03/02/2026
আজ মাঘী পূর্ণিমার পুণ্যলগ্নে ব্রহ্মা পুজো — শ্রীরামপুর, হুগলি।
কলকাতার জন্মের প্রায় পাঁচশো বছর আগে পত্তন হয়েছিল শ্রীরামপুর শহরের। ১৪শ ও ১৫শ শতকে এই প্রাচীন শহর ছিল বিশ্ব বাণিজ্যের এক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। তুলা, তৈলবীজ, চিনি, মশলা— নানা সামগ্রী এখান থেকে রপ্তানি হত এশিয়া ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে। পাশাপাশি রেশম ও সুতিশিল্পের খ্যাতি ছড়িয়ে পড়েছিল দেশ-বিদেশে। বাণিজ্যে সমৃদ্ধ সেই শহর বারবার অগ্নিকাণ্ডে বিপর্যস্ত হত। বিশ্বাস করা হয়, সেই আগুনের ভীতি থেকেই শ্রীরামপুরে শুরু হয় ব্রহ্মার উপাসনা— সৃষ্টিকর্তার কাছে রক্ষার প্রার্থনা।
এই শহরে আজও দুটি আলাদা ব্রহ্মা পুজো হয়, ভিন্ন ভিন্ন তিথিতে।
মানিকতলা অঞ্চলের ঠাকুরবাটী স্ট্রিটে ১৬৪ বছরের প্রাচীন ব্রহ্মা পুজো অনুষ্ঠিত হয় মাঘী পূর্ণিমায়। এখানে ব্রহ্মাসহ ত্রিদেব পূজিত হন। অগ্নিবর্ণ চতুর্মুখ ব্রহ্মা— তাঁর বামে বিষ্ণু, ডানে মহাদেব। তিন দেবতাই উপস্থিত নিজ নিজ বাহনসহ: ব্রহ্মার নীচে রাজহাঁস, বিষ্ণুর নীচে গরুড়, শিবের নীচে নন্দী। কয়েক হাজার ভক্তের সমাগমে এই পুজো আজও এক অনন্য ঐতিহ্য বহন করে চলেছে।
অন্যদিকে, চাতরা এলাকায় বুদ্ধ পূর্ণিমার দিনে কয়েকশো বছরের পুরনো আর এক ব্রহ্মা পুজো অনুষ্ঠিত হয়। এখানেও ত্রিদেব পূজিত হন একই বিন্যাসে। তবে এই প্রতিমার বিশেষত্ব— শিবের কোলে উপস্থিত মাতা পার্বতী। বিষ্ণু বা ব্রহ্মা এখানে সস্ত্রীক নন, যা এই পুজোকে আলাদা স্বাতন্ত্র্য দেয়।
পথনির্দেশ: হাওড়া-ব্যান্ডেল লাইনে শ্রীরামপুর স্টেশনে নেমে টোটো করে সহজেই পৌঁছে যাওয়া যায় মানিকতলা বা চাতরা— দুই স্থানেই।
(তথ্যসূত্র: সমুদ্র বসু, “বাংলার ব্যতিক্রমী পুজোর সন্ধানে”)
©® কপিরাইট :- সৌরভ কান্তি রায়
ডিজিটাল পার্টনার :- ।। বাঙালির দেবদেবী।।