বাইতুর রাহমাত শাহী জামে মসজিদ - Baitur Rahmat Shahi Jame Masjid

  • Home
  • Bangladesh
  • Thakurgaon
  • বাইতুর রাহমাত শাহী জামে মসজিদ - Baitur Rahmat Shahi Jame Masjid

বাইতুর রাহমাত শাহী জামে মসজিদ - Baitur Rahmat Shahi Jame Masjid বাইতুর রাহমাত শাহী জামে মসজিদ, কাদিহাট বটতলী, রাণীশনকৈল, ঠাকুরগাঁও

আসসালামু আলাইকুম,
মুসলিম উম্মাহর কাছে অত্যন্ত প্রিয় ও মর্যাদাপূর্ণ স্থান মসজিদ। মসজিদ আল্লাহর ঘর। পবিত্র কোরআনে বর্ণিত হয়েছে ‘মসজিদ মূলত আল্লাহর ঘর।’ (সুরা জিন : ১৮)।

রাসুল (সা.) বলেন, ‘আল্লাহর কাছে সর্বোত্তম জায়গা মসজিদ, আর সবচেয়ে নিকৃষ্ট জায়গা বাজার’ (মুসলিম : ১৫৬০)। তাই মসজিদের সঙ্গে মুসলিম উম্মাহর হৃদয় ও আত্মার সম্পর্ক।

আল্লাহর ঘর মসজিদ নির্মাণ, মেরামত, সংস্কার এবং এতে দান-সাহায্য করা মুসলি

মদের কাছে অত্যন্ত আবেগ ও গৌরবের বিষয়। তাই তো পৃথিবীজুড়ে হাজারো লাখো দৃষ্টিনন্দন মসজিদ গড়ে উঠেছে মুসলিমদের স্বতঃস্ফূর্ত দানকৃত অর্থ-সম্পদে। আল্লাহ এর জন্য পুরস্কারও ঘোষণা করেছেন।
হাদিসে এসেছে, রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য মসজিদ নির্মাণ করল, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে ঘর নির্মাণ করবেন।’ (মুসলিম : ১২১৮; শুয়াবুল ঈমান : ২৯৩৯)

মসজিদ নির্মাণ করাকে হাদিসে সদকায়ে জারিয়া, অর্থাৎ চলমান সদকা হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। মসজিদ নির্মাণের জন্য দান করলে, যতদিন এই মসজিদে মানুষ ইবাদত বন্দিগী করবে ততদিন এর সওয়াব (কবরে বসেও) বান্দা পেতে থাকবেন। মসজিদ নির্মাণের পাশাপাশি মসজিদে ফ্যান দেওয়া, লাইট ব্যবস্থা করা কিংবা মসজিদের এসি ইত্যাদি ব্যবস্থা করে দিলেও এ সওয়াব পেতে থাকবে দানকারী।

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘একজন মুমিন ব্যক্তির মৃত্যুর পর তার আমলনামায় যা থেকে নেকি যোগ হবে তা হলো যদি সে শিক্ষা অর্জনের পর তা অপরকে শিক্ষা দেয় ও প্রচার করে, অথবা সৎ সন্তান রেখে যায়, অথবা ভালো বই রেখে যায়, অথবা মসজিদ নির্মাণ করে যায়, অথবা মুসাফিরের জন্য মেহমানখানা নির্মাণ করে যায, অথবা নদী খনন করে যায়।’ (ইবনে মাজা : ২৪২)
এতে বোঝে আসে খাঁটি নিয়তে কেবল আল্লাহর জন্য মসজিদ নির্মাণ করে গেলে কবরে বসে বসে এসব আমলের সওয়াব পেতে থাকবে বান্দা। তাই সাধ্যমতো বেশি থেকে বেশি মসজিদ নির্মাণ ও সংস্কারে জান-মাল দিয়ে সহায়তা করা চাই। আল্লাহ আমাদের তাওফিক দান করুন।

আলহামদুলিল্লাহ মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের অশেষ মেহেরবানীতে কাদিহাট বটতলী জামে মসজিদ, রানীশংকৈল,ঠাকুরগাঁও এর নির্মাণ কাজ চলমান। অত্র এলাকার সর্বস্তরের জনগণ সহ দেশ বিদেশের সকল ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের সার্বিক সহায়তার জন্য আহবান করছি।

সহযোগিতা পাঠানোর ঠিকানা,

একাউন্ট নাম: কাদিহাট বটতলী জামে মসজিদ
পূবালী ব্যাংক, নেকমরদ শাখা।
একাউন্ট নাম্বার -(৪৬৭২১০১৫৫২৬২)

বিকাশ নাম্বার -(০১৭৮৩৪৫৮৩২৮)

যে কোন প্রয়োজনে-(০১৭১৪৯৪৬৯৯১, ০১৭৪০৯৬৬৬৫৯)

পবিত্র ঈদুল আযহা আমাদের জীবনে ত্যাগ, তাকওয়া, আত্মশুদ্ধি ও মানবতার শিক্ষা নিয়ে আসুক। কুরবানির মহান আদর্শ আমাদের হৃদয়ে আল্...
27/05/2026

পবিত্র ঈদুল আযহা আমাদের জীবনে ত্যাগ, তাকওয়া, আত্মশুদ্ধি ও মানবতার শিক্ষা নিয়ে আসুক। কুরবানির মহান আদর্শ আমাদের হৃদয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টিকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়ার প্রেরণা জাগ্রত করুক।

বাইতুর রাহমাত শাহী জামে মসজিদের পক্ষ থেকে দেশ-বিদেশে অবস্থানরত সকল মুসলিম ভাই-বোনকে জানাই পবিত্র ঈদুল আযহার আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ।

ঈদ মোবারক! 🤍

#ঈদুলআযহা১৪৪৭



#কুরবানির_ঈদ
#ত্যাগের_শিক্ষা

আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার ওয়া লিল্লাহিল হামদ।তাশরিকের দিনগুলোতে ...
27/05/2026

আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার ওয়া লিল্লাহিল হামদ।

তাশরিকের দিনগুলোতে প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর পুরুষদের ওপর উচ্চঃস্বরে একবার তাকবিরে তাশরিক বলা ওয়াজিব। আর নারীরা নিচু স্বরে পড়বে, যাতে নিজে শোনে।

যিলকদ ১৪৩৩   ||   অক্টোবর ২০১২ || মাসিক আল কাউসারকুরবানীর মাসায়েলমাওলানা মুহাম্মাদ ইয়াহইয়াকুরবানী একটি গুরুত্বপূর্ণ ই...
26/05/2026

যিলকদ ১৪৩৩ || অক্টোবর ২০১২ || মাসিক আল কাউসার
কুরবানীর মাসায়েল
মাওলানা মুহাম্মাদ ইয়াহইয়া

কুরবানী একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। এটি আদায় করা ওয়াজিব।

সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও যে ব্যক্তি এই ইবাদত পালন করে না তার ব্যাপারে হাদীস শরীফে এসেছে, ‘যার কুরবানীর সামর্থ্য রয়েছে কিন্তু কুরবানী করে না সে যেন আমাদের ঈদগাহে না আসে।’-মুস্তাদরাকে হাকেম, হাদীস : ৩৫১৯; আত্তারগীব ওয়াত্তারহীব ২/১৫৫

ইবাদতের মূলকথা হল আল্লাহ তাআলার আনুগত্য এবং তাঁর সন্তুষ্টি অর্জন। তাই যেকোনো ইবাদতের পূর্ণতার জন্য দুটি বিষয় জরুরি। ইখলাস তথা একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পালন করা এবং শরীয়তের নির্দেশনা মোতাবেক মাসায়েল অনুযায়ী সম্পাদন করা। এ উদ্দেশ্যে এখানে কুরবানীর কিছু জরুরি মাসায়েল উল্লেখ হল।

কার উপর কুরবানী ওয়াজিব

মাসআলা : ১. প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থমস্তিষ্ক সম্পন্ন প্রত্যেক মুসলিম নর-নারী, যে ১০ যিলহজ্ব ফজর থেকে ১২ যিলহজ্ব সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনের অতিরিক্ত নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হবে তার উপর কুরবানী করা ওয়াজিব। টাকা-পয়সা, সোনা-রূপা, অলঙ্কার, বসবাস ও খোরাকির প্রয়োজন আসে না এমন জমি, প্রয়োজন অতিরিক্ত বাড়ি, ব্যবসায়িক পণ্য ও অপ্রয়োজনীয় সকল আসবাবপত্র কুরবানীর নেসাবের ক্ষেত্রে হিসাবযোগ্য।

আর নিসাব হল স্বর্ণের ক্ষেত্রে সাড়ে সাত (৭.৫) ভরি, রূপার ক্ষেত্রে সাড়ে বায়ান্ন (৫২.৫) ভরি, টাকা-পয়সা ও অন্যান্য বস্ত্তর ক্ষেত্রে নিসাব হল এর মূল্য সাড়ে বায়ান্ন তোলা রূপার মূল্যের সমপরিমাণ হওয়া। আর সোনা বা রূপা কিংবা টাকা-পয়সা এগুলোর কোনো একটি যদি পৃথকভাবে নেসাব পরিমাণ না থাকে কিন্তু প্রয়োজন অতিরিক্ত একাধিক বস্ত্ত মিলে সাড়ে বায়ান্ন তোলা রূপার মূল্যের সমপরিমাণ হয়ে যায় তাহলেও তার উপর কুরবানী করা ওয়াজিব।-আলমুহীতুল বুরহানী ৮/৪৫৫; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১৭/৪০৫

