18/05/2026
দেখুন তো কমরেড রা চেনেন নাকি,,, সাইবাড়ি।। হিন্দু বিরোধী কমরেড দের নির্মম নির্যাতনের... কালো ইতিহাস....!! মনে রেখেছে হিন্দুরা।।
বিস্তারিত :
সাঁইবাড়ি.... এই নামটা বাঙালি অন্তত ভুলতে পারবে না। সেই সাঁইবাড়িতে আজ গেছিলাম। আলাপ হলো সেই ঘটনার একমাত্র প্রত্যক্ষদর্শী ছোট ভাই বিজয় সাঁই-এর সঙ্গে।
আমার বন্ধুদের অনুরোধে সাঁইবাড়ির সেই নৃশংস ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ, ঘটনার একমাত্র জীবিত প্রত্যক্ষদর্শীর শ্রী বিজয় সাঁই-এর মুখে।
১৯৭০ সালের ১৭ই মার্চ। সকাল গড়িয়ে বেলা ছুঁই ছুঁই। বর্ধমান শহরের সম্পন্ন সাঁই পরিবারের পাঁচ ভাই-ই তখন বাড়িতে। বাইরে সিপিএমের এক বিশাল মিছিল যাচ্ছে। সেই মিছিলের মধ্যে থেকেই বেরিয়ে এল আনুমানিক ৫০-৬০ জন। হাতে তাদের মশাল, বর্শা, টাঙি, লাঠি এবং লাল পতাকা (যা বিজয় বাবুর স্পষ্ট মনে আছে)। বাড়ির সদর দরজা বন্ধ ছিল। সেই সদর দরজা ভেঙে ঢুকে পড়ল দুষ্কৃতীরা। ঢুকেই আঘাত হানল মলয় সাঁই, প্রণব সাঁইদের ওপর। প্রাণ বাঁচাতে ওরা আশ্রয় নিলেন রান্নাঘরে যেখানে মা রান্না করছিলেন। উনুনে টগবগ করে ফুটছে ভাত। কিন্ত শেষরক্ষা হলো না। মায়ের সামনেই বর্শা, লাঠি, টাঙি দিয়ে মেরে ফেলা হলো দুই ভাইকে। বড়দা নবকৃষ্ণ সাঁই পাঁচিল টপকে পালানোর চেষ্টা করেছিলেন। তাকে টানে হিঁচড়ে নামিয়ে শুরু হোল আঘাত। মৃতপ্রায় নবকৃষ্ণকে ফেলে আঘাত শুরু হয় মাষ্টার জীতেন রায়ের ওপর যিনি অপর দুই ভাইকে বাঁচাতে ছুটে এসেছিলেন। টাঙির কোপে লুটিয়ে পড়েন জীতেন। আর নিজের সন্তানদের চোখের সামনে খুন হতে দেখা মা যিনি সাহায্যের জন্য চিৎকার করছিলেন, তাকে চুলের মুঠি ধরে শুরু হয় মারধোর আর তারপর এমন এক নৃশংসতার নজীর গড়ল এই বাম হার্মাদরা, যা এতবছর পরেও মানুষ শুনে শিউরে উঠবে। হাঁড়ি থেকে ভাত নিয়ে সেই ভাতে মৃত সন্তানদের রক্ত মাখিয়ে সেই ভাত গুঁজে দেওয়া হয় মায়ের মুখে। আর ছবিতে যাঁকে দেখা যাচ্ছে, সেই বিজনবাবু যার তখন বয়স মাত্র ১০ বছর, সেই বিজনবাবুকেও রেয়াত করেনি খুনিগুলো। মাথায় আঘাত করে অচেতন অবস্থায় ফেলে বেরিয়ে যায় তারা। বেরোনোর সময় মশাল ছুঁড়ে দেয় যাতে জীবন্ত মানুষগুলোও যাতে অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যায়।
৫০ বছর পেরিয়েও সেই ঘটনার স্মৃতি আজও টাটকা বিজয়বাবুর মনে। আমাদের সেই ঘটনার কথা বলতে গিয়ে গলাটা কেঁপে উঠল তাঁর । দোষীদের সাজা হয়নি। উনি আজও দোষীদের শাস্তি চান। সেই আশাতেই সম্ভবতঃ দিন।কাটাচ্ছেন বিজয়বাবু।
বি.দ্র.- বড় ভাই নবকৃষ্ণ সাঁই, যিনি পেশায় উকিল ছিলেন এবং যিনি সাঁইবাড়ি হত্যা মামলা চালাচ্ছিলেন, ঘটনার এক বছর বাদে কে বা কারা তার গলায় টাঙির কোপ মেরে তার ধড় আর মাথা আলাদা করে দেন। সেই কেস আজও কোনো আদালতে ওঠেনি।
🖋️ Keya Ghosh
Copied.