গীতা সংঘ-রানীগঞ্জ

গীতা সংঘ-রানীগঞ্জ Birthday-15 August 2008

সরস্বতী পূজার পূর্বে কুল/বরই ভক্ষণ নিষেধের বিশ্বাস:শাস্ত্রীয়, সমাজতাত্ত্বিক ও বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণভিত্তিক আর্টিক্যাল-১. বা...
17/01/2026

সরস্বতী পূজার পূর্বে কুল/বরই ভক্ষণ নিষেধের বিশ্বাস:
শাস্ত্রীয়, সমাজতাত্ত্বিক ও বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণভিত্তিক আর্টিক্যাল-

১.
বাংলার হিন্দু সমাজে সরস্বতী পূজার আগে কুল বা বরই না খাওয়ার একটি সুপ্রচলিত বিশ্বাস রয়েছে, বিশেষত শিক্ষার্থীদের মধ্যে। প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, পূজার আগে এই ফল ভক্ষণ করলে বিদ্যা ও বুদ্ধি নষ্ট হয়। এই বিশ্বাসটির শাস্ত্রীয় ভিত্তি, সামাজিক উৎপত্তি এবং বৈজ্ঞানিক গ্রহণযোগ্যতা বিশ্লেষণ করা হয়েছে। প্রথমত, এই বিশ্বাসের কোনো প্রত্যক্ষ শাস্ত্রীয় নির্দেশনা নেই এবং আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানেও এর কোনো মেধানাশক প্রভাব প্রমাণিত হয়নি। বরং এটি একটি লোকাচারভিত্তিক সামাজিক সংস্কার, যা সংযম ও আত্মনিয়ন্ত্রণের প্রতীকী অনুশীলন হিসেবে গড়ে উঠেছে। তাই, উক্ত বিশ্বাসটিকে কুসংস্কার হিসেবে পরিত্যাগ না করে ইতিবাচক সংস্কার হিসেবে পুনর্ব্যাখ্যা করা সম্ভব।

২.
সরস্বতী পূজা বাঙালি হিন্দু সমাজে বিদ্যা, বুদ্ধি ও সংস্কৃতির প্রতীকী উৎসব। এই পূজাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সামাজিক আচরণ ও বিধিনিষেধ গড়ে উঠেছে, যার অনেকগুলো শাস্ত্রীয় হলেও কিছু নিছক লোকবিশ্বাসের ফল। সরস্বতী পূজার আগে কুল বা বরই না খাওয়ার বিশ্বাসটি এমনই একটি বহুল প্রচলিত ধারণা। আর্টিক্যালটির মূল উদ্দেশ্য হলো- এই বিশ্বাসটির উৎস ও যৌক্তিকতা নির্ণয় করা এবং শাস্ত্র, সমাজ ও বিজ্ঞানের আলোকে একটি ভারসাম্যপূর্ণ মূল্যায়ন উপস্থাপন করা।

৩.
এই আর্টিক্যালটির প্রধান উদ্দেশ্যসমূহ হলো-

ক) সরস্বতী পূজার আগে কুল/বরই ভক্ষণ নিষেধের শাস্ত্রীয় ভিত্তি অনুসন্ধান।
খ) উক্ত বিশ্বাসের সামাজিক ও লোকাচারগত উৎপত্তি বিশ্লেষণ।
গ) আধুনিক পুষ্টিবিজ্ঞান ও চিকিৎসাবিজ্ঞানের আলোকে এর বৈজ্ঞানিক সত্যতা যাচাই।
ঘ) বিশ্বাসটিকে ইতিবাচক সাংস্কৃতিক ব্যাখ্যার মাধ্যমে পুনর্মূল্যায়ন করা।

৪.
এই আর্টিক্যালে গুণগত পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে :

ক) প্রাচীন শাস্ত্র (বেদ, স্মৃতি, পুরাণ) বিষয়ক গ্রন্থ পর্যালোচনা।
খ) সমাজতাত্ত্বিক লোকবিশ্বাস বিশ্লেষণ।
গ) আধুনিক পুষ্টিবিজ্ঞান ও চিকিৎসাবিজ্ঞানের গবেষণা প্রতিবেদন পর্যালোচনা।
ঘ) তুলনামূলক বিশ্লেষণ পদ্ধতির মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ।