নেসাবের মেয়াদ

মাসআলা ২. কুরবানীর নেসাব পুরো বছর থাকা জরুরি নয়; বরং কুরবানীর তিন দিনের মধ্যে যে কোনো দিন থাকলেই কুরবানী ওয়াজিব হবে।-বাদায়েউস সানায়ে ৪/১৯৬, রদ্দুল মুহতার ৬/৩১২

কুরবানীর সময়

মাসআলা : ৩. মোট তিনদিন কুরবানী করা যায়। যিলহজ্বের ১০, ১১ ও ১২ তারিখ সূর্যাস্ত পর্যন্ত। তবে সম্ভব হলে যিলহজ্বের ১০ তারিখেই কুরবানী করা উত্তম। -মুয়াত্তা মালেক ১৮৮, বাদায়েউস সানায়ে ৪/১৯৮, ২৩, ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/২৯৫

নাবালেগের কুরবানী

মাসআলা : ৪. নাবালেগ শিশু-কিশোর তদ্রূপ যে সুস্থমস্তিষ্কসম্পন্ন নয়, নেসাবের মালিক হলেও তাদের উপর কুরবানী ওয়াজিব নয়। অবশ্য তার অভিভাবক নিজ সম্পদ দ্বারা তাদের পক্ষে কুরবানী করলে তা সহীহ হবে।-বাদায়েউস সানায়ে ৪/১৯৬, রদ্দুল মুহতার ৬/৩১৬

মুসাফিরের জন্য কুরবানী

মাসআলা : ৫. যে ব্যক্তি কুরবানীর দিনগুলোতে মুসাফির থাকবে (অর্থাৎ ৪৮ মাইল বা প্রায় ৭৮ কিলোমিটার দূরে যাওয়ার নিয়তে নিজ এলাকা ত্যাগ করেছে) তার উপর কুরবানী ওয়াজিব নয়। -ফাতাওয়া কাযীখান ৩/৩৪৪, বাদায়েউস সানায়ে ৪/১৯৫, আদ্দুররুল মুখতার ৬/৩১৫

নাবালেগের পক্ষ থেকে কুরবানী

মাসআলা : ৬. নাবালেগের পক্ষ থেকে কুরবানী দেওয়া অভিভাবকের উপর ওয়াজিব নয়; বরং মুস্তাহাব।-রদ্দুল মুহতার ৬/৩১৫; ফাতাওয়া কাযীখান ৩/৩৪৫

দরিদ্র ব্যক্তির কুরবানীর হুকুম

মাসআলা : ৭. দরিদ্র ব্যক্তির উপর কুরবানী করা ওয়াজিব নয়; কিন্তু সে যদি কুরবানীর নিয়তে কোনো পশু কিনে তাহলে তা কুরবানী করা ওয়াজিব হয়ে যায়। -বাদায়েউস সানায়ে ৪/১৯২

কুরবানী করতে না পারলে

মাসআলা : ৮. কেউ যদি কুরবানীর দিনগুলোতে ওয়াজিব কুরবানী দিতে না পারে তাহলে কুরবানীর পশু ক্রয় না করে থাকলে তার উপর কুরবানীর উপযুক্ত একটি ছাগলের মূল্য সদকা করা ওয়াজিব। আর যদি পশু ক্রয় করে ছিল, কিন্তু কোনো কারণে কুরবানী দেওয়া হয়নি তাহলে ঐ পশু জীবিত সদকা করে দিবে।-বাদায়েউস সানায়ে ৪/২০৪, ফাতাওয়া কাযীখান ৩/৩৪৫

প্রথম দিন কখন থেকে কুরবানী করা যাবে

মাসআলা : ৯. যেসব এলাকার লোকদের উপর জুমা ও ঈদের নামায ওয়াজিব তাদের জন্য ঈদের নামাযের আগে কুরবানী করা জায়েয নয়। অবশ্য বৃষ্টিবাদল বা অন্য কোনো ওজরে যদি প্রথম দিন ঈদের নামায না হয় তাহলে ঈদের নামাযের সময় অতিক্রান্ত হওয়ার পর প্রথম দিনেও কুরবানী করা জায়েয।-সহীহ বুখারী ২/৮৩২, কাযীখান ৩/৩৪৪, আদ্দুররুল মুখতার ৬/৩১৮

রাতে কুরবানী করা

মাসআলা : ১০. ১০ ও ১১ তারিখ দিবাগত রাতেও কুরবানী করা জায়েয। তবে দিনে কুরবানী করাই ভালো। -মুসনাদে আহমাদ, হাদীস : ১৪৯২৭; মাজমাউয যাওয়াইদ ৪/২২, আদ্দুররুল মুখতার ৬/৩২০, কাযীখান ৩/৩৪৫, বাদায়েউস সানায়ে ৪/২২৩

কুরবানীর উদ্দেশ্যে ক্রয়কৃত পশু সময়ের পর যবাই করলে

মাসআলা : ১১. কুরবানীর দিনগুলোতে যদি জবাই করতে না পারে তাহলে খরিদকৃত পশুই সদকা করে দিতে হবে। তবে যদি (সময়ের পরে) জবাই করে ফেলে তাহলে পুরো গোশত সদকা করে দিতে হবে। এক্ষেত্রে গোশতের মূল্য যদি জীবিত পশুর চেয়ে কমে যায় তাহলে যে পরিমাণ মূল্য হ্রাস পেল তা-ও সদকা করতে হবে।-বাদায়েউস সানায়ে ৪/২০২, আদ্দুররুল মুখতার ৬/৩২০-৩২১

কোন কোন পশু দ্বারা কুরবানী করা যাবে

মাসআলা : ১২. উট, গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া ও দুম্বা দ্বারা কুরবানী করা জায়েয। এসব গৃহপালিত পশু ছাড়া অন্যান্য পশু যেমন হরিণ, বন্যগরু ইত্যাদি দ্বারা কুরবানী করা জায়েয নয়। -কাযীখান ৩/৩৪৮, বাদায়েউস সানায়ে ৪/২০৫

নর ও মাদা পশুর কুরবানী

মাসআলা : ১৩. যেসব পশু কুরবানী করা জায়েয সেগুলোর নর-মাদা দুটোই কুরবানী করা যায়। -কাযীখান ৩/৩৪৮, বাদায়েউস সানায়ে ৪/২০৫

কুরবানীর পশুর বয়সসীমা

মাসআলা : ১৪. উট কমপক্ষে ৫ বছরের হতে হবে। গরু ও মহিষ কমপক্ষে ২ বছরের হতে হবে। আর ছাগল, ভেড়া ও দুম্বা কমপক্ষে ১ বছরের হতে হবে। তবে ভেড়া ও দুম্বা যদি ১ বছরের কিছু কমও হয়, কিন্তু এমন হৃষ্টপুষ্ট হয় যে, দেখতে ১ বছরের মতো মনে হয় তাহলে তা দ্বারাও কুরবানী করা জায়েয। অবশ্য এক্ষেত্রে কমপক্ষে ৬ মাস বয়সের হতে হবে।

উল্লেখ্য, ছাগলের বয়স ১ বছরের কম হলে কোনো অবস্থাতেই তা দ্বারা কুরবানী জায়েয হবে না। -কাযীখান ৩/৩৪৮, বাদায়েউস সানায়ে ৪/২০৫-২০৬

এক পশুতে শরীকের সংখ্যা

মাসআলা : ১৫. একটি ছাগল, ভেড়া বা দুম্বা দ্বারা শুধু একজনই কুরবানী দিতে পারবে। এমন একটি পশু কয়েকজন মিলে কুরবানী করলে কারোটাই সহীহ হবে না। আর উট, গরু, মহিষে সর্বোচ্চ সাত জন শরীক হতে পারবে। সাতের অধিক শরীক হলে কারো কুরবানী সহীহ হবে না। -সহীহ মুসলিম ১৩১৮, মুয়াত্তা মালেক ১/৩১৯, কাযীখান ৩/৩৪৯, বাদায়েউস সানায়ে ৪/২০৭-২০৮

সাত শরীকের কুরবানী

মাসআলা : ১৬. সাতজনে মিলে কুরবানী করলে সবার অংশ সমান হতে হবে। কারো অংশ এক সপ্তমাংশের কম হতে পারবে না। যেমন কারো আধা ভাগ, কারো দেড় ভাগ। এমন হলে কোনো শরীকের কুরবানীই সহীহ হবে না। -বাদায়েউস সানায়ে ৪/২০৭

মাসআলা : ১৭. উট, গরু, মহিষ সাত ভাগে এবং সাতের কমে যেকোনো সংখ্যা যেমন দুই, তিন, চার, পাঁচ ও ছয় ভাগে কুরবানী করা জায়েয। -সহীহ মুসলিম ১৩১৮, বাদায়েউস সানায়ে ৪/২০৭

কোনো অংশীদারের গলদ নিয়ত হলে

মাসআলা : ১৮. যদি কেউ আল্লাহ তাআলার হুকুম পালনের উদ্দেশ্যে কুরবানী না করে শুধু গোশত খাওয়ার নিয়তে কুরবানী করে তাহলে তার কুরবানী সহীহ হবে না। তাকে অংশীদার বানালে শরীকদের কারো কুরবানী হবে না। তাই অত্যন্ত সতর্কতার সাথে শরীক নির্বাচন করতে হবে। -বাদায়েউস সানায়ে ৪/২০৮, কাযীখান ৩/৩৪৯

কুরবানীর পশুতে আকীকার অংশ

মাসআলা : ১৯. কুরবানীর গরু, মহিষ ও উটে আকীকার নিয়তে শরীক হতে পারবে। এতে কুরবানী ও আকীকা দুটোই সহীহ হবে।-তাহতাবী আলাদ্দুর ৪/১৬৬, রদ্দুল মুহতার ৬/৩৬২

