Saalihat-صالحة

Saalihat-صالحة Saalihat means good deeds.We want to inspire others to do good deeds according to Quran and Sunnah...

20/05/2023
19/05/2023

\\জীবনের দুঃখ-কষ্টগুলোকে বয়ে বেড়ানোর প্রধানতম হাতিয়ার হচ্ছে গান। গানের সুর মানুষের মনের বেদনাগুলোকে বহন করে বেড়ায়। কিছু গান যেমন দুঃখকে জিইয়ে রাখে, তেমনি কিছু গান নস্টালজিক করে দেয়, কিছু গান কিছু সময়ের সাথে মিলেমিশে একাকার হয়ে থাকে।
মানুষ যখন এসব গান শোনে, আপনমনে গুনগুন করে, তখন সে সেই সময়টায় ফিরে যায়, সেই দুঃখ-বেদনাগুলোকে জাবর কাটে, প্রিয়জনকে অনুভব করে।
ফলে এটা এক সময় মানুষকে শেষ করে দেয়। এজন্য সালাফ থেকে গান সম্পর্কে অনেক সতর্কবাণী আমরা পাই। ইবন মাসঊদ [রা.] বলেছেন,
❝গান অন্তরে সেভাবে নিফাককে উদগত করে যেভাবে পানি তৃণলতাকে অংকুরিত করে।❞[১]
দ্বাহহাক [রাহ.] বলেছেন, ❝গান হচ্ছে অন্তর নষ্টকারী।❞[২]
আমার তো মনে হয়, দুঃখ কষ্টে পড়ে মানুষ যদি গান শোনা ও গাওয়া ছেড়ে দেয়, তাহলে ইন শা আল্লাহ সে ডিপ্রেশনে পড়বে না, ধীরেধীরে সে সেই অবস্থান থেকে উঠে আসতে সক্ষম হবে।
বরং এই সময়ে কুরআন পাঠ করা উচিত, আয়াতের অর্থগুলো বুঝে ধীরেসুস্থে সময় নিয়ে, অনুভব করে। কুরআন তো ঐ কিতাব যা মৃত অন্তরকেও জীবিত করে ফেলে।
ইমাম ইবন রাজাব [রাহ.] বলেছেন,
❝কুরআন হচ্ছে আল্লাহর কালাম ও তাঁর ওয়াহী। এটা আল্লাহর সেই নূর যার মাধ্যমে তিনি মৃত অন্তরকে জীবিত করেন।❞[৩]
আল্লাহ তাআলা অশান্ত অন্তরগুলোকে কুরআনের নূর দ্বারা আলোকিত, সজীব ও প্রশান্ত করে দিন-আমিন

[১) ইমাম ইবন তাইমিয়াহ (রাহ.), মাজমুঊল ফাতাওয়া: ১৫/৩১৪
২) ইমাম ইবন আবিদ দুনইয়া (রাহ.), যাম্মুল মালাহী, হা: ৬০
৩) মুহাম্মাদ নাসিরুদ্দীন মাহমূদ, ফাসলুল খিতাব ফিয যুহদি ওয়ার রাকাইকি ওয়াল আদাব: ৯/৫৩৩] //

মানযুরুল কারীম হাফিজাহুল্লাহর এই পোস্টটির বাস্তব চিত্র আশেপাশে অনেক দেখেছি।গান মানুষকে তার দুঃখ কষ্ট সেলিব্রেট করতে উৎসাহ দেয়।একটা মানুষ যখন কষ্ট পায়,তখন তার পাশে স্যাড সং বা মিউজিক চললে তার মনের প্রতিক্রিয়া আর এমনি নরমাল পরিবেশ বা কুর‌আন তিলাওয়াতযুক্ত পরিবেশে থাকলে তার মনের প্রতিক্রিয়া যদি পরিমাপ করা যেত তাহলে হয়তো পুরোপুরি এই বিষয়টা বুঝানো যেত।আশেপাশে যখন গান বাজে যেটা আগে আমার প্রিয় ছিল,তখন মনের যে অবস্থা হতে থাকে,তখন তখন‌ই যদি জানালা দরজা বন্ধ করে দিয়ে কুর‌আন তিলাওয়াত শুনতে থাকি -দুই অনুভূতির মধ্যে অসম্ভব রকমের পার্থক্য‌।

