02/02/2025
সরস্বতী পূজা
🏡 👨👩👧👦 *।। গৃহস্থ বাড়িতে সংক্ষিপ্ত আকারে - সরস্বতী পূজা করার - সহজ পদ্ধতি।।* 👩👩👧👧 🏡
🪷 👨👩👧👦🧎🏻♂️🧘♂️🏡🧘♀️ 🧎🏻♀️👩👩👧👧 🪷
🙏 *।। স্বামী শান্তিঘনানন্দ।।* 🙏
🌻🌸🌺🪷🌺🌸🌻
****************
*(এই সংক্ষিপ্ত সরস্বতী পূজা পদ্ধতিটি শুধুমাত্র - ঘরোয়া ভাবে যে সকল ভক্তরা নিজের ঘরে অথবা বাড়িতে পূজা করতে চান শুধুমাত্র তাদের জন্য। তাই আপনারা আপনাদের চেনাজানা ও পরিচিত - যে সকল গৃহস্থ ভক্তরা ঘরোয়া ভাবে সরস্বতী পূজা করতে চায় - তাদের কাছে অবশ্যই পাঠিয়ে দেবেন)*
******************
🙏 *নিজেদের বাড়ির ঠাকুর ঘরে - সরস্বতী দেবীর ছবিতে অথবা সারদা দেবীর ছবিতে - সরস্বতী পূজার দিন সকালে - সকল গৃহস্থ ভক্তরাই এই (👇) সংক্ষিপ্ত পূজা পদ্ধতি মেনে - পূজা করতে পারবেন।*
*একটা কথা আমাদের সর্বদা মনে রাখতে হবে - ভগবান শ্রীরামকৃষ্ণদেব নিজ মুখে সারদা দেবীকে - "সরস্বতী" বলেছিলেন। তিনি বলেছিলেন* -> 👇
*"ও (সারদা) সরস্বতী - জ্ঞান দিতে এসেছে। ও জ্ঞানদায়িনী, মহাবুদ্ধিমতী। ও কি যে সে - ও আমার শক্তি"।*
*ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণদেবের এই কথা থেকেই আমরা স্পষ্ট বুঝতে পারি যে - সরস্বতী দেবী ও সারদা দেবী দুজনেই এক। যে সারদা - সে-ই সরস্বতী। তাই শ্রীমা সারদা দেবীর ছবিতে - সরস্বতী মায়ের পূজা - নির্দ্বিধায়, নিঃসংশয়ে এবং নিঃসন্দেহে করা যেতে পারে।*
*এখন আমরা সংক্ষিপ্তভাবে অর্থাৎ পঞ্চোপচারে - সরস্বতী মায়ের পূজাপদ্ধতি জেনে নেব* -> 👇
*(১)* সরস্বতী দেবী বা সারদা দেবী - বসে আছেন - এমন ছবি - একটূ উচ্চস্থানে রেখে - পূজা করতে হবে।
*(২)* পূজা শুরু করার ঘন্টাখানেক আগে - স্নান করে, শুদ্ধ পরিষ্কার বস্ত্র পরে, ঠাকুর ঘরে গিয়ে - পূজার সব উপকরণ সাজিয়ে নিতে হবে।
*(৩)* পূজা শুরু করার আগে - সরস্বতী মায়ের বা সারদা মায়ের ফটো - পরিষ্কার কাপড় দিয়ে মুছে, একটি মালা পরিয়ে, ফুল দিয়ে ভালো করে সাজিয়ে দিতে হবে।
*(৪) পূজার উপকরণ* -> 👇
কুল সমেত তিন রকম বা পাঁচ রকমের ফল, মিষ্টি, হলুদ-সাদা বিভিন্ন রকের ফুল, ৫ টা বেলপাতা, ৩ টা তুলসী পাতা, ৫ টা দূর্বা, অল্প আতপ চাল, দূর্বা, অল্প গঙ্গাজল, সাদা চন্দন, ধূপকাঠি, ধূপদানি একটা, একটা প্রদীপ, একটা আসন, একটা ঘন্টা, একটা পুষ্পপত্র, তিনটি থালা, ৪টা ছোট বাটি, একটি গ্লাস, অল্প ঘী ও একটি দেশলাই। সম্ভব হলে - কালির দোয়াত, কলম কাঠি ও একটু কাঁচা দুধ।
*(৫)* একটি পুষ্পপত্রের মধ্যে ছোট-বড় বিভিন্ন রকমের ফুল, বেলপাতা, দূর্বা, আর চারটি ছোট বাটির মধ্যে - সাদা চন্দন, লাল চন্দন, আতপ চাল, গঙ্গাজল সাজিয়ে নেবেন। আর আরেকটি থালার মধ্যে ধুপকাঠি ও ধূপদানি রেখে দেবেন এবং ঘি দিয়ে প্রদীপটা জ্বালিয়ে দেবেন। কালির দেওয়াতে দুধ ঢেলে - তার মধ্যে কলম কাঠি দিয়ে আর দুটি বই সমেত সরস্বতী মা অথবা সারদা মায়ের - ছবির সামনে রেখে দেবেন।