মাসআলা : ২০. শরীকদের কারো পুরো বা অধিকাংশ উপার্জন যদি হারাম হয় তাহলে কারো কুরবানী সহীহ হবে না।

মাসআলা : ২১. যদি কেউ গরু, মহিষ বা উট একা কুরবানী দেওয়ার নিয়তে কিনে আর সে ধনী হয় তাহলে ইচ্ছা করলে অন্যকে শরীক করতে পারবে। তবে এক্ষেত্রে একা কুরবানী করাই শ্রেয়। শরীক করলে সে টাকা সদকা করে দেওয়া উত্তম। আর যদি ওই ব্যক্তি এমন গরীব হয়, যার উপর কুরবানী করা ওয়াজিব নয়, তাহলে সে অন্যকে শরীক করতে পারবে না। এমন গরীব ব্যক্তি যদি কাউকে শরীক করতে চায় তাহলে পশু ক্রয়ের সময়ই নিয়ত করে নিবে।-কাযীখান ৩/৩৫০-৩৫১, বাদায়েউস সানায়ে ৪/২১০

কুরবানীর উত্তম পশু

মাসআলা : ২২. কুরবানীর পশু হৃষ্টপুষ্ট হওয়া উত্তম।-মুসনাদে আহমদ ৬/১৩৬, আলমগীরী ৫/৩০০, বাদায়েউস সানায়ে ৪/২২৩

খোড়া পশুর কুরবানী

মাসআলা : ২৩. যে পশু তিন পায়ে চলে, এক পা মাটিতে রাখতে পারে না বা ভর করতে পারে না এমন পশুর কুরবানী জায়েয নয়। -জামে তিরমিযী ১/২৭৫, সুনানে আবু দাউদ ৩৮৭, বাদায়েউস সানায়ে ৪/২১৪, রদ্দুল মুহতার ৬/৩২৩, আলমগীরী ৫/২৯৭

রুগ্ন ও দুর্বল পশুর কুরবানী

মাসআলা : ২৪. এমন শুকনো দুর্বল পশু, যা জবাইয়ের স্থান পর্যন্ত হেঁটে যেতে পারে না তা দ্বারা কুরবানী করা জায়েয নয়। -জামে তিরমিযী ১/২৭৫, আলমগীরী ৫/২৯৭, বাদায়েউস সানায়ে ৪/২১৪

দাঁত নেই এমন পশুর কুরবানী

মাসআলা : ২৫. যে পশুর একটি দাঁতও নেই বা এত বেশি দাঁত পড়ে গেছে যে, ঘাস বা খাদ্য চিবাতে পারে না এমন পশু দ্বারাও কুরবানী করা জায়েয নয়। -বাদায়েউস সানায়ে ৪/২১৫, আলমগীরী ৫/২৯৮

যে পশুর শিং ভেঙ্গে বা ফেটে গেছে

মাসআলা : ২৬. যে পশুর শিং একেবারে গোড়া থেকে ভেঙ্গে গেছে, যে কারণে

মস্তিষ্ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সে পশুর কুরবানী জায়েয নয়। পক্ষান্তরে যে পশুর অর্ধেক শিং বা কিছু শিং ফেটে বা ভেঙ্গে গেছে বা শিং একেবারে উঠেইনি সে পশু কুরবানী করা জায়েয। -জামে তিরমিযী ১/২৭৬, সুনানে আবু দাউদ ৩৮৮, বাদায়েউস সানায়ে ৪/২১৬, রদ্দুল মুহতার ৬/৩২৪, আলমগীরী ৫/২৯৭

কান বা লেজ কাটা পশুর কুরবানী

মাসআলা : ২৭. যে পশুর লেজ বা কোনো কান অর্ধেক বা তারও বেশি কাটা সে পশুর কুরবানী জায়েয নয়। আর যদি অর্ধেকের বেশি থাকে তাহলে তার কুরবানী জায়েয। তবে জন্মগতভাবেই যদি কান ছোট হয় তাহলে অসুবিধা নেই। -জামে তিরমিযী ১/২৭৫, মুসনাদে আহমদ ১/৬১০, ইলাউস সুনান ১৭/২৩৮, কাযীখান ৩/৩৫২, আলমগীরী ৫/২৯৭-২৯৮

অন্ধ পশুর কুরবানী

মাসআলা : ২৮. যে পশুর দুটি চোখই অন্ধ বা এক চোখ পুরো নষ্ট সে পশু কুরবানী করা জায়েয নয়। -জামে তিরমিযী ১/২৭৫, কাযীখান ৩/৩৫২, আলমগীরী ২৯৭, বাদায়েউস সানায়ে ৪/২১৪

নতুন পশু ক্রয়ের পর হারানোটা পাওয়া গেলে

মাসআলা : ২৯. কুরবানীর পশু হারিয়ে যাওয়ার পরে যদি আরেকটি কেনা হয় এবং পরে হারানোটিও পাওয়া যায় তাহলে কুরবানীদাতা গরীব হলে (যার উপর কুরবানী ওয়াজিব নয়) দুটি পশুই কুরবানী করা ওয়াজিব। আর ধনী হলে কোনো একটি কুরবানী করলেই হবে। তবে দুটি কুরবানী করাই উত্তম। -সুনানে বায়হাকী ৫/২৪৪, ইলাউস সুনান ১৭/২৮০, বাদায়েউস সানায়ে ৪/১৯৯, কাযীখান ৩/৩৪৭

গর্ভবতী পশুর কুরবানী

মাসআলা : ৩০. গর্ভবতী পশু কুরবানী করা জায়েয। জবাইয়ের পর যদি বাচ্চা জীবিত পাওয়া যায় তাহলে সেটাও জবাই করতে হবে। তবে প্রসবের সময় আসন্ন হলে সে পশু কুরবানী করা মাকরূহ। -কাযীখান ৩/৩৫০

পশু কেনার পর দোষ দেখা দিলে

মাসআলা : ৩১. কুরবানীর নিয়তে ভালো পশু কেনার পর যদি তাতে এমন কোনো দোষ দেখা দেয় যে কারণে কুরবানী জায়েয হয় না তাহলে ওই পশুর কুরবানী সহীহ হবে না। এর স্থলে আরেকটি পশু কুরবানী করতে হবে। তবে ক্রেতা গরীব হলে ত্রুটিযুক্ত পশু দ্বারাই কুরবানী করতে পারবে। -খুলাসাতুল ফাতাওয়া ৪/৩১৯, বাদায়েউস সানায়ে ৪/২১৬, ফাতাওয়া নাওয়াযেল ২৩৯, রদ্দুল মুহতার ৬/৩২৫

পশুর বয়সের ব্যাপারে বিক্রেতার কথা

মাসআলা : ৩২. যদি বিক্রেতা কুরবানীর পশুর বয়স পূর্ণ হয়েছে বলে স্বীকার করে আর পশুর শরীরের অবস্থা দেখেও তাই মনে হয় তাহলে বিক্রেতার কথার উপর নির্ভর করে পশু কেনা এবং তা দ্বারা কুরবানী করা যাবে। -আহকামে ঈদুল আযহা, মুফতী মুহাম্মাদ শফী রহ. ৫

বন্ধ্যা পশুর কুরবানী

মাসআলা : ৩৩. বন্ধ্যা পশুর কুরবানী জায়েয। -রদ্দুল মুহতার ৬/৩২৫

নিজের কুরবানীর পশু নিজে জবাই করা

মাসআলা : ৩৪. কুরবানীর পশু নিজে জবাই করা উত্তম। নিজে না পারলে অন্যকে দিয়েও জবাই করাতে পারবে। এক্ষেত্রে কুরবানীদাতা পুরুষ হলে জবাইস্থলে তার উপস্থিত থাকা ভালো। -মুসনাদে আহমদ ২২৬৫৭, বাদায়েউস সানায়ে ৪/২২২-২২৩, আলমগীরী ৫/৩০০, ইলাউস সুনান ১৭/২৭১-২৭৪

জবাইয়ে একাধিক ব্যক্তি শরীক হলে

মাসআলা : ৩৫. অনেক সময় জবাইকারীর জবাই সম্পন্ন হয় না, তখন কসাই বা অন্য কেউ জবাই সম্পন্ন করে থাকে। এক্ষেত্রে অবশ্যই উভয়কেই নিজ নিজ যবাইয়ের আগে ‘বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার’ পড়তে হবে। যদি কোনো একজন না পড়ে তবে ওই কুরবানী সহীহ হবে না এবং জবাইকৃত পশুও হালাল হবে না। -রদ্দুল মুহতার ৬/৩৩৪

কুরবানীর পশু থেকে জবাইয়ের আগে উপকৃত হওয়া

মাসআলা : ৩৬. কুরবানীর পশু কেনার পর বা নির্দিষ্ট করার পর তা থেকে উপকৃত হওয়া জায়েয নয়। যেমন হালচাষ করা, আরোহণ করা, পশম কাটা ইত্যাদি।সুতরাং কুরবানীর পশু দ্বারা এসব করা যাবে না। যদি করে তবে পশমের মূল্য, হালচাষের মূল্য ইত্যাদি সদকা করে দিবে।-মুসনাদে আহমদ ২/১৪৬, নায়লুল আওতার ৩/১৭২, ইলাউস সুনান ১৭/২৭৭, কাযীখান ৩/৩৫৪, আলমগীরী ৫/৩০০

কুরবানীর পশুর দুধ পান করা

মাসআলা : ৩৭. কুরবানীর পশুর দুধ পান করা যাবে না। যদি জবাইয়ের সময় আসন্ন হয় আর দুধ দোহন না করলে পশুর

