দোয়া ও তদবীর রুকইয়া সেন্টার - The Islamic Treatment.

  • Home
  • Iraq
  • Karbala'
  • দোয়া ও তদবীর রুকইয়া সেন্টার - The Islamic Treatment.

দোয়া ও তদবীর রুকইয়া সেন্টার - The Islamic Treatment. আল কুরআন ও আল হাদিসের আলোকে নারী ও পুরুষদের যাবতীয় সমস্যার রুকইয়া করা ও তদবির দেয়া হয়।

আল কুরআন ও আল হাদিসের আলোকে নারী ও পুরুষদের যাবতীয় সমস্যা সমাধানের জন্য রুকইয়া করে ওজিফা ও তদবির দেয়া হয়। বিশেষ করে যে সকল নারী ও বৃদ্ধ মহিলারা বিভিন্ন দুরারোগ্য রোগে ভুগছেন, হাজারো ডাক্তারী,কবিরাজি, বনাজি, চিকিৎসায় কোন ফল না পেয়ে নিরাশ হচ্ছেন শুধুমাত্র তাদের জন্যই এই পেইজটি তৈরি করা হয়েছে। আমরা ক্বুরআন ও হাদীস শারীফে বর্ণিত আয়াত, দূ‘য়া এর মাধ্যমে স্বল্প হাদিয়া নিয়ে সকল ধরণের রোগ ও সমস্যার সমাধানে

র চেষ্টা করি, ইনশাআল্লাহ্‌ মহান আল্লাহ্‌'র ইচ্ছায় আপনাদের রোগমুক্তি হবে।
বিঃদ্রঃ হাদিয়ার কিছু টাকা দিয়ে রুকইয়ার প্রয়োজনীয় সামগ্রী ক্রয় করা হয় এবং বাকি টাকা পবিত্র গিয়ারভী শারীফ এর মাহফিলে ইয়াতিম ও মিসকিনদের দান করে দেয়া হয়।

💖🌹💖🌹💖🌹 بِسمِ اللَّهِ الرَّحمٰنِ الرَّحيم 🌹💖🌹💖🌹💖 💕আস্সালামু আলাইকুম, আজ ২৭শে রমজান ১৪৪৫ হিজরি ৬ই এপ্রিল ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ ...
06/04/2024

💖🌹💖🌹💖🌹 بِسمِ اللَّهِ الرَّحمٰنِ الرَّحيم 🌹💖🌹💖🌹💖
💕আস্সালামু আলাইকুম, আজ ২৭শে রমজান ১৪৪৫ হিজরি ৬ই এপ্রিল ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ পবিত্র ❝লাইলাতুল ক্বদর/শবে ক্বদর❞ উপলক্ষে সকল আলেম, উলামা, মুফতি, ইসলামিক স্কলার ও মু’মিন জ্বীন-ইনসান ভাই-বোনদেরকে জানাই আন্তরিক মুবারকবাদ।💞

❤❝হে মহান আল্লাহ্ {ﷻ}! আপনি প্রিয় রাসূলুল্লাহ্ {ﷺ} উনার ওয়াসিলায় এবং পবিত্র লাইলাতুল ক্বদর এর ওয়াসিলায় মুসলিম উম্মাহ্ এর গুনাহ সমূহ ক্ষমা করে দিন, বেশি বেশি নেক আমল করার তাওফিক দান করুন এবং সকলে জায়িয দূ‘আ সমূহ ক্ববুল করুন, আল্লাহুম্মা আমিন।❞❤

#পবিত্র #মাহে #রমজান #লাইলাতুল #শবে #কদর #মুবারক  🇸🇦🇧🇩

ছবিটা দেখা মাত্র আপনার মাথায় কী আসবে? একজন সাধারণ মানুষ, যার ধর্মীয় জ্ঞান সীমাবদ্ধ কিন্তু অনুভূতি বেশি। সে কী ভাববে? এমন...
08/02/2024

ছবিটা দেখা মাত্র আপনার মাথায় কী আসবে? একজন সাধারণ মানুষ, যার ধর্মীয় জ্ঞান সীমাবদ্ধ কিন্তু অনুভূতি বেশি। সে কী ভাববে?

এমন কি শুধু শবে মেরাজ বা বরাতেই হয়? ইদের নামাজ কিংবা জুমার উদাহরণ টানা হয় নাই কেন? বাদ দেন। দৈনন্দিন নামাজের ক্ষেত্রেও মাগরিবের তুলনায় অন্য ওয়াক্তগুলোতে কাতার ফাঁকা থাকে। সেগুলো তো বলেন নাই! প্রশ্নগুলো ভাবায়? গাত্রদাহ কি কেবল মেরাজ আর বরাতেই হয়?

পূর্ণাঙ্গ আনুগত্যের জন্য অনুভূতির দরকার হয়। আমার রসুল (ﷺ)-কে আমি ভালোবাসি কেন জানেন? আমার অনুভূতি আছে। এই অনুভূতি একদিন আমাকে পূর্ণাঙ্গ আনুগত্যের পথ দেখাবে। অনুভূতিহীন আনুগত্য কোনো একদিন ছুটে যাবেই।

যুক্তির ফাঁদে পরে খোদার বিধান অস্বীকার করিয়েন না। কুযুক্তি দিয়ে আযাযিল শয়তান হয়েছে। আর খোদার রহমতের সহিত থাকা যুক্তিতে নবী হযরত ইবরাহিম (আঃ) নমরুদকে পরাস্থ করেছেন।

💙 শবে মিরাজ মুবারক 💙

#লাইলাতুল #শবে #মিরাজ #মুবারক
🇸🇦🇧🇩


⚜️⚜️⚜️⚜️⚜️⚜️ بِسمِ اللَّهِ الرَّحمٰنِ الرَّحيم ⚜️⚜️⚜️⚜️⚜️⚜️ ⚜️ কারবালার সঠিক ইতিহাস ⚜️ ⚜️ ধারাবাহিক পর্ব : ০৫ ⚜️ ⚜️ হিজর...
03/08/2023

⚜️⚜️⚜️⚜️⚜️⚜️ بِسمِ اللَّهِ الرَّحمٰنِ الرَّحيم ⚜️⚜️⚜️⚜️⚜️⚜️
⚜️ কারবালার সঠিক ইতিহাস ⚜️
⚜️ ধারাবাহিক পর্ব : ০৫ ⚜️
⚜️ হিজরি : ১৪৪৫ ⚜️

⚜️ কুফাবাসীর চিঠি ও প্রতিনিধি :

কূফা ছিল বিশিষ্ট সাহাবী ইসলামী বিশ্বের ৪র্থ খলীফা সাইয়িদুনা হযরত আলী {رَضِيَ ٱللَّٰهُ عَنْهُ‎}-এর অনুরক্ত ও ভক্তদের প্রাণকেন্দ্র। কারণ তিনি নিজ খিলাফাতকালে মাদীনা মুনাওয়ারাহ্ থেকে রাজধানী স্থানান্তরিত করে কূফায় প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। কাজেই তার সকল ভক্ত প্রেমিক সেখানেই বসতি গড়ে ছিলেন। ৬ষ্ঠ খলীফা সাইয়িদুনা আমীরে মুআবিয়া {رَضِيَ ٱللَّٰهُ عَنْهُ‎}-এর শাসনামলেও হযরত হুসাইন {رَضِيَ ٱللَّٰهُ عَنْهُ‎}-কে কূফায় আসার আমন্ত্রণ জানিয়ে আবেদন পাঠানো হয়েছিল। এখন যেইমাত্র কূফাবাসী হযরত মুআবিয়া {رَضِيَ ٱللَّٰهُ عَنْهُ‎}-এর ইন্তেকাল এবং হুসাইন, আব্দুল্লাহ ইবনে জুবাইর ও আব্দুলাহ্ ইবনে উমার {رَضِيَ ٱللَّٰهُ عَنْهُ‎} ব্যক্তিত্রয়ের ইয়াযিদ {লা’নাতুল্লাহ্}-এর হাতে বাইআত গ্রহণের অস্বীকৃতির সংবাদ জানতে পারল, তখন কূফার সকল অনুরক্ত সুলাইমান ইবনে ছারদ আল খোযায়ীর ঘরে একত্রিত হয়ে যায়।

