচলন মৃতব্যাক্তিকে নিয়ে একটি হিপোক্রেসী , হাস্যকর তামাশা , খাওয়ানোর চিন্তায় , পারলৌকিক কর্ম করার চিন্তায় কান্না করার সময় পর্যন্ত পাওয়া যাচ্ছে না , এ কেমন পারলৌকিককৃত অনুস্টান , এটা একটা সামাজিক আত্নহত্যা , এটা রোধ করুন , মরার পর কোন ব্রাম্মনের প্রয়োজন নাই , আপনি নিজেই নিজের শোক ও শ্রদ্ধায় শেষ বিদায় জানান নীরবে , গভীর ভাবনায় কাটান সাতদিন , সমস্ত পরিবার নিজেরা অস্টশীল রাখুন , নিভৃত হয়ে যান তাকে স্মরন করে , মরার পর পর রেয়াজউদ্দিন বাজারে দৌডানো বন্ধ করুন , লোন করে দান করা বন্ধ করুন , সন্চয় ভেঙ্গে ফকির হয়ে দেখানো খানাদানা করানোর অচলায়তন ভাঙ্গুন ॥ নিজেরাই বিহারে গীয়ে বন্দনা করে আসুন , ছোয়াইং দিয়ে আসুন , গৃহে সঙ্ঘ ডাকাডাকি রোধ করুন , ঘরে সঙ্ঘ এনে বাথরুম, বেড রুম ,অমুক তমুক দেখানো বন্ধ করুন , শোবার খাটে আসন পেতে সঙ্ঘ বসিয়ে মন্ত্রের সুর শোনে তৃপ্তি পাওয়া ছাড়ুন , বাসায় ডেকে উস্টিগোস্টির আলাপ আলোচনা বন্ধ করুন , আত্নীয় ডাকা বন্ধ করুন , দাদা কাকা মামা মাসী পিশি বইন হওয়া ছাড়ুন , বিহার যেহেতু সঙ্ঘের নিবাস , সুতরাং ঐ নিবাসেই যান যখন যা ধর্ম করতে মন চায় , আমাদের অসেচতনতাই মহান ভিক্ষু সঙঘকে ভুলপথে ধাবিত করতে প্ররোচিত করে , আমরাই দায়ী যে কোন ভিক্ষুকে নস্ট করার জন্যে , কাজেই সার্বিক শুধরানো যেহেতু শুরু হয়েছে , এই মৌলিক বিষয়টিও শুধরানোর কাজটা চলুন নিজ নিজ গৃহ থেকেই শুরু করি ॥
শেষ আবেদন বৃহত্তর সমাজের সামনে ক্ষুদ্র সমাজের মানুষ হয়ে নিজেদের বিরুদ্ধে নিজেরা মামলা , হামলা , রাজপথে মিছিল, মিটিং , প্রতিবাদ , সমাবেশ গুলো আমাদের অন্য জাতিদের সামনে প্রতিদিন হাস্যকর করে তুলছে , সংবেদনশীল আমরা অনেকেই এসব আর নিতে পারছি না , এসব আসুন বন্ধ করি ,প্রত্যেকেই নিজে নিজে প্রতিজ্ঞা করে আসুন সংশোধিত হই ,মহান ভিক্ষু সঙ্ঘ ও সমাজ রক্ষা করি , আসুন নিজেদের ঘরে ঘরে বৈশ্বিক জ্ঞান ও টেকনোলজী বেইজ প্রজন্ম গড়ে তুলতে সচেস্ট হই , সংখ্যায় অল্প জনগোস্টি বৃহত্তর জনগোস্টিতে টিকতে হলে , এটাই প্রমানীত তরিকা , সারাবিশ্বের সবচেয়ে সংখ্যা লঘু ইহুদীদের দিকে তাকান , জ্ঞান ও টেকনোলজি বেইজ প্রজন্ম তৈরী করে , সাতশো কোটির বীপরিতে মাত্র দুই কোটি ইহুদিরা পৃথিবীর যে কোন জাতির চেয়ে সেরা ও মাথা উচু করে টিকে আছে , খৃস্টীয় আমেরিকা, প্রবল ধার্মিক ভারতবর্ষও তার তল্পিবাহক ॥