26/03/2026
#কাবা শরীফে আক্রমণের ইতিহাস, উমাইয়া শাসন এবং সমসাময়িক রাজনৈতিক প্রচারণা
#ভূমিকাঃ
সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে একটি অভিযোগ প্রচার করা হচ্ছে যে, ইরান বা শিয়া মুসলমানরা নাকি ভবিষ্যতে সৌদি আরব দখল করে কাবা শরীফ ধ্বংস করবে। এই ধরনের বক্তব্য আবেগপ্রবণ ও রাজনৈতিক প্রচারণার অংশ হলেও ইতিহাসের দলিলসমূহ ভিন্ন বাস্তবতা তুলে ধরে।
ইসলামের ইতিহাসে কাবা শরীফে আক্রমণ ও ক্ষতিসাধনের ঘটনা ঘটেছে, এবং তা সংঘটিত হয়েছিল উমাইয়া ইসলামের শাসনামলে। এই ঘটনাগুলো অসংখ্য প্রাচীন সুন্নি ইতিহাসগ্রন্থে স্পষ্টভাবে লিপিবদ্ধ আছে।
এই প্রবন্ধে ঐতিহাসিক সূত্রের ভিত্তিতে কাবা শরীফে আক্রমণের ঘটনাগুলো আলোচনা করা হবে এবং সমসাময়িক প্রচারণার সাথে তার সম্পর্ক বিশ্লেষণ করা হবে।
১. কাবা শরীফের মর্যাদা ইসলামে
কাবা মুসলমানদের কিবলা এবং ইসলামের সবচেয়ে পবিত্র স্থান।
আল্লাহ বলেন:
“নিশ্চয়ই মানুষের জন্য প্রথম যে ঘর প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তা মক্কায় — বরকতময় এবং বিশ্ববাসীর জন্য হেদায়েত।”
— (সূরা আলে ইমরান ৩:৯৬)
এই ঘরের দিকে মুখ করে মুসলমানরা নামাজ পড়ে, হজ করে, এবং এটিকে আল্লাহর ঘর হিসেবে সম্মান করে।
২. প্রথম আক্রমণ — ইয়াজিদ ইবনে মুআবিয়ার শাসনামলে কাবা অবরোধ (৬৪ হিজরি)
এই ঘটনা ঘটে
Yazid ibn Muawiya এর শাসনামলে, যখন Abdullah ibn al-Zubayr মক্কায় অবস্থান করছিলেন এবং উমাইয়া শাসনের বিরোধিতা করছিলেন।
ইয়াজিদের পক্ষ থেকে সেনাবাহিনী পাঠানো হয় এবং মক্কা অবরোধ করা হয়। অবরোধের সময় মঞ্জানিক ব্যবহার করা হয় এবং কাবা শরীফে আগুন ধরে যায়।
ঐতিহাসিক দলিলঃ
সুত্রঃ Tarikh al-Tabari, খণ্ড ৫, পৃষ্ঠা ৪৭৭
فَرُمِيَتِ الكعبةُ بالمجانيق فاحترقت
“কাবার দিকে মঞ্জানিক নিক্ষেপ করা হয় এবং তা দগ্ধ হয়।”
সুত্রঃ Al-Bidaya wa al-Nihaya — Ibn Kathir
খণ্ড ৮, পৃষ্ঠা ২৪৩
وأصاب الكعبة الحريق بسبب رميهم بالمجانيق
“মঞ্জানিক নিক্ষেপের কারণে কাবায় আগুন লাগে।”
সুত্রঃ Ansab al-Ashraf — Al-Baladhuri
খণ্ড ৫, পৃষ্ঠা ৩৩৮
ضربوا الكعبة بالمنجنيق حتى احترقت
“তারা মঞ্জানিক দিয়ে কাবায় আঘাত করে, ফলে তা পুড়ে যায়।”
৩. দ্বিতীয় আক্রমণ — হাজ্জাজের অবরোধ (৭৩ হিজরি)
দ্বিতীয়বার কাবা আক্রমণ হয়
