Quraan & Sunnah- Our Way To Jannah

Quraan & Sunnah- Our Way To Jannah "And who is better in speech than one who invites (men) to Allah and does righteous deeds and says,

03/08/2018

জীবন দিয়ে কেনা

আল্লাহ কুরআনে বলেন,
“নিশ্চয়ই আল্লাহ বিশ্বাসীদের জীবন ও সম্পদ ক্রয় করে নিয়েছেন জান্নাতের বিনিময়ে” (সূরা তাওবাহ:১১১)

একজন লোক যদি একটি কাপড় অন্য একজনের কাছে পারস্পরিক সম্মতিতে নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করে দেয়, তখন ক্রেতার কাছে কাপড় পৌঁছে দেয়া মাত্র সেই লেনদেন সম্পন্ন হয়ে যায়। যদি উভয় পক্ষই এ শর্তে সম্মত হয় যে ক্রেতা কাপড়ের মূল্য পরে নির্ধারিত কোনো সময়ে পরিশোধ করবে, তাতেও কাপড়টি বিক্রি হয়ে গেছে বলেই ধরে নেওয়া হবে। বিক্রয় সম্পন্ন হয়ে যাবার পর তখন বিক্রেতার কি আর পণ্যের ব্যবহারের উপর শর্তারোপ করার কোনো অধিকার থাকে? উদাহরণস্বরূপ, সে কি বলতে পারে যে কাপড়টি শুক্রবারে পরা যাবে না? অথবা ঘুমুতে যাবার সময় এটি পরা যাবেনা? অবশ্যই না। লেনদেন সম্পন্ন হয়ে গেছে এখন ক্রেতা যেভাবে ইচ্ছা তা ব্যবহার করতে পারে। তিনি যদি চান তিনি তা রাখতে পারেন, পরতে পারেন, ছুঁড়ে মারতে পারেন, বিক্রি করতে পারেন, কাউকে দিয়েও দিতে পারেন। এটা এখন তাঁরই সম্পত্তি, তিনি যা খুশি করতে পারেন।
হে বন্দী! আল্লাহ কি আপনার আত্মা আপনার সম্মতিতে আগেই কিনে নেননি? তবে কেন আপনি এখন ক্রেতার উপর শর্তারোপ করতে চাইছেন? আল্লাহ আপনার আত্মা নিয়ে যা খুশি করার অধিকার রাখেন, তবে কেন আপনি বলছেন কারাগার নয়, আমি তো তড়িঘড়ি করে জান্নাত চেয়েছিলাম? এ কথা আপনার মুখে মানায় না, কেননা তিনি তো আপনার আত্মা কিনেই নিয়েছেন! কী-ই বা হবে যদি আপনাকে জান্নাতে প্রেরণের পূর্বে তিনি কিছুদিন বন্দী করে রাখেন?
তিনি তো আপনাকে নিয়ে যা খুশি করার ক্ষমতা রাখেন, কেননা জান্নাতের বিনিময়ে তিনি আপনার জান মাল কিনে নিয়েছেন ইতিপূর্বেই। আর আপনিই তো প্রতিদিন অন্তত সতেরবার করে এই দুআ করেছেন, “আমাদের সরল পথে পরিচালিত করুন, তাদের পথে যাদের আপনি অনুগ্রহ করেছেন…( নবীগণ, শহীদগণ, সত্যবাদীগণ ও সৎগণ), আপনিই তো আল্লাহর কাছে চেয়েছেন যেন তিনি আপনাকে নবীগণ ও উল্লেখিত তিন দলের পথে পরিচালিত করেন। তবে কেন আজ আপনি অভিযোগ করছেন যখন আল্লাহ আপনার দুআ কবুল করেছেন ও আপনাকে সরল পথ দেখিয়েছেন? যদি আপনি বাস্তবিকই আপনার আত্মা আল্লাহ্‌র তরে বিলিয়ে দেন তবে নিশ্চিত থাকুন যে আল্লাহ তাঁর অঙ্গীকার ভঙ্গ করবেন না এবং আপনার কষ্টের বিনিময় দিতেও ব্যর্থ হবেন না।

কারাবন্দি ভাই বাবর আহমাদ

01/08/2018

সাহ্‌ল ইব্‌নু সা‘দ (রাঃ) বর্ণনা করেছেন

রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি তার দু’চোয়ালের মাঝের বস্তু (জিহ্‌বা) এবং দু’রানের মাঝখানের বস্তু (লজ্জাস্থান) এর জামানত আমাকে দিবে, আমি তাঁর জান্নাতের যিম্মাদার।

সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৬৪৭৪
হাদিসের মান: সহিহ হাদিস

01/08/2018

টিএসসিতে চুমোর দৃশ্য দেখে আমি যতটা না অবাক হয়েছি, তার চেয়ে বেশি অবাক হয়েছি রাসূল (স)-এর হাদীস শোনে। এমন অশ্লীলতা যে প্রকাশ্যে ঘটবে, এই কথা রাসূল (স) অনেক আগেই বলে গিয়েছেন। তিনি আরও বলেছেন, এই অশ্লীলতা দেখে ভালো লোকেরা আফসোস করে বলতে থাকবে, "ইশ! ওরা যদি দেয়ালের আড়ালে চলে যেত, তবেই ভালো হোতো।"
"ওই সত্তার কসম, যার হাতে আমার প্রাণ! এ উম্মত শেষ হওয়ার পূর্বে অবস্থা এমন হবে যে, কোনো ব্যক্তি কোনো মহিলার সাথে রাস্তায় ব্যভিচার করতে থাকবে। তখন লোকদের মধ্যে ওই লোকটিই সবচেয়ে ভালো হবে, যে বলবে : এরা যদি দেয়ালের আড়ালে চলে যেত, তাহলে ভালো হোতো।"
[মুসতাদরেক হাকেম, হাদীস : ৮৫১৬, মুসনাদে আবু ইয়ালা, হাদীস : ৩২৭৩]
আমার কওমের শিক্ষিত জনগোষ্ঠী আজ প্রকাশ্যে ব্যভিচারে লিপ্ত হচ্ছে। রাস্তা-ঘাটে একজন আরেকজনকে চুমো খাচ্ছে। যাস্ট ফ্রেন্ড নাম দিয়ে, যাস্ট ওয়াইফের মতো আচরণ করছে। আমরা সবাই এগুলো দেখছি। আমাদের সামনেই এগুলো হচ্ছে। আমাদের সামনেই অমুক বিশ্ববিদ্যালয়ের বোটানিক্যাল গার্ডেনে, অমুক বিশ্ববিদ্যালয়ের আইটি ভবনের পেছনে, তমুক বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরি ভবনের ঝোপঝাড়ে প্রতিনিয়ত এসব হচ্ছে। বাদ যাচ্ছে না নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেইন রোডের গাছের চিপাগুলোও। প্রতিনিয়ত যুবক-যুবতীরা এসব স্থানে একজন অপরজকে জড়িয়ে ধরছে, কোলে মাথা দিয়ে শুয়ে থাকছে, কিস করছে.....
সবচেয়ে বড়ো কথা হলো, এসব গোনাহকে তারা গোনাহই মনে করছে না। পরন্তু এগুলোকে হালালাইজড করার চেষ্টা করছে। 'পবিত্র প্রেম', 'যাস্ট ফ্রেন্ড', 'আমার মন ফ্রেশ' ইত্যাদি নাম দিয়ে জিনাকে হালাল করে দিচ্ছে।
যেভাবে আমার কওম প্রকাশ্যে আল্লাহদ্রোহীতায় লিপ্ত হচ্ছে, না জানি কবে এই কওমের ওপর আল্লাহর গজব নেমে আসে।
"ওই সত্তার কসম, যার হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ! আমার উম্মতের কিছু লোক ফখর, অহংকার, খেলাধুলোয় মত্ত হয়ে রাত অতিক্রম করবে৷ কিন্তু সকালে তারা বানরে ও শুকরে পরিণত হবে। হারামকে হালাল মনে করা, গান-বাজনার ব্যপকতা লাভ করা, মদ পান করা, সুদ খাওয়া ও রেশমি কাপড় পরার কারণে (তাদের ওপর এই আযাব দেওয়া হবে)।"
[মুসনাদে আহমাদ, হাদীস : ২০০]
আমরা যদি সাধ্যমতো এগুলো বিরুদ্ধে কথা না বলি, তবে আল্লাহর আযাব আসলে আমরা পাকড়াও হয়ে যাবো।
একবার আয়িশা (রা) ও আল্লাহর রাসূল (স) পাশাপাশি বসা ছিলেন৷ তখন রাসূল (স) বললেন, "এ উম্মতের শেষ জামানায় ভূমিধ্বস, আকৃতির পরিবর্তন এবং পাথর বর্ষণ হবে৷"
এ কথা শুনে আয়িশা (রা) বিস্মিত হলেন। তিনি বললেন, "হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের মধ্যে নেক লোক থাকা সত্ত্বেও কি আমরা ধ্বংস হয়ে যাবো?"
রাসূল (স) বললেন, "হ্যাঁ, যখন অশ্লীলতা বেড়ে যাবে। (তখন নেক লোক থাকা সত্ত্বেও আল্লাহর আযাব আসবে)।"
[সুনানুত তিরমিযী, হাদীস : ১৭৭৬]

