12/04/2023
1.বৈশাখ মাসের মাহাত্ম্য ??
2.বৈশাখ মাসে প্রাতঃকালীন সময় স্নান করলে জীবাত্মারদের কি কি শুভ গতি হয় ??
3.বৈশাখ মাসে কি কি দান করতে হয় ও দান করলে কি শুভ গতি হয় জীবাত্মাদের.??
4.বৈশাখ মাসের শালিগ্রাম পুজো ও তুলসী জলদানের বিশেষ মাহাত্ম্য কি ??
5.তুলসী জলদান কিভাবে করতে হয় কখন করতে হয় ও তুলসীপ্রদক্ষিণ ও তুলসীজল দান করার সময় কোন মন্ত্র উচ্চারণ করতে হয় ??
6.শালগ্রাম শিলা পূজা কারা কারা করতে পারবেনা ?? শালিগ্রাম পূজা অর্চনা করতে গেলে কী তাঁকে ব্রাহ্মণ হতে হবে ??
7.মেয়েরা কি শালিগ্রাম বা গোবর্ধন শিলার পূজা করতে পারবে ??
8.পরম বৈষ্ণব শিরোমনি দেবাদিদেব বাবা ভোলেনাথ মহারাজ তার পুত্র কার্তিকের মাধ্যমে তুলসীপত্র গুন ও মাহাত্ম্যর ব্যাপারে কি জানিয়েছে ??
9.যারা আমিষভোজী তারা কি তুলসী জলদান করতে পারবে ??
1.✔️ স্কন্দপুরাণ, শ্রীবিষ্ণু খন্ডে, 1ম অধ্যায়, বৈশাখ মাহাত্মর ব্যাপারে উল্লেখ করা আছে যে,{ এই মাসে দান, যজ্ঞ ব্রত, স্নান করলে সর্বোপাপ বিনষ্ট হয়. ধর্ম, যজ্ঞ ও ক্রিয়াদিতে এই বৈশাখ মাস সমূহের শাষ }.
কার্তিক মাস, মাঘ মাস ও বৈশাখ মাস সমুহের মধ্যে ইহার শ্রেষ্ঠ. কিন্তু এই মাষক্রয়ের মধ্যে আবার বৈশাখ মাস প্রধান. জননী যেমন স্ব স্ব সন্তান গণের ইষ্ট প্রদান করেন, এই বৈশাখ মাসও তদ্রূপ নিখিল প্রাণের শুভদায়ক.
2.✔️ স্কন্দপুরাণে উল্লেখ করা হয়েছে যে,
{ বৈশাখ মাসে কেউ যদি প্রাতঃস্নান করার জন্য এক পাদ নিক্ষেপ করে( মানে এক স্টেপ সামনে দিকে এগিয়ে যায় প্রাতঃস্নান করার জন্য) তাহলে 10000 অশ্বমেধ যজ্ঞের ফল লাভ হয়, এবং কেউ যদি অতিরিক্ত গরিবও হন, তিনি যদি পুষ্পর দ্বারা শ্রীহরির অর্চনা করেন এই বৈশাখ মাসে তাহলে তিনি অখিল পাতক থেকে মুক্ত হয়ে তার শত পিতৃকুল কে পরিত্রান(মুক্তি)করতে তিনি সমর্থ(সফল) হন.
বৈশাখ মাস এতোই মাহাত্ম্য আমরা পুরান থেকে জানতে পারি যে অকল্পনীয় পুণ্যফল দান করে.
নারদ মুনি উল্লেখ করেছিল অম্বরিশ মহারাজের কাছে,{ হে অম্বরিশ, যে ব্যক্তি বৈশাখ মাসে নিয়মিত হয়ে প্রতিদিন প্রাতঃকালে স্নান করেন মহাপুণ্য লভার্থে, তাদের দর্শন করো. আনন্দপুরে(তীর্থ বিশেষ) কটি বর্ষ বাস করলে যে ফল লাভ হয়, বৈশাখ একবার প্রাতঃস্নান দ্বারা সেই লাভ করা যায়. যথানিয়মে বৈশাখ প্রাতঃস্নান করলে পাতকের পাপ ক্ষয় হয়.
স্কন্দপুরাণে বর্ণনা করা আছে যে,
{ কুতুবুদ্ধি জীবাত্মাও যদি বৈশাখ মাসে মনে মনে প্রাতঃস্নান সংকল্প করে, তারও শত যজ্ঞের ফল লাভ হয়ে থাকে এতে সন্দেহ নাই }.
স্কন্দপুরাণে উল্লেখ্য আছে,{ বৈশাখ মাসে কোন ধনহীন ব্যক্তি যদি কেবলমাত্র পুষ্পধারা শ্রীহরিকে অর্চনা করেন তাহলে অখিল পাতক হতে মুক্ত হয়ে তিনি শতসংখ্যা পিতৃকুল পরিত্রাণের সমর্থ হয় }.
