Islamic Dawa Centre.Official

Islamic Dawa Centre.Official বিশুদ্ধ আকিদা ও সুন্নাহের প্রচার ও সকল বাতিল ফিরকার মোকাবেলা করে উম্মাহকে সঠিক পথ দেখানোই আমাদের উদ্দেশ্য।

মুজতাহিদ ইমাম মুহাম্মাদ বিন ইদরীস আশ-শাফেয়ী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন—যিনি শাফেয়ী মাযহাবের ইমাম (মৃত্যু: ২০৪ হিজরি)।​« ...
23/05/2026

মুজতাহিদ ইমাম মুহাম্মাদ বিন ইদরীস আশ-শাফেয়ী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন—যিনি শাফেয়ী মাযহাবের ইমাম (মৃত্যু: ২০৪ হিজরি)।

​« إنه تعالى كان ولا مكان فخلق المكان وهو على صفة الأزلية كما كان قبل خلقه المكان لا يجوز عليه التغيير في ذاته ولا التبديل في صفاته »
অনুবাদ: "নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা চিরকাল বিদ্যমান ছিলেন যখন কোনো স্থান বা মাকান ছিল না। অতঃপর তিনি স্থান সৃষ্টি করেছেন। স্থান সৃষ্টির পূর্বে তিনি যেমন অনাদি-অনন্ত বৈশিষ্ট্যে ছিলেন, এখনো ঠিক তেমনই আছেন। তাঁর সত্তায় কোনো পরিবর্তন এবং তাঁর গুণাবলীতে কোনো রূপান্তর ঘটা অসম্ভব।"
​উৎস বা রেফারেন্স
​المصدر: إتحاف السادة المتقين (٢٤/٢)
​অর্থ: উৎস: ইতাহাফুস সাদাতিল মুত্তাকীন (২/২৪)।

22/05/2026

এই লেখাটিতে মূলত “উম্মতের ৭৩ ফিরকার হাদীস” নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। বিশেষ করে “সবগুলো জাহান্নামে, শুধু একটি জান্নাতে” — এই অতিরিক্ত অংশটি সহীহ কি না, তা নিয়ে আলেমদের মতভেদ তুলে ধরা হয়েছে।
সংক্ষেপে এর সারমর্ম হলো—
মূল হাদীস
রাসূল ﷺ বলেছেন—
“ইহুদি ও খ্রিস্টানরা ৭২ দলে বিভক্ত হয়েছে, আর আমার উম্মত ৭৩ দলে বিভক্ত হবে; ৭২ দল জাহান্নামে যাবে এবং একটি দল জান্নাতে যাবে, আর সেটি হলো الجماعة (জামাআত)।”
এ হাদীসটি Sunan Abu Dawud, Jami' al-Tirmidhi প্রভৃতি কিতাবে এসেছে।
যারা হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন
অনেক মুহাদ্দিস ও আলেম এই বর্ণনাকে সহীহ বা হাসান বলেছেন। যেমন—
Abu Dawud
Al-Tirmidhi
Al-Hakim al-Nishapuri
Ibn Hajar al-Asqalani
Ibn Taymiyyah
Al-Shatibi
Al-Albani
তাদের মতে, বহু সাহাবী থেকে বিভিন্ন সনদে হাদীসটি বর্ণিত হওয়ায় এর মূল বক্তব্য শক্তিশালী।
যারা আপত্তি করেছেন
কিছু আলেম বিশেষ করে “كلها في النار إلا واحدة” (সবগুলো জাহান্নামে, শুধু একটি ছাড়া) — এই অংশ নিয়ে আপত্তি করেছেন। যেমন—
Ibn Hazm
Al-Shawkani
Ibn al-Wazir
তাদের কারও মতে এই زيادة (অতিরিক্ত অংশ) দুর্বল, আবার কেউ অর্থগত সমস্যার কথাও বলেছেন।
“সবগুলো জান্নাতে, শুধু একটি জাহান্নামে” — এই বর্ণনা
লেখাটিতে বিশেষভাবে বলা হয়েছে—
“كلهم في الجنة إلا فرقة واحدة” (সব দল জান্নাতে যাবে, শুধু একটি দল ছাড়া)
এই শব্দে যে হাদীস প্রচলিত আছে, তা জাল বা মওযূ‘ (বানোয়াট)।
এ ব্যাপারে কঠোর ভাষায় জাল বলেছেন—
Al-Uqayli
Ibn al-Jawzi
Ibn Taymiyyah
Al-Albani
তাদের মতে, এই বর্ণনার সনদে দুর্বল ও মিথ্যাবাদী রাবী রয়েছে।
লেখাটির উপসংহার
এই আর্টিকেলের সিদ্ধান্ত হলো—
“উম্মত ৭৩ দলে বিভক্ত হবে” — হাদীসটির মূল অংশ সহীহ।
“সবগুলো জাহান্নামে, শুধু একটি” — এই অংশকে অধিকাংশ মুহাদ্দিস গ্রহণ করেছেন।
“সবগুলো জান্নাতে, শুধু একটি” — এই শব্দে বর্ণিত হাদীস জাল ও ভিত্তিহীন।

