28/07/2023
⚜️⚜️⚜️⚜️⚜️⚜️ بِسمِ اللَّهِ الرَّحمٰنِ الرَّحيم ⚜️⚜️⚜️⚜️⚜️⚜️
⚜️ কারবালার সঠিক ইতিহাস ⚜️
⚜️ ধারাবাহিক পর্ব : ০৪ ⚜️
⚜️ হিজরি : ১৪৪৫ ⚜️
⚜️ হযরত মুহাম্মাদ ইবনে হানাফিয়া {رَضِيَ ٱللَّٰهُ عَنْهُ}-এর পরামর্শ :
সাইয়িদুনা হযরত ইমাম হুসাইন {رَضِيَ ٱللَّٰهُ عَنْهُ}-এর সৎ ভাই হযরত মুহাম্মাদ বিন হানাফিয়া {رَضِيَ ٱللَّٰهُ عَنْهُ} তাঁকে বললেন,—“ভাই, আমি আপনার চেয়ে কাউকে বেশী প্রিয় এবং সমাদৃত মনে করি না। আর খোদার সমগ্র সৃষ্টিতে কাউকে তার যোগ্যও ভাবি না যে, তার সাথে আপনার চেয়েও বেশী সদাচারণ করব। এজন্য আমার পরামর্শ হচ্ছে, যতদূর পারা যায়, ইয়াযিদের বাইয়াত এবং বিশেষ কোনো শহরে অবস্থান করার ইচ্ছা থেকে আপনি মুক্ত থাকুন। নিভৃত কোনো পল্লী বা নির্জন মরুতে আপনি অবস্থান করুন এবং মানুষের কাছে আপনার দূত পাঠিয়ে আপনার প্রতি বাইয়াতের দাওয়াত দিন। যদি তারা বাইয়াত করে, তো আপনি আল্লাহর শোকর করবেন। আর যদি অন্য কোনো ব্যক্তির প্রতি বাইয়াতের প্রশ্নে ঐকমত্যে পৌঁছে যায়, তাহলে তাতে আপনার গুণাগুণ, বুযুর্গী বা মর্যাদার মধ্যে আল্লাহ্ তা‘আলা কোনো ঘাটতি বা তারতম্য আনবেন না। আমার ভয় হচ্ছে যে, এই অবস্থায় যদি আপনি কোনো নির্দিষ্ট শহরে বা বিশেষ কোন জনগোষ্ঠির কাছে যান, তবে, তাদের মধ্যে মতানৈক্য সৃষ্টি হয়ে যাবে। একদল আপনার পক্ষ হবে, অন্যদল তার বিপরীত। ফলে উভয়ের মধ্যে যুদ্ধ সংঘাত অনিবার্য হয়ে পড়বে। আর সবার আগে আপনিই তাদের অস্ত্রের নিশানায় পরিণত হবেন। উদ্ভুত এই পরিস্থিতিতে একজন সম্মানিত, সবচেয়ে সমাপ্ত এবং বংশ আভিজাত্যে যিনি সমগ্র উম্মাতের চেয়েও উত্তম, তাঁর পবিত্র রক্তই সবচেয়ে সস্তা হয়ে যাবে। তাঁরই পরিবার পরিজনকে লাঞ্চিত করা হবে।”
এতদশ্রবণে হযরত হুসাইন {رَضِيَ ٱللَّٰهُ عَنْهُ} বললেন,—“তবে ভাই আমি কোথায় যেতে পারি?”
