23/04/2026
ইসলাম ধর্মে জ্ঞান অর্জন বা পড়াশোনাকে কেবল একটি পার্থিব কাজ হিসেবে নয়, বরং একটি ইবাদত হিসেবে গণ্য করা হয়। কোরআন এবং হাদিসে এর গুরুত্ব অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বর্ণনা করা হয়েছে।
১. পবিত্র কোরআনের আলোকে পড়াশোনা
পবিত্র কোরআনের প্রথম অবতীর্ণ শব্দই ছিল পড়াশোনা সংক্রান্ত। আল্লাহ তাআলা জ্ঞান অন্বেষণকে মানুষের শ্রেষ্ঠত্বের ভিত্তি হিসেবে নির্ধারণ করেছেন।
প্রথম নির্দেশ: সূরা আলাকের প্রথম আয়াতে আল্লাহ বলেন: "পাঠ করুন আপনার পালনকর্তার নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন।" (সূরা আলাক: ১)
"পাঠ করুন আপনার পালনকর্তার নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন।" (সূরা আলাক: ১)
জ্ঞানী ও অজ্ঞের পার্থক্য: আল্লাহ তাআলা জ্ঞানীদের মর্যাদা উঁচুতে রেখেছেন। কোরআনে বর্ণিত হয়েছে: "বলুন, যারা জানে এবং যারা জানে না, তারা কি সমান হতে পারে?" (সূরা জুমার: ৯)
"বলুন, যারা জানে এবং যারা জানে না, তারা কি সমান হতে পারে?" (সূরা জুমার: ৯)
মর্যাদা বৃদ্ধি: জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে মানুষের মর্যাদা বৃদ্ধি পায়: "তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে এবং যাদের জ্ঞান দান করা হয়েছে, আল্লাহ তাদের মর্যাদা উচ্চ করে দেবেন।" (সূরা মুজাদালাহ: ১১)
"তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে এবং যাদের জ্ঞান দান করা হয়েছে, আল্লাহ তাদের মর্যাদা উচ্চ করে দেবেন।" (সূরা মুজাদালাহ: ১১)
জ্ঞানের জন্য দোয়া: আল্লাহ নিজেই রাসূল (সা.)-কে জ্ঞানের বৃদ্ধির জন্য দোয়া শিখিয়েছেন: "বলুন, হে আমার পালনকর্তা! আমার জ্ঞান বৃদ্ধি করে দিন।" (সূরা তোয়াহা: ১১৪)
"বলুন, হে আমার পালনকর্তা! আমার জ্ঞান বৃদ্ধি করে দিন।" (সূরা তোয়াহা: ১১৪)
২. হাদিস শরিফের আলোকে পড়াশোনা
রাসূলুল্লাহ (সা.) জ্ঞান অর্জনকে প্রত্যেক মুসলিমের জন্য বাধ্যতামূলক করেছেন এবং এর অশেষ সওয়াবের কথা ঘোষণা করেছেন।
আবশ্যিক কর্তব্য: রাসূল (সা.) এর বিখ্যাত বাণী: "জ্ঞান অর্জন করা প্রত্যেক মুসলিমের জন্য ফরজ (আবশ্যিক)।" (ইবনে মাজাহ)
"জ্ঞান অর্জন করা প্রত্যেক মুসলিমের জন্য ফরজ (আবশ্যিক)।" (ইবনে মাজাহ)
জান্নাতের পথ: যারা শিক্ষার উদ্দেশ্যে বের হয়, তাদের জন্য জান্নাতের পথ সহজ হয়ে যায়: "যে ব্যক্তি জ্ঞান অর্জনের জন্য কোনো পথ অবলম্বন করে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতের পথ সহজ করে দেন।" (সহিহ মুসলিম)
"যে ব্যক্তি জ্ঞান অর্জনের জন্য কোনো পথ অবলম্বন করে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতের পথ সহজ করে দেন।" (সহিহ মুসলিম)
উত্তম ব্যক্তি: শিক্ষার প্রচার ও প্রসারে নিয়োজিত ব্যক্তিরাই শ্রেষ্ঠ: "তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি সর্বোত্তম, যে নিজে কোরআন শেখে এবং অন্যকে শিক্ষা দেয়।" (সহিহ বুখারি)
"তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি সর্বোত্তম, যে নিজে কোরআন শেখে এবং অন্যকে শিক্ষা দেয়।" (সহিহ বুখারি)
মৃত্যুর পরবর্তী সওয়াব: মানুষ মারা গেলেও তার শিক্ষার সওয়াব বন্ধ হয় না: "মানুষ যখন মারা যায়, তখন তার সমস্ত আমল বন্ধ হয়ে যায়; তিনটি ব্যতীত— সদকায়ে জারিয়া, এমন জ্ঞান যা দ্বারা মানুষের উপকার হয় এবং নেক সন্তান যে তার জন্য দোয়া করে।" (সহিহ মুসলিম)
"মানুষ যখন মারা যায়, তখন তার সমস্ত আমল বন্ধ হয়ে যায়; তিনটি ব্যতীত— সদকায়ে জারিয়া, এমন জ্ঞান যা দ্বারা মানুষের উপকার হয় এবং নেক সন্তান যে তার জন্য দোয়া করে।" (সহিহ মুসলিম)
৩. শিক্ষার উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য
ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে পড়াশোনার মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত:
১. আল্লাহকে চেনা: সৃষ্টির রহস্য উদঘাটনের মাধ্যমে স্রষ্টাকে অনুধাবন করা।
২. মানবসেবা: অর্জিত জ্ঞান দিয়ে সমাজ ও মানুষের কল্যাণ করা।
৩. নৈতিকতা: সুন্দর চরিত্র গঠন এবং সত্য-মিথ্যার পার্থক্য বুঝতে পারা।
পড়াশোনা বা ইলম কেবল ধর্মীয় বিষয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। মানুষের উপকারে আসে এবং আল্লাহর সৃষ্টিজগত সম্পর্কে ধারণা দেয় এমন সব ধরনের কল্যাণকর শিক্ষা (বিজ্ঞান, গণিত, চিকিৎসা ইত্যাদি) অর্জন করাই ইসলামের দৃষ্টিতে প্রশংসনীয়।
MD Jamil Hasan
#শামসুলউলুমহিফজুলকোরআনমাদ্রাসা