Purohit Subrata Banerjee

Purohit Subrata Banerjee I am a priest(purohit),all types of Hindus rituals like wedding ceremony,first rice ceremony.

22/04/2026

“উপবাস করুন, উপোস নয়”
আমরা সাধারণভাবে ‘উপবাস’ ও ‘উপোস’ শব্দ দুটিকে একই অর্থে ব্যবহার করি, অর্থাৎ না খেয়ে থাকা। কিন্তু শাস্ত্রীয় ও আধ্যাত্মিক দৃষ্টিকোণ থেকে এদের অর্থ সম্পূর্ণ ভিন্ন।

‘উপবাস’ শব্দটি সংস্কৃত “উপ” (নিকট) এবং “বাস” (অবস্থান করা) থেকে এসেছে—অর্থাৎ ঈশ্বর, আত্মা বা চেতনার নিকটে অবস্থান করা। আর ‘উপোস’ বলতে বোঝায় কেবল খাদ্য ত্যাগ করে শরীরকে কষ্ট দেওয়া। এই পার্থক্যটি বোঝা না গেলে উপবাসের প্রকৃত উদ্দেশ্যই হারিয়ে যায়।

উপোসে মানুষ কেবল শরীরের উপর জোর দেয়—খাবার না খেয়ে থাকা, ক্ষুধা দমন করা, নিয়ম পালন করা। এতে কখনো কখনো অহংকারও জন্ম নিতে পারে—“আমি এতক্ষণ না খেয়ে থাকলাম”, “আমি এত কষ্ট সহ্য করলাম।” এই মনোভাব আধ্যাত্মিক উন্নতির পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়, কারণ এখানে কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে ‘আমি’ বা অহং। শরীর দুর্বল হয়, মন বিরক্ত হয়, এবং চেতনা সংকুচিত হতে থাকে। ফলে উপোস অনেক সময় কেবল একটি বাহ্যিক আচারে সীমাবদ্ধ থাকে, যার গভীরে কোনো রূপান্তর ঘটে না।

অন্যদিকে, উপবাস হলো এক অন্তর্মুখী যাত্রা। এখানে খাদ্য ত্যাগ করা মূল বিষয় নয়; বরং ইন্দ্রিয় ও মনের অস্থিরতা থেকে দূরে সরে গিয়ে আত্মার নিকটে অবস্থান করাই মূল লক্ষ্য। যখন কেউ উপবাস করেন, তখন তিনি শুধু আহার কমান না—তিনি কথাবার্তা কমান, অপ্রয়োজনীয় চিন্তা কমান, ইন্দ্রিয়ের আকর্ষণ থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন। তিনি নিজের ভেতরে প্রবেশ করেন, যেখানে নীরবতা, সচেতনতা এবং ঈশ্বরীয় অনুভূতির উদয় ঘটে। এই অবস্থায় ক্ষুধা আর কষ্টের কারণ হয় না; বরং এটি হয়ে ওঠে এক স্মরণ—আমি দেহ নই, আমি তারও অতীত এক চেতনা।

আধ্যাত্মিকভাবে উপবাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো শুদ্ধি। যখন আমরা কম খাই বা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য খাদ্য গ্রহণ বন্ধ করি, তখন দেহের ভেতরের বিষাক্ত পদার্থ বের হয়ে যায়, ইন্দ্রিয়ের আসক্তি কিছুটা শিথিল হয়। কিন্তু এর থেকেও বড় শুদ্ধি ঘটে মনে। মন যখন বারবার খাবারের চিন্তা থেকে সরে এসে ঈশ্বর, মন্ত্র, ধ্যান বা আত্মচিন্তায় স্থির হয়, তখন তার ভেতরের অস্থিরতা ধীরে ধীরে কমে যায়। এই প্রক্রিয়ায় মন পরিষ্কার হয়, চেতনা উজ্জ্বল হয়, এবং অন্তরের গভীরে এক ধরনের প্রশান্তি জন্ম নেয়।