3.✔️বৈশাখ মাসে তিল, ঘি শ্রীহরি প্রীতিবিধানার্থে দান দান করলে কোটি জন্মজড়িত পাপের ক্ষয় হয়.
একজন শুদ্ধ সাত্ত্বিক ব্রাহ্মণ ও বৈষ্ণব জনকে তিল, জল, স্বর্ণ, অন্ন, বস্ত্র, পাদুকা, ছত্র দান করতে হয় নিজের সামর্থ্য হিসাবে.
বরাহ--পৃথিবী সংবাদ, পদ্মপূরাণে বর্ণনা করা আছে { যারা বৈশাখ মাসে মধুর দ্রব্য প্রধান অহরণীয়, যবান্ন, তিল, বরিপত্র, ছত্র, বস্ত্র ও পাদুকা শুদ্ধ সাত্ত্বিক ব্রাহ্মণ ও শুদ্ধ বৈষ্ণব কে প্রধান করলে, সেই দান দ্বারা শ্রীহরি প্রীত থাকেন, এতে যে পূর্ণ সঞ্চিত হয়, শতকোটি বর্ষীয় তা গণনা করে শেষ করা যায় না.
4.✔️ পদ্মপূরাণে বৈশাখ মাসে উল্লেখ করা আছে যে{ যে ব্যক্তি প্রতিদিন তুলসী দ্বারা শ্রীহরির অর্চনা করেন, তাকে আর পুনর্জন্ম গ্রহণ করতে হয় না. যিনি প্রতিদিন শালগ্রাম শিলা স্নান, তার চরণামৃত গ্রহণ করেন তিনি মহাপবিত্র হন এবং পরবর্তীকালে তিনি ভগবানের ধামে গমন করেন.
5.✔️তুলসী জল দান করতে হবে প্রাতঃকালীন পূজার সময় সন্ধ্যায় নয়, সমবেত ভক্ত মন্ডল অন্তত চারবার তুলসী দেবী কে প্রদক্ষিণ করতে হয়, এবং প্রত্যেক প্রদক্ষিণ করার পর কয়েক ফোঁটা জল তার মূলদেশে নিবেদন করতে হয়.
➡️তুলসী প্রদক্ষিণকালে তুলসী প্রদক্ষিণ মন্ত্র উচ্চারণ করতে হয় মন্ত্র টি হল:-
{🙏যানি কানি চ পাপানি ব্রহ্মহত্যাদিকানি চ
তানি তানি প্রণশ্যন্তি প্রদক্ষিণ পদে পদে🙏}
মন্ত্রের মানে👇👇👇
{🙏যখন মানুষ শ্রীমতিতুলসীদেবী কে প্রদক্ষিণ করতে থাকে, তখন প্রতি পদক্ষেপে তার কৃত সকল পাপ কর্ম এমনকি ব্রহ্মহত্যার পাপও বিনষ্ট হয়ে যায়🙏}.
🌴🌴🌴 তুলসী জল দান করার জন্য বাহাতে পঞ্চপাত্র ধারণ করে তা থেকে ডান হাত দিয়ে শ্রীমতি তুলসী দেবী কে জলসিঞ্চন করতে করতে নিচের মন্ত্রটি উচ্চারণ করতে হয়, মন্ত্রটি হল
👇👇
{🙏 ওঁ গোবিন্দবল্লভ্যাং দেবিং ভক্তচৈতন্যকারিনিম
স্নাপয়ামি জগদ্ধাত্রী কৃষ্ণভক্তিপ্রদায়িনীম🙏}
👇👇
{🙏শ্রীগোবিন্দ প্রিয়তমা জগৎজননী সকল ভক্তবৃন্দের চেতনা প্রদায়িনী এবং শ্রীকৃষ্ণ ভক্তিপ্রদায়িনী শ্রীমতি তুলসীদেবী, আপনাকে আমি স্নানসেবা নিবেদন করছি🙏}
6.✔️যারা আমিষভোজী, যারা চারটি নিয়ম পালন করতে অসমর্থ, ও যারা ব্রাহ্মণ দীক্ষিত নন তারা শালিগ্রাম পুজো করতে পারবে না.
শালিগ্রাম শিলা পূজা অর্চন করতে গেলেই ব্রাহ্মণ হতে হবে এমন কোন কথা নয়, শ্রীহরিভক্তিবিলাস গ্রন্থে উল্লেখ করা আছে যে,
কোনো জীব ব্রাহ্মণ হোক বা ক্ষত্রিয় হোক বা বৈশ্য এবং শূদ্র হোক না কেন, কিন্তু তিনি যদি হরিভক্তি পরায়ন হন তাহলে তিনি শালগ্রাম শিলা অর্চন করার যোগ্য, কিন্তু শালিগ্রাম শিলা পূজা অর্চন করতে গেলে একজনকে পুরোপুরি প্রসাদভোজী হতে হবে, রোজ নিয়মিত 16 মারা হরে কৃষ্ণ মহামন্ত্র জপ করতে হবে.