হযরত মুহাম্মাদ ইবনে হানাফিয়া {رَضِيَ ٱللَّٰهُ عَنْهُ} বললেন,—“আপাততঃ মাক্কাহ্ শারীফ। যদি সেখানে আপনার মনস্থির হয়, তবে কোনো না কোন উপায় বেরিয়ে আসবে। যদি মন প্রশান্ত না হয়, তবে ভিন্ন কোনো মরুস্থান বা পাহাড়ী এলাকায় চলে যাবেন। একস্থান থেকে অন্যস্থান পরিবর্তন করতে থাকবেন এবং মানুষের অবস্থার পরিবর্তন লক্ষ্য করতে থাকবেন। পরিণামে আপনি অবশ্যই কোনো সিদ্ধান্ত পেয়ে যাবেন। কেননা ঘটনা যখন পর্যবেক্ষণ করা যায়, তখন সিদ্ধান্ত গ্রহণ অনেক বেশী নির্ভূল হয়।”
হযরত হুসাইন {رَضِيَ ٱللَّٰهُ عَنْهُ} বললেন,—“ভাই, আপনি পরম হিতকামনা ও সহমর্মিতাই জানালেন। আমার মনে হয়, আপনার মতামতই ইনশাল্লাহ্ সঠিক ও যথাযথ বলে সাব্যস্থ হবে।”
এই বলে তিনি কবি ইয়াযিদ ইবনে মুফাররাগের নিম্মোক্ত কবিতা প্রবাদমূলক আবৃত্তি করতে করতে মসজিদে প্রবেশ করলেন,
—”لا دعوت السوام فى فلق + الصبح مغيرا ولا دعيت يزيدة يوم أعطى من المهابة ضيما : والمنايا برصد على ان احيدا“
অর্থ : “যেদিন যুলুম নিপীড়নে আমার টুটি চেপে দেয়া হবে
মৃত্যু এসে রইবে প্রতীক্ষায়,
(সেদিন) যদি আমি সেই রণে ভঙ্গ,
তবে ছুটাব না উঠ প্রভাত প্রভায়।
না কেউ ইয়াজিদ বলে ডাকবে আমায়।”
[রেফারেন্স : ইবনে আছীর : ৬/৪, ত্বাবরী : ১৯০/৬।]
⚜️ একটি সংশয় :
‘খিলাফাতে মুয়াবিয়া ওয়া ইয়াযিদ’ গ্রন্থের প্রণেতা লিখেছেন,—“মুহাম্মাদ হানাফিয়া {رَضِيَ ٱللَّٰهُ عَنْهُ} হুসাইন {رَضِيَ ٱللَّٰهُ عَنْهُ}-এর নিষ্ক্রমণকে হুকুমত ও খিলাফাত অন্বেষার এমন একটি রাজনৈতিক ইস্যু মনে করতেন, যা যুগপ্রেক্ষাপটে এবং শরয়ী আহকামের ভিত্তিতে বৈধ বা সমীচিন ছিল না।” [পৃষ্ঠা : ৭৯]
📌 এ সম্পর্কে বক্তব্য হল, যদি হযরত মুহাম্মাদ হানাফিয়া {رَضِيَ ٱللَّٰهُ عَنْهُ}-এর দৃষ্টিতে হযরত হুসাইন {رَضِيَ ٱللَّٰهُ عَنْهُ}-এর পদক্ষেপ সময়ের চাহিদা ও শরয়ী আহকামের আলোকে নাজায়িয এবং অনুচিৎ হতো, তবে আবার তিনি হযরত হুসাইন {رَضِيَ ٱللَّٰهُ عَنْهُ}-কে এটা কেন বললেন যে, ‘ইয়াযীদ থেকে দূরে থাকুন এবং নিজের জন্য বাইয়াতের দাওয়াত দিন?’ বরং সেক্ষেত্রে তিনি তো স্পষ্টতঃ বলতে পারতেন যে, ‘আপনার এই পদক্ষেপ শারী‘আত মতে কোনো অবস্থাতেই জায়িয নয়। আর একজন সত্যাশ্রয়ী ও ন্যায়নিষ্ঠ খলীফা থাকা সত্ত্বেও তার বিরুদ্ধে আপনার এ সিদ্ধান্ত রাষ্ট্র দ্রোহিতার শামিল।’
