Miftaul Islam Babai

Miftaul Islam Babai I always try to write good speech,

02/04/2026

দুঃখ, হতাশা,বিপদ,অত্যাচার জীবনে যাই থাকুক না কেন আমার পাড়ার লোকেদের চায়ের দোকানে এমনকি জেরক্স দোকানের কোনে অথবা মুদির দোকানের ছাউনির নীচের আড্ডা মিস হয়না। কার বাড়িতে কতজনের বিয়ের নিমন্ত্রণ পড়লো । কার বিটি কার ছেলের সাথে পালালো কিংবা কার ব্যাবসায় কে কত লাভের মুনাফা দেখলো এসবের চুলচেরা বিশ্লেষণই তাদের আড্ডার বিষয়। প্রতিটি ব্যাক্তি এক একটা মিডিয়া পারশন। এখন অবশ্য আড্ডায় আলোচনার বিষয়বস্তু পাল্টেছে। এখন একটাই হট টপিক 'এস আই আর' । কার নাম ফাইনাল ভোটার লিস্টে এলো আর কার ডিলিট হলো এটাই এখন আতঙ্কের আলোচনা। আতঙ্ক হবেই না বা কেন ? ডিলিট হওয়া ভোটারদের রাজনৈতিক, গনতান্ত্রিক অধিকার খর্ব করার পাশাপাশি যে বেনাগরিক করার একটা সুক্ষ রোড ম্যাপ তৈরি করা হচ্ছে না তারই বা কি কোনো নিশ্চয়তা আছে ? লিয়াকত চাচা। কতবার যে ভোট দিয়েছে তার গুনতি মনে নেই। দুই হাজার দুই সালের ভোটার লিস্টেও নাম আছে। তার ছেলে মেয়েরাও বেঁচে গেছে। নাম কাটা গেছে শুধু তারই। আক্ষেপের সুরে বলছিল, এমন সরকার কি কেউ বিগত দিনে দেখেছে, কিংবা এমন নির্বাচন কমিশন অথবা সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতির রায় ।যারা মানুষের সার্বিক জীবন নিয়ে ছেলে খেলা করছে? তা কেউই দেখবে না। সত্যি বলতে এমন কোনোকিছুই আগে ছিল না। নির্বাচন কমিশন যেন কোনো এক রাজনৈতিক দলের প্রধান। আবার মিথ্যুক ও বটে। একবার বলে যাদের নাম দুই হাজার দুয়ের সাথে ম্যাপ্ড হবে তাদের কোনো চিন্তা নেই। পরক্ষণেই আবার লজিক্যাল ডিসক্রিপেনশির নামে নোটিশ ধরালো , আন্ডার অ্যাডজুডিকেশনে রাখলো শেষে ডিলিট ও করে দিল। অবাক লাগে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী যেই সব ডকুমেন্ট থাকলে ভোটারদের নাম কাটার কথা না সেখানেও নির্বাচন কমিশন ডাকাতি করে নাম ডিলিট করেছে। আমার পরিবারের দুই সদস্যের নাম উপযুক্ত ডকুমেন্ট থাকার পর ও ডিলিট করেছে। আমার দুই ভাবি রিমা, ও সিরিনা। তারা যথাক্রমে বার্থ সার্টিফিকেট ও মাধ্যমিকের সার্টিফিকেট দিয়েছিল। কিন্তু নির্বাচন কমিশন তাদের দুজনের নাম ডিলিট করে দিয়েছে। আমাদের আবার এক সমস্যা এখানে সরকারের বিরোধিতাকে দেশের বিরোধিতা মনে করে আবার বিজেপির বিরোধিতাকে একটা নির্দিষ্ট ধর্মের বিরোধিতা মনে করে। আমাদের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদও সাজে না। দূর থেকে কেউ ঠিকই বলবে তোদের ঘরে তোরা ফিরে যা পাকিস্তান না হয় বাংলাদেশ চলে যা। না মানে আমার অধিকার ফিরে পাওয়ার লড়াই কি আমি করবো না, করলেই বুঝি দেশদ্রোহী? এই ভারতেই আমাদের ঘর এই ঘরের এক ইঞ্চি মাটি আমরা ছাড়বো না। আর আমার আত্মীয়, প্রতিবেশী ও সহনাগরিকদের ও ছাড়তে দিবো না। চলবে প্রতিবাদ। এই প্রতিবাদ অস্তিত্বের ও অধিকারের ।