7.✔️কলিকালে বৈষ্ণব দীক্ষায় দীক্ষিত হয়েছে যে কেউ ভক্তি নিষ্ঠাপরায়ন হয়ে, শালিগ্রাম বা গোবর্ধন শিলা পূজা করতে পারে.আমিষ আহার, নেশাভাং ইত্যাদি যারা করে তারা আদৌ পূজা করার অধিকারী নয়. বহু উপাচারে, গীতবাদ্য সহকারে, অন্য-ব্যঞ্জনা দিয়ে রান্না করে নৈবেদ্য যোগে শালগ্রাম সেবা স্বীকার্য.নিষ্ঠাবতী মায়েরাও প্রতিদিন আপন আশ্রম শালিগ্রাম সেবা অবশ্যই করতে পারেন. তবে বড় বড় মন্দিরে যেখানে সন্ন্যাসী বা ব্রহ্মচারীরা নিয়মিত পূজা করেন, সেখানে সৌজন্য বশে মহিলারা " আমরাও যোগ্য " বলে দাবী না করা কর্তব্য. এটি আচার্যদের শিক্ষা.
8.✔️পরম বৈষ্ণব শিরোমণি দেবাদিদেব বাবা ভোলেনাথ মহারাজ তারপুত্র কার্তিকে মাধ্যমে তুলসীপত্র গুনা ব্যাপারে যে উল্লেখ করেছে সেটি হল:-
{🙏সর্বেভ্যঃ পত্র পুষ্পেভ্যঃ সত্তমা তুলসী শিবা,
সর্বকামপ্রদা সুদ্ধা বৈষ্ণবী বিষ্ণুসুপ্রিয়া🙏}
অর্থাৎ:-
{🙏 সমস্ত পত্র ও পুষ্পের মধ্যে তুলসী হচ্ছেন শ্রেষ্ঠ, তুলসী সর্বকামপ্রধা, মঙ্গলময়, শ্রদ্ধা, মুখ্য, বৈষ্ণবী, বিষ্ণু প্র, এবং সর্বলোকে পরম শুভ🙏}
✔️ দেবাদিদেব বাবা ভোলেনাথ মহারাজ তারপুত্র কার্তিকে মাধ্যমে আবার জানিয়েছে যে,
{🙏হে কার্তিক, যে ব্যক্তি ভক্তিসহকারে প্রতিদিন তুলসী মঞ্জুরি দিয়ে শ্রীহরির আরাধনা করেন এমনকি আমিও তার পণ্য বর্ণনা করতে অক্ষম. যেখানেই শ্রীতুলসি বন আছে শ্রীগোবিন্দ সেখানে বাসস্থান করেন, আর গোবিন্দ সেবা উদ্দেশ্যে লক্ষ্মী, ব্রহ্মা প্রভৃতি সমস্ত দেবতা সেখানেই বাসস্থান করেন. মূলত শ্রীকৃষ্ণ জগতে আবদ্ধ জীবকে তার সেবা করার সুযোগ প্রদান করার জন্য সেই তুলসীরূপে আবির্ভূত হয়েছেন এবং তুলসীবৃক্ষকে সর্বপেক্ষা প্রিয়রূপে গ্রহণ করেছেন.}.
9.✔️হ্যাঁ, সকল জীবাত্মা সে আমিষভোজী হোক কিবা নিরামিষভোজী হোক সবাই তুলসীতে জলদান করতে পারবে।
----------------------------------------------------------------------------
সদা সর্বদা শ্রী শ্রী রাধা ও কৃষ্ণের পাদপদ্মের কথা স্মরণ করুন, তাহলে শ্রীকৃষ্ণের দ্বারা আপনার জন্য বরাদ্দকৃত কার্য সম্পাদন করতে কোনও অসুবিধা অনুভব করতে হবে না।
জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে শ্রীকৃষ্ণের কৃপার প্রতি অগাধ বিশ্বাস ও ভরসা রাখতে হবে।
শ্রীকৃষ্ণের পবিত্র নামটিতে অসাধারণ আধ্যাত্মিক শক্তি রয়েছে কারণ শ্রীকৃষ্ণের নাম স্বয়ং শ্রীকৃষ্ণের থেকে আলাদা নয় ....
ঐকান্তিক ভালবাসা এবং নিষ্ঠার সাথে এই নামগুলি জপ করুন তবেই আপনি চিণ্ময় আনন্দ অনুভব করবেন:
হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে ...(১০৮ বার)