16/10/2024
আইয়ামে বিজ (أيام البيض ) হলো একটি ইসলামিক পরিভাষা, যার অর্থ "উজ্জ্বল দিনগুলো।" এটি হিজরি মাসের ১৩, ১৪ এবং ১৫ তারিখকে নির্দেশ করে। এই দিনগুলোতে রোজা রাখা ইসলামের সুন্নত বা উত্তম আমল হিসেবে বিবেচিত হয়।
"বিজ" শব্দের অর্থ সাদা বা উজ্জ্বল, আর "আইয়াম" শব্দের অর্থ দিন। এই দিনগুলোকে "উজ্জ্বল দিন" বলা হয়, কারণ পূর্ণিমার আলোয় রাতগুলোও খুব উজ্জ্বল হয়।
আইয়ামে বিজের রোজার ফজিলত:
১. এই তিন দিন রোজা রাখা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর একটি প্রিয় আমল ছিল।
২. হাদিসে বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি প্রতিমাসে এই তিনটি রোজা রাখে, তার জন্য এটা এক ধরনের পুরো মাস রোজা রাখার সওয়াবের সমান।
৩. যিনি এই রোজা পালন করেন, আল্লাহ তায়ালা তার গুনাহ মাফ করেন এবং তার ইমান দৃঢ় হয়।
রোজা রাখার নিয়ম:
রোজা শুরু হয় ফজরের আজানের পূর্বে সাহরি খেয়ে, আর ইফতার করা হয় মাগরিবের আজানের পর।
এই রোজাগুলো সারা বছর ধরে প্রতিটি হিজরি মাসে পালন করা যেতে পারে, তবে রমজান মাসে এই রোজাগুলোর দরকার হয় না, কারণ তখন পুরো মাস রোজা পালন করা ফরজ।
উল্লেখযোগ্য হাদিস:
হজরত আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাকে তিনটি বিষয়ে وصية (উপদেশ) দিয়েছেন:
১. প্রতি মাসে তিনটি রোজা রাখা,
২. দুহা নামাজ পড়া,
৩. শোবার সময় বিতর নামাজ আদায় করা। (সহিহ বুখারি ও মুসলিম)
এই হাদিস থেকে বোঝা যায়, প্রতি মাসে এই রোজাগুলো রাখা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নত ছিল এবং এতে বিশেষ সওয়াব রয়েছে।
দুহা নামায (দোহা নামাজ) হল একটি নফল (ঐচ্ছিক) নামায, যা সকালবেলার সময় আদায় করা হয়। ইসলামের বিধান অনুযায়ী, এই নামায ফজরের নামাযের পর থেকে সূর্য যখন পুরোপুরি উঠে যায় এবং তার পর কিছুক্ষণ পর্যন্ত পড়া যায়, সাধারণত সকাল ৯টা থেকে ১২টার মধ্যে। এটি ২ রাকাত থেকে ১২ রাকাত পর্যন্ত আদায় করা যায়, তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে ৮ রাকাত নামায পড়া হয়।
দুহা নামাযের ফজিলত অনেক বেশি, এবং এটি মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) নিয়মিত আদায় করতেন। হাদিসে বর্ণিত আছে যে, যারা দুহা নামায পড়েন, আল্লাহ তাদের পাপসমূহ ক্ষমা করে দেন এবং তাদের জন্য বিশেষ পুরস্কার রাখেন।