18/10/2022
হিন্দি চিনি ভাই ভাই কিন্তু তার
জন্য আত্মোৎসর্গ চাই।
সত্য কারের ভালোবাসা হচ্ছে আত্মিক। রবীন্দ্রনাথের কথায় "গোপনে সে প্রেম রয়না ঘরে আলোর মতো ছড়িয়ে পড়ে।" যত বিখ্যাত ধর্মপ্রচারক সেই প্রেমে কম বেশি চলেন। কিন্তু জগত সংসার ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সংসারের ও দেশের সমবায়। সেগুলির প্রাচীর অতিক্রম করে সে প্রেমকে হোঁচট খেতে খেতে চলতে হয়।
এক ভাই অন্য ভাই বোনেদের জন্য যদি প্রেমে নিজের স্বার্থ তুচ্ছ না করে তবে নিজের স্বার্থ সে রক্ষা করতে পারবে না। বরং যে আত্মত্যাগ করে, তার স্বার্থ, প্রেমিকদের একতা পরমেশ্বর দেখবেন যেমন যিশুর দেখছেন। তাঁর সর্বস্ব দিয়ে দিয়ে তিনি এখন সকলের বড় হয়ে গেছেন পরম পিতার শক্তিতে।
কিন্তু মূর্খ মানুষ মনে করে যত সে আত্মসাৎ করবে তত সে বড় হবে। অবশ্য সে জাগতিক জিনিস আত্মসাৎ করতে পারে, কিন্তু প্রেম, ভক্তি, বিশ্বাস, ন্যায়পরায়ণতা ইত্যাদি আত্মিক জিনিস আত্মসাৎ করা যায় না। বরং সাধনায় পাওয়া যায়। এগুলো সত্যিকারের বড় করে যে বড় মরনের পরেও থাকবে।মরনের পর জগতের জিনিস আমাদের কাছ থেকে চলে যাবে কিন্তু এগুলি যাবে না।
এখন সমস্যা হচ্ছে আমার মাংসিক সন্তানকে ও সম্পর্ককে ভালোবাসব না, কাছের ও দূরের ভাই বোনদের ভালোবাসব? যত দূরের তত মনের থেকেও দূরে?
কিন্তু এখন তা হবে আত্মঘাতী।এখন আর কেউ দূরে নয়, সারা পৃথিবী এখন একটা গ্রামের মতো বৈদ্যুতিক মাধ্যম যোগে। এখন সমস্ত মানবজাতি আমাদের ভাই বোন। বলছে বিজ্ঞান যে এক আদি মায়ের শরীর থেকে সব শরীরই হয়েছে।
তেমনি আমাদের আত্মা এক আদি পিতার থেকে হয়েছে। তিনি হচ্ছেন স্বর্গস্থ পিতা। আমরাও মাংসিক নই বরং আত্মিক, তবুও আমাদের ভালোবাসা মাংসমোহ দূষিত। স্বর্গভ্রষ্ট মানুষদের আত্মঘাতী প্রবৃত্তিকে সংশোধন করার জন্য আমাদের পশুর শরীরে জন্ম নিতে হয়েছে ঈশ্বরের বিধানে। তাই তাদের যৌন প্রবৃত্তি নিয়ে আমরা মাংসিক বংশবৃদ্ধি করতে চাই
। তাই বিপরীত লিঙ্গের দিকে বা শরীরের দিকে মনোযোগ সহজে যায়। ভাই বোনের মধ্যে দিয়ে অর্থাৎ নিকট জনদের মধ্যে দিয়ে বংশবৃদ্ধি বিকৃত হয়।
এমনকি স্থানীয় নৈতিক ও মানসিক চিন্তাধারা গুলি যদি বিদেশি ভাবধারার সংস্পর্শে না আসে তবে সেগুলি দুর্বল বা নিষ্ফল হয়।
তাই ক্ষুদ্র গন্ডির বাইরে যেয়ে সাধুরা আত্মিক বংশ বৃদ্ধি করে। মানব শরীরের কাজ হল ক্ষুদ্র মানব আত্মাকে বহন করা। এটা নষ্ট হয়ে যাবে কিন্তু আত্মাই থাকবে। যদি শরীর বাঁচাবার উপরে জোর দেই, তবে আত্মা নষ্ট হয়ে যাবে স্বার্থের জন্য দুর্নীতি করে হিংসা ঘৃণা অত্যাচারে। তখন আত্মাও বাঁচবে না ভেঙ্গে পাগল হয়ে যাবে। তাই সাধুরা মাংসকে উৎসর্গ করে, নিজের ও অন্যের আত্মা বাঁচাতে। বলা হয়েছে প্রতিবেশীকে নিজের মত ভালবাস।
চীন আমাদের প্রতিবেশী। ওদের বাঁচাতে আমাদের কত সাধু আত্মোৎসর্গে করেছে । আমাদেরও তাই করতে হবে। নয়তো আণবিক যুদ্ধে বংশ শুদ্ধ সবাই শেষ হয়ে যাবে। যে আগে আত্মোৎসর্গ করবে সেই সব থেকে লাভবান হবে। আই সাধুরা া পাপীদের জন্য ভালোবাসায় আগে থেকে আত্মোৎসর্গ করে। তাই তারা স্বর্গে আত্মায় বেঁচে থাকে। যারা করে না, তারা ঘৃণার নরক তৈরি করে। আর এখানে ও পরে নরকে পাগল হয়ে যায়।
জাতির জনক গান্ধীজি বলেছিলেন ভারত যেন অন্য জাতিদের বাঁচাবার জন্য ও জগৎকে বাঁচাবার জন্য আত্মোৎসর্গ করে। তা করলে কিন্তু সকলের মাথার উপর ভারতই থাকতো। কিন্তু হায় ক্ষুদ্র-বুদ্ধির মানুষ হিংসাকেই পূজা করল ক্ষনিকের বিষাক্ত সুবিধার জন্য, ধ্বংসের জন্য। অল্প কিছু সাধু লোক ছাড়া তাদের আত্মা নরকে টুকরো টুকরো হয়ে যাবে।
যদিও সাধুরা একথা প্রচার করে তাদের কথা কেউ শোনে না। পাপী মানুষেরা চায় আত্মহত্যা করতে তাদের অন্তর জ্বালায় অস্থির হয়ে। প্রেম ভক্তি বিশ্বাসে চললে সে অন্তর জেলা থেমে যাবে। কিন্তু তারা সে কথা শোনে না বা অল্প লোকেই শুনে। আমার এই কথাগুলো বলা কর্তব্য কিন্তু কেউ শুনবে না। কিন্তু কর্তব্য না করলে আমার অধঃপতন হবে। তাই ৭০ বছর ধরে আমি কর্তব্য করে যাই, যদিও লোকে আমায় পাগল বলে।