আল্লামা ইউসুফ বিনূরী বলেন,فدع السفهاء والجهلة الذين زعموا أن الاجتهاد أمر سهل هين لين، يقدر عليه كل من أحاط بكتاب "بداية...
21/05/2026

আল্লামা ইউসুফ বিনূরী বলেন,

فدع السفهاء والجهلة الذين زعموا أن الاجتهاد أمر سهل هين لين، يقدر عليه كل من أحاط بكتاب "بداية المجتهد" لابن رشد الفقيه المالكي، أو الحمقى الذين يزعمون أن كل أحد يقدر على الاجتهاد بالعبور على "القرآن" وظواهر الأخبار، فيحرم عليه تقليد مذهب أحد من أعيان الأمة! فيطنطنون هؤلاء في كتاباتهم ومؤلفاتهم طنين الذباب، ويرمون العلماء الربانيين بعوائهم كالذئاب. ومنشأ كل ذلك الجهل بمعرفة مراتب السلف، والقصور عن فهم مداركهم، وفوق كل ذلك الحمق والسفه البين العوار. وهذا داء أعيا الأطباء دواءه.

অতএব, সেইসব নির্বোধ ও মূর্খদের কথা বাদ দিন যারা মনে করে যে ইজতিহাদ করা খুবই সহজ, যা মালেকী ফকীহ ইবনে রুশদের বিদায়াতুল মুজতাহিদ বইটি পুরোটা পড়লেই যে কেউ করতে পারে। অথবা সেইসব বোকাদের কথা ছেড়ে দিন যারা দাবি করে যে, প্রত্যেকেই শুধু কুরআন এবং হাদীসের ওপর ওপর দেখেই ইজতিহাদ করতে সক্ষম, তাই উম্মতের বিশিষ্ট ইমামদের মাযহাব অনুসরণ করা নাকি তাদের জন্য হারাম!

এরা শুধুমাত্র নিজেদের লেখালেখি ও তাদের সামান্য কিছু বইপত্রেই মাছির মতো ভনভন করে এবং উম্মাতের রব্বানী আলেমদের শানে নেকড়ের মতো আক্রমণ করে। এই সবকিছুর মূল কারণ হলো সালাফদের ইলম ও মাক্বাম সম্পর্কে অজ্ঞতা এবং তাঁদের গভীর জ্ঞান বোঝার ক্ষেত্রে অক্ষমতা। আর এটি এমন এক রোগ যার চিকিৎসা করতে গিয়ে চিকিৎসকেরাও ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন।

[ আল বুদুরুল মুদিয়্যাহ ফী তারাজিমিল হানাফিয়্যাহ, শাইখ হিফজুর রহমান আল কুমিল্লাই ৫/১১০ ]

20/05/2026

পরস্পর বিরোধী হাদিসের সমাধান কিভাবে হবে?

