30/12/2025
হরে কৃ্ষ্ণ🙏
আগামী ৩১ইং ডিসেম্বর ২০২৫, ১৫শে পৌষ ১৪৩২ বুধবার"পুত্রদা একাদশী"🙏
•──✺ #পুত্রদা_একাদশী_২০২৫ ✺──•
≪━━━━━━━━◆❃◆━━━━━━━━≫
৩১ইং ডিসেম্বর ২০২৫, ১৫শে পৌষ ১৪৩২
বুধবার"পুত্রদা একাদশী"🙏😍
❏❖❏❖❏❖❏❖❏❖❏❖❏❖❏❖❏
✤ #পারন:
পরের দিন শনিবার সকাল
#বাংলাদেশঃ ৬ঃ৪১ মিঃ-১০:১৫ মিঃ
•*¨*•.¸¸¸¸.•*¨*•.¸¸¸¸.•*¨*•.¸¸¸¸.•*¨*•.¸¸¸¸¸.•*¨*•.¸¸
•─⊱✦ #পারণ_মন্ত্র✦⊰─•
একাদশ্যাং নিরাহারো ব্রতেনানেন কেশব।
প্রসীদ সুমুখ নাথ ঙ্গানদৃষ্টিপ্রদো ভব"।।
━───────⊱❉✸❉⊰────────━
#পুত্রদা_একাদশী_মাহাত্ম্য
⊰᯽⊱┈───◑❊◑┈───┈⊰᯽⊱
🍀🌹 যুধিষ্ঠির বললেন, হে কৃষ্ণ! পৌষ মাসের শুক্লপক্ষের একাদশীর নাম কি, বিধিই বা কি,কোন দেবতা ঐদিন পূজিত হন এবং আপনি কার প্রতি সন্তুষ্ট সেই ব্রতফল প্রদান করেছিলেন কৃপা করে আমাকে সবিস্তারে তা বলুন।
🍀শ্রীকৃষ্ণ বললেন, হে রাজন, এই একাদশী `পুত্রদা' নামে প্রসিদ্ধ। সর্বপাপবিনাশিনী ও কামদা এই একাদশীর অধিষ্ঠাতৃ দেবতা হলেন সিদ্ধিদাতা নারায়ণ। ত্রিলোকে এর মতো শ্রেষ্ঠ ব্রত নেই। এই ব্রতকারীকে নারায়ণ বিদ্বান ও যশস্বী তোলেন।এখন আমার ব্রতের মাহাত্ম্য শ্রবণ করুন।
🍎 ভদ্রাবতী পুরীতে সুকেতুমান নামে এক রাজা ছিলেন।তার রানীর নাম ছিল শৈব্যা। রাজদম্পতি বেশ সুখেই দিনযাপন করছিলেন। বংশরক্ষার জন্য বহুদিন ধরে ধর্ম-কর্মের অনুষ্ঠান করেও যখন পুত্রলাভ হল না, তখন রাজা দুশ্চিন্তায় কাতর হয়ে পড়লেন। তাই সকল ঐশ্বর্যবান হয়েও পুত্রহীন রাজার মনে কোন সুখ ছিলনা। তিনি ভাবতেন, পুত্রহীনের জন্ম বৃথা ও গৃহশূন্য।
🍎🍏 পিতৃ-দেব-মনুষ্যলোকের কাছে যে ঋণ শাস্ত্রে উল্লেখ আছে, তা পুত্র বিনা পরিশোধ হয়না। পুত্রবানজনের এ জগতে যশলাভ ও উত্তম গতি লাভ হয় ও তাদের অায়ু, আারোগ্য, সম্পত্তি প্রভৃতি বিদ্যমান থাকে। নানা দুশ্চিন্তাগ্রস্ত রাজা আত্মহত্যা করবেন বলে স্থির করলেন। কিন্তু পরে বিচার করে দেখলেন, আত্মহত্যা মহাপাপ, এর ফলে কেবল দেহের বিনাশমাত্র হবে,কিন্তু আমার পুত্রহীনতা তো দূর হবে না।
🍎🍏 তারপর একদিন রাজা নিবিড় বনে গমন করলেন। বনভ্রমণ করতে করতে দ্বিপ্রহর অতিক্রান্ত হলে রাজা ক্ষুধা-তৃষ্ণায় কাতর হলেন। এদিক ওদিক জলাদির অনুসন্ধান করতে লাগলেন। তিনি চক্রবাক, রাজহংস এবং নানারকম মাছে পরিপূর্ণ একটি মনোরম সরোবর দেখতে পেলেন।সরোবরের কাছে মুনিদের একটি আশ্রম ছিল। তিনি সেখানে উপস্থিত হলেন। সরোবর তীরে মুনিগন বেদপাঠ করছিলেন। মুনিবৃন্দের শ্রীচরণে তিনি দণ্ডবত্ প্রণাম করলেন।
🍎🍏 মুনিগণ রাজাকে বললেন, হে মহারাজ, আমরা আপনার প্রতি প্রসন্ন হয়েছি।আপনার কি প্রার্থনা বলুন।
🍎🍏 রাজা বললেন, আপনারা কে এবং কি জন্যই বা এখানে সমবেত হয়েছেন?
