04/08/2025
কোরআনে স্পষ্ট ভাবে যে ১১ টি জায়গায় আল্লাহ বলেছেন তিনি কাদের ভালোবাসেন :-
কুরআনে স্পষ্টভাবে ১১টি আয়াতে আল্লাহ ঘোষণা করেছেন যে, তিনি কাদের ভালোবাসেন (يُحِبُّ)। এইসব আয়াতে "إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ" (নিশ্চয়ই আল্লাহ ভালোবাসেন) বা এর সমতুল্য শব্দ ব্যবহার করে উল্লেখ করা হয়েছে। নিচে আয়াত সংখ্যাসহ তালিকা দেওয়া হলো:
আল্লাহ যাদের ভালোবাসেন — আয়াত অনুযায়ী (১১টি আয়াত)
১. তাওবাকারী ও পবিত্রতাপূর্ণ - সূরা আল-বাকারা (2:222)
২. মুত্তাকী (পরহেযগার)- সূরা আলে ইমরান (3:76)
৩. সবরকারী (ধৈর্যশীল) -সূরা আলে ইমরান (3:146)
৪. তাওয়াক্কুলকারী -সূরা আলে ইমরান (3:159)
৫. মুহসিন (ইহসানকারী/উত্তম আমলকারী) - সূরা আলে ইমরান (3:134)
৬. মুহসিন (পুনরায়)- সূরা আল-মায়েদা (5:93)
৭. মুকসিত (ন্যায়পরায়ণ) -সূরা আল-মায়েদা (5:42)
৮. মুকসিত (পুনরায়)- সূরা হুজরাত (49:9)
৯. মুজাহিদ (আল্লাহর রাস্তায় সংগ্রামী) - সূরা আস-সাফ (61:4)
১০. তাকওয়াবান - সূরা তাওবা (9:4)
১১. তাকওয়াবান (পুনরায়) -সূরা তাওবা (9:7)
এই ১১টি আয়াতে সরাসরি বলা হয়েছে “আল্লাহ ভালোবাসেন” (يُحِبُّ).
একাধিক আয়াতে একই গুণাবলী পুনরুক্ত হয়েছে যেমন: তাকওয়া, ইহসান, ন্যায়পরায়ণতা।
এই আয়াতগুলোতে মূলত যেসব গুণের প্রতি আল্লাহর ভালোবাসা প্রকাশ পেয়েছে:
➤ তাওবা
➤ তাকওয়া (আল্লাহভীতি)
➤ সবর
➤ তাওয়াক্কুল
➤ ইহসান
➤ ন্যায়পরায়ণতা
➤ জিহাদ/আল্লাহর পথে সংগ্রাম
➤ পবিত্রতা রক্ষা
এই ৮টি গুণ ইসলামী জীবনের মূল স্তম্ভগুলোর অন্যতম। এগুলোর প্রতিটি গুণ অর্জন করা হলে একজন মুমিনের ইমান, চরিত্র, এবং আমল পরিপূর্ণ হয়। নিচে প্রতিটি গুণ অর্জনের উপায় কুরআন, হাদীস ও বাস্তব অভ্যাসের আলোকে সংক্ষেপে ব্যাখ্যা করা হলো:
➤ ১. তাওবা (তওবা করা / ফিরে আসা)
অর্জনের উপায়:
গুনাহ বুঝে সঙ্গে সঙ্গে অনুতপ্ত হওয়া।
বারবার গুনাহ হলেও হাল না ছাড়া (সাহীহ মুসলিম, 2749)।
বেশি বেশি ইস্তেগফার ও দোয়া করা:
“আস্তাগফিরুল্লাহা রাব্বি মিন কুল্লি যাম্বিন”
রাতের নিঃশব্দ মুহূর্তে (তাহাজ্জুদে) আল্লাহর কাছে কেঁদে কেঁদে তাওবা করা।
➤ ২. তাকওয়া (আল্লাহভীতি)
অর্জনের উপায়:
আল্লাহর আদেশ-নিষেধ জানা এবং মানার চেষ্টা করা।
নিজেকে সবসময় হিসাবের দিনে দাঁড় করিয়ে চিন্তা করা।
একাকী অবস্থায় গোনাহ থেকে বিরত থাকা – এটাই আসল তাকওয়া।
কুরআন তিলাওয়াত ও হাদীস অধ্যয়নের মাধ্যমে অন্তরে আল্লাহর ভয় জাগানো।
➤ ৩. সবর (ধৈর্য)
অর্জনের উপায়:
বিপদ, কষ্ট ও দুঃখে আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে স্থির থাকা।
"ইন্নাল্লাহা মাআস্ সাবিরীন" – আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথেই আছেন (সূরা বাকারা: ১৫৩)।
পরীক্ষাগুলিকে আল্লাহর পরীক্ষা ভেবে দোয়া ও ইবাদতে অবিচল থাকা।
রাগের সময় নীরব থাকা, ওযু করা।
➤ ৪. তাওয়াক্কুল (আল্লাহর ওপর ভরসা)
অর্জনের উপায়:
নিজের চেষ্টা করে পরিণাম আল্লাহর হাতে ছেড়ে দেওয়া।
কুরআনে বারবার এসেছে, “وَكَفَىٰ بِٱللَّهِ وَكِيلًۭا” – আল্লাহ যথেষ্ট কর্মবিধায়ক।
সাহাবাদের জীবনী পড়া যারা যুদ্ধেও আল্লাহর ওপর সম্পূর্ণ ভরসা রাখতেন।
➤ ৫. ইহসান (সর্বোত্তম আমল করা)
অর্জনের উপায়:
মনে রাখা: “তুমি যেন আল্লাহকে দেখছো, যদিও তুমি তাঁকে দেখতে পাচ্ছো না, কিন্তু তিনি তোমাকে দেখছেন।” (সহীহ মুসলিম)
প্রতিটি কাজ নিখুঁতভাবে করা – নামায হোক বা মানুষের সাথে আচরণ।
লোক দেখানো থেকে বেঁচে খালি আল্লাহর জন্য কাজ করা।
➤ ৬. ন্যায়পরায়ণতা (আদল / ইনসাফ)
অর্জনের উপায়:
নিজের বিরুদ্ধে হলেও সত্য বলার সাহস রাখা।
পরিবার, বন্ধু, শত্রু – সকলের সঙ্গে ইনসাফ করা।
কুরআনের নির্দেশ:
“হে ঈমানদারগণ! ন্যায়পরায়ণ সাক্ষ্যদাতা হয়ে আল্লাহর জন্য দৃঢ়ভাবে দাঁড়াও।” (সূরা মায়েদা: ৮)
➤ ৭. জিহাদ (আল্লাহর পথে সংগ্রাম)
অর্জনের উপায়:
নিজের নফস, কুপ্রবৃত্তি ও গোনাহর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা – এটাই ‘আল জিহাদুল আকবার’।
কলম, কণ্ঠ, ধন, সময় ও দাওয়াহ দিয়ে ইসলামের জন্য কাজ করা।
সত্য ও ন্যায়ের পথে বাধা এলেও সাহসিকতা না হারানো।
➤ ৮. পবিত্রতা রক্ষা (তাহারাত)
অর্জনের উপায়:
অজু ও গোসল নিয়মিত এবং সুন্নাত মোতাবেক করা।
অন্তরের পবিত্রতার জন্য গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা।
খাবার, পোশাক, হালাল-হারাম বিষয়ে সতর্ক থাকা।