মুহাম্মাদ ইবনে বিশর হামদানী বর্ণনা করেন,—“সকল শিয়া সুলাইমান বিন ছারদ এর ঘরে সমবেত হয়ে গেল এবং আমীরে মুআবিয়ার ইন্তেকালের কথা আলোচনা করে সবাই আল্লাহর কৃতজ্ঞতা জানাল (না‘উযুবিল্লাহ্)। অতঃপর সুলাইমান সবার উদ্দেশ্যে বলল,—“মুআবিয়ার অবসান হয়েছে, আর ইমাম হুসাইন ইয়াযিদের বাইআত প্রত্যাখ্যান করে মাক্কাহ্ শারীফে চলে গিয়েছেন। আর তোমরা তো ইমাম হুসাইন ও তাঁর আব্বাজানের শিয়া (ভক্ত)। তোমরা ভালভাবে জেনে নাও, যদি তোমরা তাঁর দুশমনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে সক্ষম হও, তবে তাঁর কাছে লিখে দাও। যদি নিজেদের দূর্বলতা সাহসের অভাব বোধ কর, তবে তাঁকে ধোঁকা দিও না।”
সবাই সমস্বরে বলল,—“না আমরা তাঁকে ধোঁকা দিব না; আমরা তাঁর শত্রুদের বিরুদ্ধে লড়ব এবং তাঁর জন্য নিজেদের জীবন উৎসর্গ করব।”
সুলাইমান বলল,—“তবে লিখ!”
তখন তারা তাঁর উদ্দেশ্যে চিঠি লিখে।” [রেফারন্স : ত্বাবরী ৬/১৯৭।]

📌 শিয়া মাজহাবের উল্লেখযোগ্য কিতাব “আলাউল উয়ূন” (কৃত মোল্লা বাকের মজলিসী ইস্পাহানী)-এ রয়েছে,—“কূফাবাসীদের কাছে যখন এ সংবাদ পৌঁছে, তখন কূফার সকল শিয়া সুলাইমান বিন ছারদ খোজারীর ঘরে সমবেত হলো, হামদ ও সানা (আল্লাহর প্রশংসা) আদায় করল। অতঃপর মুআবিয়ার তিরোধান ইয়াযিদের বাইআত প্রসংগে কথাবার্তা হয়। সুলাইমান বললেন,—“যখন মুআবিয়া মারা গেছে, (মাআযাল্লাহ্! শিয়াদের ভাষ্য হুবহু রাখতেই এরূপ অনুবাদ করা হলো। ‘আহলে সুন্নাত’ অর্থাৎ আমাদের ভাষা এরূপ নয়।)' ইমাম হুসাইন ইয়াযিদের বাইআতকে প্রত্যাখ্যাত করে মাক্কায় চলে গেছেন। আর তোমরা তাঁর এবং বুযুর্গ পিতার ভক্ত প্রেমিক, যদি মনে করো, তোমরা তাঁর সাহায্য করতে পারবে এবং জানমাল দিয়ে তাঁর সহযোগিতায় প্রচেষ্টা চালাতে পারবে, একটা চিঠি লিখে তাঁকে এখানে আমন্ত্রণ জানাও। আর যদি তাঁর সাহায্যের ব্যাপারে অলসতা ও দুর্বলতা অনুভব করো, জেনে রাখ, শুভাকাঙ্খীর দায়িত্ব ও আনুগত্য যদি সম্পাদন করতে না পারো, তবে তাকে ধ্বংসের মাঝে ঠেলে দিওনা।”
শিয়ারা বলল,—“যখন তিনি নুরানী পদার্পনে এ শহরকে ধন্য করবেন, আমরা সবাই পরিশুদ্ধ চিত্তে তাঁর খিদমাতে উপস্থিত হয়ে বাইআত গ্রহণ করব, এবং তাঁর সাহায্যে নিবেদিতপ্রাণ হয়ে শত্রুর আক্রমণ থেকে তাঁকে হিফাজত করার জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাব।” [শিয়াদের কিতাব থেকে রেফারেন্স : আলাউল উয়ূন (অনূদিত) ২ঃ১৩৮, শিয়া জেনারেল বুক এজেপি, শিয়া মহল্লা, লাহোর কর্তৃক প্রকাশিত।]

👉 প্রমাণিত হল :- হযরত ইমাম হুসাইন {رَضِيَ ٱللَّٰهُ عَنْهُ‎}-কে কূফায় আহবানকারী সকলে শিয়াই ছিল। বস্তুত চিঠিপত্র ও প্রস্তাবকের লাইন পড়ে গেল। এমনকি মোল্লা বাকের মজলিসীর বর্ণনা মতে শিয়াদের পক্ষ থেকে বার হাজার চিঠি হযরত হুসাইন {رَضِيَ ٱللَّٰهُ عَنْهُ‎}-এর কাছে পৌঁছে। বিষয় বস্তুর সারাংশ হচ্ছে,—“আপনি অবিলম্বেই কূফায় তাশরীফ আনুন, (আগমন করুন) খিলাফাতের মসনদ আপনার জন্যই খালি রয়ে গেছে। শিয়া মু’মিনদের ধন-দৌলত এবং তাদের গর্দানসমূহ আপনার জন্য প্রস্তুত। এখানকার সকলেই আপনার অপেক্ষায় এবং আপনার দর্শন লাভে আগ্রহী। আপনি ছাড়া আমাদের আর কোনো ইমাম ও পথনির্দেশক নাই। আপনার সাহায্যের জন্য এখানে সৈন্য সামন্ত তৈরী এবং উপস্থিত। নু’মান ইবনে বাশীর কূফার গর্ভনর রাজপ্রাসাদে অবস্থান করছেন। আমরা জুম‘আ কিংবা ঈদের জামাতেও যাই না, যখন আপনি শুভাগমন করবেন, তখন আমরা তাদেরকে কূফা থেকে বের করে দেব।” [শিয়াদের কিতাব থেকে রেফারেন্স : জালাউল উয়ূন, ১৩৯/২]

📌 শেষ চিঠি আসার পর হযরত ইমাম হুসাইন {رَضِيَ ٱللَّٰهُ عَنْهُ‎} তাদের প্রতি উত্তর লিখেন :- “বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম— এ চিঠি হুসাইন ইবনে আলীর পক্ষ থেকে। কূফাবাসী ভক্ত মু’মিনদের প্রতি লিখিত। অনেক দূত এবং চিঠিপত্র আসার পর যে চিঠি আপনারা হানী ও সায়িদ এর হাতে প্রেরণ করেছেন, তা আমি পেয়েছি। আপনাদের সবগুলো চিঠি আমার কাছে এসে পৌঁছেছে। সব চিঠিরই বিষয় সম্পর্কে আমি জানলাম। আপনারা প্রায় সব চিঠিতে আমাকে লিখেছেন আমাদের কোন ইমাম নেই, আপনি অতি সত্তর আমাদের মাঝে তাশরীফ আনুন। আপনার বদৌলতে আল্লাহ্ আমাদের সঠিক পথ দেখাবেন। এখানে স্মর্তব্য যে, আমি কার্যতঃ আপনাদের কাছে আমারই চাচাতো ভাই নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিত্ব জনাব মুসলিম ইবনে আকীলকে পাঠাচ্ছি। মুসলিম যদি আমাকে জানান যে আপনারা যা কিছু লিখেছেন, তা সর্বজন শ্রদ্ধেয় চিন্তাশীল, জানী-গুনি এবং এলাকার গন্যমান্য বুযূর্গগণের পরামর্শক্রমেই লিখেছেন, তখন খুব শীঘ্রই আমি আপনাদের কাছে চলে আসব, ইনশাআল্লাহ্। আমি মূল্যবান এ জীবনের শপথ করেই বলছি, সত্যিকার ইমামের বৈশিষ্ট্য হল, তিনি মানুষকে আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী নির্দেশনা দেন, ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করেন, পবিত্র শারী‘আতের বাইরে একটি কদমও দেন না, আর মানুষকে সঠিক দ্বীনের উপর প্রতিষ্ঠিত রাখেন। “সালাম”।”-[রেফারেন্স : জালাউল উয়ূন, ১৪০/২।]

হযরত ইমাম হুসাইন {رَضِيَ ٱللَّٰهُ عَنْهُ‎} যখন আহলে কূফার (কূফাবাসীর) চিঠি ও দূতপ্রেরণ থেকে তাদের দ্বীনি জযবা ও মুহাব্বাত, জানমাল উৎসর্গ করার ইচ্ছা এবং কূফায় তাঁর আগমনকে স্বাগত জানাবার প্রবল বাসনা অনুভব করলেন, তখন সিদ্ধান্ত নিলেন যে, প্রথমতঃ তাঁর চাচাত ভাই সাইয়িদুনা হযরত মুসলিম ইবনে আকীল {رَضِيَ ٱللَّٰهُ عَنْهُ‎}-কে অবস্থা পর্যবেক্ষনের জন্য পাঠানো উচিৎ।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তিনি হযরত মুসলিম ইবনে আকীল {رَضِيَ ٱللَّٰهُ عَنْهُ‎}-কে একটি চিঠি দিলেন, যা তিনি কূফাবাসীর বরাবরে লিখেছিলেন। আর বললেন—“আপনি কূফায় গিয়ে সঠিক উপায়ে নিজেই সরেজমিনে অবস্থা ও পরিস্থিতির যথাযথ পর্যবেক্ষন করবেন এবং আমাকে অবহিত করবেন। পরিস্থিতি অনুকূলে হলে আমিও চলে আসব আর যদি পরিস্থিতি বিরূপ হয় তবে আপনি ফিরে আসবেন।”

