Purohit Subrata Banerjee

Purohit Subrata Banerjee I am a priest(purohit),all types of Hindus rituals like wedding ceremony,first rice ceremony.

22/04/2026

“উপবাস করুন, উপোস নয়”
আমরা সাধারণভাবে ‘উপবাস’ ও ‘উপোস’ শব্দ দুটিকে একই অর্থে ব্যবহার করি, অর্থাৎ না খেয়ে থাকা। কিন্তু শাস্ত্রীয় ও আধ্যাত্মিক দৃষ্টিকোণ থেকে এদের অর্থ সম্পূর্ণ ভিন্ন।

‘উপবাস’ শব্দটি সংস্কৃত “উপ” (নিকট) এবং “বাস” (অবস্থান করা) থেকে এসেছে—অর্থাৎ ঈশ্বর, আত্মা বা চেতনার নিকটে অবস্থান করা। আর ‘উপোস’ বলতে বোঝায় কেবল খাদ্য ত্যাগ করে শরীরকে কষ্ট দেওয়া। এই পার্থক্যটি বোঝা না গেলে উপবাসের প্রকৃত উদ্দেশ্যই হারিয়ে যায়।

উপোসে মানুষ কেবল শরীরের উপর জোর দেয়—খাবার না খেয়ে থাকা, ক্ষুধা দমন করা, নিয়ম পালন করা। এতে কখনো কখনো অহংকারও জন্ম নিতে পারে—“আমি এতক্ষণ না খেয়ে থাকলাম”, “আমি এত কষ্ট সহ্য করলাম।” এই মনোভাব আধ্যাত্মিক উন্নতির পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়, কারণ এখানে কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে ‘আমি’ বা অহং। শরীর দুর্বল হয়, মন বিরক্ত হয়, এবং চেতনা সংকুচিত হতে থাকে। ফলে উপোস অনেক সময় কেবল একটি বাহ্যিক আচারে সীমাবদ্ধ থাকে, যার গভীরে কোনো রূপান্তর ঘটে না।

অন্যদিকে, উপবাস হলো এক অন্তর্মুখী যাত্রা। এখানে খাদ্য ত্যাগ করা মূল বিষয় নয়; বরং ইন্দ্রিয় ও মনের অস্থিরতা থেকে দূরে সরে গিয়ে আত্মার নিকটে অবস্থান করাই মূল লক্ষ্য। যখন কেউ উপবাস করেন, তখন তিনি শুধু আহার কমান না—তিনি কথাবার্তা কমান, অপ্রয়োজনীয় চিন্তা কমান, ইন্দ্রিয়ের আকর্ষণ থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন। তিনি নিজের ভেতরে প্রবেশ করেন, যেখানে নীরবতা, সচেতনতা এবং ঈশ্বরীয় অনুভূতির উদয় ঘটে। এই অবস্থায় ক্ষুধা আর কষ্টের কারণ হয় না; বরং এটি হয়ে ওঠে এক স্মরণ—আমি দেহ নই, আমি তারও অতীত এক চেতনা।

আধ্যাত্মিকভাবে উপবাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো শুদ্ধি। যখন আমরা কম খাই বা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য খাদ্য গ্রহণ বন্ধ করি, তখন দেহের ভেতরের বিষাক্ত পদার্থ বের হয়ে যায়, ইন্দ্রিয়ের আসক্তি কিছুটা শিথিল হয়। কিন্তু এর থেকেও বড় শুদ্ধি ঘটে মনে। মন যখন বারবার খাবারের চিন্তা থেকে সরে এসে ঈশ্বর, মন্ত্র, ধ্যান বা আত্মচিন্তায় স্থির হয়, তখন তার ভেতরের অস্থিরতা ধীরে ধীরে কমে যায়। এই প্রক্রিয়ায় মন পরিষ্কার হয়, চেতনা উজ্জ্বল হয়, এবং অন্তরের গভীরে এক ধরনের প্রশান্তি জন্ম নেয়।

উপবাসের আরেকটি দিক হলো সংযম ও সচেতনতা। সাধারণত আমরা অভ্যাসবশত খাই—ক্ষুধার জন্য নয়, বরং স্বাদ, অভ্যাস বা আকর্ষণের জন্য। উপবাস সেই অভ্যাসকে প্রশ্ন করে। এটি আমাদের শেখায়, “আমি কি সত্যিই ক্ষুধার কারণে খাচ্ছি, নাকি কেবল ইন্দ্রিয়ের টানে?” এই প্রশ্ন থেকেই শুরু হয় আত্ম-পর্যবেক্ষণ। ধীরে ধীরে মানুষ বুঝতে শেখে তার আসক্তিগুলি কোথায়, এবং কীভাবে সেগুলিকে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। এই নিয়ন্ত্রণই পরবর্তীতে ধ্যান ও সাধনার গভীর স্তরে প্রবেশের পথ তৈরি করে।

আরও গভীরে গেলে দেখা যায়, উপবাস হলো এক ধরনের শক্তি-রূপান্তর। সাধারণত আমাদের শক্তির বড় একটি অংশ হজম প্রক্রিয়ায় ব্যয় হয়। যখন আমরা উপবাস করি, তখন সেই শক্তি মুক্ত হয়ে অন্যদিকে প্রবাহিত হয়—বিশেষ করে মস্তিষ্ক ও চেতনার দিকে। ফলে মনোসংযোগ বাড়ে, ধ্যান সহজ হয়, এবং অন্তর্দৃষ্টি জাগ্রত হতে শুরু করে। এই অবস্থায় সাধক সহজেই নিজের ভেতরের সূক্ষ্ম স্তরগুলি অনুভব করতে পারেন, যা সাধারণ সময়ে সম্ভব হয় না।

উপবাসের চূড়ান্ত তাৎপর্য হলো ঈশ্বর বা আত্মার সঙ্গে সংযোগ স্থাপন। যখন দেহের চাহিদা কিছুটা নীরব হয়, তখন অন্তরের কণ্ঠস্বর স্পষ্ট হয়ে ওঠে। সেই নীরবতার মধ্যেই অনুভব করা যায় এক গভীর উপস্থিতি—যাকে কেউ ঈশ্বর বলেন, কেউ আত্মা, কেউ চেতনা। উপবাস সেই উপস্থিতির কাছে নিয়ে যায়, কারণ এটি বাহ্যিক জগতের কোলাহল থেকে আমাদের সরিয়ে অভ্যন্তরের শান্তিতে স্থাপন করে।

সুতরাং আধ্যাত্মিকতা কেবল বাহ্যিক আচারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। না খেয়ে থাকা যদি আমাদের ভেতরে অহংকার, বিরক্তি বা কষ্ট বাড়ায়, তবে তা উপোস; কিন্তু যদি তা আমাদের অন্তর্মুখী করে, সচেতন করে, ঈশ্বরের নিকটে নিয়ে যায়, তবে সেটাই প্রকৃত উপবাস। সত্যিকারের উপবাসে খাদ্য ত্যাগের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো অহং ত্যাগ, অস্থিরতা ত্যাগ, এবং মায়ার আসক্তি ত্যাগ। এই ত্যাগের মধ্য দিয়েই মানুষ ধীরে ধীরে নিজের প্রকৃত স্বরূপের দিকে অগ্রসর হয়, যেখানে দেহের ক্ষুধা নয়, আত্মার তৃপ্তিই হয়ে ওঠে জীবনের মূল উদ্দেশ্য।

23/03/2026

কন্যা সন্তান কি পিতামাতার পিণ্ডদান করতে পারেন ❓
💥যে পিতা-মাতার কেবল কন্যা সন্তান আছে,পুত্র নেই—তাদের অন্ত্যেষ্টি ক্রিয়া, দাহ ও পিণ্ডদান কন্যা করতে পারবে কি না, এ বিষয়ে স্পষ্ট ও গ্রহণযোগ্য শাস্ত্রসম্মত প্রমাণ আছে।।
নিচে সংক্ষেপে কিন্তু প্রামাণ্যভাবে ব্যাখ্যা দিচ্ছি—

