02/05/2026
ওঁ নমঃ শ্রীভগবতে প্রণবায়
🙏🙏🙏. 🕉️ 🙏🙏🙏
ইংরাজী ১৯২৫ সাল।
একদিন রমেশবাবু আশ্রম হইতে আসিয়া আমার দোকানে বসিলেন এবং বলিলেন___" স্বামীজী মহারাজ খুলনা আশ্রমে আসিয়াছেন।"শুনিয়াই প্রবল ইচ্ছা হইল আশ্রমে যাইয়া তাঁহার সহিত দেখা করবার। সাধুসন্ন্যাসীর বিষয় শুনিলেই আমার ইচ্ছা হইত,একবার দেখা করিয়া পরীক্ষা করিয়া দেখিব কেমন সাধু।
খেয়া পার হইয়া আশ্রমে গেলাম। তখন বেলা ১১টা। দূর হইতে দেখিলাম নিমতলায় একটি চেয়ারে সাধুজী বসিয়া। জনৈক ব্রহ্মচারী আসিয়া আমাকে কাঁঠালতলার বেদীতে বসিতে বলিলেন। আমি সেখানে বসিয়া সাধুজীর প্রতি দৃষ্টিপাত করিতে লাগিলাম। কিছুক্ষণ পরে উক্ত ব্রহ্মচারী আসিয়া বলিলেন,___" স্বামীজী মহারাজ আপনাকে ডাকিতেছেন।"
দূরত্ব প্রায় ৫০ গজ। আমি উঠিয়া অগ্রসর হইলাম। মনে মনে ভাবিলাম__" আমি ব্রাহ্মন; সন্ধ্যাহ্নিক ও গীতা পাঠ করিয়া থাকি। আমি বহু লোকের গুরু-পুরোহিত। বহু লোকে আমাকে প্রণাম করে। আমি কেন একজন সাধুকে প্রণাম করিব ?আমিও ধ্যান-জপ করি।" মনে বেশ একটু অহঙ্কার ছিল।
অগ্রসর হইয়া নিকটস্হ হইলে সাধুর তেজঃপ্রভায় আমি যেন আত্মসম্বিৎ হারাইয়া ফেলিলাম। কোথায় রহিল আমার আভিজাত্যের অহঙ্কার। আমি শ্রীচরণে লুটাইয়া পড়িলাম। আমি মাথা না তুলিতেই তিনি বলিলেন___" ও জন্য চিন্তা কি ? অল্প দিনেই ঠিক হইয়া যাইবে। স্ত্রীলোকের মন।" তখন পর্য্যন্ত আমি কোন কথাই বলি নাই। আমার মনের বহু দিনের একটি সমস্যা তিনি সমাধান করিয়া দিলেন।
আমি বিস্ময়,শ্রদ্ধা ও ভক্তিতে অবাক্ হইয়া গেলাম। তিনি আমার নাম,ধাম ও কার্য্যাদি জিজ্ঞাসা করিলেন। আমি যথাযথ উত্তর দিলাম। তিনি মাঝে মাঝে আশ্রমে আসিতে বলিলেন। আমি পুনরায় প্রণাম করিয়া তাঁহার অনুমতিক্রমে চলিয়া গেলাম।
( অযাচিত কৃপালাভ )
[ শ্রীসুরেন্দ্র নাথ চট্টোপাধ্যায় )🌹🌷🌷💐💐🌷ওঁ নমঃ শ্রীভগবতে প্রণবায়
🙏🙏🙏. 🕉️ 🙏🙏🙏