07/07/2026
ভোরের বাতাসে শুনি রবের জিকির।💚🤍
হজরত ফাতেমা (রা.) নবীজির মেয়ে। তিনি বলেন, আমি সকালবেলার অলস ঘুমে ছিলাম। হজরত রাসূল (সা.) আমার ঘরে এলেন। আমাকে নাড়া দিলেন। ডেকে বললেন, মা ওঠো! তোমার রবের রিজিক গ্রহণ করো। অলসদের (সকালের ঘুমে কাতর) দলভুক্ত হয়ো না। কেননা আল্লাহ সুবহে সাদিক থেকে সূর্যোদয় পর্যন্ত মানুষের রিজিক বণ্টন করে থাকেন। (আত-তারগিব: ২৬১৬)।
সকালের নরম আলোতে ঘুম সত্যিই ভালো লাগে। আরামও বটে। শহুরে মানুষের জীবনের প্রধান অনুষঙ্গ সকালের ঘুম। রাত-বিরাতে দেরি করে ঘুমানোই এর কারণ।
তবে রাতে দেরি করে ঘুমানোটা খুব যৌক্তিক কারণ আছে বলে মনে হয় না। কর্মস্থল থেকে দেরি করে ফেরার একটি অজুহাত আছে। তাছাড়া রাতে দীর্ঘ সময় টেলিভিশনের চ্যানেলে ঘোরাঘুরি! সময় খেকো সোশ্যাল মিডিয়ায় অলস টাইমপাস কিংবা বাজে আড্ডা ছাড়া মুখ্য কোনো কারণ নেই।
হজরত মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সালাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্মতালিকায় এশার নামাজের পর কোনো কাজ রাখতেন না। খেয়ে নিতেন এশার নামাজের আগেই। শুভ্রতা ছড়ানো ভোর কিংবা বরকতময় সকাল উপভোগ করতে নবীজি আগেভাগেই ঘুমিয়ে যেতেন। উম্মতের প্রতিটি সকাল বরকতময় করার জন্য দোয়া করেছেন নবীজি।
হজরত সাখার আল-গামেদি (রা.) সূত্রে বর্ণিত, রাসূল (সা.) এ দোয়া করেছেন, হে আল্লাহ! আমার উম্মতের (কাজকর্মে) ভোরকে বরকতময় করুন। নবীজি বড় কিংবা ক্ষুদ্র কোনো যোদ্ধাদল কোথাও পাঠালে ভোরেই পাঠাতেন। (এ হাদিসের বর্ণনাকারী) হজরত সাখার (রা.) ছিলেন একজন ব্যবসায়ী। তিনি তার ব্যবসায়ী কাফেলাকেও কোথাও পাঠালে ভোরে পাঠাতেন। ফলে তিনি ধনী ও প্রভূত সম্পদের অধিকারী হন। (তিরমিজি শরিফ : ১২১২) নবীজি আরও বলেছেন, সকালবেলায় রিজিকের অন্বেষণ করো। কেননা সকালবেলা বরকতময় ও সফলতা অর্জনের জন্য উপযুক্ত সময়। (মাজমাউজ জাওয়ায়েদ : ৬২২০)।
সকালের অলস ঘুম কেড়ে নিচ্ছে জীবনের বরকত। ঘুমের আড়ালেই বরকত কমে যাচ্ছে আয়-রোজগার ব্যবসার! ফজরের আজানের সুরে ভেসে বেড়ায় প্রভুর প্রেমবন্ধন গাছ-মাছের জিকিরে কাজে ভোরের বাতাসে! সকালের বাতাসে ছড়িয়ে আছে সুস্থতা। মন-মগজ ও আত্মা শীতল করার মন্ত্র। ভোরের শ্বাস-নিঃশ্বাসে সজীব হয়ে ওঠে মন-মেজাজ। কর্মসচল হয় মানবদেহ।
আমাদের প্রভুর কাছে ভোরের সময়টা বেশ পছন্দের। তিনি শপথ নিয়েছেন এ ভোরে। কোরআন বলছে- শপথ প্রভাতকালের, যখন তা আলোকোজ্জ্বল হয়। নিশ্চয়ই জাহান্নাম ভয়াবহ বিপদগুলোর অন্যতম। (সূরা মুদ্দাসিসর : ৩৩-৩৫)।
দ্বীনদার ব্যক্তিরা যে অন্তরের শান্তিতে থাকেন সেটা যদি দুনিয়াদাররা জানত, তাহলে ছিনতাই করার ব্যবস্থা থাকলে সে সুখকে তারা ছিনিয়ে নিত।
সুবহে সাদিকের স্নিগ্ধ নির্মল সুবাতাস একমাত্র তাঁরাই উপভোগ করতে পারেন ' যারা ফজরে তাঁদের রবের সামনে সেজদায় লুটিয়ে পড়ে।
ভোরের মিষ্টি আলোতে বোগদাদি কায়দা হাতে মক্তবে হাসে খোকা-খুকির দল। শিশির ভেজা পায়ে হেঁটে চলা কৃষকের মুখেও শোনা যায় সুরেলা জিকির। উচ্ছ্বাস ভরা সকাল, ঝিরঝির বাতাস বয়ে গেলেও তরুণ-যুবারা নীরব ঘুমে বিভোর থাকে। স্নিগ্ধতা ছড়ানো ভোর, নরম রোদের সকাল রাঙিয়ে দিক আমাদের জীবন।
💚🤍💚