27/12/2024
জীবনে সঠিক পথ খুঁজে পেতে তোমার কঠোর পরিশ্রমে তোমার বাবা-মা কতটা অবদান রেখেছেন! সেটা হয়তো এই ভাবে ভাবোনি।
তোমার মা তোমার দৈনন্দিন পরিশ্রমের সুফলের আসায় ঈশ্বরের চরণে সর্বদা আকুল প্রার্থনা করতে থাকে। হ্যাঁ সর্বদা, সর্বদা সংসারের সকল কাজ করতে যেভাবে শারীরিক শ্রম দেন, সেই সকল কাজে শারীরিক শ্রমেরে সাথে মানসিক প্রার্থনা তোমার জন্য থাকে। যেমন রান্না করতে করতে মনে মনে ঈশ্বরের নিকট প্রার্থনা করেন - হে ঈশ্বর আমার সন্তানের সাফল্যতার বিনিময় যদি আমার জীবন হয় , তবে এই আগুনে আমায় জ্বালিয়ে ছাই করে দাও কিন্তু আমার সন্তানকে সাফল্যতা দাও।
তোমার বাবা ক্রমাগত তার নিজের অপূর্ণ ইচ্ছা এবং চাহিদার আপোষ নিয়ে মন ও মস্তিষ্কের সংগ্রামে ব্যস্ত এবং প্রতিবার এই সংগ্রামে মনকে জয়ী ঘোষণা করেন। জয়ী ঘোষণা করবার সাহস ও শক্তি উৎস কি? উৎস তোমার সুনিশ্চিত ভবিষতের কল্পনা। মনকে জিততে একটি কথা বারংবার মন্ত্রের মতো উচারন করতে থাকে, প্রয়োজনে আমার শরীরের রক্ত বিক্রয় করে, আমার সন্তানকে আমি সুশিক্ষিত করবো, যাতে যে সাফল্যটা আমি পাইনি সেটা যেন ও পাই, সহজেই যেন পাই।
"বড় হলে সব ঠিক হয়ে যাবে" এই মানসিকতায় বদ্ধ হয়ে খুব আরাম আরামে সময়কে উপভোগ করছো তো! উপভোগ কখন অপচয়ে পরিনত হয়েছে সেটাও বুজতে পারছোনা।
ও ছেলে! তোমার বিবেক কি আছে? একবারও কি তাদের অবদানকে সামনে তুলে ধরবার চেষ্টা করেছো? সময় উপভোগের নামে বাবা মাকে ফাঁকি দিচ্ছো, নাকি নিজের সাফল্যতাকে। ভেবে দেখেছো যারা সর্বদা তোমায় নিয়ে চিন্তাকরে, যাদের হৃদয়ে কিঞ্চিৎ স্থান খালি রাখেনি, যাদের হৃদয় পরিপূর্ন কেবল মাত্র তোমার ভবিষৎ, তোমার জীবন আর তোমার সাফল্যতা সংগ্রাম নিয়ে, সেই হৃদরে তোমার ব্যর্থতার দুঃসংবাদ রাখবে কোথায়? হৃদয়ের দরজা বন্ধ হয়ে যাবে, তাদের জীবন সেখানেই সমাপ্ত হয়ে যাবে! এটা জানার পরেও ফোন করে বলবে আমি ব্যর্থ, আমি অপারক।
পৃথিবীর সেরা পুঁথিগত পন্ডিতের নিকট প্রশিক্ষণ দিয়ে সাফল্যতা আসেনা, যতক্ষনে নিজে একশো শতাংশ প্রয়াসে মাধ্যমে নিজেকে আদর্শ শির্ষ স্বরূপ বিশ্বাস জোগাতে না পড়িবে ততক্ষনে কোন সাফল্যতা তোমার চরণ চুম্বন করিবে না। দ্রোণাচার্যের নিকট দক্ষ প্রশিক্ষণ পেয়েও কিন্তু, অর্জুন একলব্য হতে পারিনি।