১️.পিতৃঋণ ও পিণ্ডদানের মূল উদ্দেশ্য

শাস্ত্রে পিণ্ডদান ও শ্রাদ্ধের উদ্দেশ্য বলা হয়েছে—
👉পিতৃপুরুষদের তৃপ্তি ও গতি প্রদান,
👉বংশধরের মাধ্যমে পিতৃঋণ পরিশোধ।।

এখানে লিঙ্গ নয়,ভক্তি ও কর্তব্যই মুখ্য—এ কথা বহু শাস্ত্রে স্পষ্ট।।

২️.কন্যা কি পিণ্ডদান ও অন্ত্যেষ্টি করতে পারে??— শাস্ত্র কী বলে
🔹মনুস্মৃতি —Putrikā-putra তত্ত্ব:
মনুস্মৃতি ৯.১৩০ এ বলা হয়েছে—“যদি পুত্র না থাকে, কন্যার পুত্রই পিতার পুত্ররূপে গণ্য হয়।।”

📌 অর্থাৎ—
➡️ কন্যা পুত্রের সমতুল্য অধিকারী
➡️ পিতৃঋণ মুক্তির অধিকার কন্যার বংশেও বর্তায়

এ থেকেই প্রমাণিত হয়—পুত্র না থাকলে কন্যা ও তার সন্তান পিতৃকার্যে অধিকারী।।

🔹গরুড় পুরাণ — কন্যার পিণ্ডদান গ্রহণযোগ্য:
গরুড় পুরাণ (প্রেতখণ্ড) এ বলা হয়েছে—
“পুত্র না থাকিলে কন্যা কর্তৃক প্রদত্ত পিণ্ডও পিতৃগণের জন্য ফলপ্রদ হয়।।”

📌 অর্থাৎ—
➡️ কন্যার দেওয়া পিণ্ড শাস্ত্রসম্মত ও গ্রহণযোগ্য
➡️ পিণ্ডদানের ফল পিতৃলোক পর্যন্ত পৌঁছায়
🔹মহাভারত — কর্তব্যে লিঙ্গভেদ নেই
মহাভারত,অনুশাসন পর্বে ভীষ্ম বলেন—
“যেখানে পুত্র নাই, সেখানে ধর্ম পালনকারী কন্যাই পুত্রের কর্ম সম্পাদন করে।।”
অর্থাৎ—
➡️ ধর্মকর্মে নারী-পুরুষ ভেদ নেই
➡️ কর্তব্য পালনের যোগ্যতাই মুখ্য

৩️.দাহ (অন্ত্যেষ্টি ক্রিয়া) কন্যা করতে পারবে কি??

শাস্ত্রে বলা হয়েছে—
👉পুত্র থাকলে পুত্র করবে
👉পুত্র না থাকলে → কন্যা, দৌহিত্র, নিকট আত্মীয় করতে পারে

বর্তমান স্মৃতি ও আচারগ্রন্থগুলো (যাজ্ঞবল্ক্য স্মৃতি, আপস্তম্ব ধর্মসূত্র) একমত যে—
পুত্রের অভাবে কন্যার দ্বারা দাহ ও অন্ত্যেষ্টি ধর্মসম্মত সংকল্পে উল্লেখ করা হয়— “পুত্রাভাবে কন্যা কর্তৃক”

৪️.শুধুমাত্র কন্যা সন্তান থাকা কি দুর্ভাগ্য??
❌একেবারেই না।।

শাস্ত্র বলে—
“যে সন্তান পিতৃঋণ মোচন করে, সেই প্রকৃত পুত্র।।”

👉পিতৃসেবা করে
👉শ্রাদ্ধ-পিণ্ডদান করে
👉ধর্ম পালন করে

➡️ তবে সে পুত্রের চেয়েও শ্রেষ্ঠ ফল প্রদান করে।।
দেবী ভাগবত পুরাণ এ বলা হয়েছে—“কন্যা লক্ষ্মীর স্বরূপা।।”

✔️ পুত্র না থাকলে কন্যা পিণ্ডদান করতে পারে
✔️ কন্যা অন্ত্যেষ্টি ও দাহ করতে পারে
✔️ কন্যা দ্বারা পিতৃঋণ পূর্ণরূপে মুক্ত হয়
✔️ কন্যাসন্তান থাকা কোনোভাবেই দুর্ভাগ্য নয়

শাস্ত্র বলে— পুত্র না থাকলে কন্যাই পুত্র, কন্যাই ধারক, কন্যাই পিতৃঋণমোচক।।

11/12/2025

#ত্রিপুষ্কর দোষ কি?
ত্রিপুষ্করাদি দোষ নিয়ে: সংক্ষেপে আলোচনা ও প্রাসঙ্গিক শাস্ত্রব্যাখ্যা
একপাদ বা এক-পুষ্কর দোষ, দ্বিপাদ বা দ্বি-পুষ্কর দোষ এবং ত্রিপুষ্কর বা চরপাদ দোষ — এগুলোর প্রতিকার ব্যবস্থা বহু প্রাচীনকাল থেকেই শাস্ত্রে নির্ধারিত।

মানুষের মৃত্যু স্বভাবতই গভীর দুঃখের বিষয়। আর সেই সঙ্গে অনেক সময় মনে এক ধরনের আশঙ্কা জাগে— প্রয়াত ব্যক্তি কোনো বিশেষ দোষের কারণে অশুভ প্রভাবে পড়েছেন কি না! যদিও জন্ম ও মৃত্যু সম্পূর্ণই আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। বিজ্ঞান ও আধুনিক প্রযুক্তির উন্নতি সত্ত্বেও মানবজীবনের সব অধ্যায়কে মানুষ পরিচালনা করতে পারে না। তাই এখানেই স্বীকার করতে হয়—
“জাতস্য হি ধ্রুবো মৃত্যু ধ্রুবং জন্ম মৃত্যুঃ চ।”

অর্থাৎ জন্ম ও মৃত্যু—এই দুই ঘটনাই অবশ্যম্ভাবী।

কালের প্রভাব ও শাস্ত্রোক্ত ব্যাখ্যা

মহাভারতে বলা হয়েছে—কেউই বিধাতার নির্দিষ্ট পথ অতিক্রম করতে পারে না। ভাব–অভাব, সুখ–দুঃখ সবই কালের সৃষ্টি। কাল জীব সৃষ্টি করে এবং কালই জীবের সংহার করে। এই অনিবার্য কালের প্রভাবে ঋষিগণ জ্যোতিষশাস্ত্রের মাধ্যমে শুভ–অশুভ সময় নির্ণয় করেছেন। জন্ম-মৃত্যু যেহেতু মানুষের হাতে নেই, তাই সে সময়ের শুভাশুভ ফল কালেরই নির্ধারিত।

বার–তিথি–নক্ষত্রে পুষ্করের যোগ

জ্যোতিষশাস্ত্র অনুসারে—

শনিবার, রবিবার ও মঙ্গলবার,

দ্বিতীয়া, সপ্তমী, দ্বাদশী তিথি,

পুনর্বসু, উত্তরাষাঢ়া, কৃত্তিকা, উত্তরফল্গুনী, পূর্বভাদ্রপদ ও বিশাখা নক্ষত্র
—এগুলোকে পুষ্কর বলা হয়।

বার, তিথি ও নক্ষত্রের এই তিনটি পুষ্করের যোগ একত্রে ঘটলে তাকে ত্রিপুষ্কর বলা হয়।
একটি যোগ হলে—একপুষ্কর
দুটি যোগ হলে—দ্বিপুষ্কর
তিনটি যোগ হলে—ত্রিপুষ্কর বা চরপাদ।

ত্রিপুষ্কর জন্মে জাতককে শাস্ত্রে জারজ বলা হয়েছে, এবং এই যোগে করা কোনো কাজ তিনগুণ প্রভাব ফেলে—শুভ হলে তিনগুণ শুভ, অশুভ হলে তিনগুণ অশুভ।

শাস্ত্রীয় উদ্ধৃতি (বরাহসংহিতা)

