আলা হযরত সুন্নি সংঘ

আলা হযরত সুন্নি সংঘ Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from আলা হযরত সুন্নি সংঘ, Religious organisation, Tahirpur, Sunamganj.

"আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের মতাদর্শ ভিত্তিক দুনিয়া ও পরকালীন মুক্তির জন্য সামগ্রিক উন্নয়নই আমাদের লক্ষ্য"
-আলা হযরত সুন্নি সংঘ, তাহিরপুর, সুনামগঞ্জ। স্থাপিতঃ ১৪ই জানুয়ারি ২০২০ইং। অস্থায়ী কার্যালয়ঃ হলহলিয়া।

আলা হযরত সুন্নি সংঘে যোগদান করায় আপনাকে Ahssfamily'র পক্ষ থেকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা।🥀সদস্য পরিচিতি-নামঃ সবুজ আলমপ...
15/09/2026

আলা হযরত সুন্নি সংঘে যোগদান করায় আপনাকে Ahssfamily'র পক্ষ থেকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা।🥀

সদস্য পরিচিতি-
নামঃ সবুজ আলম
পিতাঃ জুলহাস মিয়া
যোগদানের তারিখ- ১২/০৯/২০২৬ইং
আইডি নং- AHSS228
ব্লাডগ্রুপঃ B+
ঠিকানাঃ লেদারবন্দ, তাহিরপুর,সুনামগঞ্জ।

মহান আল্লাহ তায়ালা আপনাকে দ্বীনের খেদমতে কবুল করুন-আমিন।🤲

10/09/2026

#নৌপথে_জশনে_জুলুছ
#তাহিরপুর_সুনামগঞ্জ 🤍

❏ ঈমাম আলা হযরত রহঃ এর জ্ঞানের সনদ লাভ 👇আ’লা হযরত (رحمة الله) প্রাথমিক উর্দ্দু, ফার্সী ভাষার কিতাবাদী অধ্যয়নের পর আরবী ভ...
07/09/2026

❏ ঈমাম আলা হযরত রহঃ এর জ্ঞানের সনদ লাভ 👇

আ’লা হযরত (رحمة الله) প্রাথমিক উর্দ্দু, ফার্সী ভাষার কিতাবাদী অধ্যয়নের পর আরবী ভাষায় ছরফ-নাহু এর কিতাব সমূহ মীর্যা গোলাম ক্কাদীর (رحمة الله) এর সান্নিধ্যে, অতঃপর নিজ পিতা হযরত শাহ্ নক্কী আলী খাঁন (رحمة الله) এর সান্নিধ্যে জ্ঞানকোষ সমূহের উপর বিদ্যা অর্জন করেন। মাত্র ১৪ বৎসর বয়সেই সমাপ্তী সনদপত্র লাভ করেন। তার মধ্যে ছিলঃ

(১) ইলমে কুরআন (২) ইলমে তাফছীর (৩) ইলমে হাদীছ (৪) উসূলে হাদীছ (৫) হানাফী ফিকহের কিতাবাদী (৬) শাফেঈ ফিক্হের কিতাবাদী (৭) মালেকী ফিকহের কিতাবাদী (৮) হাম্বলী ফিকহের কিতাবাদী (৯) উসূলে ফিক্বহ (১০) জাদাল-ই মাযহাব (১১) ইলমে আকাইদ ও কালাম (১২) ইলমে নাহভ (১৩) ইলমে ছরফ (১৪) ইলমে মা’আনী (১৫) ইলমে বয়ান (১৬) ইলমে বদী (১৭) ইলমে মানতিক (১৮) ইলমে মুনাজারাহ (১৯) ইলমে কানসাকাহ্ মুদাল্লাসাহ (২০) ইবতিদায়ী ইলমে তাকছীর (২১) ইবতেদায়ী ইলমে হাইয়াত (২২) ইলমে হিছাব (২৩) ইলমে হিন্দাসাহ্।
[উসওয়ায়ে আকাবির- পৃঃ ১৮]

☛১. মুফতী মুহাম্মদ শফী (করাচী) বলেন- “যখন হযরত মাওলানা আহমদ রেযা খান সাহেবের ওফাত হলো তখন মৌলভী আশরাফ আলী থানভীকে কেউ এসে খবর দিলেন। মৌলভী থানভী দোয়ার জন্য হাত উঠিয়ে দিলেন। সে দোয়া শেষ করলে মজলিসে উপস্থিতদের একজন বললো তিনি সারা জীবন আপনাকে কাফের বলেছেন। আর আপনি তাঁর জন্য মাগফিরাতের দোয়া করছেন?

