06/11/2024
প্রশ্নঃ— শান্তি পাব কী করে?
#শ্রীশ্রীঠাকুরঃ— সদগুরু ধরা লাগে, নাম করা লাগে, সৎকাম করা লাগে। শরীরের জন্য খাদ্য দরকারই, রোজ যদি খাদ্য না খাও, তবে শক্ত শরীরও ভেঙ্গে পড়বে। তাই, শরীরের মত মনপ্রাণ-সুরতকেও তার উপযুক্ত খোরাক নিত্য দেওয়া চাই। নইলে তারা কাহিল হ'য়ে পড়বে, শান্তি ও স্বস্তির ব্যাঘাত হবে। যজন, যাজন, ইষ্টভৃতিই হ'ল মনপ্রাণ-সুরতের প্রধান খোরাক। নামধ্যান রোজ নিয়মিতভাবে করতে হয়, তাঁর কথা সদাসর্ব্বদা কইতে হয়। আর, বাপকে যেমন আমরা রোজ খাওয়াই, গুরুকেও তেমনি রোজ খাওয়াতে হয়। তাঁকে খাইয়ে তারপর নিজে খেতে হয়। গুরু আধ্যাত্মিক ও সর্ব্বভাবে আমাদের পিতা অর্থাৎ পালনকর্ত্তা, রক্ষাকর্ত্তা। গুরুময় হ'লেই জীবন গৌরবময় হয়। জীবনের নীতিবিধি যদি মেনে চলি, আমাদের আর ঠেকায় কে? আমরা তখন ক্রমোন্নতি ও শান্তির পথে চলব এন্তার।
#শ্রীশ্রীঠাকুরঃ—আমরা ভালমন্দ যা'-কিছু করি তা' পরমপিতার শক্তিতেই করি। পরমপিতা চান যে আমরা ভালই থাকি এবং ভালই করি। তাঁকে যারা ভালবাসে তারা ভালই করে। মন্দ কাজ করলে পরমপিতার দেওয়া শক্তির অপব্যবহার করা হয়। তাতে আমাদের নিজেদেরও ক্ষতি হয়, অপরেরও ক্ষতি হয়। আর, তা কখনও পরমপিতার অভিপ্রেত নয়। যারা তাঁর দিকে যতখানি অগ্ৰসর হয় তারা ততখানি bliss (আশীর্ব্বাদ)-- এর অধিকারী হয়, নইলে তিনি সবার কাছেই সমান। খারাপ লোকের কাছেও তিনি merciful (করুণাময়) , ভাল লোকের কাছেও তিনি merciful (করুণাময়)। তবে যার যেমন কর্ম্ম তাকে তদনুযায়ী ফল পেতে হয়। মূল কথা এই যে তিনি আমাদের কতখানি ভালবাসেন, তা' আমাদের বিচার্য্য নয়, আমরা তাঁকে কতখানি ভালবাসি তাই আমাদের বিচার্য্য। তাকে ভালবাসা মানে তাঁর মনোমত হ'য়ে চলা। তিনি জীবনস্বরূপ। তাঁকে ভালবাসলে চেষ্টা হয় কেমন ক'রে প্রতিপ্রত্যেকের জীবনকে সন্দীপ্ত ও সম্বর্দ্ধিত ক'রে তোলা যায়।
আঃ প্রঃ ১১ খন্ড ।
আঃ প্রঃ ১২ খন্ড ।