*( সরস্বতী পূজাতে বিভিন্ন রঙের ফুল থাকলেও - কুন্দ ফুল ও পলাশ ফুল রাখলে ভাল। পূজাতে জবা ফুল ও লাল চন্দন - ব্যবহার না করলেই ভাল।)*
*পূজা পদ্ধতি* :- 👇
*(১)* উপরেউক্ত দ্রব্যগুলো সব ভালোভাবে গুছিয়ে নেওয়ার পর - মালা ও ফুল দিয়ে সাজানো সরস্বতী দেবীর বা সারদা দেবীর ছবির নিচে অর্থাৎ পায়ে একটি অর্ঘ্য দিয়ে - ছবির সামনে অর্থাৎ ছবির থেকে দু-হাত দূরে আসন পেতে বসতে হবে।
পূজা শুরু করার আগে তিনবার শঙ্খ বাজিয়ে নিতে হবে।
*(২)* আসনে বসে গঙ্গা জলে হাত ধুয়ে - দুটি ধুপকাঠি ধরিয়ে দিতে হবে এবং মাকে প্রণাম করে - গুরুদেওয়া মন্ত্র ১০৮ বার জপ করতে হবে। জপের পর পূজা শুরু করতে হবে।
*পঞ্চোপচারে পূজা*:-👇
*(১) গন্ধ*:- পুষ্পপত্রে রাখা ফুল গুলোর মধ্যে থেকে একটি ছোট সাদা ফুল নিয়ে তার মধ্যে সাদা চন্দন মাখিয়ে - *"ওঁ ঐং এস গন্ধ সরস্বত্যৈ নমঃ"*- এই মন্ত্র বলে সামনে রাখা মায়ের ছবিতে অর্থাৎ মায়ের চরণে দিতে হবে।
*(২) পুষ্প* :- পুষ্পপত্র থেকে পুষ্প অর্থাৎ বিভিন্ন রকম ফুল নিয়ে - সাদা চন্দন মাখিয়ে -> *"ওঁ ঐং এষ সচন্দন পুস্প সরস্বত্যৈ নমঃ"*- এই মন্ত্র বলে মায়ের চরণে দিতে হবে।
*(৩) বিল্বপত্র*- পুষ্পপত্র থেকে বেল পাতা নিয়ে সেই বেলপাতাতে - সাদা চন্দন মাখিয়ে -> *"ওঁ ঐং এষ সচন্দন বিল্বপত্র সরস্বত্যৈ নমঃ"*- এই মন্ত্র বলে মায়ের চরণে দিতে হবে।
*(৪) ধুপ*- তিনটি ধূপকাঠি একসাথে জ্বালিয়ে - ডান হাতে ধূপকাঠি নিয়ে এবং বাম হাতে ঘণ্টা বাজাতে বাজাতে -> *"ওঁ ঐং এষ ধুপ সরস্বত্যৈ নমঃ"*- এই মন্ত্র বলতে বলতে তারপর ধূপদানিতে রেখে দিতে হবে।
*(৫) দীপ* :- দীপ অর্থাৎ জ্বলন্ত প্রদীপ ডান হাতে নিয়ে, বাম হাতে ঘন্টা বাজাতে বাজাতে -> *"ওঁ ঐং এষ দীপ সরস্বত্যৈ নমঃ"*- এই মন্ত্র বলে মায়ের সামনে ঘুরিয়ে রেখে দিতে হবে।
*(৬) নৈবেদ্য*- একটি থালাতে তিন রকম বা পাঁচ রকম কাটা ফল, আরেকটি থালাতে বিভিন্ন রকম মিষ্টি ও এক গ্লাস জল - মায়ের ছবির সামনে সাজিয়ে দিতে হবে। তারপর সেই নৈবেদ্যের উপর অর্থাৎ ফল, মিষ্টি ও জলের গ্লাসের মধ্যে তুলসী পাতা দিতে হবে। এরপর পুষ্পপত্র থেকে হাতে ছোট সাদা ফুল নিয়ে - *"ওঁ ঐং ইদম্ সোপকরণ ফলম্ মিষ্টাদি নৈবেদ্যং সরস্বত্যৈ নিবেদয়ামি"*- এই মন্ত্র বলে ছোট সাদা ফুল নিয়ে গঙ্গা জলে স্পর্শ করে - ফল ও মিষ্টির উপর দিতে হবে।
তারপর হাতজোড় করে সেই - ফল, মিষ্টি - নৈবেদ্য মাকে গ্রহণ করার জন্য প্রার্থনা করতে হবে এবং যথাসম্ভব জপ করতে হবে।
