Ramakrishna Kathamrita

Ramakrishna Kathamrita This Page shares the words of inspiration of the Great Spiritual Light - 'Sri Ramakrishna'.
(1)

 #ভক্তসেবাখাওয়ার সময় ছাড়া অন্য যে সময় ভক্তেরা বাড়ির মধ্যে মাকে দর্শন করিতে যাইতেন তখনই তিনি তাহা দিগকে মিষ্টি জল ও ...
28/04/2026

#ভক্তসেবা
খাওয়ার সময় ছাড়া অন্য যে সময় ভক্তেরা বাড়ির মধ্যে মাকে দর্শন করিতে যাইতেন তখনই তিনি তাহা দিগকে মিষ্টি জল ও পান খাইতে দিতেন। পান কাহাকেও দু-খিলির কম দিতেন না। এইসব দ্রব্য অতি সামান্য হইলেও এমন সস্নেহে দিতেন যে, সকলেই এক অপূর্ব আকর্ষণ অনুভব করিতেন। আবার কেহ তাঁহার জন্য অতি সামান্য জিনিস লইয়া যাইলেও তিনি কতই না আনন্দিত হইতেন। জয়রামবাটীর নিকটবর্তী শ্যামবাজারে ভাল পান পাওয়া যায়। ঐ অঞ্চলে গরিব ভক্তেরা কখন কখনও একগোছ পান লইয়া মাকে
দর্শন করিতে আসিতেন। দেখিতাম, মা তাহা পাইয়াই কত খুশি। ভক্তেরা মিষ্টি ইত্যাদি যাহা লইয়া যাইতেন, মা তাহা সযত্নে তাঁহাদের জন্যই রাখিয়া দিতেন। পূজনীয় শরৎ মহারাজ কলিকাতা হইতে কড়াপাকের সন্দেশ পাঠাইলে মা তাহা ভক্তদের জন্য তুলিয়া রাখিয়া যেভাবে দুবেলা সকলকে দিতেন, তাহা দেখিয়া মনে হইত যেন উহা ভক্তসেবার জন্যই প্রেরিত হইয়াছে। আবার জয়রামবাটীতে পাড়ার অনেক বৃদ্ধ স্ত্রী-পুরুষ বাড়ির ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের লইয়া একবার তাহাদের ‘দিদি ঠাকরুনকে’ প্রণাম করিতে প্রায় রোজই আসিত। মাও যেজন্য যে আসিয়াছে তাহা বুঝিয়া তাহাদের হাত ভরিয়া ফল, প্রভৃতি যাহা থাকিত প্রসাদ দিতেন। শ্রীমতী কৃষ্ণভাবিনীর প্রেরিত বেদানা এবং পূজনীয় শরৎ মহারাজ যে আম পাঠাইতেন, তাহা ভাগ করিয়া প্রথমে সিংহবাহিনীকে এবং ধর্মঠাকুর ও অন্যান্য দেবতাকে দিতেন ; তারপর আত্মীয়স্বজন
ও প্রতিবেশীদিগকে দিতেন। একবার কোন পর্বোপলক্ষে পুলিপিঠা হইয়াছে। ছুটি পাইলেই বাঁকুড়া হইতে বিভূতি প্রায়ই জয়রামবাটী আসিয়া থাকে; তাই মা তাহার জন্য পিঠা রাখিয়া দিয়াছেন। দুইদিন গেল, কিন্তু বিভূতি আর আসিতেছে না। তথাপি মা রোজ ঐ পিঠা পুনরায় ভাজিয়া রাখিয়া দিতেছেন। ভাবিতেছেন, “কাল হয়তো আসিতে পারে ; যদি আসে, মনে হবে, আহা, খেতে পেলে না।” এইভাবে চারদিন রাখিবার পর বিভূতি গিয়া সেই পিঠা খাইয়াছিল।
জয় মা🌹🌹🌹
_________স্বামী অরূপানন্দ

মাস্টারের বন্ধু হরিবাবুর প্রায় এগার বৎসর হইল পত্নীবিয়োগ হইয়াছে। আর বিবাহ করেন নাই। মা-বাপ, ভাই-ভগ্নী সকলেই আছেন। তাঁহাদে...
24/04/2026

মাস্টারের বন্ধু হরিবাবুর প্রায় এগার বৎসর হইল পত্নীবিয়োগ হইয়াছে। আর বিবাহ করেন নাই। মা-বাপ, ভাই-ভগ্নী সকলেই আছেন। তাঁহাদের উপর স্নেহ-মমতা খুব করেন ও তাঁহাদের সেবা করেন। বয়ঃক্রম ২৮-২৯। .......