৫.
সরস্বতী দেবীকে বিদ্যা ও বুদ্ধির অধিষ্ঠাত্রী হিসেবে বেদ ও স্মৃতিশাস্ত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

ক) "বাগর্থবুদ্ধিসংযুক্তা বিদ্যা যস্যা সদা স্থিতা।
সা দেবী সরস্বতী প্রোক্তা সর্ববিদ্যা অধিষ্ঠিতা"॥ (মনুস্মৃতি ২.৭৭)
অনুবাদ : যাঁর মধ্যে বাক্‌, অর্থ ও বুদ্ধির সংযোগ,
যাঁর মধ্যে বিদ্যা চিরস্থায়ী, তিনিই সরস্বতী, সমস্ত বিদ্যার অধিষ্ঠাত্রী।

খ) "শ্বেতপদ্মাসনা দেবী শ্বেতবস্ত্রানুলেপনা।
ব্রহ্মপত্নী সরস্বতী বিদ্যারূপা সনাতনী"॥ (ব্রহ্মপুরাণ)
অনুবাদ : শ্বেতপদ্মে আসীনা, শ্বেতবস্ত্রধারিণী,
ব্রহ্মার পত্নী সরস্বতী, তিনি সনাতন বিদ্যার স্বরূপ।

গ) "সরস্বতী মহাভাগে বিদ্যাবুদ্ধিপ্রদায়িনি"।। মার্কণ্ডেয় পুরাণ (দেবীমাহাত্ম্যম্-বৈষ্ণবী শক্তি রূপে)
অনুবাদ : হে মহাভাগা সরস্বতী, আপনি বিদ্যা ও বুদ্ধি প্রদানকারিণী।

ঘ) "যয়া বিনা জগৎ সর্বং মূকবৎ প্রতিভাসতে।
সা দেবী সরস্বতী প্রোক্তা নমামি মস্তকে স্থিতা"॥(স্কন্দপুরাণ)

অনুবাদ : যাঁকে ছাড়া জগৎ নির্বাক ও অচেতন,
তিনিই সরস্বতী- আমি তাঁকে প্রণাম করি।

ঙ) "সরস্বতী নমস্তুভ্যং বরদে কামরূপিণি।
বিদ্যারম্ভং করিষ্যামি সিদ্ধির্ভবতু মে সদা"॥ (সরস্বতী স্তোত্র)
অনুবাদ : হে বরদায়িনী সরস্বতী,আমি বিদ্যারম্ভ করছি-
আমাকে সর্বদা সাফল্য দিন।

অর্থাৎ, বিশ্লেষণে দেখছি, বেদ, পুরাণ বা স্মৃতিশাস্ত্রে কোথাও সরস্বতী পূজার আগে কুল বা বরই ভক্ষণ নিষিদ্ধ করার কোনো নির্দেশ নেই। শাস্ত্র কেবল সাত্ত্বিক আহার, শুচিতা ও সংযমের কথা বলে। অতএব, উক্ত নিষেধাজ্ঞা শাস্ত্রীয় নয়।

৬.
গ্রামীণ বাংলার সমাজব্যবস্থায় খাদ্যাভ্যাস ও ধর্মীয় আচরণ প্রায়শই নৈতিক শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত। কুল বা বরই সাধারণত টক ও লবণ-মরিচযুক্ত হওয়ায় তা রুচি ও লোভ উদ্রেককারী খাদ্য হিসেবে বিবেচিত। ফলে পূজার আগে সংযম শিক্ষা দিতে গিয়ে এই ফল পরিহারের প্রথা গড়ে ওঠে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই নৈতিক শিক্ষাটি ভয়ভিত্তিক ভাষায় রূপান্তরিত হয়ে “বিদ্যা নষ্ট হবে”- এই বিশ্বাসে পরিণত হয়।

৭.
বৈজ্ঞানিক ও চিকিৎসা বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ;
আধুনিক পুষ্টিবিজ্ঞান অনুযায়ী কুল বা বরই হল:-

