18/05/2026
ব্রজভূমির এক শান্ত কুটিরে এক বৃদ্ধ সাধু বাস করতেন। তাঁর জীবন কেটে যেত একটিমাত্র কাজেই — নিজের প্রিয় ঠাকুরজির সেবা আর স্মরণে।
কিন্তু তাঁর প্রেম ছিল একেবারেই অনন্য। তিনি ভগবান শ্রীকৃষ্ণকে ঈশ্বর হিসেবে নয়, নিজের ঘরের ছোট্ট লালার মতো মনে করতেন।
একদিন দুপুরবেলা। চারদিকে নিস্তব্ধ পরিবেশ। বাবা আসনে বসে গভীর ধ্যানে তন্ময় হয়ে গেলেন। তাঁর চোখ বন্ধ, শ্বাস ধীর, আর মন সম্পূর্ণভাবে ঠাকুরজির চরণে নিমগ্ন।
হঠাৎ তিনি অনুভব করলেন, কেউ যেন তাঁর কাঁধে ছোট্ট কোমল হাত রাখল।
কেউ আলতো করে তাঁকে নাড়াল।
কিন্তু বাবা তখনও ধ্যানে মগ্ন।
আবার একটু জোরে ঝাঁকানো হলো।
এবার বাবা ধীরে ধীরে চোখ খুললেন। সামনে তাঁর ছোট্ট লালা দাঁড়িয়ে। মুখে দুষ্টুমিও আছে, আবার চিন্তার ছাপও।
লালা সরলভাবে জিজ্ঞেস করল —
“বাবা! একটা কথা বল তো… তুমি ঘুমিয়ে আছো নাকি কাঁদছো?”
বাবা মুচকি হেসে স্নেহভরে লালার দিকে তাকিয়ে বললেন —
“আরে লালা! তুইও না… আমি তো শুধু তোর ধ্যান করছিলাম। আর তুই জিজ্ঞেস করছিস আমি কাঁদছি কিনা?
যার কাছে তুই আছিস, সে আবার কাঁদবে কী করে?
আর ঘুমের কথা বলছিস… তুই কি আমায় শান্তিতে ঘুমোতে দিস?”
ছোট্ট কানাই সঙ্গে সঙ্গে দুই হাত কোমরে রেখে দাঁড়িয়ে বলল —
“তাতে আবার আমার দোষ কোথায়?
তুমি যখন ভজন করতে বসো, তখন একদম এমন হয়ে যাও যেন প্রাণটাই বেরিয়ে গেছে।
আমার খুব ভয় লাগে, আমার বাবা আমাকে ছেড়ে কোথাও চলে যাবে না তো!
তাই আমি বারবার তোমায় নেড়ে দেখি, তুমি এখনও এখানেই আছো তো!”
তারপর কানাই হেসে বলল —
“ভজন তুমি করো… আর তোমার পাহারা আমাকেই দিতে হয়!”
এ কথা শুনেই বাবার চোখ ভিজে উঠল।
তিনি সঙ্গে সঙ্গে নিজের লালাকে বুকে জড়িয়ে ধরলেন।
সেই মুহূর্তে বাবা অনুভব করলেন — ভগবান শুধু পূজার জন্য নন…
তিনি তাঁর ভক্তদের এতটাই আপন হয়ে যান যে, নিজেই তাদের চিন্তা করেন, তাদের রক্ষা করেন।
ভগবানের প্রয়োজন বড় বড় মন্ত্র, কঠিন তপস্যা বা বাহ্যিক আড়ম্বর নয়।
তাঁর দরকার শুধু সত্যিকারের প্রেম আর আপন অনুভব।
যখন ভক্ত প্রেমভরে ভগবানকে ডাকে,
তখন ভগবানও তাঁর জীবনের প্রহরী হয়ে যান।
জয় শ্রী রাধে কৃষ্ণ ❤️