02/01/2026

এইতো সেদিন একজন বয়স্ক কাকিমা এলেন আমার দোকানে। ব্লাড প্রেসার মাপবেন। দেখলাম উচ্চ রক্তচাপ। ঔষধ দিয়ে বললাম, লবন, মাংস অতিরিক্ত তেল মসলা খাবেন না ‌ । আমার কথা শুনেই কাকিমাটা বললেন, মাংসের কথা বলছো বাপ , সেই কুরবানীর ঈদে খেয়েছি তারপর এক আধ দিন হয়তো কেউ বিয়ে শাদিতে ডাকলে খেয়েছি। এতটুকু শুনেই আমার মনটা কেমন হয়ে গেল। কিন্তু এর পরে যেটা শুনলাম সেটা আমার চোখে পানি এনে দিয়েছিল। তিনি চাপা গলায় বলছিলেন আলুই তো রোজ জোটে না বাপ মাঝে মাঝে আলু খায় মাংস তো দুরের কথা। তিনি চলে যাওয়ার পর আমি শুধু ভেবেছি। এতকিছু থাকা এতকিছু পাওয়ার পর আমাদের জীবন নিয়ে কত অভিযোগ। নিজেকে সময় দেওয়ার নামে ঘুরতে গিয়ে খরচের বাহার, পিকনিকের নামে কড়ি কড়ি অপচয়।কত বিলাশিজীবন ধারায় সম্পতির নষ্ট তারপরেও যেন আমাদের কিছু নেই এমন ভাব একবার আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ হয়েও দেখিনা। আর কাকির মত মানুষের উপকারের কথা আমাদের মাথায় আসে না। কারন আমাদেরই যেন কিছু নেই। কারন আমাদের শুধু জীবন নিয়ে অভিযোগ আছে।

17/11/2025

কেউ একজন বলছিল ছিঃ মাগুর মাছ কি খায় ! আমি বললাম কেন ? সে উত্তরে বলল, মাগুর মাছ মুরগির নাড়ি ভুঁড়ি খাই । আমি বললাম , তাহলে তোমার উপর তো থুতু ফেলা যায় । সে অবাক হয়ে তাকিয়ে বলল কেন ? আমি বললাম , তুমি যে ছাগল, গরুর নাড়ি ভুঁড়ি খাও। সে চুপ মেরে গেলো। ।

02/11/2025

বসে থাকলে স্মৃতি রোমন্থন হয় । পুরোনো কথা মনে পড়ে। অতি পুরোনো হলেও তা মনের ক্যানভাসে ভেসে উঠে। তখন আমি ছোট্ট। ছয়,সাত বছর বয়স হবে। । মা বলতো আমি নাকি পাগল, গোয়াড়, ঘাড়ত্যাড়া, রাগী ,জেদি ছিলাম। আজকের থেকে পুরোপুরি আলাদা। আমার দাদি ও আমার মাথার চুল খাড়া খাড়া দেখে বলতো ও খুব রাগী হবে। যদিও তাদের ধারণা কিছুটা হলেও মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। মায়ের সাথে আমি সেদিন নানুর বাড়িতে আছি। আমি মায়ের কাছে বিস্কুটের গুড়ি কেনার বাইনা ধরলাম। মা সাফ সাফ বলে ওগুলো ক্ষতিকর তাই কিনে দিবো না। আমি আর একটু জেদ বাড়ালাম। এতে মা রেগে গিয়ে আমায় হালকা ক্যলানি দিল। আমার আর সহ্য হলো না। আমি রাগ করে কাঁদতে কাঁদতে বাড়ি ছেড়ে দৌড়ে পালাতে লাগলাম। মা আমার পেছন পেছন ছুটে। আমায় থামতে বলে । আমার আবদার পুরনের আশ্বাস দেয়। মা আমাকে নিয়ে ভয় পাচ্ছিল। কারন আমি পাগল,ঘাড় ত্যড়া ছিলাম।কোনো গাড়ির চাকায় ঢুকে যেতেও পারি। আমি মায়ের কোনো কথায় শুনছিলাম না। আমি ফুপরাতে ফুপরাতে বলছিলাম তোমার কাছে থাকবোনা। জান দিবো। তারপর আমি কবরস্থানের দিকে ছুটলাম। উলো কাশের জঙ্গল। আমি গভীরে ঢুকে যায় । মা এবার দ্বিগুন ভয় পেল। চিৎকার করে ডাকে আমায়। অন্য কাউকে অনুরোধ করে আমায় আটকাতে। এর মাঝে আমি একটা ভাঙা কবরের কাছে চলে যায়। কবরটার দুই দিকে মাটি মাঝখান বসা। ওই মাঝখানে আমি বিশাল জল দেখছি । আর ওই জলে সাপ আর বাঘ যেন ঘোরাফেরা করছে। আমি ভয় পেয়ে যায়। চিৎকার করে মা মা বলে কাঁদি। এবং কখন যেন জ্ঞান হারিয়ে ফেলি।