ক) ভিটামিন C সমৃদ্ধ।
খ) অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ধারণ করে।
গ) স্নায়ুতন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যকারিতায় সহায়ক।
ঙ) Indian Council of Medical Research (ICMR): ভিটামিন C মস্তিষ্কের নিউরোট্রান্সমিটার কার্যক্রমে সহায়ক।
চ) World Health Organization (WHO): মৌসুমি ফল খাওয়ার সঙ্গে জ্ঞানীয় ক্ষমতা হ্রাসের কোনো সম্পর্ক নেই।
ছ) Journal of Nutrition and Neuroscience: কোনো নির্দিষ্ট ফল মেধা বা স্মৃতিশক্তি নষ্ট করে- এমন প্রমাণ অনুপস্থিত।
ঝ) তবে অতিরিক্ত টক ফল শীতের শেষে গ্যাস্ট্রিক সমস্যা বা সর্দি সৃষ্টি করতে পারে, যা সাময়িক শারীরিক অস্বস্তি তৈরি করে- কিন্তু এটি মেধাগত ক্ষতি নয়।

অতএব, কুল/বরই ভক্ষণ নিষেধের বিশ্বাসটি শাস্ত্রীয় বা বৈজ্ঞানিক নয়, বরং এটি একটি সামাজিক ও নৈতিক সংস্কার। এই সংস্কার শিক্ষার্থীদের সংযম, নিয়ন্ত্রণ ও পূজার প্রতি মানসিক প্রস্তুতির শিক্ষা দেয়। সমস্যাটি শুরু হয় যখন এই সংস্কারকে ভীতিকর কুসংস্কারে রুপ নেয়।

৮.
এই আর্টিক্যালের ভিত্তিতে বলা যায়-

ক) সরস্বতী পূজার আগে কুল/বরই না খাওয়ার কোনো শাস্ত্রীয় নির্দেশ নেই।
খ) আধুনিক বিজ্ঞানে এর কোনো মেধানাশক প্রভাব প্রমাণিত হয়নি।
গ) এটি একটি লোকাচারভিত্তিক সামাজিক সংস্কার।
অতএব, এই বিশ্বাসটিকে কুসংস্কার হিসেবে পরিত্যাগ না করে সংযম ও আত্মশুদ্ধির প্রতীকী অনুশীলন হিসেবে গ্রহণ করাই যুক্তিসংগত।

৯.
তথ্যসূত্র :

ক) Vedas and Saraswati Sukta (Rig Veda)
Manusmriti & Smriti Literature.
খ) Indian Council of Medical Research (ICMR): Nutrition Guidelines.
গ) World Health Organization (WHO): Fruit and Nutrition Reports.
ঘ) Journal of Nutrition and Neuroscience, Brain Health Studies.
---------------------------------------
🌺 গবেষণা আর্টিক্যাল প্রস্তুত : 🌺
✒️এসভিএস সাস্ট শাস্ত্র গবেষণা টিম

06/02/2025

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরের রানীগঞ্জ জগন্নাথ জিউর আখড়ায় সনাতন স্টুডেন্টস্ ফোরামের আয়োজনে ১১তম বারের মত সরস্বতী প....

30/01/2025
ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উপলক্ষে গীতা পাঠ 🙏🙏🙏
27/08/2024

ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উপলক্ষে গীতা পাঠ 🙏🙏🙏

সমগ্র মহাভারত জুড়ে এতএত হাই প্রোফাইলের চরিত্র থাকলেও সকলের মধ্যমণি ঠিক যেনো সেই শ্রীকৃষ্ণই। এমন সূক্ষ্ম স্ট্র্যাটেজিস্ট ...
26/08/2024

সমগ্র মহাভারত জুড়ে এতএত হাই প্রোফাইলের চরিত্র থাকলেও সকলের মধ্যমণি ঠিক যেনো সেই শ্রীকৃষ্ণই। এমন সূক্ষ্ম স্ট্র্যাটেজিস্ট মহাভারত তো বটেই, সমগ্র পুরাণ-উপনিষদেও বিরল।
ধর্ম রক্ষার্থে তাঁর মাস্টারপ্ল্যান - যেই প্ল্যান দিয়ে প্রায় হারতে থাকা পান্ডবদের কৌরবদের থাবা থেকে বাঁচিয়ে কুরুক্ষেত্র জিতিয়ে এনেছেন, সেই মাস্টারপ্ল্যানই শ্রীকৃষ্ণকে নারায়ণের অন্যান্য অবতার থেকে করে দিয়েছে ভিন্ন।

