23/06/2022
পরিবার নিয়ে আমেরিকা থাকেন এক ভাইয়ের সাথে ফোনে কথা হচ্ছিলো। সেখানের সিটিজেন।
সদ্য ছেলে সন্তানের বাবা হয়েছেন। নাম রেখেছেন "ওমর।"
সোসাইটির অনেকেই না করেছে এরকম নাম রাখতে। বলেছে, আমেরিকাতে এরকম নাম রাখলে স্কুল কলেজ সোসাইটিতে বুলিংয়ের শিকার হবে। হাসপাতাল, এয়ারপোর্ট এরকম অনেক যায়গায় বৈষম্যের শিকার হবে।
কিন্তু ভাই ওমরই রেখেছেন।
ফোনে আমাকে বললেন,
ওমর রদ্বিইয়াল্ল-হু 'আনহু আল্লাহর রাসূলের (সল্লাল্ল-হু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঘনিষ্ঠ মানুষ ছিলেন। ইসলামের একজন খলীফা। অবিস্মরণীয় শাসক। বীর সেনানী।
ওমর নাম রাখাতে দুনিয়াতে যা খুশি হোক, হাশরের ময়দানে আমার আল্লাহ্ যদি আমাকে 'ওমরের বাপ' বলে একটা ডাক দেয়। আমার আর কিছু লাগবেনা।
এই কথাটাতে দেখি আমার শরীরটা একটা শিহরণ দিয়ে চোখে একটু পানি চলে আসছে।
সেদিন অপরিচিত একজনের সাথে দেখা করব। ভাবলাম কিছু হাদিয়া নিয়ে যাব। পকেট জায়নামাজ, ভালো আতর, ইসলামী বই এগুলো সুন্দর হাদিয়া।
কিন্তু ওনি মুসলিম কিনা তা আমি ধরতে পারছিলাম না।
কারণ ওনার এড্রেসে নাম দেয়া হলো 'মিথুন।'
পরে যিনি এড্রেস দিলেন তাকে জিজ্ঞেস করলাম, ওনিও দোটানায় পড়ে গেলেন। বলতে পারলেন না।
পরে বেশ কয়েকটা অপশন ট্রাই করার পর জানলাম ওনি মুসলিম।
পিতার উপর সন্তানের সর্বপ্রথম হক্ব হচ্ছে তার জন্য সুন্দর পরিচায়ক ভালো অর্থবোধক এবং তাৎপর্যপূর্ণ নাম রাখা।
হাদীসে বর্ণিত হয়েছে,
"আল্লাহর কাছে সর্বাধিক প্রিয় নাম হচ্ছে আব্দুল্লাহ্ এবং আব্দুর রহমান।"
গত শতাব্দীতেও আবদ্ যোগ করে আল্লাহর কোন একটা গুণবাচক নাম যোগ করে প্রচুর নাম রাখা হতো। যেমন-
আব্দুলাহ্, আব্দুর রহিম, আব্দুল করিম, আব্দুল গফফার, আব্দুস সামাদ, আব্দুল ক্বুদ্দুস ইত্যাদি।
যা আমাদের বাবা চাচা দাদাদের মধ্যে দেখা যায়।
কত সুন্দর নাম। রব্বের সাথে ব্যক্তির কি সম্পর্ক সেটা তার নামের মধ্যেই চলে আসে।
কিন্তু আমাদের প্রজন্মতে এই নামগুলো এতটাই কমে যাচ্ছে যে,
হয়তো এই শতাব্দীর শেষের দিকে এই নামগুলো বিলুপ্ত হয়ে যাবে।
হাশরের ময়দানে মানুষ বাঁচার জন্য যে কোন অপশন ট্রাই করবে। সাগরে ডুবতে থাকা ব্যক্তি যেমন ছোট একটা কাঠখন্ড পেলেও সেটাকে আঁকড়ে ধরে, তেমনি হাশরের ময়দানে মানুষ কোথাও একটু সুযোগ পেলেই সেটাকে আঁকড়ে ধরে বাঁচতে চাইবে।
সেদিন যদি কারো নাম হয় আব্দুর রহিম, আর তার যদি জাহান্নামের ফয়সালা হয়; আর সে রব্বকে বলে, আমি তো আব্দুর রহিম!