উপবাসের আরেকটি দিক হলো সংযম ও সচেতনতা। সাধারণত আমরা অভ্যাসবশত খাই—ক্ষুধার জন্য নয়, বরং স্বাদ, অভ্যাস বা আকর্ষণের জন্য। উপবাস সেই অভ্যাসকে প্রশ্ন করে। এটি আমাদের শেখায়, “আমি কি সত্যিই ক্ষুধার কারণে খাচ্ছি, নাকি কেবল ইন্দ্রিয়ের টানে?” এই প্রশ্ন থেকেই শুরু হয় আত্ম-পর্যবেক্ষণ। ধীরে ধীরে মানুষ বুঝতে শেখে তার আসক্তিগুলি কোথায়, এবং কীভাবে সেগুলিকে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। এই নিয়ন্ত্রণই পরবর্তীতে ধ্যান ও সাধনার গভীর স্তরে প্রবেশের পথ তৈরি করে।

আরও গভীরে গেলে দেখা যায়, উপবাস হলো এক ধরনের শক্তি-রূপান্তর। সাধারণত আমাদের শক্তির বড় একটি অংশ হজম প্রক্রিয়ায় ব্যয় হয়। যখন আমরা উপবাস করি, তখন সেই শক্তি মুক্ত হয়ে অন্যদিকে প্রবাহিত হয়—বিশেষ করে মস্তিষ্ক ও চেতনার দিকে। ফলে মনোসংযোগ বাড়ে, ধ্যান সহজ হয়, এবং অন্তর্দৃষ্টি জাগ্রত হতে শুরু করে। এই অবস্থায় সাধক সহজেই নিজের ভেতরের সূক্ষ্ম স্তরগুলি অনুভব করতে পারেন, যা সাধারণ সময়ে সম্ভব হয় না।

উপবাসের চূড়ান্ত তাৎপর্য হলো ঈশ্বর বা আত্মার সঙ্গে সংযোগ স্থাপন। যখন দেহের চাহিদা কিছুটা নীরব হয়, তখন অন্তরের কণ্ঠস্বর স্পষ্ট হয়ে ওঠে। সেই নীরবতার মধ্যেই অনুভব করা যায় এক গভীর উপস্থিতি—যাকে কেউ ঈশ্বর বলেন, কেউ আত্মা, কেউ চেতনা। উপবাস সেই উপস্থিতির কাছে নিয়ে যায়, কারণ এটি বাহ্যিক জগতের কোলাহল থেকে আমাদের সরিয়ে অভ্যন্তরের শান্তিতে স্থাপন করে।

সুতরাং আধ্যাত্মিকতা কেবল বাহ্যিক আচারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। না খেয়ে থাকা যদি আমাদের ভেতরে অহংকার, বিরক্তি বা কষ্ট বাড়ায়, তবে তা উপোস; কিন্তু যদি তা আমাদের অন্তর্মুখী করে, সচেতন করে, ঈশ্বরের নিকটে নিয়ে যায়, তবে সেটাই প্রকৃত উপবাস। সত্যিকারের উপবাসে খাদ্য ত্যাগের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো অহং ত্যাগ, অস্থিরতা ত্যাগ, এবং মায়ার আসক্তি ত্যাগ। এই ত্যাগের মধ্য দিয়েই মানুষ ধীরে ধীরে নিজের প্রকৃত স্বরূপের দিকে অগ্রসর হয়, যেখানে দেহের ক্ষুধা নয়, আত্মার তৃপ্তিই হয়ে ওঠে জীবনের মূল উদ্দেশ্য।

23/03/2026

কন্যা সন্তান কি পিতামাতার পিণ্ডদান করতে পারেন ❓
💥যে পিতা-মাতার কেবল কন্যা সন্তান আছে,পুত্র নেই—তাদের অন্ত্যেষ্টি ক্রিয়া, দাহ ও পিণ্ডদান কন্যা করতে পারবে কি না, এ বিষয়ে স্পষ্ট ও গ্রহণযোগ্য শাস্ত্রসম্মত প্রমাণ আছে।।
নিচে সংক্ষেপে কিন্তু প্রামাণ্যভাবে ব্যাখ্যা দিচ্ছি—

১️.পিতৃঋণ ও পিণ্ডদানের মূল উদ্দেশ্য

শাস্ত্রে পিণ্ডদান ও শ্রাদ্ধের উদ্দেশ্য বলা হয়েছে—
👉পিতৃপুরুষদের তৃপ্তি ও গতি প্রদান,
👉বংশধরের মাধ্যমে পিতৃঋণ পরিশোধ।।