19/05/2026

ইমাম আশআরি মাতুরিদী পরিচয় ও কালাম শাস্ত্র তাদের অবদান
আলোচক: মুফতি আবু বকর সিদ্দিক (সিরাজগঞ্জ)
সঞ্চালক: মুফতি তাহমিদ আনাস (ঢাকা)
আরো যুক্ত ছিলেন অনেকেই, সকলকে ধন্যবাদ।

19/05/2026
তাকলিদ: উৎস থেকে বর্তমান (একটি সারগর্ভ ঐতিহাসিক পর্যালোচনা)​ইসলামী শরীয়তের পরিভাষায় 'তাকলিদ' (تقليد) অর্থ হলো— কোনো দল...
19/05/2026

তাকলিদ: উৎস থেকে বর্তমান (একটি সারগর্ভ ঐতিহাসিক পর্যালোচনা)
​ইসলামী শরীয়তের পরিভাষায় 'তাকলিদ' (تقليد) অর্থ হলো— কোনো দলীল বা প্রমাণ অনুসন্ধান না করেই দ্বীনি বিষয়ে কোনো নির্ভরযোগ্য মুজতাহিদ (ইসলামী আইনজ্ঞ)-এর সিদ্ধান্তকে মেনে চলা। সাধারণ মানুষের পক্ষে কোরআন ও হাদীস থেকে সরাসরি বিধি-বিধান বা ইজতিহাদ করা সম্ভব নয় বলেই তাকলিদের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। নবীজির জামানা থেকে আজ পর্যন্ত তাকলিদের রূপান্তর ও এর ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা নিচে আলোচনা করা হলো:
​১. নবীজি ও সাহাবায়ে কেরামের জামানা (সূচনাকাল)
​রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে সাহাবীগণ সরাসরি তাঁর কাছ থেকে দ্বীনের বিধি-বিধান জেনে নিতেন। তবে দূরবর্তী অঞ্চলের সাহাবীগণ, যারা সরাসরি নবীজির কাছে আসতে পারতেন না, তারা সেই অঞ্চলের জ্ঞানী সাহাবীদের ফতোয়া অনুসরণ করতেন।
​মুয়াজ ইবনে জাবাল (রা.)-এর ঘটনা: নবীজি (সা.) যখন হযরত মুয়াজ (রা.)-কে ইয়ামেনে বিচারক হিসেবে পাঠান, তখন ইয়ামেনবাসীকে তাঁর সিদ্ধান্ত অনুসরণের নির্দেশ দেন। এটি ছিল তাকলিদের একটি প্রাথমিক ও প্রায়োগিক রূপ।
​সাহাবাদের যুগ: নবীজির ওফাতের পর সব সাহাবী সমান স্তরের ফকীহ বা মুজতাহিদ ছিলেন না। ইবনে আব্বাস, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ, হযরত আলী এবং আয়েশা (রা.)-এর মতো মুজতাহিদ সাহাবীদের ফতোয়া সাধারণ সাহাবী এবং তাবেয়ীগণ কোনো দলীল খোঁজা ছাড়াই মেনে নিতেন।
​২. তাবেয়ী ও তাবে-তাবেয়ীদের যুগ (মাজহাবের বিকাশ)
​ইসলামের সীমানা যখন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে, তখন নতুন নতুন সমস্যার সৃষ্টি হয়। এই সময়ে মক্কা, মদিনা, কুফা, বসরা ও সিরিয়ায় ফিকহী স্কুল বা মাদরাসা গড়ে ওঠে।
​পরবর্তীতে হিজরি দ্বিতীয় ও তৃতীয় শতাব্দীতে চারজন মহান ইমামের হাত ধরে ফিকহী মাসআলাগুলো সুবিন্যস্ত রূপ পায়। তারা হলেন:
১. ইমাম আবু হানিফা (রহ.) (হানাফী মাজহাব)
২. ইমাম মালিক ইবনে আনাস (রহ.) (মালিকী মাজহাব)
৩. ইমাম শাফেয়ী (রহ.) (শাফেয়ী মাজহাব)
৪. ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল (রহ.) (হাম্বলী মাজহাব)