📍 সদরুল আফায়িল হযরত মাওলানা সাইয়িদ মুহাম্মাদ নাঈমউদ্দীন সাহেব মুরাদাবাদী {رحمة الله عليه} বর্ণনা করেন,—“যদিও ইমাম হুসাইন {رَضِيَ ٱللَّٰهُ عَنْهُ‎}-এর শাহাদাতের ভবিষ্যৎবাণী সুপ্রসিদ্ধ ছিল এবং কূফাবাসীর বিশ্বাসঘাতকতার কথা ছিল পূর্ব অভিজ্ঞতালব্ধ; কিন্তু ইয়াযিদ যখন বাদশাহ্ হয়ে বসলো এবং তার হুকুমত ও রাজত্ব দ্বীন-ধর্মের জন্য ক্ষতিকর হয়ে দেখা দিল, এ কারণেই তার বাইআত নাজায়িয (অবৈধ) ছিল, আর সে (ইয়াযিদ) বিভিন্ন রকম কলাকৌশল নানান বাহানায় এটাই চাচ্ছিল যে, লোকেরা তার আনুগত্য স্বীকার করুক, এরূপ পরিস্থিতিতে কূফাবাসীদের ইয়াযিদের বাইআত থেকে নিবৃত্ত করে ইমাম হুসাইন {رَضِيَ ٱللَّٰهُ عَنْهُ‎}-এর বাইআত গ্রহণ করানো দ্বীন ও মিল্লাতের অস্তিত্ব রক্ষার্থে ইমাম হুসাইন {رَضِيَ ٱللَّٰهُ عَنْهُ‎}-এর উপর ফরজ হয়ে দাঁড়িয়ে ছিল। যাতে তাদের একান্ত ফরিয়াদ ও আবেদন প্রত্যাখ্যাত না হয়।
যখন কোনো সম্প্রদায় ‘জালিম’ (অত্যাচারী) ও ‘ফাসিক’ (দূরাচার) এর বাইআত (বশ্যতাগ্রহণ) করতে সম্মত না হয় এবং যোগ্যতাসম্পন্ন সঠিক পাত্রে বাইআত নিতে দরখাস্ত করে এ অবস্থায় যদি তিনি ঐ দাবী মনজুর না করেন, তবে তার অর্থই দাঁড়ায় যে, তিনি ঐ সম্প্রদায়কে ঐ অত্যাচারীরই হাতে ন্যস্ত করতে চান। ইমাম হুসাইন {رَضِيَ ٱللَّٰهُ عَنْهُ‎} যদি ঐসময় কূফাবাসীর আমন্ত্রণ অগ্রাহ্য করতেন, তবে আল্লাহ্ {سُبْحَانَهُ وَتَعَالَىٰ‎}-এর দরবারে কূফাবাসীর ঐ দাবীর প্রসঙ্গে ইমাম হুসাইন {رَضِيَ ٱللَّٰهُ عَنْهُ‎}-এর পক্ষ থেকে কী জবাব হতো? অর্থাৎ- (কূফাবাসী চিঠিতে লিখেছিল, তিনি না এলে কাল হাশরের ময়দানে তারা আল্লাহ্ {سُبْحَانَهُ وَتَعَالَىٰ‎}-এর কাছে বিচার চাইবে) আমরা তো সর্বাত্মক চেষ্টা করেছি, কিন্তু ইমাম হুসাইন {رَضِيَ ٱللَّٰهُ عَنْهُ‎} বাইআত করানোর জন্য রাজী হননি এবং এ কারণেই ইয়াযিদের জুলুম নিপীড়নে নিরুপায় হয়ে আমাদেরকে তার হাতে বাইআত হতে হয়। যদি ইমাম হুসাইন {رَضِيَ ٱللَّٰهُ عَنْهُ‎} হাত বাড়াতেন, তবে আমরা তাঁর জন্য জীবন দিতেও প্রস্তুত ছিলাম।”
ব্যাপারটি এমন নাজুক পরিস্থিতির উদ্ভব ঘটিয়েছিল যে তাদের ডাকে সাড়া না দিয়ে ইমাম হুসাইন {رَضِيَ ٱللَّٰهُ عَنْهُ‎}-এর গত্যন্তর ছিল না। যদিও শীর্ষস্থানীয় সাহাবীদের মধ্যে হযরত ইবনে আব্বাস, হযরত ইবনে উমার, হযরত জাবির এবং হযরত আবু ওয়াকিদ লাইসী {رَضِيَ ٱللَّٰهُ عَنْهُ‎} প্রমুখ ইমাম হুসাইন {رَضِيَ ٱللَّٰهُ عَنْهُ‎}-এর সিদ্ধান্তের সাথে একমত ছিলেন না এবং কূফাবাসীর ওয়াদা অঙ্গীকার সম্পর্কে তাদের আস্থা ছিল না। হযরত ইমাম হুসাইন {رَضِيَ ٱللَّٰهُ عَنْهُ‎}-এর প্রতি মুহাব্বাত, তাঁর শহীদ হওয়ার কথার প্রসিদ্ধি তাঁদের মনে আশংকার জন্ম দিচ্ছিল। কেননা এটা বিশ্বাস করারও কোনো কারণ ছিল না যে, শাহাদাতের এটাই সময় এবং এ সফরেই ঐ মুহূর্ত সামনে এসে দাঁড়াবে।
হযরত ইমাম হুসাইন {رَضِيَ ٱللَّٰهُ عَنْهُ‎}-এর সামনে বিষয়টি এরূপ উপস্থিত হয়েছিল যে, তাদের দাবীকে অগ্রাহ্য করার মতো ইসলামী শার‘য়ী ওজর কী হতে পারে? একদিকে এমন সম্মানিত সাহাবায়ে কিরাম {رَضِيَ ٱللَّٰهُ عَنْهُ‎}-এর পীড়াপীড়িকে গুরুত্ব দেয়া, অপর দিকে কূফাবাসীর আবেদন ফেরানোর মতো শারী‘আত সম্মত কোনো অপারগতা খুঁজে না পাওয়া ইমাম হুসাইন {رَضِيَ ٱللَّٰهُ عَنْهُ‎}-এর জন্য জটিল বিষয় ছিল। এমন জটিল সমস্যা সমাধানের জন্য একমাত্র উপায় যেটা তিনি পেলেন, সেটা হলো হযরত মুসলিম {رَضِيَ ٱللَّٰهُ عَنْهُ‎}-কে প্রথমে পাঠানো, যদি কূফাবাসী অঙ্গীকার ভঙ্গ কিংবা বিশ্বাসঘাতকতা প্রকাশ করে, তবে তো শার‘য়ী ওজর পাওয়া গেল, যাতে সেখানে যাওয়া থেকে নিষ্কৃতি পাওয়া যায়। তবে সাহাবায়ে কিরাম {رَضِيَ ٱللَّٰهُ عَنْهُ‎}-কে কোনো না কোনো সান্তনা দেওয়া যাবে। [রেফারেন্স : সাওয়ানেহে কারবালা, পৃষ্ঠা নং : ৫২।]

প্রতিনিধি স্বরূপ তাকে বেছে নিলেন আজ ইমাম,
পাঠিয়ে দিলেন কূফাবাসীর নামে লিখে চিঠি ও খাম।
তোমাদেরই দাবীর মুখে পাঠিয়ে তাঁকে এই দিলাম,
‘সাহায্য’ ও ‘রক্ষা’ পূরণ করো মনোষ্কাম।
চিঠি নিয়ে মুসলিম আজ ছাড়েন সে পাক মাক্কাহ্ধাম,
কূফার পথে চলেন তিনি, মুখে নিয়ে আল্লাহর নাম।
করে না তারা আহলে বাইতে পাকের অনুসরণ,
ইশক্ব ও প্রেমের দাবী করে তবু মানে না অনুগমন।

🔶 চলবে...........