শাস্ত্রে বলা আছে—
ত্রিপুষ্কর যোগে যেকোনো শুভ বা অশুভ কাজের ফল তিনগুণ হয় এবং এই যোগে সমগ্র গৃহ ও আত্মীয় পরিজন পর্যন্ত দুঃখে আক্রান্ত হতে পারে।

বার–তিথি–নক্ষত্র দোষের পৃথক প্রভাব

বারদোষে শস্য ও সন্তানহানি ঘটে।

তিথিদোষে গবাদি পশুহানি হয়।

নক্ষত্রদোষে বংশ, এমনকি বাড়ির বৃক্ষ পর্যন্ত নষ্ট হয়।

আর তিনটির সমন্বয়ে—ত্রিপুষ্কর দোষ—মা, বাবা, ভাই-বোন, শ্বশুর-শাশুড়ি, স্বামী-স্ত্রী—যে কোনো ঘনিষ্ঠ আত্মীয় এক বছরের মধ্যে কষ্টভোগ করতে বাধ্য হয়

বঙ্গদেশে বহু স্থানে কার্তিক শুক্লা নবমী তিথিতে দেবী জগদ্ধাত্রীর আরাধনা হয়ে থাকে। জগদ্ধাত্রী পুজোর ব্যাপকতা সেভাবে না থাক...
27/10/2025

বঙ্গদেশে বহু স্থানে কার্তিক শুক্লা নবমী তিথিতে দেবী জগদ্ধাত্রীর আরাধনা হয়ে থাকে। জগদ্ধাত্রী পুজোর ব্যাপকতা সেভাবে না থাকলেও, বা জগদ্ধাত্রীপুজো বঙ্গদেশের বাইরে একেবারেই প্রচলিত না হলেও, দেবী সাধক সমাজে অগ্রগণ্যা। তান্ত্রিক মার্গে জগদ্ধাত্রীই হলেন সাধকের অভীষ্ট ব্রহ্মের স্বগুন রূপ। সৎ, চিৎ এবং আনন্দের সমিষ্টিই হলেন পরমব্রহ্ম। সেই পরমানন্দের সন্ধানই দেবীর রূপ রহস্য। নিবিষ্ট চিত্তে এই সন্ধান চালিয়ে গেলে, ক্রমে সাধক তার কাঙ্খিত পরমব্রহ্মের স্বরূপ জ্ঞাত হয়, উন্মোচিত হয় ব্রহ্মবিদ্যা। দেবী জগদ্ধাত্রীই সাক্ষাৎ ব্রহ্মবিদ্যা। স্বভাবত নিরাকার রূপিনী এই দেবী এক্ষণে পরমা প্রকৃতিরূপে নিজেকে প্রকাশিত করেছেন, অতঃপর সৃষ্টি স্থিতি লয়ের মাধ্যমে অখিল জগৎ রূপে বিরাজ করছেন। ওই বিশ্বেশ্বরী বিশ্বে জীবকুল রূপে প্রকাশিত। জীব, নির্জীব, তথা তার মধ্যে শ্রেষ্ঠ মনুষ্যকুল তাঁরই চূড়ান্ত বিবর্তিত প্রতিমা। মনুষ্য দেহে চৈতন্য রূপে নিরাকারা হয়ে বিরাজ করেন ও দেহরূপে সাকারা হয়ে।ওই নিরাকারা বিশ্বব্যাপিনী চৈতন্য জীবদেহে কুণ্ডলিনীরূপা মহাশক্তি। তিনিই ত্রিগুনাতীত সাধকের সন্ধানী চেতনায় ধরা দিচ্ছেন মূর্ত ব্রহ্মরূপে। জগদ্ধাত্রী তত্ত্ব নিয়ে অগ্রসর হওয়ার পূর্বে কামিনী তত্ত্ব সম্বন্ধে আলোচনা প্রয়োজন। সাধন বাস্তবিক এক সন্ধান। কিসের সন্ধান? স্বয়ং এবং ব্রহ্মের মধ্যে অবিচ্ছেদ্য সম্পর্কের রহস্য উদঘাটন করাই সাধন। সন্ধান করতে হবে সেই আনন্দের, যা জীবের মধ্যেই বিরাজ করছে। যার উপস্থিতি টের পাওয়া সহজ, কিন্তু অবস্থান অতীব দুর্গম অগম্য ধামে। নিষ্কাম হওয়াও এক প্রকার কামনা, তাই কামিনী তত্ত্ব সাধকের সন্ধানের প্রথম সোপান। প্রবৃত্তিকে নিবৃত্তিতে রূপান্তরিত করাও এক কঠিন কামনা। যতক্ষণ সাধক তাঁর শক্তি বহির্মুখী থেকে অন্তর্মুখী করতে অপারগ, ততক্ষণই তিনি চিদানন্দের স্বরূপ জ্ঞাত নন। এই বিপুল সাধনশক্তিকে কেন্দ্রীভূত করে, প্রবৃত্তিকে জয় করে, নিবৃত্তির মার্গে তাকে চালিত করে ব্রহ্মের উদ্যেশে গমনে সহায়তা করেন কুলকুন্ডলিনি কামিনী। সাধকের নিষ্কাম হওয়ার কামনা পরিপূর্ণ করেন। কামিনী আর জগদ্ধাত্রীর রূপ রহস্য একই সূত্রে বাঁধা। তফাৎ কেবল একটাই। জগদ্ধাত্রীর ক্ষেত্রে বাহন মৃগেন্দ্র করি (হস্তী) মস্তক দমন করে রেখেছে, কিন্তু কামিনী দেবীর ক্ষেত্রে সেরূপ দেখা যায় না, যথা-
“সিংহস্কন্ধসমারূঢ়াং রক্তবর্ণাং চতুর্ভূজাম।
নানালঙ্কারভূষাঢ়্যাং রক্তবস্ত্র বিভূষিতাম্।
শঙ্খ চক্র ধনুর্ব্বান বিরাজিত করাম্বুজাম্।।
কামিনীং প্রথমং ধ্যাত্বা জপ পূজাং সমাচরে‍ৎ।।”

কালকে গনেশ চতুর্থী উপলক্ষে এই লেখাটি দেওয়া হল। আশা করি ভাল লাগবে। ভগবান গনেশ আপনাদের মঙ্গল করুন।• ভারতীয় শিল্পকলায় প্র...
26/08/2025

কালকে গনেশ চতুর্থী উপলক্ষে এই লেখাটি দেওয়া হল। আশা করি ভাল লাগবে। ভগবান গনেশ আপনাদের মঙ্গল করুন।