নারায়ণের অন্যান্য অবতার বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সকলেরই একটা টার্গেট ফিক্সড ছিল - সেটা হল সততার পথে অচল থাকা।

যেমন শ্রীরামচন্দ্র। তাঁর আগাগোড়া সত্য দিয়ে মোড়ানো। এতটাই দৃঢ়তা যে, বাবার প্রতিজ্ঞার সত্যতা রাখতে রাজ্য ফেলে জঙ্গলে চলে গেলেন। কিংবা রাজ্যশাসনে জনগণকে তুষ্ট রাখতে স্ত্রীকে করলেন বনবাসী। পুত্র হিসাবে হোক কিংবা রাজা হিসাবে - সবসময়ই ইস্পাতের মত দৃঢ়তা নিয়ে থেকেছেন, আবেগকে প্রশ্রয় দেননি।

একই বিষয় দেখা যায় পরশুরামের ক্ষেত্রেও। মায়ের চরিত্রস্ফলন হলে কুঠার দিয়ে মাতৃহত্যা করতেও দ্বিধাবোধ করেননি, যদিও পরে বাবার কাছে অনুরোধ করে মায়ের জীবন ফিরিয়েছিলেন, সপ্তনদীতে স্নান করে পাপ ধুয়েছিলেন - কিন্তু সততা মানে যে সততা, রক্তের সম্পর্কও যে সেখানে মূল্যহীন - সেটা প্রুভ করেই ছেড়েছেন মায়ের গলায় কুঠার চালিয়ে।

কিন্তু ঠিক এই জায়গায় শ্রীকৃষ্ণ ব্যতিক্রম।

তিনি ইস্পাতের মত দৃঢ় অনমনীয়, আবার লতার মতই বাঁকানো, জটিল, কৌশলী। ধর্ম রক্ষার্থে দ্বাপরযুগে যে আঙুল বাঁকা না করে উপায় নেই, সেই টেকনিকটা সকলকে শিখিয়েছেন তিনি।
অর্থাৎ ধর্ম রক্ষার্থে সূক্ষ্ম অধর্মও সত্য। গ্রেটার গুড এর জন্য লিস্ট পাপ করতে দোষের কিছু নেই।

যেমন ভীষ্মবধ।

মহাভারতের বেস ক্যারেকটারদের মধ্যে অন্যতম কুরুবংশের অতন্দ্র প্রহরী ভীষ্ম। নিজের প্রতিজ্ঞা রক্ষার্থে সত্যের পথ ছেড়ে অসত্যের পথে ছিলেন শরশয্যার আগপর্যন্ত। সেই ভীষ্ম কে হারানো পঞ্চপান্ডবের পক্ষে অসম্ভবই ছিলো বলা যায়।

কিন্তু ভীষ্মের উইক পয়েন্ট ভালোই স্টাডি করেছিলেন গোবিন্দ। নারীদেহে আঘাত করা বীর ভীষ্মের পক্ষে ট্যাবু সেটা বুঝতে পেরে অর্জুনকে বলেছিলেন শিখন্ডীকে সামনে রেখে ক্রমাগত বাণ ছুড়তে।

বর্তমানে পুরুষ অথচ পূর্বজন্মে নারীরূপে জন্ম নেয়া শিখন্ডীকে না ভীষ্ম টার্গেট করতে পেরেছেন, না পেরেছেন অর্জুনের বাণ আটকাতে। ফলে রথ হতে পতন, অতঃপর শরশয্যা। কৌরবরা তাদের যুদ্ধজয়ের সবচে বড় ভিত্তিটা হারিয়ে ফেলেছিলো এভাবেই।