হিদায়াত পাওয়ার আগে যারা গান,মিউজিক এসবে প্রচুর সময় দিতো,হিদায়াত পাওয়ার পরে তাদের মন থেকে এসব সম্পূর্ণ মুছে ফেলা তো অনেক বেশিই কঠিন, কিন্তু শক্ত হাতে এটা দমন না করলে আখেরে ভালো ফল আসে না।কারণ মিউজিক তো শয়তানের‌ই সুর,আর এই সুর দিয়েই শয়তান মানুষকে এমন মোহে ফেলে যে গান শুনতে শুনতেই মানুষ এতোটাই ইমোশনাল হয়ে যায় যে নিজের সাথে উল্টাপাল্টা কিছু করে ফেলা কোনো বিষয় না।হারাম রিলেশনশিপের ক্ষেত্রেও এই মিউজিক,মুভি এসব প্রচুর প্রভাব ফেলে,প্রচুর।তাই এই মিউজিক আর মুভির সাথে খুব কঠোরভাবে ফাইট করতে হবে।মনে চলে আসলে‌ও গুনগুনিয়ে মুখে যেন উচ্চারিত না হয় সেটার ব্যবস্থা করতে হবে।পারলে সাথে সাথে ওজু করে কুর‌আন তিলাওয়াতে বসে যান।প্রতিদিন একটা করে আয়াত হিফয করাও কার্যকরী, সারাদিনে বারবার ওই একটা আয়াত‌ই গুণগুণ করে তিলাওয়াত করতে থাকবেন, পবিত্র একটা অনুভূতি পাবেন ইনশাআল্লাহ!

অলস অবসর আর অহেতুক কথা,কাজ একজন প্রোডাক্টিভ মানুষকে আনপ্রোডাক্টিভ করতে যথেষ্ট!তার সাথে যদি যুক্ত হয় অতীতের কিছু যন্ত্রণ...
15/05/2023

অলস অবসর আর অহেতুক কথা,কাজ একজন প্রোডাক্টিভ মানুষকে আনপ্রোডাক্টিভ করতে যথেষ্ট!তার সাথে যদি যুক্ত হয় অতীতের কিছু যন্ত্রণাময় স্মৃতি, বর্তমানের কষ্ট আর ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তার চিন্তা তাহলে তাকে ডিপ্রেশনের দিকে ঠেলে দিতে আর কিছু লাগবে না।তাই যতটা পারেন,নিজের জীবনকে প্রোডাক্টিভ ও কর্মমুখর রাখুন!

14/05/2023

❝দুনিয়াবি প্রাচুর্য থাকা আর দুনিয়ামুখিতা এক না❞

কারো ধনসম্পদ থাকলেই সে দুনিয়ামুখী না। বরং যে দুনিয়াবি চিন্তা বা বস্তু মানুষকে গাফিল করে, আল্লাহর স্মরণ থেকে দূরে রাখে সেটাই নিন্দিত দুনিয়া,আর এই গাফিলতিই দুনিয়ামুখিতা।দীনি ভাইয়েরা যদি শুধু কোনোমতে খেয়ে পরে বেঁচে থাকার জন্য অল্প ইনকাম করে(আরেকটু পরিশ্রমে হালালভাবে বেশি ইনকামের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও),তবে তার যে যোগ্যতা ছিল সেই এক‌ই বা তার চেয়ে কম যোগ্যতার অন্য কোনো বেদীন কিংবা কাফির ব্যক্তি এই শ্রমবাজারে কাজে লাগিয়ে বেশি ইনকাম করে নিতে পারবে।যারা কিনা আল্লাহর আইনের ধার ধারে না,যাকাত দেওয়ার তো প্রশ্ন‌ই আসে না।দিন শেষে দেখা যায় যে দীনি ভাইটা হয়তো তার পরিবারের ভরণপোষণ মেটাতেই হিমশিম খাচ্ছে,সস্তা খুঁজতে গিয়ে স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে লোকাল বাস,অটোতে যাওয়া আসা করতে হচ্ছে যেখানে পর্দার খেলাফ হচ্ছে,নানা জায়গা থেকে ধার দেনা লেগেই আছে। কিন্তু এমন জীবন কি মুমিনের চাওয়া হতে পারে!মুমিনের তো চাওয়া থাকবে মানুষের অমুখাপেক্ষী একটা জীবন।আর পরিবার, আত্মীয়-স্বজনের হক আদায়ের বিষয়‌ও তো আছে।যখন তাদের হক আদায়ের নিয়তে ইনকাম করতে থাকবে,অন্য ভাইকে সাহায্য করার জন্য নিয়ত রেখে ইনকাম করবে, আল্লাহর কাছে তো এটার সর্বোত্তম প্রতিদান আশা করাই যায়।