তিনি বললেন- মাওলানা আহমদ রেযা খান আমাদের উপর কুফরের ফতোয়া এজন্য আরোপ করেছেন যে, তিনি নিশ্চিতভাবে বিশ্বাস করতেন যে, আমরা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এঁর মানহানি করেছি। যদি তিনি ইয়াক্বীন বা নিশ্চিত বিশ্বাস রাখা সত্বেও আমাদের উপর কাফির ফতোয়া আরোপ না করতেন তাহলে তিনি নিজেই কাফির হয়ে যেতেন।
[ইমাম আহমদ রেযা খান বেরলভী কুদ্দিসা সিররুহু এক-হামাহ জিহাত শাখসিয়াত করাচী পৃষ্টা-১৮ ও ১৯]

☛২. যখন আ’লা হযরত ইহধাম ত্যাগ করেছেন, তখন কোন একজন মাওলানা আশরাফ আলী থানভীকে সংবাদ দিলে শুনামাত্রই তিনি আ’লা হযরতের জন্য মাগফেরাত কামনা করেন। জনৈক ব্যক্তি তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, মাওলানা আহমদ রেজা খাঁনতো আপনাকে কাফের মনে করতেন। অথচ আপনি তাঁর মাগফিরাত কামনা করছেন। তিনি বলেন, আহমাদ রেযা আমাকে এজন্যই কাফের মনে করতেন, যেহেতু আমি তাঁর দৃষ্টিতে গোস্তাখে রাসূল ছিলাম। তিনি একথা জানার পরও যদি কাফের না বলেন, তিনি নিজে কাফের হয়ে যাবেন।
[দৈনিক রাওয়ালপিন্ডি, ১লা নভেম্বর ১৯৮১]

☛৩. মৌলভী মুহাম্মদ ইদ্রিস কান্ধলভী বলেন- “মাওলানা আহমদ রেযা খান-এর মাগফিরাত তো ঐসব ফতোয়ার কারণেই হয়ে যাবে। আল্লাহ তায়ালা বলবেন আহমদ রেযা খান তোমার মধ্যে আমার রাসুল (দরুদ) এঁর প্রতি এত মহব্বত ছিল যে, এত বড় বড় আলেমদেরকেও তুমি ক্ষমা করোনি।তুমি মনে করেছো যে তারা রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এঁর মানহানি করেছে। সুতরাং তুমি তাদের প্রতিও কুফরের ফতোয়া আরোপ করেছো। যাও এক আমলের উপর আঁমি তোমাকে ক্ষমা করে দিলাম।”
[ইমাম আহমদ রেযা খান বেরলভী কুদ্দিসা সিররুহু এক-হামাহ জিহাত শাখসিয়াত করাচী পৃষ্টা-১৮ ও ১৯]

☛৪. মৌলভী এযায আলী দেওবন্দী বলেন- “এ যুগের মধ্যে যদি কোনো মুহাক্বিক্ব (সুদক্ষ) আলেমে দ্বীন থাকেন তবে তিনি হলেন আহমদ রেযা খান বেরলভী। কেননা আমি মাওলানা আহমদ খানকে যাঁকে আমরা আজ পর্যন্ত কাফির বিদআতী ও মুশরিক বলে বেড়াচ্ছি, অত্যন্ত প্রশস্ত দৃষ্টিসম্পন্ন উন্নত মানসিকতার অধিকারী, অদম্য সাহসী, আলিমে দ্বীন এবং মহান চিন্তাবিদ হিসেবে পেয়েছি।