এখানে লিঙ্গ নয়,ভক্তি ও কর্তব্যই মুখ্য—এ কথা বহু শাস্ত্রে স্পষ্ট।।

২️.কন্যা কি পিণ্ডদান ও অন্ত্যেষ্টি করতে পারে??— শাস্ত্র কী বলে
🔹মনুস্মৃতি —Putrikā-putra তত্ত্ব:
মনুস্মৃতি ৯.১৩০ এ বলা হয়েছে—“যদি পুত্র না থাকে, কন্যার পুত্রই পিতার পুত্ররূপে গণ্য হয়।।”

📌 অর্থাৎ—
➡️ কন্যা পুত্রের সমতুল্য অধিকারী
➡️ পিতৃঋণ মুক্তির অধিকার কন্যার বংশেও বর্তায়

এ থেকেই প্রমাণিত হয়—পুত্র না থাকলে কন্যা ও তার সন্তান পিতৃকার্যে অধিকারী।।

🔹গরুড় পুরাণ — কন্যার পিণ্ডদান গ্রহণযোগ্য:
গরুড় পুরাণ (প্রেতখণ্ড) এ বলা হয়েছে—
“পুত্র না থাকিলে কন্যা কর্তৃক প্রদত্ত পিণ্ডও পিতৃগণের জন্য ফলপ্রদ হয়।।”

📌 অর্থাৎ—
➡️ কন্যার দেওয়া পিণ্ড শাস্ত্রসম্মত ও গ্রহণযোগ্য
➡️ পিণ্ডদানের ফল পিতৃলোক পর্যন্ত পৌঁছায়
🔹মহাভারত — কর্তব্যে লিঙ্গভেদ নেই
মহাভারত,অনুশাসন পর্বে ভীষ্ম বলেন—
“যেখানে পুত্র নাই, সেখানে ধর্ম পালনকারী কন্যাই পুত্রের কর্ম সম্পাদন করে।।”
অর্থাৎ—
➡️ ধর্মকর্মে নারী-পুরুষ ভেদ নেই
➡️ কর্তব্য পালনের যোগ্যতাই মুখ্য

৩️.দাহ (অন্ত্যেষ্টি ক্রিয়া) কন্যা করতে পারবে কি??

শাস্ত্রে বলা হয়েছে—
👉পুত্র থাকলে পুত্র করবে
👉পুত্র না থাকলে → কন্যা, দৌহিত্র, নিকট আত্মীয় করতে পারে

বর্তমান স্মৃতি ও আচারগ্রন্থগুলো (যাজ্ঞবল্ক্য স্মৃতি, আপস্তম্ব ধর্মসূত্র) একমত যে—
পুত্রের অভাবে কন্যার দ্বারা দাহ ও অন্ত্যেষ্টি ধর্মসম্মত সংকল্পে উল্লেখ করা হয়— “পুত্রাভাবে কন্যা কর্তৃক”

৪️.শুধুমাত্র কন্যা সন্তান থাকা কি দুর্ভাগ্য??
❌একেবারেই না।।

শাস্ত্র বলে—
“যে সন্তান পিতৃঋণ মোচন করে, সেই প্রকৃত পুত্র।।”

👉পিতৃসেবা করে
👉শ্রাদ্ধ-পিণ্ডদান করে
👉ধর্ম পালন করে

➡️ তবে সে পুত্রের চেয়েও শ্রেষ্ঠ ফল প্রদান করে।।
দেবী ভাগবত পুরাণ এ বলা হয়েছে—“কন্যা লক্ষ্মীর স্বরূপা।।”

✔️ পুত্র না থাকলে কন্যা পিণ্ডদান করতে পারে
✔️ কন্যা অন্ত্যেষ্টি ও দাহ করতে পারে
✔️ কন্যা দ্বারা পিতৃঋণ পূর্ণরূপে মুক্ত হয়
✔️ কন্যাসন্তান থাকা কোনোভাবেই দুর্ভাগ্য নয়

শাস্ত্র বলে— পুত্র না থাকলে কন্যাই পুত্র, কন্যাই ধারক, কন্যাই পিতৃঋণমোচক।।

Address

Mahinagar
Rajpur Sonarpur
700145

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Purohit Subrata Banerjee posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Place Of Worship

Send a message to Purohit Subrata Banerjee:

Shortcuts

Share