কষ্ট হবে না বলে মনে হয় তাহলে দোহন করবে না। প্রয়োজনে ওলানে ঠান্ডা পানি ছিটিয়ে দেবে। এতে দুধের চাপ কমে যাবে। যদি দুধ দোহন করে ফেলে তাহলে তা সদকা করে দিতে হবে। নিজে পান করে থাকলে মূল্য সদকা করে দিবে। -মুসনাদে আহমদ ২/১৪৬, ইলাউস সুনান ১৭/২৭৭,

রদ্দুল মুহতার ৬/৩২৯, কাযীখান ৩/৩৫৪, আলমগীরী ৫/৩০১

কোনো শরীকের মৃত্যু ঘটলে

মাসআলা : ৩৮. কয়েকজন মিলে কুরবানী করার ক্ষেত্রে জবাইয়ের আগে কোনো শরীকের মৃত্যু হলে তার ওয়ারিসরা যদি মৃতের পক্ষ থেকে কুরবানী করার অনুমতি দেয় তবে তা জায়েয হবে। নতুবা ওই শরীকের টাকা ফেরত দিতে হবে। অবশ্য তার

স্থলে অন্যকে শরীক করা যাবে। -বাদায়েউস সানায়ে ৪/২০৯, আদ্দুররুল মুখতার ৬/৩২৬, কাযীখান ৩/৩৫১

কুরবানীর পশুর বাচ্চা হলে

মাসআলা : ৩৯. কুরবানীর পশু বাচ্চা দিলে ওই বাচ্চা জবাই না করে জীবিত সদকা করে দেওয়া উত্তম। যদি সদকা না করে তবে কুরবানীর পশুর সাথে বাচ্চাকেও জবাই করবে এবং গোশত সদকা করে দিবে।-কাযীখান ৩/৩৪৯, আলমগীরী ৫/৩০১, রদ্দুল মুহতার ৬/৩২৩

মৃতের পক্ষ থেকে কুরবানী

মাসআলা : ৪০. মৃতের পক্ষ থেকে কুরবানী করা জায়েয। মৃত ব্যক্তি যদি ওসিয়ত না করে থাকে তবে সেটি নফল কুরবানী হিসেবে গণ্য হবে। কুরবানীর স্বাভাবিক গোশতের মতো তা নিজেরাও খেতে পারবে এবং আত্মীয়-স্বজনকেও দিতে পারবে। আর যদি মৃত ব্যক্তি কুরবানীর ওসিয়ত করে গিয়ে থাকে তবে এর গোশত নিজেরা খেতে পারবে না। গরীব-মিসকীনদের মাঝে সদকা করে দিতে হবে। -মুসনাদে আহমদ ১/১০৭, হাদীস ৮৪৫, ইলাউস সুনান ১৭/২৬৮, রদ্দুল মুহতার ৬/৩২৬, কাযীখান ৩/৩৫২

কুরবানীর গোশত জমিয়ে রাখা

মাসআলা : ৪১. কুরবানীর গোশত তিনদিনেরও অধিক জমিয়ে রেখে খাওয়া জায়েয।-বাদায়েউস সানায়ে ৪/২২৪, সহীহ মুসলিম ২/১৫৯, মুয়াত্তা মালেক ১/৩১৮, ইলাউস সুনান ১৭/২৭০

কুরবানীর গোশত বণ্টন

মাসআলা : ৪২. শরীকে কুরবানী করলে ওজন করে গোশত বণ্টন করতে হবে। অনুমান করে ভাগ করা জায়েয নয়।-আদ্দুররুল মুখতার ৬/৩১৭, কাযীখান ৩/৩৫১

মাসআলা : ৪৩. কুরবানীর গোশতের এক তৃতীয়াংশ গরীব-মিসকীনকে এবং এক তৃতীয়াংশ আত্মীয়-স্বজন ও পাড়া-প্রতিবেশীকে দেওয়া উত্তম। অবশ্য পুরো গোশত যদি নিজে রেখে দেয় তাতেও কোনো অসুবিধা নেই। -বাদায়েউস সানায়ে ৪/২২৪, আলমগীরী ৫/৩০০

গোশত, চর্বি বিক্রি করা

মাসআলা : ৪৪. কুরবানীর গোশত, চর্বি ইত্যাদি বিক্রি করা জায়েয নয়। বিক্রি করলে পূর্ণ মূল্য সদকা করে দিতে হবে। -ইলাউস সুনান ১৭/২৫৯, বাদায়েউস সানায়ে ৪/২২৫, কাযীখান ৩/৩৫৪, আলমগীরী ৫/৩০১

জবাইকারীকে চামড়া, গোশত দেওয়া

মাসআলা : ৪৫. জবাইকারী, কসাই বা কাজে সহযোগিতাকারীকে চামড়া, গোশত বা কুরবানীর পশুর কোনো কিছু পারিশ্রমিক হিসেবে দেওয়া জায়েয হবে না। অবশ্য পূর্ণ পারিশ্রমিক দেওয়ার পর পূর্বচুক্তি ছাড়া হাদিয়া হিসাবে গোশত বা তরকারী দেওয়া যাবে।

জবাইয়ের অস্ত্র

মাসআলা : ৪৬. ধারালো অস্ত্র দ্বারা জবাই করা উত্তম।-বাদায়েউস সানায়ে ৪/২২৩

পশু নিস্তেজ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা

মাসআলা : ৪৭. জবাইয়ের পর পশু

নিস্তেজ হওয়ার আগে চামড়া খসানো বা অন্য কোনো অঙ্গ কাটা মাকরূহ। -বাদায়েউস সানায়ে ৪/২২৩

অন্য পশুর সামনে জবাই করা

মাসআলা : ৪৮. এক পশুকে অন্য পশুর সামনে জবাই করবে না। জবাইয়ের সময় প্রাণীকে অধিক কষ্ট না দেওয়া।

কুরবানীর গোশত বিধর্মীকে দেওয়া

মাসআলা : ৪৯. কুরবানীর গোশত হিন্দু ও অন্য ধর্মাবলম্বীকে দেওয়া জায়েয।-ইলাউস সুনান ৭/২৮৩, ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/৩০০

অন্য কারো ওয়াজিব কুরবানী আদায় করতে চাইলে

মাসআলা : ৫০. অন্যের ওয়াজিব কুরবানী দিতে চাইলে ওই ব্যক্তির অনুমতি নিতে হবে। নতুবা ওই ব্যক্তির কুরবানী আদায় হবে না। অবশ্য স্বামী বা পিতা যদি স্ত্রী বা সন্তানের বিনা অনুমতিতে তার পক্ষ থেকে কুরবানী করে তাহলে তাদের কুরবানী আদায় হয়ে যাবে। তবে অনুমতি নিয়ে আদায় করা ভালো।

কুরবানীর পশু চুরি হয়ে গেলে বা মরে গেলে

মাসআলা : ৫১. কুরবানীর পশু যদি চুরি হয়ে যায় বা মরে যায় আর কুরবানীদাতার উপর পূর্ব থেকে কুরবানী ওয়াজিব থাকে তাহলে আরেকটি পশু কুরবানী করতে হবে। গরীব হলে (যার উপর কুরবানী ওয়াজিব নয়) তার জন্য আরেকটি পশু কুরবানী করা ওয়াজিব নয়।-বাদায়েউস সানায়ে ৪/২১৬, খুলাসাতুল ফাতাওয়া ৪/৩১৯

পাগল পশুর কুরবানী

মাসআলা : ৫২. পাগল পশু কুরবানী করা জায়েয। তবে যদি এমন পাগল হয় যে, ঘাস পানি দিলে খায় না এবং মাঠেও চরে না তাহলে সেটার কুরবানী জায়েয হবে না। -আননিহায়া ফী গরীবিল হাদীস ১/২৩০, বাদায়েউস সানায়ে ৪/২১৬, ইলাউস সুনান ১৭/২৫২

নিজের কুরবানীর গোশত খাওয়া

মাসআলা : ৫৩. কুরবানীদাতার জন্য নিজ কুরবানীর গোশত খাওয়া মুস্তাহাব। -সূরা হজ্ব ২৮, সহীহ মুসলিম ২২/১৫৯, মুসনাদে আহমদ, হাদীস ৯০৭৮, বাদায়েউস সানায়ে ৪/২২৪

ঋণ করে কুরবানী করা

মাসআলা : ৫৪. কুরবানী ওয়াজিব এমন ব্যক্তিও ঋণের টাকা দিয়ে কুরবানী করলে ওয়াজিব আদায় হয়ে যাবে। তবে সুদের উপর ঋণ নিয়ে কুরবানী করা যাবে না।

হাজীদের উপর ঈদুল আযহার কুরবানী

মাসআলা : ৫৫. যেসকল হাজী কুরবানীর দিনগুলোতে মুসাফির থাকবে তাদের উপর ঈদুল আযহার কুরবানী ওয়াজিব নয়। কিন্তু যে হাজী কুরবানীর কোনো দিন মুকীম থাকবে সামর্থ্যবান হলে তার উপর ঈদুল আযহার কুরবানী করা জরুরি হবে। -ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/২৯৩, আদ্দুররুল মুখতার ৬/৩১৫, বাদায়েউস সানায়ে ৪/১৯৫, ইমদাদুল ফাতাওয়া ২/১৬৬

নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষ থেকে কুরবানী করা

মাসআলা : ৫৬. সামর্থ্যবান ব্যক্তির রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষ থেকে কুরবানী করা উত্তম। এটি বড় সৌভাগ্যের বিষয়ও বটে। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আলী রা.কে তার পক্ষ থেকে কুরবানী করার ওসিয়্যত করেছিলেন। তাই তিনি প্রতি বছর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষ থেকেও কুরবানী দিতেন। -সুনানে আবু দাউদ ২/২৯, জামে তিরমিযী ১/২৭৫, ইলাউস সুনান ১৭/২৬৮, মিশকাত ৩/৩০৯

