02/08/2026
শাইখ মুহাম্মদ ইবনু সালিহ আল-উসাইমীন (رَحِمَهُ اللَّهُ) এই হাদীসের ওপর “বুলূগুল মারাম”-এর ব্যাখ্যায় একটি স্বতন্ত্র দরস দিয়েছেন। তাঁর ব্যাখ্যাটি “ফাতহু যিল-জালালি ওয়াল-ইকরাম” গ্রন্থেও অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
তাঁর ব্যাখ্যার মূল বক্তব্য হলো—মানুষ ভুল-ত্রুটি থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত নয়। তাই বান্দার মর্যাদা এই নয় যে সে কখনো ভুল করবে না; বরং সে ভুল করার পর আল্লাহর কাছে ফিরে আসবে এবং তাওবা করবে।
অর্থাৎ, কোনো ব্যক্তি গুনাহ করে ফেললে তার জন্য সঠিক পথ হলো গুনাহের ওপর অবিচল না থেকে দ্রুত আল্লাহর দিকে ফিরে আসা। এই কারণে হাদীসে “التوابون” (আত-তাওয়াবূন) বলা হয়েছে—অর্থাৎ যারা বারবার তাওবা করে।
এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো: তাওবা মানে শুধু মুখে “আস্তাগফিরুল্লাহ” বলা নয়; বরং গুনাহ থেকে ফিরে আসা এবং আল্লাহর আনুগত্যের দিকে প্রত্যাবর্তন করা।
কিতাব: ফাতহু যিল-জালালি ওয়াল-ইকরাম শরহু বুলূগুল মারাম।
খণ্ড: ৬, পৃষ্ঠা: ৩৪৬–৩৪৮
শাইখ আবদুল আজীয ইবনু বায (رَحِمَهُ اللَّهُ)-কে এই হাদীস সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন:
نعم، كل بني آدم خطَّاء، من صفاته الخطأ، لكن إذا تاب تاب الله عليه.
বাংলা অর্থ: “হ্যাঁ, আদম সন্তানের প্রত্যেকেই ভুলকারী। ভুল করা মানুষের বৈশিষ্ট্যের অন্তর্ভুক্ত। কিন্তু সে যখন তাওবা করে, তখন আল্লাহ তার তাওবা কবুল করেন।”
তিনি বলেন, তাওবার শর্ত হলো—
- গুনাহের জন্য অনুতপ্ত হওয়া।
- গুনাহ পরিত্যাগ করা।
- পুনরায় তাতে ফিরে না যাওয়ার দৃঢ় সংকল্প করা।
- আর যদি গুনাহের সঙ্গে মানুষের অধিকার জড়িত থাকে, তাহলে সেই অধিকার আদায় করতে হবে অথবা অধিকারীর কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।
-
— মাজমূ‘ ফাতাওয়া ওয়া মাকালাতুশ শাইখ ইবনু বায, ২৮/৪২৩, ২৮/৪৩২।