28/04/2026
#ভক্তসেবা
খাওয়ার সময় ছাড়া অন্য যে সময় ভক্তেরা বাড়ির মধ্যে মাকে দর্শন করিতে যাইতেন তখনই তিনি তাহা দিগকে মিষ্টি জল ও পান খাইতে দিতেন। পান কাহাকেও দু-খিলির কম দিতেন না। এইসব দ্রব্য অতি সামান্য হইলেও এমন সস্নেহে দিতেন যে, সকলেই এক অপূর্ব আকর্ষণ অনুভব করিতেন। আবার কেহ তাঁহার জন্য অতি সামান্য জিনিস লইয়া যাইলেও তিনি কতই না আনন্দিত হইতেন। জয়রামবাটীর নিকটবর্তী শ্যামবাজারে ভাল পান পাওয়া যায়। ঐ অঞ্চলে গরিব ভক্তেরা কখন কখনও একগোছ পান লইয়া মাকে
দর্শন করিতে আসিতেন। দেখিতাম, মা তাহা পাইয়াই কত খুশি। ভক্তেরা মিষ্টি ইত্যাদি যাহা লইয়া যাইতেন, মা তাহা সযত্নে তাঁহাদের জন্যই রাখিয়া দিতেন। পূজনীয় শরৎ মহারাজ কলিকাতা হইতে কড়াপাকের সন্দেশ পাঠাইলে মা তাহা ভক্তদের জন্য তুলিয়া রাখিয়া যেভাবে দুবেলা সকলকে দিতেন, তাহা দেখিয়া মনে হইত যেন উহা ভক্তসেবার জন্যই প্রেরিত হইয়াছে। আবার জয়রামবাটীতে পাড়ার অনেক বৃদ্ধ স্ত্রী-পুরুষ বাড়ির ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের লইয়া একবার তাহাদের ‘দিদি ঠাকরুনকে’ প্রণাম করিতে প্রায় রোজই আসিত। মাও যেজন্য যে আসিয়াছে তাহা বুঝিয়া তাহাদের হাত ভরিয়া ফল, প্রভৃতি যাহা থাকিত প্রসাদ দিতেন। শ্রীমতী কৃষ্ণভাবিনীর প্রেরিত বেদানা এবং পূজনীয় শরৎ মহারাজ যে আম পাঠাইতেন, তাহা ভাগ করিয়া প্রথমে সিংহবাহিনীকে এবং ধর্মঠাকুর ও অন্যান্য দেবতাকে দিতেন ; তারপর আত্মীয়স্বজন
ও প্রতিবেশীদিগকে দিতেন। একবার কোন পর্বোপলক্ষে পুলিপিঠা হইয়াছে। ছুটি পাইলেই বাঁকুড়া হইতে বিভূতি প্রায়ই জয়রামবাটী আসিয়া থাকে; তাই মা তাহার জন্য পিঠা রাখিয়া দিয়াছেন। দুইদিন গেল, কিন্তু বিভূতি আর আসিতেছে না। তথাপি মা রোজ ঐ পিঠা পুনরায় ভাজিয়া রাখিয়া দিতেছেন। ভাবিতেছেন, “কাল হয়তো আসিতে পারে ; যদি আসে, মনে হবে, আহা, খেতে পেলে না।” এইভাবে চারদিন রাখিবার পর বিভূতি গিয়া সেই পিঠা খাইয়াছিল।
জয় মা🌹🌹🌹
_________স্বামী অরূপানন্দ