01/11/2025

নদীর স্বচ্ছ জল ও তার বয়ে যাওয়া দেখতে ভালো লাগে। কিন্তু এই নদী কোথাও কোথাও তার ভয়ানক রুপ দেখায়। দুই পাড়কে তছনছ করে দেয়। অগনীত ঘরবাড়ি তার বিশাল আকার পেটের মধ্যে পুরে নেয়। এই নদীই যেন কখনও ভয়ানক আবার কখনো অপরুপ। প্রত্যেকটি জীনিষেরই দুটো দিক আছে একটি ভালো আরেকটি খারাপ। মানুষ ও তাই । মানুষের কিছু বৈশিষ্ট্য,স্বভাব, আচরণ তাকে অপরুপ করে তোলে আবার কিছু কর্মকাণ্ড তাকে ভয়ঙ্কর বানিয়ে দেয়।

24/10/2025

প্রতিটি মৃত্যুই বেদনা দেয়। তবে কিছু মৃত্যু বোধ হয় একটু বেশিই বেদনা দিয়ে ফেলে। বিকেলে টিনা মারা গেল। বাচ্চা একটা মেয়ে। সবে পনের বছর বয়স হয়েছিল। তবে ও যে বেশি দিন বাঁচবে না সেটা আগে থেকেই জানা ছিল। ওর ক্যান্সার হয়েছিল। ওইটুকু বাচ্চার প্রতিরোধ ক্ষমতায়বা কতটুকু। দুপুরে খেতে বসেছি এমন সময় ভাবী ফোন করে বললো ভাই তাড়াতাড়ি আমাদের বাড়ি আসো টিনা খারাপ। শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে ওর । আমার নেবুলাইজারটা খারাপ। তাও বললাম আমি খেতে বসেছি খেয়েই তাড়াতাড়ি আসছি। কিন্তু তিরিশ সেকেন্ড পর আবার ফোন। এবার টিনা কথা বলছে গলা চিপে চিপে। কাকু তুমি তাড়াতাড়ি আসো আমার কষ্ট হচ্ছে। আমি হাত ধুয়ে ছুটলাম।ভাত আর খেলাম না।পুরনি ভাবীর নেমুলাইজ মেসিন আছে আমি জানি। তাই ওর কাছে ছুটলাম। ওর মেসিন আবার আজিজ নিয়ে গেছে। আমি ওখানে গিয়ে তড়িঘড়ি মেসিনটা নিয়ে টিনার কাছে পৌঁছে যায়। ওটা চালিয়ে একটু ঠিক মনে হলো। তবে শরীরের অবস্থা একেবারেই খারাপ। ক্যান্সার ধরা পড়ার পর এই দেড় বছরে আমি প্রায় ওদের বাড়ি গিয়েছি। প্রত্যেক মাসে রুটিন টেস্ট হিসেবে,'সিবিসি ' পরিক্ষা করিয়ে নিতাম বহরমপুর থেকে। শেষ দিকে ওর শরীর থেকে ব্লাড আসতো না। ভেইন যেন ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে। আমি যতবারই গেছি আমার চোখ ভিজেছে। আমি নিজে পাঁচ বছর বয়সী মেয়ের বাবা। আমি ওর বাবা মায়ের কথা চিন্তা করতাম। ভাবতাম কতই না কষ্ট নিজের জীবদ্দশায় একটা চোদ্দ পনের বছরের ছোট্ট বাচ্চার মৃত্যু তিলে তিলে দেখা। একজন পিতার কাছে এর চেয়ে কষ্টের এর চেয়ে ভারী আর কি হতে পারে যে সে তার কাঁধে তার সন্তানের জানাযা বইছে। আমি প্রতিবার টিনার জন্য দুয়া করতে করতে আমার মেয়ের জন্য দুয়া করতাম। ওর সুস্থতা আর লম্বা হায়াত চাইতে থাকতাম আল্লাহর কাছে বিশেষ আবেগে।

