29/05/2026
মাতৃ সুধা
🪷👣🪷
_শ্রীমা ছিলেন সধবা সীমন্তিনী চিরদিনই, বিধবার বেশ নিতে শ্রীশ্রীঠাকুর তাঁকে নিষেধ করেছিলেন। স্বামী অভেদানন্দ মহারাজ এই অশ্রুতপূর্ব রহস্য প্রকাশ করেছেন তাঁর অপ্রকাশিত আত্মজীবনীর পাতায় মর্মস্পর্শী ভাষায়।_
শ্রীশ্রীঠাকুরের মহাসমাধির পর নিবিড় সম্পর্ক আরো স্পষ্ট হয়ে ধরা পড়ে। স্বামী অভেদানন্দ মহারাজ এর পরিচয় দিতে গিয়ে লিখেছেন :👇
“ইংরেজী ১৮৮৬ খ্রীস্টাব্দ। ১২৯৩ সালের ৩১ শ্রাবণ রাত্রি ১টা দুই মিনিটের সময় শ্রীশ্রীঠাকুর নাসাগ্রে দৃষ্টি স্থির করিয়া মহাসমাধিমগ্ন হইয়াছিলেন। শ্রীমা তৎপর দিবস (১ ভাদ্র) হাতের বালা খুলিতে যাইতেছেন এমন সময় শ্রীশ্রীঠাকুর প্রত্যক্ষ দর্শন দিয়া তাঁহার হাত দুইটি ধরিয়া বলিলেন, 'আমি কি কোথাও গেছি গো! এই যেমন এঘর থেকে ওঘর।' তখন আর শ্রীমা হাতের বালা খুলিতে পারিলেন না।
“শ্রীমা বৃন্দাবনে কালাবাবুর কুঞ্জে দ্বিতীয়বার হাতের বালা খুলিতে চেষ্টা করিয়াছিলেন। সেবারও তৎক্ষণাৎ শ্রীশ্রীঠাকুর তাঁহাকে দর্শন দিয়া বলিয়াছিলেন : “তুমি হাতের বালা খুলো না। শ্রীকৃষ্ণ যার পতি তার বিধবা হওয়া নাই, সে চিরসধবা।”
“বৃন্দাবন হইতে ফিরিয়া কামারপুকুরে থাকিবার সময় লোকসমাজের নিন্দার ভয়ে শ্রীমা বিধবা সাজিতে গিয়াছিলেন। তখনো শ্রীশ্রীঠাকুর (শ্রীমাকে) তাঁহাকে দর্শন দিয়া পূর্ববৎ হাতের বালা খুলিতে নিষেধ করিয়াছিলেন।”
_শ্রীশ্রীঠাকুরের দিব্যদর্শন শ্রীমা কয়েকবারই শুধু নয়, অসংখ্যবার পেয়েছিলেন তাঁর জীবনে নানাভাবে অপরূপ ভঙ্গিমায়। শ্রীশ্রীঠাকুর তাঁকে কত উপদেশ, কত নির্দেশ ও কত ভালবাসার ইঙ্গিতই না দিয়েছিলেন! দুইয়ের মধ্যে ছিল না কিছুমাত্র ভেদ, একে ছিলেন যেন অপরের ছায়া, ভাগবতী লীলার অভিনয় করতেই এসেছিলেন তাঁরা দুজনে স্বর্গ থেকে নেমে পৃথিবীর বুকে দিব্যপ্রেমের @নিবিড়তা নিয়ে!_
✒স্বামী প্রজ্ঞানানন্দ
==============
প্রবন্ধঃ স্বামী অভেদানন্দের চোখে শ্রীমা সারদাদেবী
তথ্যসূত্রঃ যুগজননী সারদা,পৃঃ ২০৬-২০৭
🌾🌻🌾🌻🌾🌻🌾🌻