12/03/2015
উপদেশ-বানী
কালেমা তৈয়ব পাঠ করা সর্বাপেক্ষা বড় এবাদত । আল্লাহ তায়ালা বলিয়াছেন, যদি "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু" এক পাল্লায় ও সমগ্র দুনিয়া এক পাল্লায় রাখা হয়, তবে কালেমা তৈয়বের ওজন বেশী হইবে । প্রতি শ্বাস প্রশ্বাসে আল্লাহকে স্মরণ রাখুন, একটি দমও যেন নিঃ'স্মরণে না যায় । রাছুল পাক (সাঃ) এর প্রতি অধিক মহাব্বত রাখুন । তাঁহাত ছুন্নাতের তাবেদারি করুন এবং তাঁহার প্রতি অধিক মাত্রায় দরুদ শরীফ পাঠ করুন । সুস্থ ও অসুস্থ উভয় অবস্থায়ই শরিয়ত, তরিকত, ও মারেফাতের দলিল মোতাবেক চলিবেন । প্রতি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ সময় মত জামাতের সহিত আদায় করিতে সচেষ্ট হইবেন ।
শরীয়তের আবশ্যকীয় করণীয় (ফরজে আইন) আদায় করার পর তরিকতের আমল করিলে কামিয়াবী লাভ করিতে পারিবেন । আত্ম-শুদ্ধি লাভ করিতে হইলে কোন একজন কামেল মোকাম্মেল (অলি-আল্লাহ) পীরের নিকট মুরিদ হইয়া তাহার বাতানো নিয়ম মোতাবেক আমল করিতে হইবে । সাধারণ মানুষের আত্মা মৃত, তাই জীবিত আত্মার (অলি-আল্লাহ গণের) সহিত আপনার আত্মা বাঁধিয়া (মুতাওয়াজ্জ) রাখিবেন । তাহা হইলে আপনার মৃত আত্মা জীবিত হইবে । কালেমা তৈয়বের জেকের করিতে করিতে কলবের ভিতর নকসা করিয়া লইতে পারিলে সদা সর্বদা কালেমার জেকের হইতে থাকিবে । মরিয়াও অমর হইবেন এবং আল্লাহপাকের রহমতের জ্যোতি কবরকে আলোকিত করিয়া রাখিবে ।
অলি আল্লাহগণের দরবারে আসিয়া কোন প্রকার বেয়াদবী বা কলহ বিবাদ করিলে কলবে পোকা ধরিয়া যাইবে । এই দরবার আল্লাহ পাকের রহমতের মজলিশ । জামে আম্বিয়া, জামে আওলিয়া ও তামাম পৃ্তহিবীর মোমেন মোমেনাগণের আরওয়াহ পাকের ছওয়াব রেছানীর মজলিস । আপনি খোদা সন্ধানী মজলিশে আসিয়াছেন তাই কলবের ভিতর ডুবিয়া হামেসা আল্লাহত ধ্যানে মগ্ন থাকুন ।
তরিকতপন্থীয়াশেকানগণ শেষ রাত্রিতে (একটা হইতে ফজরের পুর্ব পর্যন্ত) রহমতের সময় তাহাজ্জদ আদায় করিয়া-- ইয়া আল্লাহু, ইয়া রহমানু, ইয়া রাহিমু বলিয়া ডাকিতে থাকিবেন এবং আজীজী এনকেছারী ও নম্রতার সহিত আল্লাহ পাকের দরবারে রহমতের জন্য আশান্বিত হইয়া থাকুন । তাহা হইলে দীন দুনিয়ার সম্পুর্ণ নেক মাকছুদ পুরা হইবে । সুদ, ঘুষ, হারামের ব্যাবসা-বানিজ্য ত্যাগ করিবেন । যাহারা সুদ-ঘুষ খায় তাহাদের সাহিত উঠা-বসা চাল-চলন করিবেন না ।
হযরত খাজা ফরিদ উদ্দিন চিশতী (রহঃ) বলিয়াছেনঃ- "দিনে কম খাও যদিও তুমি রোজাদার নও, পুরা পেট আহার করিওনা কারণ, তুমি চতুষ্পদ জন্তু নও ।"
হযরত বড়পীর আব্দুল কাদের জীলানী (রহঃ) বলিয়াছেনঃ- "আল্লাহওয়ালাদের জন্য দিবা-রাত্রি নাই । তেনাদের পানাহার রুগ্ন ব্যাক্তির ন্যায় অতি সামান্য, নিদ্রা অল্প সময়ের জন্য এবং প্রয়োজন না হইলে কথা বার্তা হইতে বিরত থাকেন ।"
তিনি আরও বলিয়াছেনঃ- আমরা মারেফতের অধিকারী ব্যাক্তিদের পিছনে ধুলিকনার ন্যায় পরিয়া থাকিতাম যেন, তাহাদের নিকট হইতে শাহী দরবারে পৌছার আমল আখলাক ও রীতি-নীতি আয়ত্ত্ব করতে পারি ।"
যে ব্যাক্তি বুযুর্গগণের মতামতকে প্রাধান্য না দিয়া নিজের খেয়াল খুশি-মত চলিয়াছে সে গোল্লায় গিয়াছে ।
হযরত খাজা মঈনুদ্দিন চিশতী রহঃ বলিয়াছেনঃ- "যে ব্যাক্তি যত বড় নেক্কারই হউক না কেন অসৎ লোকের সংসর্গ অবলম্বন করিলে সে অসৎ হইবে । পক্ষান্তরে, যত বড় পাপী হউক না কেন সৎ লোকের সংসর্গ অবলম্বন করিলে তাহার সকল পাপ্রাশি ধুইয়া মুছিয়া নিশ্চিণ্হ হইয়া সৎ হইবে ।"
হযতর মোজাদ্দাদ আলফেসানী (রহঃ) বলিয়াছেনঃ- "পীরের হক সকলের হক অপেক্ষা উর্ধ্বে ।" তিনি আরও বলিয়াছেন যেঃ- "মানুষ আল্লাহর সৃষ্টির মধ্যে সর্বাপেক্ষা শ্রেষ্ট, তাই মানুষের প্রানে আঘাত দিয়া বা মানুষকে কষ্ট দিয়া আল্লাহর এবাদত করিলে আল্লাহ তাহা কখনও কবুল করিবেন না ।"
কিতাবঃ-: "চার তরিখার অজিফা ও তালিমে মা'রেফা্ত"
লেখক: খাজা নবাব শাহ আলমগীর চিশতি নেজামী শাহজাদপুরী
"আউলিয়ার মুরিদ মঞ্জিল"
গ্রামঃ বাদলবাড়ী, থানাঃ শাহজাদপুর, জিলাঃ সিরাজগঞ্জ ।