*(৭) পুষ্পাঞ্জলি*:- পুষ্পপত্র থেকে বেলপাতা, দূর্বা, বিভিন্ন রকম ফুল হাতে নিয়ে - তার মধ্যে চন্দন মাখিয়ে - মায়ের দিকে তাকিয়ে হাতজোড় করে -> 👇
*"ওঁ সরস্বত্যৈ নমো নিত্যং*
*ভদ্রকাল্যৈ নমো নমঃ,*
*বেদ-বেদান্ত-বেদাঙ্গ*
*বিদ্যাস্থানেভ্য এব চ"।।*
*"এষ সচন্দন পুস্পাঞ্জলী ওঁ ঐং সরস্বত্যৈ নমঃ"* - এই মন্ত্র বলে মায়ের চরণে দিতে হবে। এইভাবে মন্ত্র বলে - একবার অথবা তিনবার পুষ্পাঞ্জলি দিতে হবে।
*(৮) ক্ষমা প্রার্থনা* :- জেনে বা অজান্তে এই পূজার মধ্যে বা পূজা করতে গিয়ে - যদি কোনরকম ভুলত্রুটি হয়ে থাকে - সেই কারণে হাতজোড় করে -> 👇
*"ওঁ সরস্বতী মহাভাগে*
*বেদানাং জননী পরা,*
*পূজাং গৃহান বিধিবৎ*
*কল্যাণং কুরু মে সদা"।।*
- এই মন্ত্র বলে মায়ের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে হয়।
*(৯) কর্মফল সমর্পণ* :- ডান হাতে একটু গঙ্গা জল নিয়ে - মায়ের দিকে তাকিয়ে বলতে হবে -> *"ওঁ ঐং সরস্বত্যৈ স্বাহা - এতৎ কর্মফলং সরস্বত্যৈ-অর্প নমস্তু"*- এই মন্ত্র বলে মায়ের ছবির সামনে মেঝেতে ডান হাত থেকে - গঙ্গা জল ফেলতে হবে।
*(১০) প্রণাম মন্ত্র*- সবশেষে হাতজোড় করে -> 👇
*"ওঁ সরস্বতী মহাভাগে*
*বিদ্যে কমল-লোচনে*
*বিশ্বরূপে বিশালাক্ষী*
*বিদ্যাং দেহি নমোস্তুতে"।।*
-> এই মন্ত্র বলার পর - আসন থেকে উঠে - সরস্বতী মাকে অথবা সারদা-মাকে ভূমিষ্ঠ প্রণাম করতে হবে।
*এরপরে যদি সম্ভব হয় - দুপুরবেলা সরস্বতী মায়ের ছবির সামনে অথবা সারদা মায়ের ছবির সামনে - খিচুড়ি, তিন রকম ভাজা ও পায়েস দিয়ে - ভোগ দিতে পারবেন।।* 🙏
************
(সমাপ্ত)
*_পূজা পদ্ধতির অত দরকার নেই_*
*________👣_________*
*একবার শ্যামাচরণ চক্রবর্তী মায়ের কাছে পুজোর পদ্ধতি শিখতে চান। মা বললেন—“যার পুজা করবে, তার মূর্তির সামনে বা তার উদ্দেশ্যে উপকরণ রেখে প্রণাম করবে; তাতেই পূজা সিদ্ধ হবে।"*
মায়ের প্রদত্ত এই বিধিতে শ্যামাচরণবাবু সন্তুষ্ট হতে পারেননি। *মঠে বাবুরাম মহারাজকে পূজা-পদ্ধতি সম্পর্কে প্রশ্ন করলে, তিনিও অনুরূপ উত্তর দেন।*
এক ভক্ত ঠাকুরকে ভোগ নিবেদন করা সম্পর্কে মাকে বলেন যে, তিনি পূজা-পদ্ধতি মতে ভােগ নিবেদন করার কোনাে মন্ত্র জানেন না। *এর উত্তরে মা বলেন—“পূজা-পদ্ধতির অত দরকার নেই। ইষ্টমন্ত্রতেই সব কাজ হয়।”*
_মাকে একজন প্রশ্ন করেন যে, "শাস্ত্রে তাে কত কথা বলে। এ বলছে এই, ও বলছে এই, কার কথা নেব?"_ *মা বললেন - "তা - তাে বটে। পাঁজিতে বিশ আড়া জল লিখেছে। নেংড়ালে এক ফোঁটাও বেরােয় না। আর শাস্ত্রে অনেক বাজে কথাও ভরেছে। শাস্ত্রবিধি অত আর পারা যায় না। তিনি (শ্রীরামকৃষ্ণ) বলতেন, 'বৈধী ভক্তি (যা নিয়মবদ্ধ/বাঁধাবাঁধি) ভক্তি না'।"*
~মাতৃসান্নিধ্যে
👏 সুপ্রভাত 👏