কোন দিন কুরবানী করা উত্তম

মাসআলা : ৫৭. ১০, ১১ ও ১২ এ তিন দিনের মধ্যে প্রথম দিন কুরবানী করা অধিক উত্তম। এরপর দ্বিতীয় দিন, এরপর তৃতীয় দিন। -রদ্দুল মুহতার ৬/৩১৬

খাসীকৃত ছাগল দ্বারা কুরবানী

মাসআলা : ৫৮. খাসিকৃত ছাগল দ্বারা কুরবানী করা উত্তম। -ফাতহুল কাদীর ৮/৪৯৮, মাজমাউল আনহুর ৪/২২৪, ইলাউস সুনান ১৭/৪৫৩

জীবিত ব্যক্তির নামে কুরবানী

মাসআলা : ৫৯. যেমনিভাবে মৃতের পক্ষ থেকে ঈসালে সওয়াবের উদ্দেশ্যে কুরবানী করা জায়েয তদ্রূপ জীবিত ব্যক্তির পক্ষ থেকে তার ইসালে সওয়াবের জন্য নফল কুরবানী করা জায়েয। এ কুরবানীর গোশত দাতা ও তার পরিবারও খেতে পারবে।

বিদেশে অবস্থানরত ব্যক্তির কুরবানী অন্যত্রে করা

মাসআলা : ৬০. বিদেশে অবস্থানরত ব্যক্তির জন্য নিজ দেশে বা অন্য কোথাও কুরবানী করা জায়েয।

কুরবানীদাতা ভিন্ন স্থানে থাকলে কখন জবাই করবে

মাসআলা : ৬১. কুরবানীদাতা এক স্থানে আর কুরবানীর পশু ভিন্ন স্থানে থাকলে কুরবানীদাতার ঈদের নামায পড়া বা না পড়া ধর্তব্য নয়; বরং পশু যে এলাকায় আছে ওই এলাকায় ঈদের জামাত হয়ে গেলে পশু জবাই করা যাবে। -আদ্দুররুল মুখতার ৬/৩১৮

কুরবানীর চামড়া বিক্রির অর্থ সাদকা করা

মাসআলা : ৬২. কুরবানীর চামড়া কুরবানীদাতা নিজেও ব্যবহার করতে পারবে। তবে কেউ যদি নিজে ব্যবহার না করে বিক্রি করে তবে বিক্রিলব্ধ মূল্য পুরোটা সদকা করা জরুরি। -আদ্দুররুল মুখতার, ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/৩০১

কুরবানীর চামড়া বিক্রির নিয়ত

মাসআলা : ৬৩. কুরবানীর পশুর চামড়া বিক্রি করলে মূল্য সদকা করে দেওয়ার নিয়তে বিক্রি করবে। সদকার নিয়ত না করে নিজের খরচের নিয়ত করা নাজায়েয ও গুনাহ। নিয়ত যা-ই হোক বিক্রিলব্ধ অর্থ পুরোটাই সদকা করে দেওয়া জরুরি। -ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/৩০১, কাযীখান ৩/৩৫৪

কুরবানীর শেষ সময়ে মুকীম হলে

মাসআলা : ৬৪. কুরবানীর সময়ের প্রথম দিকে মুসাফির থাকার পরে ৩য় দিন কুরবানীর সময় শেষ হওয়ার পূর্বে মুকীম হয়ে গেলে তার উপর কুরবানী ওয়াজিব হবে। পক্ষান্তরে প্রথম দিনে মুকীম ছিল অতপর তৃতীয় দিনে মুসাফির হয়ে গেছে তাহলেও তার উপর কুরবানী ওয়াজিব থাকবে না। অর্থাৎ সে কুরবানী না দিলে গুনাহগার হবে না। -বাদায়েউস সানায়ে ৪/১৯৬, ফাতাওয়া খানিয়া ৩/৩৪৬, আদ্দুররুল মুখতার ৬/৩১৯

কুরবানীর পশুতে ভিন্ন ইবাদতের নিয়তে শরীক হওয়া

মাসআলা : ৬৫. এক কুরবানীর পশুতে আকীকা, হজ্বের কুরবানীর নিয়ত করা যাবে। এতে প্রত্যেকের নিয়তকৃত ইবাদত আদায় হয়ে যাবে।-বাদায়েউস সানায়ে ৪/২০৯, রদ্দুল মুহতার ৬/৩২৬, আলমাবসূত সারাখছী ৪/১৪৪, আলইনায়া ৮/৪৩৫-৩৪৬, আলমুগনী ৫/৪৫৯

কুরবানীর গোশত দিয়ে খানা শুরু করা

মাসআলা : ৬৬. ঈদুল আযহার দিন সর্বপ্রথম নিজ কুরবানীর গোশত দিয়ে খানা শুরু করা সুন্নত। অর্থাৎ সকাল থেকে কিছু না খেয়ে প্রথমে কুরবানীর গোশত খাওয়া সুন্নত। এই সুন্নত শুধু ১০ যিলহজ্বের জন্য। ১১ বা ১২ তারিখের গোশত দিয়ে খানা শুরু করা সুন্নত নয়। -জামে তিরমিযী ১/১২০, শরহুল মুনয়া ৫৬৬, আদ্দুররুল মুখতার ২/১৭৬, আলবাহরুর রায়েক ২/১৬৩

কুরবানীর পশুর হাড় বিক্রি

মাসআলা : ৬৭. কুরবানীর মৌসুমে অনেক মহাজন কুরবানীর হাড় ক্রয় করে থাকে। টোকাইরা বাড়ি বাড়ি থেকে হাড় সংগ্রহ করে তাদের কাছে বিক্রি করে। এদের ক্রয়-বিক্রয় জায়েয। এতে কোনো অসুবিধা নেই। কিন্তু কোনো কুরবানীদাতার জন্য নিজ কুরবানীর কোনো কিছু এমনকি হাড়ও বিক্রি করা জায়েয হবে না। করলে মূল্য সদকা করে দিতে হবে। আর জেনে শুনে মহাজনদের জন্য এদের কাছ থেকে ক্রয় করাও বৈধ হবে না। -বাদায়েউস সানায়ে ৪/২২৫, কাযীখান ৩/৩৫৪, ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/৩০১

রাতে কুরবানী করা

মাসআলা : ৬৮. ১০ ও ১১ তারিখ দিবাগত রাতে কুরবানী করা জায়েয। তবে রাতে আলোস্বল্পতার দরুণ জবাইয়ে ত্রুটি হতে পারে বিধায় রাতে জবাই করা অনুত্তম। অবশ্য পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা থাকলে রাতে জবাই করতে কোনো অসুবিধা নেই। -ফাতাওয়া খানিয়া ৩/৩৪৫, আদ্দুররুল মুখতার ৬/৩২০, ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/২৯৬, আহসানুল ফাতাওয়া ৭/৫১০

কাজের লোককে কুরবানীর গোশত খাওয়ানো

মাসআলা : ৬৯. কুরবানীর পশুর কোনো কিছু পারিশ্রমিক হিসাবে দেওয়া জায়েয নয়। গোশতও পারিশ্রমিক হিসেবে কাজের লোককে দেওয়া যাবে না। অবশ্য এ সময় ঘরের অন্যান্য সদস্যদের মতো কাজের লোকদেরকেও গোশত খাওয়ানো যাবে।-আহকামুল কুরআন জাস্সাস ৩/২৩৭, বাদায়েউস সানায়ে ৪/২২৪, আলবাহরুর রায়েক ৮/৩২৬, ইমদাদুল মুফতীন

জবাইকারীকে পারিশ্রমিক দেওয়া

মাসআলা : ৭০. কুরবানী পশু জবাই করে পারিশ্রমিক দেওয়া-নেওয়া জায়েয। তবে কুরবানীর পশুর কোনো কিছু পারিশ্রমিক হিসাবে দেওয়া যাবে না। -কিফায়াতুল মুফতী ৮/২৬৫

মোরগ কুরবানী করা

মাসআলা : ৭১. কোনো কোনো এলাকায় দরিদ্রদের মাঝে মোরগ কুরবানী করার প্রচলন আছে। এটি না জায়েয। কুরবানীর দিনে মোরগ জবাই করা নিষেধ নয়, তবে কুরবানীর নিয়তে করা যাবে না। -খুলাসাতুল ফাতাওয়া ৪/৩১৪, ফাতাওয়া বাযযাযিয়া ৬/২৯০, আদ্দুররুল মুখতার ৬/৩১৩, ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/২০০ ষ

#কুরবানির_মাসায়েল #কুরবানি #ঈদুলআযহা #ইসলামিক_জ্ঞান #দ্বীনি_শিক্ষা #ফিকহ #মাসআলা #ইসলামি_পোস্ট #তাকওয়া #কুরবানির_আহকাম #ত্যাগের_শিক্ষা

দোয়া হলো সবচেয়ে মহান ইবাদত। বরং রাসুল দোয়াকেই প্রকৃত ইবাদত বলে অভিহিত করেছেন।নোমান ইবনে বশির রা. রাসুল থেকে বর্ণনা করেন ...
26/05/2026

