04/10/2025
📖মোকসেদুল মোমেনীন বইটি ” কি আসলেই গ্রহণযোগ্য? — কোরআন ও সহীহ হাদিসের আলোকে পরীক্ষা করে দেখি
🔰 ভূমিকা:
বর্তমান সমাজে অনেক মানুষ দ্বীনের নামে এমন কিছু বই ও আমল অনুসরণ করে যেগুলো কোরআন ও সহীহ হাদিসে নেই। এসব গ্রন্থের মধ্যে “মোকছুদুল মো’মিনীন” বা “বেহেশতের পুঞ্জি” বইটি বেশ প্রচলিত। সাধারণ মানুষ মনে করে বইটিতে যা লেখা আছে সবই ইসলামের অংশ। কিন্তু বাস্তবে এর ভেতরে অসংখ্য অপ্রমাণিত দোয়া, কাল্পনিক আমল ও বানোয়াট বর্ণনা ঢোকানো হয়েছে। তাই মুসলিম উম্মাহর জন্য এটি কোরআন ও সহীহ হাদিসের আলোকে যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি।
---
🕌 বইতে আসা কিছু বিষয় ও যাচাই:
1️⃣ **কবরের আজাব থেকে বাঁচার জন্য নির্দিষ্ট কবিতা/তাবিজ পাঠ**
➡️ কোরআন-হাদিসে এর কোনো প্রমাণ নেই। রাসূল ﷺ বলেছেন, “যে কেউ আমাদের দ্বীনে নতুন কিছু চালু করবে তা প্রত্যাখ্যাত হবে।”
📖 সূরা আল-মুলক (৬৭:২), সহীহ মুসলিম ৮০৪, সহীহ বুখারি ২৬৯৭
2️⃣ **প্রতিদিন নির্দিষ্ট অক্ষর বা শব্দ গণনা করে পড়ার ফজিলত**
➡️ সহীহ হাদিসে এর কোনো ভিত্তি নেই। ইসলামে আমল সংখ্যা ও পদ্ধতি রাসূল ﷺ ঠিক করে দিয়েছেন, বানানো সংখ্যা গ্রহণযোগ্য নয়।
📖 সহীহ বুখারি (কিতাবুল আজকার), সহীহ মুসলিম ৭৭৯
3️⃣ **মৃত আত্মার মুক্তির জন্য বিশেষ কাগজ লিখে কবরে রাখা**
➡️ এটি কুসংস্কার। রাসূল ﷺ বা সাহাবারা কখনো এ কাজ করেননি।
📖 সহীহ মুসলিম ৯৩১, সহীহ বুখারি ১৩৪৪
4️⃣ **অজ্ঞাত সূত্র থেকে বানানো কবিতা/শ্লোক দ্বারা দোয়া**
➡️ ইসলাম কেবল সহীহ দোয়া গ্রহণ করে। বানানো কবিতা দোয়ার রূপে বৈধ নয়।
📖 সহীহ মুসলিম ২৭২১, সহীহ বুখারি ৭৩৩৭
5️⃣ **নির্দিষ্ট দিনে কবর জিয়ারতের জন্য বানানো বাক্য পাঠ**
➡️ কবর জিয়ারতের সুন্নত আছে, তবে নির্দিষ্ট কবিতা/বাক্য বানানো বিদ্যমান নয়।
📖 সহীহ মুসলিম ৯৭৫, সহীহ বুখারি ১৩৬০
---
⚖️ যাচাইয়ের ফলাফল:
🔹 কোরআন ঘোষণা করেছে: “আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীন পূর্ণাঙ্গ করলাম।”
📖 সূরা মায়েদা (৫:৩)
🔹 রাসূল ﷺ বলেছেন: “যে কাজ আমাদের দ্বীনের অংশ নয়, তা প্রত্যাখ্যাত।”
📖 সহীহ মুসলিম ১৭১৮
অতএব এসব আমল ও বর্ণনা দ্বীনের অংশ নয়, বরং মানুষের বানানো সংযোজন।
---
💡 দর্শকের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন:
👉 আমাদের কি উচিত নয় দ্বীনের নামে প্রচলিত প্রতিটি আমলকে কোরআন ও সহীহ হাদিস দিয়ে যাচাই করা?
👉 নিরাপদ কোনটি — আল্লাহ ও রাসূল ﷺ প্রমাণিত আমল, নাকি মানুষের বানানো কবিতা ও তাবিজ?
---
✅ উপসংহার:
“মোকছুদুল মো’মিনীন” বইটির অনেক বিষয় ইসলামের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। মুসলমানের করণীয় হলো দ্বীনকে যাচাই করা, শুদ্ধ উৎস থেকে শেখা, এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূল ﷺ এর সুন্নাহ আঁকড়ে ধরা। যারা দ্বীনের নামে নতুন সংযোজন করে, তাদের আমল আল্লাহর কাছে গৃহীত হবে না।
✍️ লেখক: সহীহ দ্বীন একাডেমি