20/08/2021
জয় জগদ্বন্ধু 💗
ানা____পথে
(বন্ধুলীলা তরঙ্গিনী হইতে সংগৃহীত)
“কত অজানারে জানাইলে তুমি,
কত ঘরে দিলে ঠাই,
দূরকে করিলে নিকট, বন্ধু,
পরকে করিলে ভাই।”
---- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
অতঃপর প্রায় দুই বৎসর—বারাে শত পঁচানবৃই সালের শেষভাগ হইতে সাতানব্বই সালের প্রথমভাগ পর্যন্ত বন্ধুসুন্দর যে কোথায় ছিলেন, সে সম্বন্ধে সঠিক সংবাদ কাহারও জানা নাই। কোন্ কোন্ অজানার পথে পথে যেই সে অজানা-পুরুষ আপনাকে ঢাকা দিয়া বিচরণ করিয়াছেন, তাহা একমাত্র তিনিই জানেন। পরবর্তীকালে কখন-কখনও কথা প্রসঙ্গে যে দুই চারি কথা বলিতেন, তাহা হইতে কিছু কিছু অনুমিত হইত। অনুমান হয়, এই দুই বৎসর তিনি নানা দেশ- বিদেশ পুণ্যতীর্থ, পাহাড়-পর্বত, নদনদী পর্যটন করিয়া জগজ্জীবের অবস্থা ও গ্রামনগরী পৰ্যবেক্ষণ করিয়াছেন।
কোনও একসময়ে নিতাই-ভাবাবিষ্ট “পাগল” শ্রীহরনাথ ঠাকুর এই সময়ের কথা উল্লেখ করিয়া কোনও ভক্তকে বলিয়াছিলেন, “প্রভু জগদ্বন্ধুর সঙ্গে রাজপুতনায় হ্রদের তীরে সাক্ষাৎ হইয়াছে।” কোনও সময়ে ইংলিশম্যান পত্রিকার সম্পাদক মহাশয়, চম্পটী ঠাকুরের হস্তে প্রভুবন্ধুর শ্রীমূৰ্ত্তি দেখিয়া বলিয়াছিলেন—“এই বালককে প্যারিসে এক বিরাট সভাস্থলে আমি দেখিয়াছিলাম। ইহার কথায় ও রূপের আকর্ষণে আমরা অনেকে মুগ্ধ হইয়াছিলাম। এই ফটো যে তাঁহারই, ইহাতে আমার বিন্দুমাত্র সন্দেহ নাই।” লণ্ডনের কোন একটি বিশিষ্ট প্রাসাদের অবিকল বর্ণনা করিয়া সেখানে তাঁহার সঙ্গে যে মহারাণী ভিক্টোরিয়ার সাক্ষাৎ হইয়াছে, এইরূপ কথা প্রভুবন্ধু নিজেই কোনও কথা প্রসঙ্গে বলিয়াছিলেন।
এই প্রকারের আরও বহু ভাঙ্গা ভাঙ্গা কথা হইতে অনুমান করা যায় যে, এই সময় প্রভুবন্ধু ভারত ও ভারতের বাহিরে
বহুস্থানে গমন করিয়াছিলেন। জগদ্বন্ধু যাঁহার নাম, জগৎ জুড়িয়াই তাঁহার লীলা ও কাৰ্য্য। তিনি সর্বত্র বিচরণ করিবেন ইহা
তাে স্বাভাবিকই। যিনি ভক্ত হৃদয়ে বিরাজমান থাকিয়া ভক্তকে পরম তীর্থ-তুল্য করেন, তাঁহার পাদস্পর্শে আজ কত শত
জনপদ পবিত্র হইল। কত সাধু-সজ্জন সেই সাধনের ধন সন্দর্শন করিয়া কৃতকৃতার্থ হইল। কত ধনী-মানী রাজা-মহারাজা
তাঁহার করুণার স্পর্শে জীবনে সার্থকতা অনুভব করিলেন। কত দীনহীন কাঙাল পতিত পতিতপাবনের স্নেহের স্পর্শে
শান্তিময় রাজ্যের সন্ধান জানিল, তাহা লিপিবদ্ধ করিবার সুযােগ তিনি দিলেন না।
জয় জগদ্বন্ধু 💗
জয় মহাউদ্ধারণ লীলা