আল্লাহ সুবহানাহুওয়াতাআলা অামাদের সকলকে তওবা করে ফিরে আসার তওফিক দিন ও হিদায়াত দান করুন।

লিখেছেন - Jakaria Masud

11/02/2017

নুবাদকের কথা

জীবনের সর্বক্ষেত্রেই আল্লাহ্‌র নির্দেশ ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদর্শ অনুসরণ করে চলার মধ্যেই দুনিয়া ও আখেরাতের শান্তি ও কল্যাণ নিহিত। এ ছাড়া আর সকল মতের ও সকল পথের অনুসরণের মধ্যে লুকিয়ে রয়েছে অমঙ্গল ও অশান্তির বীজ। জাদুকর্ম, দৈবকর্ম ও জ্যেতিষকর্ম চর্চা করা - যার মাধ্যমে মানুষের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ জানতে পারার দাবি করা হয় এবং বিপদাপদ ও রোগ ব্যাধি দূর করা যায় বলে ধারণা করা হয় - এ সবই ইসলামী শরী‘আতে সুস্পষ্ট ভাবে হারাম এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদর্শের বিরোধী। অথচ এসব কাজ চর্চার মাধ্যমে এক-শ্রেণির মানুষ জনসাধারণকে রোগের চিকিৎসা, বিপদাপদ দূর করা ও আকাঙ্ক্ষা পূরণ করে দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারিত করছে। ফলে সংশ্লিষ্ট লোকজনের ঈমান, আমল ও আকীদা যেমন প্রশ্নের সম্মুখীন হয়ে পড়ছে, তেমনি এসব কর্ম-চর্চাকারীরা মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ও প্রতারণার জাল বিস্তার করে সমাজকে অসুস্থ করে তুলছে।
এরকম পরিস্থিতিতে অত্র বিষয়ের উপর অতি সংক্ষেপে প্রাঞ্জল ভাষায় লিখা শাইখ আবদুল আযীয ইবন বায রাহেমাহুল্লাহর লিখা ছোট্ট পুস্তিকাটি আমি অনুবাদ করি। আমার বিশ্বাস যারা আল্লাহ্‌কে ভয় করে দুনিয়া ও আখিরাতের জীবনে সফলতা অর্জন করতে চায়, তারা অত্র বিষয়ের উপর পুস্তিকাটিতে প্রয়োজনীয় আদর্শ ও হেদায়াতের পথ খুঁজে পাবে। আল্লাহ গ্রন্থকার ও অনুবাদকের এ শ্রমটুকু কবুল করুন। আমীন॥

বিস্‌মিল্লাহির রাহ্‌মানির রাহিম

সমস্ত প্রশংসা একমাত্র আল্লাহরই জন্য এবং দরুদ ও সালাম সেই মহান ব্যক্তির উপর বর্ষিত হোক যার পরে আর কোন নবী নেই।
সাম্প্রতিক কালে জাদু ও দৈবকর্মের মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যাধির চিকিৎসা করতে সক্ষম— এমন দাবিদার লোকদের সংখ্যা প্রচুর পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে। সমাজের অশিক্ষিত শ্রেণির মূর্খতা আর নির্বুদ্ধিতাকে পুঁজি করে বিভিন্ন দেশে তারা তাদের এ পেশাকে সম্প্রসারিত করে চলেছে। আমি তাই আল্লাহ্‌র দেয়া নির্দেশ পালন এবং বান্দাদের সঠিক পথে চলার উপদেশ পালনের লক্ষ্যে এতদুভয়ের মধ্যে ইসলাম ও মুসলিম জনতার উপর যে গুরুতর বিপদ রয়েছে, সে সম্পর্কে আলোকপাত করতে চাই। কেননা এ উভয় কর্মে রয়েছে আল্লাহ্‌ ব্যতীত অন্য সত্ত্বার সাথে (নির্ভরতামূলক) সম্পর্কস্থাপন এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নির্দেশ লঙ্ঘন।

তাই আমি আল্লাহর সাহায্য কামনা করে বলছি— সকল মুসলিম মনীষীদের সর্বসম্মত মতানুযায়ী চিকিৎসা গ্রহণ বৈধ। আর যে কোন মুসলিম ব্যক্তিরই অধিকার রয়েছে যে, সে আভ্যন্তরীণ রোগের ডাক্তার কিংবা শৈল চিকিৎসক অথবা মানসিক রোগের ডাক্তার কিংবা অনুরূপ যে কারও কাছে যেতে পারে, যাতে তিনি তার রোগ-ব্যাধি চিহ্নিত করে চিকিৎসা শাস্ত্রে তার জ্ঞান অনুযায়ী শরী‘আত কর্তৃক অনুমোদিত পথ্য দ্বারা তার চিকিৎসা করেন। কেননা এটা সাধারণ বৈধ পন্থাসমূহ অবলম্বনেরই অন্তর্গত। উপরন্তু এ ধরনের পন্থাবলম্বন আল্লাহর উপর নির্ভরতার পরিপন্থী নয়। কারণ আল্লাহ তা‘আলা রোগ দিয়েছেন এবং সে রোগ নিরাময়ের ঔষধও বাতলে দিয়েছেন। যার জানার সে তা জেনেছে এবং যে জানে নি, এ পথ্য তার অজ্ঞাতই থেকে গেছে। অবশ্য আল্লাহ্‌ তা‘আলা বান্দার উপর হারাম করেছেন এমন কোন বস্তুকে তার রোগ নিরাময়ের উপায় নির্ধারণ করেননি।

সুতরাং অসুস্থ ব্যক্তির জন্য সেই সব গণক, জ্যোতিষী ও দৈবজ্ঞদের কাছে যাওয়া বৈধ নয়, যারা দাবি করে যে, তাদের কাছে অসুস্থ ব্যক্তির রোগ চিহ্নিত করার গায়েবী জ্ঞান রয়েছে। তদ্রূপ অসুস্থ ব্যক্তির জন্যও এসব গণক ও দৈবজ্ঞদের দেয়া তথ্য ও সংবাদের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা বৈধ নয়। কেননা তারা গায়েবী বিষয়ে অনুমানের উপর ভিত্তি করেই এসব বলে থাকে কিংবা তারা তাদের ঈপ্সিত বিষয়ে সাহায্য নেয়ার জন্য জিনদের হাযির করে থাকে। এদের ব্যাপারে শর‘য়ী হুকুম হল— এরা কুফুরী ও ভ্রষ্টতায় নিমজ্জিত যদি তারা গায়েবী জ্ঞান আছে বলে দাবি করে।

ইমাম মুসলিম তাঁর সহিহ গ্রন্থে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:
من أتى عرافا فسأله عن شيء لم تقبل له صلاة أربعين ليلة
অর্থ : ‘‘যে ব্যক্তি কোন দৈবজ্ঞের কাছে এসে কোন বিষয়ে জিজ্ঞেস করে, চল্লিশ দিন পর্যন্ত তার নামায কবুল হবে না’’।
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
"من أتى كاهنا فصدقه بما يقول فقد كفر بما أنزل علي محمد صلى الله عليه وسلم"
অর্থ : ‘‘যে ব্যক্তি কোন গণকের কাছে আসে এবং সে যা বলে তার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে, সে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর অবতীর্ণ সত্যের প্রতি কুফুরী করল।’’
এ হাদিসটি আবু দাউদ ও সুনানের চারটি গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে। আর হাকেম হাদিসটিকে সহিহ বলে অন্য শব্দে বর্ণনা করেছেন।
"من أتى عرافا أو كاهنا فصدقه فيما يقول فقد كفر بما أنزل على محمد صلى الله عليه و سلم"
অর্থ : ‘‘যে ব্যক্তি কোন দৈবজ্ঞ বা গণকের কাছে আসে এবং তার বক্তব্যকে সত্য বলে মেনে নেয়, সে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর অবতীর্ণ সত্যকে অস্বীকার করল।’’
ইমরান ইবনে হুসাইন রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
"ليس منا من تطير أو تطير له، أو تكهن أو تكهن له، أو سحر أو سحر له ومن أتى كاهنا فصدقه بما يقول فقد كفر بما أنزل على محمد"
অর্থ : ‘‘যে ব্যক্তি নির্দিষ্ট কিছুর ভিত্তিতে কোন কিছু অশুভ বলে ঘোষণা দেয় কিংবা যার জন্য [তার চাওয়া অনুসারে] অশুভ বলে ঘোষণা দেয়া হয়; যে ব্যক্তি গণনা করে কিংবা যার জন্য [তার চাওয়া অনুসারে] গণনা করা হয়; যে ব্যক্তি জাদু করে কিংবা যার জন্য [তার চাওয়া অনুসারে] জাদু করা হয়— তাদের কেউই আমাদের অন্তর্গত নয়। আর যে ব্যক্তি কোন গণকের কাছে এসে তার বক্তব্যকে সত্য মনে করে, সে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর অবতীর্ণ সত্যকে অস্বীকার করল’’। হাদিসটি বায্‌যার উত্তম সনদে বর্ণনা করেছেন।