Abd al-Malik ibn Marwan এর সময়, যখন
Al-Hajjaj ibn Yusuf মক্কা অবরোধ করেন।
ঐতিহাসিক দলিলঃ
সুত্রঃ Tarikh al-Tabari খণ্ড ৬, পৃষ্ঠা ১৮৫
نصب الحجاج المجانيق على مكة ورمى الكعبة
“হাজ্জাজ মক্কার দিকে মঞ্জানিক স্থাপন করে এবং কাবার দিকে নিক্ষেপ করে।”
সুত্রঃ Al-Kamil fi al-Tarikh — Ibn al-Athir
খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ৫৪
رمى الكعبة بالمجانيق حتى تهدم بعضُها
“কাবার দিকে মঞ্জানিক নিক্ষেপ করা হয়, ফলে এর অংশ ভেঙে যায়।”
সুত্রঃ Al-Bidaya wa al-Nihaya খণ্ড ৯, পৃষ্ঠা ৬৭।
حاصر الحجاج مكة وضرب الكعبة بالمنجنيق
“হাজ্জাজ মক্কা অবরোধ করে এবং কাবায় মঞ্জানিক নিক্ষেপ করে।”
৪. ঐতিহাসিক বিশ্লেষণঃ
ঐতিহাসিক সূত্রগুলো থেকে কয়েকটি বিষয় স্পষ্ট:
কাবা শরীফে আক্রমণ শিয়া শাসনামলে সময় হয়নি বরং ঘটনাগুলো ঘটেছে উমাইয়াদের শাসনামলে ।
ধর্মীয় বিধানকে পদতলে পিষ্ট করে ক্ষমতার লড়াই পবিত্র স্থানও তাদের হাতে রক্ষা পারেনি।
আর ঐতিহাসিক উমাইয়া ইসলাম যা মহানবীর সাঃ আনীত বিশুদ্ধ ইসলামের বিরুদ্ধে কারবালায় দাঁড়িয়ে ছিল আজও সেই ইয়াজিদ ইসলাম বিশ্বের বড়ো শয়তান আমেরিকার পতাকা তলে দাঁড়িয়েছে।
অতএব তারা তাদের মিথ্যা প্রোপাগান্ডায় নিজেরাই জর্জরিত।
ঘটনাগুলো সুন্নি ইতিহাসবিদরাই লিখেছেন
৫. সমসাময়িক প্রচারণা ও বাস্তবতাঃ
আজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বলা হচ্ছে —
* ইরান কাবা ধ্বংস করবে
* শিয়ারা মক্কা দখল করবে
* কাবা নিরাপদ নয়
কিন্তু ইতিহাস প্রমাণ করে—
* কাবা আক্রমণ করেছিল আমেরিকান তাঁবেদার শাসকরাই
* রাজনৈতিক ক্ষমতার জন্য পবিত্র স্থানও রক্ষা পায়নি
* ইয়াজিদী ইসলামের কুকর্ম গুলো আজ অন্যের উপর চাপানো হচ্ছে
* অতএব ইতিহাসের ইয়াজিদী ইসলাম আর বর্তমান যুগের আমেরিকান ইসলাম অভিন্ন ও একই ধারা।
৬. উপসংহারঃ
কাবা শরীফে আক্রমণের ঘটনা ইতিহাসে প্রমাণিত, এবং তা ঘটেছে উমাইয়া যুগের ইয়াজিদি ইসলামের শাসনামলে।
এ ঘটনা বহু প্রাচীন গ্রন্থে উল্লেখ আছে, যেমন:
* Tarikh al-Tabari
* Al-Bidaya wa al-Nihaya
* Ansab al-Ashraf
* Al-Kamil fi al-Tarikh
অতএব সমসাময়িক প্রচারণা বিশ্লেষণ করার সময় ইতিহাসের দলিলকে সামনে রাখা জরুরি।
ইতিহাস জানলে বিভ্রান্তি কমে, আর সত্য স্পষ্ট হয়।