22/05/2026
🕉️ তন্ত্রসাধনার দিগদর্শন 🕉️
আত্মার সাধনার স্বাভাবিক আচার। শিবভাবে স্থিতি, প্রজ্ঞায় প্রতিষ্ঠিত। গীতার সাংখ্য যোগের প্রকাশ।
🔱 (১) বেদাচার : মূলাধার ক্ষেত্রের প্রথম জাগরণ। তন্ত্রাচারের সাধনা। নিয়ম, নিষ্ঠা, সেবা, শুচিতা, কঠোরতা ইত্যাদি সহায়ে আত্মজাগরণের স্ফুরণ—এর পথে অগ্রসর হওয়া।
🔱 (২) বৈষ্ণবাচার : স্বাধিষ্ঠান ক্ষেত্রের সাধনা। ত্যাগ-বৈরাগ্যের স্ফুরণ, আত্মশোধন, নির্মল ভক্তিভাবে আত্মস্থ করে মনকে ভগবৎমুখী করা।
🔱 (৩) শৈবাচার : মণিপুর ক্ষেত্রের সাধনা। মণিপুর তেজতত্ত্ব, কুণ্ডের অবস্থান। জিতেন্দ্রিয়ত্ব, অষ্টাঙ্গ যোগের অভ্যাস দ্বারা অন্তরে শিবতত্ত্বের স্ফুরণ (স্থিত প্রাণে উন্নয়ন)।
🔱 (৪) দক্ষিণাচার : অনাহত ক্ষেত্রের সাধনা। প্রাণের সাধনা, রাগহীন (আসক্তিহীন) শুদ্ধ সত্ত্বগুণের প্রকাশ। বাহ্যাচারের সাধনার অন্তর্গত স্তর।
🔱 (৫) বামাচার : বিশুদ্ধ ক্ষেত্রের (বোমতত্ত্ব) সাধনা। বামাচারের মধ্যে প্রচুর ভোগ-বর্জিত সাধনার অবকাশ আছে। শূন্যভাবে স্থিত হওয়া, অর্থাৎ বিপরীত গতিতে (উর্ধ্বমুখে) সাধন করে প্রাণের নিয়ন্ত্রণে স্থিতি ও লয় যোগের সূচনা।
🔱 (৬) সিদ্ধান্তাচার : আজ্ঞা ক্ষেত্র, ব্রহ্মতত্ত্বের উন্মেষ। নিত্য জ্যোতির দর্শন করে সমাধিস্থ উন্নত অবস্থা, ব্রহ্মতত্ত্বের প্রকাশ। নিত্য ধ্যানাভ্যাস, ভগবৎদর্শন, অক্ষয় বাণী প্রবাহ। বিভূতির উন্মেষসহ অষ্টশক্তি লাভ করে প্রজ্ঞার ইচ্ছা জাগে এবং পতন হয় না। জ্ঞানতত্ত্বের দ্বারা পার্থিব, তারা মায়াতত্ত্বকে আত্মস্থ করে বিভূতিকে অতিক্রম করতে পারে।
🔱 (৭) কুলাচার : সহস্রারের সাধনা। সর্বোচ্চ আচার। পূর্ণ ব্রহ্মতত্ত্ব কিন্তু মাতৃতত্ত্বে প্রতিষ্ঠা। সত্যে প্রতিষ্ঠা, তত্ত্বের উপলব্ধি এবং নিষ্ঠা থেকে সর্বতত্ত্বের সাধনা—অর্থাৎ বেদান্তের অদ্বৈত স্থিতি থেকে লীলায় নেমে আসা, নিত্য থেকে লীলা এবং লীলা থেকে নিত্য পৌঁছানো। পরমহংস স্বরূপিনী মহাশক্তির বিশ্বব্যাপী প্রকাশ উপলব্ধি করাই কুলাচার—যা ক্ষণমাত্রে স্থিত হয়ে সর্বজীবে প্রেমভাব ও সর্বত্র সমদর্শিতা এনে দেয়।
🙏 শিবোহম্ | জয় মা 🔱