04/10/2026
আপনার লাশের গোসলের জন্য যে সাবানটি ব্যবহার করা হবে, সেটি দিয়ে আর কেউ হয়তো গোসল করবে না—ফেলে দেওয়া হবে।
যে বিছানায় আপনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করবেন, সেই বিছানার চাদর কিংবা বালিশের কভারও হয়তো আর কেউ ব্যবহার করবে না।
যে মানুষটিকে ঘিরে এত আয়োজন, এত ব্যস্ততা, এত মায়া—মৃত্যুর পর অল্প সময়ের মধ্যেই তাকে এই দুনিয়ার সবকিছু থেকে বিদায় নিতে হবে।
লাশ ঘরে থাকবে না, বাইরে নিয়ে যাওয়া হবে।
গোসল হবে, কাফন হবে, জানাজা হবে—তারপর কবর।
তারপর ধীরে ধীরে জীবন চলতে থাকবে আপন গতিতে।
আপনজনেরা আপনাকে মনে রাখবে, আপনার জন্য দোয়া করবে; কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আপনার স্মৃতিও অনেকের হৃদয়ে ধীরে ধীরে ফিকে হয়ে যাবে।
দুই প্রজন্ম পরে হয়তো আপনার কবরের স্থানটুকুও কেউ ঠিকভাবে চিনবে না।
দাদার বাবার কবর কোথায়—এমন প্রশ্নের উত্তর আজ কতজনই বা জানে?
একশো বছর আগে এই জায়গায় কে ছিল, আমি জানি না।
এই সম্পদ কার ছিল, জানি না।
একশো বছর পরে এই সম্পদ কার হবে, তাও জানি না।
এখানে কে থাকবে, সেটাও জানি না।
তবুও আমরা ছুটছি—টাকার পেছনে, সম্পদের পেছনে, দুনিয়ার ব্যস্ততার পেছনে।
অথচ যে আখিরাত অনন্ত, তার জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার কথা কতটুকু ভাবছি?
এই তো জীবন...
কিছুদিনের জন্য এসেছি, অথচ এমনভাবে ব্যস্ত হয়ে আছি—যেন এখানেই চিরদিন থাকব। 💔