উপরে বর্ণিত হাদিসসমূহে দৈব জ্ঞানের দাবিদার, গণক, জাদুকর ও তদনুরূপ লোকদের কাছে আসতে এবং তাদেরকে কোন কিছু জিজ্ঞেস করতে ও তাদের বক্তব্য সত্য বলে বিশ্বাস করতে নিষেধ করা হয়েছে এবং এ ব্যাপারে ভয় প্রদর্শন ও করা হয়েছে। সুতরাং শাসকবর্গ ও মানুষকে সৎ কাজের আদেশদানের এবং অসৎ কাজ থেকে বিরত রাখার দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তিবর্গ— যাদের হাতে ক্ষমতা ও শক্তি রয়েছে, তাদের প্রত্যেকেরই উচিত গণক, দৈব জ্ঞানের দাবিদার ও অনুরূপ পেশাজীবীদের কাছে আসতে লোকদের নিষেধ করা, হাটে-বাজারে ও অন্যত্র যে কোন ধরনের দৈবজ্ঞান আদান প্রদান নিষিদ্ধ করা, দৈবজ্ঞ ও তাদের কাছে যারা আসে সবার উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা।

তাদের কথা কোন কোন ব্যাপারে সত্য বলে প্রমাণিত হওয়ার ফলে এবং এক শ্রেণির লোক তাদের কাছে বেশি আনাগোনা করার ফলে তাদের দ্বারা কারো প্রতারিত হওয়া ঠিক নয়। কারণ ঐ শ্রেণির লোকেরা মূলত মূর্খ। তাই তাদের দ্বারা প্রতারিত হওয়া অনুচিত। কেননা এতে গুরুতর পাপ, মহাবিপদ ও খারাপ পরিণতি থাকায় এবং যারা এসব কাজে লিপ্ত তারা মিথ্যাবাদী ও দুষ্ট প্রকৃতির লোক হওয়ায় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের কাছে আসতে, প্রশ্ন করতে এবং তাদেরকে সত্যবাদী হিসাবে প্রতিপন্ন করতে নিষেধ করেছেন।

অনুরূপভাবে আলোচ্য হাদিসসমূহে এও প্রমাণিত হয় যে, গণক ও জাদুকররা কাফির। কেননা তারা অদৃশ্য জ্ঞানের অধিকারী হওয়ার দাবি করছে, যা কিনা কুফুরী। তদুপরি তারা আল্লাহ্‌কে ছেড়ে জিনের সেবা ও ইবাদাত-এর মাধ্যমেই তাদের উদ্দেশ্য সাধন করছে। অথচ এ কাজও কুফুরী এবং আল্লাহর সাথে শরীক করারই নামান্তর। যে ব্যক্তি তাদের অদৃশ্য জ্ঞানের দাবিকে সত্য প্রতিপন্ন করে সে ও তাদেরই অনুরূপ। আর যে সব ব্যক্তি এ বিষয়গুলো এমন লোকদের কাছ থেকে গ্রহণ করে, যারা তা পরস্পর আদান-প্রদান করে থাকে, সে সব ব্যক্তির সাথে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কোন সম্পর্ক নেই। এসব লোক যাকে চিকিৎসা বলে ধারণা করে থাকে, তাকে মেনে নেয়া ও গ্রহণ করা কোন মুসলিমের জন্য জায়েয নেই। যেমন বিড়-বিড় করে মন্ত্রোচ্চারণ কিংবা পানিতে ইস্পাত চুবানো ইত্যাদি আরও অনেক কুসংস্কার যা তারা করে থাকে-কোনটাই জায়েয নয়। কেননা তা দৈবকর্ম চর্চা ও মানুষকে বিভ্রান্ত করারই নামান্তর। এসব ব্যাপারগুলোকে যারা মেনে নেয়, তারা মূলত এ লোকদেরকে তাদের বাতিল ও কুফুরী কাজে সহযোগিতা করলো। অনুরূপভাবে কোন মুসলিম ব্যক্তির জন্য জ্যোতিষী ও দৈব জ্ঞানের দাবিদারদের কাছে গিয়ে একথা জিজ্ঞেস করা জায়েয নেই যে, তার ছেলে কিংবা তার কোন আত্মীয় কাকে বিয়ে করবে? কিংবা স্বামী-স্ত্রী ও তাদের উভয়ের পরিবারে ভালবাসা ও মিল-মহব্বত হবে নাকি শত্রুতা ও দূরত্বের সৃষ্টি হবে ইত্যাদি। কেননা এসব সে গায়েবী ও অদৃশ্য জ্ঞানেরই অন্তর্গত যা শুধু মহান আল্লাহ্‌ তা‘আলা ছাড়া আর কেউ জানে না।

জাদু বিদ্যা হারাম ও কুফুরী

যেমন আল্লাহ্‌ তা‘আলা সূরা আল-বাকারায় হারুত-মারুত নামক দুই ফেরেশতার ব্যাপারে বলেছেন :
﴿وَمَا يُعَلِّمَانِ مِنْ أَحَدٍ حَتَّى يَقُولا إِنَّمَا نَحْنُ فِتْنَةٌ فَلا تَكْفُرْ فَيَتَعَلَّمُونَ مِنْهُمَا مَا يُفَرِّقُونَ بِهِ بَيْنَ الْمَرْءِ وَزَوْجِهِ وَمَا هُمْ بِضَارِّينَ بِهِ مِنْ أَحَدٍ إِلَّا بِإِذْنِ اللَّهِ وَيَتَعَلَّمُونَ مَا يَضُرُّهُمْ وَلا يَنْفَعُهُمْ وَلَقَدْ عَلِمُوا لَمَنِ اشْتَرَاهُ مَا لَهُ فِي الْآخِرَةِ مِنْ خَلاقٍ وَلَبِئْسَ مَا شَرَوْا بِهِ أَنْفُسَهُمْ لَوْ كَانُوا يَعْلَمُونَ﴾
অর্থ : ‘‘তারা উভয়ই একথা না বলে কাউকে শিক্ষা দিত না যে, আমরা নিছক একটি পরীক্ষা মাত্র; কাজেই তুমি কুফুরী করো না। তা সত্ত্বেও তারা ফেরেশতাদ্বয়ের কাছ থেকে এমন জাদু শিখত, যদ্বারা স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটানো যায়। অথচ তারা আল্লাহ্‌র আদেশ ছাড়া তদ্বারা কারো অনিষ্ট করতে পারত না। এতদ্‌সত্ত্বেও তারা তা-ই শিখত যা তাদের ক্ষতি করত এবং কোন উপকারে আসতো না। তারা ভালভাবে জানে যে, যে কেউ তা খরিদ করে (অর্থাৎ জাদুর আশ্রয় নেয়) তার জন্য আখেরাতে কোন অংশ নেই। যার বিনিময়ে তারা নিজেদের বিকিয়ে দিচ্ছে তা খুবই মন্দ যদি তারা জানত! [সূরা আল-বাকারাহ্: ১০২]
এ আয়াত দ্বারা বুঝা যায় যে, জাদু বিদ্যা কুফুরী এবং জাদুকররা স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ সৃষ্টি করে। আয়াতটি দ্বারা আরও প্রমাণিত যে, যে জাদু ভাল-মন্দের আসল কার্যকারণ নয়, বরং আল্লাহ্‌র পূর্বনির্ধারিত জাগতিক নিয়ম ও নির্দেশেই মূলত তা প্রভাব বিস্তার করে থাকে। কেননা আল্লাহ্‌ তা‘আলাই ভাল ও মন্দ সৃষ্টি করেন। এসমস্ত মিথ্যা অপবাদ আরোপকারী ব্যক্তিগণ যারা মুশরিকদের থেকে এ ধরনের জ্ঞান অর্জন করেছে এবং এর মাধ্যমে দুর্বল-চিত্তের লোকদের উপর বিভ্রান্তির প্রহেলিকা সৃষ্টি করেছে— তাদের দ্বারা সাধিত ক্ষতি ইতিমধ্যেই বিশাল আকার ধারণ করেছে। অথচ স্মরণ রাখা দরকার আমরা তো আল্লাহ্‌রই জন্য এবং আল্লাহ্‌র দিকেই আমাদের ফিরে যেতে হবে। তিনিই তো আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং উত্তম তত্ত্বাবধায়ক।
অনুরূপভাবে আয়াতে কারীমাতে এদিকেও ইঙ্গিত রয়েছে যে, যারা জাদু শিখে তারা মূলত এমন বিদ্যাই শিখে যা তাদের ক্ষতি করে এবং কোন উপকারে আসে না, আর আল্লাহ্‌র কাছে তাদের কিছুই পাওয়ার নেই। এটা অত্যন্ত বড় সতর্কবাণী, যা দুনিয়া ও আখিরাতে তাদের ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবার ইঙ্গিতই বহন করছে আর এও বুঝা যাচ্ছে যে, তারা অত্যন্ত নগণ্য মূল্যে নিজেদেরকে বিকিয়ে দিয়েছে তাই আল্লাহ্‌ তা‘আলা এ-ব্যাপারে তাদের নিন্দা করেছেন। তিনি এরশাদ করেছেন :
﴿وَلَبِئْسَ مَا شَرَوْا بِهِ أَنْفُسَهُمْ لَوْ كَانُوا يَعْلَمُونَ﴾
অর্থ : ‘‘যার বিনিময়ে তারা নিজেদের বিকিয়ে দিচ্ছে তা খুবই মন্দ যদি তারা জানত!” [সূরা আল-বাকারাহ্ : ১০২]