তাঁর উপস্থাপিত দলিলাদি ক্বোরআন ও সুন্নাহর বিরোধী নয় বরং পরস্পর গভীরভাবে সম্পৃক্ত। কাজেই আমি আপনাদেরকে পরামর্শ দিচ্ছি যদি আপনারা কোন জটিল মাসআলার কারণে কোনো অসুবিধার সম্মুখীন হন, তবে বেরেলী গিয়ে মাওলানা আহমদ রেযা খান সাহেব বেরেলভীর নিকট সমাধান প্রার্থী হোন।
[রিসালাহ ই আন নূর থানাভূন, পৃ:৪০, শাওয়াল ১৩৪২ হিঃ]

☛৫. মৌলভী শাব্বির আহমদ ওসমানী বলেন- মাওলানা আহমদ রেযা খানকে “তিনি কাফের ফতোয়া দেন” মর্মে অপবাদ দিয়ে মন্দ বলা অত্যন্ত গর্হিত কাজ। কেননা, তিনি খুব বড় আলেমে দ্বীন, উচ্চ পর্যায়ের মুহাক্কিক্ব (সুদক্ষ) ছিলেন।
[রিসালাহ ই হাদী দেওবন্দ, ২০ পৃষ্ঠা জিলহজ্ব ১৩২৯ হিঃ]

☛৬. মৌলভী আনোয়ার শাহ কাশ্মিরী বলেন- বাস্তবিকই বেরলভী হযরতগণের ইমাম মাওলানা আহমদ রেযা সাহেবের লেখনী নির্ভুল ও অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য।
[রিসালাহ -ই-দেওবন্দ ২১ পৃষ্ঠা জুমাদালউলা ১৩৩০ হিঃ]

☛৭. মৌলভী সৈয়দ মুহাম্মদ সুলায়মান নদভী আলা হযরতের কিতাব পড়ে বলেন “ইনি তো বিদআতীদের নেতা নন; বরং তিনি তো ইসলামী বিশ্বেরই স্কলার ও কর্ণধার পরিলক্ষিত হচ্ছেন। মাওলানা মরহুমের লেখনীতে যে পরিমাণ গভীরতা পাওয়া যাচ্ছে সেই পরিমাণ গভীরতা তো আমার সম্মানিত ওস্তাদ জনাব মাওলানা শিবলী সাহেব হযরত হাকীমুল উম্মত মাওলানা আশরাফ আলী থানভী, হযরত মাওলানা মাহমুদুল হাসান দেওবন্দী এবং হযরত মাওলানা শায়খুত তাফসীর আল্লামা শাব্বীর আহমদ ওসমানীর কিতাব গুলোতেও নেই।
[মাহনামা-ই-নদওয়াহ: আগষ্ট ১৯১৩ ইং পৃঃ ১৭]

☛৮. আবুল আ’লা মওদুদী বলেন- মাওলানা আহমাদ রেজা খাঁন মরহুম মগফুর আমার দৃষ্টিতে একজন অসাধারণ জ্ঞানী ও দূরদর্শীতার অধিকারী ব্যক্তিত্ব। তিনি মুসলিম মিল্লাতের একজন শীর্ষস্থানীয় নেতা। যদিও তাঁর সাথে আমার কতিপয় বিষয়ে বিরোধ রয়েছে তবুও আমি তাঁর প্রভূতঃ দ্বীনি খেদমতকে স্বীকার করি।
[আল মিযান, পৃঃ ১৬, সন- ১৯৭৬ মুম্বাই ও মাকালাতে ইয়াওমে রেজা, ২য় খন্ড, পৃঃ ৫৪০]

☛৯. মৌলভী আবুল হাসান আলী নদভী বলেন হানাফী ফিকহ ও এর শাখা প্রশাখা সম্পর্কে জ্ঞানানুসারে এ যুগে তাঁর (আলা হযরত) সমকক্ষ পাওয়া যায় না। উপরোল্লিখিত দেওবন্দী ওলামাদের বক্তব্যে প্রমাণিত হয় যে, আলা হযরত ফিক্বহীজ্ঞানে অত্যন্ত সুদক্ষ ছিলেন এছাড়াও তিনি নিজ আকীদায় সত্য ছিলেন।

