11/07/2021
জিলহজ মাসের আর মাত্র এক দিন বাকি । এটি রামাদান-এর মত পরিপূর্ণ একটি মাস নয়। খুবই সংক্ষিপ্ত ও দ্রুত অতিবাহিত একটি সময়। অবহেলা ও শৈথিল্যের কোনো সুযোগ নেই। রামাদান-এর মতো এ দিনগুলোতে শয়তানকে শৃঙ্খলে আবদ্ধও রাখা হয়না। এ কারণে এই লক্ষ্য ও প্রতিযোগিতা বেশি কঠিন। একই কারণে এই পথের পথিকও সংখ্যায় অনেক কম ও নগন্য। কিন্তু এই ত্যাগ ও পরিশ্রমের সাওয়াব অনেক মহান, এর পুরস্কার অধিক মূল্যবান।
অধিকাংশ মানুষই জিলহজের মাসের প্রথম দশদিন সম্পর্কে বেখবর। এ দিনগুলোতে তাহাজ্জুদ আদায় করা হয়না, কুরআন পাঠের প্রতিযোগিতাও তেমনিভাবে হয়না, যেমনটি রামাদানে করা হয়। কেননা, রামাদান-এর মত ইবাদাত-এর উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা এ মাসে তেমন দেয়া হয়না।
অথচ মহান আল্লাহ এই দিনগুলোর সম্মান ও মাহাত্ম বৃদ্ধি করে দিয়েছেন, শপথ করেছেন স্বয়ং সেসব রাত্রিগুলোর নামে।
আল্লাহ তা’আলা বলেন: “কসম ভোরবেলার। কসম দশ রাতের।” [সূরা ফাজর : ১-২]
ইবনে কাসীর রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন: এই আয়াতে 'কসম দশ রাতের’ বলে যিলহজের প্রথম দশকের প্রতিই ইঙ্গিত করা হয়েছে।
নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, 'মহান আল্লাহর কাছে বছরের অন্যান্য দিনে কৃত উত্তম আমল ততটা প্রিয় নয়, যতটা প্রিয় আইয়্যামে আশর তথা জিলহজ মাসের প্রথম দশটি দিনের নেক আমল। [সহিহ বুখারী- ৯৬৯]
শয়তানকে পরাজিত করার, আপনার ঈমান ও তাকওয়ার যে ক্ষতিসাধন সে সারাবছর করেছে, তার প্রতিশোধ নেয়ার এটাই অন্যতম বড় সুযোগ।
হে দুঃসাহসী বীর ! এ দিনগুলো আপনার।
------------------------
বই : জিলহজের উপহার
লেখক : ড. খালিদ আবু শাদি
[কিঞ্চিৎ সংযুক্ত]