04/05/2026
🤗হরেকৃষ্ণ 🤗
আগামী ১৬ই মে থেকে বিশেষ মাস পুরুষোত্তম মাস শুরু হতে যাচ্ছে। (১৬ মে থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত )
পুরুষোত্তম মাসে যে সমস্ত ধর্মীয় কর্মকাণ্ড পালন করা হবে তা অন্য সকল মাস থেকে ১০ হাজার গুণফল বেশি লাভ হবে।
চলুন এই মাসে কি কি পালন করা উচিত এবং তার কি মহিমা ও পালন না করলে কি ক্ষতি হতে পারে জেনে জেনে নেই।
#পুরুষোত্তম_ব্রতে_কি_কি_পালনীয় : -
১. প্রাতঃস্নান ও মঙ্গলারতি
২. তুলসীতে জল দান
৩. হরেকৃষ্ণ মহামন্ত্র জপ
৪. কীর্তন
৫. শ্রীমদ্ভাগবত পাঠ ও শ্রবণ
৬. সন্ধ্যায় ভগবানকে প্রদীপ নিবেদন
৭. স্তোত্র পাঠ ( চৌরাগ্রগণ্য পুরুষাষ্টকম্)
৮. বৈষ্ণব সেবা ও বৈষ্ণবদের দান দক্ষিণা করা ।
৯. বিশেষ সংখ্যা ৩৩ ( রাধা কৃষ্ণের উদ্দেশ্যে ৩৩ দণ্ডবৎ প্রণাম, ৩৩ সংখ্যা প্রদীপ নিবেদন, ৩৩ সংখ্যা ফল ও পুষ্প প্রদান, ৩৩ বার মন্দির পরিক্রমা এছাড়া ভগবানের অন্যান্য সেবায় ৩৩ সংখ্যা ব্যবহার)
১০. চারটি নিয়ম পালন ( কমপক্ষে নিরামিষ খাওয়া, নেশা না করা, জোয়া না খেলা, অবৈধ সঙ্গ না করা)
১১) শ্রীমদভগবদগীতা র ১৫ তম অধ্যায় পাঠ।
#পুরুষোত্তম_ব্রত_পালনের_মহিমা :-
১. স্বয়ং পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ পরম পবিত্র বৈশাখ, কার্তিক ও মাঘ মাস অপেক্ষায় এই অধিমাসকে অধিক মহিমা প্রদান করেছেন এবং একে নিজ নাম "পুরুষোত্তম" দ্বারা অলংকৃত করেছেন। (পৃ: - ৭)
২. শাস্ত্রে বিভিন্ন রকমের পাপ ও দোষের প্রতিকার রূপে এই পুরুষোত্তম ব্রতের বিধান রয়েছে। ( পৃ: ৮)
৩. ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন আমার যে সমস্ত গুণ আছে সে সমস্ত গুণ আমি এই মাসে অর্পণ করলাম। ( পৃ: ১৪)
৪. অন্য সকল মাসের অধিপতি বলা হয় এই মাসকে। ( পৃ: ১৪)
৫. যিনি সকল প্রকার কামনাশুন্য বা সকল কামনা যুক্ত হয়েও এ মাসের নিয়ম পালন করেন তিনি সকল কর্ম ভস্মাসাৎ করে আমাকে প্রাপ্ত হন। (পৃ: ১৪)
৬. এই মাসে ভক্তদের কখনোই অপরাধ হয় না ভগবানের সেবা করতে গিয়ে। (পৃ: ১৪)
৭. এই পুরুষোত্তম মাসের যিনি ভক্তিপূর্বক আমার নাম জপ ও আমার অর্চন করেন তিনি ধন-পুত্রাদি লাভে পরে অবশেষে গোলোকবাসী হন। (পৃ: ১৪)
৮. পুরুষোত্তম মাস পালনে জাগতিক সুখ প্রদানসহ ভগবদ্ধামে ফিরে যাওয়ার যোগ্যতাও লাভ করা যায়। (পৃ: ১৫)
৯. পুরুষোত্তম মাস সকল মাসের শ্রেষ্ঠ। এই মাসের মহিমার ১৬ ভাগের ১ ভাগেরও সমান নয় অন্য সকল মাসের মহিমা। ( পৃ : ১৭)
১০. পুরুষোত্তমাসে মাত্র একবারও যদি কেউ পূণ্যতীর্থে স্নান করেন ১২ হাজার বছর ধরে গঙ্গাস্নানের বা বৃহস্পতি সিংহ রাশিতে প্রবেশ করলে গঙ্গা বা গোদাবরী স্নানে যে ফল লাভ হয় তা প্রাপ্ত হওয়া যায়। ( পৃ : ১৭)
১১. পুরুষোত্তম মাসের স্নান, দান ও কৃষ্ণ নাম করলে সমস্ত দুঃখ দুর্দশা থেকে মুক্ত হওয়া যায় এবং সর্বসিদ্ধিরাভ ও মনোবাসনা পূরণ হয়। ( পৃ: ১৭)
১২. পুরুষোত্তম ব্রত পালনের পঞ্চপান্ডবরা তাদের হারানো রাজ্য ফিরে পেল এবং পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের কৃপায় অবশেষে ভগবদ্ধাম প্রাপ্ত হলেন। ( পৃ: ২৩)
১৩. ভক্তি ভরে পুরুষোত্তম ব্রত মাহাত্ম্য শ্রবণে সৌভাগ্য লাভ ও ভগবদ্ধাম প্রাপ্ত হওয়া যায়। ( পৃ: ২৪)
১৪. পুরুষোত্তম ব্রত পালনের ভক্তদের সমস্ত বাসনা পূরণ হয় । ( পৃ: ২৪)
১৫. পুরুষোত্তম মাসের প্রাতঃস্নান করলে সমস্ত তীর্থ ড় স্নানের ফল লাভ হয়।
#পুরুষোত্তম_ব্রত_পালন_না_করলে_কি_হতে_পারে :-
১. পুরুষোত্তম মাসের যে সকল মহামূঢ় হরিনাম জপ-দানাদি করেন না ও সৎকর্ম, স্নান করেনা এবং দেব, তীর্থ ও ভক্তদের প্রতি বিদ্বেষ করে সেই সকল দুষ্ট দুর্ভাগা স্বপ্নেও কোন সুখ পায় না। (পৃ : ১৪)
২. যে সকল ব্যক্তি পুরুষোত্তম মাসের গুরুত্ব না দিয়ে নিন্দা করে সে কখনো সৌভাগ্য লাভ করতে পারেন না। ( পূর্বজন্মে দ্রৌপদী মেধা ঋষির কন্যার থাকা সত্ত্বেও সে পুরুষোত্তম মাসের নিন্দা করেছিল এবং তা পালন করে নাই তাই তার জন্য তাকে লাঞ্ছিত ও অপমানিত হতে হয়েছিল। পরবর্তীতে তিনি পুরুষোত্তম ব্রত পালনে রাজ্যসুখ ও ভগবদ্ধাম প্রাপ্ত হয় ) (পৃ: ১৭-২৩)
হরে কৃষ্ণ🙏🙏
#পবিত্র_পুরুষোত্তম_মাস
#পুরুষোত্তম_মাস
#মলমাস
#পুণ্যতিথি
#ভক্তি