কিছুদিন পরপর যখন আলেমদের হেল্প পোস্ট দেখি তখন এতো খারাপ লাগে!মনে হয় যে তাদের যদি রাতের অন্ধকারে গিয়ে টাকা দিয়ে হেল্প করার মতো কেউ থাকত,তাদের করুণ অবস্থা সবার সামনে এভাবে যদি না আসত!অনুদান‌ই না শুধু,দীনিরা যদি আর্থিকভাবে স্বচ্ছল হয় তবে তারা সঠিকভাবে যাকাত দিবে যেটা আর্থিকভাবে দুর্বলদের হক। কিন্তু যখন দীনিরা এই অর্থসম্পদকে একদম‌ই‌ ছেড়ে দিবে তখন তা এমন কারো হাতে জমা হতে থাকবে যারা যাকাত দিবেই না। বর্তমানে তো একটা কমন ইমেজ তৈরি হয়ে গেছে যে হুজুর মানেই গরীব,হুজুর মানেই মসজিদে সবার কাছ থেকে চাঁদা তুলে খায়।যদিও সবাই এমন না, কিন্তু এই পরিমাণটা অনেক বেশিই।

এ তো‌ গেল দীনি ভাইদের ইনকামের বিষয়টা।দীনি বোন যারা আছে,বিয়ের জন্য আবেগের বশে হয়তো আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল ছেলেকেই পছন্দ করছে,স্বচ্ছল কাউকে খোঁজাটা তার তাক‌ওয়ার খেলাফ মনে করছে। কিন্তু এটা ভুল। আর্থিকভাবে এতটুকু স্বচ্ছলতা যেটাতে অন্যের কাছ থেকে সাহায্য চাইতে হয় না,নিজেরা ভালোভাবে চলা যায়,কোথাও যাতায়াত করতে হলে একটু টাকা বেশি লাগলেও এমন যানবাহন বেছে নেওয়া যেটাতে পর্দার খেলাফ হয় না-এসব মোটেও তাক‌ওয়ার খেলাফ না। বরং এটাই গাইরতের অধিক কাছে বলে মনে করি।কারণ এমন জীবন যেটাতে শুধুই আল্লাহর মুখাপেক্ষিতা, পর্দা রক্ষার আর্থিক স্বচ্ছলতা থাকা-সেটাই মুমিনের চাওয়া।আর যেসব বোনেরা পরিবারে পর্দা আর ইসলাম মানতে গিয়ে সমস্যায় পড়েন,তাদের জন্য তো আর্থিকভাবে উপরিল্লিখিত পরিমাণ স্বচ্ছল ছেলেকে বেছে নেওয়া উচিত।কারণ পরিবার যেখানে সাপোর্টিভ না,আপনাকে স্বাবলম্বী হতে বলছে সবসময়,সেখানে আপনি আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল কাউকে বেছে নিয়ে যখন মানবেতর জীবনযাপন করবেন, অন্যের কাছে সাহায্য চাইতে হবে,পর্দার খেলাফ হবে তখন আপনার পরিবার আপনাকে স্বাবলম্বী হ‌ওয়ার গুরুত্ব(!) চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিবে।নফসের ধোঁকাতে তখন হয়তো আপনার আযীমতকে বেছে নেওয়া আপনার জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল মনে হবে।তাই সাবধান! শুধু আবেগে না,বিবেক আর আশেপাশের পরিস্থিতি দেখে চিন্তা করেন, সিদ্ধান্ত নেন।