অতএব বর্তমান দেওবন্দীদের উচিত আলা হযরতকে গালি না দিয়ে সানন্দচিত্তে গ্রহণ করে মুরুব্বীদের অনুসরণ করা। আল্লাহ তাদের হেদায়াত দান করুক–আমিন। দেওবন্দী আলেমগণ ও যার প্রশংসায় পঞ্চমুখ।
[ কৃতঃ আলামা সৈয়দ সাবের হোসাইন শাহ বোখারী থেকে সংকলিত।]

আলা হযরত সুন্নি সংঘে যোগদান করায় আপনাকে Ahssfamily'র পক্ষ থেকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা।🥀সদস্য পরিচিতি-নামঃ রায়হান আহ...
06/09/2026

আলা হযরত সুন্নি সংঘে যোগদান করায় আপনাকে Ahssfamily'র পক্ষ থেকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা।🥀

সদস্য পরিচিতি-
নামঃ রায়হান আহমেদ
পিতাঃ আমির আলী
যোগদানের তারিখ- ০৪/০৯/২০২৬ইং
আইডি নং- AHSS227
ব্লাডগ্রুপঃ B+
ঠিকানাঃ বড়ছড়া, তাহিরপুর,সুনামগঞ্জ।

মহান আল্লাহ তায়ালা আপনাকে দ্বীনের খেদমতে কবুল করুন-আমিন।🤲

মুর্শিদ বা পথপ্রদর্শকের প্রয়োজনীয়তা বুঝতে আমাদের প্রতিদিনের নামাজের দিকে তাকালেই তা স্পষ্ট হয়ে যায়। আমরা প্রতিদিন প্রতিট...
05/09/2026

মুর্শিদ বা পথপ্রদর্শকের প্রয়োজনীয়তা বুঝতে আমাদের প্রতিদিনের নামাজের দিকে তাকালেই তা স্পষ্ট হয়ে যায়। আমরা প্রতিদিন প্রতিটি নামাজে আল্লাহর কাছে একটি বিশেষ দোয়া অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে করি:

اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ

“আমাদেরকে সরল সঠিক পথ দেখাও।”
(সূরা আল-ফাতিহা: ৬)

নামাজের এই প্রধান দোয়ায় সরল পথ বা ‘সিরাতাল মুস্তাকিম’ চাওয়ার ঠিক পরের আয়াতেই আল্লাহ তাআলা এই পথের বাস্তব পরিচয় ও সংজ্ঞা দিয়েছেন। আল্লাহ তাআলা কোনো বিমূর্ত ধারণা বা শুধু বই পড়ে পথ চেনার কথা বলেননি, বরং তিনি এই পথকে সুনির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তিবর্গের সাথে সম্পর্কিত করে দিয়েছেন। আল্লাহ এরশাদ করেন:

صِرَاطَ الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ

“তাদের পথ, যাদের প্রতি আপনি অনুগ্রহ করেছেন।”
(সূরা আল-ফাতিহা: ৭)

পবিত্র কুরআনের অন্য আয়াতে এই অনুগ্রহপ্রাপ্ত ও ধন্য দলটির পরিচয় স্পষ্ট করে বলা হয়েছে:

مِّنَ النَّبِيِّينَ وَالصِّدِّيقِينَ وَالشُّهَدَاءِ وَالصَّالِحِينَ ۚ وَحَسُنَ أُولَٰئِكَ رَفِيقًا

“(তারা হলেন) নবীগণ, সিদ্দিকীন (সত্যনিষ্ঠগণ), শহীদগণ এবং সালেহীন (সৎকর্মপরায়ণ আল্লাহওয়ালা বান্দাগণ)। আর সঙ্গী হিসেবে তারা কতই না চমৎকার!”
(সূরা আন-নিসা: ৬৯)