• ভারতীয় শিল্পকলায় প্রথম থেকেই গণেশ গজানন, একদন্ত ও লম্বোদর। গণেশের ধ্যান, প্রার্থনা ও প্রণাম মন্ত্রেও তাঁর এই রূপেরই কদর বেশি। যেমন –
• “খর্বং স্থূলতনুং গজেন্দ্রবদনং লম্বোদরং সুন্দরং প্রস্যন্দন্মদ্গন্ধলুব্ধমধুপব্যালোলগণ্ডস্থলম্।
দন্তাঘাতবিদারিতারিরুধিরৈঃ সিন্দূরশোভাকরং বন্দে শৈলসুতাসুতং গণপতিং সিদ্ধিপ্রদং কামদম্।।” (গণেশধ্যানম্)
• অর্থাৎ, “যিনি খর্বাকৃতি, স্থূলশরীর, লম্বোদর, গজেন্দ্রবদন অথচ সুন্দর; বদন হইতে নিঃসৃত মদগন্ধে প্রলুব্ধ ভ্রমরসমূহের দ্বারা যাঁহার গণ্ডস্থল ব্যাকুলিত; যিনি দন্তাঘাতে শত্রুর দেহ বিদারিত করিয়া তাহার দন্ত দ্বারা নিজ দেহে সিন্দূরের শোভা ধারণ করিয়াছেন; সেই পার্বতীপুত্র সিদ্ধিদাতা ও কামদাতা গণপতিকে বন্দনা করি।”
গণেশের প্রণামমন্ত্রেও দেখা যায় –
• একদন্তং মহাকায়ং লম্বোদরং গজাননং।
বিঘ্ননাশকরং দেবং হেরম্বং প্রণমাম্যহম্।। (গণেশপ্রণামঃ)
• অর্থাৎ, “যিনি একদন্ত, মহাকায়, লম্বোদর, গজানন এবং বিঘ্ননাশকারী সেই হেরম্বদেবকে আমি প্রণাম করি।”
গণেশের প্রার্থনা মন্ত্রটি ততোধিক সুলিখিত –
• দেবেন্দ্রমৌলিমন্দারমকরন্দকণারুণাঃ।
বিঘ্নং হরন্তু হেরম্বচরণাম্বুজরেণবঃ।। (গণেশপ্রার্থনা)
• অর্থাৎ, “দেবরাজ ইন্দ্রের মস্তকে বিরাজিত মন্দারপুষ্পের পরাগসমূহের দ্বারা রক্তিম হেরম্বের পাদপদ্মের রেণুসমূহ আমার বিঘ্নহরণ করুক।”
• গণেশের প্রথম দিকের মূর্তিগুলিতে দেখা যায়, গণেশ তাঁর ভগ্ন দাঁতটি স্বহস্তে ধরে আছেন। গণেশ লম্বোদর গুপ্তযুগ থেকেই। ব্রহ্মাণ্ড পুরাণ মতে, তাঁর উদরে সমগ্র জগৎসংসারের অবস্থান বলেই তিনি লম্বোদর। গণেশের হস্তসংখ্যা ও অস্ত্র নিয়ে নানা মতদ্বৈধ দেখা যায়। সচরাচর গণেশের চতুর্ভূজ মূর্তি অধিক পূজিত হলেও স্থানবিশেষে দ্বিভূজ থেকে ষড়ভূজ গণেশও দেখা যায়। গণেশের হাতে সাধারণভাবে পাশ-অঙ্কুশ, বরাভয় ও মোদকই দেখা যায়। তবে বাঙালি বিশ্বাসে গণেশ বিষ্ণুর মতো শঙ্খচক্রগদাপদ্মধারী। এই প্রসঙ্গেব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণ-এ কথিত পার্বতীর কৃষ্ণরূপী পুত্রলাভের উপাখ্যানটি স্মর্তব্য। গণেশের বাহন মুষিক বা ইঁদুর। ইঁদুর ধর্মের অবতার; মহাবল ও পূজাসিদ্ধির অনুকূল। অন্যমতে, সংস্কৃত মুষিক শব্দটি ‘মুশ’ ধাতু থেকে উৎপন্ন, যার অর্থ চুরি করা। মনে করা হয়, গণেশের পদতলে ইঁদুর, গণেশ কর্তৃক বিঘ্নবিজয়ের প্রতীকমাত্র। বৃহদ্ধর্ম পুরাণ ও ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণ অনুসারে পৃথিবী গণেশকে মুষিক বাহন দিয়েছিলেন।
ভারতে ও ভারতের বাইরে প্রাপ্ত বিভিন্ন প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন ও বিভিন্ন শাস্ত্রে গণেশের এই সাধারণ রূপের বহু রূপভেদও দৃষ্ট হয়। এই সকল রূপভেদের মূর্তি অনুসারে ধ্যান ও পূজাবিধি ভিন্ন ভিন্ন। যেমন, গুপ্তযুগে প্রাপ্ত কয়েকটি গণেশমূর্তি অষ্টভূজ থেকে দশভূজ। আবার তন্ত্রগ্রন্থতন্ত্রসার, কাশ্মীরে, নেপালে ও আফগানিস্তানে কোনও কোনও ক্ষেত্রে গণেশের বাহন সিংহ। এদিকে প্রসন্ন গণেশ সাধারণ রূপেই বিরাজমান। কিন্তু প্রাণতোষিনী তন্ত্র-এ উল্লিখিত চৌরগণেশ সাধনার ফল চুরি করেন। বিঘ্নগণেশ বিঘ্ন ঘটান। লক্ষ্মীগনেশ লক্ষ্মীকে আলিঙ্গন করে থাকেন।
• মহাগণপতি – মহাগণপতি গণেশের একটি তান্ত্রিক রূপ। এঁর সঙ্গে শক্তি বিরাজমান এবং পরস্পর পরস্পরের উপস্থ স্পর্শ করে আছেন। এই মূর্তি শক্তিগণপতি বা বিরিগণপতির মতো আদিরসাশ্রিত।
• হেরম্ব-গণপতি – হেরম্ব-গণপতি তন্ত্রসার-এ উল্লেখিত। তিনি পঞ্চানন। মধ্যের মাথাটি আকাশের দিকে ঊর্ধ্বমুখ। হাতে বর, অভয় , মোদক, নিজদন্ত, টাঙ্গি, মুণ্ডমালা, মুদগর, অঙ্কুশ ও ত্রিশূল। হেরম্ব শব্দের অর্থ দীন পালক। বাহন সিংহ। যদিও নেপালে হেরম্ব-গণপতির বাহন ইঁদুরই।
• নৃত্যগণেশ – নৃত্যগণেশ আটহাতে নৃত্যরত। তাঁর হাতে অস্ত্র নেই। তিনি নাচের মুদ্রা দেখাচ্ছেন।
• বিনায়ক গণেশ – বিনায়ক গণেশের উল্লেখ আছে অগ্নিপুরাণ গ্রন্থে। এই গণেশের পাঁচটি বিশিষ্ট রূপ – চিন্তামণি বিনায়ক, কপর্দী বিনায়ক, আশা বিনায়ক, গজবিনায়ক ও সিদ্ধিবিনায়ক। যদিও যাজ্ঞবল্ক্য স্মৃতি অনুসারে বিনায়ক একজনই, এবং তিনি অম্বিকাপুত্র।
• বৌদ্ধ গণেশ – বৌদ্ধ গণেশের উল্লেখ মেলে বৌদ্ধ সাধনমালা-তে। তিনি দ্বাদশভূজ। তাঁর একটি হাতে রক্তপূর্ণ কপাল, আরেক হাতে শুষ্ক মাংসপূর্ণ কপাল।
• খ্রিস্টপূর্ব প্রথম থেকে খ্রিস্টীয় প্রথম শতকের মধ্যে মির্মিত শ্রীলঙ্কার মিহিনটালে প্রাপ্ত শিলাফলকে গুড়ি মারা গজমুণ্ড ও রদবিশিষ্ট মূর্তিটিকে গণেশের প্রাচীনতম শিল্পরূপ বলে মনে করা হয়। উত্তর প্রদেশের ফররুখবাদ জেলায় প্রাপ্ত আনুমানিক চতুর্থ খ্রিস্টাব্দে নির্মিত দ্বিভূজ একটি গণেশ শিলামূর্তিতে দেখা যায় দেবতার বাম হস্তে মোদকভাণ্ড ও তিনি শুঁড় দিয়ে মোদক ভক্ষণ করছেন। খ্রিস্টীয় পঞ্চম শতকে নির্মিত মধ্যপ্রদেশের উদয়গিরি গুহাগাত্রে, ভূমারা ও উত্তরপ্রদেশের ভিতরগাঁও মন্দিরে প্রাপ্ত পোড়ামাটির ফলকে মোদকভক্ষণরত গণেশ মূর্তি দেখা যায়। এর মধ্যে উদয়গিরির মূর্তিটি উর্ধ্বলিঙ্গ বলে মনে করা হয়। এই মূর্তিগুলি তিনপ্রকার – উপবিষ্ট, নৃত্যরত ও দণ্ডায়মান। এর মধ্যে উপবিষ্ট মূর্তির সংখ্যাই সর্বাধিক। নৃত্যরত মূর্তিতে দেখা যায় গণেশ বাহনের উপর নাচছেন। এখানে তিনি গজমুণ্ড, ত্রিনয়ন, খর্বাকার, লম্বোদর, চতুর্ভূজ বা ষড়ভূজ বা অষ্টভূজ বা দশভূজ। দ্বিভূজ মূর্তি সংখ্যায় কম। বৌদ্ধ ও জৈনরাও গণেশের এই মূর্তি পূজা করতেন বলে জানা যায়।