​সাধারণ মানুষ তাদের নিজস্ব অঞ্চলের ইমামের ফিকহী সিদ্ধান্ত ও ইজতিহাদের ওপর আস্থা রেখে তাকলিদ করতে শুরু করে।
​৩. মাজহাব চতুষ্টয়ের স্থায়িত্ব ও 'তাকলিদে শখসি'
​চতুর্থ হিজরি শতকের পর থেকে উম্মাহর আলেমদের মধ্যে একটি সাধারণ ঐক্যমত্য (ইজমা) তৈরি হয় যে, সাধারণ মুসলমানদের দ্বীনী বিশৃঙ্খলা থেকে বাঁচাতে চার মাজহাবের যেকোনো একটির তাকলিদে শখসি (নির্দিষ্ট একজন ইমামের অনুসরণ) করা আবশ্যক।
​কেন নির্দিষ্ট একজনের তাকলিদ জরুরি হলো?
যদি কেউ নিজের ইচ্ছা মতো একেক সময় একেক মাজহাবের সহজ বিধানগুলো বেছে নেয়, তবে তা দ্বীন পালনের চেয়ে 'নফসের গোলামী' বা খেয়াল-খুশির অনুকরণে পরিণত হয়। এই বিশৃঙ্খলা রোধে চার মাজহাবের অনুশাসন মুসলিম বিশ্বে স্থায়িত্ব লাভ করে।
​৪. সমকালীন বিশ্ব ও তাকলিদ (বর্তমান প্রেক্ষাপট)
​বর্তমান যুগে তাকলিদের বিষয়টি মুসলিম উম্মাহর মধ্যে দুটি প্রধান ধারায় বিভক্ত:
​ক. জুমহুর বা সংখ্যাগরিষ্ঠ আলেমদের অবস্থান (ঐতিহ্যবাহী ধারা)
​দেওবন্দী, বেরলভী, আল-আজহার এবং মক্কা-মদিনার ঐতিহ্যবাহী আলেমদের বড় অংশই তাকলিদের পক্ষে। তাদের বক্তব্য হলো, সাধারণ মানুষ যার সরাসরি ইজতিহাদ করার যোগ্যতা নেই, তার জন্য তাকলিদ করা ওয়াজিব। এটি মূলত পবিত্র কোরআনের এই আয়াতের প্রতিফলন:
​"যদি তোমরা না জানো, তবে জ্ঞানীদের জিজ্ঞেস করো।" (সূরা আন-নাহল: ৪৩)
​খ. আহলে হাদীস ও সালাফী ধারা (তাকলিদ বিরোধী অবস্থান)
​বিগত কয়েক শতাব্দীতে (বিশেষ করে ইমাম ইবনে তাইমিয়াহ, হাফেজ ইবনুল কাইয়্যিম এবং পরবর্তীতে শাহ ওয়ালিউল্লাহর কিছু চিন্তাধারার সূত্র ধরে) এবং বর্তমান যুগে আহলে হাদীস বা সালাফী ঘরানার আলেমগণ প্রচলিত তাকলিদের বিরোধিতা করেন। তাদের মতে, কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির অন্ধ অনুকরণ না করে সরাসরি সহীহ হাদীসের অনুসরণ (ইত্তিবা) করা উচিত।
​উপসংহার
​ঐতিহাসিকভাবে পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, তাকলিদ কোনো নতুন আবিষ্কৃত বিষয় নয়, বরং এটি শরীয়তের বিধান সহজে আমল করার একটি সুশৃঙ্খল মাধ্যম। ইমামগণের ইজতিহাদ মূলত কোরআন ও সুন্নাহরই ব্যাখ্যা। তাই চরমপন্থা বর্জন করে, চার ইমামের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে সাধারণ মানুষের জন্য তাকলিদের ওপর আমল করা উম্মাহর ঐক্য ও ফেতনা থেকে বেঁচে থাকার জন্য আজ পর্যন্ত সবচেয়ে নিরাপদ পথ হিসেবে প্রমাণিত।

দুশ্চিন্তা ও পেরেশানি দূর করার কিছু হাদীস ও আমল১. আল্লাহর যিকিরে শান্তিأَلَا بِذِكْرِ اللَّهِ تَطْمَئِنُّ الْقُلُوبُ“জেন...
18/05/2026