হারিয়ে দিয়েছিলেন শ্রীকৃষ্ণ।

কথা সিম্পল। তুমি যদি অধর্মের পক্ষে দাঁড়াও, তবে যতবড়ই ধার্মিক হও, পতন অনিবার্য।

দুর্জন বিদ্বান হলেও পরিত্যাজ্য।

পান্ডব কৌরবদের অস্ত্রগুরু দ্রৌণ। আজীবন অর্জুনকে ভালোবেসে গেছেন। কিন্তু সেই অর্জুনদের যখন আগাছার মত নিড়ানি দিয়ে কেটে রাস্তায় ছুঁড়ে ফেলা হলো, কূলবধূর শাড়ি টেনে নোংরা আনন্দে মাতলো পুরো সভা, তখন তিনি চুপ। ফলাফল 'অশ্বত্থামা হত, ইতি গজ' তে কাবু হলেন অস্ত্রগুরু। ধৃষ্টদ্যুম্নের খড়গ কৌরবদের আরেকটা স্তম্ভকে ভেঙেচুরে দিল। এবং ঠিক এখানেও কৌশলী শ্রীকৃষ্ণের অঙুলিহেলন।

কর্ণকে সেদিক থেকে বলা যায় ট্রাজিক হিরো। বন্ধুত্বের খাতিরে কৌরবদের সঙ্গী ছিলেন, ফলে হয়েছেন পাপের ভাগীও। দ্রৌপদীর বস্ত্রহরণ থেকে পান্ডবদের রাজ্যহরণ হয়ে অভিমন্যুর নির্মম হত্যা- সবখানে ছিলেন মোমের পুতুলের মত চুপ। বিরাট রাজার গরু চুরি, দূর্বাসাকে কুমন্ত্রণা দেয়া - সবখানে ইচ্ছায় হোক অনিচ্ছায় হোক, কর্ণ একপা এগিয়েই ছিলেন।

বন্ধুত্ব যে ধর্ম থেকে বড় নয়, বরং প্রশ্রয়ে বেড়ে উঠা বিষবৃক্ষের শাস্তি নিজেকেও পেতে হয় সেটা বুঝেছেন অর্জুনের তীর বুকে লাগার সাথেসাথেই। দাতাবীর কর্ণকে অবশ্য বিন্দুমাত্র অশ্রদ্ধা করেননি শ্রীকৃষ্ণ। কিন্তু বৃহত্তর স্বার্থে তাঁর মৃত্যুকে অবধারিত বলে স্বীকারও করেছেন।

প্রাগজ্যেতিষপুরের রাজা নারায়ণভক্ত ভগদত্তের বৈষ্ণব অস্ত্রকে গলায় ধারণ কিংবা অভিমন্যু বধের মূল কান্ডারি পরস্ত্রী চুরি করতে যাওয়া জয়দ্রথের নাটকীয় মৃত্যু - সবই মাধবেরই মাস্টারপ্ল্যানের অংশ। এবং সেই প্ল্যানের এন্ডিংটা হয়েছে কুরুক্ষেত্রের ময়দানে সর্বহারা দূর্যোধনের লুটিয়ে পড়ার মাধ্যমে।

দ্রৌপদী - স্বামীদের অযোগ্যতায় যাঁকে সভার মাঝে অপমানিত হতে হয়েছে। দুঃশাসনের চুলের মুঠি ধরে এনে সকলের সামনেই বিবস্ত্র করা, দূর্যোধন উরু দেখিয়ে বসার ইঙ্গিত কিংবা ভীষ্ম দ্রোণ কর্ণদের পাথরের মত নির্বাক ভূমিকা পালন, সবকিছুরই হিসাবনিকাশ চুকে গেছে কুরুক্ষেত্রের প্রান্তরে এসে।

নারীর অপমান ক্ষমার অযোগ্য। সুতরাং এই পাপের শাস্তি পাপীরা পাবেই, সেটা যে প্রসেসেই হোক না কেন। ❤️

ঠিক এই কারণেই ভীম বেআইনি ভাবে দূর্যোধনের উরুর নীচে আঘাত করলেও শ্রীকৃষ্ণ বাঁধা দেননি।
গদাযুদ্ধে নাভির নিচে আঘাত নিয়ম বহির্ভূত হলেও সেই নিয়মের থোরাই তোয়াক্কা করে দ্রৌপদীর অপমানের প্রতিশোধ নিতে ভীমকে সাজেশন দিয়েছেন শ্রীকৃষ্ণ।

ঠিক এই জায়গাটাতেই তিনি আলাদা।

ধর্ম রক্ষার্থে বাকিরা যেখানে সীমাবদ্ধ। শ্রীকৃষ্ণ সেখানে অসীম।
বাকি অবতার, যাঁরা ধর্ম ঠিক রাখতে ইস্পাতের মত অনমনীয় ছিলেন, শ্রীকৃষ্ণ সেখানে কৌশলী, লতার মত জটিল।

Right is right, and wrong is wrong, no matter what. And to make things right, go as further as possible even it's unacceptable, do as much as you can even it's unethical.