[পোস্টটা তাদের জন্য যারা মনে করে ধন সম্পদ বেশি থাকা দূষণীয়, ছেলেদের আর্থিক স্বচ্ছলতা দেখে বিয়ে করা দূষণীয়।ধন সম্পদ কম বা বেশি যাই হোক সেটা তখন‌ই দোষের হবে যখন সারাক্ষণ মনে ধন সম্পদের প্রতি আকর্ষণ কাজ করবে, আল্লাহ থেকে গাফিল করবে।আর ছেলের খুব সূক্ষ সূক্ষ সম্পদকেও বিয়ের ক্ষেত্রে ধরা হবে -যেমন অনেকে নাকি ছেলের বাসায় প্রাকৃতিক গ্যাস নাই,ছেলে ভাড়া বাসায় থাকে এসব কারণে বিয়ে ক্যানসেল করে।]

যদি প্রশ্ন করা হয় যে আমরা দুআর শুরুতে,মাঝে,শেষে দরুদ পড়ি কেন?খুব স্বাভাবিকভাবেই উত্তর আসবে যে দুআ কবুলের জন্য।কিন্তু এ...
09/05/2023

যদি প্রশ্ন করা হয় যে আমরা দুআর শুরুতে,মাঝে,শেষে দরুদ পড়ি কেন?খুব স্বাভাবিকভাবেই উত্তর আসবে যে দুআ কবুলের জন্য।

কিন্তু এর বাইরে কি আসলেই আর দ্বিতীয় কোনো কারণ নাই?আমার সেই দুআ কীভাবে পূর্ণতা পেতে পারে যেটাতে নবিজি ﷺ এর প্রতি একটাবার দরুদ পড়তে ভুলে গেলাম!দুআ করতে করতে বারবার নবিজি ﷺ এর কথা মনে পড়লো না?!নবিজি ﷺ এই উম্মাহকে কতটা ভালোবেসেছেন,কতটা চিন্তা করেছেন আমাদের জন্য সেটা নতুন করে নিশ্চয়‌ই আর বলার প্রয়োজন নাই।তাই নবিজির প্রতিও আমাদের ভালোবাসা হ‌ওয়া উচিত সর্বোচ্চ থেকে সর্বোচ্চ।

ফিদাকা আবি ওয়া উম্মি ওয়া নাফসি,ইয়া রসুলুল্লাহ ﷺ!

08/03/2023

গীবত একটি "কবীরা গুনাহ"।আমরা অন্যান্য বিষয়ে সচেতন হলেও এই বিষয়ে তেমন সচেতন না বা দৈনন্দিন জীবনে এটাকে এড়াতে পারি না।অনেক প্র্যাকটিসিং মুসলিম‌ও অন্য সব হালাল হারাম মানতে পারলেও এখানে এসে হেরে যায়।সমাজে অন্য গুনাহকে খারাপ চোখে দেখা হলেও এটাকে তেমন কিছু মনে করা হয় না আর এটা আমাদের অভ্যাস হ‌ওয়াতে এটাকে তেমন গুরুত্ব‌ও দেওয়া হয় না।আবার অনেকে গীবতের বিষয়ে তেমন জানেও না।তাই সব মিলিয়ে আমার নিজের জন্য রিমাইন্ডার হিসেবে ও অন্যদের জানানোর উদ্দেশ্যে আমার এই লেখা।আমি আবদুল্লাহ আল মাসুদ উস্তাযের একটা লেকচার থেকেই মূলত এই লেখাটা লিখছি।