পরম দয়ালুর বান্দা। আমাকে দয়া করুন।
আমি তো আব্দুল গাফফার!
ক্ষমাশীলের বান্দা। আমাকে কেন ক্ষমা করা হবেনা?
স্বপ্ন পদ্মা সেতু!
নামগুলো প্রধানমন্ত্রীর পছন্দ হয়ে যাওয়ায় যদি সোনার চেইন পাওয়া যায়, তাহলে কোন নাম আল্লাহর পছন্দ হলে তাকে আল্লাহ্ পাক কি পরিমাণ দিতে পারে, ভাবনায় আছে কারো?
নাম রাখার ক্ষেত্রে সর্বাগ্রে আসে
আল্লাহর প্রিয় নাম আব্দুল্লাহ্ আর আব্দুর রহমান।
তারপর 'আবদ' যোগ করে আল্লাহর কোন গুণবাচক নাম যোগ করে নাম রাখা।
যেমন আব্দুর রহিম, আব্দুর রাযযাক আব্দুল ক্বাদির ইত্যাদি।
তারপর নবী রাসূলগণের নামে নাম রাখা। কারণ তারা দুনিয়াতে আল্লাহর মনোনীত ব্যক্তিবর্গ।
তারপর পূণ্যবাণ ব্যক্তিবর্গের নামে নাম রাখা। এক্ষেত্রে সবার আগে আসে আল্লাহর রাসূলের সঙ্গী যারা ছিলেন তারা। সাহাবায়ে কিরাম রদ্বিইয়াল্ল-হু 'আনহুম।
সল্লাল্ল-হু আলাইহি ওয়াসাল্লাম!
তারপর প্রত্যেক ভালো এবং সুন্দর অর্থবোধক নাম।
আজকাল আমাদের সমাজে নাম রাখার ক্ষেত্রে এগুলো ফলোই করা হয়না।
মন্টু, মিন্টু, শান্ত, জয়, মিথুন, আরিয়ান, আকাশ, প্রিন্স, বাদশা, কোকো, নীল, সবুজ, রাজন, স্বপ্ন, বৃষ্টি, মিষ্টি, নদী, জনি, কাব্য, কবিতা, ইলা, মিলা, মিতু, ইতি, পুতুল, স্বপ্না, পদ্মা, মেঘনা, যমুনা, সেতু আরও কত কি।
মুসলিমদের যেকোনো চেতনায় চেতে যাওয়া ঠিকনা। কারণ দুনিয়ার চেতনা ক্ষণিক পর নেতিয়ে যাবে।
চেতনা হবে আখিরাত কেন্দ্রীক।যেটা চিরস্থায়ী।
নাম ব্যক্তির অনেক কিছুর উপর প্রভাব ফেলে।
মন্দ, অসুন্দর, কটু নাম দেখলেই
রাসূলুল্লাহ্ সল্লাল্ল-হু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাৎক্ষণাত নাম পরিবর্তন করে দিতেন।
আজ রাসূলুল্লাহ্ থাকলে কি হতো?
আর আমাদের প্রত্যেকের নাম নিয়ে ভাবা দরকার।
যদি রাসূলুল্লাহ্ থাকতেন তাহলে আমি এই নাম নিয়ে ওনার কাছে গেলে ওনি কতটা পছন্দ করতেন?
পরিচয়পর্বে আমরা কি স্বাচ্ছন্দ্যে সাবলীলভাবে নামটা বলতে পারতাম কিনা?
সল্লাল্ল-হু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম!
লিখা: মাহ্দী ফয়সাল