30/05/2026
বিদায় হজ্জে প্রায় ১ লক্ষ ২৪ হাজার সাহাবী উপস্থিত ছিলেন।
এই সময় অনেকেই প্রথমবারের মতো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দেখেন, তাঁর কথা শুনেন।
তিনি আরাফার ময়দানে, মসজিদে নামিরাহ'তে বিদায় হজ্জের ভাষণ দেন।
সেই যুগে তো কোনো মাইক ছিলো না।
মাইক ছাড়া ১ লক্ষ+ সাহাবী কীভাবে তাঁর ভাষণ শুনেন?
প্রথমত, এটা ছিলো একটা মুজিযা। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ভাষণ অনেক সাহাবী দূর থেকেও শুনতে পান।
দ্বিতীয়ত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সেই ময়দানে কয়েকজন সাহাবীকে এই দায়িত্ব দেন। তারমধ্যে একজন ছিলেন রাবিআহ ইবনে উমাইয়া ইবনে খালাফ রাদিয়াল্লাহু আনহু।
ওয়েইট এ মিনিট!
উমাইয়া ইবনে খালাফের ছেলে?
সেই উমাইয়া ইবনে খালাফ, যে কি-না বিলাল রাদিয়াল্লাহু আনহুকে মক্কায় অত্যাচার করতো? পিঠে গরম পাথর রেখে অত্যাচার করে বলতো ইসলাম ত্যাগ করতে?
হ্যাঁ, সেই উমাইয়া ইবনে খালাফ, যার বিরুদ্ধে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বদদু'আ করেন, বদর যুদ্ধে বিলাল রাদিয়াল্লাহু আনহু যাকে হত্যা করেন, সেই উমাইয়া ইবনে খালাফের ছেলে ছিলেন রাবিআহ ইবনে উমাইয়া রাদিয়াল্লাহু আনহু।
যারা বাবা চেয়েছিলো ইসলামের আলো নিভিয়ে দিতে, ইসলাম গ্রহণের কারণে যে বিলাল রাদিয়াল্লাহু আনহুকে অত্যাচার করেছিলো, তার ছেলে পালন করেন বিদায় হজ্জের 'মাইক' এর ভূমিকা!
আহাদুন আহাদ বলার কারণে বিলাল রাদিয়াল্লাহু আনহুকে যে অত্যাচার করে, তার ছেলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ হাজারো মানুষের কাছে পৌঁছে দেন!
আল্লাহু আকবার!
তথ্যসূত্রঃ
– সহীহ মুসলিমঃ ২৮৪০
লেখাঃ আরিফুল ইসলাম