11/28/2024
"৪টি কর্ম ব্যতীত সংসার কেউ করতে পারে না"
একদিন রাতে এক রাজা গরীব মানুষের ছদ্মবেশ ধারণ করে প্রজারা কিভাবে থাকে তা জানতে বের হলেন। যেতে যেতে নগরের শেষপ্রান্তে এক পরিবারের দেখা পেলেন। ঐ পরিবারে স্বামী-স্ত্রী গরীব বুড়া-বুড়ি ২ জন থাকত। ওখানে গিয়ে রাজা বুড়াকে বললেন, "দাদু, আপনার এখানে কি এক রাত থাকতে পারব?" তখন তিনি থাকতে বললেন এবং খাবার যা কিছু ছিল তা দিয়ে অতিথি সেবা করলেন। এদিকে রাজা নিজের পরিচয় গোপন রেখে বুড়াকে জিজ্ঞাসা করলেন, "আপনি কিভাবে সংসার চালান?" এইতো কষ্ট করে চালায়। তখন এই বুড়া, অতিথি রাজাকে নিম্নোক্ত ৪টি কথা বললেন।
১) #ডাকাত_প্রধানকেও_দিতে_হয়।
২) #অতিথিদেরকেও_দিতে_হয়।
৩) #নদীতেও_ফেলে_দিতে_হয়।
৪) #শত্রুর_সাথেও_বাস_করতে_হয়।
মনে রাখ বাবা, এভাবেই সংসার করতে হয়। তখন রাজা বলেন, "কি বললেন দাদু কিছুই তো বুজলাম না।" দাদু(বুড়া) তখন বিষয়গুলো এভাবে বুজিয়ে বললেন।
১) #ডাকাত_প্রধানকেও্_দিতে_হয়– অর্থাৎ দেশে তো চোর-ডাকাত থাকে। চোর-ডাকাতের ভয়ে থাকতে হয়। কিন্তু এই চোর-ডাকাতদের প্রধান হচ্ছে রাজা। তাই এই রাজাকেও দিতে হয়। ('তুমি আমাকে ডাকাত বানাইছো' – এই মনে করে রাজা মনে মনে একটু অসন্তুষ্ট হলেন।)
২) #অতিথিদেরকেও্_দিতে_হয় – অর্থাৎ সংসার করলে ছেলে-মেয়ে জন্ম নিবে। তারা অতিথি বা মেহমানের মত। নিজে না খেয়ে না পড়ে কত আদর-যত্ন করে তাদের মানুষ করতে হয়। তারপর বয়স হলে তাদের বিয়ে করিয়ে সংসার তৈরি করে দিতে হয়। এভাবে তারা যখন নিজের সংসার তৈরি করে, যার যার পথে চলে যায়। তাই তারা মেহমানের মত। যেমন নিজেদেরকে একটু চিন্তা করুন– আমরা আগে বাবার বাড়ি থাকতাম কিন্তু এখন আমরা বিয়ে-সাদি করে আলাদা। মা-বাবার কোন খোঁজই রাখতে পারি না। অনেকে হয়তো রাখতেও পারে। তবে সবাই রাখে না। যার যেরকম ভাগ্য। কোনো পরিবারে ৫ জন ছেলে থাকলে নিশ্চয় ৫ জনই আর বাবার সাথে থাকবে না। তাই অন্যরা মেহমানের মত চলে যায়।
৩) #নদীতেও্_ফেলে_দিতে_হয় – অর্থাৎ নদীতে ফেলে দিলে যেমন কোন জিনিস ফেরত পাওয়া যায় না, তুমি কিংবা আমি যতই খাই, সব ফেলে দিতে হয়। সারা জীবন খাচ্ছি মানে নদীতেই ফেলে দিচ্ছি। তাই যতই খাই না কেন সবকিছু নদীতে ফেলে দেয়ার মত মূল্যহীন হয়ে যায়। কিন্তু না খেয়েও তো আবার থাকা যাবে না। তাই নদীতেও ফেলতে হয় কথাটা ঠিক।
৪) #শত্রুর_সাথেও্_বাস_করতে_হয় – অর্থাৎ একটা মানুষ সংসার যখন করে সাথে তার স্ত্রীও থাকে। এই স্ত্রী হলো তার শত্রু। কিন্তু তাই বলে তার সাথে আবার না থাকলেও হয় না। তার সাথে আজীবন বাস করতে হয়।