পরিচয়:ইমাম রাগিব আল ইস্পাহানী গীবতের পরিচয়ে বলেন:অন্যের "আড়ালে" "অপ্রয়োজনে" তার "দোষত্রুটি" বর্ণনা করা।
ইমাম নববী আল আযগার কিতাবে গীবতের বিষয়ে বলেন,গীবত হলো কোনো মানুষের অপছন্দনীয় বিষয় অন্যের সামনে উল্লেখ করা।সেটা শারীরিক বিষয়ে হতে পারে যে অমুক খাটো,কালো,কানা,ল্যাংরা। অর্থাৎ উপহাসের নিয়তে অন্যের শারীরিক ত্রূটি বর্ণনা করা।
দীনদারিতার ক্ষেত্রে হতে পারে-সে তো গাফেল,ফাসিক। পবিত্রতা নিয়ে তেমন সচেতন না..
চারিত্রিক ত্রূটি,কারো জামা কাপড়,চাল চলন,আচার আচরণ,পেশা নিয়ে কাউকে তাচ্ছিল্য করা এসব‌ই গীবতের অন্তর্ভুক্ত।এখানে মূলনীতি হলো ❝কারো আড়ালে তার ব্যাপারে এমন কিছু উল্লেখ করা যা তার অপছন্দনীয়❞।এখন এই গীবত বিভিন্নভাবে হতে পারে।
১.মুখে উচ্চারণ।কথা বলার মাধ্যমে যে গীবত হয় এটা অনেকেই জানেন
২.লেখার মাধ্যমে। ইনবক্সে চ্যাটিং এর মাধ্যমে হতে পারে, পোস্ট করার মাধ্যমে হতে পারে।
৩.ইঙ্গিত করে। অর্থাৎ সরাসরি নাম উল্লেখ না করে কিন্তু বুঝা যায় কাকে বলা হচ্ছে বা কার দোষ বর্ণনা করা হচ্ছে।দীনি কমিউনিটিতে এটা বেশি দেখা যায়। অনেকে ইচ্ছাকৃতভাবে কাউকে খোঁচা দিয়ে এমনভাবে পোস্ট দেয় যে বুঝা যায় কাকে ইঙ্গিত করে কথা বলছে, কিন্তু সরাসরি নাম উল্লেখ করে বলছে না।এমন পোস্ট দিলে যদি তাকে বলা হয় যে এটা তো গীবত হলো।তখন সে বলে যে সে তো নাম উল্লেখ করে নাই,তাই এখানে গীবত হবে না। কিন্তু এখানে স্পষ্ট থাকে যে কাকে উদ্দেশ্য করে তার দোষ বর্ণনা করা হচ্ছে।
৪.ইশারার মাধ্যমে। অর্থাৎ মুখে উচ্চারণ করে না কিন্তু চোখ দিয়ে ইশারা করে,হাত দিয়ে ,মাথা দিয়ে ইশারা করে অন্যের দোষের দিকে ইঙ্গিত করা হয়।কিংবা তার কিছু বৈশিষ্ট্য নিজেরা অনুকরণ করে ব্যঙ্গ করা হয়।
অর্থাৎ,যে ওয়েতেই হোক না কেন অন্যের আড়ালে তার দোষ বর্ণনা,তাকে তাচ্ছিল্য করা,ব্যঙ্গ করা কিংবা অপ্রয়োজনে এমন সব কথা বলা যা তার অপছন্দনীয় হবে সব‌ই গীবতের মধ্যে পড়ে।আবু হুরায়রা রা থেকে বর্ণিত,রসুলুল্লাহ ﷺ বলেন,“তোমরা কি জান ‘গীবত’ কী? তাঁরা বললেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই অধিক জ্ঞাত। তিনি বললেন, তোমার ভাই যে কথা অপছন্দ করে তার সম্পর্কে সে কথা বলার নাম গীবত। জিজ্ঞেস করা হলো, আমি যা বলছি তা যদি আমার ভাইয়ের মধ্যে থাকে? রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি যা বলছ তা যদি তার মধ্যে বিদ্যমান থাকে তবেই তুমি তার ‘গীবত’ করলে। আর যদি না থাকে তাহলে তুমি তাকে অপবাদ দিলে”।(মুসলিম)