🍎🍏 মুনিগণ বললেন, হে মহারাজ, অামরা `বিশ্বদেব' নামে প্রসিদ্ধ। এই সরোবরে স্নান করতে এসেছি। আজ থেকে পাঁচদিন পরেই মাঘ মাস আরম্ভ হবে। আজ পুত্রদা একাদশী তিথি। পুত্রদান করে বলেই এই একাদশীর নাম পুত্রদা।
🍎🍏 তাদের কথা শুনে রাজা বললেন, হে মুনিবৃন্দ, আমি অপুত্রক। তাই পুত্রকামনায় অধীর হয়ে পড়েছি। এখন আপনাদের দেখে আমার হৃদয়ে আশার সঞ্চার হয়েছে। এ দুর্ভাগা পুত্রহীনের প্রতি অনুগ্রহ করে একটি পুত্র প্রদান করুন।
🍎🍏 মুনিগন বললেন, হে মহারাজ, আজ সেই পুত্রদা একাদশী তিথি। তাই আপনি এই একাদশী ব্রত পালন করুন। ভগবান শ্রীকেশবের অনুগ্রহে অবশ্যই আপনার পুত্রলাভ হবে। মুনিদের কথা শোনার পর যথাবিধানে রাজা কেবল ফলমূলাদি আহার করে সেই ব্রত অনুষ্ঠান করলেন।দ্বাদশী দিনে উপযুক্ত সময়ে শস্যাদি সহকারে পারণ করলেন।মুনিদের প্রণাম নিবেদন করে নিজগৃহে ফিরে এলেন। ব্রতপ্রভাবে রাজার যথাসময়ে একটি তেজস্বী পুত্র লাভ হল।
🍎🍏 হে মহারাজ, এই ব্রত সকলেরই পালন করা কর্তব্য।মানব কল্যান কামনায় আপনার কাছে আমি এই ব্রতকথা বর্ণনা করলাম। নিষ্ঠাসহকারে যারা এই পুত্রদা একাদশী ব্রত পালন করবে, তারা `পুত' নামক নরক থেকে পরিত্রান লাভ করবে। এই ব্রতকথা শ্রবণ-কীর্তনে অগ্নিষ্টোম যজ্ঞের ফল পাওয়া যায়। ব্রহ্মাণ্ডপুরানে এই মাহাত্ম্য বর্ণনা করা হয়েছে।**একদশী ব্রত পালনের নিয়ম বিধি**
➡️উপরোক্ত সময়ের মধ্যে পঞ্চ রবিশস্য ভগবানকে নিবেদন করে প্রসাদ গ্রহণ করে পারন করা একান্ত কর্তব্য। তা না হলে একাদশীর পূর্ণফল প্রাপ্ত হবেন না। আর অবশ্যই একাদশীর আগের দিন ও পরের দিন নিরামিষ প্রসাদ গ্রহণ করতে হবে।
➡️আসুন এবার সকল ভক্তবৃন্দরা মিলে জেনে নেই। আমরা কেন একাদশী করব এবং বিভিন্ন পুরানে একাদশী মহাব্রত সম্পর্কে কি বলা হয়েছে?