দোয়া হলো সবচেয়ে মহান ইবাদত। বরং রাসুল দোয়াকেই প্রকৃত ইবাদত বলে অভিহিত করেছেন।
নোমান ইবনে বশির রা. রাসুল থেকে বর্ণনা করেন আল্লাহর বাণী,
وَقَالَ رَبُّكُمُ ادْعُونِي أَسْتَجِبْ لَكُمْ
তোমাদের প্রতিপালক বলছেন, আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেবো। [সুরা মুমিন: ৬০]
এ আয়াত প্রসঙ্গে রাসুল বলেছেন, আল্লাহকে ডাকা হলো তাঁর ইবাদত করা। এরপর তিনি আয়াত পাঠ করলেন,
وَقَالَ رَبُّكُمُ ادْعُونِي أَسْتَجِبْ لَكُمْ إِنَّ الَّذِيْنَ يَسْتَكْبِرُوْنَ عَنْ عِبَادَتِي سَيَدْخُلُونَ جَهَنَّمَ دَاخِرِينَ তোমাদের রব বলেন তোমরা আমাকে ডাকো আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেবো। যারা অহংকারবশে আমার ইবাদতবিমুখ তারা অবশ্যই লাঞ্ছিত হয়ে জাহান্নামে প্রবেশ করবে। (১)
শুধু তাই নয় রাসুল এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত ও উপলক্ষের কথা বলেছেন যেসব মুহূর্তে দোয়ার তাৎপর্য ও আবেদন বহুগুণে বেড়ে যায়। এসব উপলক্ষের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হলো আরাফার দিন। আমর ইবনে শুআইব রহ. কর্তৃক পর্যায়ক্রমে তার বাবা ও তার দাদার সূত্রে বর্ণিত আছে, রাসুল বলেছেন,
আরাফার দিনের দোয়াই উত্তম দোয়া। আমি ও আমার পূর্ববর্তী নবীগণ যা বলেছেন তার মধ্যে সর্বোত্তম কথা হলো,
لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
উচ্চারণ: লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু ওয়াহ্ দাহু লা শারীকালাহু। লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু। ওয়া হুওয়া আ'লা কুল্লি শাই ইং কুদীর।
অর্থ আল্লাহ ছাড়া কোনো মাবুদ নেই। তিনি এক, তাঁর কোনো অংশীদার নেই, সার্বভৌমত্ব তাঁরই এবং তিনি সস্কলকিছুর ওপর ক্ষমতাবান। (২)
উক্ত হাদিসে স্পষ্টভাবে রাসুল বলে দিয়েছেন যে, আরাফার দিনের দোয়াই শ্রেষ্ঠ দোয়া। তবে এ দিনের কোন মুহূর্তে দোয়া করতে হবে তা নির্দিষ্ট করে বলা নেই। তাই আরাফার পুরো দিনটাই কল্যাণে ভরপুর। এরপরই তিনি বলেছেন, তিনি এবং তার পূর্বে গত হওয়া সকল নবীর উচ্চারিত শ্রেষ্ঠ বাক্য ছিল তাওহিদের সাক্ষ্য দান। বোঝা যায় আরাফার দিন তাহলিল পাঠ করা এবং দোয়ার শুরুতে তা পাঠ করার গুরুত্বের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে এখানে। তাই আমরা তাহলিল ও দোয়া এ দুটোকেই বেশি করে আদায় করব। আরাফার দিনে সর্বক্ষণ আমরা এই আমলে মগ্ন থাকব। কারণ জানা তো নেই, আগামী আরাফার দিনটি আমরা পাব, নাকি এটাই আমাদের শেষ আরাফার দিন।

সুনানু আবি দাউদ, ১৪৭৯; সুনানুত তিরমিজি, ৩৩৭২; সুনানুন নাসায়ি, ১১৪৬৪; সুনানু ইবনি মাজাহ, ৩৮২৮; আল-মুসনাদ লিল ইমাম আহমাদ, ১৮৩৭৮ সুনানুত তিরমিজি, ৩৫৮৫; আল-মুয়াত্তা, ৫০০

সাধারণত যারা বেশি পরিশ্রম করে তারাই বেশি প্রতিদান পায়।   বিশেষ করে জিকিরের বেলায় এটি বেশি প্রযোজ্য।আল্লাহ তাআলা বলেন,يَا...
26/03/2026

সাধারণত যারা বেশি পরিশ্রম করে তারাই বেশি প্রতিদান পায়। বিশেষ করে জিকিরের বেলায় এটি বেশি প্রযোজ্য।

আল্লাহ তাআলা বলেন,
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اذْكُرُوا اللَّهَ ذِكْرًا كَثِيرًا
মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহকে অধিক পরিমাণে স্মরণ করো। [সুরা আহযাব: ৪১]

তারপরও রাসুল ﷺ এমন কিছু সংক্ষিপ্ত বাক্য আমাদের শিখিয়েছেন, যা পড়লে লম্বা সময় ইবাদতে কাটানোর সমান পুণ্য লাভ করা যায়। উম্মুল মুমিনিন জুওয়াইরিয়া রা. থেকে বর্ণিত,
রাসুল ﷺ ভোরবেলা তার নিকট থেকে বের হলেন। যখন তিনি ফজরের নামাজ আদায় করলেন, জুওয়াইরিয়া রা. তখন নিজ নামাজের জায়গায় ছিলেন। এরপর তিনি যখন চাশতের পরে ফিরে এলেন, তখনও তিনি ওই জায়গাতেই বসা ছিলেন। রাসুল ﷺ বললেন, আমি তোমাকে যে অবস্থায় রেখে গিয়েছিলাম এখনো সেই অবস্থায়ই আছ। তিনি বললেন, হ্যাঁ। রাসুল ﷺ বললেন, আমি তোমার নিকট থেকে যাওয়ার পর চারটি কালেমা তিনবার পাঠ করেছি। আজ তুমি এ পর্যন্ত যা বলেছ তার সাথে সেগুলো ওজন করলে এই কালেমা চারটির ওজনই বেশি হবে।

কালেমাগুলো এই,
سُبْحَانَ اللهِ وَبِحَمْدِهِ عَدَدَ خَلْقِهِ وَرِضَا نَفْسِهِ وَزِنَةَ عَرْشِهِ وَمِدَادَ كَلِمَاتِهِ»
উচ্চারণ: সুবহা-নাল্লা-হি ওয়া বিহামদিহী। আ'দাদা খলক্বিহী, ওয়া রিদ্বা নাফছিহী। ওয়া যিনাতা আ'রশিহী। ওয়া মিদা-দা কালিমা-তিহ্।
অর্থ: আমি আল্লাহর সপ্রশংস পবিত্রতা জ্ঞাপন করছি তাঁর অগণিত সৃষ্টির সংখ্যার পরিমাণ, তাঁর সন্তুষ্টি লাভের সমান, তাঁর আরশের ওজনের পরিমাণ ও তাঁর কালেমার (কালির) সংখ্যার পরিমাণ। (৮৮)

এই ছোট্ট চারটি বাক্য পাঠ করতে কতক্ষণ লাগবে বলুন! আসুন প্রতিদিন সকালে আমরা তিনবার করে এই অজিফা পাঠ করতে চেষ্টা করি।

৮৮. সহিহ মুসলিম, ২৭২৬; সুনানু আবি দাউদ, ১৫০৩; সুনানুত তিরমিজি, ৩৫৫৫; সুনানুন নাসায়ি, ১২৭৫; সুনানু ইবনি মাজাহ, ৩৮০৮; আল-মুসনাদ লিল ইমাম আহমাদ, ২৬৮০১

মিসওয়াক করাইসলাম সমাজের শান্তি, পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা সংরক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করে থাকে। এটাই ইসলামের সবচেয়ে সুন্দর ও ...
25/03/2026

মিসওয়াক করা

ইসলাম সমাজের শান্তি, পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা সংরক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করে থাকে। এটাই ইসলামের সবচেয়ে সুন্দর ও আকর্ষণীয় দিক। সমাজকে দূষণমুক্ত ও পরিচ্ছন্ন রাখতে ইসলাম নানা পদ্ধতি ও মূলনীতি প্রণয়ন করেছে। এর অন্যতম হলো, প্রতিটি মুসলিমকে পরিচ্ছন্নতা ও মুখের পবিত্রতা বজায় রাখতে উৎসাহিত করা। এটি চমৎকার একটি বিষয়। কারণ, ইসলাম শুধু নামাজ, রোজা, জিহাদ ও রাষ্ট্রের বিষয়কে গুরুত্ব দেয় না, বরং প্রতিটি মুসলিমের ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতাকেও সমান গুরুত্ব দেয়। শুধু পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখাকে কেন্দ্র করে আল্লাহ তাআলা বিরাট পুরস্কারও দেবেন। এজন্যই রাসুল মিসওয়াকের প্রতি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছেন। আবু হুরাইরা রা বলেন, রাসুল বলেছেন,
আমার উম্মতের জন্য যদি কষ্টকর মনে না করতাম তবে তাদেরকে প্রত্যেক নামাজের সময় মিসওয়াক করার নির্দেশ দিতাম। (৮৪)

অপর বর্ণনায়, প্রতিবার অজুর সময় মিসওয়াকের নির্দেশ দিতাম। (৮৫)

অপর হাদিসে রাসুল বেশি বেশি মিসওয়াকের প্রতি তাঁর আগ্রহের কারণ বর্ণনা করেন। আয়েশা রা বলেন রাসুল বলেছেন, মিসওয়াক মুখকে পবিত্র করে এবং প্রতিপালকের সন্তুষ্টি বয়ে আনে। (৮৬)

কত মর্যাদাবান সুন্নাহ এটি। আমি মনে করি শুধু ব্রাশ ব্যবহার করলে এই সুন্নাহ আদায় হবে না। (৮৭)

কারণ রাসুল শুধু মুখ পরিষ্কার করা এবং প্রতিপালকের সন্তুষ্টি লাভের কথা বলেই থেমে যাননি, বরং সেজন্য কী মাধ্যম ব্যবহার করতে হবে, মিসওয়াকের কথা সরাসরি উচ্চারণ করে সেটি নির্ধারণ করে দিয়েছেন। আর আজকাল সব জায়গায় মিসওয়াক সুলভ। সহজে বহন করা যায়। কাজেই আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি অর্জনের এ মাধ্যম থেকে নিজেদের আমরা বঞ্চিত না রাখি।