ভয়াবহতা:মিরাজের রাতে নবিজি ﷺ একদল জাহান্নামীকে দেখলেন যাদের নখগুলো তামার তৈরি এবং তা দিয়ে তারা নিজেদের শরীরে আঘাত করছে।তাদের অপরাধ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে ফেরেশতারা বললেন যে তারা দুনিয়াতে অন্যের মাংস খেত অর্থাৎ গীবত করতো।
ইয়াহইয়া (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদিন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুটি কবরের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তখন তিনি বললেনঃ নিশ্চয়ই এ দু’জন কবরবাসীকে আযাব দেওয়া হচ্ছে। তবে বড় কোন গুনাহের কারণে কবরে তাদের আযাব দেয়া হচ্ছে না। এই কবরবাসী পেশাব করার সময় সতর ঢাকতোনা। আর ঐ কবরবাসী গীবত (পরনিন্দা) করে বেড়াত....।(সহীহ বুখারি)
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোনোভাবে তার ভাইয়ের সঙ্গে অন্যায় আচরণ বা অবিচার করে ফেলেছে, সে যেন তার থেকে পৃথিবীর জীবনেই মাফ চেয়ে দায়মুক্ত হয়ে নেয়। কেননা হাশরের মাঠে দিনার-দিরহাম কোনো কাজে আসবে না। সেদিন তার দায় শোধ করা হবে নেক আমলের মাধ্যমে। যদি কারও ওপর অন্যায় আচরণ করে থাকে, তবে দায় শোধের জন্য সে পরিমাণ নেক আমল তার থেকে নিয়ে নেওয়া হবে। যদি কোনো নেক আমল না থাকে, তবে পাওনাদার ব্যক্তির পাপ থেকে নিয়ে তার ওপর চাপিয়ে দেওয়া হবে।’ (বুখারি : ৬৫৩৪)
গীবতের মাধ্যমে অন্যের ওপর জুলুম‌ই করা হয়,তার সম্ভ্রমের ওপর আঘাত হানা হয়।তাই এই বিষয়ে দুনিয়াতেই আপোস মীমাংসা করে নেওয়া উচিত।

আজকে প্রথম পর্বে গীবতের পরিচয়,এর বিভিন্ন সুরত এবং ভয়াবহতা আলোচনা করা হলো।পরের পর্বে ইনশা'আল্লাহ কোথাও গীবত হলে কী করণীয়,নিজের দ্বারা গীবত হলে কী করণীয় ,এ থেকে বেঁচে থাকার উপায় আর কিছু জায়েজ গীবত নিয়ে ইনশা'আল্লাহ লিখবো।
ওয়া মা তাওফিকি ইল্লা বিল্লাহ

25/02/2023

উম্মুল মুমিনীন আয়েশা রা. বলেছেন-

كَانَ النبِيّ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ يَتَحَرّى صَوْمَ الِاثْنَيْنِ وَالخَمِيسِ.

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সোমবার ও বৃহস্পতিবারে রোযা রাখার ইহতিমাম করতেন। -জামে তিরমিযী, হাদীস ৭৪৫

হযরত আবু হুরায়রা রা. বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-

تُعْرَضُ الأَعْمَالُ يَوْمَ الِاثْنَيْنِ وَالخَمِيسِ، فَأُحِبّ أَنْ يُعْرَضَ عَمَلِي وَأَنَا صَائِمٌ.

সোমবার ও বৃহস্পতিবার আমলসমূহ পেশ করা হয়। তো আমার পছন্দ, আমার আমল যেন পেশ করা হয় আমি রোযাদার অবস্থায় । -জামে তিরমিযী, হাদীস ৭৪৭

শা'বান মাস চলছে,এই মাসে নবীজি ﷺ সবচেয়ে বেশি নফল রোজা রাখতেন।তো আমরা সুন্নাহ হিসেবে এবং রমাদানের প্রস্তুতি হিসেবে এই মাসের সোমবার এবং বৃহস্পতিবারের দিনগুলোতে এই রোজাগুলো রাখতে পারি ইনশা'আল্লাহ।

Address

Tangail

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Saalihat-صالحة posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share