21/10/2025

ওই যে দেখি এক ফেরিওয়ালা। সাইকেলে করে জামাকাপড়ের ফেরি করছে। হাক ছাড়তে ছাড়তে সামনের দিকে এগিয়ে যায়। নির্দিষ্ট গন্তব্য বলে তার কিছু নেই। আবার কখন যে সে ঘরে ফিরবে তাও তার জানা নেই। যে যেখানে দাঁড়াতে বলে সেখানেই দাঁড়িয়ে যায় । একজন দাঁড়াতে বলল, 'দাদা সুতির শাড়ি আছে'? 'হ্যাঁ আছে। মিনু আছে আরচি আছে যা নিবেন'। ফেরিওয়ালাটা বলেই সাইকেলের ক্যারিয়ার থেকে জামাকাপড়ের বান্ডিলটা নামালো। গ্রাহকটা তার সমস্ত শাড়ি খুলে খুলে দেখে। লন্ডভন্ড করে তারপর বলে , 'দাদা আসলে আমি সিল্কের শাড়ি নিতাম। দামি ব্র্যান্ডের। আপনার কাছে ওগুলো নেই'।‌ তারপর সে হাঁটা ধরলো। ফেরিওয়ালার কষ্ট হলো। সে গ্রাহকটাকে কিছু বলতে পারতো তার সময় নষ্ট করার জন্য, তাকে হয়রানি করার জন্য ।কিংবা না নেওয়ার ইচ্ছে সত্ত্বেও লন্ডভন্ড করার জন্য। কিন্তু কিছু বললো না। চুপচাপ কষ্টকে মনের মধ্যে গুটিয়ে অন্য দিকে রওনা দিল। মানুষের নেওয়া না নেওয়ার স্বাধীনতা আছে তাই বলে নিজে নিবেনা সেটা জানার পরও এটা খুলা ওটা খুলা লন্ডভন্ড করে মানুষকে কষ্টে ফেলা যে জুলুমের নামান্তর। সেটা মানুষ আর কবে বুঝবে? ফেরিওয়ালাটার আজ একটাও জামা কাপড় বিক্রি হয়নি। একটা পয়সাও রোজগার হয়নি। আজ সে তার ছেলে মেয়ের জন্য খাবার নয় দু ফোঁটা চোখের জল নিয়ে বাড়ি ফিরবে।

17/10/2025

কারো পাহাড় পছন্দ। কারো সুমদ্র। কারো নির্জন বিকেল কারো ঘন জঙ্গল। কেউ নিশ্চুপ জোৎস্না রাত পছন্দ করেন কেউ আবার অট্টালিকার কোলাহল। তবে আমার, তবে আমার -চিকন রাস্তা পছন্দ। ভাঙাচোরা রাস্তায় আমার গাড়ি খুব খারাপ হয়। তিন দিন পর পর ঠিক করতে হয়।তাই জন্য আমি ভালো রাস্তা পছন্দ করি।। হাতে টাকা থাকে না । গাড়ি সারাতে সারাতে।আগে চিকন রাস্তা পায় । তারপর ওই রাস্তা করে পাহাড় সমুদ্র, জঙ্গল যাবো। তখন ওইগুলো থেকে কোন একটা আমার পছন্দের হয়ে যাবে।‌🚗💨🚧