#বিভিন্নপুরাণ থেকে:
১. সকল পুরাণে মুনিদের এই নিশ্চিত মত যে, একাদশীতে উপবাস করলে সকল পাপ হইতে মুক্ত হবে এতে কোন সন্দেহ নেই।
(ব্রহ্মবৈবর্ত্তপুরাণ)
২. শ্রী যমরাজ ব্রাহ্মন কে বলেছেন, হে ব্রাহ্মণ! যাদের পুত্র ও পৌত্র একাদশী ব্রত করে আমি শাসন কর্তা যম হয়েও বিশেষরূপে তাদের নিকট ভীত হই। যারা একাদশী ব্রত পরায়ন সেই মহাত্মারা বল পূর্বক স্বীয় শত পুরুষ উদ্ধার করেন।
(পদ্মপুরাণ)
৩. একাদশীতে যে উপবাস, ইহাই সার, ইহাই তত্ত, ইহাই সত্য, ইহাই ব্রত, ইহাই সম্যক প্রায়শ্চিত্ত স্বরূপ। (ব্রহ্মবৈবর্ত্ত পুরাণ)
৪. যে মানুষ একাদশীর দিন শস্যদানা গ্রহণ করে সে তার পিতা, মাতা, ভাই এবং গুরু হত্যাকারী এবং সে যদি বৈকুন্ঠ লোকে উন্নীত হয় তবুও তার অধঃপতন হয়।
৫. একাদশীর দিন বিষ্ণুর জন্য সবকিছু রন্ধন করা হয় এমনকি অন্ন এবং ডাল ও কিন্তু শাস্ত্রের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, বৈষ্ণবদের বিষ্ণুর প্রসাদ গ্রহণ করা উচিৎ নয়। সেই প্রসাদ পরের দিন গ্রহণ করার জন্য রেখে দেওয়া যেতে পারে। একাদশীর দিন কোন রকম শস্যদানা এমনকি অন্ন তা যদি বিষ্ণুর প্রসাদও হয় তবুও তা গ্রহণ করতে কঠোর ভাবে নিষেধ করা হয়েছে।
৬. বিধবা না হলে শাস্ত্র অনুসারে একাদশী ব্রত পালন করার প্রথা শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু প্রবর্তন করে ছিলেন। (শ্রীচৈতন্য চরিতামৃত আদিলীলা (১৫/৮-১০)
৭. অনেকের ধারনা পুরী ধামে শ্রীজগন্নাথ দেবের প্রসাদ ভক্ষন দোষাবহ নহে। এই ধারনার বশবর্তী হইয়া পুরীতে অনেকেই নিঃসঙ্কোচে অন্ন গ্রহণ করেন, ইহা সম্পূর্ণ শাস্ত্র বিরুদ্ধ বিচার।
৮. বিধাবা নারী এবং মতিগণ (তেজস্বী) যদি একাদশী ব্রত না করে তাহলে প্রণয় কাল পর্যন্ত তাদের অন্ধকারময় নরকে পঁচে মরতে হয়। (শারদীয় পুরাণ)
৯. হে রাজন! যতদিন আয়ু থাকবে ততদিন একাদশী উপবাস থাকবে। (অগ্নিপুরাণ)
১০. বিধবা রমণী একাদশীতে আহার করলে, তার সর্বপ্রকার সুকৃতি নষ্ট হয় এবং দিনদিন তার ভ্রণহত্যা পাপের অপরাধ হয়। (কাত্যায়ন সংহিতা)
১১. যিনি একাদশী ব্রত পরিত্যাগ করে অন্য ব্রতের উপাসনা করেন, তার হাতের মহা মূল্যবান রত্ন পরিত্যাগ করে লোহা যাচনা করা হয়। (তত্ত্বসাগর)
১২. দেবাদিদেব শিব দূর্গা দেবী কে বলেছেন হে মহাদেবী যারা হরি বাসরে (একাদশীতে) ভোজন করে যমদূত গণ যমালয়ে নিয়ে তাদের অগ্নিবর্ন তীক্ষ লৌহাস্ত্র তাদের মুখে নিক্ষেপ করে।
(স্কন্দপুরাণ)
১৩.যে মানুষ একাদশীর দিন শস্যদানা গ্রহণ করে
সে তার পিতা, মাতা, ভাই এবং গুরু হত্যাকারী এবং সে যদি বৈকুন্ঠলোকেও উন্নীত হয় তবুও তার অধঃপতন হয়।
___স্কন্দপুরাণ
তাহলে কেন আমরা জেনে শুনে পাপ কর্ম করব?
