31/01/2026
#নিত্যানন্দরহস্যপ্রকাশে(মহাপ্রভু-হরিদাস সংবাদে)
নিতাইপাদাশ্রিতদ্বেষকর্তা
নিতাইচিহ্নং তিলকং বিহায় ।
স্বেচ্ছাচরঃ স্বরূপবিপ্রকর্তা
পাষণ্ড এব স ন সংশয়োऽস্তি ॥
অর্থ:- যে ব্যক্তি নিতাইচাঁদের চরণাশ্রিত ভক্তদের অপমান করে, যে নিতাইয়ের বংশীপত্র তিলক ও চিহ্নকে ত্যাগ করে,আর যে নিতাইচরণাশ্রয় গ্রহণ করেও পরে স্বেচ্ছাচারী হয়ে নিজের বৈষ্ণব স্বরূপ ও আচরণ পরিবর্তন করে সে নিঃসন্দেহে পাষণ্ড।
মুখে নিতাই জপতি যঃ সদা বৈ
নিন্দাং করোতি তদ্গণস্য মূঢ়ঃ ।
তস্য জপো নাম তপঃ ক্রিয়া চ
নিষ্ফলমেবাস্তি ন সংশয়োऽস্তি ॥
অর্থ:- যে ব্যক্তি মুখে মুখে নিতাই নিতাই জপ করে,
কিন্তু নিতাইয়ের গণ অর্থাৎ তার ভক্তদের নিন্দা করে,
সেই সকল পাষণ্ডীদের নামজপ, তপস্যা, কীর্তন, ক্রিয়া ও বৈষ্ণব সেবা সবই সম্পূর্ণরূপে নিষ্ফল হয়, এতে কোনো সন্দেহ নেই ।
নিতাইপাদাপরাধেন হি নাশং
সর্বস্য পুংসো ভবতীহ নূনম্ ।
ক্ষমাস্তি নাত্রেতি হরিঃ স্বয়ং বৈ
শরণ্যতাং যাতি পুনঃ প্রপন্নঃ ॥
অর্থ:-নিতাইচরণের অপরাধে মানুষের সর্বনাশ অবশ্যম্ভাবী । এই অপরাধের কোনো ক্ষমা নেই এ কথা স্বয়ং শ্রীহরি নির্দেশ করেছেন । কেবলমাত্র পুনরায় নিতাইচরণাশ্রয়ী ভক্তদের শরণ গ্রহণ করলেই
সে ব্যক্তির একমাত্র কল্যাণ সম্ভব ।
নিতাইভক্তস্য পুনঃ যদি শরণ্যং
গত্বা লভেতৈকমিহৈব সৌখ্যম্ ।
অন্যৎ ন কিঞ্চিত্ শুভমস্তি লোকে
নিতাইপাদাম্বুজমাশ্রয়েত্ মাত্র মুক্তি ॥
অর্থ:- এই সংসারে নিতাইভক্তের শরণ ছাড়া
অন্য কোনো কল্যাণের পথ নেই । অতএব একমাত্র নিতাইচাঁদের চরণকমলই নির্ভরযোগ্য আশ্রয়।
নিতাইপাদাব্জবিমুখো ন যস্য
ভক্তেষু ভক্তির্দৃশ্যতে কদাচ ।
নামাপি তস্য ক্ষয়মেতি শীঘ্রং
নিতাইবিমুখস্য ন মুক্তিরস্তি ॥
অর্থ:- যার চিত্ত নিতাইচরণের প্রতি বিমুখ এবং যে কখনোই ভক্তদের প্রতি প্রকৃত ভক্তি প্রদর্শন করে না
তার নামজপও দ্রুত নষ্ট হয়ে যায় । নিতাইবিমুখ ব্যক্তির মুক্তি কখনোই হয় না ।
যঃ সাধুবেশং ধারয়েত্ লোকদৃষ্ট্যৈ
অন্তঃস্থিতো ভোগপরঃ কপটী ।
নিতাইচরণাপরাধেন যো নিত্যং
স পাপভাগী ভবতীহ নূনম্ ॥
অর্থ:- যে ব্যক্তি লোক দেখানোর জন্য সাধুর বেশ ধারণ করে,কিন্তু অন্তরে ভোগাসক্ত ও কপট সে নিতাইচরণে অপরাধে সদা পাপের ভাগী হয়, এতে কোন সন্দেহ নেই।
নিতাইভক্তং নিন্দতি যোऽভিমানী
স হি স্বধর্মমার্গং পরিত্যজ্য হীনঃ।
তস্য ক্রিয়া পূজ্য জপোऽপি সর্বা
ভস্মীভবন্তি এব ক্ষণমাত্রকালে ॥
অর্থ:- যে অহংকারী ব্যক্তি নিতাইভক্তদের নিন্দা করে
এবং সে নিশ্চিত নিজের ধর্মপথ ত্যাগ করে অধঃপাতে যায়, তার সমস্ত কর্ম, পূজা ও জপ মুহূর্তের মধ্যেই নিশ্চিত ভস্মীভূত হয় ।
তিলকং ধৃতং তস্য ন হৃদ্য
ভক্তিঃ ন দৃঢ়া ন চ সাধুসঙ্গঃ।