দুশ্চিন্তা ও পেরেশানি দূর করার কিছু হাদীস ও আমল
১. আল্লাহর যিকিরে শান্তি
أَلَا بِذِكْرِ اللَّهِ تَطْمَئِنُّ الْقُلُوبُ
“জেনে রাখ! আল্লাহর স্মরণেই অন্তরসমূহ শান্তি পায়।”
— সূরা আর-রা‘দ: ২৮
২. দুশ্চিন্তায় এই দোয়া পড়া
রাসূল ﷺ বলেছেন, যে ব্যক্তি দুঃখ-কষ্টে এই দোয়া পড়বে, আল্লাহ তার দুশ্চিন্তা দূর করবেন।
اللَّهُمَّ إِنِّي عَبْدُكَ، ابْنُ عَبْدِكَ، ابْنُ أَمَتِكَ...
(দীর্ঘ দোয়া)
— মুসনাদ আহমদ
সংক্ষিপ্তভাবে পড়তে পারেন:
حَسْبُنَا اللَّهُ وَنِعْمَ الْوَكِيلُ
“আমাদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট, তিনিই উত্তম কর্মবিধায়ক।”
৩. বেশি বেশি ইস্তিগফার
রাসূল ﷺ বলেছেন:
مَنْ لَزِمَ الِاسْتِغْفَارَ جَعَلَ اللَّهُ لَهُ مِنْ كُلِّ هَمٍّ فَرَجًا
“যে ব্যক্তি নিয়মিত ইস্তিগফার করে, আল্লাহ তার সব দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তির পথ বের করে দেন।”
— সুনানে আবু দাউদ
পড়ুন:
أستغفرُ اللهَ العظيمَ وأتوبُ إليه
৪. সকাল-সন্ধ্যার দোয়া
রাসূল ﷺ সকালে ও সন্ধ্যায় এই দোয়া পড়তেন:
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْهَمِّ وَالْحَزَنِ
“হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে দুশ্চিন্তা ও দুঃখ থেকে আশ্রয় চাই।”
— সহীহ বুখারী
৫. সালাতের মাধ্যমে সাহায্য চাওয়া
وَاسْتَعِينُوا بِالصَّبْرِ وَالصَّلَاةِ
“তোমরা ধৈর্য ও সালাতের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা কর।”
— সূরা আল-বাকারাহ: ৪৫
৬. তাসবীহ ও যিকির
রাসূল ﷺ বলেছেন:
“দুটি বাক্য রহমানের কাছে প্রিয়, জিহ্বায় হালকা এবং আমলের পাল্লায় ভারী।”
سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ، سُبْحَانَ اللَّهِ الْعَظِيمِ
— সহীহ বুখারী
সংক্ষেপে করণীয়
৫ ওয়াক্ত নামাজ ঠিক রাখা
সকাল-সন্ধ্যার যিকির
বেশি বেশি ইস্তিগফার
কুরআন তিলাওয়াত
তাহাজ্জুদ ও দোয়া
আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল রাখা
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে মানসিক প্রশান্তি দান করুন। আমীন।

“ظاهره الاستغناء بظاهر القرآن، وترك الحديث”অর্থাৎ: “বাহ্যিকভাবে এর অর্থ দাঁড়ায়— কুরআনের ظاهر (প্রকাশ্য অর্থ)-এর উপরই য...
17/05/2026