তাঁকে নিষ্ক্রমনে বাঁধা না দেয়া এবং করণীয় সম্পর্কে অবহিত করা, যেমন :- পল্লীতে ও পাহাড়ী এলাকায় অবস্থান নিন, মানুষের কাছে প্রতিনিধি পাঠান, তাদের প্রতি আপনার পক্ষে বাইয়াতের আহবান জানান ইত্যাদি এ কথারই সুস্পষ্ট প্রমাণ যে, তাঁর দৃষ্টিতে হযরত হুসাইন {رَضِيَ ٱللَّٰهُ عَنْهُ}-এর এই পদক্ষেপ ইসলামী শারী‘আত মতে নাজায়িয ছিল না বরং হযরত হুসাইন {رَضِيَ ٱللَّٰهُ عَنْهُ} যে পদ্ধতি ও প্রক্রিয়া অবলম্বন করেছিলেন তাঁর কাছে সে প্রক্রিয়াটাই শুধু যুক্তিসিদ্ধতার বিপরীত এবং নিষ্ফল মনে হয়েছিল। বাকী তাঁর নিজের বাইয়াত সংক্রান্ত ব্যাপারটি ছিল অন্যান্য সাহাবীদের {رَضِيَ ٱللَّٰهُ عَنْهُ} মতো ফিতনা ফ্যাসাদ এড়ানোর লক্ষ্যে। নচেৎ খলীফার কার্যক্রমের সৌন্দয্য কিংবা তাকে সঠিক বিবেচনার ভিত্তিতে নয়।
📌 প্রমাণিত হল যে, হযরত মুহাম্মাদ হানাফিয়া {رَضِيَ ٱللَّٰهُ عَنْهُ}-এর অপরাপর কতিপয় সাহাবী {رَضِيَ ٱللَّٰهُ عَنْهُ}-এর মতো ইয়াযিদ {লা’নাতুল্লাহ্ }-এর বিরুদ্ধে অগ্রসর হওয়াকে নিজের কাছে অবৈধ বা খারাপ মনে করতেন না; বরং বাহ্যিক নানা কারণ ও পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে তা প্রতিক্রিয়াহীন ও দূরদর্শিতাহীন বলে ভেবেছিলেন। সুতরাং ‘খিলাফাতে মুয়াবিয়া ওয়া ইয়াযীদ’ এর লেখকের মন্তব্য “হযরত হুসাইন {رَضِيَ ٱللَّٰهُ عَنْهُ}-এর পদক্ষেপকে হযরত মুহাম্মাদ হানাফিয়া {رَضِيَ ٱللَّٰهُ عَنْهُ} শারী‘আত মতে নাজায়িয মনে করতেন” এটা সম্পূর্ণ ভুল এবং ইতিহাসের প্রতি সর্বৈব মিথ্যাচার।
এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, হযরত মুহাম্মাদ হানাফিয়া {رَضِيَ ٱللَّٰهُ عَنْهُ}-এর পরামর্শ দূরদর্শিতা ও বিচক্ষণতার ভিত্তিতেই ছিল। জ্ঞান-প্রজ্ঞা ও বিচক্ষণতার অধিকারী মাত্রই এরূপ যুক্তিসিদ্ধতা ও পরিণামদর্শিতার ভিত্তিতে কাজ করে থাকেন এবং অপরকেও এতে উৎসাহিত করেন। এছাড়া সময় বিশেষে কৌশল অবলম্বন করা খারাপ কিছু নয়। কিন্তু ইশক্ব ও প্রেমের ধারক বাহকদের প্রকৃতি ব্যতিক্রম পরিলক্ষিত হয়। বুদ্ধিজ্ঞান ও ইশক্ব-প্রেমের তারমতম্য নিরূপনে ডঃ ইকবালের দর্শন নিম্নরূপ :
❝কার্যকারণের এমনি মারপ্যাঁচ, বুদ্ধিমত্তা ক্লান্ত হয়,
প্রেম সে কর্মের এই যে প্রান্তর, প্রাণের বন্যায় অকুতোভয়।
শংকা, ভয়, ডর, জ্ঞানের মূলধন, প্রতিটি ক্ষনে সে দেখছে সংশয়,
প্রেমের নারী সে অটল, অবিচল, দীপ্ত সাহসে, অব্য্য, অক্ষয়।
‘কেন’ বা ‘কি করে’ ‘কোথায়’ ‘কি হবে’ জ্ঞানের ভিত্তি এসবে নিশ্চয়,
প্রেমতো সংশয় জানে না কদাচ, দ্বিধা ও দ্বন্দ্ব-যুক্ত সদাশয়।
ইশক্ব আপনা শক্তি, বিক্রম ত্যাজিবে, করবে নিজেরে ক্ষয়,
বুদ্ধি ভাবনা খাটাতে তৎপর, বুননে জাল সে মগ্ন রয়।
বুদ্ধি মিলবে যত্র তত্র, হাওয়ার মত সে প্রবাহে রয়,
ইশক্ব না সহজে খুঁজলে পাব সে, সস্তা দামে সে পাওয়ার নয়। সারাটি বিশ্ব পূজক, ইশক্ব পূজ্য এমনি বিশ্বময়,
বুদ্ধি যদি যে দূর্গ সোমনাথ, গজনী-মাহমুদ প্রেমেরই জয়।
প্রেম সে সম্রাট ভূবনজোড়া সে প্রমাণ এমনি দীপ্তিময়,
তাবৎ পৃথিবী প্রেমের সকাশে অবনত আর অধীন রয়।