🔶 চতুর্থ পর্ব পড়ুন : https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=750673850192045&id=100057483106668&mibextid=Nif5oz

#পবিত্র #মুহাররম #মাস #কারবালা #এর #সঠিক #ইতিহাস

⚜️⚜️⚜️⚜️⚜️⚜️ بِسمِ اللَّهِ الرَّحمٰنِ الرَّحيم ⚜️⚜️⚜️⚜️⚜️⚜️ 🌹আস্সালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ, আজ ১০ই মুহাররম ১৪৪৫ হিজর...
28/07/2023

⚜️⚜️⚜️⚜️⚜️⚜️ بِسمِ اللَّهِ الرَّحمٰنِ الرَّحيم ⚜️⚜️⚜️⚜️⚜️⚜️
🌹আস্সালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ, আজ ১০ই মুহাররম ১৪৪৫ হিজরী পবিত্র আশুরার রজনী। আশুরা মানে দশম। অর্থাৎ হিজরী সনের প্রথম মাস মুহররমের দশম দিন আশুরা দিবস হিসেবে পরিচিত, সম্মানিত এবং আলোচিত। কিন্তু লক্ষনণীয় ভাবে ঠিক এই একই দিনে কারবালার ঘটনাও সংঘটিত হয়। ফলে আশুরা আর কারবালার ট্রাজেডি একাকার হয়ে সমগ্র মুসলিম জাতির কাছে আশুরা চিরস্মরণীয় এবং চির শোকের দিন হিসেবে পরিগণিত হয়ে আসছে। হাদীস শারীফে চান্দ্রবর্ষের ১২ মাসের মধ্যে মুহররম মাসকে “শাহরুল্লাহ” অর্থাৎ আল্লাহর মাস বলে উল্লেখ করা হয়েছে। পবিত্র ক্বুরআন মাজীদে মুহররম মাসকে অতি সম্মানিত মাস বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

🔶 মহান আল্লাহ্ তা‘য়ালা বলেন,—“নিশ্চয়ই আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টির দিন থেকেই আল্লাহর বিধানে মাস গণনায় মাস ১২টি, তন্মধ্যে চারটি মাস নিষিদ্ধ মাস, এটিই সুপ্রতিষ্ঠিত বিধান।-[সুরাহ্ আত তাওবাহ, আয়াত নং : ৩৬] এই আয়াতে ‘আরবায়াতুন হুরুম’ মানে অতি সম্মানিত ও মর্যাদাপূর্ণ চার মাস বোঝানো হয়েছে। এই মাসগুলো হলো—জিলকদ, জিলহজ, মহররম ও রজব। এই চার মাসের মর্যাদা ও মাহাত্ম্যের কারণে জাহিলিয়াত যুগে কুরাইশগণও তখন যুদ্ধবিগ্রহ থেকে বিরত থাকত। ইসলামী আইন বা শরীয়ত মতে, এই মাসে যুদ্ধবিগ্রহ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। শত্রু-মিত্র নির্বিশেষে সবাইকে এই চার মাসের মর্যাদা রক্ষা করে যুদ্ধ-কলহ থেকে দূরে থাকতে হবে।

🔶 মুহাররম মাসকে আল্লাহ পাকের মাস বলে উল্লেখ করা হয়েছে একটি হাদিসে। এ মাস আল্লাহর মাস হবার পেছনে বেশ রহস্য লুকিয়ে রয়েছে। রাসূলুল্লাহ্ {ﷺ} বলেন,—“রমযান মাসের পর রোযা রাখার সর্বোত্তম মাস হলো আল্লাহর মাস মুহাররম আর ফরয নামাযের পর সর্বোত্তম নামায হলো রাত্রিকালীন নামায।”-[রেফারেন্স : মুসলিম - ২৮১২]

🌹বিশিষ্ট সাহাবী সাইয়িদুনা হযরত আবদুল্লাহ বিন আব্বাস {رَضِيَ ٱللَّٰهُ عَنْهُ‎} থেকে বর্ণিত- তিনি বলেন,—“নাবী কারীম {ﷺ} মাদীনায় আগমন করে দেখতে পেলেন ইহুদিরা আশুরার দিন রোযা পালন করছে। রাসূলুল্লাহ্ {ﷺ} বললেন,—“এটি কি?” তারা বললো,—“এটি একটি ভাল দিন। এ দিনে আল্লাহ্ তা'আলা বনি ইসরাইলকে তাদের দুশমনের কবল থেকে বাঁচিয়েছেন। তাই হযরত মুসা {আঃ} রোযা পালন করেছেন।” রাসূলুল্লাহ্ {ﷺ} বললেন,—“মুসা {عَلَيْهِ وَسَلَّمَ‎}-কে অনুসরণের ব্যাপারে আমি তোমাদের চেয়ে অধিক হকদার।” অত:পর তিনি {ﷺ} রোযা রেখেছেন এবং রোযা রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।”-[রেফারেন্স : সহীহ বুখারী শারীফ, হাদীস নং : ১৮৬৫।]

👉 পবিত্র মুহাররমের ১০ই তারিখ বিভিন্ন কারণে ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে আছে। অবাক হবার ব্যাপার হলো নিচে বর্ণিত যতগুলো ঘটনা মুহাররমের দশ তারিখে সংগঠিত হয়েছে, এবং সবগুলো ঘটনাই ঘটেছে শুক্রবারে। এটি আল্লাহ পাকের একটি মহানিদর্শন।

🌹এই দিনেঃ-
📌 (১) আল্লাহ পাক পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন।

📌 (২) আকাশ থেকে সর্বপ্রথম বৃষ্টি হয়েছে।

📌 (৩) আল্লাহ্‌ পাক প্রথম মানব নাবী সাইয়িদুনা হযরত আদম সাফিউল্লাহ্ {عَلَيْهِ وَسَلَّمَ‎}-কে সৃষ্টি করেন।

📌 (৪) সাইয়িদুনা হযরত আদম সাফিউল্লাহ্ {عَلَيْهِ وَسَلَّمَ‎} ইন্তিকাল করেন।

📌 (৫) সাইয়িদুনা হযরত আদম সাফিউল্লাহ্ {عَلَيْهِ وَسَلَّمَ‎}-এর তাওবা আল্লাহ পাক কবুল করেছেন। ফলে শুক্রবারকে পবিত্র ঈদের দিন হিসেবে দান করা হয়।

📌 (৬) আল্লাহ্ পাক নাবী সাইয়িদুনা হযরত ইদরীস {عَلَيْهِ وَسَلَّمَ‎}-কে আকাশে উত্থিত করেছেন।

📌 (৭) আল্লাহ্ পাক নাবী সাইয়িদুনা হযরত নুহ নাবীউল্লাহ্ {عَلَيْهِ وَسَلَّمَ‎} ও তার সাথীদের নাজাত দান করেছেন। হযরত নুহ {عَلَيْهِ وَسَلَّمَ‎}-এর কিস্তি মহাপ্লাবন থেকে রক্ষা পেয়ে তুরস্কের যুদী পাহাড়ে এসে প্রথম ভিড়ে। ফলে সেদিন হযরত নূহ {عَلَيْهِ وَسَلَّمَ‎} রোযা রাখেন।

📌 (৮) নাবী সাইয়িদুনা হযরত ইবরাহীম খলীলূল্লাহ্ {عَلَيْهِ وَسَلَّمَ‎}-কে নমরুদ আগুনে নিক্ষেপ করে এবং তিনি আল্লাহ্‌ পাকের মহা কুদরতে তা থেকে রক্ষা পান।

📌 (৯) নাবী সাইয়িদুনা হযরত মুসা কালীমুল্লাহ্ {عَلَيْهِ وَسَلَّمَ‎}-এর সাথে আল্লাহ্ পাক কথা বলেছেন এবং তাওরাত কিতাব নাযিল করেছেন।

📌 (১০) বনি ইসরাঈলের জন্য আল্লাহ্ পাক সমুদ্রকে দুভাগ করে দিয়েছেন যার মাধ্যমে তারা নীলনদ পারি দিয়ে ফিরাউনের কবল থেকে মুক্তি লাভ করেছে। আর এ দিনেই ফিরাউন ও তার দলবল পানিতে ডুবে মৃত্যুবরণ করেছে।

📌 (১১) আল্লাহ্ পাক নাবী সাইয়িদুনা হযরত আইয়ুব {عَلَيْهِ وَسَلَّمَ‎}-কে রোগ মুক্ত করেছেন।

📌 (১২) আল্লাহ্ পাক নাবী সাইয়িদুনা হযরত ইউসুফ {عَلَيْهِ وَسَلَّمَ‎}-কে ফিরিয়ে এনেছেন তার পিতা নাবী সাইয়িদুনা হযরত ইয়াকুব {عَلَيْهِ وَسَلَّمَ‎}-এর কাছে।

📌 (১৩) আল্লাহ্ পাক নাবী সাইয়িদুনা হযরত ইউনুস {عَلَيْهِ وَسَلَّمَ‎}-কে মাছের পেট থেকে উদ্ধার করেছেন।

📌 (১৪) নাবী সাইয়িদুনা হযরত সুলাইমান {عَلَيْهِ وَسَلَّمَ‎}-কে সাম্রাজ্য ফিরিয়ে দিয়েছেন তিনি।

📌 (১৫) নাবী সাইয়িদুনা হযরত ঈসা {عَلَيْهِ وَسَلَّمَ‎}-কে আকাশে উত্থিত করেছেন মহান রব।

📌 (১৬) কারবালার লোমহর্ষক ঘটনা যেদিন ঘটে সেদিনও ছিল শুক্রবার। রাসুলে পাক {ﷺ}-এর দৌহিত্র সাইয়িদুনা হযরত ইমাম হুসাইন {رَضِيَ ٱللَّٰهُ عَنْهُ‎}-কে কারবালায় নির্মম্ভাবে শহীদ করা হয়েছে। তাই এই দিনে মুনাফিকরা আনন্দিত হয়, আর মু’মিনরা হয় বিষাদিত।

📌 (১৭) এবং এই দিনেই কিয়ামত সংগঠিত হবে।

🔶 পবিত্র আশুরার রজনীতে নামায ও ইবাদাত :