তাই আসুন আমাদের মধ্যে যেসকল ভক্তবৃন্দরা একাদশী মহাব্রত পালন না করে যে পাপ করছেন। তারা সহ সকল ভক্তবৃন্দরাই একসাথে একাদশী মহাব্রত পালন করি এবং আমাদের এই দুর্লভ মানব জীবনকে স্বার্থক করুনা।
একাদশী ব্রত পালনের প্রকৃত উদ্দেশ্য কেবল উপবাস করা নয়, নিরন্তর শ্রীভগবানের স্মরণ, মনন ও শ্রবন কীর্ত্তনের মাধ্যমে একাদশীর দিন অতিবাহিত করতে হয়। শ্রীল প্রভুপাদ ভক্তদের এই দিন পঁচিশ মালা বা যতেষ্ট সময় পেলে আরও বেশী জপকরার নির্দেশ দিয়েছেন। একাদশী পালনের সময় পরনিন্দা, পরিচর্চা, মিথ্যা ভাষন, ক্রোধ, দুরাচারী, স্ত্রী সহবাস সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ।
হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে।
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে।
------------------------------------------------------------------------------
🌿🍏"শুদ্ধ ভাবে একাদশী🍏🌿
🌿🍏পালনের নিয়মাবলী"🍏🌿
➿➿➿➿➿➿➿➿➿
⚜️সঠিক ও শুদ্ধ ভাবে একাদশী পালনের নিয়ম আছে। একাদশীতে কি কি খাবারে নিষেধাজ্ঞা আছে। একাদশী পারনের নিয়ম কি, একাদশী ব্রতের মাহাত্ব্য কি, কোন কোন নিয়ম পালন করতেই হবে, সেই নিয়ম কি কি, এবং একাদশী না থাকলে কি করতে হবে। তাহলে জেনে নেই সেই সব নিয়ম, নিষেধ গুলি কি কি।
💞১ সমর্থ পক্ষে দশমীতে একাহার, একাদশীতে নিরাহার, ও দ্বাদশীতে একাহার করবে।
💞২ তা হতে অসমর্থ পক্ষে শুধু মাত্র একাদশীতে অনাহার করতে হয়।
💞৩ যদি উহাতেও অসমর্থ হয়, একাদশীতে পঞ্চ রবিশস্য বর্জন করবে। ফল মুলাদি অনুকল্প গ্রহণের বিধান রয়েছে।
🍃🌹🍃সমর্থ পক্ষে রাত্রি জাগরণের বিধি আছে। মহান গোস্বামীগন ও আচার্যবৃন্দের অনুমোদিত তালিকা বা পঞ্জিকায় যে সমস্ত একাদশী নির্জলা ব্রত পালনের জল ব্যতীত, পালনের নির্দেশ প্রদান করেছেন , সেগুলি সেই মতে করলে সর্বোত্তম হয়। নিরন্তর কৃষ্ণ ভজনায় থেকে নিরাহার থাকতে।
🍇🥭একান্ত অপারগ হলে নির্জলা সহ অন্যান্য একাদশীতে কিছু সবজি, ফলমূল গ্রহণ করতে পারবে। যেমন, গোল আলু, মিষ্টি আলু, চালকুমড়ো, পেঁপে, টমেটো, ফুলকপি ইত্যাদি সবজি, ঘি অথবা বাদাম তেলে রান্না করে ভগবানকে উৎসর্গ করে, আহার করতে পারেন। কাঁচা হলুদ অথবা ঘরে বানানো গুরা হলুদ, মরিচ, লবন ব্যবহার্য।
🫐🍉আবার অন্যান্য আহার্য যেমন, দুধ, কলা, আপেল, আঙুর, আনারস, আঁখ, আমড়াশস্য তরমুজ, বেল, নারিকেল, মিষ্টি , আলু, বাদাম, লেবুর শরবত। ইত্যাদি ফলমূল খাওয়া যায়।