“ظاهره الاستغناء بظاهر القرآن، وترك الحديث”
অর্থাৎ: “বাহ্যিকভাবে এর অর্থ দাঁড়ায়— কুরআনের ظاهر (প্রকাশ্য অর্থ)-এর উপরই যথেষ্ট মনে করা এবং হাদীস ত্যাগ করা।”
কেউ কেউ এ কথা বলে থাকেন যে, “হাদীসকে কুরআনের সাথে মিলিয়ে দেখা হবে।”
এই বক্তব্য শুনে অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে— তাহলে কি কুরআনের উপরই আমল হবে এবং হাদীসের কোন গুরুত্ব থাকবে না?
এই সন্দেহ দূর করতে ইমাম শাফেয়ী (রহ.) স্পষ্টভাবে বলেছেনঃ
“হাদীসকে কুরআনের সামনে পেশ করার যে বর্ণনা প্রচলিত আছে, তা দুর্বল; বরং অনেক মুহাদ্দিসের নিকট তা ভিত্তিহীন ও অপ্রমাণিত।”
এর ব্যাখ্যায় ইমাম আবু ইউসুফ (রহ.) “كتاب الأم” গ্রন্থে বলেনঃ
“আমাদের নিকট হাদীস বাতিল করার পদ্ধতি এই নয় যে, তাকে কুরআনের উপর পেশ করা হবে। বরং যে হাদীস কুরআনের বিরোধী নয়, তা গ্রহণযোগ্য। কেননা রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর হাদীসে আল্লাহর আদেশসমূহের ব্যাখ্যা রয়েছে— কোনটি خاص, কোনটি عام, কোনটি ناسخ, কোনটি منسوخ— এসব সাধারণ মানুষ জানে না, যতক্ষণ না আল্লাহর রাসূল ﷺ তা ব্যাখ্যা করেন।”
এরপর লেখক ব্যাখ্যা করেন:
“হাদীসকে কুরআনের সাথে মিলিয়ে দেখার” অর্থ এই নয় যে, হাদীস বাতিল করা হবে।
বরং উদ্দেশ্য হলো— যদি কোন হাদীস কুরআনের স্পষ্ট নীতির বিরোধী মনে হয়, তাহলে তা যাচাই-বাছাই করা হবে। কারণ কখনও হাদীসটি দুর্বল হতে পারে, অথবা তার অর্থ সঠিকভাবে বোঝা নাও হতে পারে।
অর্থাৎ, প্রকৃত মুহাদ্দিস ও উসূলবিদদের নিকট “কুরআনের সাথে সামঞ্জস্য” বলতে বোঝায়—
হাদীসের সত্যতা ও অর্থ যাচাই করা; হাদীস প্রত্যাখ্যান করা নয়।

ইমাম আবু হানীফা (রহ.)-এর হাদীস ও আছার থেকে আহকাম استخراجএর মূলনীতি।১— ইমাম আবু হানীফা (রহ.)-এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মূলনী...
15/05/2026