জাদুকর, গণক এবং সকল প্রকার ভোজবাজীকর ও ভেল্কিবাজদের অমঙ্গল থেকে আমরা আল্লাহ্‌র কাছে নিরাপত্তা কামনা করি। আমরা তাঁর কাছে এও কামনা করি যে, তিনি যেন এসব লোকের ক্ষতি থেকে মুসলিমদেরকে রক্ষা করেন এবং এসব লোক সম্পর্কে সতর্ক করা ও তাদের ব্যাপারে আল্লাহ্‌র হুকুম কার্যকর করার জন্য মুসলিম শাসকদের তাওফিক দান করেন। যাতে তাদের ক্ষতি ও নিকৃষ্ট কাজ হতে আল্লাহ্‌র বান্দাগণ স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারে। নিশ্চয়ই তিনি দানশীল মহান।

আল্লাহ্‌ তাঁর বান্দাদের প্রতি স্বীয় রহমাত ও অনুগ্রহস্বরূপ এবং তাঁর নিয়ামতের পূর্ণতা সাধনকল্পে তাদের জন্য এমন সব ব্যবস্থা নির্ধারণ করে দিয়েছেন যদ্বারা জাদুকর্ম সংঘটিত হওয়ার পূর্বে এর অমঙ্গল থেকে তারা রক্ষা পেতে পারে এবং এমন পদ্ধতি ও তাদের জন্য বর্ণনা করে দিয়েছেন যাতে জাদুকর্ম সংঘটিত হওয়ার পর তারা এর চিকিৎসা করতে পারে।

• যা দ্বারা জাদু সংঘটিত হওয়ার পূর্বে এর বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়া যায় এবং শরী‘আতে বৈধ এমন যে সব বস্তু দ্বারা জাদু সংঘটিত হওয়ার পর এর চিকিৎসা করা যায়-সে সব কিছু নিচে বর্ণনা করা হলো।
যে সব বস্তু দ্বারা জাদু সংঘটিত হওয়ার পূর্বেই জাদুর ক্ষতি থেকে রক্ষা পাওয়া যায় তন্মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও উপকারী হল শরী‘আত সম্মত যিক্‌র-আযকার এবং হাদিসে বর্ণিত যাবতীয় দো‘আসমূহ। আর এসবের মধ্যে রয়েছে প্রত্যেক ফরয নামাযের সালাম ফিরিয়ে শরী‘আত অনুমোদিত যিক্‌র-আযকার পাঠের পর এবং নিদ্রা যাওয়ার সময় আয়াতুল কুরসী পড়া। আয়াতুল কুরসী কুরআন কারীমের সবচেয়ে মর্যাদাসম্পন্ন আয়াত। আয়াতটি নীচে দেয়া হলো:
﴿اللَّهُ لا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ لا تَأْخُذُهُ سِنَةٌ وَلا نَوْمٌ لَهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ مَنْ ذَا الَّذِي يَشْفَعُ عِنْدَهُ إِلَّا بِإِذْنِهِ يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ وَلا يُحِيطُونَ بِشَيْءٍ مِنْ عِلْمِهِ إِلَّا بِمَا شَاءَ وَسِعَ كُرْسِيُّهُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ وَلا يَؤُودُهُ حِفْظُهُمَا وَهُوَ الْعَلِيُّ الْعَظِيمُ﴾
অর্থ : ‘‘আল্লাহ্‌ ছাড়া অন্য কোন হক মাবুদ নেই, তিনি জীবিত, সবার তত্ত্বাবধায়ক। তাঁকে তন্দ্রাও স্পর্শ করতে পারে না এবং নিদ্রাও নয়। আসমান ও জমিনে যা কিছু রয়েছে সবই তাঁর। কে আছে এমন যে সুপারিশ করবে তাঁর কাছে তাঁর অনুমতি ছাড়া ? তাদের সামনে ও পেছনে যা কিছু রয়েছে সবই তিনি জানেন। তাঁর জ্ঞাত বিষয় হতে কোন কিছুকেই তারা আয়ত্তাধীন করতে পারে না। কিন্তু কোন বিষয় যদি তিনি নিজেই জানাতে চান, তবে অন্য কথা। তাঁর কুরসী সমস্ত আসমান ও জমিনকে পরিবেষ্টিত করে আছে। আর এগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ তাঁর জন্য কষ্ট সাধ্য নয়। তিনি উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন এবং মহান।” [সূরা আল-বাকারা : ২৫৫]

এসব যিক্‌র ও দো‘আর মধ্যে আরও রয়েছে প্রত্যেক ফরয নামাযের পর قل هو الله أحد ও قل أعوذ برب الفلق এবং قل أعوذ برب الناس পড়া। এই সূরাগুলো ফজরের পর দিবসের প্রথম ভাগে ও মাগরিবের পর রাত্রির শুরুতে এবং ঘুমের সময় তিনবার করে পড়া। এছাড়া রাত্রির প্রথমভাগে সূরা আল-বাকারার নিম্নলিখিত শেষ দুই আয়াত পড়া। আয়াতদ্বয় হলো :
﴿آمَنَ الرَّسُولُ بِمَا أُنْزِلَ إِلَيْهِ مِنْ رَبِّهِ وَالْمُؤْمِنُونَ كُلٌّ آمَنَ بِاللَّهِ وَمَلائِكَتِهِ وَكُتُبِهِ وَرُسُلِهِ لا نُفَرِّقُ بَيْنَ أَحَدٍ مِنْ رُسُلِهِ وَقَالُوا سَمِعْنَا وَأَطَعْنَا غُفْرَانَكَ رَبَّنَا وَإِلَيْكَ الْمَصِيرُ * لَا يُكَلِّفُ اللَّهُ نَفْساً إِلَّا وُسْعَهَا لَهَا مَا كَسَبَتْ وَعَلَيْهَا مَا اكْتَسَبَتْ رَبَّنَا لا تُؤَاخِذْنَا إِنْ نَسِينَا أَوْ أَخْطَأْنَا رَبَّنَا وَلا تَحْمِلْ عَلَيْنَا إِصْراً كَمَا حَمَلْتَهُ عَلَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِنَا رَبَّنَا وَلا تُحَمِّلْنَا مَا لا طَاقَةَ لَنَا بِهِ وَاعْفُ عَنَّا وَاغْفِرْ لَنَا وَارْحَمْنَا أَنْتَ مَوْلانَا فَانْصُرْنَا عَلَى الْقَوْمِ الْكَافِرِينَ﴾
অর্থ: ‘‘রাসূল ঈমান এনেছেন সে সব বিষয়ের প্রতি যা তাঁর কাছে অবতীর্ণ হয়েছে এবং মু’মিনগণও। সকলেই ঈমান এনেছে আল্লাহ্‌র প্রতি, তাঁর ফেরেশতাদের প্রতি, তাঁর কিতাবসমূহের প্রতি এবং তাঁর রাসূলগণের প্রতি। তারা বলে, আমরা তাঁর রাসূলগণের মধ্যে তারতম্য করি না। আর এও বলে : আমরা শুনেছি এবং মেনে নিয়েছি। হে আমাদের রব! তোমার ক্ষমা চাই এবং তোমার দিকেই প্রত্যাবর্তন করতে হবে। আল্লাহ্‌ কাউকে তাঁর সাধ্যাতীত কোন কাজের ভার দেন না। যে পুণ্য সে অর্জন করে এর প্রতিফল তার জন্য এবং সে যে মন্দ কাজ করে সে কাজের প্রতিফল ও তার উপরই বর্তাবে। হে আমাদের পালনকর্তা ! আমরা যদি ভুলে যাই কিংবা ভুল করি, তবে আমাদেরকে পাকড়াও করো না। হে আমাদের রব! আর আমাদের উপর এমন ভারী বোঝা অর্পণ করো না, যেমন আমাদের পূর্ববর্তীদের উপর অর্পণ করেছো। হে আমাদের প্রভু! আর আমাদের উপর এমন কাজের ভার চাপিয়ে দিও না, যা বহন করার শক্তি আমাদের নেই। আমাদের পাপ মোচন কর। আমাদেরকে ক্ষমা কর এবং আমাদের প্রতি দয়া কর। তুমিই আমাদের প্রভু। সুতরাং কাফির সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আমাদেরকে সাহায্য কর। [আল-বাকারাহ্ : ২৮৫-২৮৬]

রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সহিহ-সূত্রে বর্ণিত :
من قرأ آية الكرسي في ليلة لم يزل عليه من الله حافظ ولا يقربه شيطان حتى يصبح
অর্থ : ‘‘যে ব্যক্তি রাতে আয়াতুল কুরসী পাঠ করে, ভোর হওয়া পর্যন্ত আল্লাহ্‌র পক্ষ থেকে তার উপর একজন হেফাযতকারী নিয়োজিত থাকে এবং শয়তান তার নিকটবর্তী হয় না।’’
সহিহ সূত্রে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এও বর্ণিত যে, তিনি বলেন:
من قرأ الآيتين من آخر سورة البقرة في ليلة كفتاه
অর্থ : ‘‘যে ব্যক্তি রাতে সূরা আল-বাকারার শেষের দু’টি আয়াত পাঠ করবে, ওটাই তার জন্য যথেষ্ট।’’
হাদিসটির মর্মার্থ হলো : ‘‘সকল অনিষ্ট হতে তার রক্ষা পাওয়ার জন্য যথেষ্ট’’।

• জাদুর ক্ষতি হতে রক্ষা পাওয়ার দো‘আর মধ্যে আরও রয়েছে:
রাতদিন এবং কোন বসতবাড়ি কিংবা মরুভূমিতে অথবা জলে কিংবা অন্তরীক্ষে অবস্থানের সময় নীচের দো‘আটি বেশি বেশি পাঠ করবে:
أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ
অর্থ : ‘‘আল্লাহ্‌র পরিপূর্ণ বাণী দ্বারা তাঁর নিকট আমি সৃষ্টির যাবতীয় অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাচ্ছি’’।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন :
من نزل منزلا فقال : أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ لم يضره شيء حتى يرتحل من منزله ذلك
অর্থ : ‘‘যে ব্যক্তি কোন স্থানে অবতরণ করার পর বলে: ‘আল্লাহ্‌র পরিপূর্ণ বাণী দ্বারা তাঁর নিকট আমি সৃষ্টির যাবতীয় অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাচ্ছি’— সে ঐ স্থান থেকে ফিরে আসা পর্যন্ত কোন কিছুই তার ক্ষতি কারতে পারবে না’’।
এসব দো‘আর মধ্যে আরও রয়েছে দিবসের প্রথম ভাগে ও রজনীর শুরুতে নীচের দো‘আটি তিনবার পাঠ করা :
بِسْمِ اللَّهِ الَّذِي لَا يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْءٌ فِي الْأَرْضِ وَلَا فِي السَّمَاءِ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ
অর্থ : ‘‘আমি সেই আল্লাহ্‌র নামে আরম্ভ করছি, যার নামে শুরু করলে আকাশ ও পৃথিবীর কোন বস্তুই কোনরূপ অনিষ্ট সাধন করতে পারেনা। বস্তুত তিনি হচ্ছেন সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞাতা’’।
কেননা সহিহ সূত্রানুযায়ী রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এ ব্যাপারে উৎসাহ দেয়া হয়েছে এবং এটাই প্রত্যেক মন্দ হতে নিরাপদ থাকার কারণ।
এ সকল যিক্‌র ও দো‘আ জাদু ও অনুরূপ অপকর্মের অমঙ্গল থেকে পরিত্রাণ পাবার সর্বোত্তম পন্থা তাদের জন্য যারা সততা, ঈমান, আল্লাহ্‌র প্রতি আস্থা ও নির্ভরতা সহকারে এবং এসব দো‘আর অর্থের প্রতি আন্তরিকতা রেখে এগুলো চর্চা করে। এ একই দো‘আ সমূহ জাদু সংঘটিত হবার পরও জাদুর ক্রিয়া দূর করার সবচেয়ে কার্যকর অস্ত্র। অবশ্য পাশাপাশি আল্লাহ্‌র কাছে বেশি বেশি বিনয় প্রকাশ এবং বিপদ ও ক্ষতি দূর করার জন্য প্রার্থনা করতে হবে।

আর জাদু ও অন্যান্য রোগের চিকিৎসায়, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত বিশুদ্ধ দো‘আর মধ্যে আরও রয়েছে নীচের দো‘আটি তিনবার পাঠ করা। এটি দ্বারা তিনি তাঁর সাহাবিদেরকে ঝাড়ফুঁক করতেন। দো‘আটি হল:
اللّٰهُمَّ رَبَّ النَّاسِ أَذْهِبِ البَأسَ وَاشْفِ أَنْتَ الشَّافِي، لاَ شِفَاءَ إِلَّا شِفَاؤُكَ، شِفَاءً لاَ يُغَادِرُ سَقَمًا
অর্থ: ‘‘হে আল্লাহ্‌! যিনি মানুষের পালন কর্তা ! বিপদ দূর করে দাও এবং আরোগ্য দান কর। তুমিই আরোগ্য-দাতা। তোমার আরোগ্য দান ছাড়া কোন আরোগ্য লাভই সম্ভব নয়। এমন আরোগ্য দাও যার পরে আর কোন রোগ-ব্যাধি থাকবে না’’।
এছাড়া জিবরাইল আলাইহিস্ সালাম যে দো‘আ পাঠ করে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ঝেড়েছিলেন, তা হল:
بِسْمِ اللَّهِ أَرْقِيكَ، مِنْ كُلِّ شَيْءٍ يُؤْذِيكَ، وَمِنْ شَرِّ كُلِّ نَفْسٍ أَوْ عَيْنٍ حَاسِدٍ اللَّهُ يَشْفِيكَ، بِسْمِ اللَّهِ أَرْقِيكَ
অর্থ : ‘‘আল্লাহ্‌র নামে আমি আপনাকে ঝাড়ছি, এমন সকল বস্তু হতে যা আপনাকে কষ্ট দিচ্ছে। আর প্রত্যেক প্রাণীর অমঙ্গল হতে ও ঈর্ষাকারীর বদ নজর হতে আল্লাহ্‌ আপনাকে শিফা দান করুন। আল্লাহ্‌র নামে আমি আপনাকে ঝাড়ছি’’।
এ দো‘আটিও তিনবার পাঠ করতে হবে।