আশুরার দিন ও রাতের ফাযীলাত ও গুরুত্ব সম্পর্কিত বহু রিওয়ায়েত বর্ণিত আছে। নিম্নে তার কিছু বর্ণিত হলোঃ

🌹আশুরা দিবস পালন অত্যন্ত গুরূত্বপূর্ণ ইবাদাত। স্বয়ং নাবী কারীম {ﷺ} রোযা পালনের মাধ্যমে এ দিবস উদযাপন করেছেন। নাবী কারীম {ﷺ} বলেছেন,—“যে ব্যক্তি আশুরার দিনে চার রাকা'ত নামায আদায় করবে, প্রত্যেক রাকা'তে সূরা ফাতিহার পর সূরা ইখলাস ১১ বার পড়বে আল্লাহ তা'আলা তার পঞ্চাশ বছরের পাপ-মাফ করে দিবেন এবং তার জন্য জান্নাতে নূরের মিম্বার তৈরি করবেন।”-[রেফারেন্স : নুজহাতুল মাজলিস, খন্ড নং : ১, পৃষ্ঠা নং : ১৮১]

🌹বনের হরিণ পশুপাখী পর্যন্ত আওলাদে রাসূল {ﷺ} হযরত ইমাম হুসাইন {رَضِيَ ٱللَّٰهُ عَنْهُ‎}-এর স্ব-পরিবার শাহাদাত দিবসে তাঁদের সম্মানার্থে রোযা পালন করে তাকে। হযরত ফরিদুদ্দীন গাঞ্জেশাকার {رحمة الله عليه} বলেছেন,—“আশুরা দিবসে আউলাদে রাসূলের মুহাব্বাতে বনজঙ্গলের হরিণরাও তাদের বাচ্চাদেরকে দিনের বেলায় দুধ পান করানো থেকে বিরত থাকে।-[রেফারেন্স : রাহাতুল কুলুব, পৃষ্ঠা নং : ২২৩।]

🌹১০ই মুহাররম অর্থাৎ আশুরার দিনের রোযা পূর্বের নাবীগণ {عَلَيْهِ وَسَلَّمَ‎}-এর উম্মাতগণের মধ্যেও প্রসিদ্ধ ছিল। এমনকি বর্ণিত আছে যে, রমযানের পূর্বে আশুরার রোয়া ফরয ছিল, অতঃপর রমযান মাসের রোযা ফরয হওয়ার পর আশুরার রোযার ফারযীয়াত রহিত হয়ে যায় এবং তা নফলে পরিণত হয়।-[রেফারেন্স : গুনিয়াতুত্ব ত্বালেবীন ও মুকাশাফাতুল কূলুব]

🌹রাসূলুল্লাহ্ {ﷺ} হিজরতের পূর্বেও আশুরার রোযা রেখেছেন। মাদীনা শরীফে তাশরীফ আনয়ন করার পর তিনি এ রোযার বিষয় আরও গুরুত্ব ও জোর তাগীদ দেন এবং বলেছেন আগামী বৎসর আমি বেঁচে থাকলে মুহাররমের ৯ ও ১০ তারিখে রোযা রাখবো।-[রেফারেন্স : গুনিয়াতুত্ব ত্বালেবীন ও মুকাশাফাতুল কূলুব।]

🌹বিশিষ্ট সাহাবী শেরে খোদা সাইয়িদুনা হযরত আলী {رَضِيَ ٱللَّٰهُ عَنْهُ‎} বলেন,—“হুযুরে পাক {ﷺ} ইরশাদ করেছেন,—“যে আশুরার সারারাত ইবাদাতে কাটায়, আল্লাহ্ তাহার বাসনানুরূপ তাকে জীবিত রাখেন।”-[রেফারেন্স : গুনিয়াতুত্ব ত্বালেবীন ও মুকাশাফাতুল কূলুব]

🌹হযরত আবু হুরায়রা {رَضِيَ ٱللَّٰهُ عَنْهُ‎} বলেন যে,—“হযরত রাসুলে কারীম {ﷺ} ইরশাদ করেছেন,—“রমজানের রোযার পর আশুরার রোযাই শ্রেষ্ঠ বটে। ফরয নামায ব্যতীত মধ্য রাতের পর যে সমস্ত নামায পড়া হয়, তার মধ্যে আশুরার নামায সর্বাপেক্ষা অধিক মর্যাদাসম্পন্ন।”-[রেফারেন্স : গুনিয়াতুত্ব ত্বালেবীন, মুকাশাফাতুল কূলুব।]

🔶 এই দিনে রোজা রাখার ফযীলাত :

🌹আশুরার রোযার মহান মর্যাদার কারণে নাবী {ﷺ} এ রোযার ব্যাপারে খুব আগ্রহী থাকতেন। বিশিষ্ট সাহাবী সাইয়িদুনা হযরত ইবনে আব্বাস {رَضِيَ ٱللَّٰهُ عَنْهُ‎} থেকে বর্ণিত তিনি বলেন,—“ফাযীলাতপূর্ণ দিন হিসেবে আশুরার রোযা ও এ মাসের রোযা অর্থাৎ রমজানের রোযার ব্যাপারে নাবী রাসূলুল্লাহ্ {ﷺ}-কে যত বেশি আগ্রহী দেখেছি অন্য রোযার ব্যাপারে তদ্রূপ দেখিনি।”-[রেফারেন্স : সহিহ বুখারি শারীফ, হাদীস নং : ১৮৬৭।]

🔶 আশুরায় ২ দিন রোজা রাখা :

🌹সাহাবী সাইয়িদুনা হযরত ইবনে আব্বাস {رَضِيَ ٱللَّٰهُ عَنْهُ‎} বলেন,—“যখন থেকে রাসূলুল্লাহ্ {ﷺ} আশুরার সাওম পালন শুরু করলেন এবং অন্যদেরকেও এ সাওম পালনের নির্দেশ দিলেন তখন সাহাবীগণ {رَضِيَ ٱللَّٰهُ عَنْهُ‎} বলে উঠলেন,—“এটাতো ইয়াহূদী ও খৃস্টানদের সম্মান করার দিন। (একই দিনে সাওম পালন করলে আমরা কি তাদের সাদৃশ্য হয়ে যাবো না?)” উত্তরে রাসূলুল্লাহ্ {ﷺ} বললেন,—“(বেঁচে থাকলে) ইনশাআল্লাহ আগামী বছর (১০ তারিখের সাথে) ৯ তারিখেও সওম পালন করব। (ফলে আমাদের ইবাদত অমুসলিমদের সাথে আর সামঞ্জসপূর্ণ হবে না)। কিন্তু পরবর্তী বছর আসার আগেই রাসূলে কারীম {ﷺ} ইন্তেকাল করেছিলেন।”-[রেফারেন্স : মুসলিম শারীফ, হাদীস নং : ১১৩৪।]

🌹একাধিক হাদিসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ্ {ﷺ} রমজানের পর মুহাররম মাসে বেশি বেশি রোযা রাখার এবং অন্যান্য আমলের ব্যাপারে জোর দিয়েছেন। উল্লেখ্য, বেশ কিছু হাদিসে পাওয়া যায়, রমজানের পর তিনি শাবান মাসে বেশি বেশি রোযা রাখতেন। তবে মুহাররম মাসের ব্যাপারে জীবনের শেষের দিকে এসে তিনি রোজা এবং অন্যান্য আমলের উপর গুরুত্ব দেন। আশুরার রোযার বিখ্যাত হাদিসটি দশম হিজরী সালের। এটাই ছিল রাসূল {ﷺ}-এর জীবনের শেষ আশুরা।

🌹প্রিয়নবী {ﷺ} ইরশাদ করেন,—“তোমরা আশুরার দিন রোযা রাখো এবং এতে ইয়াহুদীদের বিপরীত করো ৷ আশুরার আগের দিন কিংবা পরের দিনও রোযা রাখো ৷”-[রেফারেন্স : মুসনাদে ইমাম আহমদ, খণ্ড নং : ১, পৃষ্ঠা নং : ৫১৮, হাদীস নং : ২১৫৪।]

🔶 অন্যান্য হাদীস সমূহ :

🌹প্রিয়নবী রাসূলুল্লাহ্ {ﷺ} ইরশাদ করেন,—“যে ব্যক্তি আশুরার দিন ‘ইসমাদ’ নামক সুরমা চোখে লাগাবে, তার চোখ কখনও রোগাক্রান্ত হবে না ৷”-[শু’বুল ইমান, খণ্ড নং : ৩, পৃষ্ঠা নং : ৩৬৭; হাদীস নং : ৩৭৯৭।]