⚜️ মাদীনা মুনাওওয়ারাহ্ থেকে যাত্রা :
সাইয়িদুনা হযরত হুসাইন {رَضِيَ ٱللَّٰهُ عَنْهُ}-এর মাদীনা শারীফ ছেড়ে আসার প্রাক্কালে যখন স্বীয় নানাজান রাসূল {ﷺ}-এর রওযা মুবারকে উপস্থিত হন, সালাত ও সালাম আরয করার পর বিদায় অনুমতি চাইলেন, তখন তাঁর অবস্থা কী হতে পারে? বিষাদের রক্তিম অশ্রু অবিরাম ধারায় বর্ষিত ছিল! ব্যথিত হৃদয় বিরহ যাতনায় রক্তাক্ত ছিল।
পবিত্র যবানে বলছিলেন,—কোলে কাঁধে বসিয়ে খাওয়াতেন যে নানা, মায়া-মমতার বাঁধনে জড়িয়ে ঘুম পাড়ানিয়া শুনাতেন যে নানা, মাথায়, কপালে, অধরে চুম্বনসিক্ত করতেন যে নানা, আমার গৌরবদীপ্ত নানা, আজ আমার অবস্থা দেখুন! বেদনা ভারাক্রান্ত আমি, অশ্রুসিক্ত আমি! আপনার এই পবিত্র শহর ছেড়ে চলে যাচ্ছি আমি, এই শহর আমার সবচেয়ে আদরের, প্রিয়তম শহর, কিন্তু কী করব? এখানে থাকা আমার পক্ষে দুষ্কর আজ। আমি যাচ্ছি, আমাকে অনুমতি দিন।”
আর ওদিকে মমত্ববোধে লালনকারী মাতামহ, নাবীকুল-রাজ রাসূলুল্লাহ্ {ﷺ}-এর কী অবস্থা? এ অবস্থার কল্পনা হৃদয়কে চূর্ণ বিচূর্ণ করে ফেলে, এটা কেমন দিন ছিল! অত্যন্ত বেদনা বিধুর কঠিন সে সময় নাবীজী {ﷺ}-এর দৌহিত্র হযরত আলী {رَضِيَ ٱللَّٰهُ عَنْهُ}-এর কলিজার টুকরা, সাইয়িদা ফাতিমা যাহরা {رَضِيَ ٱللَّٰهُ عَنْهَا}-এর নয়নজ্যোতি, হযরত হাসান মুজতাবা {رَضِيَ ٱللَّٰهُ عَنْهُ}-এর আত্মার শান্তি চলে যাচ্ছেন, চিরতরো সেই যাওয়া।
❝দেখ চেয়ে দেখ মনভরে সব,
দেখ চেয়ে আজ সব মুমিন,
বিদায়ী যাচ্ছেন কারবালায় আজ,
নায়িবে হযরত আল আমীন।
আকাশ থর থর ভয়ে কী অস্থির,
ভূমিতে কম্পন ধরিত্রীর,
মাঝখানে দেন ডানার ছায়া কে,
তিনি সেই রূহুল আমীন।
ফুল কলিরা শোন শোন সব,
সুপ্ত কলি হে, বিদায়ী রব,
দৃষ্টি নন্দন গলি মাদীনার, বিদায়!
বাজিছে ব্যথার বীণ।❞
অতঃপর তিনি শাবান মাস, ৬০ হিজরী সনে পরিবার-পরিজন নিয়ে মাক্কাহ্ মুকাররামার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলেন। যাত্রাকালে পবিত্র মুখে তেলাওয়াত ছিল,—“فخرج منها خائفا يترقب قال رب تجنى من القوم الظالمين”
অর্থ : “তিনি ঐ (শহর) জনপদ থেকে ভীতিগ্রস্থ হয়ে বেরিয়ে পড়লেন, এ প্রতীক্ষায় যে, না জানি কী হবে! বললেন, হে আমার প্রতিপালক, আমাকে এ জালিম গোষ্ঠী থেকে নাজাত দিন।” [সূরাহ্ :আল কাসাস, আয়াত নং : ২০।]
⚜️ হযরত আব্দুল্লাহ্ ইবনে মুতী {رَضِيَ ٱللَّٰهُ عَنْهُ}-এর সাক্ষাৎ :
পথিমধ্যে হযরত আব্দুল্লাহ্ ইবনে মুতী {رَضِيَ ٱللَّٰهُ عَنْهُ}-এর সাথে সাক্ষাৎ হলো। হযরত হুসাইন {رَضِيَ ٱللَّٰهُ عَنْهُ}-এর সপরিবারে মাদীনা মুনাওওয়ারাহ্ থেকে চলে যেতে দেখে তিনি জিজ্ঞেস করলেন,—“আমি আপনার চরণে উৎসর্গ হবো, আপনি কোথায় চলেছেন?”