জাদু-ক্রিয়া সংঘটিত হবার পর জাদুর কারণে স্ত্রী সহবাস হতে বাধাগ্রস্ত ব্যক্তির জন্য খুবই উপকারী চিকিৎসার মধ্যে রয়েছে সাতটি সবুজ বরই পাতা নিয়ে পাথর বা অনুরূপ কিছু দিয়ে তা ঘষে কোন পাত্রে রাখা এবং গোসলের জন্য যথেষ্ট পরিমাণ পানি এতে ঢেলে তাতে আয়াতুল কুরসী, সূরা আল-কাফিরূন, সূরা কুল হুয়াল্লাহু আহাদ, সূরা কুল আ‘উযু বিরাব্বিল ফালাক্ব এবং সূরা ক্বুল আ‘উযু বিরাব্বিন নাস পড়বে। এর সাথে সূরা আল-আ‘রাফের জাদুর আয়াতগুলোও পাঠ করবে। সে আয়াতগুলো হল:
﴿وَأَوْحَيْنَا إِلَى مُوسَى أَنْ أَلْقِ عَصَاكَ فَإِذَا هِيَ تَلْقَفُ مَا يَأْفِكُونَ (117) فَوَقَعَ الْحَقُّ وَبَطَلَ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ (118) فَغُلِبُوا هُنَالِكَ وَانْقَلَبُوا صَاغِرِينَ (119)﴾
অর্থ : ‘‘আর আমি মূসার প্রতি ওহী পাঠালাম, ‘‘এবার নিক্ষেপ কর তোমার লাঠিখানা’’। সঙ্গে সঙ্গে তা সে সমুদয়কে গিলতে লাগল যা তারা বনিয়েছিল জাদু বলে। ফলে সত্য প্রমাণিত হলো এবং বাতিল হয়ে গেল তারা যা কিছু করছিল। সুতরাং তারা সেখানে পরাভূত হলো ও লাঞ্ছিত হয়ে ফিরল’’। [সূরা আল-আ’রাফ : ১১৭-১১৯]
অনুরূপভাবে সূরা ইউনুসের নিম্নলিখিত আয়াতগুলোও পড়বে :
﴿وَقَالَ فِرْعَوْنُ ائْتُونِي بِكُلِّ سَاحِرٍ عَلِيمٍ (79) فَلَمَّا جَاءَ السَّحَرَةُ قَالَ لَهُمْ مُوسَى أَلْقُوا مَا أَنْتُمْ مُلْقُونَ (80) فَلَمَّا أَلْقَوْا قَالَ مُوسَى مَا جِئْتُمْ بِهِ السِّحْرُ إِنَّ اللَّهَ سَيُبْطِلُهُ إِنَّ اللَّهَ لَا يُصْلِحُ عَمَلَ الْمُفْسِدِينَ (81) وَيُحِقُّ اللَّهُ الْحَقَّ بِكَلِمَاتِهِ وَلَوْ كَرِهَ الْمُجْرِمُونَ (82)﴾
অর্থ : ‘‘আর ফের‘আউন বলল, আমার কাছে নিয়ে এস সুদক্ষ জাদুকরদেরকে। তারপর যখন জাদুকররা এলো, মূসা তাদেরকে বলল: তোমাদের যা কিছু নিক্ষেপ করার তা নিক্ষেপ কর। অতঃপর যখন তারা নিক্ষেপ করল, মূসা বলল: যা কিছু তোমরা এনেছ তা সবই জাদু— নিশ্চয়ই আল্লাহ্‌ এসব ভণ্ডুল করে দিবেন। নিঃসন্দেহে আল্লাহ্‌ ফাসাদ সৃষ্টিকারীদের কাজকে সংশোধন করেন না। আল্লাহ্‌ সত্যকে সত্যে পরিণত করেন, যদিও পাপীদের তা মনঃপুত নয়’’। [সূরা ইউনুস: ৭৯-৮২]
পরিশেষে সূরা ত্বাহার নিম্নের আয়াতগুলো পড়বে:
﴿قَالُوا يَا مُوسَى إِمَّا أَنْ تُلْقِيَ وَإِمَّا أَنْ نَكُونَ أَوَّلَ مَنْ أَلْقَى (65) قَالَ بَلْ أَلْقُوا فَإِذَا حِبَالُهُمْ وَعِصِيُّهُمْ يُخَيَّلُ إِلَيْهِ مِنْ سِحْرِهِمْ أَنَّهَا تَسْعَى (66) فَأَوْجَسَ فِي نَفْسِهِ خِيفَةً مُوسَى (67) قُلْنَا لا تَخَفْ إِنَّكَ أَنْتَ الْأَعْلَى (68) وَأَلْقِ مَا فِي يَمِينِكَ تَلْقَفْ مَا صَنَعُوا إِنَّمَا صَنَعُوا كَيْدُ سَاحِرٍ وَلا يُفْلِحُ السَّاحِرُ حَيْثُ أَتَى﴾
অর্থ: ‘‘তারা বলল, হে মূসা! হয় তুমি নিক্ষেপ কর, না হয় আমরাই প্রথমে নিক্ষেপ করি। মূসা বলল: বরং তোমরাই নিক্ষেপ কর। তাদের জাদুর প্রভাবে হঠাৎ তাঁর মনে হল, যেন তাদের রশিগুলো ও লাঠিগুলো ছুটাছুটি করছে। এতে মূসা মনে মনে কিছুটা ভীতি অনুভব করলেন। আমি বললাম, ভয় পেয়ো না, তুমি বিজয়ী হবে। তোমার ডান হাতে যা আছে তা তুমি নিক্ষেপ কর। তারা যা কিছু করেছে এটা তা গ্রাস করে ফেলবে। তারা যা করেছে তাতো কেবল জাদুকরের কলাকৌশল। জাদুকর যেখানেই আসুক সফল হবে না’’। [সূরা ত্বাহা : ৬৫-৬৯]
উপরোক্ত আয়াতসমূহ পানিতে পাঠ করার পর তা হতে তিন কোষ পরিমাণ পান করবে এবং অবশিষ্টাংশ দিয়ে গোসল করবে। আল্লাহ চাহে-তো এর দ্বারা রোগ দূর হবে। প্রয়োজনে রোগের উপসম হওয়া পর্যন্ত দুই বা ততোধিকবার এ চিকিৎসা গ্রহণ করা যাবে।

জাদুর সর্বোত্তম চিকিৎসার মধ্যে রয়েছে ভূমি, পাহাড় কিংবা অন্য কোথাও জাদুর স্থান সম্পর্কে অবগত হওয়ার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা করা। তা জানতে পারলে এবং বের করে নষ্ট করে ফেললে জাদু নিষ্ফল হয়ে যাবে।
জাদু হতে রক্ষা পাওয়ার এবং এর চিকিৎসার এই বিষয়গুলো এখানে বর্ণনা করা হলো। আল্লাহ্‌ তাওফিক ও সামর্থ্য দেয়ার মালিক।
তবে খেয়াল রাখতে হবে যে, জাদু-ক্রিয়ার মাধ্যমে জাদুর চিকিৎসা যা কিনা যবেহ কিংবা তদনুরূপ কোন ইবাদাতের মাধ্যমে জিনের নৈকট্য হাসিলেরই নামান্তর— তা কোনক্রমেই জায়েয নয়। কেননা তা হচ্ছে মূলত শয়তানের কাজ। বরং তা শিরকে আকবার তথা বড় শিরকের অন্তর্গত। অতএব এমন কাজ থেকে বিরত থাকা অপরিহার্য।
অনুরূপভাবে গণক, দৈব জ্ঞানের দাবিদার ও বাজীকরদেরকে প্রশ্ন করে তাদের বাতিয়ে দেয়া পদ্ধতি ব্যবহার করার মাধ্যমে জাদুর চিকিৎসা গ্রহণও জায়েজ নাই। কেননা তারা গায়েবী জ্ঞানের দাবি করে এবং মানুষের কাছে তা হেঁয়ালিপূর্ণ করে তুলে ধরে। শুরুতেই বলা হয়েছে যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের কাছে আসতে, তাদের কাছে কোন কিছু চাইতে ও তাদেরকে সত্য বলে মানতে নিষেধ করেছেন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সহিহ সূত্রে বর্ণিত—
তাঁকে ‘‘নাশরা’’ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেন, এটা শয়তানের কাজ। ইমাম আহমদ ও আবু দাউদ উত্তম সনদে হাদিসটি বর্ণনা করেছেন।
‘নাশরা’ হচ্ছে জাদুকৃত ব্যক্তি থেকে জাদুর ক্রিয়া দূর করা। আর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর একথার অর্থ হল জাহেলি যুগের সে ‘নাশরা’ যা লোকজনের মধ্যে প্রচলিত ছিল। আর তা হল— জাদুকরকে জাদু দূর করার জন্য অনুরোধ করা কিংবা অন্য জাদুকরের কাছে গিয়ে অনুরূপ জাদু দিয়ে জাদুর ক্রিয়া নষ্ট করা।

আর শর‘য়ী যিক্‌র ও দো‘আ এবং মুবাহ ঔষধ-পত্র দ্বারা জাদু দূর করায় কোন অসুবিধা নেই। সে আলোচনা ইতিপূর্বেই করা হয়েছে। আল্লামা ইবনুল কাইয়েম রাহেমাহুল্লাহ ও ‘ফাতহুল মাজীদ’ গ্রন্থে শেখ আবদুর রহমান ইবন হাসান রাহেমাহুল্লাহ এবং আরও অনেক আলেম এ ধরনের কথাই বলেছেন।
পরিশেষে আল্লাহ্‌র কছে প্রার্থনা জানাই মুসলিমদেরকে যেন প্রত্যেক মন্দ ও খারাপি থেকে বেঁচে থাকার তাওফিক দেন এবং তাদের দ্বীনকে হেফাজত করেন, তাদেরকে দ্বীনের জ্ঞান দান করেন এবং শরী‘আত বিরোধী প্রত্যেক বস্তু থেকে বাঁচিয়ে রাখেন।
ওয়া সাল্লাল্লাহু ওয়াসাল্লামা ‘আলা ‘আবদিহী ওয়া রাসূলিহী মুহাম্মাদ, ওয়া ‘আলা আলিহী ওয়াসাল্লাম॥