৮৪. সহিহ বুখারি, ৬৮১৩; সহিহ মুসলিম, ২৫২
৮৫. সুনানুন নাসায়ি, ৩০৩৪
৮৬. সুনানুন নাসায়ি, ৪; সুনানু ইবনি মাজাহ, ২৮৯; আল-মুসনাদ লিল ইমাম আহমাদ, ২৪২৪৯
৮৭. এ বিষয়ে সঠিক কথা হলো, মিসওয়াকের মাধ্যমে দুটি সুন্নাহ আদায় হয় আর তা হলো গাছের ডাল ব্যবহার করা এবং মুখ পরিষ্কার করা ব্রাশ ব্যবহার করলে শুধু মুখ পরিষ্কারের সুন্নাহ আদায় হবে। আল-মুগনি লি-ইবনি কুদামা, ১/১৩৭ (শামেলা) সম্পাদক

#ইসলাম #সুন্নাহ

শাওয়াল মাসের ছয় রোজাপ্রতিটি পুণ্যের প্রতিদান ১০ গুণ করে বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে আল্লাহ তাআলা আমাদের ওপর সীমাহীন দয়া করে...
24/03/2026

শাওয়াল মাসের ছয় রোজা

প্রতিটি পুণ্যের প্রতিদান ১০ গুণ করে বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে আল্লাহ তাআলা আমাদের ওপর সীমাহীন দয়া করেছেন।

আল্লাহ বলেন,
مَن جَاءَ بِالْحَسَنَةِ فَلَهُ عَشْرُ أَمْثَالِهَا
যে একটি সৎকর্ম করবে, সে তার ১০ গুণ পাবে।
[সুরা আনআম: ১৬০]

তার মানে হলো, যে ব্যক্তি পুরো রমজান মাস রোজা রেখেছে, সে যেন পূর্ণ ৩০০ দিন রোজা পালন করেছে। এবার যদি আরও ছয়টি রোজা সে রাখে, তাহলে ৬০ রোজা পূর্ণ হয়ে ৩৬০ দিন অর্থাৎ পুরো বছর যেন সে রোজা পালন করল। সুতরাং যে নিয়মিত প্রতি বছর এভাবে রোজা রাখবে তার জন্য সারা বছর রোজা রাখার সওয়াব অর্জিত হবে। এ কারণেই রাসুল-এর অন্যতম সুন্নাহ ছিল শাওয়াল মাসে ছয়টি রোজা রাখা। আবু আইয়ুব আনসারি রা বলেন, রাসুল বলেছেন,
যে ব্যক্তি রমজান মাসের রোজা পালন করল, এরপর শাওয়াল মাসের ছয়দিন রোজা রাখল, সে যেন সারা বছর রোজা রাখল। (৭৯)

এ ছয়টি রোজা একসঙ্গে লাগাতার রাখতে হবে বা ঈদের পরদিন থেকেই শুরু করতে হবে, এমনটি নয়; পুরো শাওয়াল মাসজুড়ে যেকোনো ছয়দিন হলেই হলো। তাহলেই আমরা এ সুন্নাহর ওপর আমল করে পুরো বছর রোজা রাখার সওয়াব পেয়ে যাব।

*৭৯. সহিহ মুসলিম, ১১৬৪; সুনানু আবি দাউদ, ২৪৩৩; সুনানুত তিরমিজি, ৭৫৯; সুনানুন নাসায়ি, ২৮৬২; সুনানু ইবনি মাজাহ, ১৭১৬; আল-মুসনাদ লিল ইমাম আহমাদ, ২৩৬০৭

ঈদ নামায পূর্ববর্তী বয়ানের কিয়দংশ🎯মুফতি আবু মুহাম্মদ জুনায়েদইমাম, পাচঁপীর ঈদগাহ ময়দান
24/03/2026

ঈদ নামায পূর্ববর্তী বয়ানের কিয়দংশ🎯

মুফতি আবু মুহাম্মদ জুনায়েদ
ইমাম, পাচঁপীর ঈদগাহ ময়দান

ঈদ নামায পূর্ববর্তী বয়ানের কিয়দংশ🎯

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম

…. আমাদের নিকটআত্মীয় যারা আছে, আমাদের আত্মীয় স্বজন যারা আছে, তাদেরকেও ভালো দিকে আহ্বান করব ইনশাআল্লাহ। আমাদের বন্ধু-বান্ধবদেরকে ইসলামের পথে আহ্বান করব ইনশাআল্লাহ। আমাদের সমাজে একটি কথা প্রচলিত আছে, "নিজে ভালো তো জগৎ ভালো।" এই কথা যদি একদিক থেকে চিন্তা করি, তাহলে কথাটি যেমনিভাবে ঠিক, আরেকদিকে চিন্তা করলে কথাটি ভুল হবে। আমরা যদি চিন্তা করি, আমরা যদি প্রত্যেকেই ভাবি যে আমাকে ভালো হতে হবে, তাহলে খারাপ তো কেউ থাকবে না।

প্রত্যেকটা ব্যক্তি যদি চিন্তা করে যে আমার ভালো হওয়া উচিত, তাহলে কি খারাপ কেউ থাকবে?
-না। সেই দিক থেকে যদি আমরা চিন্তা করি, তাহলে আমরা বলতে পারি, "নিজে ভালো তো জগৎ ভালো।"

কিন্তু অন্য দিকে যদি চিন্তা করি যে, "আমি ভালো হলাম, পৃথিবী গোল্লায় যাক আমার দেখার কিছু নাই।" তাহলে এটা সম্পূর্ণ ভুল হবে। যদি তাই হতো পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মানুষ, জনাবে মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ (সাঃ)। দ্বীনের জন্য অক্লান্ত সময়ে ব্যয় করতেন না। ২৭ টা যুদ্ধের কমান্ডার এর দায়িত্ব পালন করতেন না। তিনি মানুষের জন্য, দ্বীনের প্রতি মানুষকে আহ্বান করতে গিয়ে পেরেশান হয়ে পরতেন না।

আজকে আমরা সমাজের মধ্যে একটি কথা বলতে শুনি, "ধর্মীয় সম্প্রীতির কথা আমরা সকলেই বলি।" আমরা বলি, "যে আমরা ধর্মপরায়ণ, ধর্ম-ধর্ম আমাদের মধ্যে কোন সংঘাত নেই।" ধর্মীয় সম্প্রীতির কথা বলি, ধর্মীয় সম্প্রীতি কি- রাসুলুল্লাহ (সাঃ)-এর জীবন থেকে আমরা দেখতে পাই। রাসুলুল্লাহ (সাঃ) দেখিয়েছেন। তিনি যেমন ধর্ম পালন করেছেন, একই সাথে বিধর্মীদেরকে কিভাবে সত্য দ্বীনের আল্লাহর পথে দিশা দেয়া যায়। সেজন্য সবসময় তিনি পেরেশান থাকতেন, ব্যাকুল থাকতেন, বেচাইন থাকতেন।

রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর এই পেরেশানি দেখে, আল্লাহ্‌ রব্বুল আলামীন তাকে সান্ত্বনা দিয়ে বললেন, "হে আমার প্রিয় বন্ধু! আপনি পেরেশান হবেন না, বেচাইন হবেন না। আপনার দায়িত্ব হচ্ছে, আপনার চেষ্টা করে যাওয়া। হেদায়াতের মালিক আমি (আল্লাহ)। তাদেরকে আমি (আল্লাহ) হেদায়েত দিলে কেবল তারা হেদায়াত পাবে। আপনি তাদের হেদায়াত দিতে পারবেন না।"

রাসুলুল্লাহ (সাঃ) তারপরও পেরেশান থাকতেন। তিনি তো জগতের জন্য রাহমাতুল্লিল আলামীন। তিনি সমগ্র পৃথিবীর জন্য রহমত স্বরূপ। তিনি সবসময় ব্যাকুল থাকতেন। একটা মানুষ আমার সামনে কাফের অবস্থায়, বেদীন অবস্থায়, আল্লাহর নাফরমানি করা অবস্থায় মৃত্যুবরণ করতে পারে, এটা আমার জন্য কখনোই মেনে নেয়া সম্ভব নয়।

এজন্য রাসুলুল্লাহ (সাঃ)-এর জীবনীতে আমরা দেখি, রাসুলুল্লাহ (সাঃ)-এর খেদমতে এক ইহুদি কিশোর ছিলো। দীর্ঘদিন রাসুলুল্লাহ (সাঃ)-এর সঙ্গে থেকে সে দেখেছে রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এমন একজন ব্যক্তি যিনি কখনো দাস-দাসীর সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেন না। যিনি মানুষের সঙ্গে অন্যায় অবিচার করেন না। যিনি কখনও কোনো রকম কারও সঙ্গে ধমক দিয়ে কথা বলেন না।

আনাস (রাঃ) রাসুলুল্লাহ (সাঃ)-এর খেদমতে ১০ বছর ছিলেন। তিনি বলেন, "আল্লাহ্‌র কসম! রাসুলুল্লাহ (সাঃ) একটা দিনের জন্যও আমাকে ধমক দিয়ে কথা বলেন নাই। একটা দিন বলেন নাই, তুমি এই কাজটা কেন করেছ? আর অমুক কাজটা কেন করনি?" এই সমস্ত উত্তম বৈশিষ্ট্য রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর চরিত্র ছিল।