16/10/2025

পাড়ার ছেলেপিলেরা খুব উৎশৃঙ্খল। সারাদিন তারা টো-টো হোই হুল্লোড় করে ঘুরে বেড়ায়। দেখে মনে হয় তাদের কোনো ঠিকানা নেই। ঘর নেই। রাস্তা ঘাট, মাঠ ফাট ,বাজার হাঁট এই সব জায়গায় তাদের বিচরণ। পড়ালেখা বোধ হয় করে না। করলেও যে কেমন করে সেটা বুঝতে বাকি নেই। কোথাও কোনো অ্যাকসিডেন্ট হলে ওরাই আগে ভিড় জমায় । কোথাও মার পিট বা কোথাও পরকিয়া প্রেম করতে গিয়ে ধরা পড়লে তারাই যেন মিডিয়া। ওদের থেকেই খবর ছড়ায়। পাড়ার একটা ছেলের ঘাড়ে আমি এযাবৎ কোনোদিন স্কুল ব্যাগ দেখিনি। আমি তাকে একটা কাজ বলতেই সে বলে স্কুল যাবো । আমার মাথা নব্বই ডিগ্রী ঘুরে গেল। বললাম, তুই ও পড়িস? স্কুল যাস?সে একটা ভাব নিয়ে বলল, তো তুমি কি ভাবছো ঘাস কাটি নাকি।
আমি চুপচাপ সরে গেলাম।

15/10/2025

সাধারণত আমি সন্ধ্যায় ঔষধের দোকান ছেড়ে কোথাও যায় না। একান্ত জরুরি কাজ ছাড়া। ওই সময়টাতে রুগি পত্তর বেশ ভালোই হয়। আজ অগত্যা বের হতে হয়েছিল। কালিয়াচক থেকে এক ম্যানুফ্যাকচারার জামা পাঠিয়েছে আমার জামা কাপড়ের দোকানের জন্য। বাসে করে। বাসটি এমন সময় ছাড়ে যে যশইতলা আসতে আসতে সন্ধ্যা লেগে যায়। সে যাই হোক দুটোই আমার কাজ। আর আমার হেল্পিং হ্যান্ডও নেই । বাড়িতে পুরুষ মানুষ আমি একায়। দোকানে যে আছে সে তো আর মাল আনতে যাবে না। আমি গিয়ে অপেক্ষা করছি বাস আসার। আমার পায়ের গোড়ায় এক টোটো দাঁড়াল।‌ তারপর দেখি এক বৃদ্ধ ভদ্র মহিলা নামছেন। পঁয়ষট্টি উর্ধ্বে বয়স হবে। স্বামী বেঁচে আছে। কপালে সিঁদুর দেখে বুঝলাম।নামার পর তিনি টোটোবালাকে একটা নোট ধরিয়ে বললেন বিশ টাকা নিয়ে আশি টাকা ঘুরিয়ে দেন। টোটোবালা নোটটাকে ভালো করে দেখলেন। তারপর বললেন আপনি কত দিয়েছেন গো । এটা যে পাঁচশ টাকার নোট। অন্য কোনো টোটোবালা হলে তো আপনি মরে ভূত হয়ে যেতেন। সত্যি তো অন্য কেউ হলে আশি টাকা ঘুরিয়ে বাকি টাকা মেরে দিত। টোটোবালা তিনাকে টাকাটা বুঝিয়ে দিয়ে চলে গেল। আমি তখনও অপেক্ষা করছি বাসের। বয়স্ক ভদ্রমহিলাটি রাস্তা পার হবে। কিন্তু ভয় পাচ্ছে। কোনো গাড়ির ধাক্কায় আহত হওয়ার ভয়।আমাকে বললেন বাবা একটু আমায় ধরে রাস্তা পার করে দিবে? আমি তো এমন সৎ কাজের, নেক কাজের সুযোগ খুঁজি। আমি কি আর না করি। আমি তিনাকে ধরে সুন্দর ভাবে রাস্তা পার করালাম‌ । তারপর কি যেন এক অদ্ভুত শান্তি পেলাম। ভালো কাজের মজাই আলাদা। এক অন্য অনুভূতি। আর ভালো কাজের প্রতিদান চাইতে আমি আল্লাহর কাছে কখনোই কার্পণ্যতা করিনা। সঙ্গে সঙ্গে আল্লাহকে বললাম এই সৎ কাজের বিনিময়ে আমার জীবনে ঘটে যাওয়া অসৎ কাজকে তুমি মুছে দিও।