এই আয়াতসমূহ থেকে এটি দিবালোকের মতো স্পষ্ট যে, আল্লাহর কাছে সঠিক পথ পাওয়ার দোয়ার অর্থই হলো আল্লাহওয়ালা মানুষদের সান্নিধ্য ও পথনির্দেশনা পাওয়া। কারণ পথ কোনো ফাঁকা রাস্তা নয়, পথ চেনা যায় পথিকের পদাঙ্ক অনুসরণ করে। নবীগণের পর এই পৃথিবীতে ‘সিদ্দিকীন’ ও ‘সালেহীন’ তথা কামেল মুর্শিদ ও ওলী-আউলিয়াগণই হলেন সেই ধন্য কাফেলার প্রতিনিধি। তাঁদের হাত ধরাই মূলত ‘সিরাতাল মুস্তাকিম’-এ পথ চলার বাস্তব রূপ।

শরীয়তের দৃষ্টিতে আত্মশুদ্ধি অর্জন করা ফরজে আইন বা প্রত্যেকের জন্য আবশ্যিক কর্তব্য। কারণ কলব বা অন্তর যদি কলুষিত থাকে, তবে বাহ্যিক ইবাদত আল্লাহর দরবারে কবুল হয় না। আর এই আত্মিক ব্যাধির সুচিকিৎসার জন্যই একজন আধ্যাত্মিক চিকিৎসকের প্রয়োজন, যাকে পরিভাষায় পীর বা মুর্শিদ বলা হয়।

১. আল-কুরআনের আরও কিছু আলোকপাত

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা বিভিন্ন আয়াতে সরাসরি এবং পরোক্ষভাবে কামেল ওলীদের সাহচর্য গ্রহণ এবং তাঁদের অনুসরণ করার নির্দেশ দিয়েছেন।
আল্লাহ তাআলা এরশাদ করেন:

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَكُونُوا مَعَ الصَّادِقِينَ

“হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সত্যবাদীদের (সাদিকীন) সঙ্গী হও।”
(সূরা আত-তাওবা: ১১৯)

এখানে আল্লাহ তাআলা শুধু তাকওয়া অর্জনের নির্দেশ দিয়েই ক্ষান্ত হননি, বরং তাকওয়া ধরে রাখার জন্য ‘সাদিকীন’ বা সত্যবাদী আল্লাহর ওলীদের সাথে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন।

অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন:

وَاتَّبِعْ سَبِيلَ مَنْ أَنَابَ إِلَيَّ

“এবং তুমি তার পথ অনুসরণ করো, যে আমার অভিমুখী হয়েছে।”
(সূরা লুকমান: ১৫)

২. সুন্নাহ ও আসারে সাহাবা

রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর জীবন এবং সাহাবায়ে কেরামের গঠনপদ্ধতি লক্ষ্য করলে দেখা যায়, ইসলাম শুধু কিতাব পড়ার ধর্ম নয়; এটি মূলত ‘সোহবত’ বা সাহচর্যের ধর্ম।

রাসূলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেছেন:

الْمَرْءُ عَلَى دِينِ خَلِيلِهِ فَلْيَنْظُرْ أَحَدُكُمْ مَنْ يُخَالِلُ

“মানুষ তার বন্ধুর দ্বীনের অনুসারী হয়। সুতরাং তোমাদের প্রত্যেকেরই লক্ষ্য করা উচিত, সে কার সাথে বন্ধুত্ব স্থাপন করছে।”
(সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ৪৮৩৩)

সাহাবায়ে কেরামের আদর্শ: সাহাবায়ে কেরাম (রা.) শুধু ইসলামের বিধানগুলো জেনে নিয়ে ঘরে বসে যাননি। তাঁরা বছরের পর বছর আল্লাহর রাসূল (সা.)-এর পবিত্র সোহবতে থেকে নিজেদের চরিত্র গঠন করেছেন। কিতাব বা লিখিত কোনো কপির মাধ্যমে নয়, বরং নবীজির পবিত্র নূরানী চেহারা, তাঁর ওঠাবসা এবং সামগ্রিক আচরণের প্রতিচ্ছবি ধারণ করেই তাঁরা ‘সাহাবী’ হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন।