ঠাকুর মাস্টারের বন্ধু - হরিবাবুর কথা জিজ্ঞাসা করিতেছেন।

মাস্টার — ইনি আপনাকে দর্শন করতে এসেছেন। এঁর অনেকদিন পত্নীবিয়োগ হয়েছে।

শ্রীরামকৃষ্ণ — তুমি কি কর গা?

মাস্টার — একরকম কিছুই করেন না। তবে বাড়ির ভাই-ভগিনী, বাপ-মা এদের খুব সেবা করেন।

শ্রীরামকৃষ্ণ (সহাস্যে) — সে কি? তুমি যে “কুমড়োকাটা বঠ্‌ঠাকুর” হলে। তুমি না সংসারী, না হরিভক্ত। এ ভাল নয়। এক-একজন বাড়িতে পুরুষ থাকে, — মেয়েছেলেদের নিয়ে রাতদিন থাকে, আর বাহিরের ঘরে বসে ভুড়ুর ভুড়ুর করে তামাক খায়, নিষ্কর্মা হয়ে বসে থাকে। তবে বাড়ির ভিতরে কখনও গিয়ে কুমড়ো কেটে দেয়। মেয়েদের কুমড়ো কাটতে নাই, তাই ছেলেদের দিয়ে তারা বলে পাঠায়, বঠ্‌ঠাকুরকে ডেকে আন। তিনি কুমড়োটা দুখানা করে দিবেন। তখন সে কুমড়োটা দুখানা করে দেয়, এই পর্যন্ত পুরুষের ব্যবহার। তাই নাম হয়েছে “কুমড়োকাটা বঠ্‌ঠাকুর”।

“তুমি এ-ও কর — ও-ও কর। ঈশ্বরের পাদপদ্মে মন রেখে সংসারের কাজ কর। আর যখন একলা থাকবে তখন পড়বে ভক্তিশাস্ত্র — শ্রীমদ্ভাগবত বা চৈতন্যচরিতামৃত — এই সমস্ত পড়বে।”

[ঠনঠনিয়ার শশধর পণ্ডিত প্রভৃতি সঙ্গে, শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণকথামৃত, পৃষ্ঠা-৪৬৬] ।।।

21/04/2026

*ধ্যানেই বিশ্রামের অনুসন্ধান*।কখনো বলবে নাঃ ‘ওঃ,আমার মন খুব বেশি চঞ্চল। কেমন করে আমার পক্ষে ধ্যান করা সম্ভব?’ তোমার মন এ...
21/04/2026

*ধ্যানেই বিশ্রামের অনুসন্ধান*।
কখনো বলবে নাঃ ‘ওঃ,আমার মন খুব বেশি চঞ্চল। কেমন করে আমার পক্ষে ধ্যান করা সম্ভব?’ তোমার মন এত বেশি চঞ্চল বলেই তোমাকে অবশ্যই আরো বেশি বেশি ধ্যান করতে হবে। যার মন সম্পূর্ণ শান্ত তার পক্ষে এত বেশি ধ্যানের প্রয়োজন হয় না।
লোকে কখনো কখনো কিছু না করার মধ্যে বিশ্রাম পাবার চেষ্টা করে-কেবল আলস্যের মাঝে-কিন্তু তাদের মনে নানা বাজে জিনিসের চিন্তা নিয়ে কাজ চলতেই থাকে। *ঠিক ঠিক ধ্যানই হলো-বিশ্রাম, ক্লান্তির উপশম ও সমতা লাভের শ্রেষ্ঠ উপায়। অনেকের ধারণা যে নানা ভাবে চিত্তবিনোদনে ও নোংরা আমোদ প্রমোদেই ক্লান্তির উপশম হয়। ধ্যান ও জপ-ই হলো বিশ্রামের ও মনকে নতুন সজীবতায় ভরে দেবার স্বাভাবিক উপায়*। তাদের মাধ্যমেই মনের প্রবাহ স্বাভাবিক ভাবে চলতে থাকে সকল তেজের যা উৎস সেই আত্মার দিকে, আর তখনই দেহ-মন এই তেজে আবার ভরপুর হয়ে ওঠে। সব শক্তি, সব তেজ, সব সমতা আসে ঈশ্বরের কাছ থেকে। আর ধ্যানই হলো এই উৎসমুখ উন্মুক্ত করার প্রত্যক্ষ উপায়।
[ধ্যানশীল জীবনের জন্য কিছু কার্যকর পরামর্শ, ধ্যান ও আধ্যাত্মিক জীবন-স্বামী যতীশ্বরানন্দ, পৃষ্ঠা-৩২৭]।।।