সংকলন: শাইখ আব্দুল আযীয ইবন আব্দুল্লাহ ইবন বায (রহ.)
অনুবাদ: ড. মোহাম্মদ মানজুরে ইলাহী
সম্পাদনা: ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া
সূত্র: ইসলাম প্রচার ব্যুরো, রাবওয়াহ, রিয়াদ, সৌদিআরব

15/10/2016

‘ওহাবী: পরিচয় ও ইতিহাস’ এ দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ যে, বহু মানুষ এই শব্দটি শোনে, এমনকি মুখে উচ্চারণও করে কিন্তু এর বাস্তবতা ও উৎপত্তির ইতিহাস সম্পর্কে তাদের জানা নেই। আশা করি, এ আলোচনা তাদেরকে পরিভাষাটির হাকীকত ও বাস্তবতা বুঝতে এবং এর ব্যবহার শুরুর ইতিহাস সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা অর্জনে সহায়তা করবে। তবে এ বিষয়ে এখানে খুব বিস্তারিত আলোচনা করা হয়নি। সংক্ষেপে যা লেখা হয়েছে তার সারমর্ম -কিছু অতিরিক্ত ব্যাখ্যাসহ- নিম্নরূপ:

১. ‘ওহাবী’ শব্দটি মূলত শায়েখ মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব নজদী রাহ. (১১১৫ হি.- ১২০৬ হি.)-এর দিকে সম্বন্ধিত।

২. শায়খ মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব-এর মতাদর্শের জন্য ‘ওয়াহহাবিয়া’ এবং তার অনুসারীদের জন্য ‘ওহাবী’ শব্দটি এক সময় প্রসিদ্ধ হয়ে গিয়েছিলো। কিন্তু যারা শায়েখের এই মতাদর্শের জন্য এই নাম ব্যবহার করেছেন তারা সাধারণত তাঁর মতাদর্শকে সঠিকভাবে বোঝেননি বা ঠিকভাবে উপস্থাপন করতে পারেননি। যেমন হিন্দুস্তানে বাদায়ূনী এবং রেযাখানী ঘরানার লোকেরা শায়েখের অনুসারীদেরকে তাদের তাফাররুদাত (ভিন্ন মতসমূহ) বা তাদের কতেকের বাড়াবাড়ি ও কট্টরতার কারণে তাদেরকে ওহাবী বলে না; বরং এ জন্য বলে যে, মাজারীদের মাঝে প্রচলিত শিরক-বিদআতের উপর আপত্তি তোলাই তাদের পছন্দ নয়। যদি তারা কট্টরপন্থীদের বাড়াবাড়ির জন্যে তাদেরকে ওহাবী বলতো তাহলে তো শাহ ইসমাঈল শহীদ ও আকাবিরে দেওবন্দকে তারা ওয়াবী বলতো না। কেননা আলহামদুলিল্লাহ এ ধরনের বাড়াবাড়ি তাদের মধ্যে কিছুমাত্রও ছিল না।

৩. শাহ ইসমাঈল শহীদ রাহ. এবং আকাবিরে দেওবন্দকে ওয়াহাবী বলা বাস্তবতা বিরুদ্ধ। তার কারণ :

(ক) শায়েখ মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব ও তার শিষ্যদের সাথে এদের কোনো দেখা-সাক্ষাৎ ছিলো না এবং এদের বিস্তারিত পরিচয় ও বৃত্তান্তও এঁরা জানতেন না।

(খ) শায়েখের সাথে তাদের উস্তায-শাগরিদ ধরনের সম্পর্ক কিংবা বাইআতের সম্পর্ক কিংবা বংশ ও আত্মীয়তার সম্পর্ক- কোনোটাই ছিলো না।

(গ) এঁরা ছিলেন ফিকহে হানাফীর অনুসারী আর শায়েখ ছিলেন হাম্বলী ফিকহের অনুসারী। তদুপরি শায়েখের যে সব ‘তাফাররুদাত’ বা ‘একক ভিন্নমত’ ছিলো তার সঙ্গে তারা একমত ছিলেন না। তদ্রূপ তার মতাবলম্বনকারীদের অনেকের মাঝে যে বাড়াবাড়ি ও কট্টরতা পাওয়া যায় তা তাদের মধ্যে ছিলো না। মোটকথা অনেক বিষয়ে শায়খ ও তার অনুসারীদের সাথে তাদের মতপার্থক্য ছিলো। যার কিছু মাওলানা মুহাম্মদ মনযূর নোমানী রহ. তার ‘শায়েখ মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব ও হিন্দুস্তান কে উলামায়ে হক’ শীর্ষক পুস্তিকায় উল্লেখ করেছেন। এই পুস্তিকাটি হিন্দুস্তান থেকে ‘শায়েখ মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব কে খেলাফ প্রপাগান্ডে আউর হিন্দুস্তানকে উলামায়ে হক পার উসকে আছারাত’ নামে ছেপেছে। এর আরবী তরজমা دعايات مكثفة ضد الشيخ محمد بن عبد الوهاب নামে ছেপেছে। (আরো দেখুন : হযরত তাকী উসমানী দামাত বারাকাতুহুমের ‘নুকুশে রফতে গাঁ’য় হযরত মাওলানা মুহাম্মাদ মনযূর নোমানী রাহ.-এর আলোচনা)

শায়েখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব নজদী রাহ.-এর সাথে সন্বন্ধ করে তাঁর আন্দোলন ও আন্দোলনের সাথে জড়িত লোকদের ‘ওহাবী’ বলা হত।

শায়েখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব নজদী রাহ. ১১১৫ হিজরী মোতাবেক ১৭০৩ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১২০৬ হিজরী মোতাবেক ১৭৯২ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর মৃত্যু হয় নজদের ‘দারইয়্যাহ’ নামক স্থানে। তাঁর আন্দোলনের সূচনা ১১৪৩ হিজরী মোতাবেক ১৭৩০ খ্রিস্টাব্দে।

আলে সাউদ (যারা তাঁর সমর্থক ও তাঁর আন্দোলনের সাথে একমত ছিলেন) হারামাইন শরীফাইনের কর্তৃত্ব লাভ করেন মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের মৃত্যুর অনেক পরে ১২১৮ হিজরী বা ১২২০ হিজরী সনে। তার কর্তৃত্ব ১২২৭ হিজরী পর্যন্ত কায়েম ছিল। ১২২৭ হিজরীতে তুরস্কের উসমানী খেলাফত নির্দেশে তাদেরকে হটিয়ে দেওয়া হয়। এর একশ বছরেরও অধিককাল পরে ১৩৪২ হিজরী বা ১৩৪৩ হিজরী মোতাবেক ১৯২৪ বা ১৯২৫ খ্রিস্টাব্দে আলে সাউদের তৎকালীন ব্যক্তিত্ব বাদশাহ আব্দুল আযীয বিন সাউদ নিজ বাহিনীর মাধ্যমে হেজাযে মুকাদ্দাসের তৎকালীন শাসক শরীফ হুসাইনকে হটিয়ে নিজের কর্তৃত্ব ও ক্ষমতা প্রতিষ্ঠা করেন। আর এভাবে দ্বিতীয়বার হারামাইন শরীফাইনে তাদের ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়।

দ্র. খাইরুদ্দীন যিরিকলী, আল আ‘লাম, খ. ৬ পৃ. ২৫৭; মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব খ. ৩ পৃ. ৯০; সাউদ বিন আব্দুল আযীয খ. ৪ পৃ. ১৯-২০; ইবনে সাউদ; মুহাম্মাদ ইবনুল হাসান আল হাজাভী, আল ফিকরুস সামী খ. ২, পৃ. ৪৪৮-৪৪৫; ফযলে রাসূল বাদায়ূনী, সাইফুল জাব্বার পৃ. ১৩-১৭; মাওলানা মুহাম্মাদ মনযুর নোমানী, শায়েখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব আওর হিন্দুস্তানকে উলামায়ে হক পৃ. ১৪-১৫, ৪০, ৮৭-৯০
শায়েখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব রাহ.-এর আন্দোলন ছিল মূলত তাওহীদ প্রচার, সুন্নতের প্রতিষ্ঠা এবং শিরক-বিদআতের মূলোৎপাটনের উদ্দেশ্যে। তবে কিছু শাখাগত বিষয়ে অন্যান্য আহলে ইলমের সাথে তাঁর মতানৈক্য ছিল। অন্যদিকে তাঁর আন্দোলনে নতুন যোগদানকারী কিছু লোকের মাধ্যমে কিছু বাড়াবাড়িও শুরু হয়েছিল। একে ছুতো বানিয়ে শিরক-বিদআত এবং রসম রেওয়াজের পৃষ্ঠপোষকরা বিশেষত কবর পূজা, তাজিয়া পূজার মতো শিরকী কর্মকাণ্ডের সমর্থক লোকেরা তাঁর বিরুদ্ধে ব্যাপক প্রোপাগাণ্ডা করতে থাকে যে, এরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শানে বেআদবী করে থাকে, এরা ওলী আওলিয়ার দুশমন, নিজেরা ছাড়া অন্য সকলকে কাফের ও হত্যাযোগ্য মনে করে, শাফাআতকে অস্বীকার করে এবং এরা সুন্নী না, ওহাবী। কেউ বলে, তাদের আন্দোলন কোনো দ্বীনী আন্দোলন নয় ওহাবী আন্দোলন, ইত্যাদি ইত্যাদি।