কথাগুলো শুনে মনে মনে রাজা খুশি হলেন। কিন্তু ২ টা কথাতে রাজা খুশি নন। রাজা দাদুকে বলছেন, "দাদু, এই যে প্রথমটাতে রাজাকে ডাকাত প্রধান/ডাকাত সরকার বললেন কেন? দাদু বললেন, "দেখ বাবা, এই চোর-ডাকাতরা যে আমাদের মার-ধর করে, আগুন জ্বালিয়ে দেয়, হত্যা করে, টাকা-পয়সা লুট করে নিয়ে যায়, রাজায় কিন্তু তার সৈন্যবাহিনী দিয়ে দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা রাখে। ডাকাতদের তারা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। আর কেউ পারে না। যেমন ডাকাত সরকার নিয়ন্ত্রণ করলে ডাকাতরা চুপ করে থাকে। তদ্রুপ রাজাও সেরকম ডাকাতদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। তাই তারা ডাকাত প্রধান/ডাকাত সরকার।
একথা শুনে রাজা খুশি হয়ে গেলেন৷ অর্থাৎ দাদু তাকে খারাপ বলে নি। এরপর রাজা রাজপ্রাসাদে এসে তার মন্ত্রীদের সে ৪টা কথা শুনালেন। এটার অর্থ যে বলতে পারবে তাকে পুরষ্কার দেওয়া হবে। যদিও কেউ উত্তর দিতে পারে নি। কিন্তু ওখানে একটা চালাক মন্ত্রী ছিল। সে ভাবছে, "রাজা এভাবে এসব কথা বললেন কেন? শুনলাম, গতকাল রাতে রাজা ছদ্মবেশে বের হয়েছে। আর আজকেই এসব বলছে। তাহলে ছদ্মবেশেই এগুলো জেনে আসছেন যে।" তাই রাজা কোনদিকে গিয়েছে খবর নিয়ে নিয়ে ঐ রাস্তা ধরে ধরে বুড়ার বাড়ি পৌঁছে গেল মন্ত্রী৷
বুড়ার কাছে রাজার কথা এবং ঐ ৪টা কথা মন্ত্রী জানতে চাইলেন। কিন্তু বুড়া দাদু বললেন, এই ৪টা কথার অর্থ আমি বলতে পারি না। কারণ রাজা যাওয়ার আগে বলে গিয়েছিল— এই ৪টা কথা কাউকে বলবেন না দাদু। প্রাণ নিতে চাইলেও বলবেন না। বললে কিন্তু আপনার প্রাণ আমি নিব। কারণ আমি কিন্তু রাজা। পরিচয় দিয়ে যাওয়াতে বুড়াটা আর কিছুই বলল না।
এরপর মন্ত্রী বুড়ির কাছে গেল। "দাদী, এই ৪ টা কথার অর্থ বললে এই ১ হাজার মোহর দিব আমি।" তখন মোহরের লোভে দাদী ঐ ৪ টার অর্থ তাকে বলে দিল। এখন সে খুশিতে রাজপ্রাসাদে গিয়ে পরেরদিন সভাতে সব ঠিক ঠিক বলে দিল। রাজা তখন তাকে জিজ্ঞাসা করে, কোত্তেকে জেনেছ তুমি বল? না বললে তোমার প্রাণদন্ড হবে৷ তখন সে সবকিছু খুলে বললো। রাজা ঐ বুড়া-বুড়িকে ডাকালো। তাদেরকে এনে সামনে বসিয়ে জিজ্ঞাসা করলো, আপনাদেরকে আমি না বলতে বলেছি। বলেছেন কেন? এবারে আপনাদের প্রাণদন্ড হবে। তখন বুড়া বলেন যে, আপনি যেই শাস্তি দেন আমি মাথা পেতে নিব। তবে আমি বলি নি। আমি আপনার কথা রেখেছি। কিন্তু আমার স্ত্রী সে ঐ মোহর পাওয়ার লোভে বলে দিয়েছে।
মহারাজ যাওয়ার আগে আপনি বলেছিলেন না, ৪ নম্বর কথাটা আপনি সন্তুষ্ট নন। এবার সন্তুষ্ট হয়েছেন? শত্রু শত্রুর মতই আছে। কারণ তার কারণেই তো এখন ফাঁসি হবে। শত্রু যে তাই। সুতরাং যারা বিয়ে করেছেন, তারা বউকে যদি ঠিক মত রাখতে না জানেন, এরা শত্রুর মত হবে,স্বামীর প্রাণ হরণ করবে। আসলে এটার সারকথা হচ্ছে– মেয়েরা স্বার্থপর, লোভী হয়। তবে সবাই নয়।