21/04/2026
🥀  #শ্রীশ্রীমা🌹আর একবারের ঘটনা—সে ঘটনার আমি প্রত্যক্ষদর্শী। মহাসমাধির পরদিন মায়ের শরীর মঠে আনা হল । এখন যেখানে তাঁর মন্...
16/04/2026

🥀 #শ্রীশ্রীমা🌹
আর একবারের ঘটনা—সে ঘটনার আমি প্রত্যক্ষদর্শী। মহাসমাধির পরদিন মায়ের শরীর মঠে আনা হল । এখন যেখানে তাঁর মন্দির সেখানেই তাঁর স্থূল শরীর দাহ করা হয় ৷ তখনও কোন ঘাট হয়নি । তবে ওখানে গঙ্গার পাড়টা নদীর দিকে ঢাল, ছিল । যথাসময়ে চিতা সাজিয়ে আগুন দেওয়া হল। চিতা জ্বলছে। ঠিক ঐ সময় দেখা গেল গঙ্গার অপর তীরে প্রচণ্ড বৃষ্টি হচ্ছে । এমন বৃষ্টি যে ওপারের ঘরবাড়ি, গাছপালা কোন কিছুই দেখা যাচ্ছিল না। বৃষ্টি গঙ্গার মাঝামাঝি পর্যন্ত এল, কিন্ত, ঐ পর্যন্তই । এপারে তখন বেলুড় মঠে খটখটে রোদ। চিতা যথারীতি জ্বলতে লাগল। কিছুক্ষণ পর মায়ের দেহ সম্পর্ণে দাহ হয়ে গেল । এবার চিতার আগুন নেভাতে হবে । সেখানে একজন ছিলেন—তিনি তান্ত্রিক। তিনি চেয়েছিলেন, তান্ত্রিক বিধিতে আগুন নেভানো হোক । সেজন্য যেসব জিনিসের দরকার ছিল, তা তখন ওখানে ছিল না। তিনি তাই সেসব আনতে বাজারে গিয়েছিলেন। তাঁর ফিরতে দেরি হচ্ছিল। স্বামী নির্মলানন্দ (তুলসী মহারাজ ) অধৈর্য হয়ে গঙ্গা থেকে জল ভরে এনে শরৎ মহারাজকে (স্বামী সারদানন্দকে ) বললেন : 'আপনি জল ঢেলে চিতা নেভান। আমাদের আর অপেক্ষা করা ঠিক হবে না।' শরৎ মহারাজ চিতায় জল ঢাললেন । অনেকেই
এর মধ্যে গঙ্গা থেকে জল নিয়ে এসেছে চিতায় ঢালবার জন্য। কিন্তু, কারুরই আর ঢালা হল না। শরৎ মহারাজের যেই চিতায় জল ঢালা শেষ হল সঙ্গে সঙ্গে ওপারের বৃষ্টি এপারেও এসে গেল ! সে এমন জোর বৃষ্টি যে, তাতেই তৎক্ষণাৎ চিতার আগুনে সম্পূর্ণ নিভে গেল। ফলে শরৎ মহারাজের পরে কারও আর জল ঢালা হল না। আমরা সবাই বৃষ্টিতে একেবারে ভিজে গেলাম । এরকম ঘটনাও ঘটে। শুনতে অস্বাভাবিক ও অলৌকিক মনে হলেও বাস্তব এ ঘটনা ।
জয় মা 🌺🌺🌺

(অমৃতের সন্ধানে- স্বামী বীরেশ্বরানন্দ- পৃষ্ঠা ৭ - ৮)

আরো একটি বিশেষ কথা, প্রার্থনা জানাবার সময় আমরা যেন স্বার্থপর না হই। আমরা নিজেদের জন্য যেমন প্রার্থনা জানাই, ঠিক তেমনিই য...
13/04/2026