সেই ইহুদি কিশোর যখন মৃত্যু শয্যায় শায়িত। রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, "ঐ ছেলেকে কেন আমি এখন দেখতে পাচ্ছিনা?" সাহাবাগণ রাসুলুল্লাহ (সাঃ)-কে খবর দিয়ে বলল, "ইয়া রাসুলুল্লাহ! ঐ ছেলেটি তো খুব অসুস্থ।" রাসুলুল্লাহ (সাঃ) সাহাবায়ে কেরামকে বললেন, "চলো, আমরা তার বাড়িতে যাই, দেখে আসি ছেলেটার কি অবস্থা।" রাসুলুল্লাহ (সাঃ) ঐ ছেলের বাড়িতে গেলেন। দেখতে পেলেন সে মৃত্যু শয্যায় শায়িত। রাসুলুল্লাহ (সাঃ) ব্যাকুল হয়ে গেলেন। তিনি বললেন, "আমি কিভাবে সহ্য করতে পারি। যে আমার সঙ্গে দীর্ঘদিন ছিল, এই ছেলেটি নাফরমান অবস্থায়, বেদীন অবস্থায়, কাফের অবস্থায় মৃত্যুবরণ করবে। জাহান্নামে অনন্তকাল জ্বলবে। এটা তো আমার কখনো সহ্য হতে পারে না।"

রাসুলুল্লাহ (সাঃ) তাঁর শিয়রের পাশে এসে বসলেন। অপর পাশে তার বাবা বসে আছে। রাসুলুল্লাহ (সাঃ) তাকে তালকিন করলেন, "হে কিশোর! আমি তোমাকে দাওয়াত দিচ্ছি আল্লাহ্‌ তায়ালার। আমি তোমাকে দাওয়াত দিচ্ছি একত্ববাদের। আমি তোমাকে দাওয়াত দিচ্ছি রব্বুল আলামিনের। যে রব্বুল আলামিন মৃত্যুর পরে তোমার একমাত্র অভিভাবক। তুমি কালেমা পড়ে মুসলমান হয়ে যাও। আমি তোমার জিম্মাদারি নেবো। ইনশাআল্লাহ্‌, আল্লাহ্‌ তোমাকে নাজাত দেবেন। তুমি সফলকাম হবে।" এই ছেলেটি দীর্ঘদিন রাসুলুল্লাহ (সাঃ)-এর সঙ্গে থেকে, রাসুলুল্লাহ (সাঃ)-এর চরিত্র সম্পর্কে, রাসুলুল্লাহ (সাঃ)-এর সততা সম্পর্কে সে ভালোভাবে জানতো। তারপরেও সে ভয় পাচ্ছিল, যে তার বাবা না জানি কি বলে। তখন সে জিজ্ঞাসার দৃষ্টিতে তার বাবার দিকে তাকাচ্ছিল। তার বাবা বললেন, "যে, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) যা বলে, তুমি মেনে নাও।" এরপর সে কালেমা পড়ে মুসলমান হলো।
সুবহানআল্লাহ্‌! এরপর রাসূলুল্লাহ (সাঃ) খুশি হয়ে গেলেন।

প্রিয় ভাই ও বন্ধুগণ.., আমরা এই আলোচনা কেন করছি? আমরা এজন্য বলছি, "ধর্মীয় সম্প্রীতি কাকে বলে?" আমরা আমাদের পার্থিব জীবনে দেখি। কোনো একজন মানুষ যাচ্ছে, যদি একটা গাড়ি আসে আমরা চেষ্টা করি, ঐ মানুষটাকে সরিয়ে আনার জন্য। সে যেন এক্সিডেন্ট না হয়। আমরা যদি কাউকে দেখি, আগুনের মধ্যে পড়ে যাচ্ছে, আমরা দ্রুত তাকে ধরে ফেলি, যে না তুমি সামনে যেও না, তুমি পুড়ে যাবে। আমরা যদি কাউকে আত্মহত্যা করতে দেখি, আমরা তাকে থামিয়ে দেই, না, তুমি তোমার জীবনকে ধ্বংস করে দিও না। আমরা পার্থিব জীবনে আমরা এভাবে চলি;

কিন্তু একটা মানুষ বিধর্মী হয়ে, কাফের হয়ে অনন্তকাল জাহান্নামের মধ্যে জ্বলবে, এর পরেও আমাদের মধ্যে কোনো রকম অনুশোচনা কাজ করে না। দায়িত্ববোধ কাজ করে না। আমরা চিন্তা করি না, আমার পাশে একজন ভাই হিন্দু আছে, বৌদ্ধ আছে, খ্রিস্টান আছে। সে অমুসলিম অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে অনন্তকাল জাহান্নামের মধ্যে জ্বলবে। এটা আমি কিভাবে সহ্য করতে পারি? তো তাকে ইসলামের দাওয়াত দেওয়া, একত্ববাদের দাওয়াত দেওয়া, সঠিক দ্বীনের দিশা দেওয়ার দায়িত্ব হচ্ছে আমাদের। এই হচ্ছে সম্প্রীতির কথা।

আপনি যদি আল্লাহকে বিশ্বাস করেন, আপনি যদি আখিরাতকে বিশ্বাস করেন, আপনি যদি জান্নাতকে বিশ্বাস করেন, আপনি যদি জাহান্নামকে বিশ্বাস করেন, তাহলে তো এটাই আপনার হওয়া উচিত যে, একজন মানুষ কাফের বেদীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করবে, আপনি তা সহ্য করতে পারবেন না, এটা হতে পারে না। এজন্য আমরা নিজেরা দ্বীন পালন করব। আমাদের আশেপাশের যে সমস্ত বিধর্মী ভাই-বোনেরা আছেন, তাদেরকে দ্বীনের প্রতি আহ্বান করব। তারা যদি সত্য দ্বীন পালন করেন, তাহলে তো আলহামদুলিল্লাহ্‌। তারা যদি সত্য দ্বীন গ্রহণ না করে, কাফের অবস্থাতেই থাকে, তাহলে অযথা তাদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করার কথা ইসলামে বলা হয়নি। আমরা মানুষের সঙ্গে ভালো আচরণ করব। এই ভালো আচরণের মাধ্যমেও অনেক মানুষ ইসলাম গ্রহণ করে।

প্রিয় ভাই ও বন্ধুগণ!, আজকে এই দিনে আমরা রমজানের ব্যাপারে দুটি কথা বলতে চাই। এই রমজান, এই সিয়াম আমাদেরকে ০৩ শিক্ষা দেয়। তিনটা সবক নিয়ে আমাদের মাঝে আসে। সেটা হচ্ছে সিয়াম (০১), আরেকটা হচ্ছে ক্বিয়াম (০২), আরেকটা হচ্ছে কোরআন (০৩)। আমরা একমাস রোজা রাখার পরে এখান থেকে শিক্ষা নেই।আমরা এই রোজাকে একেবারে ভুলে যাবো না ইনশাআল্লাহ। আমরা চেষ্টা করব বছরের অন্যান্য সময়ে যদি সুযোগ হয়, আমরা সিয়াম পালন করব।

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ইরশাদ করেছেন, "রমজানের পর শাওয়াল মাসের ছয়টি রোজা পালন করলে, পুরো এক বছর রোজা পালন করার সওয়াব আল্লাহ্‌ রব্বুল আলামীন আমাদের দান করেন।" সুবহানআল্লাহ্‌।

এই ছয়টা রোজা আমরা ইনশাআল্লাহ ঈদের পরদিন থেকে যেকোনো সময় রাখতে পারি। ছয়টা যদি সম্ভব হয়, আমরা একসঙ্গে রাখতে পারি। চাইলেআমরা বিরতি দিয়ে দিয়েও রাখতে পারি। তবে আমরা যদি এই শাওয়াল মাসের যেকোনো সময় ছয়টা রোজা যদি পালন করি, তাহলে ইনশাআল্লাহ, আল্লাহ্‌ রব্বুল আলামীন পূর্ণ এক বছর রোজা রাখার সমান সওয়াব আমাদের দিয়ে দিবেন।

এছাড়াও জিলহজ মাসের প্রথম ১০ দিন, ঈদের আগে যে নয়দিন রয়েছে। এই রোজার ফজিলতের কথা হাদীসে এসেছে। ওই সময় আমরা রোজা রাখব। এছাড়াও আরবি মাসের ১৩, ১৪, ১৫ আইয়ামে বীজ, আরবি মাসের ১৩, ১৪, ১৫ এই তিন দিন রাসুলুল্লাহ (সাঃ) রোজা রাখার ফজিলতের কথা বলেছেন। এই তিন দিন যদি সুযোগ হয়, আমরা রোজা পালন করব ইনশাআল্লাহ।

এছাড়াও রাসূলুল্লাহ (সাঃ) সোমবার এবং বৃহস্পতিবার রোজা রাখাতেন আমরা সোমবার এবং বৃহস্পতিবার যদি সম্ভব হয় রোজা রাখব ইনশাআল্লাহ।

এই রমজান আমাদেরকে আরেকটি শিক্ষা দেয়, সেটা হচ্ছে ক্বিয়াম করা। আমরা তারাবি নিয়মিত পালন করেছি, তারাবি আদায় করেছি। আমরা অন্যান্য সময়ে চেষ্টা করব তাহাজ্জুদে নিয়মিত হওয়ার ইনশাআল্লাহ।….

মুফতি আবু মুহাম্মদ জুনাইদ
ইমাম, পাচঁপীর ঈদগাহ ময়দান

Address

Bottali Bazar, 6 No Kashipur Union, Ranisonkail
Thakurgaon
5120

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when বাইতুর রাহমাত শাহী জামে মসজিদ - Baitur Rahmat Shahi Jame Masjid posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Place Of Worship

Send a message to বাইতুর রাহমাত শাহী জামে মসজিদ - Baitur Rahmat Shahi Jame Masjid:

Share

Category