পীর-মুরিদীর এই ধারা মূলত রাসূল (সা.) ও সাহাবাদের সেই সোহবতের ধারারই একটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ।

৩. উম্মতের ইজমা বা ঐকমত্য

ইসলামের ইতিহাসে চার মাযহাবের ইমামগণ, মুহাদ্দিসীন, মুফাসসিরীন এবং বড় বড় ফকীহগণ একমত হয়েছেন যে, অন্তরের ব্যাধি দূর করার জন্য একজন কামেল শায়খের তত্ত্বাবধান অত্যন্ত জরুরি।

ইমাম আবু হানিফা (রহ.): তাঁর জীবনের শেষ দুই বছর সম্পর্কে বিখ্যাত উক্তি রয়েছে:

“যদি শেষ দুই বছর আমি শায়খ (ইমাম জাফর সাদিক (আঃ)-এর সোহবত না পেতাম, তবে নোমান (আবু হানিফা) ধ্বংস হয়ে যেত।”

ইমাম শাফেয়ী (রহ.): তিনি সুফিদের সান্নিধ্যে গিয়ে বলেছিলেন:

“আমি সুফিদের সুহবতে থেকে দুটি মূল্যবান জিনিস শিখেছি—

১. সময় তরবারির মতো, তাকে ভালো কাজে না কাটলে সে তোমাকে কেটে ফেলবে (নষ্ট হবে)।

২. তোমার নফসকে যদি তুমি হকের কাজে ব্যস্ত না রাখো, তবে সে তোমাকে বাতিলের কাজে লিপ্ত করবে।”

ইমাম গাজালী (রহ.): তাঁর যুগান্তকারী গ্রন্থ ‘এহয়াউ উলুমিদ্দীন’-এ স্পষ্ট লিখেছেন যে, মানুষের নিজের দোষ নিজে ধরা কঠিন। তাই একজন আধ্যাত্মিক চিকিৎসকের (মুর্শিদ) কাছে গিয়ে নিজের নফসের ব্যাধিগুলোর চিকিৎসা করানো ওয়াজিব বা আবশ্যক।

৪. কিয়াস বা যৌক্তিক বিশ্লেষণ

মানুষের সাধারণ জীবনযাত্রার দিকে তাকালে কিয়াসের বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যায়।

একজন মানুষ বাজার থেকে সব ধরনের চিকিৎসার বই কিনে ঘরে বসে তা মুখস্থ করলেই ডাক্তার হতে পারে না। তাকে অবশ্যই একজন অভিজ্ঞ চিকিৎসকের অধীনে হাসপাতালে থেকে প্র্যাক্টিক্যাল ইন্টার্নি করতে হয়। অন্যথায় তার ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যুর আশঙ্কা থাকে।

ঠিক তেমনি, একজন মানুষ কুরআন-হাদিসের অনুবাদ পড়ে হয়তো তথ্য জানতে পারবে, কিন্তু নামাজে কীভাবে মনোযোগ (খুশু-খুজু) আনতে হয়, কীভাবে রাগ দমন করতে হয়, কীভাবে অহংকার থেকে মুক্ত হতে হয়—তা কেবল একজন আধ্যাত্মিক শিক্ষকের প্র্যাক্টিক্যাল তত্ত্বাবধান ও ট্রেইনিংয়ের মাধ্যমেই শেখা সম্ভব।

নিজের বিচার-বুদ্ধি দিয়ে মনের ভেতরের সূক্ষ্ম অহংকার বা রিয়া ধরা সম্ভব নয়।

উপসংহার

অতএব, কুরআন, সুন্নাহ, ইজমা ও কিয়াসের আলোচনায় একটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে ওঠে—ইবাদত যেমন শরীয়তের বিধান অনুযায়ী পালন করা অপরিহার্য, তেমনি অন্তরকে পরিশুদ্ধ করা এবং চরিত্রকে সংশোধন করাও ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ দাবি। আর এই আত্মশুদ্ধির পথে অভিজ্ঞ ও আল্লাহমুখী মানুষের সোহবত মানুষের জন্য সহায়ক ও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে।