🌹আশুরা দিবসে সে দিনের মহত্ব উপলব্দি করে পরিবারবর্গকে উত্তম খানা পরিবেশন করার ও অনেক ফাযীলাত রয়েছে। হযরত আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ {رَضِيَ ٱللَّٰهُ عَنْهُ‎} থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ {ﷺ} বলেছেন,—“যে ব্যক্তি আশুরার দিবসে তার পরিবারবর্গের জন্য স্বাচ্ছন্দ্যবোধে ভাল খানার ব্যবস্থা করে আল্লাহ তা'আলা তাকে পূর্ণ বছর রিযিকে ফারাগতি দান করবেন।”-[রেফারেন্স : মা ছাবাতা বিস্ সুন্নাহ্, পৃষ্ঠা নং : ১৯।]

🌹এ দিবসে খিঁছুড়ি পাকানো নাবী সাইয়িদুনা হযরত নূহ {عَلَيْهِ وَسَلَّمَ‎}-এর সুন্নাত। হযরত নূহ {عَلَيْهِ وَسَلَّمَ‎}-এর নৌকা-তুফানের পর ১০ মুহাররম যুদী পাহাড়ে স্থির হয় যা কুরআনের বিভিন্ন সূরাহ সমূহে বিবৃত হয়েছে। মহাপ্লাবনের পর মুক্তি পাওয়ার কারণে হযরত নূহ {عَلَيْهِ وَسَلَّمَ‎} শুকরিয়া জ্ঞাপনার্থে সকাল থেকে রোযা রেখে ছিলেন। তার নৌকায় অবশিষ্ট সাতপ্রকার দানা তথা মটর, গম, যব, মশুর, চনা, চাল, পিয়াজ এক সাথে রান্না করে খিঁচুড়ি পাকানো উত্তম আমল।-[রেফারেন্স : তাফসীরে নঈমী, খন্ড নং : ১২, পৃষ্ঠা নং : ১৫৬।]

🌹হযরত নিজামুদ্দীন আউলিয়া {রহঃ} “রাহাতুল মুহিব্বীন” গ্রন্থে বলেছেন যে,—“যে ব্যক্তি আশুরা দিবসে ৭ দানা দিয়ে খিঁচুড়ি পাকাবে আল্লাহ্ তাকে প্রত্যেক দানার পরিবর্তে পূণ্য এবং প্রতিটি দানার বিনিময়ে একেকটি পাপ মার্জনা করে দিবেন।”-[রেফারেন্স : তাফসীর রুহুল বয়ান, পারা : ১২।]

আসুন, পবিত্র মুহররম মাস ও আশুরার দিনে (১০ই মুহররমের আগে বা পরে এক দিনসহ) আমরা রোযা রেখে আল্লাহ্ তা‘আলার পক্ষ থেকে কল্যাণ লাভ করার সুযোগ গ্রহণ করি। বেশি বেশি তাওবা-ইস্তেগফার ও দান-খয়রাত করে এবং পরিবার-পরিজনের জন্য ভালো খাবারের ব্যবস্থা করে গুনাহ্ থেকে মাফ পাওয়ার চেষ্টা করি। আল্লাহ্ রাব্বুল ‘আলামিন মুহররম ও আশুরা থেকে আমাদের অফুরন্ত ফাযীলাত দান করুন। আমিন!

#পবিত্র #মুহাররম #মাস #১০মুহাররম #ইবাদত #আমল #রোজা

⚜️⚜️⚜️⚜️⚜️⚜️ بِسمِ اللَّهِ الرَّحمٰنِ الرَّحيم ⚜️⚜️⚜️⚜️⚜️⚜️ ⚜️ কারবালার সঠিক ইতিহাস ⚜️ ⚜️ ধারাবাহিক পর্ব : ০৪ ⚜️ ⚜️ হিজর...
28/07/2023

⚜️⚜️⚜️⚜️⚜️⚜️ بِسمِ اللَّهِ الرَّحمٰنِ الرَّحيم ⚜️⚜️⚜️⚜️⚜️⚜️
⚜️ কারবালার সঠিক ইতিহাস ⚜️
⚜️ ধারাবাহিক পর্ব : ০৪ ⚜️
⚜️ হিজরি : ১৪৪৫ ⚜️

⚜️ হযরত মুহাম্মাদ ইবনে হানাফিয়া {رَضِيَ ٱللَّٰهُ عَنْهُ‎}-এর পরামর্শ :

সাইয়িদুনা হযরত ইমাম হুসাইন {رَضِيَ ٱللَّٰهُ عَنْهُ‎}-এর সৎ ভাই হযরত মুহাম্মাদ বিন হানাফিয়া {رَضِيَ ٱللَّٰهُ عَنْهُ‎} তাঁকে বললেন,—“ভাই, আমি আপনার চেয়ে কাউকে বেশী প্রিয় এবং সমাদৃত মনে করি না। আর খোদার সমগ্র সৃষ্টিতে কাউকে তার যোগ্যও ভাবি না যে, তার সাথে আপনার চেয়েও বেশী সদাচারণ করব। এজন্য আমার পরামর্শ হচ্ছে, যতদূর পারা যায়, ইয়াযিদের বাইয়াত এবং বিশেষ কোনো শহরে অবস্থান করার ইচ্ছা থেকে আপনি মুক্ত থাকুন। নিভৃত কোনো পল্লী বা নির্জন মরুতে আপনি অবস্থান করুন এবং মানুষের কাছে আপনার দূত পাঠিয়ে আপনার প্রতি বাইয়াতের দাওয়াত দিন। যদি তারা বাইয়াত করে, তো আপনি আল্লাহর শোকর করবেন। আর যদি অন্য কোনো ব্যক্তির প্রতি বাইয়াতের প্রশ্নে ঐকমত্যে পৌঁছে যায়, তাহলে তাতে আপনার গুণাগুণ, বুযুর্গী বা মর্যাদার মধ্যে আল্লাহ্ তা‘আলা কোনো ঘাটতি বা তারতম্য আনবেন না। আমার ভয় হচ্ছে যে, এই অবস্থায় যদি আপনি কোনো নির্দিষ্ট শহরে বা বিশেষ কোন জনগোষ্ঠির কাছে যান, তবে, তাদের মধ্যে মতানৈক্য সৃষ্টি হয়ে যাবে। একদল আপনার পক্ষ হবে, অন্যদল তার বিপরীত। ফলে উভয়ের মধ্যে যুদ্ধ সংঘাত অনিবার্য হয়ে পড়বে। আর সবার আগে আপনিই তাদের অস্ত্রের নিশানায় পরিণত হবেন। উদ্ভুত এই পরিস্থিতিতে একজন সম্মানিত, সবচেয়ে সমাপ্ত এবং বংশ আভিজাত্যে যিনি সমগ্র উম্মাতের চেয়েও উত্তম, তাঁর পবিত্র রক্তই সবচেয়ে সস্তা হয়ে যাবে। তাঁরই পরিবার পরিজনকে লাঞ্চিত করা হবে।”

এতদশ্রবণে হযরত হুসাইন {رَضِيَ ٱللَّٰهُ عَنْهُ‎} বললেন,—“তবে ভাই আমি কোথায় যেতে পারি?”

হযরত মুহাম্মাদ ইবনে হানাফিয়া {رَضِيَ ٱللَّٰهُ عَنْهُ‎} বললেন,—“আপাততঃ মাক্কাহ্ শারীফ। যদি সেখানে আপনার মনস্থির হয়, তবে কোনো না কোন উপায় বেরিয়ে আসবে। যদি মন প্রশান্ত না হয়, তবে ভিন্ন কোনো মরুস্থান বা পাহাড়ী এলাকায় চলে যাবেন। একস্থান থেকে অন্যস্থান পরিবর্তন করতে থাকবেন এবং মানুষের অবস্থার পরিবর্তন লক্ষ্য করতে থাকবেন। পরিণামে আপনি অবশ্যই কোনো সিদ্ধান্ত পেয়ে যাবেন। কেননা ঘটনা যখন পর্যবেক্ষণ করা যায়, তখন সিদ্ধান্ত গ্রহণ অনেক বেশী নির্ভূল হয়।”

হযরত হুসাইন {رَضِيَ ٱللَّٰهُ عَنْهُ‎} বললেন,—“ভাই, আপনি পরম হিতকামনা ও সহমর্মিতাই জানালেন। আমার মনে হয়, আপনার মতামতই ইনশাল্লাহ্ সঠিক ও যথাযথ বলে সাব্যস্থ হবে।”
এই বলে তিনি কবি ইয়াযিদ ইবনে মুফাররাগের নিম্মোক্ত কবিতা প্রবাদমূলক আবৃত্তি করতে করতে মসজিদে প্রবেশ করলেন,
—”لا دعوت السوام فى فلق + الصبح مغيرا ولا دعيت يزيدة يوم أعطى من المهابة ضيما : والمنايا برصد على ان احيدا“
অর্থ : “যেদিন যুলুম নিপীড়নে আমার টুটি চেপে দেয়া হবে
মৃত্যু এসে রইবে প্রতীক্ষায়,
(সেদিন) যদি আমি সেই রণে ভঙ্গ,
তবে ছুটাব না উঠ প্রভাত প্রভায়।
না কেউ ইয়াজিদ বলে ডাকবে আমায়।”
[রেফারেন্স : ইবনে আছীর : ৬/৪, ত্বাবরী : ১৯০/৬।]