🍒🍍একাদশীতে পাঁচ প্রকার রবিশস্য গ্রহণ করতে নিষেধ করা হয়েছেঃ
🍒🥥১ ধান জাতীয় সকল প্রকার খাদ্য যেমন, চাল, মুড়ি, চিড়া, সুজি, পায়েস, খিচুড়ি ,চালের পিঠা, খৈ, ইত্যাদি।
🍒🥥২ গম জাতীয় সকল প্রকার খাদ্য যেমন, আটা, ময়দা, সুজি, বেকারির বিস্কুট, বা সকল প্রকার বিস্কুট, বেকারির রুটি, হরলিক্স জাতীয় ইত্যাদি।
🍒🥥৩ যব বা ভূট্টা জাতীয় সকল প্রকার খাদ্য যেমন, ছাতু, খই, রুটি ইত্যাদি।
🍒🥥৪ ডাল জাতীয় সকল প্রকার খাদ্য যেমন, মুগ, মসুরী, মাসকলাই, খেসারী, ছোলা, অড়হর, ফেনল, মটরশুঁটি, বরবটি, সিম ইত্যাদি।
🍒🥥৫ সরিষার তেল, সয়াবিন তেল, তিল তেল, ইত্যাদি।
🍓🍏🍎উপরোক্ত পঞ্চ রবি শস্য যে কোনো একটি একাদশীতে গ্রহণ করলে ব্রত নষ্ট হয়। উল্লেখ্য যারা সাত্বিক আহারী নন, এবং চা, বিড়ি, সিগারেট, পান, কফি, নেশা গ্রহণ করেন একাদশী ব্রত পালনের সময়কাল পর্যন্ত এই সব গ্রহণ না করাটাই ভালো।
💢একাদশী ব্রত মাহাত্ব্য💢
°°°°°°°′°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
🍋🍊🍎একাদশী করলে যে কেবল মাত্র নিজের জীবন এর সদগতি হয় তা নয়, একাদশী ব্যক্তির প্রয়াত পিতা মাতা নিজ কর্ম দোষে নরকবাসী হন, তবে সেই পুত্রই পিতা মাতাকে নরকের থেকে উদ্ধার করতে পারবে।
🍌🍋🍎একাদশীতে অন্ন ভোজন করলে যেমন নরকবাসী হবে, তেমনই অন্যকে অন্নভোজন করালেও নরকবাসী হবে। কাজেই একাদশী ব্রত পালন করা আমাদের সকলের কর্তব্য।
💢একাদশী পারন💢
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
🍇🍏একাদশী তিথির পরদিন উপবাস ব্রত ভাঙার পর, নিয়ম একাদশী পারনের অর্থাৎ, উপবাসের পরদিন সকালে যে নির্দিষ্ট সময় দেওয়া থাকে, সেই সময়ের মধ্যে পঞ্চ রবিশস্য ভগবানকে নিবেদন করে প্রসাদ গ্রহণ করে পারণ করা একান্ত ভাবে দরকার। নতুবা একাদশীর কোনো ফল লাভ হবে না।
🍑🥭🍌একাদশী ব্রত পালনের একমাত্র প্রকৃত উদ্দেশ্যে কেবল উপবাস করা নয়। নিরন্তর ভগবান এর নাম স্মরণ, মনন, ও শ্রবন কীর্তনের মাধ্যমে একাদশীর দিন অতিবাহিত করতে হয়। এই দিন যতোটুকু সম্ভব উচিত একাদশী পালনে পরনিন্দা, পরচর্চা, মিথ্য ভাষণ, ক্রোধ, দুরাচারী, স্ত্রী সহবাস, সম্পুর্ন রূপে নিষিদ্ধ। নিন্মক্ত বিষয় গুলোর প্রতি দৃষ্টি বাঞ্ছনীয়।
🫐🍏🍎একাদশী ব্রতের আগের দিন রাত ১২ টার আগেই অন্ন ভোজন সম্পন্ন করে নিলে সর্বোত্তম। ঘুমাতে যাওয়ার আগে দাত ব্রাশ করে দাত ও মুখে লেগে থাকা অন্ন পরিস্কার করে নেওয়া সকালে উঠে শুধু মুখ কুলি ও স্নান করতে হয়। একাদশীর সময় সবজি কাটার থেকে সতর্ক থাকতে হবে। যেনো কোথাও কেটে না যায়।