পীর বা মুর্শিদ কোনো নতুন ইবাদত বা নতুন শরীয়ত নিয়ে আসেন না। তাঁর ভূমিকা হলো শরীয়তের বিধান অনুসরণে মানুষকে সহযোগিতা করা, নিজের নফসের ত্রুটি চিনতে সাহায্য করা এবং আল্লাহর দিকে অগ্রসর হওয়ার পথে আত্মিক প্রশিক্ষণ ও সোহবতের মাধ্যমে মুরিদকে পরিচালিত করা।

সংকলন ও সম্পাদনা: Gulshan-e-Chishty

04/09/2026

আলা হযরত সুন্নি সংঘের ৬ষ্ঠ প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর গজল সন্ধ্যার অংশবিশেষ............

আগামী ১৪মার্চ ২০২৭ইং রোজঃ রবিবার, দিনের বেলায় সুনামগঞ্জ তাহিরপুরের নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা হবে ইনশাআল্লাহ। 🤝🤍

🤝

04/09/2026

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে তাহিরপুর উপজেলার একতা বাজার থেকে নদীপথে এক বর্ণাঢ্য নৌকা বহর ও জশনে জুলুস অনু...

🤲 দো‘আর দরখাস্ত 🤲আলা হযরত সুন্নি সংঘের প্রতিষ্ঠাকালীন আহ্বায়ক ও বর্তমান সিনিয়র সহ-সভাপতি আরশ হোসাইন ক্বাদেরী এবং সংগঠনের...
02/09/2026

🤲 দো‘আর দরখাস্ত 🤲

আলা হযরত সুন্নি সংঘের প্রতিষ্ঠাকালীন আহ্বায়ক ও বর্তমান সিনিয়র সহ-সভাপতি আরশ হোসাইন ক্বাদেরী এবং সংগঠনের অন্যতম সদস্য মনিরুল ইসলাম অসুস্থতায় ভুগছেন।

মহান আল্লাহ তায়ালার দরবারে উভয়ের জন্য দ্রুত আরোগ্য ও পরিপূর্ণ সুস্থতা কামনা করছি।
আল্লাহ তায়ালা তাঁদের সকল অসুস্থতা দূর করে নেক হায়াত, সুস্থতা ও শান্তি দান করুন-আমিন। 🤲🤲 🤍

এবারের কোরবানির ঈদে আমার দেখা শ্রেষ্ঠ ছবি এটি।জ্যামে আটকে থাকা কোরবানির পশুকে জানালা দিয়ে নিজের বোতলের পানি খাওয়াচ্ছে এক...
27/05/2026

এবারের কোরবানির ঈদে আমার দেখা শ্রেষ্ঠ ছবি এটি।
জ্যামে আটকে থাকা কোরবানির পশুকে জানালা দিয়ে নিজের বোতলের পানি খাওয়াচ্ছে একজন বাস ড্রাইভার।

যাস্ট এই দৃশ্যটার ভিতরেই লুকিয়ে আছে কোরবানির আসল উদ্দেশ্য। কুরবানী মানে নিজের ভিতরের পশুত্বকে কুরবানী দেওয়া। আমিত্বকে কোরবানি দেওয়া।

হযরত আনাস (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "সকল সৃষ্টি আল্লাহ তা’আলার পরিবারের সদস্য বিশেষ। সৃষ্টজীবের মধ্যে আল্লাহ তা’আলার কাছে সবচেয়ে প্রিয় সেই, যে তার পরিবার-পরিজনের প্রতি অনুগ্রহ করে"।

© শায়েখ জয়নুল আবেদীন ক্বাদেরী হুজুরের টাইম লাইন থেকে।

Address

Tahirpur
Sunamganj
3030

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when আলা হযরত সুন্নি সংঘ posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share