19/10/2022
ফুরফুরার দাদা হুজুর রহমতুল্লাহ আলাইহি কে নিয়ে চলমান যে তর্ক বিতর্ক আমাদের সামনে উঠে এসেছে সে বিষয়ে কিছু কথা (অবশ্যই আপনি এটি মন দিয়ে পড়বেন ও বোঝার চেষ্টা করবেন এবং আপনার পরিচিতদের এটা শেয়ার করবেন)
ফুরফুরার দাদা হুজুর (রহমাতুল্লাহ আলাইহি) এর নিকট, নবীজি এবং চারজন প্রধান সাহাবাগণ যে রুহানি হালতে এসেছিলেন এ বিষয়ে সত্য-মিথ্যার যুক্তি সঠিক সাবলীল ভাবে যদি না দিতে পারেন তাহলে পাগলের প্রলাপ বন্ধ করেন ও চুপ থাকেন।
আপনারা দলিল দিচ্ছেন নবী সাঃ এর মিরাজের অলৌকিক ঘটনাবলীর যেমন তিনি, বাইতুল মুকাদ্দাসে অন্য সকল নবীগণের রুহের সাথে নামাজ পড়েছিলেন ও ইমামতি করেছিলেন। মিরাজের ঘটনা শরীয়াহ এর মানদণ্ড হাদিস, কোরআন দ্বারা সাব্যস্ত, যাহাতে কোন সন্দেহের অবকাশ নেই।
এর বাহিরে নানান কিতাব, কোরআন ও হাদিস এর দলীল ছাড়া তুচ্ছ। মেরাজ সংঘটিত হয়েছিল কেবল নবী করিম সাঃ এর জন্য। অন্য যেকোনো ব্যক্তির সাথে এই ঘটনার তুলনা করা মানেই ঈমানের প্রশ্ন ওঠে।
আপনি যদি সত্যনিষ্ঠ আলেম হন তাহলে যুক্তি না দিয়ে সহীহ দলিল পেশ করুন।
ইসলামের পূর্ণতা শরীয়াহ আইন কোরআন ও হাদিসের দলিল দ্বারা। যুক্তি দ্বারা নয়। তবে শরিয়াহ আইন এর সব দলিলই যুক্তিযুক্ত।
অযথা সাধারণ মানুষকে মন গড়া যুক্তি বা হাদিসের ভুল ব্যাখ্যা দ্বারা, গোমরাহ করবেন না। মূলত মেরাজের নানান অলৌকিক বিষয় যা আল্লাহ তাআলা প্রিয় বন্ধুকে পরিদর্শন করিয়েছেন। জান্নাত জাহান্নাম ইত্যাদি।
এসব কিছু দুনিয়া চিন্তনের বাহির জগতের বিষয়। যা আমাদের জ্ঞানের অনেক ঊর্ধ্বে, আল্লাহই ভালো জানেন এ বিষয়ে।
* এছাড়া নবীর কাছে জিব্রাইল মারফত ওহী আসতো। একজন অলির কাছেও কি তা সম্ভব?*
যদি সম্ভব না হয়ে থাকে তাহলে নবীর সাথে ওলীকে তুলনা করে রুহানি জগত ও ইহ জগতকে এক করে দলিল পেশ করা কতটা যুক্তিযুক্ত?
দাদা হুজুর রহমাতুল্লাহ আলাইহির সাথে এসব ঘটনা ঘটেছে কি ঘটেনি আল্লাহু আ'লাম বিমুরাদিহি।
কিন্তু এগুলো নিয়ে ভুলভাল দলিল দেখিয়ে, মানুষের আবেগকে কাজে লাগিয়ে মানুষকে গুমরাহ করাটাও ঠিক না। কিয়ামতে অবশ্যই জিজ্ঞাসিত হতে হবে।
আল্লাহ যা ইচ্ছা তাই করতে পারেন তবুও শেষে একটা কথা বলব দলিল সঠিকভাবে পেশ করেন। অযথা ব্যবসাকে চাঙ্গা করার জন্য ও নিজ স্বার্থ চরিতার্থ করতে সিলসিলার নামে চিললানো বন্ধ করেন।
দেখা যায়, সমাজে কোনো আলেম বা কোনো সাধারণ মানুষ যখনই সিলসিলা বা ওলীদের বিষয়ে কোনো শরিয়াহ এর পক্ষ কিংবা বিপক্ষ সূচক মন্তব্য করে,
তখনই সিলসিসিলার আলেম উলামারা, মুরিদগণ নানা গালি গালাজ, নিন্দা, হুমকি মূলক কথা , নোংরামি, গুন্ডামি শুরু করে, যা সম্পূর্ন সুন্নাহ ও ইসলাম বিরোধী।
উচিৎ ছিল
দলিল দ্বারা মুকাবিলা করা। তা করার সৎ সাহস যেন আল্লাহ দেন। (আমিন)
অথচ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা কুরআনে বর্ণিত করেছেন
وَلَو كُنتَ فَظًّا غَليظَ القَلبِ لَانفَضّوا مِن حَولِكَ فَاعفُ عَنهُم وَاستَغفِر لَهُم وَشاوِرهُم فِي الأَمرِ فَإِذا عَزَمتَ فَتَوَكَّل عَلَى اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ المُتَوَكِّلينَ
আর যদি তুমি কঠোর স্বভাবের, কঠিন হৃদয়সম্পন্ন হতে, তবে তারা তোমার আশপাশ থেকে সরে পড়ত। সুতরাং তাদেরকে ক্ষমা কর এবং তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর। আর কাজে-কর্মে তাদের সাথে পরার্মশ কর। অতঃপর যখন সংকল্প করবে তখন আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল করবে। নিশ্চয় আল্লাহ তাওয়াক্কুলকারীদেরকে ভালবাসেন।
🌼🌼🌼🌼
সুরা আল ইমরান
আয়াত নম্বর 159.
উক্ত আয়াত দ্বারা বোঝা যায়,
আল্লাহর নবী যদি রুক্ষ ও কঠিন হৃদয়ের হতেন তিনার পাশে কেহই অবস্থান করতোনা , দূরে সরে যেতেন।
তিনি সর্বদাই সহনশীল দয়ালু, উদার , ক্ষমা করার প্রতি অধিক আগ্রহী ছিলেন।
আর আমরা জাহেল মূর্খ দের মত আচরন করি একজন আলেমের সাথে, যা অকল্পনীয়।
সুতরাং অলি, পির, মোত্তাকিদের নামে সিলসিলার উল্লেখ করে ধর্মব্যবসা বন্ধ হোক। স্টেজে উঠে বাপ দাদার নামে কল্পিত কেচ্ছা কাহিনী বলা বন্ধ হোক। বন্ধ হোক কোরআন ও সুন্নাহকে গোপন করে নিজ কল্পনা বুদ্ধিতে কিছু আয়াত মানুষের সন্নিকটে উপস্থাপন করা, বন্ধ হোক বক্তৃতার মধ্যে কাদা ছোড়াছুড়ি, পর নিন্দা, গালমন্দ, উদ্ঘট মন্তব্য।