আরো একটি বিশেষ কথা, প্রার্থনা জানাবার সময় আমরা যেন স্বার্থপর না হই। আমরা নিজেদের জন্য যেমন প্রার্থনা জানাই, ঠিক তেমনিই যেন অন্যের জন্যও প্রার্থনা জানাই। যারা তোমার কাছের, যারা তোমার প্রিয় তাদের জন্য প্রার্থনা জানাও। পরে যারা সৎ ও আধ্যাত্মিক জ্ঞান লাভের জন্য সাধন করছে, তাদের জন্যও প্রার্থনা কর। শেষে সব জায়গার সকল লোকের, সকল জীবের জন্য প্রার্থনা কর। দিকে দিকে কল্যাণময় প্রার্থনা বাক্য ছড়িয়ে দাও। তোমার কাছে থেকে চারিদিকে শান্তি ও কল্যাণময়ী বাণী ছড়িয়ে পড়ুক।
[আধ্যাত্ম জীবনে প্রার্থনার স্থান, ধ্যান ও আধ্যাত্মিক জীবন-স্বামী যতীশ্বরানন্দ, পৃষ্ঠা-৩৬১]।।।

মায়ের জীবনী থেকে জানা যায়, কামারপুকুরে থাকাকালীন মা যখন নির্জনে হালদারপুকুরে স্নান করতে বা জল আনতে যেতেন, তখন তিনি এক অদ...
13/04/2026

মায়ের জীবনী থেকে জানা যায়, কামারপুকুরে থাকাকালীন মা যখন নির্জনে হালদারপুকুরে স্নান করতে বা জল আনতে যেতেন, তখন তিনি এক অদ্ভুত জিনিস অনুভব করতেন। মা নিজেই পরবর্তীকালে ভক্তদের কাছে সেই অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়ে বলেছিলেন, ​"কামারপুকুরে যখন একলা ঘাটে যেতুম, মনে হত যেন আটটি ছোট ছোট মেয়ে—কেমন সুন্দর দেখতে, লাল পেড়ে শাড়ি পরা—আমার আগে আগে আর পিছে পিছে চলেছে।

মা সারদাকে সাধারণ মানুষ হিসেবে দেখলেও, তাঁর আধ্যাত্মিক সত্তা যে দেবীত্বের আধারে ছিল, এই ঘটনাটি তারই ইঙ্গিত দেয়। শাস্ত্রীয় মতে, এই বালিকা রূপিণী মেয়েরা ছিলেন অষ্টশক্তি বা দেবীর সহচরী।

মা বলেছিলেন যে, এই মেয়েদের সঙ্গ পাওয়ার ফলে নির্জনে পুকুর ঘাটে যাওয়ার সময় তাঁর মনে কোনো ভয় বা একাকীত্ব বোধ হতো না।

একদিন একজন ভক্ত মহিলা মাকে বললেন, “মা আমরা তাে সারা দিনরাত সংসার নিয়ে, সংসারের সকলের ফরমাস আর চাহিদা মেটাতেই ক্লান্ত হয...
08/04/2026

একদিন একজন ভক্ত মহিলা মাকে বললেন, “মা আমরা তাে সারা দিনরাত সংসার নিয়ে, সংসারের সকলের ফরমাস আর চাহিদা মেটাতেই ক্লান্ত হয়ে পড়ি। সারা দিনরাতে পাঁচটা মিনিটও ঠাকুরকে ডাকতে সময় পাইনা। আমাদের কী হবে মা? আমাদের ওপর কি তাঁর দয়া হবে না?" মা বললেন, “নিশ্চয় হবে মা, তিনি তাে অন্তর্যামী। সবার বুকের মাঝে তিনি সব সময় আছেন। তােমার ভিতরে আকুতি থাকলে তা তিনি বুঝবেনই বুঝবেন। ... শুধু একটু স্মরণ-মনন করলেই হলাে। মনে-প্রাণে ব্যাকুল হয়ে তাঁকে ডাক। তার স্মরণ-মনন কর। দিনান্তে দু ফোঁটা চোখের জল ফেলে তার নাম কর। ... তােমাদের কাছে বাঁধা হয়ে থাকবেন তিনি। ভয় কি মা, ঠাকুর এসে এবার তােমাদের জন্য ভগবানকে পাওয়ার এই সহজ পথ বলে দিয়ে গিয়েছেন।”
- (শ্রীশ্রীমায়ের পদপ্রান্তে - খণ্ড ৩, পৃ. ৬৮৭)

Address

Kolkata

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Ramakrishna Kathamrita posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Place Of Worship

Send a message to Ramakrishna Kathamrita:

Share