• প্রথম দিকের গণেশ মূর্তিগুলি দ্বিভূজ ও উপবিষ্ট। হাতে কুঠার ও মোদক। দেবতা গজানন, একদন্ত ও লম্বোদর। কয়েকটি মূর্তিতে চতুর্ভূজ গণেশও দেখা যায়। বৃহৎসংহিতা গ্রন্থ অনুসারে, গণেশ দ্বিভূজ এবং এখানেও তাঁর হাতে মূলক। এই মূলক হাতির খাদ্য বলে উল্লিখিত হয়েছে। অমরকোষ গ্রন্থে গণেশ একদন্ত। অংশুমৎভেদাগম, কালিকাগম ও বিষ্ণুধর্মোত্তর প্রভৃতি গ্রন্থে গণেশ চতুর্ভূজ এবং তাঁর হাতে নিজ দন্ত, কপিত্থ মোদক, পাশ-অঙ্কুশ, নাগ, অক্ষসূত্র, পদ্ম ইত্যাদি দেখা যায়। এই সকল গ্রন্থের উত্তরকালের সংস্করণগুলিতে দেখা যায় গণেশের বাহন মুষিক ও স্ত্রী ভারতী (সরস্বতী), শ্রী (লক্ষ্মী), বিঘ্নেশ্বরী, বুদ্ধি ও কুবুদ্ধি। এছাড়াও এই গ্রন্থগুলিতে গণেশের অন্যান্য কিছু বৈশিষ্ট্যও দৃষ্ট হয়। যেমন – তিনি ত্রিনয়ন, ব্যাঘ্রচর্মপরিহিত ও নাগযজ্ঞোপবীতধারী। তাঁর মূর্তি আভঙ্গ বা সমভঙ্গ।
• বিগ্রহ রূপেও গণেশের নানা মূর্তি প্রচলিত ছিল। এই সব মূর্তি সবই গুপ্তোত্তর যুগে নির্মিত হয়নি। গুপ্তযুগের প্রথম দিকে মথুরাতে প্রাপ্ত বেলেমাটির গণপতি ও ভিতরগাঁও-এর ইষ্টকনির্মিত মন্দিরে প্রাপ্ত পোড়ামাটির গণপতির মূর্তিটি গণেশ মূর্তির বিবর্তনের গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্যবহন করছে। উল্লেখ্য মথুরায় গণেশমূর্তিতে ইঁদুরের উপস্থিতি দেখা যায় না এবং ভিতরগাঁওতেও ঠিক দেবতার আকারে গণেশ চিত্রিত হননি, সেখানে তিনি উড্ডীয়মান। খ্রিস্টীয় ষষ্ঠ শতকে ভূমারা শিবমন্দিরে প্রাপ্ত গণেশ মূর্তি গণেশ-বিবর্তনের শেষ নিদর্শন। প্রথম যুগের মূর্তিগুলি নগ্ন ও দণ্ডায়মান। এগুলিকে দেখে দেবতা বলে বোধ হয় না। এছাড়া গুপ্তযুগের প্রথম ভাগে ভিলসা উদয়গিরির চন্দ্রগুপ্ত গুহায় গণেশের যে উৎকীর্ণ চিত্রটি পাওয়া যায়, সেটিও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। এই মূর্তি অনুসারে গণেশ পর্যঙ্ক আসনে উপবিষ্ট, বাম হাতে তাঁর মোদকভাণ্ড ও ইঁদুর অনুপস্থিত। উপবিষ্ট গণেশ মূর্তি প্রথম ও শেষ গুপ্তযুগে সারা ভারতে ছড়িয়ে পড়ে। আরেক ধরণের গণেশ মূর্তির সন্ধান মেলে ওড়িশায়। তিনি নৃত্যগণেশ, অষ্টভূজ, সামনের ডানহাত গজহস্ত, নৃত্যের আবর্ত দেহে সুস্পষ্ট ফুটে উঠেছে।
• পরবর্তীকালে তান্ত্রিকতা ও শক্তিপূজার সঙ্গে গণেশ ধারণা বিশেষ ভাবে জড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন তান্ত্রিক গণেশ মূর্তিতে শক্তির উপস্থিতি লক্ষ্য করা যেতে থাকে। যেমন – শক্তিগণেশ, লক্ষ্মীগণেশ (লক্ষ্মীগণেশের লক্ষ্মী ঐশ্বর্যের দেবী নন), উচ্ছিষ্টগণেশ ইত্যাদি। দাক্ষিণাত্যে উচ্ছিষ্টগণেশের কয়েকটি মূর্তি পাওয়া গেছে। এগুলি বামাচারে পূজিত। জব্বলপুরের কাছে গজমুণ্ডবিশিষ্ট একটি দেবীমূর্তিও পাওয়া গেছে। সম্ভবত ইনি তন্ত্রোল্লিখিত গণেশ-পত্নী গণেশানী।
ব্রাহ্মণ্য হিন্দুধর্মের প্রধান পাঁচজন দেবতার একজন রূপে স্বীকৃতি পাওয়ার পর কিছু ব্রাহ্মণ গণেশকেই তাঁদের প্রধান দেবতা রূপে পূজা করার সিদ্ধান্ত নিলেন। এইভাবে গঠিত হল গাণপত্য সম্প্রদায় এবং তার সঙ্গে সঙ্গেও গণপতিকে কেন্দ্র করে রচিত হল দুটি উপপুরাণ – গণেশ পুরাণ ও মুদ্গল পুরাণ।
গণেশ পুরাণ ও মুদ্গল পুরাণ গ্রন্থদুটির রচনাকাল প্রসঙ্গে মতভেদ আছে। সাধারণভাবে এই দুই পুরাণের রচনাকাল ১১০০ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৪০০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যবর্তী কোনও সময় বলে মনে করা হয়। সাধারণভাবে গণেশ পুরাণ-কে পূর্ববর্তী ধরা হলেও কোনও কোনও গবেষক এটিকে মুদ্গল পুরাণ-এর পরবর্তী বলে মনে করেন। অপর একটি লোকমান্য শাস্ত্রগ্রন্থ গণপতি অথর্বশীর্ষ খ্রিস্টীয় ষোড়শ থেকে সপ্তদশ শতকের মধ্যবর্তী কোনও সময়ে রচিত হয়েছিল।
• গণেশ পুরাণ – গণেশ পুরাণ গণেশের কাহিনি ও পূজাপদ্ধতি সংক্রান্ত সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ উপপুরাণদুটির মধ্যে একটি। এই পুরাণ দুটি খণ্ডে বিভক্ত –উপাসনাখণ্ড ও ক্রীড়াখণ্ড বা উত্তরখণ্ড। উপাসনাখণ্ডের অধ্যায়সংখ্যা ৯২; ক্রীড়াখণ্ডের ১৫৫। উপাসনাখণ্ডের ৩৬ অধ্যায়ের একটি স্তোত্র অবলম্বনে প্রসিদ্ধ গণেশ সহস্রনাম স্তোত্রটি রচিত হয়েছিল। আজও দেশের বিভিন্ন গণেশ মন্দিরে এই স্তোত্রটি পঠিত হয়ে থাকে। অন্যদিকে ক্রীড়াখণ্ডের ১৩৮-৪৮ অধ্যায়গুলি গণেশ গীতা নামে পরিচিত। রাজা বরেণ্য ও গণেশাবতার গজাননের মধ্যে সংলাপের আকারে রচিত এই গণেশ গীতা ভগবদ্গীতার ধারা অনুসরণকারী। কৃষ্ণের আদলেই গণেশকে এখানে ভগবৎতত্ত্ব ব্যাখ্যা করতে দেখা যায়। ক্রীড়াখণ্ডে গণেশের চার অবতারেরও বর্ণনা আছে।
• মুদ্গল পুরাণ – গণেশের কাহিনি সংক্রান্ত দুটি প্রধান উপপুরাণের একটি। এই পুরাণে গণেশের আটটি অবতারের বর্ণনা রয়েছে।
• গণপতি অথর্বশীর্ষ – গণেশ অথর্বশীর্ষ বা গণেশ অথর্বশীর্ষোপনিষদ একটি গণেশ সংক্রান্ত শাস্ত্র ও অপ্রধান উপনিষদ। এর অপর নাম গণপতি উপনিষদ। মহারাষ্ট্রে এই গ্রন্থটি অত্যন্ত জনপ্রিয়। রঞ্জনগাঁও-এর অষ্টবিনায়ক মন্দিরের প্রবেশ তোরণের উপর এই উপনিষদের সমগ্র অংশটি খোদিত। গাণপত্য সম্প্রদায়ের ধর্মীয় ছত্রছায়ায় রচিত এই গ্রন্থে গণেশকে সকল দেবতার উপরে স্থান দেওয়া হয়েছে এবং তাঁকে অপরাপর দেবদেবী ও ওঁ-কারের সঙ্গে একত্রীভূত করে দেখা হয়েছে। এই গ্রন্থ কিছুটা তন্ত্র দ্বারাও প্রভাবিত। সেই কারণে মূলাধার চক্রের সঙ্গেও গণেশের একাত্মতা এখানে লক্ষিত হয়। অন্যদিকে গণপতির বীজমন্ত্র ‘গং’ এই গ্রন্থেই উল্লিখিত।(তথ্যসূত্রঃ বিভিন্ন পুরাণ ও উইকিপিডিয়া)

