11/06/2026
আজ দুপুর থেকে আয়ুষ মালিক ওরফে মোহাম্মদ আলীর ভিডিও চারদিকে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। ভিডিওতে সবচেয়ে বিশেষ বিষয় ছিল যে তার মুখে সামান্যতম ভয় বা ঘাবড়ানোর চিহ্নও দেখা যায়নি। বরং একাধিক মুহূর্তে তাকে হাসিমুখে সম্পূর্ণ শান্তভাবে নিজের ঈমানের প্রকাশ করতে দেখা গেছে।
এক ভিডিওই তিনি বলছেন আমার সব সম্পত্তি নিয়ে নেন, আমার একহাতে সূর্য এবং আরেক হাতে চন্দ্র দিলেও আমি ঈমান থেকে বিরত হবনা।
আল্লাহু আকবার কি পাহাড় সমান ঈমান।
যখন চারদিকে চাপ থাকে, প্রশ্ন ওঠে এবং মানুষ বিরোধিতা করে, তখন নিজের বিশ্বাসে অটল থাকা সহজ নয়। এমন দৃশ্য দেখে আল্লাহর রাসূল ﷺ-এর সেই হাদিসটি মনে পড়ে যায়:
সাহাবারা জিজ্ঞাসা করলেন: “ইয়া রাসূলাল্লাহ ﷺ! আমাদের থেকেও কি কেউ উত্তম আছে?”
আপনি ﷺ বললেন: “হ্যাঁ, তারা যারা তোমাদের পরে আসবে, তারা আমাকে না দেখেই আমার উপর ঈমান আনবে।”
আয়ুষ মালিক ভারতের উত্তর প্রদেশের শামলি জেলার একজন ব্যবসায়ী পরিবারের আদুরে সন্তান। বাপ দাদারা বনেদি ব্যবসায়ী। ফার্মাসিউটিক্যালস ব্যবসায়ের বিস্তর সম্পদ গড়েছেন। ধর্মে হি*ন্দু। ছোট বেলা থেকেই আয়ুষ কঠিন অনুশাসনে বড় হয়েছেন। বাড়িতে নিয়মিত সন্ধ্যা বন্দনা, গায়ত্রী মন্ত্র, সূর্য প্রণাম, গণেশ স্তোত্র, লক্ষ্মী প্রার্থনা, শিব প্রার্থনা, আরতি হয়। এসব দেখতে দেখতে তার শৈশব কেটেছে। ঠাকুরমা-ঠাকুরদার দেখাদেখি আয়ুষ ছোটকাল থেকেই দেব-দেবীদের প্রতি সীমাহীন অনুরক্ত ছিল। দেবরায মালিক এবং কঙ্কনা মালিকের একমাত্র পুত্র আয়ূষ ছোটবেলা থেকেই মেধাবী। পাঠ মনোযোগী। দুই বোন আর আয়ুষ দেবরায দম্পতির পুরো পৃথিবী।
আয়ুষের বয়েস বাড়ে সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ে ধর্মে অনুরক্ততা। দেব-দেবী নিয়ে বিস্তর প্রশ্ন। রেওয়াজ রীতি নিয়ে মৌলিক জিজ্ঞাসা। কে শুরু করেছে,কিভাবে শুরু। পরম্পরা কী৷ ধর্মগ্রন্থের শুদ্ধতা কী। প্রশ্নবাণে জর্জরিত ঠাকুরদা। ঘাট মানলেন। পাঠালেন গুরুর কাছে। ধর্মবেত্তার দরবারে। মন্দি*রের পুরোহিতের কাছে। গয়াকাশীর সন্যাসীর আখড়ায়। দিল্লির ব্রাহ্ম*ণপাড়ায়। কেউই দফারফা করতে পারে না। উত্তর শুনে দিল সন্তুষ্ট না। যা খুঁজে ফিরছেন তা পাচ্ছেন না।
বছর দুয়েক মন্দিরের অলিগলি, ঘুপচি গলি, তস্য গলি ঘুরে বাসায় থিতু হলেন। অদম্য স্পৃহা আর তৃষ্ণা নিয়ে শুরু করলেন কম্পারিটিভ রিলিজিয়ন স্টাডি।
জট খুলতে শুরু হলো ধীরে ধীরে। এক ঐশী সালমান ফারসায়ীয় দ্যুতি চোখের সামনে হাতছানি দিচ্ছে। রিসালাতের কোমল স্পর্শ কাছাকাছি হতে লাগলো। কুরআনের হৃদয় শীতল করা সুর মন্দিরের অপ/বিত্র মন্ত্রকে ধুয়ে মুছে সাফ করে দিলো।
উদ্ভাসিত হলো এক ঐশী অধ্যায়। এটাই কী খুঁজে ফিরছিলেন?
কোনো এক পবিত্র রজনীর শেষাংশে পুরো সত্তা বিলীন করে লুটিয়ে পড়ে সাক্ষ্য দিলো- ❝আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসুলুহ❞
দিন যায়, সময় যায় আয়ুশ ক্রমেই 'মোহাম্মদ আলী' হয়ে উঠছেন। বি-জেপি আর-এস-এস ইস্কনিদের যেখানে চেষ্টা ইসলামের মূলোৎপাটন করে ফেলবে, কোরবানি বন্ধ, নামাজ পড়ার জন্য রাস্তা ব্যবহার নিষিদ্ধ। একেক করে মসজিদ বন্ধ করছে। রাতের আধারে ২০০ বছরের মসজিদ বুল-ডোজার দিয়ে গুড়িয়ে দিচ্ছে সেখানে এই অঘটন কোনোভাবেই মেনে নেওয়ার মতো না।
মিডিয়া কভারেজ পেলো, লাভ জি*হা-দের ট্যাগ দিলো, সম্পত্তিচ্যুত করার হুমকি দেওয়া হলো, ত্যাজ্য করার ইমোশনাল ব্ল্যা*কমেইল করা হলো, ঘর ওয়াপস এর জন্য হুমকি দেওয়া হলো।
আয়ুষ মালিকের ঈমান গরুখাওয়া মুসলমানদের মতো নয়। বাপের বদৌলতে জন্ম পরম্পরায় মুসলমান নয়। আয়ুষ মালিকের ঈমান সীসাঢালা প্রাচীরের ন্যায় ঈমান। যার গভীরতা আসমান জমিন দূরত্বের শক্ত ভীতের উপর প্রতিষ্ঠিত। আয়ুষ তার রবের ভালোবাসায় রবের সাথে মিশে গেছে। রাসূলের অনুসরণে কুরবান হতে প্রস্তুত সে।
আয়ুষ মালিক বলেছেন, আমার জীবন থাকতে আমি ইসলাম ছাড়বো না। আমাকে সম্পদ ছাড়া করলেও আমি ইসলাম ছাড়বো না। আমি রাস্তার ফকিরের জীবন বেছে নিতে প্রস্তুত শিরকের আহবানে কোটি টাকার সম্পত্তির মালিক হতে চাই না। ত্যাজ্য করার হুমকিতে আমি আল্লাহ আর রাসূলকে ছাড়তে পারব না।
আল্লাহই আমার জন্য যথেষ্ট।
ইয়া আল্লাহ আপনি মোহাম্মদ আলীর জন্য যথেষ্ট হয়ে যান।
সংগৃহীত