15/10/2025

মুরগির দোকান চালানো বেশ কঠিন কাজ। রোজ এর বাজার পরিবর্তন হয় ‌ । প্রতিদিনই দরের হের ফের হয়। এর অন্য এক সমস্যাও আছে, দোকানে পড়ে থাকলে মুরগির ওজন ও কমে । এমনকি হোলসেল দোকান থেকে আমার দোকান অব্দি আসতে গিয়ে পঞ্চাশ কেজি মুরগি ঊনপন্চাশ কেজি হয়ে যায়। এইসব কারনে খুব বেশি মুরগি স্টক করতে পারিনা। মোটামুটি ভাবে কিছু মুরগি নিই বিগত দিনে সারাদিন কত মুরগি গিয়েছে তার হিসাব কষে। তিন চারদিন থেকে মুরগি নিচ্ছি হিসেব করে কিন্তু তা আর সেল হচ্ছে না। রোজ ই বেঁচে যাচ্ছে । তো বাঁচতে বাঁচতে একটা বড়ো পরিমাণ স্টক হয়ে গেল। যা আমার একদিনে যাই ততটাই।‌ তাই রাগ করে আজ মুরগিই নিইনি। আমি ঔষধের দোকানে ঔষধ দিচ্ছি । তখন সাড়ে নটা বাজে। হঠাৎ নিচের মুরগির দোকান থেকে আব্দুল্লাহ দাদা ডাক দেয়। 'বাবাই নিচে আসো'। আমি গেলাম। দেখি মুরগি ওই সকাল সকালই পুরো শেষ। একটু অবাক হয়ে দাদাকে বললাম, এত তাড়াতাড়ি শেষ করে দিয়োছো? দাদা তখন বলল, 'হ্যাঁ। আল্লাহ চাইলে রোজ ই এইভাবে শেষ করবো। শুধু দুয়া করো তুমি'। আমি কি আর দোয়া না করে পারি । বেশি হলে তো আমার ই হবে। কিন্তু সারাদিন এবার কি বেচবো! হোলসেল দোকানে ফোন করলে তখন মুরগি পাঠাতে অসম্মতি জানায়। রোদে মুরগির সমস্যা হবে এত লঙ রাস্তায় আসতে। বিকালে পাঠাবে বলে। আমি তখন ইয়াজুলের কাছে ছুটলাম। কিছু মুরগি ধার হিসেবে নিতে। বিকালে পাঠালে শোধ দিয়ে দিব। অনেকটা চাইলাম কিন্তু ছয় কেজি দিল। আমার কাছ থেকেও ও ধার নিয়ে যায় তাই একটু বেশি আশা নিয়েই গেছিলাম। ওই মুরগি নিয়ে দোকান ফিরার দশ মিনিটের মধ্যে আবার শেষ । এবার কার কাছে ধার নিব । এত সকাল সকাল দোকান বন্ধ রেখে দেওয়াও যাবে না। ব্যাবসায় প্রভাব পড়বে। আসরাফদার কথা মাথায় এলো। ছুটলাম ওর কাছে। সেও আমাকে খালি হাতে ফেরায়নি। কিছু মুরগি দিল । তারপর দোকানে এসে ভাবি, ব্যাবসা রিজিক এগুলো এক অদ্ভুত জিনিস কখন কিভাবে আসে বোঝা যায় না।

Address

Bhagwangola
Murshidabad
742135

Telephone

+919647668750

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Miftaul Islam Babai posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Place Of Worship

Send a message to Miftaul Islam Babai:

Share