26/08/2025

“নমস্কার” শব্দের অর্থ হিন্দু ধর্মীয় শাস্ত্র অনুযায়ী অত্যন্ত গভীর ও আধ্যাত্মিক। এটি সংস্কৃত শব্দ “নমঃ + কার” থেকে এসেছে।
1. নমঃ (Namah) – অর্থ নম্র হওয়া, প্রণতি জানানো, আত্মসমর্পণ।

2. কার (Kara) – অর্থ করা বা প্রকাশ করা।

অর্থাৎ “নমস্কার” মানে হচ্ছে বিনম্রভাবে শ্রদ্ধা বা প্রণাম প্রকাশ করা।

শাস্ত্রীয় দৃষ্টিভঙ্গি

বেদ ও উপনিষদে বলা হয়, “নমঃ” মানে শুধু দেহ ঝুঁকানো নয়, নিজের অহংকার ত্যাগ করে অপরের ভিতরে বিরাজমান ঈশ্বরকে প্রণাম করা।

ভগবদ্‌গীতায় (৯.৩৪) শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন — “মাম্ নমস্কুরু” — অর্থাৎ আমাকে নমস্কার করো — যা শুধু শারীরিক প্রণাম নয়, মনের গভীর ভক্তি ও আত্মসমর্পণ।

অদ্বৈত দর্শন মতে, যাকে নমস্কার করা হচ্ছে এবং যিনি করছেন — উভয়ের মধ্যেই একই ঈশ্বরচেতনা বিরাজমান। তাই এটি আসলে “তোমার মধ্যে যে ঈশ্বর, তাকে প্রণাম” করার প্রতীক।

সারসংক্ষেপ

নমস্কার = “আমি আমার অহং ত্যাগ করে তোমার ভিতরে যে পরমাত্মা আছেন, তাকে প্রণাম জানাচ্ছি।”
এটি কেবল ভদ্রতা বা অভিবাদন নয় — বরং আধ্যাত্মিক সম্বোধন।

Today I get a Certificate from the Just Dial for 4.7 rating of my Google page Purohit Subrata Banerjee
22/08/2025

Today I get a Certificate from the Just Dial for 4.7 rating of my Google page Purohit Subrata Banerjee

 #শিবলিঙ্গ কি তেজস্ক্রিয়?হ্যাঁ এটা ১০০% সত্য!!ভারতের রেডিও অ্যাক্টিভিটি ম্যাপটি তুলে ধরুন, আপনি অবাক হবেন।ভারত সরকারের ...
23/07/2025

#শিবলিঙ্গ কি তেজস্ক্রিয়?

হ্যাঁ এটা ১০০% সত্য!!

ভারতের রেডিও অ্যাক্টিভিটি ম্যাপটি তুলে ধরুন, আপনি অবাক হবেন।

ভারত সরকারের পারমাণবিক চুল্লি ছাড়াও, সমস্ত জ্যোতির্লিঙ্গের স্থানগুলিতে সর্বাধিক বিকিরণ পাওয়া যায়।

▪️ শিবলিঙ্গ একটি পারমাণবিক চুল্লি ছাড়া আর কিছুই নয়, তাই এটি শান্ত থাকার জন্য এর উপর জল ঢেলে দেওয়া হয়।

▪️ মহাদেবের সকল প্রিয় পদার্থ যেমন বিল্বপত্র, আক্মদ, ধাতুরা, জবা ইত্যাদি সকলেই পারমাণবিক শক্তি শোষণ করে।

▪️ যেহেতু শিবলিঙ্গে নিবেদিত জলও প্রতিক্রিয়াশীল হয়ে ওঠে, তাই এটি নিষ্কাশনের পাইপ অতিক্রম করে না।

▪️ ভাবা পারমাণবিক চুল্লির নকশাও শিবলিঙ্গের মতো।

▪️ শিবলিঙ্গে নিবেদিত জল নদীর প্রবাহমান জলের সাথে মিশে ওষুধের রূপ নেয়।

▪️ এই কারণেই আমাদের পূর্বপুরুষরা আমাদের বলতেন যে মহাদেব শিব শঙ্কর যদি রেগে যান তাহলে বিপর্যয় ঘটবে।

▪️ লক্ষ্য করুন আমাদের ঐতিহ্যের আড়ালে কতটা গভীর বিজ্ঞান লুকিয়ে আছে।

▪️ যে সংস্কৃতির গর্ভে আমরা জন্মগ্রহণ করেছি, তা চিরন্তন এবং চিরন্তন।

● বিজ্ঞানকে ঐতিহ্যের আড়ালে সজ্জিত করা হয়েছে যাতে এটি আদর্শ হয়ে ওঠে এবং আমরা ভারতীয়রা সর্বদা বৈজ্ঞানিক জীবনযাপন করি। ●

▪️ আপনি জেনে অবাক হবেন যে ভারতে এমন গুরুত্বপূর্ণ শিব মন্দির রয়েছে যা কেদারনাথ থেকে রামেশ্বরম পর্যন্ত সরলরেখায় নির্মিত। আমি ভাবছি আমাদের পূর্বপুরুষদের এমন কোন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ছিল যা আমরা আজ পর্যন্ত বুঝতে পারিনি? উত্তরাখণ্ডের কেদারনাথ, তেলেঙ্গানার কালেশ্বরম, অন্ধ্র প্রদেশের কালহাস্তি, একম্বরেশ্বরা, তামিলনাড়ুর চিদাম্বরম এবং অবশেষে রামেশ্বরম মন্দিরগুলি 79°E 41’54” দ্রাঘিমাংশের ভৌগলিক সরলরেখায় নির্মিত।

▪️ এই সমস্ত মন্দির প্রকৃতির ৫টি উপাদানের মধ্যে লিঙ্গের প্রকাশকে প্রতিনিধিত্ব করে, যাকে আমরা সাধারণত পঞ্চভূত বলি। পঞ্চভূত অর্থ পৃথিবী, জল, আগুন, বায়ু এবং আকাশ। এই পাঁচটি শিবলিঙ্গ এই পাঁচটি উপাদানের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

তিরুভানাইকবল মন্দিরে জলের প্রতিনিধিত্ব করা হয়েছে,
তিরুভান্নামালাইতে আগুনের প্রতিনিধিত্ব করা হয়েছে,
কালাহস্তিতে বাতাসকে প্রতিনিধিত্ব করা হয়েছে,
কাঞ্চীপুরমে এবং শেষে পৃথিবীকে প্রতিনিধিত্ব করা হয়েছে
চিদাম্বরম মন্দিরে মহাকাশ বা আকাশের প্রতিনিধিত্ব করা হয়েছে!