⚜️ একটি সংশয় :

‘খিলাফাতে মুয়াবিয়া ওয়া ইয়াযিদ’ গ্রন্থের প্রণেতা লিখেছেন,—“মুহাম্মাদ হানাফিয়া {رَضِيَ ٱللَّٰهُ عَنْهُ‎} হুসাইন {رَضِيَ ٱللَّٰهُ عَنْهُ‎}-এর নিষ্ক্রমণকে হুকুমত ও খিলাফাত অন্বেষার এমন একটি রাজনৈতিক ইস্যু মনে করতেন, যা যুগপ্রেক্ষাপটে এবং শরয়ী আহকামের ভিত্তিতে বৈধ বা সমীচিন ছিল না।” [পৃষ্ঠা : ৭৯]

📌 এ সম্পর্কে বক্তব্য হল, যদি হযরত মুহাম্মাদ হানাফিয়া {رَضِيَ ٱللَّٰهُ عَنْهُ‎}-এর দৃষ্টিতে হযরত হুসাইন {رَضِيَ ٱللَّٰهُ عَنْهُ‎}-এর পদক্ষেপ সময়ের চাহিদা ও শরয়ী আহকামের আলোকে নাজায়িয এবং অনুচিৎ হতো, তবে আবার তিনি হযরত হুসাইন {رَضِيَ ٱللَّٰهُ عَنْهُ‎}-কে এটা কেন বললেন যে, ‘ইয়াযীদ থেকে দূরে থাকুন এবং নিজের জন্য বাইয়াতের দাওয়াত দিন?’ বরং সেক্ষেত্রে তিনি তো স্পষ্টতঃ বলতে পারতেন যে, ‘আপনার এই পদক্ষেপ শারী‘আত মতে কোনো অবস্থাতেই জায়িয নয়। আর একজন সত্যাশ্রয়ী ও ন্যায়নিষ্ঠ খলীফা থাকা সত্ত্বেও তার বিরুদ্ধে আপনার এ সিদ্ধান্ত রাষ্ট্র দ্রোহিতার শামিল।’
তাঁকে নিষ্ক্রমনে বাঁধা না দেয়া এবং করণীয় সম্পর্কে অবহিত করা, যেমন :- পল্লীতে ও পাহাড়ী এলাকায় অবস্থান নিন, মানুষের কাছে প্রতিনিধি পাঠান, তাদের প্রতি আপনার পক্ষে বাইয়াতের আহবান জানান ইত্যাদি এ কথারই সুস্পষ্ট প্রমাণ যে, তাঁর দৃষ্টিতে হযরত হুসাইন {رَضِيَ ٱللَّٰهُ عَنْهُ‎}-এর এই পদক্ষেপ ইসলামী শারী‘আত মতে নাজায়িয ছিল না বরং হযরত হুসাইন {رَضِيَ ٱللَّٰهُ عَنْهُ‎} যে পদ্ধতি ও প্রক্রিয়া অবলম্বন করেছিলেন তাঁর কাছে সে প্রক্রিয়াটাই শুধু যুক্তিসিদ্ধতার বিপরীত এবং নিষ্ফল মনে হয়েছিল। বাকী তাঁর নিজের বাইয়াত সংক্রান্ত ব্যাপারটি ছিল অন্যান্য সাহাবীদের {رَضِيَ ٱللَّٰهُ عَنْهُ‎} মতো ফিতনা ফ্যাসাদ এড়ানোর লক্ষ্যে। নচেৎ খলীফার কার্যক্রমের সৌন্দয্য কিংবা তাকে সঠিক বিবেচনার ভিত্তিতে নয়।

📌 প্রমাণিত হল যে, হযরত মুহাম্মাদ হানাফিয়া {رَضِيَ ٱللَّٰهُ عَنْهُ‎}-এর অপরাপর কতিপয় সাহাবী {رَضِيَ ٱللَّٰهُ عَنْهُ‎}-এর মতো ইয়াযিদ {লা’নাতুল্লাহ্ }-এর বিরুদ্ধে অগ্রসর হওয়াকে নিজের কাছে অবৈধ বা খারাপ মনে করতেন না; বরং বাহ্যিক নানা কারণ ও পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে তা প্রতিক্রিয়াহীন ও দূরদর্শিতাহীন বলে ভেবেছিলেন। সুতরাং ‘খিলাফাতে মুয়াবিয়া ওয়া ইয়াযীদ’ এর লেখকের মন্তব্য “হযরত হুসাইন {رَضِيَ ٱللَّٰهُ عَنْهُ‎}-এর পদক্ষেপকে হযরত মুহাম্মাদ হানাফিয়া {رَضِيَ ٱللَّٰهُ عَنْهُ‎} শারী‘আত মতে নাজায়িয মনে করতেন” এটা সম্পূর্ণ ভুল এবং ইতিহাসের প্রতি সর্বৈব মিথ্যাচার।
এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, হযরত মুহাম্মাদ হানাফিয়া {رَضِيَ ٱللَّٰهُ عَنْهُ‎}-এর পরামর্শ দূরদর্শিতা ও বিচক্ষণতার ভিত্তিতেই ছিল। জ্ঞান-প্রজ্ঞা ও বিচক্ষণতার অধিকারী মাত্রই এরূপ যুক্তিসিদ্ধতা ও পরিণামদর্শিতার ভিত্তিতে কাজ করে থাকেন এবং অপরকেও এতে উৎসাহিত করেন। এছাড়া সময় বিশেষে কৌশল অবলম্বন করা খারাপ কিছু নয়। কিন্তু ইশক্ব ও প্রেমের ধারক বাহকদের প্রকৃতি ব্যতিক্রম পরিলক্ষিত হয়। বুদ্ধিজ্ঞান ও ইশক্ব-প্রেমের তারমতম্য নিরূপনে ডঃ ইকবালের দর্শন নিম্নরূপ :

❝কার্যকারণের এমনি মারপ্যাঁচ, বুদ্ধিমত্তা ক্লান্ত হয়,
প্রেম সে কর্মের এই যে প্রান্তর, প্রাণের বন্যায় অকুতোভয়।
শংকা, ভয়, ডর, জ্ঞানের মূলধন, প্রতিটি ক্ষনে সে দেখছে সংশয়,
প্রেমের নারী সে অটল, অবিচল, দীপ্ত সাহসে, অব্য্য, অক্ষয়।
‘কেন’ বা ‘কি করে’ ‘কোথায়’ ‘কি হবে’ জ্ঞানের ভিত্তি এসবে নিশ্চয়,
প্রেমতো সংশয় জানে না কদাচ, দ্বিধা ও দ্বন্দ্ব-যুক্ত সদাশয়।
ইশক্ব আপনা শক্তি, বিক্রম ত্যাজিবে, করবে নিজেরে ক্ষয়,
বুদ্ধি ভাবনা খাটাতে তৎপর, বুননে জাল সে মগ্ন রয়।
বুদ্ধি মিলবে যত্র তত্র, হাওয়ার মত সে প্রবাহে রয়,
ইশক্ব না সহজে খুঁজলে পাব সে, সস্তা দামে সে পাওয়ার নয়। সারাটি বিশ্ব পূজক, ইশক্ব পূজ্য এমনি বিশ্বময়,
বুদ্ধি যদি যে দূর্গ সোমনাথ, গজনী-মাহমুদ প্রেমেরই জয়।
প্রেম সে সম্রাট ভূবনজোড়া সে প্রমাণ এমনি দীপ্তিময়,
তাবৎ পৃথিবী প্রেমের সকাশে অবনত আর অধীন রয়।

⚜️ মাদীনা মুনাওওয়ারাহ্ থেকে যাত্রা :

সাইয়িদুনা হযরত হুসাইন {رَضِيَ ٱللَّٰهُ عَنْهُ‎}-এর মাদীনা শারীফ ছেড়ে আসার প্রাক্কালে যখন স্বীয় নানাজান রাসূল {ﷺ}-এর রওযা মুবারকে উপস্থিত হন, সালাত ও সালাম আরয করার পর বিদায় অনুমতি চাইলেন, তখন তাঁর অবস্থা কী হতে পারে? বিষাদের রক্তিম অশ্রু অবিরাম ধারায় বর্ষিত ছিল! ব্যথিত হৃদয় বিরহ যাতনায় রক্তাক্ত ছিল।
পবিত্র যবানে বলছিলেন,—কোলে কাঁধে বসিয়ে খাওয়াতেন যে নানা, মায়া-মমতার বাঁধনে জড়িয়ে ঘুম পাড়ানিয়া শুনাতেন যে নানা, মাথায়, কপালে, অধরে চুম্বনসিক্ত করতেন যে নানা, আমার গৌরবদীপ্ত নানা, আজ আমার অবস্থা দেখুন! বেদনা ভারাক্রান্ত আমি, অশ্রুসিক্ত আমি! আপনার এই পবিত্র শহর ছেড়ে চলে যাচ্ছি আমি, এই শহর আমার সবচেয়ে আদরের, প্রিয়তম শহর, কিন্তু কী করব? এখানে থাকা আমার পক্ষে দুষ্কর আজ। আমি যাচ্ছি, আমাকে অনুমতি দিন।”