তিনি বললেন,—“আপাততঃ তো মাক্কাহ্ মুকাররামার দিকে যাচ্ছি, সেখানে পৌঁছে আল্লাহর সাহায্য চেয়ে ‘ইস্তেখারা’ (সিদ্ধান্ত গ্রহণে আল্লাহর ইঙ্গিত খুঁজে দেখা) করে দেখব কোথায় যাওয়া যায়।”
হযরত আব্দুল্লাহ্ ইবনে মুতী {رَضِيَ ٱللَّٰهُ عَنْهُ} বললেন,—“আল্লাহ্ আপনাকে স্বস্থি ও নিরাপদে রাখুন, এবং আমাকে আপনার উদ্দেশ্যে নিবেদিত করুন। যখন আপনি মাক্কাহ্ শারীফ পৌঁছবেন, তখন দয়া করে কখনো ‘কূফা’ যাওয়ার খেয়াল করবেন না। কেননা সে এক অলক্ষুনে জায়াগা, আপনার বুযুর্গ পিতা সেখানে শহীদ হয়েছেন। আর সেখানেই আপনার সহোদর (বড় ভাই) হযরত হাসান {رَضِيَ ٱللَّٰهُ عَنْهُ}-কে বান্ধবহীন, অসহায় অবস্থায় রেখে আসা হয়। তাঁর উপর বর্শার আঘাত হানা হয়পছিল। ফলে মরণদশায় উপনীত হয়েছিলেন। আপনি মাক্কাহ্তেই অবস্থান করুন। মাক্কাহ্ ত্যাগ করে যাবেন না। আপনি আরবকুল সর্দার, হিজাযবাসী (মাক্কাহ, মাদীনা, তায়িফবাসী) কাউকেই আপনার সমকক্ষ মনে করে না। চতুর্দিক থেকে মানুষ আপনার কাছেই ছুটে আসবে। আমার চাচা এবং মামা আপনার জন্য ক্বুরবান। আপনি কা’বার হেরেম কোনো অবস্থাতেই কখনোই ছাড়বেন না। আল্লাহর দোহাই লাগে! খোদা না করুন, যদি আপনি শহীদ হয়ে যান, তবে আপনার পরে আমাদের সবাইকেই ক্রীতদাস বানিয়প রাখা হবে।”
যখন তিনি মাক্কাহ্ মুকাররামায় প্রবেশ করলেন, তখন আপাততঃ স্বস্থিবোধে পবিত্র ক্বুরআনের এই আয়াতে মুবারাকা তিলাওয়াত করলেন,
”ولما توجه تلقاء مدين قال عسى ربي ان يهديني سواء السبيل“
অর্থ : “যখন তিনি ‘মাদইয়ান’ এর প্রতি মনোনিবেশ করলেন, তখন বললেন, আশা করি আমার প্রভু আমাকে সরল পথে চালিত করবেন।” [সূরাহ্ : কাসাস, আয়াত নং : ২০।]
হযরত হুসাইন {رَضِيَ ٱللَّٰهُ عَنْهُ}-এর মাক্কাহ্ মুকাররামায় পৌঁছার সংবাদ পেয়ে মানুষ দলে দলে তাঁর কাছে আসতে লাগল এবং সাক্ষাৎ লাভে ধন্য হতে লাগল। হযরত আব্দুল্লাহ্ ইবনে যুবাইর {رَضِيَ ٱللَّٰهُ عَنْهُ}-ও মাক্কাহ্তেই ছিলেন। তিনিও হযরত হুসাইন {رَضِيَ ٱللَّٰهُ عَنْهُ}-এর কাছে আসা-যাওয়া করতে লাগলেন। মাক্কাহবাসীরা তাঁর আগমনে অত্যন্ত আনন্দিত হল। তাঁরা তাঁর নুরানী সান্নিধ্যে নিজেদের নয়নমন উদ্ভাসিত করতঃ বলতে লাগল,—
❝স্বাগতম হে আগমনে যাঁর, খুশী হল সব,
চেহারা দেখেই খুশী উতরোল হৃদে অভিনব।
চেয়েছিনু মোরা খোদার সকাশে তোমার মিলন,
তোমার চলার তীর্থ পথেই এই দৃষ্টি মগন।
‘মারহাবা’ রাজাধিরাজের ওগো নয়নমনি,
ফাতেমার বুকে সাতরাজ ধন, শুন হর্ষধ্বনি।
নাবুওয়াতরূপ বাগিচার ফুল এলো, এলো আজ,
ধরার জ্যোতি চন্দ্র অতুল, এলো এলো আজ।
হারামাইনের ওগো দীপ্তি, মোরা ধন্য মানি,
হুসাইন এলো, খুলল মোদের কপালখানি।❞
🔶 চলবে...........
🔶 তৃতীয় পর্ব পড়ুন : https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=749701366955960&id=100057483106668&mibextid=Nif5oz
#পবিত্র #মুহাররম #মাস #কারবালা #এর #সঠিক #ইতিহাস