এই পাঁচটি মন্দির স্থাপত্য, বিজ্ঞান এবং বেদের এক অপূর্ব সমন্বয়ের প্রতিনিধিত্ব করে।

▪️ ভৌগোলিকভাবেও, এই মন্দিরগুলির বিশেষত্ব রয়েছে। এই পাঁচটি মন্দির যোগ বিজ্ঞান অনুসারে নির্মিত হয়েছিল এবং একে অপরের সাথে একটি নির্দিষ্ট ভৌগোলিক সঙ্গতিতে অবস্থিত। এর পিছনে অবশ্যই কিছু বিজ্ঞান আছে যা মানবদেহকে প্রভাবিত করে।

▪️ এই মন্দিরগুলি প্রায় পাঁচ হাজার বছর আগে নির্মিত হয়েছিল যখন ঐ স্থানগুলির অক্ষাংশ এবং দ্রাঘিমাংশ পরিমাপ করার জন্য কোনও উপগ্রহ প্রযুক্তি উপলব্ধ ছিল না। তাহলে কিভাবে পাঁচটি মন্দির এত নিখুঁতভাবে পবিত্র করা হয়েছিল? উত্তরটা কেবল ঈশ্বরই জানেন।

▪️কেদারনাথ এবং রামেশ্বরমের মধ্যে দূরত্ব ২৩৮৩ কিমি। কিন্তু এই সমস্ত মন্দির প্রায় একই সমান্তরাল রেখায় অবস্থিত। _সবকিছুর পরেও, হাজার হাজার বছর আগে এই মন্দিরগুলি সমান্তরাল রেখায় নির্মাণের জন্য কোন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছিল, এটি এখনও একটি রহস্য।_

শ্রীকালহস্তি মন্দিরের ঝিকিমিকি প্রদীপটি দেখায় যে এটি বায়ু লিঙ্গ।
তিরুভানিক্কা মন্দিরের ভেতরের মালভূমিতে অবস্থিত জলের ঝর্ণা ইঙ্গিত দেয় যে এটি একটি জললিঙ্গ।
আন্নামালাই পাহাড়ের বিশাল প্রদীপটি দেখায় যে এটি অগ্নি লিঙ্গ।
কাঞ্চীপুরমের স্ব-প্রকাশিত বালির লিঙ্গ দেখায় যে এটিই পৃথিবীর লিঙ্গ এবং
চিদাম্বরমের নিরাকার অবস্থা ঈশ্বরের নিরাকার স্বভাব, অর্থাৎ আকাশের উপাদান প্রকাশ করে।

▪️ এখন এটা অবাক করার মতো কিছু নয়, তাহলে কী, মহাবিশ্বের পঞ্চ উপাদানের প্রতিনিধিত্বকারী পাঁচটি লিঙ্গ শতাব্দী আগে একটি সরলরেখায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। _আমাদের পূর্বপুরুষদের জ্ঞান ও প্রজ্ঞার জন্য আমাদের গর্বিত হওয়া উচিত যে তাদের কাছে এমন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ছিল যা আধুনিক বিজ্ঞানও ব্যাখ্যা করতে পারেনি।_ বিশ্বাস করা হয় যে কেবল এই পাঁচটি মন্দিরই নয়, কেদারনাথ থেকে রামেশ্বরম পর্যন্ত সরলরেখায় অবস্থিত এই রেখায় অনেক মন্দির থাকবে। *এই রেখাটি "শিবশক্তি অক্ষ রেখা" নামেও পরিচিত।* সম্ভবত এই সমস্ত মন্দিরগুলি ৮১.৩১১৯° পূর্ব অক্ষাংশে অবস্থিত কৈলাসকে মাথায় রেখে নির্মিত হয়েছিল!? একমাত্র ভগবান শিবই এর উত্তর জানেন।

*_এটা অসাধারণ, "মহাকাল" উজ্জয়িন এবং বাকি জ্যোতির্লিঙ্গের মধ্যে সম্পর্ক (দূরত্ব) দেখুন_*

▪️ উজ্জয়িন থেকে সোমনাথ - 777 কিমি

▪️ উজ্জয়িন থেকে ওমকারেশ্বর - 111 কিমি

▪️ উজ্জয়িন থেকে ভীমাশঙ্কর - 666 কিমি

▪️ উজ্জয়িন থেকে কাশী বিশ্বনাথ - 999 কিমি

▪️ উজ্জয়িন থেকে মল্লিকার্জুন - 999 কিমি

▪️ উজ্জয়িন থেকে কেদারনাথ - 888 কিমি

▪️ উজ্জয়িন থেকে ত্র্যম্বকেশ্বর - 555 কিমি

▪️ উজ্জয়ন থেকে বৈজনাথ - 999 কিমি

▪️ উজ্জয়িন থেকে রামেশ্বরম – ১৯৯৯ কিমি

▪️ উজ্জয়িন থেকে ঘৃষ্ণেশ্বর – ৫৫৫ কিমি

হিন্দু ধর্মে কারণ ছাড়া কিছুই ঘটেনি।

উজ্জয়িনকে পৃথিবীর কেন্দ্র বলে মনে করা হয়, যা হাজার হাজার বছর ধরে সনাতন ধর্মে বিশ্বাস করা হয়ে আসছে। অতএব, সূর্য গণনার জন্য মনুষ্যসৃষ্ট যন্ত্র এবং জ্যোতিষশাস্ত্রীয় গণনাও প্রায় ২০৫০ বছর আগে উজ্জয়িনীতে তৈরি করা হয়েছিল।

আর যখন প্রায় ১০০ বছর আগে একজন ইংরেজ বিজ্ঞানী পৃথিবীতে একটি কাল্পনিক রেখা (ক্যান্সার) আঁকেন, তখন এর কেন্দ্রীয় অংশটি উজ্জয়িনে পরিণত হয়। আজও বিজ্ঞানীরা সূর্য এবং মহাকাশ সম্পর্কে তথ্যের জন্য উজ্জয়িনীতে আসেন।

🙏🌹 হর হর মহাদেব 🌹🙏

20/07/2025

গ্রহরাজ শনিদেব আমাদের মা কালীর ক্ষেত্রপাল দ্বারপাল ভৈরবের ভূমিকায় দাঁড়িয়ে থাকেন বাংলা জুড়ে প্রচুর কালী মন্দিরে, যেখানে শনিবার বড়ঠাকুর মহা সমারোহে পূজিত হন। আজ আমরা বড়ঠাকুর সম্পর্কে সাতটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানব।

১. তাঁর বাহন কাক বা শকুন, তাঁর কাকধ্বজা আছে। এছাড়া মহিষবাহন মূর্তি দেখা যায়। তিনি অস্ত্র হিসেবে তীর ধনুক অথবা ত্রিশূল ধারণ করেন।তিনি কৃষ্ণবর্ণ।

২. ব্রহ্ম বৈবর্ত পুরাণে দেখা যায় কৃষ্ণ বলছেন গ্রহদের মধ্যে আমি শনি। এ থেকে সিদ্ধান্ত করা যায় যে গ্রহরাজ হিসেবে বড়ঠাকুর শনিদেব পৌরাণিক যুগে পূজিত হতেন।

৩. কিন্তু শনি গ্রহ হিসেবে অথর্ব বেদেও উল্লিখিত হয়েছেন। নবগ্রহ উপাসনা ও সৌর উপাসনার দীর্ঘ ইতিহাসে শনি আছেন। শক যুগে পশ্চিম এশিয়া থেকে ভারতে আগত সেভেন ক্ল্যাসিক্যাল প্ল্যানেট বা খালি চোখে দেখা যায় আকাশের এমন সাতটি "গ্রহ" যেখানে সূর্য (নক্ষত্র) এবং। চন্দ্র (উপগ্রহ) সহ বাকি পাঁচটি গ্রহ মিলে সপ্তাহের সাত দিনের অধীশ্বর বলে স্বীকৃত হন, এবং এরপর ভারতীয়রা রাহু ও কেতু সংযোগ করে নবগ্রহ তত্ত্বের অবতারণা করেন। শনি এই নবগ্রহের রাজা। তিনি গ্রহরাজ।