নিতাইপাদাশ্রয়হীনচেতা
ভ্রান্তো হি সঃ সংসৃতিচক্রমধ্যে॥
অর্থ:- তিলক ধারণ করেও তার হৃদয়ে ভক্তি নেই,
যার সাধুসঙ্গ নেই ও বিশ্বাস দৃঢ় নেই তথা যার নিতাইচরণাশ্রয় নেই সেই ব্যক্তি সংসারচক্রে বিভ্রান্ত হয়।
নিতাইভক্তান্ পরিহায় যস্তু
স্বেচ্ছামতং ধর্মমুদাহরেত্।
ন সৎপথে তস্য গতিঃ কদাচ
অন্ধঃ যথা নষ্টদৃশাং সমূহে ॥
অর্থ:- যে নিতাইভক্তদের ত্যাগ করে নিজের ইচ্ছামতো ধর্ম প্রচার করে,সে কখনোই সৎপথে গতি লাভ করে না, সে অন্ধদের ভিড়ে অন্ধদের পিছে পিছে চলা এক মহান্ধ।
একো হি পন্থা ভুবনেऽত্র নিত্যং
নিতাইপাদাম্বুজসেবনায় ব্রতং ।
তদ্বিপ্রপন্নঃ পতিতোऽপি সদ্যঃ
শুদ্ধো ভবেদিত্যভিধানমস্তি॥
অর্থ:- এই জগতে একমাত্র শাশ্বত পথ হলো
নিতাইচরণের সেবা ব্রত । নিতাইের চরণাশ্রয় ও চরণাশ্রয়ীর আশ্রয় অবলম্বন করলে পতিত ব্যক্তিও তৎক্ষণাৎ শুদ্ধ হয় এটাই শাস্ত্রের ঘোষণা।
নিতাইভক্তদ্বেষপরো নরাধমঃ
নাম্না হরিঃ স্যাৎ স হি পাপবেশ্ম।
ন তস্য পূজা ন জপো ন দানং
শ্মশানতুল্যং সকলং ভবেত্॥
অর্থ:- যে ব্যক্তি নিতাইভক্তদের বিদ্বেষ করে,
সে নরাধম এবং সে সাক্ষাৎ পাপমূর্তি । তার পূজা, জপ, দান সবই শ্মশানের সমান নিস্ফল ।
নিতাইচিহ্নং ধৃতমেব কণ্ঠে
চিত্তং তু বিষয়ে রমতে সদৈব।
সোऽপি দ্বিজঃ পাষণ্ড এব দৃষ্টঃ
ভক্ত্যাভাসেন ন হি মুক্তিরস্তি॥
অর্থ:- যে কেবল বাহ্যিকভাবে নিতাইয়ের চিহ্ন ধারণ করে কিন্তু যার মন সদা বিষয়ভোগে রত সে পাষণ্ডই বটে । ভক্তির অভিনয়ে কখনো মুক্তি লাভ হয় না।
নিতাইনিন্দা যস্য মুখাগ্রবাসে
সোऽপি হরিনাম জপন্নপীহ।
সর্বাপরাধী স ভবেদবশ্যং
ন তস্য কৃপ্যা পথমস্তি কশ্চন॥
অর্থ:- যার মুখাগ্রে নিতাইয়ের নিন্দা হয় (যে নিতাই ও তার গণের নিন্দা করে) , সে হরিনাম জপ করলেওতা নিস্ফল হয় সে অবশ্যই সর্বাপরাধের ভাগী হয় । তার জন্য কৃপালাভের কোনো পথ থাকে না ।
নিতাইপাদং বিনা যস্তু ভক্তিমার্গং প্রবক্তি হি।
স পাষণ্ডী মহাঘোরঃ পাতকী নাশমাপ্নুয়াত্ ॥
অর্থ:- যে নিতাইচরণ ত্যাগ করে ভক্তির পথ প্রচার করে, সে ভয়ংকর পাষণ্ড। সে নিজেই মহাপাপে পতিত হয়ে তার (নিজের) ধ্বংসের দিকেই অগ্রসর হয় ।
অপরাধসহস্রাণি কৃত্বা যঃ পতিতো নরঃ।
নিতাইভক্তাশ্রয়ং প্রাপ্য মুচ্যতে নাত্র সংশয়ঃ॥
অর্থ:- যে ব্যক্তি সহস্র অপরাধ করেও নিতাইভক্তদের শরণ গ্রহণ করে সে অবশ্যই মুক্ত হয়, এতে কোনো সন্দেহ নেই ।
নামজপসহস্রাণি কৃত্বা যঃ বিমুখং নিত্যানন্দং।
স পতন্তি অন্ধতামিস্রং ন মুক্তির্ভবিষ্যতি কদাচন।।
অর্থ:- যে ব্যক্তি সহস্রকোটি নামজপাদি করেও নিত্যানন্দ প্রভুর বিমুখ হয়( তার পরিবারাদি ত্যাগ, তিলক স্বরূপাদি গ্রহণ করে ত্যাগ করে) সে নিশ্চিত অন্ধতামিস্র নরক প্রাপ্ত হয়, তার কস্মিনকালেও মুক্তি লাভ হয়না।