পার্শ্ববর্তী যেসকল রাজা বা গোত্রপতি শায়েখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের এই আন্দোলনে রাজনৈতিকভাবে ভীত ছিল; তারাও এইসব প্রোপাগাণ্ডায় মদদ দিতে থাকে এবং নিজস্ব উপায়-উপকরণ নিয়ে এই প্রোপাগাণ্ডায় শরীক হতে থাকে।
অতপর ১২২৭ হিজরীতে যখন আলে সাউদকে, যারা ছিল শায়েখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষক, হিজায থেকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয় তখন বিশেষভাবে এই হিজায ভূমিই শায়েখ ও তাঁর অনুসারীদের বিরুদ্ধে প্রোপাগাণ্ডার কেন্দ্রে পরিণত হয় এবং ওখান থেকে তাঁদের সম্পর্কে এমন সব কথাবার্তা প্রচার করা হয় যার প্রভাবে সাধারণ মুসলমান তাদের সম্পর্কে বিদ্বিষ্ট ও বীতশ্রদ্ধ হয়ে পড়ে। হিজাযের তৎকালীন বাসিন্দারা তো তাদের সম্পর্কে এমনই বিদ্বিষ্ট হয়ে পড়েন, যা ইহুদী-নাসারার প্রতিও তাদের মনে ছিল না। অগ্নিপূজারী ও মূর্তিপূজারীদের প্রতিও ছিল না।
যেহেতু হজ্বের উদ্দেশ্যে নানা দেশের হাজ্বী ছাহেবান হিজাযে একত্র হন তাই ঐ সময় হিজাযে তাদের বিরুদ্ধে মৌখিকভাবে বা লিখিত আকারে যা কিছু প্রসিদ্ধ ও প্রচারিত ছিল তা হাজ্বী সাহেবদের মাধ্যমে গোটা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়তে থাকে। এবং এসবের সাথে প্রত্যেক অঞ্চলের মাযারী ও ভিত্তিহীন রসম-রেওয়াজের অনুসারীদের তরফ থেকে নানা টিকা-টিপ্পনীও যোগ হতে থাকে।

এই ব্যাপক প্রচারণার ফলে গোটা পৃথিবীতে শায়েখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের আন্দোলন ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে একধরনের মারমুখী মানসিকতা বিরাজ করছিল। লোকমুখে তার আন্দোলন ‘ওয়াহাবিয়্যাত’ বা ‘ওয়াহাবী আন্দোলন’ নামে প্রসিদ্ধ হয়ে যায়। এই নামকরণের পেছনে বিরোধীদের উদ্দেশ্য ছিল এই অনুভূতি দেয়া, যেন তা এক নতুন ধর্ম বা নতুন শরীয়ত, ইসলামের সাথে যার কোনো সম্পর্ক নেই। এই ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা বরং শত্রুতামুখর পরিবেশের পূর্ণ সদ্ব্যবহার করেছে ইংরেজরা এবং প্রত্যেক অঞ্চলের, বিশেষত ভারত উপমহাদেশের বিদআতের পৃষ্ঠপোষক লোকজনেরা। ইসলামী বিশ্বের কোথাও কোনো দ্বীনী -ইসলাহী আন্দোলন শুরু হলে বিশেষত তাতে যদি রাজনীতি বা জিহাদের প্রসঙ্গ থাকে তবে তা ইংরেজদের চোখের বালি হয়ে দাঁড়ায় এবং তা সর্বদা তাদের বিদ্বিষ্ট মানসিকতার লক্ষ্যবস্তু হয়ে থাকে। এরা যেসব আলিম বা যে দ্বীনী হালকাকে নিজেদের বৈশ্বিক রাজনীতির পক্ষে হুমকি মনে করেছে তাদেরকেই ‘ওহাবী’ নামে মশহুর করে দিয়েছে।

শিরক-বিদআতের সমর্থক মৌলভী ও সাধারণ বিদআতীরা তাওহীদ ও সুন্নতের প্রচার এবং শিরক-বিদআত প্রতিরোধে পরিচালিত যে কোনো কর্মতৎপরতাকে ‘ওহাবী মতবাদ’ নামে এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদেরকে ‘ওহাবী’ নামে পরিচিত করে এবং তাদের ‘কাফের’ আখ্যা দিয়ে থাকে। এর উদ্দেশ্য, তাওহীদপন্থীরা যেন কবর পূজা, তাজিয়া পূজা, রসম-রেওয়াজ, অলীক কল্প-কাহিনী ইত্যাদি খ-নের পরিবর্তে এই আরোপিত অপবাদ খণ্ডনে ব্যস্ত হয়ে পড়েন আর এই সুযোগে শিরক ও বিদআতপন্থীরা তাদের উদ্দেশ্য হাসিলে সমর্থ হয়। শাহ ইসমাঈল শহীদ রাহ. ও শীর্ষস্থানীয় উলামায়ে দেওবন্দের বিষয়ে ওহাবী হওয়ার অপবাদ ইংরেজ ও বিদআতীদের পক্ষ থেকেই আরোপিত হয়েছে।

‘ওহাবী’ নামের এ ইতিহাস আরো বিস্তারিত জানার জন্য নিম্নোক্ত কিতাবসমূহ অধ্যয়ন করা যেতে পারে।

১. মাওলানা মুহাম্মাদ মনযুর নোমানী রাহ. রচিত ‘শায়েখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব আওর হিন্দুস্তান কে উলামায়ে হক’ পৃ. ৯-২৩, ৩০-৬৫

২. মাওলানা আবুল হাসান আলী নদভী রাহ. রচিত ‘তাহকীক ও ইনসাফ কি আদালত মে এক মযলুম মুসলিহ (সাইয়েদ আহমদ শহীদ) কা মুকাদ্দামা।

৩. মাওলানা মাসউদ আলী নদভী কৃত ‘মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব এক মযলুম ও বদনাম মুসলিহ’।

৪. শাইখুল ইসলাম মাওলানা হুসাইন আহমদ মাদানী কৃত ‘আশ-শিহাবুস ছাকিব’ ও ‘নকশে হায়াত’। শেষের কিতাব তিনটি অধ্যয়ন করতে হবে প্রথমোক্ত কিতাবটির আলোকে।

৫. মাওলানা সরফরায খান ছফদর কৃত ‘ইবারাতে আকাবির’ পৃ. ৪৬-৬১

৬. ড. আল্লামা খালেদ মাহমুদ রচিত ‘শাহ ইসমাইল শহীদ রাহ.’ পৃ. ৫৩-৫৫

৭. হাদিয়ে বাঙ্গাল হযরত মাওলানা কারামত আলী জৌনপুরী কৃত ‘মুকাশাফাতে রহমত’ পৃ. ১৫-২১ (যখীরায়ে কারামাত)

হযরত সাইয়েদ আহমদ শহীদ ও শাহ ইসমাঈল শহীদ রাহ.-এর অনুসারী মুজাহিদগণের সহযোগী ছাদেকপুরের উলামা ও তাদের মুজাহিদ সঙ্গীদের বিরুদ্ধে আজ থেকে অন্তত দেড়শ বছর আগে ইংরেজ হুকুমতের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রদ্রোহের যে মামলা হয়েছিল তা ‘ওহাবীদের মামলা’ নামেই প্রসিদ্ধি লাভ করে। ইংরেজ হুকুমত ও ইংরেজ লেখকরা এই জানবায মুজাহিদ এবং তাওহীদ ও সুন্নতের ঝাণ্ডাবাহী ব্যক্তিবর্গকে ‘ওহাবী’ নামেই উল্লেখ করে থাকে। -মাওলানা মুহাম্মাদ মনযুর নোমানী রাহ. কৃত ‘শায়েখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব নজদী’ পৃ. ৭৮, মাওলানা সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভী রাহ. কৃত ‘তাহকীক ও ইনসাফ কি আদালত মে ...’ পৃ. ৩৯

Address

Riyadh

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Quraan & Sunnah- Our Way To Jannah posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Place Of Worship

Send a message to Quraan & Sunnah- Our Way To Jannah:

Share