এথিকস ওরফে নীতি যদি রাইটনেস ওরফে সত্যের পথে এসে দাঁড়ায়, তবে সেই এথিকস ভয়াবহ। সে শুধু অধর্মকে আড়ালই করছেনা, বরং আশ্রয় প্রশ্রয় দিয়ে তরতরিয়ে বাড়িয়ে তুলছে। এহেন নীতি পরিত্যক্ত করাই শ্রীকৃষ্ণের শিক্ষা।

এথিকস জিনিসটাই এত ফ্লেক্সিবল যে, এটাকে যে পাত্রে রাখা হয় সে পাত্রের আকার ধারণ করে। আমাদের জাস্ট বেছে নিতে হবে আমরা কোন পাত্রে রেখে এই এথিকস পান করব। কৌরবদের পাত্র না পান্ডবদের। ঠিক এই জায়গাতেই শ্রীকৃষ্ণ এসেছেন। নৈতিকতাকে পান করেছেন সত্যের পাত্র দিয়ে।

ঠিক এজন্যই হয়ত বিশ্বের সর্ববৃহৎ মহাকাব্য এই মহাভারতের ভীষ্ম দ্রোণ অর্জুন যুধিষ্ঠির ভীম দূর্যোধন কর্ণ শকুনি অশ্বত্থামা কৃপাচার্য শল্য সাত্যকি অভিমন্যু ভগদত্ত জয়দ্রথ ধৃষ্টদ্যুম্ন দ্রুপদ দ্রৌপদী গান্ধারী বিদুর ধৃতরাষ্ট্রের মত অযুত নিযুত বাঘা বাঘা চরিত্রের মাঝেও সূর্য হয়ে জ্বলছেন শ্রীকৃষ্ণ।
তিনি ছাড়া মহাভারত অচল। ❤

শ্রীশ্রী জন্মাষ্টমীর শুভেচ্ছা সকলকে।

পরিশেষে মহাভারত থেকে একটা লাইন কোট করে যাই -
অহিংসা পরম ধর্ম,
ধর্ম হিংসা তথৈব চ....

And there goes everything....
শত্রুঘ্ন অর্পিত

26/05/2024

ক্যামেরায় গোবিন্দ সুত্রধর

"কৃষ্ণ প্রীতির জন্য ভাই,গীতা প্রচার করতে চাই।"গীতার জ্ঞান প্রচারক ভক্তদের প্রতি পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের প্রতিজ্ঞাঃপরম...
25/05/2024

"কৃষ্ণ প্রীতির জন্য ভাই,
গীতা প্রচার করতে চাই।"
গীতার জ্ঞান প্রচারক ভক্তদের প্রতি পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের প্রতিজ্ঞাঃ
পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বললেন,
"যিনি আমার ভক্তদের মধ্যে এই পরম গোপনীয় গীতাবাক্য উপদেশ করেন, তিনি অবশ্যই পরা ভক্তি লাভ করে নিঃসংশয়ে আমার কাছে ফিরে আসবেন।"
শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা ১৮/৬৮।

* শ্রীশ্রী জগন্নাথ দেবের প্রণাম মন্ত্র *নীলাচলনিবাসায় নিত্যায় পরমাত্মনে।বলভদ্র সুভদ্রাভ্যাং জগন্নাথায় তে নমঃ।। পরমাত্...
17/05/2024

* শ্রীশ্রী জগন্নাথ দেবের প্রণাম মন্ত্র *
নীলাচলনিবাসায় নিত্যায় পরমাত্মনে।
বলভদ্র সুভদ্রাভ্যাং জগন্নাথায় তে নমঃ।।

পরমাত্মা স্বরূপ যাঁরা নিত্যকাল নীলাচলে বসবাস করেন, সেই বলদেব, সুভদ্রা ও জগন্নাথদেবকে প্রণতি নিবেদন করি।

Address

Raniganj Bazar, Jagannathpur
Sunamganj
SYLHET

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when গীতা সংঘ-রানীগঞ্জ posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share