৪. শনিদেব মাতৃধর্মের সঙ্গে অবিচ্ছেদ্যভাবে যুক্ত। মায়ের গণদের অধিপতি গণেশের কাহিনীর সঙ্গেও শনি জড়িত আছেন। তিনি মায়ের সন্তানদের রক্ষা করেন। কিছু পুরাণে তিনি মায়ের ভ্রাতৃস্থানীয়। তাঁর মণ্ডলে মহিষ অথবা বলাকা নিঃসন্দেহে মাতৃধর্মের ইঙ্গিতবাহী। প্রসঙ্গত মা বারাহী মহিষবাহিনী হন, এবং বলাকার সঙ্গে মাতৃধর্মের সংযোগ নিয়ে তো আমরা বহুবার আলোচনা করেছি। মা কালীর আদিতম রূপ বলাকা মাতৃকা।

৫. গ্রহরাজ শনিদেবের ধর্মতত্ত্বে সাংখ্য দর্শনের দুঃখবাদ রয়েছে, কিন্তু সেই দুঃখবাদকে উপশম করতে শনিদেবের ন্যায় বিচারের ধারণা আমাদের স্বস্তি দেয়। শনিদেব দুষ্টের দমন করেন, শিষ্টকে পালন করেন। আমাদের যাবতীয় দুঃখ কষ্টের মাধ্যমে তিনি আমাদের পরীক্ষা নেন।

৬. শনি নামটি শনৈঃ থেকে এসেছে। তাঁকে শনৈশ্চর বলা হয়, উত্তর ভারতে সর্বত্র শনিবারকেই শনিচর নামে ডাকা হয়। এই নামের অর্থ, ইনি ধীরে ধীরে গমন করেন (সৌর মণ্ডলে অন্যান্য গ্রহের তুলনায় সত্যিই শনির গতি ধীর), অতএব ইনি মায়ের সন্তানদের ধৈর্যশীল হতে শিক্ষা দেন।

৭. সারা বছর ধরেই সপ্তাহে এই শনিবার হল মা কালীর সাপ্তাহিক বার। এই দিন মা কালীর সাপ্তাহিক পুজো হয়। শনিবার মা কালীর দিন, শনিদেব মা কালীর পার্শ্বচর।

শনিদেব আমাদের সমস্ত শত্রুদের ধ্বংস করে মায়ের সন্তানদের জয়যুক্ত করুন। জয় গ্রহরাজ, জয় বড়ঠাকুর, জয় জয় মা।

28/06/2025

বিপত্তারিণী ব্রত চলছে। আষাঢ় নবরাত্রিতে রথ থেকে উল্টোরথের মধ্যে মঙ্গল ও শনিবার এই মা বিপত্তারিণীর পুজো ও ব্রতধর্ম পালিত হয়। বিপত্তারিণী প্রাচীন মাতৃকা। তাঁর উপাসনা প্রাচীন কাল থেকে হচ্ছে।

★১. প্রাচীন সাংখ্য দর্শনের মূল কথা, জগৎ দুঃখময়। এই দুঃখের নানা উৎস, আধিদৈবিক, আধিভৌতিক, আধ্যাত্মিক। এই দুঃখ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য সাংখ্য দর্শনের নানা পদ্ধতি আছে যা গত তিন হাজার বছর ধরে নানা বিবর্তনের মধ্য দিয়ে গেছে। বিপত্তারিণী ব্রতে মূলত আধিদৈবিক বা আচমকা ভাগ্যবিপর্যয়ের বিপদের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার প্রয়াস দেখা যায়, ব্রতকাহিনীতে দেখি। কিন্তু নিজের মনের আকাঙ্ক্ষা থেকে বিপদ (আধ্যাত্মিক) এবং কোনও দ্রব্য বা বস্তু থেকে বিপদ (আধিভৌতিক) সমানভাবে চোখে পড়ে এই কাহিনীতে।

★২. বিপত্তারিণী ব্রতের উদযাপনে উপচারে তেরো সংখ্যার গুরুত্ব। এটিও সাংখ্য দর্শনের দিকে ইঙ্গিত করে।

★৩. মহাভারতে দুর্গাস্তবে "তারিণী" নামটির উল্লেখ পাওয়া যায়। নিঃসন্দেহে যিনি বিপদ থেকে তারণ করেন, তিনিই তারিণী।

★৪. কিন্তু তারিণী হল মা তারার নাম। বিপত্তারিণী পুজোয় মূলত মা চণ্ডী পূজিত হন, কোথাও কোথাও জয়দুর্গা বা কৌশিকী। তারা ও চণ্ডীর অভিন্নতার সাক্ষ্য দেয় বিপত্তারিণী ব্রত।

★৫. বিপত্তারিণী পুজোয় মন্ত্রপূত লাল সুতোর রক্ষাসূত্র কব্জিতে বাঁধার প্রথাও প্রাচীনত্বের স্মারক। লাল রঙ সেই প্রাচীন প্রস্তর যুগ থেকেই মাতৃধর্মের রঙ, বিপত্তারিণী পুজোয় লাল জবা ফুল প্রয়োজন হয়। হাতে লাল (পলা) এবং সাদা (শঙ্খ) বলয় ধারণ করার প্রথা হরপ্পা সভ্যতা থেকে চলে আসছে। আবার তাঁত এবং তন্তুজাত দ্রব্যাদি, যার প্রতীক এই সুতো, তা ছিল প্রাচীন হরপ্পা সভ্যতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কারিগরি উদ্ভাবন। তন্ত্র শব্দটিই তন্তু থেকে এসেছে (তনুকে ত্রাণ - এই অর্থ অনেক পরে তৈরি, আদি অর্থ ছিল তন্তুবয়নের মত, পরস্পর সংযুক্ত সাধনপদ্ধতি গেঁথে একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনদর্শন নির্মাণ)। এই সেদিন মধ্যযুগেও বাংলাকে পৃথিবীর তাঁতঘর বলা হত। আগ্রহীরা গুগল করুন, "সিন্ধু থেকে সুতানুটি তমাল দাশগুপ্ত", একটি চমৎকার প্রবন্ধের সন্ধান পাবেন যা সপ্তডিঙা পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল কয়েক বছর আগে।

★৬. মঙ্গল ও শনির গুরুত্ব আমাদের মধ্যে এক রকমের সৌর তন্ত্রের প্রভাব, যা রোমান জ্যোতির্বিদ্যা, বৈশাখী নববর্ষ প্রচলন, সপ্তাহমূলক গণনা (আগে চান্দ্র তিথিমূলক শুক্ল ও কৃষ্ণ পক্ষ মেনেই কেবল গণনা হত), মঙ্গলবার মায়ের মঙ্গলকাহিনী শ্রবণ করার প্রথা (মঙ্গলকাব্য) এবং মা কালীর ক্ষেত্রপাল দ্বারপাল হিসেবে গ্রহরাজ শনিদেবের জনপ্রিয়তার সঙ্গে জড়িত। আমরা সৌরধর্মকে পৌরাণিক স্মার্ত পঞ্চ উপাসনার অংশ হিসেবেই জানি কেবল, কিন্তু আসলে সৌরতন্ত্রমতে নবগ্রহ পূজিত হতেন, কেবল সূর্যের উপাসনা হত না আমাদের দেশে। এবং নবগ্রহ উপাসনার প্রাচীন স্মারক হিসেবেই আমাদের মাতৃধর্মের মধ্যে শনি মঙ্গলের গুরুত্ব।

★৭. এই বিপত্তারিণী ব্রতে মঙ্গল ও শনিবার মায়ের নাম করে যে তন্তু আমরা কব্জিতে বাঁধি, তা তন্ত্রের অসীম শক্তির প্রতীক। পালযুগের তন্ত্রধর্মে মা পঞ্চরক্ষার উপাসনা হত যিনি সমস্ত বিপদ আপদ থেকে রক্ষা করতেন, আজ মা রক্ষাকালীর উপাসনায় সেই রেশ আছে। মা বিপত্তারিণীও রক্ষামাতৃকা, তিনি সমস্ত আধিদৈবিক বিপদ থেকে আমাদের তারণ করেন।

জয় মা বিপত্তারিণী।

Address

Mahinagar
Rajpur Sonarpur
700145

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Purohit Subrata Banerjee posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Place Of Worship

Send a message to Purohit Subrata Banerjee:

Share