ইমাম আবু হানীফা (রহ.)-এর হাদীস ও আছার থেকে আহকাম استخراجএর মূলনীতি।
১— ইমাম আবু হানীফা (রহ.)-এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মূলনীতি হলো: নির্ভরযোগ্য (ثقة) রাবীর মুরসাল হাদীস গ্রহণ করা, যতক্ষণ না তার বিরোধিতায় তার চেয়ে শক্তিশালী কোনো দলীল আসে।
মুরসাল হাদীস দ্বারা দলীল গ্রহণ করা ছিল পূর্ববর্তী উত্তম যুগসমূহে উম্মাহর মাঝে প্রচলিত একটি ধারাবাহিক সুন্নাহ। এমনকি ইবন জারীর আত-তাবারী বলেছেনঃ
“মুরসাল হাদীসকে সর্বতোভাবে প্রত্যাখ্যান করা দ্বিতীয় শতাব্দীর শুরুতে উদ্ভাবিত একটি বিদআত।”
আর মুহাদ্দিস শাব্বীর আহমদ উসমানী তাঁর فتح الملهم গ্রন্থে বলেনঃ
“যে ব্যক্তি ইরসালের কারণে হাদীসকে দুর্বল গণ্য করে বর্জন করে, সে কার্যত আমলকৃত সুন্নাহর অর্ধেক অংশই পরিত্যাগ করে।”
২— তাঁর আরেকটি মূলনীতি হলো: খবরুল আহাদ (একক সূত্রে বর্ণিত হাদীস) কে শরীয়তের সামগ্রিক মূলনীতি ও প্রতিষ্ঠিত উসূলের সাথে মিলিয়ে দেখা। দীর্ঘ গবেষণা ও শরীয়তের বিভিন্ন বিধান পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে তিনি যে সামগ্রিক নীতিমালা নির্ণয় করেছেন, যদি কোনো খবরুল আহাদ তার বিরোধিতা করে, তাহলে তিনি অধিক শক্তিশালী দলীল হিসেবে সেই মূলনীতিকেই গ্রহণ করতেন এবং বিরোধী খবরটিকে শায (ব্যতিক্রমধর্মী) গণ্য করতেন।
৩— তদ্রূপ, তিনি খবরুল আহাদকে আল-কুরআন-এর সাধারণ বিধান (عمومات) ও ظاهِر অর্থের সাথে তুলনা করতেন।
যদি কোনো হাদীস কুরআনের কোনো সাধারণ বা ظاهِر বিধানের বিপরীত হতো, তাহলে তিনি কুরআনের বক্তব্যকেই অগ্রাধিকার দিতেন এবং হাদীসটি পরিত্যাগ করতেন। কারণ তাঁর নিকট কুরআন নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত (قطعي الثبوت), এবং এর ظاهِر ও عموم অর্থও নিশ্চিত নির্দেশক (قطعي الدلالة)।
৪— তাঁর আরও একটি শর্ত ছিল: খবরুল আহাদ এমন হতে হবে যা মাশহুর সুন্নাহ-এর বিরোধী নয়— তা কথাগত সুন্নাহ হোক বা কর্মগত সুন্নাহ।
এছাড়া, সেটি সমমানের অন্য কোনো হাদীসের বিরোধীও হতে পারবে না। যদি দুইটি হাদীসের মাঝে দ্বন্দ্ব দেখা দেয়, তাহলে তিনি বিভিন্ন তারজীহ (অগ্রাধিকার নির্ধারণের) পদ্ধতির মাধ্যমে একটিকে প্রাধান্য দিতেন।
এক্ষেত্রে মুজতাহিদগণের দৃষ্টিভঙ্গি ভিন্ন হতে পারে। যেমন— কোনো এক রাবী অন্য রাবীর তুলনায় অধিক ফকীহ বা অধিক প্রজ্ঞাবান হলে তার বর্ণনাকে অগ্রাধিকার দেওয়া ইত্যাদি। والآثار

١- من أهم أصول أبي حنيفة الله : قبول مرسلات الثقات إذا لم يعارضها ما هو أقوى منها». والاجتجاج بالمرسل كان سنة متوارثة جرت عليه الأمة في القرون الفاضلة حتى قال ابن جرير له : رد المرسل مطلقا بدعة حدثت في رأس المئتين (1).

وقال المحدث شبير أحمد العثماني الله في فتح الملهم : ومن ضعف بالإرسال نبذ شطر السنة المعمول بها (٢).

٢- ومنها : عرض أخبار الآحاد على الأصول المجتمعة عنده بعد استقرائه موارد الشرع فإذا خالف خبر الآحاد تلك الأصول يأخذ بالأصل، عملا بأقوى الدليلين، وبعد الخبر المخالف له شادا.

ومنها : عرض أخبار الآحاد على عمومات كتاب الله وظواهره» فإذا خالف الخبر عاما أو ظاهرا في الكتاب، أخذ بالكتاب وترك الخبر، عملا بأقوى الدليلين أيضا؛ لأن الكتاب قطعي الثبوت، وظواهره وعموماته قطعية الدلالة عنده.

ومنها : الشرط بالأخذ بخبر الآحاد أن لا يخالف السنة المشهورة سواء كانت سنة قولية أو فعلية، وأن لا يخالف ويعارض خبرًا مثله، وعند التعارض بين الخبرين يرجحأحد الخبرين بوجوه ترجيح، وتختلف أنظار المجتهدين فيها، ككون أحد الراويين فقيها أو أفقه بخلاف الآخر.

(1) تأنيب الخطيب للإمام الكوثري (١٢٩٦ -١٣٧١هـ) ص ۲۳۹ ، المكتبة الأزهرية للتراث، سنة الطبع ١٤٣٦ هـ.

(۲) «المصدر السابق.

Address

Rajshahi
Sirajganj
6710

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Islamic Dawa Centre.Official posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share