আর ওদিকে মমত্ববোধে লালনকারী মাতামহ, নাবীকুল-রাজ রাসূলুল্লাহ্ {ﷺ}-এর কী অবস্থা? এ অবস্থার কল্পনা হৃদয়কে চূর্ণ বিচূর্ণ করে ফেলে, এটা কেমন দিন ছিল! অত্যন্ত বেদনা বিধুর কঠিন সে সময় নাবীজী {ﷺ}-এর দৌহিত্র হযরত আলী {رَضِيَ ٱللَّٰهُ عَنْهُ‎}-এর কলিজার টুকরা, সাইয়িদা ফাতিমা যাহরা {رَضِيَ ٱللَّٰهُ عَنْهَا‎}-এর নয়নজ্যোতি, হযরত হাসান মুজতাবা {رَضِيَ ٱللَّٰهُ عَنْهُ‎}-এর আত্মার শান্তি চলে যাচ্ছেন, চিরতরো সেই যাওয়া।

❝দেখ চেয়ে দেখ মনভরে সব,
দেখ চেয়ে আজ সব মুমিন,
বিদায়ী যাচ্ছেন কারবালায় আজ,
নায়িবে হযরত আল আমীন।
আকাশ থর থর ভয়ে কী অস্থির,
ভূমিতে কম্পন ধরিত্রীর,
মাঝখানে দেন ডানার ছায়া কে,
তিনি সেই রূহুল আমীন।
ফুল কলিরা শোন শোন সব,
সুপ্ত কলি হে, বিদায়ী রব,
দৃষ্টি নন্দন গলি মাদীনার, বিদায়!
বাজিছে ব্যথার বীণ।❞

অতঃপর তিনি শাবান মাস, ৬০ হিজরী সনে পরিবার-পরিজন নিয়ে মাক্কাহ্ মুকাররামার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলেন। যাত্রাকালে পবিত্র মুখে তেলাওয়াত ছিল,—“فخرج منها خائفا يترقب قال رب تجنى من القوم الظالمين”
অর্থ : “তিনি ঐ (শহর) জনপদ থেকে ভীতিগ্রস্থ হয়ে বেরিয়ে পড়লেন, এ প্রতীক্ষায় যে, না জানি কী হবে! বললেন, হে আমার প্রতিপালক, আমাকে এ জালিম গোষ্ঠী থেকে নাজাত দিন।” [সূরাহ্ :আল কাসাস, আয়াত নং : ২০।]

⚜️ হযরত আব্দুল্লাহ্ ইবনে মুতী {رَضِيَ ٱللَّٰهُ عَنْهُ‎}-এর সাক্ষাৎ :

পথিমধ্যে হযরত আব্দুল্লাহ্ ইবনে মুতী {رَضِيَ ٱللَّٰهُ عَنْهُ‎}-এর সাথে সাক্ষাৎ হলো। হযরত হুসাইন {رَضِيَ ٱللَّٰهُ عَنْهُ‎}-এর সপরিবারে মাদীনা মুনাওওয়ারাহ্ থেকে চলে যেতে দেখে তিনি জিজ্ঞেস করলেন,—“আমি আপনার চরণে উৎসর্গ হবো, আপনি কোথায় চলেছেন?”

তিনি বললেন,—“আপাততঃ তো মাক্কাহ্ মুকাররামার দিকে যাচ্ছি, সেখানে পৌঁছে আল্লাহর সাহায্য চেয়ে ‘ইস্তেখারা’ (সিদ্ধান্ত গ্রহণে আল্লাহর ইঙ্গিত খুঁজে দেখা) করে দেখব কোথায় যাওয়া যায়।”

হযরত আব্দুল্লাহ্ ইবনে মুতী {رَضِيَ ٱللَّٰهُ عَنْهُ‎} বললেন,—“আল্লাহ্ আপনাকে স্বস্থি ও নিরাপদে রাখুন, এবং আমাকে আপনার উদ্দেশ্যে নিবেদিত করুন। যখন আপনি মাক্কাহ্ শারীফ পৌঁছবেন, তখন দয়া করে কখনো ‘কূফা’ যাওয়ার খেয়াল করবেন না। কেননা সে এক অলক্ষুনে জায়াগা, আপনার বুযুর্গ পিতা সেখানে শহীদ হয়েছেন। আর সেখানেই আপনার সহোদর (বড় ভাই) হযরত হাসান {رَضِيَ ٱللَّٰهُ عَنْهُ‎}-কে বান্ধবহীন, অসহায় অবস্থায় রেখে আসা হয়। তাঁর উপর বর্শার আঘাত হানা হয়পছিল। ফলে মরণদশায় উপনীত হয়েছিলেন। আপনি মাক্কাহ্তেই অবস্থান করুন। মাক্কাহ্ ত্যাগ করে যাবেন না। আপনি আরবকুল সর্দার, হিজাযবাসী (মাক্কাহ, মাদীনা, তায়িফবাসী) কাউকেই আপনার সমকক্ষ মনে করে না। চতুর্দিক থেকে মানুষ আপনার কাছেই ছুটে আসবে। আমার চাচা এবং মামা আপনার জন্য ক্বুরবান। আপনি কা’বার হেরেম কোনো অবস্থাতেই কখনোই ছাড়বেন না। আল্লাহর দোহাই লাগে! খোদা না করুন, যদি আপনি শহীদ হয়ে যান, তবে আপনার পরে আমাদের সবাইকেই ক্রীতদাস বানিয়প রাখা হবে।”

যখন তিনি মাক্কাহ্ মুকাররামায় প্রবেশ করলেন, তখন আপাততঃ স্বস্থিবোধে পবিত্র ক্বুরআনের এই আয়াতে মুবারাকা তিলাওয়াত করলেন,
”ولما توجه تلقاء مدين قال عسى ربي ان يهديني سواء السبيل“
অর্থ : “যখন তিনি ‘মাদইয়ান’ এর প্রতি মনোনিবেশ করলেন, তখন বললেন, আশা করি আমার প্রভু আমাকে সরল পথে চালিত করবেন।” [সূরাহ্ : কাসাস, আয়াত নং : ২০।]

হযরত হুসাইন {رَضِيَ ٱللَّٰهُ عَنْهُ‎}-এর মাক্কাহ্ মুকাররামায় পৌঁছার সংবাদ পেয়ে মানুষ দলে দলে তাঁর কাছে আসতে লাগল এবং সাক্ষাৎ লাভে ধন্য হতে লাগল। হযরত আব্দুল্লাহ্ ইবনে যুবাইর {رَضِيَ ٱللَّٰهُ عَنْهُ‎}-ও মাক্কাহ্তেই ছিলেন। তিনিও হযরত হুসাইন {رَضِيَ ٱللَّٰهُ عَنْهُ‎}-এর কাছে আসা-যাওয়া করতে লাগলেন। মাক্কাহবাসীরা তাঁর আগমনে অত্যন্ত আনন্দিত হল। তাঁরা তাঁর নুরানী সান্নিধ্যে নিজেদের নয়নমন উদ্ভাসিত করতঃ বলতে লাগল,—

❝স্বাগতম হে আগমনে যাঁর, খুশী হল সব,
চেহারা দেখেই খুশী উতরোল হৃদে অভিনব।
চেয়েছিনু মোরা খোদার সকাশে তোমার মিলন,
তোমার চলার তীর্থ পথেই এই দৃষ্টি মগন।
‘মারহাবা’ রাজাধিরাজের ওগো নয়নমনি,
ফাতেমার বুকে সাতরাজ ধন, শুন হর্ষধ্বনি।
নাবুওয়াতরূপ বাগিচার ফুল এলো, এলো আজ,
ধরার জ্যোতি চন্দ্র অতুল, এলো এলো আজ।
হারামাইনের ওগো দীপ্তি, মোরা ধন্য মানি,
হুসাইন এলো, খুলল মোদের কপালখানি।❞

🔶 চলবে...........

🔶 তৃতীয় পর্ব পড়ুন : https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=749701366955960&id=100057483106668&mibextid=Nif5oz

#পবিত্র #মুহাররম #মাস #কারবালা #এর #সঠিক #ইতিহাস

Address

Karbala'

Opening Hours

Monday 09:00 - 17:00
Tuesday 09:00 - 17:00
Wednesday 09:00 - 17:00
Thursday 09:00 - 17:00
Friday 09:00 - 17:00
Saturday 09:00 - 17:00
Sunday 09:00 - 17:00

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when দোয়া ও তদবীর রুকইয়া সেন্টার - The Islamic Treatment. posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Place Of Worship

Send a message to দোয়া ও তদবীর রুকইয়া সেন্টার - The Islamic Treatment.:

Share