🍉🍇🍊একাদশীতে রক্ত ক্ষরণ বর্জনীয়। দাত ব্রাশ করার সময় কালেও রক্ত ক্ষরণ হয়ে থাকে। তাই আগের দিনই দাত ব্রাশ করা সর্বোত্তম।
🍈🍉🍋 একাদশীতে চলমান একাদশীর মাহাত্ম্য ভগবদ্ভক্তের শ্রীমুখ হতে শ্রবণ অথবা সম্ভব না হলে নিজেই ভক্তি সহকারে পাঠ করতে হয়।
🍍🥥🍉যারা একাদশীতে একাদশীর রান্না করেন তাদের পাঁচ ফোড়ন ব্যবহার থেকে সতর্ক থাকা উচিত। কারন পাঁচ ফোঁড়নে সরিষার তেল, তিল থাকতে পারে, যা বর্জনীয়।
🍎🍐🍊একাদশীতে শরীরে প্রসাধনীর ব্যবহার নিষিদ্ধ। তৈল, সুগন্ধী সাবান, শ্যাম্পু, ইত্যাদি বর্জনীয়। সকল প্রকার ক্ষৌরকর্ম শেভ, চুল, নখ ইত্যাদি কাটা নিষিদ্ধ।
🫐🍈🍎একাদশী না থাকলে কি করবো তাও জেনে নেই। একাদশী না থাকা কালীন আমরা যে খাবার গ্রহণ করবো, অর্থাৎ খাদ্য শস্য গ্রহণ করবো, তা আমরা খাবো না, তা খাবার নয় পাপ ভক্ষণ করবো। কারন মাত্র ১টি খাদ্য শস্যের মধ্যে চার ধরনের পাপ থাকে। পাপ গুলো কি কি দেখি।
🏵️১। মাতৃ হত্যার পাপ।
🏵️২। পিতৃ হত্যার পাপ।
🏵️৩। ব্রহ্ম হত্যার পাপ।
🏵️৪। গুরু হত্যার পাপ।
🍇🍉🍊আমরা মাত্র একটি দানা নয় প্রতি গ্রাসে হাজার হাজার দানা ভক্ষণ করবো। ভেবে দেখতে হবে, যে পাপ কাজ আমি করি নি সেই পাপ কাজের ভাগীদার আমাকে হতে হবে।
🍍🍏🍉যদি আমরা একাদশীর সময় খাদ্যশস্য গ্রহণ করি। আর ঠিক তেমনই নিজে খেলে যে পাপ হবে অন্যকে খাওয়ালেও সেই একই পাপ তাই একজন সনাতনী হিসাবে আমাদের একাদশী থাকা উচিত না অনুচিত, তাই আমরা নিজেরাই বিচার করে দেখতে পারি।
একাদশী সংকল্প মন্ত্রঃ ---
"একাদশ্যাং নিরাহারঃ স্হিত্বা অহম্ অপরেহহনি।
ভোক্ষ্যামি পুন্ডরীকাক্ষ স্মরনং মে ভবাচ্যুত।।
অনুবাদ: হে পুন্ডরীকাক্ষ হে অচ্যূত আমি একাদশীর দিন উপবাস পূর্বক এই ব্রত পালন করার জন্য আপনার স্মরণ গ্রহণ করছি।
একাদশীর পারণ মন্ত্রঃ ---
”অজ্ঞান তিমিরান্ধস্য ব্রতেনানেন কেশব।
প্রসীদ সুমুখ নাথ জ্ঞানদৃষ্টিপ্রদো ভব॥” (বৃ: না: পু: ২১/২০)
অনুবাদ: হে কেশব! আমি অজ্ঞানরূপ অন্ধকারে নিমজ্জিত হইয়াছি, হে নাথ! এই ব্রত দ্বারা আমার প্রতি প্রসন্ন হইয়া আমাকে জ্ঞানরূপ চক্ষু প্রদান করুন।
"জয় শ্রীশ্রী একাদশীর জয়"
🌿"হরে কৃষ্ণ"🌿
●●●●●●●●●●
🌸জয় পুত্রদা একাদশী🌸
🌸জয় শ্রীরাধামাধব🌸
●●●●●●●●●●●●●
┈┉━❀❈🙏🏻❈❀━┉┈
✧════════•❁❀❁•════════✧
┄❈❥ًً❀──●❀🌹🍒🌻
"হরে"কৃষ্ণ"হরে"কৃষ্ণ"কৃষ্ণ"কৃষ্ণ"হরে"হরে।"
"হরে"রাম"হরে"রাম"রাম"রাম"হরে"হরে।।"